মাঝে মাঝে কিছু সময় এমন কিছু চিন্তা মাথায় আসে যা খুবই অকল্পনীয়। আসলে আমরা খুব কম সময়ই নিজেকে নিয়ে চিন্তা করি, জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেব মেলানোর সময়, সুযোগ বা ইচ্ছে কোনোটাই আমাদের নেই। যেখানে জীবনকে নিয়ে চিন্তা করাই বেশি জরুরী। তবে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসেব মিলাতে গেলে বেশির ভাগ সময়ই দুঃখ, কষ্ট আর হতাশা চলে আসে। তখন সময় গুলো, চলার পথ আরো কঠিন থেকে কঠিনত্বর হয়ে উঠে।

তবে মাঝে মাঝেই নিজেকে বা নিজ জীবন-যাপনকে নিয়ে খুব ভাবনায় বসি, দুঃখজনক হলেও সত্যি যে- সেই সময়টা আসে হতাশার কিংবা ব্যর্থতার। নিজেকে বুঝতে চেষ্টা করে যাচ্ছি জন্মের পর থেকেই। আদৌ তিল পরিমান জানতে পেরেছি কিনা জানিনা...। না জেনে হতাশ নই, কারন আমি জানি যে- মানুষ মাত্রই আপন অজ্ঞ। আমিও তার ব্যতিক্রম নই…।

জীবনে মানুষ কি চায়...?? চাওয়া বলতে এখানে সুখি হতে কি চায় এটাই বুঝাচ্ছি। মানুষের চাওয়া কি খুব বেশি...!! না, মানুষের চাওয়াটা খুব সীমিত, খুবই কম। আর এই সীমিত চাওয়াটা যখন অপূর্ণ থেকে যায়, পূরণ হয় না তখনই মানুষ অসুখীতে ভোগে, হতাশায় দিন পার করে। এই সময়টায় এসেই মানুষ জীবনের হিসেব মিলায়, প্রাপ্তি- অপ্রাপ্তির খাতা খুলে বসে।

জীবনে সুখে থাকায় সহজ উপায় হলো- আশেপাশে যা কিছু ঘটছে, তার সব কিছুকেই সহজ এবং স্বাভাবিক ভাবে গ্রহন করা। মনে বিশ্বাস রাখা যে- "অসম্ভব" বা "হতেই পারে না" বলে কিছু নেই। কাল-প্রেক্ষাপটে সবই সম্ভব এবং যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে। কিন্তু আদৌ কি তা ভাবা বা মেনে নেওয়া সব সময় সম্ভব হয়...???


জীবন কতোটা সাধারন হয় বা কতোটা অসাধারণ...?? মাঝে মাঝে ভাবি- আমি তো সাধারন একজন, অতিসাধারন। সাধারনের চেয়েও হাজার গুণ সাধারন। হাজার মানুষের মাঝে আমার কোন বিশেষত্ব নেই।  হাজার মানুষ না ধরলাম শত মানুষ ধরলাম তারপর ভাবলাম নাহ্‌ আমার কোন বিশেষত্ব নেই। আর দশ টা পাঁচ টা মানুষের মত আমি অতি সাধারন। নিজের অজান্তেই সিধান্ত নিলাম কিছু একটা করি সাধারন থেকে অসাধারন হতে । হয়তো আমার মত অনেকেই আছে ভিন্ন কিছু করার সাধারন থেকে অসাধারন হতে। তবে আমার বিষয়টি অন্য রকম।

আমি মাঝে মাঝে আমাকে নিয়ে অনেক আতংকে থাকি। কারন, হঠাৎ করে কিছু করে ফেললাম নাতো কোন পরিকল্পনা ছাড়া...!! পরিকল্পনাহীন ভাবে কাজ করলে সে কাজে সফলতা খুব কম আসে, আবার দেখা যায় অনেক বেশি পরিকল্পনা করে রেখেছি কিন্তু সেই কাজটিই করা হয়নি। অনেক সময় দেখা যায় পরিকল্পনা করতে করতেই সময় পার করে দিয়েছি। এবার বলি বিপরীত টা । কথা নেই বার্তা নেই হুট করে ফেলি বড় কোন কাজ । দেখা যায় কিছু ভুল আছে যা একই ভুল বার বার করি এবং প্রতিবার-ই বলি এরপর থেকে আর এমন হবে না কিন্তু তবু হয়ে যায়।

আমার একটা টা বড় দোষ হচ্ছে সহজে, খুব অল্পতে অন্যকে বিশ্বাস করা । সবার সাথে আমি কথা বলি না, বলার ইচ্ছাও হয় না। কিন্তু যার সাথে কথা বলতে একটু ভাল লাগে তাকে বিশ্বাস করে ফেলি সহজেই। তবে এর জন্য ঠকেছি কয়েক বার, যদিও এই ঠকাটা মাত্র দুই - একবার। কারণ হাজার মানুষের সাথে মিশি নি, হাজার মানুষকেও বিশ্বাস করি নি। বিশ্বাস করা মানুষের সংখ্যাও খুব কম, হাতে গোনা কয়েক জন। যখন কেউ বিশ্বাস ভাঙ্গে তা খুব কষ্টে হজম করি কিন্তু কিছুই বলতে পারি না। তারপর থেকে সিধান্ত নেই এরপর থেকে সহজে কাউকে বিশ্বাস করবো না। মোট কথা আমি মানুষ চিনতে পারি না, আবার অনেক সময় বেশি চিনে ফেলি যার ফলে বিশ্বাসটাও একটু বেশিই করি। ফলাফল বিশ্বাস ভাঙ্গা।

যুগের সাথে তাল মেলাতে যেন আমি বেতাল হয়ে যাচ্ছি। যাদের সাথে মিশছি, চলছি তারা যেন সবাই আমার থেকে একধাপ এগিয়ে। আমি যতই তাদের কাছে এগিয়ে যেতে চাই তারা আমাকে ছেড়ে আরেক ধাপ এগিয়ে যায়। যার ফলে বরাবরই আমি তাদের পিছনে। তাঁরা একটু বেশিই Update.

মাঝে মঝে নিজের মধ্যে অনেক হতাশা কাজ করে। তবুও ভাবি একসময় সব ঠিক হয়ে যাবে। সব চেয়ে খারাপ লাগে তখন যখন নিকট কেউ আমাকে অবহেলা করে, আমার বিশ্বাসটা ভাঙ্গে। পরে চিন্তা করে দেখি আসলে দোষ টা আমারই। সবাই সবার স্বার্থ দেখবে নিজেকে নিয়ে ভাববে এটাই তো স্বাভাবিক এর জন্য মন খারাপ করার কী আছে ...!! কিন্তু নিজের মনকে এটা বোঝাতে বরাবরের মতোই ব্যর্থ। তবে আফসোস লাগে আমি কেন পারি না তাদের মতো হতে।

যখন নিঃশ্চুপ, নিরিবিলী, নির্জন অন্ধকারে একা থাকি তখন মনে হয় দুনিয়াতে আমার মত সুখি আর কেউ নেই। এতো সুখ কৈ রাখবো এই চিন্তা করতে করতেই অসুখি হয়ে যাই। সুখি কি হতেই হবে...!!! সুখ Share-করার জন্যও তো একজন মানুষ প্রয়োজন, দুঃখ না'হয় নাই Share-করলাম। কৈ আমার চার পাশে অন্ধকারের ভিড়ে কাউকেই পেলাম না সুখ ভাগাভাগির জন্য। দুঃখের পাশে কেউ থাকতে চায় না, কেউ থাকে না। দুঃখ এমন একটা বিষাক্ত নাম যার নাম শুনলেই কাছের মানুষও দূরে চলে যায়।

জন্ম নিয়েছি তাই মৃত্যু অনিবার্য।  আমি যখন থাকবো না এই পৃথিবীতে তখন হয়তো আমার এই লেখা গুলো থাকবে। কেউ দেখবে, পড়বে বা কেউই পড়বে না। শুধু শুধুই থেকে যাবে বা নষ্ট হয়ে যাবে এটাও অনিশ্চিত। কিছু দিন আমাকে আমার নিকট আত্নীয়রা মনে রাখবে কিন্তু একটা সময় ঠিক-ই ভুলে যাবে কারন, এটাই তো স্বাভাবিক। যে বন্ধুটি আমার সব চেয়ে কাছের, যে মানুষটা আমাকে পাওয়ার জন্য সব করতে রাজি সেই মানুষটাও আজ আমি মারা গেলে কাল মনে রাখবে না। আমার জন্য তাদের জীবন থেমে থাকবে না। আমার শূন্যস্থান অন্য কেউ এসে পূরণ করবে অথবা তারাই আমার শূন্যস্থানটা অন্য কাউকে দিয়ে পূরণ করিয়ে নিবে। আমাকে মনে রাখবে না কেউই, আমাকে মনেও পরবে না কারো। কারন, আমি কোন অসাধারন কেউ নই।  মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় অসাধরন কেউ হয়ে যাই আবার ভাবি না সাধারন থাকাই ভালো...।।

জীবন মানেই আলোয় উচ্ছল, জীবন মানেই জেগে ওঠা, জীবন মানেই প্রাপ্তি - অপ্রাপ্তি, জীবন মানেই হতাশা - বিষণ্ণতা। আজকাল সব কিছুতে কেমন যেন একটা অবসাদ কাজ করে। মাথাটা কাজ করতে চায় না, কেমন যেন একঘেয়েমি চলে আসে । অল্পতেই সব কিছু ঘোলাটে হয়ে যায়। হয়তো জীবন নিয়ে দিশেহারা হয়ে গেছি, হয়তো জীবন নিয়ে একটু বেশিই ভাবচ্ছি। তবে সেটা আনন্দের না, বেদনায়। কেমন জানি নিজেকে নিঃস্ব মনে হয়, একাকি। কষ্ট গুলো বার বার হানা দেয় স্মৃতির পাতায়। কখনো কখনো তা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো আরো বেশি হয়ে যায়। মানুষের জীবনে নাকি এমন কিছু সময়ই আসে যখন হতাশা - বিষণ্ণতা, অবসাদ এক সাথে কাজ করে । হয়তো আমারও তা-ই হয়েছে। মাঝে মাঝে মনে হয় বেঁচে থাকার কোন মানে নেই। নিজের কাছে নিজেকে অনেক বড় অচেনা মনে হয়। মনে হয়, পৃথিবীর সব কিছুই প্রবঞ্চনা, সব কিছু মিথ্যা, সব কিছু ভিত্তিহীন। সব কিছু যেন উপহাস করছে।
কষ্ট গুলো এমন, যা প্রকাশ করা যায় না। আবার ঢেকে রাখতে রাখতেও পাথর হয়ে যায়, যা বহন করা যায় না। তাই অনেক দিন ধরে বাঁচার ইচ্ছা করেনা কিন্তু মরতেও সাধ জাগেনা। কেনো এতো বিষণ্ণতা আমি জানি না। শুধু জানি আমার কিছু ভালো লাগে না। রাতের অন্ধকারটাকেও বড়ই অচেনা লাগে, কিন্তু এই অন্ধকারটা আমার অনেক চেনা, অনেক আপন। সোডিয়াম আলোয় নিজেকে মনে হয় এক জ্যান্ত লাশ। এখন আর আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে ওঠেনা আমার রাত্রিরা, আমার মন। বিষন্ন ডানায় ভর করে ওরাও ফিরে যায়। হয়ত মাঝে মাঝে এসে উঁকি দেয়, কিন্তু ধরা দেয় না। হতাশার, বিষণ্ণতার শেষ সীমানায় এসেও আমি বেঁচে আছি, দাঁড়িয়ে আছি শুধু মাত্র একটু আলোর জন্য। এই আলোটা হয়তো অন্ধকার ভেদ করে আলো ছড়াবে না। খুব একাকী মুহূর্তে আধারকেও ভালোবাসি, আধার এর অতলে তলিয়ে যেতে ইচ্ছা হয়, নির্জনতা কে আকড়ে ধরে থাকতে ইচ্ছা হয়। শুধু নিজের আবেগ-অনুভূতি গুলোকে নিয়ন্ত্রন করার জন্য; কিন্তু পারি না...। তাই এখন আর এই ব্যার্থ চেষ্টা করি না। এই ব্যার্থতাই আমার অসীম দুঃখ কিংবা সুখ এর অবর্ননীয় স্বাদ গ্রহনে সাহায্য করে। হয়তো, মাঝে মাঝে ব্যার্থ হতেও ভালো লাগে। তবে কি আমি সত্যি ব্যার্থ...!!! শত কষ্টের মাঝেও একাকী নির্জনে হেঁটে বেড়াই অজানা পথের বাঁকে, অচেনা পথের ধারে...।।

কিছু কিছু সময় আসে যখন আমরা বিশ্বাস ও অবিশ্বাস এর সীমারেখায় বাস করি। তখন একই সঙ্গে আমরা দেখতে পাই এবং দেখতে পাইনা। বুঝতে পারি এবং বুঝতে পারিনা। অনুভব করি এবং অনুভব করিনা। সে বড় রহস্যময় সময়।
ভাললাগা - খারাপ লাগা মানুষের উপর নির্ভর করে, অনেকটা সময়ের উপর। হয়তো ১ সপ্তাহ আগেও আমাকে যাদের ভালো লাগতো, আজকে তাদের কারো কারো আমাকে ভালো লাগতেছে না । মানুষের পছন্দ খুব Frequently Change হয় । মানুষের মন খুব সহজেই Motivated হয়।।

আমার চারপাশে যদি ১০ জন 'কাছের মানুষ' থাকে, হয়তো তাদের মধ্যে ২-৩ জন TWO Faced কিংবা Hypocrite . কেউ পিছনে আমার দুর্নাম করে, কেউ পিছনে আমাকে ছুরি মারবে। হয়তো আমি যাকে ফ্রেন্ড ভাবি, সে আমাকে ফ্রেন্ড ভাবে না। হতেই পারে এমন & হচ্ছেও এমন । আমি যাকে Best Friend- হিসেবে মনের শিংহাসনে বসালাম সে হয়তো আমাকে আর দশ জন মানুষের মতোই দেখে। এবং এটা সত্যও...।।

আজকে যে আমাকে জানপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেছে বা ভালোবাসি বলতেছে সে কালকে আমাকে ভালোবাসবে কিনা - সেই নিশ্চয়তা আমি দিতে পারি না । আজকে তুমি আমাকে আমার সামনে Respect- দেখাচ্ছো। কিন্তু কয়েক দিন পর বা কয়েক মাস পর এই তুমিই হয়তো আমাকে গালি দিবে। তখন আর এই সময়টা তোমার মনে পরবে না। তখন তোমার কাছে আমি শুধুই একজন খারাপ মানুষ হিসেবে বিবেচিত হবো।  তখন মানুষের সামনে আমাকেই খারাপ বানিয়ে, গালি দিয়ে কথা বলবে। তখন আমিই হবো তোমার গালির উদাহরণ। তখন এটা মনে হবে না বা মনে পরবে না যে এই আমাকে পাওয়ার জন্যই তুমি কেঁদেছো, ভালোবেসে জীবন বিসর্জন দিতে চেয়েছো। পরিস্থিতি খুব তাড়াতাড়ি ১৮০ ডিগ্রি কোণে ঘুরে যায় ।

সুন্দর সুন্দর কথা লিখে হাজার প্রশংসা করে আমার সামনে কথা বলতো, মুখে মধু নিয়ে যে কথা বলতো , সেই মানুষটাকেই আমি নিজ চোখে দেখেছি আমার দুর্নাম করতে, আমাকে নিয়ে খারাপ কথা বলতে । আমি জানি, এই ব্যাপারটায় আমার খারাপ লাগা উচিত । কিন্তু আমার খারাপ লাগেনি। শুরুর দিকে এইসব ব্যাপারে আমার খারাপ লাগতো, আমি খুব অবাক হতাম । আমার প্রশ্ন করতে ইচ্ছা হতো, কিছু জানতে ইচ্ছা করতো, রাগ দেখাতে ইচ্ছা হতো ।।
তারপর আমি খেয়াল করলাম,  একটা মানুষের ভালোলাগা বা খারাপ লাগার ব্যাপারটা স্বাধীন, পুরাটাই তার ইচ্ছা ।

আমি খেয়াল করে দেখলাম আস্তে আস্তে কাছের, আপন মানুষ গুলো দূরে সরে যাচ্ছে। আপন মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। তাদের বাঁধা দিলাম না কারণ আমি তাদের কাছে আপন ছিলাম না। এমনকি তারপর কাউকে নতুন করে যোগও আর করলাম না। আমি একা, এটা নিয়েই রইলাম কারণ একমাত্র এটাই সত্য ।  সব যোগ বিয়োগ করে প্রাপ্তির পাল্লা শূন্য, মাঝে মাঝে মনে হয় মাইনাস।।
জীবনের মোড় ঘোরা, মানুষের রং বদলানো, রুপ বদলানো, পজিটিভ থেকে নেগেটিভ হওয়া - এই ব্যাপার গুলাকে আমি সহজ ভাবে নিতে শিখেছি। আগে পারতাম না সহজ ভাবে নিতে কিন্তু এখন পারি ।।

যে মানুষটার সাথে দেখা হলে আগে মুচকি হাসি দিয়ে কথা বলতো, সে এখন চোখে চোখ পড়লে চোখ সরিয়ে নেয়, না দেখার ভান করে চলে যায়। এই ব্যাপারটায় আসলে কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই। এই ব্যাপারটাকে পাত্তা দেওয়ারও কিছু নাই।

আমার জীবনে সেই মানুষ গুলোই থাকবে, যারা আমাকে বোঝে । আর যারা চলে যায়, তারা আমাকে বুঝতে ব্যর্থ। বুঝতে ব্যর্থ হওয়া মানুষদের নিয়েই আমরা বেশি ভাবি, বেশি আবেগ দেখাই।

দিন শেষে, আমাকে আমার গন্তব্যে পৌছাতে হবে । সময়ের মধ্যেই পৌছাতে হবে। আমার পাশে কেউ থাকুক বা না থাকুক, আমাকে কেউ ভালো ভাবুক আর খারাপ ভাবুক, আমাকে কেউ কেয়ার করুক আর নাই করুক। আমাকে হাঁটতে হবে, অনেকটা পথ হাঁটতে হবে, গন্তব্যে পৌছাতে হবে। আমার হাঁটা কেউ হেঁটে দিবে না।।

"মন খারাপ" এই একটি কথাই সব বদলিয়ে দেয়। বদলিয়ে দেয় চারি পাশ, প্রতিটা সময়, প্রতিটা মুহূর্ত। পৃথিবীতে যত গুলো রোগ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে মারত্নক রোগের নাম হল মনের অসুখ।শরীরের যেমন অসুখ হয়; তেমনি মনটাও আক্রান্ত হয় নানান অসুখে-বিসুখে।জীবনে চলার পথে শত আশা, আকাঙ্খা; আর সম্পর্কের জাল পেরোতে প্রতি ক্ষনে মনের অসুখে ভোগে মানুষ।আমাদের শরীরের কোনো রোগ হলে ছুটে যাই বড় কোন ডাক্তারের কাছে। কিন্তু মনের রোগ সাড়ানোর জন্য আমরা কারো কাছেই যাইনা। কারন অবচেতন মন জানে দুনিয়ার কোনো ডাক্তার এই রোগ সাড়াতে পারবেনা।এটার একমাত্র ডাক্তার যে; সে আপনার মন খারাপের খবর-ই জানেনা।আর জানলেও তাতে তার কোনো যায় আসেনা ।

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন- "প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে'ই একটা সময় এসে প্রচন্ড রকমের ভালোলাগা কাজ করবে। সে দু-চোখে যা দেখবে সব কিছুই তার ভালো লাগবে।কেউ তার সাথে একটু মিষ্টি করে কথা বললে তাকে সে আপন ভাবতে শুরু করবে"।মূলত এখান থেকে সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। ধরো কেউ একজন এসে তোমাকে বললো 'সে তোমাকে প্রচন্ড পরিমানে ভালবাসে, সে তোমাকে ছাড়া বাঁচবেনা"। আর তোমার আবেগী মন সেটা মুহুর্তেই বিশ্বাস করে নিল।এই অন্ধ বিশ্বাসের থেকে বড় বোকামী আর কিছু হতে পারেনা।কেউ কাউকে ছাড়া বাঁচবে না এটা পৃথিবীর শ্রেষ্ট মিথ্যা কথার একটা।দু' বছর আগে যে মানুষটি তোমার হাত ধরে এই কথাটি বলেছিল "তোমাকে ছাড়া সে বাঁচবেনা" আজ গিয়ে দেখো সে তোমাকে ছাড়াই দিব্বি বেঁচে আছে, হুম খুব সুন্দর ভাবেই বেঁচে আছে, খুব ভালোই আছে।হয়তো অন্য কোনো মানুষের হাতটি ধরে তোমাকে দেয়া কথাটির মতই অসংখ্য কথা দিচ্ছে, তার চোখে স্বপ্ন দেখাচ্ছে, রাত জেগে স্বপ্ন বুনছে...।।আর তুমি রাত জেগে তার স্মৃতি গুলো মনে করে কাঁদছো। তুমি তাকে বোঝানোর জন্য নিজেকে কষ্ট দিলে, নিজেকে কষ্টের মাঝে রাখলে।হয়তো তুমি ভাবচ্ছো তোমার কষ্ট দেখে সে কষ্ট পাবে, সে অনুতপ্ত হবে। কিন্তু এর ফল কিছুই হবে না। কারণ, সে বুঝবেই না তোমার কষ্টটা; সে তো নতুন স্বপ্ন বুনতে  ব্যাস্ত। যদি বুঝতোই তাহলে তো সে তোমার হাত ছাড়তই না, তোমার হাত ধরেই তোমাকে দেখানো স্বপ্ন গুলো বাস্তবে রুপ দিতো।।

শুধু তুমিই কষ্ট পাচ্ছো।কষ্ট পাচ্ছো তাকে হারিয়ে; কষ্ট পাচ্ছো তার স্মৃতি গুলো মনে করে।কারন, তুমি ভীষন বোকা, তোমার মত এই বোকা মানুষ গুলোর জন্যই পৃথিবীতে আবেগ কথাটির প্রাধান্য এতটা বেশি, আবেগ নামের কথাটি এখনো বেঁচে আছে।

আবার, ধরো তোমাকে কেউ এসে বললো- "সে তোমাকে প্রচন্ড পরিমানে ভালবাসে, সে তোমাকে ছাড়া বাঁচবেনা"। তুমি তাকে অন্ধ বিশ্বাস না করে তাকে বোঝার জন্য তার ভালবাসাটা গ্রহন না করে তাকে ফিরিয়ে দিলে বা অপেক্ষা করতে বললে। কয়েক দিন পর একটু লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবে সে আর নেই, খুঁজেও পাবে না।তখন তুমি নিজেই বুঝতে পারবে ওটা ভালোবাসা ছিল না, ওটা মোহ ছিল, ক্ষণিকের ভাললাগা ছিল। যদি ভালবাসাই হয় তাহলে তাকে তুমি যত বার-ই ফিরিয়ে দাও না কেন সে বারবার-ই ফিরে আসবে। তোমাকে পাওয়ার জন্য যদি ১ বছর, ২ বপছর বা তার চেয়েও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় তবুও সে তোমার অপেক্ষায় থাকবে। সে ফিরে আসবেই, তোমার অপেক্ষায় থাকবেই তোমার প্রতি তার ভালোবাসার টানে। কিন্তু, বাস্তবতা একটু ভিন্ন। ফিরিয়ে দিলে সে আসবে না, অপেক্ষা তো দূরে থাক। কারণ, ওটার না তো ভালবাসাই ছিল না।

ভালোবাসা যেমন একদিনে হয় না, তেমনি এক দিনে হারিয়েও যায় না। ভালোবাসাটা মন দিয়ে বুঝতে হয়, মনের গভীর থেকে। আর এই বোঝার জন্য যতটা সময় নেওয়া দরকার সেটা নেওয়া উচিত। বোঝার ভুল থাকা মানেই ভালোবাসা শেষ।
যা সহজে পাওয়া যায় তা খুব সহজেই হারায়। হারানোর ভয়টা কিছুটা কাটিয়ে উঠার জন্য একটু সময় নিন, অপেক্ষা করুন, বোঝার চেষ্টা করুন তাকে।


মনটাকে কতো ভাবে ভুলিয়ে রাখা যায় আর...?? সে বোকা হলেও এতো বোকা কি..?? যে শত কষ্ট গোপন করেও হাসি মুখে সব ভুলিয়ে দেবে। সব হাসির আড়াল হতে একবারের জন্য হলেও কিন্তু উকি দিয়েই যায় বেদনার কাব্য গুলো।
সব কষ্টের রং এক না, সকলের কষ্টও এক না। কষ্ট ব্যাক্তি  ভেদে ভিন্ন, ব্যাক্তির মতই ভিন্ন। সব কষ্ট প্রকাশ করাও যায় না, প্রকাশ করার ভঙ্গিটাও ভিন্ন। ভিন্নতার মাঝে আরও ভিন্ন। কষ্ট গুলো কেউই কখনো কারো কাছে প্রকাশ করতে পারে না। প্রকাশ করলেও তা হয়তো শুধু প্রকাশ করাতেই সীমাবদ্ধ, তা বোঝার ক্ষমতা কারো নেই। এই প্রকাশের পরিমাণ কষ্টের তুলনায় হাজার গুণ কম।আমার মতো অনেকের এমন মানুষটিও নেই যার কাছে কষ্ট শেয়ার করে একটু হালকা হবে। তাদের দমবন্ধ হওয়া আত্নচিৎকার মনের মাঝেই সীমাবদ্ধ, মনের মাঝেই বাড়তে থাকে।

মানুষ যাকে সব চেয়ে বেশি ভালবাসে তার প্রতি অভিমানটাও একটু বেশিই থাকে। "বাবা'র" প্রতি অনেক বেশি অভিমান আমার সেই ছোট বেলা থেকেই, অনেক বেশি।এই অভিমানটা যে কতোটা কষ্ট দেয়, কতোটা কাঁদায় ক্ষণে ক্ষণে তা আমি জানি। এই অভিমানের কষ্ট গুলো কারো কাছে বলে যে একটু হালকা হবো সে সুযোগ-টাও আমার নেই। পাশে এমন কেউ নেই যাকে বলে কিছুটা হালকা হবো। কাকে বলবো...?? কে শুনবে...??!!! তাই ব্লগ-এ লিখে কিছুটা মিথ্যে হালকা হওয়ার অভিনয় মাত্র।।

মাঝে মাঝে খুব Jealous feel-হয় অন্য কারো বাবার সাথে তার সন্তানের সম্পর্ক দেখে, Understanding-দেখে। কতো ভালোই না তাদের সাথে সম্পর্ক, কতো ভালোই না তাদের Understanding. একটা দিনের কথা আমি কখনোই ভুলতে পারিনা, অনেক চেষ্টা করেছি ভুলে যাওয়ার কারণ এই ভুলতে না পারাটা অনেক বেশি কষ্ট দেয় আমায়। একটু খুলেই বলি...আমার অনেক কাছের এক বন্ধুকে Airport-এ তুলে দিয়ে ফেরার পথে তার এক Uncle- আর  তার Cousin-এর সাথে আমার  Flat-এ ফিরছিলাম।এমন সময় ঐ Uncle-টা তার ছেলেকে বলতেছে "তা বাবা বাহিরে আসলাম চা খাওয়াও, চা তুমিই খাওয়াও বিলটা আমিই দিবোনি চিন্তা করো না"। এই বলে হেসে দিলো, সাথে আমরাও হাসলাম। আমি অবাগ হয়ে শুনতে ছিলাম। এমন ভাবে শুনছিলাম মনে হচ্ছিল পৃথিবীর ৮ত্ম আশ্চর্য জিনিস ঘটছে। কারণ আমার সাথে আজ পযন্ত এমন ঘটে নি। এমনকি আজ পযন্ত বাবার সামনে বসে এক গ্লাস পানি পযন্ত খেয়ে দেখিনি। বাবার সাথে আড্ডা দিবোতো দুরের কথা, এখন পযন্ত আমার এই বয়সে বাবার সামনে চেয়ারে বসে দেখিনি।ঢাকা এসেছি আজ প্রায় ৩.৫ বছর হতে চললো। এই ৩.৫ বছরে বাবার সাথে ফোনে কথা হয়েছে সব মিলিয়ে ৪-৫ বার। বাড়িতে যখন যাই তখন যে দিন যাই, আর যে দিন চলে আসি এই দু'দিন বাদে আর হয়তো এক বা দু'দিন দেখা হয় কিন্তু আমরা একই ছাদের নিছে।
আমার ঢাকার একটা Friend-কে দেখি তার বাবা তাকে দিনে ২-৩ বার Call- না দিলে সে তার বাবার সাথে ঝগড়া শুরু করে দেয়। কি মধুর সে ঝগড়া, কি মায়া ভরা সে অভিমান গুলো।
এগুলো দেখে মাঝে মাঝে অনেক বেশি  Jealous feel- হয়, অনেক বেশি খারাপ লাগে। আমার সাথেও তো এমন হতে পারতো, আমার দিন গুলোও তো এভাবে কাটতে পারতো। কিন্তু তা হয় নি।বাবার সাথে কখনো আড্ডা দেওয়া হয় নি, হয়নি রাজাদের গল্প শুনতে শুনতে ঘুম পারা, হয়নি হাত ধরে কিছুটা পথ চলা। অনেক কিছুই হয়নি, শূন্য রয়ে গেছে। শূন্যতার দিক থেকে পূর্ণ আমি।
বাবা কোন দিক থেকে অভাব রাখে নি, কিন্তু যা সব চেয়ে বেশি দরকার ছিল জীবনে সেটারই অভাব রেখে দিয়েছে।
তাই বলে কি বাবা আমাকে ভালবাসে না...!!!?? বাসে, অনেক বেশি ভালবাসে কিন্তু তা কখনোই প্রকাশ করেনি। যে ভালবাসা প্রকাশিত নয়, সে ভালোবাসার কোন মূল্য নেই।  
সব অভিমানে ভরা কষ্ট গুলোর কথা বাবার সামনে দাঁড়িয়ে বলতে ইচ্ছা করে, হয়তো এই দিনটা কখনোই আসবে না। বলা হবে না কখনো, প্রকাশিত হবে না কষ্ট গুলো, বাবাকে জানানো হবে না অভিমানের কষ্ট গুলো।।

মাঝে মাঝে এই কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে ইচ্ছে করে। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে কাউকে ভালবেসে কিছুটা কষ্ট ভুলে থাকি। আবার, ভয় হয় এটা ভেবে যদি তার কাছ থেকে আরও বেশি কষ্ট পাই। সে যদি আমার অনুভূতি গুলো না বোঝে, আমাকে না বোঝে, আমার মন না বোঝে।তখন আর সহ্য করার শেষ শক্তিটাও থাকবে না। তাই হয়তো - "একলা আমি, একলা আমার মন, একলা থাকি সারাক্ষণ।।"

কান্নার রং কি ছোঁয়া যায়...?? চোখের জলের হয় না কোন রং, তবু চোখের জল দেখা যায়। কিন্তু যে অশ্রু ধারা ঝরে যায় হৃদয়ের গভীরে তা কি দেখা যায়...?? না দেখানো যায়। সেই জলে শুধু ডুবে থাকতে হয় নীল বেদনার গোপন কষ্টের অনুভূতি গুলো নিয়ে। আর এই রকম অনুভূতি’কে কি মন খারাপ বলা যায়...?? না যায় না। আমাদের মনটা সহজে বুঝতে দেয় না। কিন্তু মাঝে মাঝে এই মনও বড় অবুঝ হয়ে যায়, সব ভুলে গিয়ে অবুঝ হয়ে ভুলিয়ে রাখা এই মনটাকে নিমিষেই খারাপ করে দেয়, খুব খারাপ। খুব কাঁদায়, খুব...।।

আসলে সব মানুষেরই মন খারাপের গল্প থাকে, থাকতে হয়। আর এই গল্প গুলো কিন্তু সময়-অসময় বিবেচনা না করে হঠাৎ করেই এসে মনে হানা দেয়। আর নিমিষেই কালো মেঘে ছেয়ে যায় হৃদয়ের নীলাকাশ। কোন কারণ বা অন্য কিছুর পরোয়া করে না এই মন খারাপের অনুভূতি। তখন শুধু মন একটা কথাই বোঝে, মন ভালো নেই...।

"বাবা তোমার প্রতি আমার অনেক অভীমান, অনেক বেশি অভীমান...।। হয়তো বলা হবে না কোন দিন...।।"

শান্ত, চুপচাপ আর কম কথা বলার অধিকারী এই আমি পছন্দ করি। মনে মনে রঙিন ছবি আকা, সুন্দর সুন্দর সব ছবি দেখা আর ছবি তোলা, গুন গুনিয়ে গান গাওয়া, প্রান ভরে গান শোনা, টুকটাক গীটার বাজানো কিংবা প্রকৃতির সৌন্দর্য্য উপভোগ করা। আরো পছন্দ করি স্বপ্ন দেখতে, স্বপ্নকে নিয়ে ভাবতে, কিছুটা কাল্পনিকতা এবং বড় বেশী ভালবাসি প্রকৃতির সব, প্রাকৃতিক সব। ভাল লাগে মানুষের ভাল কিছু দেখতে বা শুনতে, আরও ভাললাগে যখন সেই ভালো কিছুর কারণটা আমি হই।। শান্তি পাই যদি মানুষের জন্য কিছু করতে পারি, বিপদে পাশে দাঁড়াতে পারি। আর ভীষন কষ্ট পাই মানুষের কষ্ট দেখে এবং মানুষের অমানবিকতা দেখে। আরো বেশি কষ্ট পাই যখন কেউ আমার জন্য, আমার ব্যবহারে বা আমার কোন কারণে কষ্ট পায়।
যদিও আমি কোন লেখক কিংবা কবি নই, তবুও ভীষন ইচ্ছে, মনের মত ভাল কিছু একটা যদি লিখতে পারতাম, সেই আশায় আমার এই লিখার চেষ্টা মাএ।

আর আমার পরিচয়।আমার পরিচয় দেবার মতোন কিছু নেই। আমি ঠিক তেমনি যেমন করে আমি দেখি, আমার চিন্তাটাও ঠিক তেমনি যেমনটি আমি ভাবি, আমার মনটাও ঠিক তেমনি যেমনটি আমি অনুভব করি, আমার ভালোবাসাটাও কিন্তু ঠিক তেমনি যেমন করে আমি ভালবাসি।সবার মতো হতে চাই না। একটু ভিন্ন হতে চাই সবার থেকে, একটু আলাদা হয়ে থাকতে চাই।।

ভালো লাগে নিজের মতই থাকতে, নিজেকে নিজের মাঝে গুটিয়ে রাখতে; হয়তো কম কথা বলি বলেই। এবং সব সময়ই আমি চাই কোন একটা কিছু নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে। তবে অনেক সময় কাজহীন ভাবেও ব্যস্ত থাকতে হয়।  ভালো লাগে বই পড়তে এবং বড় লেখকদের জীবনী গুলো পড়তে। তাইতো মাঝে মাঝে নিজেরও লেখার শখ জাগে, যদিও আমি জানি ভালো লিখতে পারিনা। সবার লেখার মতো আমার লেখাও অতো ভালো হতে হবে এমনটাতো নয়। কিন্তু বড়ই দুঃখের ব্যাপার হলো, আমি যখন যাই লিখিনা কেন আমার লিখা গুলো কেন জানি খুবই সহজ-সরল ভাষায় হয়ে যায়, হয়ত আমিও সহজ-সরল বলেই।এই পর্যন্ত যা-ই লিখেছি শখের বশেই লিখেছি, নিজের অনুভূতি থেকে লিখেছি, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার জন্যই লিখেছি।নিজেকে মুখের চেয়ে লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করি। কিন্তু জানিনা কেমন লিখেছি বা লিখি, আর তাইতো ব্লগিং করি যদি আমার নিজের লিখা গুলো সন্মন্ধে কিছুটা হলেও জানতে পারি।

আসলে কি, মানুষের অনুভুতিটা হলো সুন্দর একটা পেইন্টিং যা কখনই নষ্ট হয় না। মানুষের চেহারাটা হলো সুন্দর একটি বইয়ের মত, সেটাকে পড়তে চেষ্টা করতে হয়। এবং ভালবাসা জিনিসটা হলো খুবই মূল্যবান, তাই এটাকে সঠিক মর্যাদা দিতে হয়। আর বন্ধুত্ব হলো সুন্দর একটি আয়নার মত, তাই সেটাকে খুব যত্ন করে রাখতে হয় যেন ভেঙ্গে না যায়। আর তাইতো অনুভূতিটাকে স্পর্শ করতে চাই, পড়তে চাই অনেক বই, মর্যাদা দিতে চাই মানুষ গুলোকে এবং যত্ন করে ধরে রাখতে চাই বুন্ধুত্বটাকে।

আমি মোটেও তেমন ভালো লিখিনা বা ভালো লিখতে পারিনা, লিখার চেষ্টা করছি মাত্র। যখন যা মনে আসে সেটাকেই প্রকাশ করার চেষ্টা করি, অনেকটা শখের বশেই, অনেকটা একাকীত্ব দূর করার জন্য, অনেকটা নিজেকে নিজের মাঝে ব্যস্ত রাখতে ।
এই আমি , এটাই আমি, এটাই আমার আমি...


ভালো ছেলেরা সাধারনত একটা আদর্শের মধ্য দিয়ে বড় হয়। যেমন: খুব কম সংখ্যক বন্ধু থাকা, মেয়েদের সাথে না মেশা, পরিস্থিতি যেমন-ই হোক না কেন মাথা ঠাণ্ডা রাখা, সিগারেট না খাওয়া, প্রেম ঘটিত ব্যাপার থেকে দূরে থাকা, রাস্তার মোড়ে আড্ডা না দেওয়া, নিয়মিত নামায পড়া, পড়াশোনা সঠিক ভাবে চালিয়ে যাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি...।।

চারদিকে যখন বয়ফ্রেন্ড, গার্লফ্রেন্ড, ডেটিং, ভ্যালেন্টাইন ডে, আরো কতো ডে এর জয়-জয়কার তখন এমন আদর্শিক ভদ্র ছেলেদের সিঙ্গেল থাকাটা আমার কাছে বড়ই বেমানান লাগে।এদের অন্তরে অফুরন্ত ভালোবাসা থাকলেও বাস্তবে এরা নীরবই থাকে। এতোটাই নীরব যে তাদের মাঝে মন বলতে কিছু যে আছে সেটা বুঝার উপায়ও মাঝে মাঝে থাকে না, আশে পাশের মানুষ বুঝতেও পারে না। অনেকে প্রশ্ন করে বসে- "তোমার মন আছে...!!??"

এদের সিঙ্গেল থাকার কারণ গুলো হলো- এরা খুব বেশি চাপা স্বভাবের হয়। অর্থাৎ "বুক ফাটলেও মুখ ফোটে না"।এরা এতোটাই চাপা স্বভাবের হয় যে বিন্দু পরিমাণ Emotion, Feelings- পাশের মানুষটির কাছে, ভাললাগার মানুষটির কাছে বা খুব কাছের বন্ধুটির কাছে প্রকাশ করে না। নিজের মাঝে জমিয়ে রাখতে রাখতে নিজের মাঝে একটা অসীম জগত সৃষ্টি করে ফেলে। সে জগত-এ শুধু সেই বসবাস করে।এরা কাউকে  Impress- করা তো দূরে থাক, ভালভাবে হেসে একটু কথা পর্যন্ত বলে না।এরা মেয়েদের পিছনে কখনও ঘুরেনা, কোনো মেয়েকে মনের অজান্তে ভালোবেসে ফেললেও সেই খবরটা ছেলেটার ডায়েরী আর মন ছাড়া আর কেউ জানেনা। ভুল করেও সেই মেয়েটির সামনে গিয়ে বলে না।তাঁরা অপেক্ষায় থাকে মেয়েটা যেন তার অনুভূতি, ভালোলাগাটা বুঝতে পেরে কাছে আশে, পাশে থাকে, ভালবাসে। এরা নিজের চারিপাশে এক ধরনের শক্ত আবরণ দিয়ে ঢেকে রাখে। কেউ সেই আবরণ ভেদ করে সেই সরল মনের ভাষা পড়ে না।

গোছালো এই ছেলে গুলো সব সময় মেয়েদের নজরের বাইরে-ই থাকে। সত্যি কথা হলো, সিঙ্গেল মেয়েরা সচরাচর আদর্শ ছেলের প্রেমে খুব একটা পড়ে না। কারণ, মেয়েরা অগোছালো ছেলেদের পছন্দ করে। যে ছেলেটা ক্লাসে দুষ্টামি করে, আড্ডা বাজিতে মেতে থাকে, যার বাইক আছে এমন ছেলে, যে কথার ফুল ঝুড়িতে মন ভোলাতে পারে।।
আর এজন্যই বুকের ভেতর অসীম ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও ভদ্র ছেলেদের সিঙ্গেলই থাকতে হয়, কারণ তাঁরা কথার ফুল ঝুড়ি দিয়ে মন ভোলাতে পারে না।।

তবে তাঁরা মনে মনে সব সময়-ই ভাবে, কল্পনা করে কেউ একজন আসবে তার জীবনে, কেউ একজন তাকে উজার করে ভালবাসবে, তার মনের কথা গুলো বাহিরের আবরণ ভেদ করে পড়বে।। সে হয়তো এটাও জানে তার এই ভাবনাটা ভাবনার মাঝেই সীমাবধ্য, বাস্তবে এর কোন রুপ নেই...।।

জীবন একটা পাতা, যার এক পিঠ আমারা দেখি আর অন্য পিঠ আমরা এড়িয়ে যাই বা না দেখাই থেকে যায়।প্রতিটি জীবনের, প্রতিটি মানুষের নিজ মনে কিছু আশা, চাওয়া থাকে যা কখনোই বাহিরে প্রকাশিত করা হয় না বা অপ্রকাশিতই থেকে যাই।জীবনের সব চাওয়া কখনো পুরন হয়না, আর এই না পাওয়ার যন্ত্রণা যে কতখানি যে পায়না শুধু সেই এই যন্ত্রণার বোঝা বয়ে বেড়ায় সারাটি জীবন ধরে। একটা সময় এই অপূর্ণতার পথ পেরুতে পেরুতে, হাঁটতে হাঁটতে মনের চার পাশে একটা আবরণের সৃষ্টি  হয়।এ আবরণটা কষ্টের, এ আবরণটা অপূর্ণতার, না পাওয়ার বেদনার।যা সবার সামনে প্রকাশ করা হয় না, কিছু সময় প্রকাশ করা যায় না।
হিসাবের খাতাটাও গড়মিল হয়ে যায়, কিছুতেই অংক কষে হিসাব মেলানো যায়না। এ অংক কখনো মিলেও না আর যদি কোন ভাবে মিলেও যায় তাহলে তার ফলাফল শূন্যতে এসে দাঁড়ায়।
ঠিক তখনই বলা হয়, বার বার আমার সাথে কেন এমন হয়। নিয়তি কি আমার ভাগ্যকে নিয়ে পরিহাস করছে, নাকি এটাই আমার কপালে লেখা ছিলো ?? তখন এই প্রশ্ন গুলোর কোন উত্তর মিলে না, খুঁজে পাওয়া যায় না, খুঁজে পাই না।।
এরকম পরিস্থিতিতে আপন জন গুলোও হয়ে যায় পর।তখন হাত ধরার মত, পাশে দাঁড়ানোর মতো কাউকেই পাওয়া যায় না, একজন Single Person-ও পাওয়া যায় না। কিন্তু এই সময়টায় একটা হাত খুব বেশি দরকার ছিল, পাশে দাঁড়ানোর মতো একজন মানুষের খুব দরকার ছিল, একটা Support- এর খুব বেশি দরকার ছিল কিন্তু কাছে কাউকে-ই পাওয়া যায়না। একা একা নিঃসঙ্গতা কে সঙ্গী করে কাটাতে হয়। বড্ড বেশি কষ্ট হয়...
কষ্টইতো জীবন, জীবনের নাম-ই কষ্ট...।।

সব কিছুই পরিবর্তনশীল। একটা সময় এসে তার পরিবর্তন আসেই, আসতেই হবে। এটাই নিয়ম, এটাই বাস্তব। কিন্তু সেই পরিবর্তন এর পিছনে যে কারণ গুলো থাকে সেই কারণ গুলো কেউ দেখতে পায় না, কেউ দেখার ইচ্ছা পোষণ করে না, কেউ অনুভব করে না। সেই পরিবর্তন এর পিছনে হাজার কষ্ট, হাড় ভাঙ্গা কষ্টের অনুভূতি থাকে। সেই কষ্টের অনুভূতি কেউ বুঝতে চায় না, সেই অনুভূতিটা কেউ মন দিয়ে ভেবে দেখে না।

আজ আমি যেমন আছি কয়েক বছর আগে বা কয়েক মাস আগেও এমন ছিলাম না। এতোটা Hard, Straight Cut- ছিলাম না । অনেকটা বেশিই Emotional, মুক্তমনা, খোলা আকাশে মুক্ত ভাবে উড়ে চলা পাখির মতো ছিলাম।বদলে যাওয়ার জন্য খুব কাছের, আপন মানুষ, কাছের বন্ধুরাই দায়ী। দায়ী বলবো না, বদলে যাওয়ার পিছনে তাদের-ই হাত থাকে, তারাই বদলে যেতে বাধ্য করে। আমার এখন এই বদলে যাওয়া, এই Hard, Straight Cut-এর পিছনেও এই মানুষ গুলোই। এদের জন্যেই এতোটা কঠোরতা, এতোটা আবেগহীন, Emotionless.

হোঁচট খেয়েছি...একটি হোঁচট থেকে উঠতে না উঠতেই আরেকটা সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। মেনে নিয়েছি, খুব সহজেই মেনে নিয়েছি কারণ মেনে নিতে আমি বাধ্য। খুব কাছের, আপন মানুষদের, জীবনের চেয়ে দামী বন্ধুদের কাছ থেকে ছোড়া একেকটা তীর আমার মনে এসে লেগেছে। সব গুলো তীর-ই হাঁসি মুখে বরণ করেছি। কখনো এতোটুকু বুঝতে দেই নি সেই তীর গুলো কতোটা রক্তাক্ত করেছে, কতোটা গভীরে গিয়ে মনের প্রাচীরতা একটু একটু করে কষ্টের সীমাহীন যন্ত্রণায় ঢেকে দিয়েছে। তবু হাঁসি মুখেই তাদের সামনে দাড়াই, হাঁসি মুখেই পাশে চলি। তিল পরিমান বুঝতে দেই না মনের কষ্টের সীমানা টুকু।।
এখান থেকেই নিজের চারিপাশে একটি আবরণের শুরু, একটি শক্ত খোলসের জন্ম।।

MARI themes

Powered by Blogger.