আমরা আসলে পুরো জীবনটাই কাটিয়ে দেই একটা অদ্ভুত শব্দের পেছনে দৌড়ে - “তারপর”। ছোটবেলা থেকে এই “তারপর” আমাদের মাথায় বসিয়ে দেওয়া হয়। “এই পরীক্ষা শেষ হোক, তারপর একটু শান্তি”, “এই চাকরিটা পেলে তারপর জীবনটা সেট হবে”, “আরেকটু গুছিয়ে নেই, তারপর নিজের জন্য সময় রাখবো” - এভাবেই আমরা প্রতিটা মুহূর্তকে ভবিষ্যতের কোনো এক অজানা দিনে ঠেলে দেই। মনে হয়, আজকে না, কাল থেকেই সত্যিকারের জীবন শুরু হবে। অথচ সেই “কাল” টা কখনো আজ হয়ে আসে না আমাদের জীবনে।

এই “তারপর” টা অনেকটা দিগন্তের মতো - দেখতে খুব কাছাকাছি লাগে, কিন্তু যতই সামনের দিকে এগোই, ততই সেটা সরে যায়। অনেকটা মরিচিকার মতো। আমরা ভাবি, একটা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছালেই সব ঠিক হয়ে যাবে - চিন্তা থাকবে না, দুশ্চিন্তা থাকবে না, আমরা মন ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারব। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জীবন কখনো থেমে থাকে না। একটা লক্ষ্য পূরণ হলে আরেকটা এসে দাঁড়ায়, একটা চিন্তা শেষ হলে আরেকটা জায়গা নেয়। আর এই দৌড়ের মাঝখানে আমরা বুঝতেই পারি না জীবনটা কখন আমাদের পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে।

আসলে জীবনটা ঘটে খুব সাধারণ, ছোট ছোট মুহূর্তে - যেগুলো আমরা প্রায়ই গুরুত্বই দেই না। যেমন- কোনো ক্লান্ত বিকেলে বারান্দায় বসে কফি খাওয়া, যদিও মাথায় হাজারটা চিন্তা ঘুরছে। অথবা, রাতে হঠাৎ কোনো পুরনো বন্ধুর মেসেজে অকারণে হেসে ফেলা, যদিও মনটা ভালো নেই। কিংবা কারো পাশে চুপচাপ বসে থাকা, কোনো কথা না বলেও একটা অদ্ভুত শান্তি পাওয়া - এই ছোট ছোট অনুভূতি গুলোই আসলে জীবনের সবচেয়ে সত্যিকারের অংশ। কিন্তু আমরা এগুলোকে তেমন মূল্য দেই না, কারণ আমাদের মাথায় তখনও ঘুরতে থাকে - “তারপর কী...?”

আমরা সবসময় ভাবি, জীবনের বড় বড় ঘটনা গুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ - সাফল্য, অর্জন, স্বীকৃতি। কিন্তু একসময় গিয়ে বুঝি, এই বড় বড় জিনিস গুলোর ফাঁকেই আসল জীবনটা লুকিয়ে ছিল। যে গুলোকে আমরা গুরুত্ব দিইনি, যেগুলোকে “তারপর” বলে সরিয়ে রেখেছিলাম - সেই ছোট ছোট মুহূর্ত গুলোই ছিল আমাদের সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে সত্য। আর যখন এটা বুঝতে পারি, তখন হয়তো অনেকটাই দেরি হয়ে যায়।

একদিন হঠাৎ করেই মনে হয়, আমরা যে “তারপর”- এর জন্য এতদিন দৌড়াচ্ছিলাম, সেটা তো কখনোই আসেনি। বরং এসেছে নতুন ব্যস্ততা, নতুন দায়িত্ব, নতুন দুশ্চিন্তা - আর সাথে নতুন আরেকটা “তারপর”। আর এই দৌড়ের মাঝেই অজান্তে হারিয়ে গেছে অনেক হাসি, অনেক মুহূর্ত, অনেক অনুভূতি। তখন মনে হয়, যদি একটু থেমে যেতাম, যদি আজকেই একটু বাঁচতাম, তাহলে হয়তো জীবনটা এতটা ফাঁকা লাগত না।

জীবন আসলে কোনো গন্তব্য না, যেখানে পৌঁছালেই সবকিছু শুরু হবে। জীবন হচ্ছে এই চলার পথটাই - যেখানে প্রতিটা ছোট মুহূর্তের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার আসল মানে। তাই হয়তো দরকার, মাঝে মাঝে থেমে যাওয়া, একটু নিঃশ্বাস নেওয়া, আর নিজেকে মনে করিয়ে দেওয়া - জীবনটা “তারপর” না, জীবনটা এখন, জীবনটা বর্তমান। অতীত বা ভবিষ্যৎ আমাদের বর্তমানকে বিলীন করে দেয়...।

অনেক সময় এমন হয়, আমরা একদম ঠিক আছি - বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি, হয়তো কফি খেতে খেতে গল্প করছি, বা একা বসে প্রিয় একটা বই পড়ছি। মুহূর্তটা সুন্দর, হালকা, নির্ভার। কিন্তু ঠিক তখনই মাথার ভেতর একটা চিন্তা ঢুকে পড়ে - “কাল অফিসে মিটিং…”, “কাল অনেক প্রেসার যাবে…”। আর এই একটা ভাবনাই ধীরে ধীরে পুরো মুহূর্তটার রং বদলে দেয়, ফ্যাকাসে করে দেয়। আমরা তখন আর পুরোপুরি ওই সময়টার মধ্যে থাকি না। শরীরটা থাকে এখানে, কিন্তু মন চলে যায় আগামীকালের দুশ্চিন্তায়। আবার এমনও হয়, আজ ভালো একটা সময় কাটাতে কাটাতেই হঠাৎ মনে পড়ে যায় - “ইশ, কাল দিনটা ভালো যায়নি…”, “ওই কাজটা একটু অন্যভাবে করলে হয়তো ভালো হতো…”। মানে, একদিকে ভবিষ্যতের চিন্তা, আরেকদিকে অতীতের আফসোস - এই দুইয়ের মাঝে পড়ে আমরা আজকের ভালো সময়টাকেও ঠিকভাবে উপভোগ করতে পারি না। মনে হয়, যেন কিছু একটা ঠিক নেই, যদিও আসলে এই মুহূর্তে সব ঠিকই ছিল।

আমাদের ধীরে ধীরে এটা অভ্যাস হয়ে যায়। আমরা বুঝতেই পারি না কখন থেকে আমরা “এখন”-এ থাকা ভুলে গেছি, বর্তমানে থাকা ভুলে গেছি। সবসময় হয় আগের কিছু নিয়ে ভাবছি, না হয় সামনে কী হবে সেটা নিয়ে চিন্তায় আছি। অথচ সত্যি বলতে, আমাদের জীবনে যেটুকু সময় সত্যিকারের আছে, সেটা এই এখনটুকুই, বর্তমান টুকুই। না "কাল", না "গতকাল", না "তারপর" - শুধু বর্তমান এই মুহূর্তটাই বাস্তব।

আর এখানেই সমস্যা। আমরা এই বর্তমানটাকে ঠিকমতো ধরে রাখতে পারি না, অনুভব করতে পারি না। ছোট ছোট ভালো লাগার মুহূর্তগুলো - যেগুলো আসলে আমাদের সুখের আসল জায়গা - সে গুলো হাতছাড়া হয়ে যায়। কারণ আমরা তখনো “তারপর” নিয়ে ব্যস্ত, “কাল” নিয়ে ব্যস্ত, বা “ইশ যদি…”-এর ভেতরে আটকে আছি। শেষে গিয়ে মনে হয়, এতকিছুর মাঝেও যেন কোথাও একটা শান্তি নেই, শুন্যতা কাজ করে। আসলে শান্তিটা ছিল, ঠিক আমাদের সামনেই, আমাদের সাথেই - আমরা শুধু সেটাকে ঠিক সময়ে চিনতে পারিনি, ধরতে পারিনি।

জীবনটা “তারপর” না, জীবনটা এখন- এই সত্যিটা আমরা জানি, কিন্তু মানতে শিখি খুব দেরিতে। আমরা হয়তো অতীতের কোনো ভুল, কোনো অপূর্ণতা, কোনো আফসোস আঁকড়ে ধরে থাকি; অথবা ভবিষ্যতের কোনো স্বপ্ন, কোনো ভয়, কোনো অনিশ্চয়তার পেছনে ছুটতে থাকি। আর এই দুইয়ের টানাপোড়নে আমাদের বর্তমানটা ধীরে ধীরে ঝাপসা করে দেয়, গুরুত্ব হারায়। অথচ জীবনের একমাত্র বাস্তব সময়টা হলো এই বর্তমান- এই মুহূর্ত, যেখানে আমরা নিঃশ্বাস নিচ্ছি, অনুভব করছি, বেঁচে আছি। অতীত আমাদের শেখানোর জন্য, ভবিষ্যৎ আমাদের অনুপ্রাণিত করার জন্য - কিন্তু বাঁচার জন্য নয়। বাঁচতে হলে ফিরে আসতে হয় এই এখন-এ, এই ছোট ছোট অনুভূতিতে, এই অসম্পূর্ণ কিন্তু সত্য মুহূর্ত গুলোর মাঝে। কারণ শেষ পর্যন্ত, জীবনের সবচেয়ে বড় আফসোস হয় না আমরা কী পাইনি - বরং হয়, আমরা কতটা সময় “তারপর”-এর অপেক্ষায় থেকে আজকেই হারিয়ে ফেলেছি...।


জীবনের পথে চলতে চলতে আমরা প্রায়ই এক অদ্ভুত অনুভূতির মুখোমুখি হই - কখনো মন উড়ে যায় স্বপ্নের আকাশে, আবার কখনো থমকে যায় ভেতরের হাজারও প্রশ্নে। নিজের মনের সাথে নিজে প্রশ্ন করে আটকে যাওয়ার মতো বিব্রতকর পরিস্থিতি আর নেই। আমাদের জীবনের পথচলায় দুটি শব্দ বারবার ফিরে আসে - আবেগ এবং বিবেক। আমরা হয়তো প্রতিদিন এই শব্দ দুটো নিয়ে তেমন ভাবি না, কিন্তু আমাদের প্রতিটি অনুভূতি, প্রতিটি দ্বিধা এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তের ভেতরে এই শব্দ দুটোর উপস্থিতি বেশি। আবেগ আমাদের ভেতরের শক্তি, যা আমাদের এগিয়ে যেতে, স্বপ্ন দেখতে এবং ভালোবাসতে শেখায়। বিবেক সেই শক্তির নীরব নিয়ন্ত্রক, যা আমাদের থামিয়ে দেয়, নিজেকে প্রশ্ন করে - “তুমি যা করতে যাচ্ছো, সেটা কি সত্যিই ঠিক, সত্যি করা উচিত?” একদিকে আবেগ মানুষকে কর্মের দিকে ঠেলে দেয়, আর বিবেক তাকে পথের গভীরতা দেখায়, যাতে ভুল পথে হারিয়ে না যায়।

অনেক সময় আবেগ মানুষকে এমন এক কল্পনার জগতে নিয়ে যায়, যেখানে বাস্তবতার হিসাব-নিকাশের কোনো গুরুত্ব থাকে না। মনে হয়, সবকিছুই সম্ভব - সব অনুভূতি সত্য, সব ইচ্ছা পূরণযোগ্য। কিন্তু ঠিক তখনই বিবেক নীরবভাবে উপস্থিত হয়। যেন নদীর দ্রুত বয়ে যাওয়া জল আর তার তীরে দাঁড়ানো স্থির পাথর - যা নদীর গতিপথ থামিয়ে দেয় না, শুধু সঠিক পথ দেখায়। এই অদ্ভুত ভারসাম্যই মানুষের জীবনের সৌন্দর্য এবং সংগ্রামের মূল।

তবুও নিজের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ গুলোর মধ্যে একটি। আমরা চারপাশের সবকিছু বুঝি - বাস্তবতা, যুক্তি, ভবিষ্যতের হিসাব-নিকাশ। তবুও আবেগের ঝড় মাঝে মাঝে আমাদের মনকে দখল করে ফেলে। কিছু স্মৃতি, কিছু অনুভূতি আছে যেগুলোকে যুক্তি দিয়ে মাপা যায় না। কখনো হাসি, কখনো কষ্ট, কখনো বিষণ্ণতা - সবই আমাদের ভেতরের আবেগের প্রতিচ্ছবি। জীবনের এই অদৃশ্য লড়াইয়ে কখনো আবেগ জিতে যায়, আবার কখনো বিবেক।

ধরুন, এক বন্ধু অনেকদিন পর আপনার সাথে দেখা করতে এসেছে। সে আপনাকে একটি ছোট নোটবুক দিলো, যেখানে আপনার একসময় করা ছোট্ট কাজ গুলো লেখা - এক কাপ চা বানিয়ে রাখা, কোনো কঠিন সময়ে পাশে থাকা, হাসি মুখে কথা বলা। বিবেক বলে - “এটা তো শুধু ছোট জিনিস,” কিন্তু আবেগ তখন বলে - “দেখো, এসবই জীবনের আসল মধুর মুহূর্ত।” কখনো ছোট্ট জিনিসেই আমাদের হৃদয় স্পর্শ হয়, কখনো আবেগই আমাদের জীবনের রঙে ভরিয়ে দেয়।

Rabindranath Tagore- এর একটি কথা মনে পড়ে গেলো - “মানুষের হৃদয়ের যে সত্য, তাকে সব সময় যুক্তি দিয়ে মাপা যায় না।” এই কথার ভেতরে মানুষের জীবনের এক গভীর সত্য লুকিয়ে আছে। মানুষের অনেক অনুভূতি, সিদ্ধান্ত এবং সম্পর্ক এমন জায়গা থেকে জন্ম নেয়, যাকে কেবল যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। ভালোবাসা, মমতা, স্মৃতি - এসবের পেছনে আবেগের অদৃশ্য শক্তি কাজ করে।

মাঝে মাঝে আমরা ভাবি – তবে কি আমাদের সব আবেগ সত্যিই অর্থহীন? হয়তো না। কারণ যদি আবেগ অর্থহীন হতো, তাহলে মানুষের জীবনে এর অস্তিত্বই থাকত না। আমরা হয়তো কোনো কিছুর অর্থ তখনই বুঝতে পারি না, যখন সেই অনুভূতির ভেতর দিয়ে আমরা হাঁটছি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে, ধীরে ধীরে, অনুভূতির ভেতরের অর্থ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জীবন শেখায় - মানুষ শুধু যুক্তি দিয়ে বাঁচে না, আবার শুধু আবেগ দিয়েও বাঁচে না। জীবনের আসল সৌন্দর্য হয়তো এই দুইয়ের সূক্ষ্ম ভারসাম্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে।

শেষ পর্যন্ত, আমরা সবাই সেই মানুষটা, মাঝে মাঝে আবেগের জোয়ারে ভেসে যাই, আবার কখনো বিবেকের হাত ধরে ফিরে আসি। কখনো আবেগ জিতে যায়, কখনো বিবেক। আর সেই জয়-পরাজয়ের মাঝেই আমরা ধীরে ধীরে নিজেদের চিনতে শেখি, মানিয়ে নিতে শিখি। হয়তো জীবনের আসল শিক্ষা হলো - সব আবেগকে জয় করতে হয় না, সব যুক্তিকেও মানতে হয় না। কিছু অনুভূতি শুধু অনুভব করার জন্যই থাকে, আর কিছু সত্য… কেবল হৃদয় দিয়েই বোঝা যায়। 

জীবন হয়তো আমাদের শেখায়, যে আবেগ এবং বিবেককে আমরা কখনো একসাথে পূর্ণরূপে ধরে রাখতে পারি না। কিন্তু তাদের এই অদৃশ্য খেলা আমাদের শক্ত করে, আমাদের অনুভূতিকে জীবন্ত রাখে। প্রতিটি হাসি, প্রতিটি চোখের জল, প্রতিটি হৃদয়ের ডাক - সবই এই যুদ্ধক্ষেত্রের সাক্ষী...।



প্রতিদিন আমরা অসংখ্য মানুষের সঙ্গে দেখা করি, কথা বলি। কারো সঙ্গে অফিসে, কারো সঙ্গে পথে, আবার কারো সঙ্গে হয়তো হঠাৎ-ই ফ্লাইট বা কফিশপে। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি - এই এত মানুষের মধ্যে আসলে কয়জনের সঙ্গে আমাদের সত্যিকারের Connection গড়ে উঠে? কয়জনের সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে ওঠে যেটা হৃদয়ের ভেতর পৌঁছে যায়? আসলে আমরা চাইলেই সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে পারি না। কারণ সম্পর্ক মানে শুধু দেখা করা বা কথা বলা নয়। সম্পর্ক হলো এক ধরনের বোঝাপড়া, সময় দেওয়া, আন্তরিকতা, সহমর্মিতা আর পারস্পরিক সম্মানের সমন্বয়। চাইলেই এটা হঠাৎ করে কারো সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলা যায় না।

অনেকে ভাবে, “আমি তার সাথে দেখা করতে চাচ্ছি, কথা বলতে চাচ্ছি মানেই হলো বিপরীত পাশের মানুষও একই ভাবে কেন চাবে না !!!” কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই এরকম নয়। একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে ধীরে ধীরে। সেখানে শুধু ইচ্ছা থাকলেই হয় না; সময় দিতে হয়, অপরজনকে বুঝতে হয়, তার অনুভূতিকে সম্মান করতে হয়। আপনি যদি শুধু নিজের দিক থেকে ভাবেন আর অপরজনের অবস্থাকে না বোঝেন, তাহলে সেই সম্পর্ক কখনো গভীর হয় না, সামনে আগায় না। তখন আপনি চাওয়া বা না চাওয়ার উপর কিছুই নির্ভর করে না। 

আমরা প্রায়ই একটা ভুল করি - যদি কেউ আমাদের সঙ্গে সময় কাটাতে চায় বা কেউ কফি এর জন্য ইনফাইট করল কিন্তু তাকে সময় না দিতে পারলে, আমরা ভাবি সে হয়তো মুডি বা Selfish বা Self-Centered Person. কিন্তু আসল ব্যাপারটা অন্য রকমও হতে পারে রাইট? মানুষটার হয়তো পারিবারিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বা অফিসের কাজের চাপ যাচ্ছে, বা অন্য কোনো Personal Situation-নিয়ে সে ব্যস্ত। কিন্তু আমরা সেটা না ভেবে ধরে নিই, “সে চাইছে না।” অথচ বাস্তবতা হলো- সে হয়তো পারছে না। আর এখানেই তৈরি হয় ভুল বোঝাবুঝি। দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের অনেক সঠিক ভাবে বুঝতে সহযোগিতা করে।

এই বিষয়টাই আরেকটু ভিন্নভাবে ভাবি, ভাবুন তো-যদি কেউ আপনাকে সরাসরি প্রশ্ন করে, “আমি কেন আপনার জন্য সময় দেবো?” তখন আপনার উত্তর কী হবে? আপনি কি সত্যিই তার সঙ্গে এমন কোনো Communication Build-up করেছেন, যে কারণে সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আপনার সঙ্গে সময় কাটাতে চাইবে? যদি না করে থাকেন, তাহলে কেন সে আপনার জন্য সময় বের করবে? এখানে মূল কথাটা হলো- সম্পর্ক মানেই শুধু দেখা বা আড্ডা নয়। সম্পর্ক হলো বোঝাপড়া, Empathy, আন্তরিকতা আর একে অপরের অবস্থান বুঝে নেওয়ার চেষ্টার নাম।

এই বিষয়টা আমি নিজেও একবার গভীরভাবে বুঝতে পেরেছিলাম। মার্চ ২০২৫-এর শুরুতে আমি এক ব্যক্তিগত কাজে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলাম। যেহেতু একা ছিলাম, ছবি তোলার মতো কেউ ছিল না। তখন দেখি একজন চুপচাপ বসে আছে। আমি হালকা করে কথোপকথন শুরু করলাম। সে নিজেও খুব আগ্রহ দেখাল, ধীরে ধীরে আলাপ এগোতে লাগল। কথায় কথায় জানতে পারলাম তিনি জাপান থেকে এসেছেন, থাকবেন প্রায় ১৫ দিন। কাকতালীয়ভাবে তখন আমি Kaizen: The Japanese Method for Transforming Habits, One Small Step at a Time বইটা পড়ছিলাম জাপানি culture নিয়ে জানতে। সেটা শেয়ার করতেই তিনি খুব খুশি হলেন। প্রায় ৩০ মিনিট আমরা আলাপ করলাম। শেষে তিনি আমাকে জাপানে আসার আমন্ত্রণ জানালেন, আমি তাকে coffee-এর জন্য invite করলাম। আরও অবাক হলাম যখন তিনি নিজেই বললেন, চাইলে আমি আপনার ছবি তুলে দিতে পারি। সেই মুহূর্তে বুঝলাম - এই Approach, এই Openness না থাকলে কোনো সম্পর্কই তৈরি হতো না। এখনো তার সাথে যোগাযোগ আছে, কথা হয়। যদি কোনোদিন জাপান যাই, অবশ্যই তার সঙ্গে দেখা করবো।

এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে - কেউ আপনার জন্য সময় দেবে, সেটা কখনোই একদিনে হয় না। সম্পর্ক গড়তে হয়, Nurturing করতে হয়, এবং এর জন্য আন্তরিকতা, সময় আর Effort দিতে হয়। আপনি যদি কারো কাছে গুরুত্ব চান, আগে তাকে গুরুত্ব দিন। আগে বুঝতে হবে, শুনতে হবে, Respect দেখাতে হবে। সময় না দিয়ে সময় আশা করা বোকামি, গুরুত্ব না দিয়ে গুরুত্ব পাওয়ার ইচ্ছা থাকাটা উচিত না, Respect না দিয়ে Respect আশা করতে নেই।  

Relationship building takes time। Relationship- হলো বোঝাপড়া আর সমঝোতার উপর দাঁড়ানো এক দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কেউ হুট করেই আপনার জন্য সময় বের করে দেবে না। আপনাকেই আগে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি সেই সময় & সম্পর্কের যোগ্য। যখন আন্তরিকতা, Understanding আর Respect একসঙ্গে কাজ করে, তখনই দেখা যাবে- মানুষ আনন্দের সঙ্গে আপনার জন্য সময় বের করছে, আপনার কথা শুনছে, আর আপনাকে সত্যিকারের Value দিচ্ছে।

জীবনের পথচলায় আমরা প্রতিনিয়ত নানান মানুষের সঙ্গে দেখা করি, কথা বলি। কেউ এসে হারিয়ে যায় ভিড়ের মাঝে, আবার কেউ নিঃশব্দে গেঁথে যায় হৃদয়ের এক নির্জন কোণে। প্রতিদিনকার ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেকের সঙ্গ পাই, কিন্তু সবাই সমানভাবে আমাদের মনে ছাপ, দাগ কাটে না। কিছু সম্পর্ক নিঃশব্দে, ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। যেগুলো হয়তো আমরা কোনোদিন কল্পনা করিনি, কিন্তু একসময় দেখেছি সেই সম্পর্ক গুলোই আমাদের দিন গুলোর সবচেয়ে উজ্জ্বল আলো হয়ে ধরা দেয়।

কর্মস্থল, যেখানে আমরা দিনের বড় একটা সময় কাটাই, সেখানে সম্পর্ক গুলো শুধুমাত্র কাজের প্রয়োজনেই গড়ে ওঠে না। কখনো কখনো নির্বিচারে, অজান্তেই কেউ কেউ হয়ে ওঠে বিশেষ। তাদের সঙ্গে কোনো অফিসিয়াল মিটিং শুধু নয়, বরং জীবনের গল্প ভাগাভাগি হয়। যেখানে বয়স, ডেজিগনেশন কোন ম্যাটারই করে না। যেখানে মানসিক চিন্তা ভাবনা, পারস্পরিক বোঝাপড়াই মুখ্য বিষয় হয়ে থাকে। কাজের ফাঁকে এক কাপ কফি আর কিছু মুহূর্তের নির্ভরতা দিয়ে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব, ভরসা, ভালোবাসা।

আলাদা করে কিছু না বললেও, কিছু মানুষ বুঝে যায় আমাদের মুড ভালো নেই, ভেতরে ঝড় বয়ে যাচ্ছে বা অস্থিরতা। দিনের শেষে, যখন অফিসের কাজ শেষে ঘরে ফিরার সময় আসে, তখনো কিছু সম্পর্ক নিভে যায় না। অফিসের বাইরেও তাদের সঙ্গে দেখা হয় আড্ডায় কোনো প্রিয় ক্যাফের টেবিলে গল্প জমে ওঠে। কখনো পরিকল্পনা হয় একটা হুটহাট ট্রিপের, কখনো গভীর জীবন দর্শনের, কখনো পরের দিনের কাজের প্লান, কখনো বা অফিসের কাজের দক্ষতার দায়ভার নিয়ে। এই সকল মুহূর্ত, এই সকল মানুষ আস্তে আস্তে আমাদের জীবনের অভ্যাসে পরিণত হয়। এমন এক অভ্যাস, যা আমাদের স্বস্তি দেয়, শান্তি দেয়, ভরসা যোগায়, সাথে নিজের করে নেওয়ার অনুভূতি দেয়।

এই সম্পর্ক গুলোতে হিসেবের জায়গা নেই। কে কতটা দিচ্ছে বা কে কতটা নিচ্ছে তার পরিমাপ নেই। আছে কেবল মনের মিল, চোখের চাহনি থেকে বোঝার ক্ষমতা, আর নির্ভরতার অদৃশ্য সুতোর টান, মায়ার টান, আস্থার জায়গা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এরা হয়ে ওঠে এমন কিছু মুখ, যাদের ছাড়া দিনটা অসম্পূর্ণ মনে হয়। মাঝে মাঝে মনে হয়; এরা না থাকলে কাজের চাপের পাহাড় ভেঙে কীভাবে বেঁচে থাকতাম! সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো এই সম্পর্ক গুলোতে কোনো অভিনয় নেই। অফিস পলিটিক্সের বাইরে, কর্পোরেট প্রতিযোগিতার বাইরে, একদম নির্মল মন থেকে তৈরি হওয়া এক ধরনের বোঝাপড়া। হয়তো একসঙ্গে অনেক গল্প হয় না, কিন্তু একসঙ্গে কফি নিয়ে চুপ করে বসে থাকাটাও আরামদায়ক মনে হয়।

এভাবেই কর্মজীবনের ক্লান্তির মাঝে কিছু মানুষ, কিছু মুহূর্ত জীবনের সৌন্দর্য হয়ে ওঠে। তারা আমাদের শেখায় কাজ শুধু কাজ নয়, মাঝে মাঝে জীবনের গভীরতাও। তারা আমাদের মনে করিয়ে দেয় সফলতা কেবল অ্যাপ্রিসিয়েশন, প্রমোশন বা প্রজেক্ট শেষ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং যাদের সঙ্গে এই পথ পেরোনো যায় সেটাই জীবনের আসল প্রাপ্তি। আমার মনে হয়, এমন কিছু মানুষ জীবনে থাকা মানেই একধরনের আশীর্বাদ, যেখানে মনের ভাব নির্দ্বিধায় প্রকাশ করা যায়। আর এমন কিছু সম্পর্ক, যা প্রতিদিনকার রুটিনের ভেতরেও এক টুকরো শান্তি এনে দেয় সেগুলোই সত্যিকারের সম্বল।

জীবনটা অনেকটা একটা ট্রেন যাত্রার মতো স্টেশন বদলায়, গন্তব্য বদলায়, দায়িত্ব আর সময়ের রেলগাড়ি ছুটে চলে সামনের দিকে। কিন্তু কিছু সহযাত্রী থাকে, যাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া প্রতিটি মুহূর্ত একেকটা গল্প হয়ে যায়। এই গল্প গুলোতেই লুকিয়ে থাকে জীবনের আসল সৌন্দর্য। তাদের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি হাসি, প্রতিটি নিরবতা, প্রতিটি একান্ত আলোচনার মধ্যেই যেন জীবনের ছন্দ লুকিয়ে থাকে। তাদের সাথে কাটানো সময় আমাদের শেখায় কাজ শুধু বেঁচে থাকার উপায় নয়, বরং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে বাঁচার সত্যিকারের মানে।

এই মানুষগুলো, এই সম্পর্কগুলো, আর এই মুহূর্তগুলো একসময় হয়তো চোখের আড়ালে চলে যাবে, কিন্তু মনের গহীনে থেকে যাবে সবসময়। সময় বদলাবে, স্থান বদলাবে, জীবনের গল্প অন্যদিকে এগোবে তবুও কিছু অনুভব থেকে যাবে একেবারে নিঃশব্দে, নরম বাতাসের মতো, বৃষ্টির প্রতি ফোঁটার মতো। ঠিক সেভাবেই থেকে যায় অদৃশ্য, অথচ গভীর। এমন কিছু সম্পর্ক থাকে, যেগুলো কখনোই হারায় না, তারা থেকে যায় হৃদয়ের পাতায়, নিঃশব্দ ভালোবাসায়, জীবনের প্রতিটি শূন্যতায় নিঃশব্দে আলো হয়ে..।

অনেক দিন যাবৎ-ই লিখা হয় না, হয় না বললে ভুল হবে, লিখতে পারি না। কেন লিখতে পারি না সেই ব্যাখ্যায় যদি যাই তাহলে প্রথমেই আসবে লিখতে ইচ্ছা করে না। কিছু লিখার জন্য মনের যে ইচ্ছা, আশা, আগ্রহ দরকার হয় সেটা আস্তে আস্তে মরে যাচ্ছে। মাথাটা অন্য কোন কিছুতে খুব বেশি Occupied হয়ে আছে। 

একটা সময় ছিল মাসে ৩-৪ টা ব্লগ লিখা হয়ে যেতো, এখন মনেই পরে না লাস্ট কবে ব্লগ লিখেছিলাম। চাইলেও মনে করতে পারি না। হঠাৎ কেন এমন হল তার ব্যাখ্যা খুঁজতে গিয়ে লক্ষ্য করলাম লেখালেখিটা আসলে মনের একটা ভাললাগার জায়গা থেকে আসে। এই লেখার আগ্রহটা নির্ভর করে আশেপাশের পরিস্থিতি, মনের অবস্থা, মানসিক ভাবে কতোটা শান্তিতে থাকা হয় তার উপর। একটু খেয়াল করে দেখলাম লাস্ট কয়েক বছর যাবৎ আমি মানসিক ভাবে এতো বেশি Occupied হয়ে আছি যে, Job, Corporate life balancing, Family issues এসব ছাড়া আর কিছুই তেমন ভেবে লক্ষ্য করা যায় না। 

জীবনটা বড়ই ধীরগতি আর যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে। কোন ব্যস্ততাই আমাকে স্পর্শ করে না, মাঝে মাঝে মনে হয় এতো বেশি ব্যস্ত থাকি যে ব্যস্ততাও আমাকে দেখে অন্য কিছুতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কোন কিছুতেই কোন আকর্ষণ বোধ করি না। কেমন জানি উদাস উদাস মনে হয় সব সময়। হয়তোবা এটা উদাসীন হওয়ার ই সময় । জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে এতগুলো অধ্যায় দেখে এখন অনেকটাই আশাহত। আমি আমার আমিকে হারিয়ে ফেলেছি অনেক আগেই। এখন শুধুই খোঁজার চেষ্টা করছি নিজেকে সেই আমার আমিকে।

আমি এক স্বপ্নকথক, চলেছি অজানার উদ্দেশ্যে। আমার কিছুই বলার নেই। তারপরেও, অনেক কিছুই বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু বলার সাহস পাই না। অসীম শূন্যতার মাঝে সামনের দিকে চলা একাকী এক নাবিক। আমার আমি'কে নিয়ে সামনে চলা, এক নিরন্তরের পথে! হাজারো মানুষের ভিড়ে একজন মানুষ, এখনো জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পাইনি। বেঁচে আছি, বেঁচে থাকতে হয় বলে। আমি স্বপ্নের ফেরিওয়ালা স্বপ্ন খূঁজে ফিরি। স্বপ্নেই খুঁজে বেড়াতাম নিজেকে। ঘুমহীন চোখে স্মৃতির রাজ্যে নিরন্তর অনেক ঘুরে বেড়িয়েছি । কখনো কখনো খুঁজে পেয়েও আবার হারিয়ে ফেলেছি। গন্তব্যহীন পথে উদ্ভ্রান্ত পথিকের মতই আপাতত ঘুরপাক খাচ্ছি।

এক সময় নিজেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতাম। স্বপ্ন দেখতে দেখতে স্বপ্নের মাঝে গা ভাসিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখলাম আমি মিথ্যে স্বপ্নের পাহাড়ে দাঁড়িয়ে আছি, সপ্ন আর বাস্তব এক না। জীবনের এই মুহূর্তে এসে হিসেব করে দেখলাম, পাওয়ার চেয়ে না পাওয়াই বেশি। আশারা তাচ্ছিল্যভরে তাকিয়ে থাকে, আর নিরাশাও মুখ ফিরিয়ে নেয় চরম নির্মমতায়। আশা পূরণের আনন্দে আপ্লুত হয়ে উচ্ছ্বসিত কথোপকথনকে আজ আমার বাতুলতা মনে হয়। মনে হয় আশা শুধুই বৃথা। সব মিলিয়ে জীবন যেন দিন দিন মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। চারিদিকে ধূলো বালি, তপ্ত,উত্তপ্ত, তৃষার্ত। এই আমি খুঁজে বেড়াই সামান্য মেঘ, সামান্য বৃষ্টি।খুঁজতে খুঁজতে আমি হতাশ,  ক্লান্ত।

জীবনটা মনে হয় এরকম-ই...
যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই, যাহা পাই তাহা চাই না...॥


কখন যে কোথা থেকে মানুষের মনে ভর করে আকাশ সমান ক্লান্তি, বিষণ্নতার কালো মেঘ আচ্ছন্ন করে ফেলে তাকে। জীবন হয়ে ওঠে এক অসহ্য যন্ত্রণার নাম। রাজ্যের নৈরাশ্য গ্রাস করে, ঘুম কেড়ে নেয় তার। কোনো এক ‘ফাল্গুনের রাতের আঁধারে, যখন ডুবে যায় পঞ্চমীর চাঁদ, মরণের সাধ জাগে দুর্নিবার।’ প্রেম, স্নেহ-পৃথিবীর তাবৎ সৌন্দর্য, ঘৃণা, পিছুটান তুচ্ছ মনে হয়। অর্থশূন্য মানবজীবনের অবসানই একমাত্র কাঙ্ক্ষিত হয়ে ওঠে তখন।

একজন মানুষ হিসেবে আমাদের পক্ষে খুব কঠিন ভিন্ন আরেকজনের মানসিক কষ্ট বুঝে, সত্যিকার অর্থে তা অনুভব করা। অধিকাংশ মানুষ এটি বুঝেই না যে বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে কেন লোকে বিষণ্ণ হয়ে পড়ে। অনেক রোগী ডাক্তারদেরকে বলেছেন যে, তারা যখন আত্মহত্যা করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তাদের নিজেদের ব্যথাটাই এত বেশি ছিল যে তখন তারা তাদের প্রিয়জনদের কথা ভাবেনি। মনে হতেই পারে এটা খুব স্বার্থপরের মতো আচরণ। কিন্ত আসলে তা নয়। মানুষ আত্মহত্যা করে শুধু নিজে পালিয়ে বাঁচার জন্য। সে আসলে নিজে বাঁচার উপায় হিসেবেই মৃত্যুকে বেঁচে নেয়। এদের চলে যাওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকলেও, মূল কারণ কিন্তু একটাই, আর সেটা হচ্ছে মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা এবং হতাশা। যা তারা বহন করতে পারেনি। আমরা সবাই এখন এক অর্থহীন দৌড় প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যেখানে জীবন মানেই অর্থহীন লোক দেখানো ছুটে চলা। এই অস্বাভাবিক ও অসুস্থ প্রতিযোগিতা আমাদের হতাশা ও বিষণ্ণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। হতাশা মানুষের সৃজনশীলতা, বিবেকবোধ ও বুদ্ধিমত্তা নষ্ট করে দিচ্ছে। পরিবারের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত মানুষকে আরও চাপের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।

মানসিক চাপকে আমরা খুব ভারী বা মোটামুটি ভারী কোনো জিনিসের সঙ্গে তুলনা করতে পারি। মোটামুটি ভারী কোনো জিনিস আমরা নির্দিষ্ট একটা সময় পর্যন্ত হাতে ধরে রাখতে পারব। এখানে জিনিসটির ওজন কোনো ব্যাপার নয়। ব্যাপার হচ্ছে আমরা কতক্ষণ এটি ধরে আছি। যত বেশি সময় ধরে থাকব, তত বেশি হাতটা অবশ হতে থাকবে। এই ভারী জিনিসটির মতোই হচ্ছে মানসিক চাপ। প্রচন্ড কোনো মানসিক চাপ একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আমরা সহ্য করে নিলেও নিতে পারি, কিন্তু সেই চাপের সময়সীমা দীর্ঘস্থায়ী হলেই বাঁধে বিপত্তি। মানুষ তখন সেই চাপ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য অস্থির হয়ে পড়ে। এরকম কোনো এক পর্যায়েই মানুষ আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।

অনেকসময় অন্যের মন খারাপকে আমরা পাত্তা দেই না। ভাবি হয়ত এটি সামান্য ব্যাপার, সাধারণ মন খারাপ। কিন্তু এভাবে চিন্তা করা মোটেও ঠিক নয়। চরম হতাশায় থাকা ব্যক্তির প্রতি আমাদের দায়িত্ব আছে। অস্বাভাবিক চাপের মুখোমুখি হয়ে অনেকেই আত্মহত্যার কথা ভাবে কিন্তু সেই ভাবনাটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাময়িক ভাবনা। তবে এই ভাবনাটাই যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তখুনি রোগী তা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যায়।

জীবনকে উপভোগের জন্য খ্যাতি-বিত্ত নয়, সস্তা বিনোদন কিংবা একঘেয়েমি জীবন নয়, বরং আনন্দের যে পথটা সেটা জানা দরকার, বুঝা দরকার। সেই পথ জানা থাকলে আপনাকে আর আত্মহত্যা করতে হবে না। জীবনে চলার পথে আত্মবিশ্বাস খুবই দরকার। আপনি চলে গেলে মানুষ ভুলে যাবে, পরিবারে শূন্যতা সৃষ্টি হবে। অথচ আপনি যদি সমাজের বাধা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন, নিজের মতো বাঁচতে পারেন তবে এই সমাজ, এই মানুষগুলোই মনে রাখবে আপনাকে।

শুধু একটাই ব্যাপার, এই সময়টা একজন প্রিয় মানুষের উপস্থিতি লাগে, যে সময়ে অসময়ে পাশে থাকবে। মানসিক সাপোর্ট দিবে, পরিস্থিতি বুঝতে চেষ্টা করবে।প্রতিটা মিনিট, ঘন্টা আমার কেয়ার নিতে ব্যস্ত থাকবে। সে কখনো আমায় ভুল বোঝবে না অহেতুক এই হঠাৎ মন খারাপের জন্য প্রশ্ন তুলবে না। মন খারাপের সময় বারবার মন খারাপের কারন জানতে চেয়ে আরও মন ভারী করে দিবে না। বরং আমার সময়টাকে রিকোভার করতে আপ্রাণ চেষ্টা করবে। বাস্তবতা ভিন্ন, বাস্তবতা কল্পনার মতো নয়।



মাঝে মাঝে আমরা অন্যকে ভালোবাসতে গিয়ে নিজেকেই ভালোবাসতে ভুলে যাই। মানুষটাকে উজার করে ভালোবাসা দিতে গিয়ে নিজের বলতে আর কিছু থাকে না। ভালোবাসার মানুষের কাছে আমরা নিজেদের তুচ্ছ করে ফেলি। মনে হয়, আর কিভাবে ভালোবাসলে সে আমাকে ছেড়ে যাবে না, সে শুধু আমাকেই ভালোবাসবে। নিজেকে তুচ্ছ করতে করতে নিজের সবটুকু মানুষটার কাছে বিলিয়ে দেই, নিজের বলতে তখন অবশিষ্ট কিছুই থাকেনা। নিজের প্রতি ভালোবাসা তো দূরের কথা, তার কাছে আত্মসম্মান বোধটুকুও আর থাকেনা। এই অবস্থায় মানুষটা যখন ছেড়ে চলে যায়, তখন কারো সাধ্য থাকেনা নিজেকে নিয়ে উঠে দাঁড়ানোর।

বলছি না, ভালোবাসতে কৃপণতা করতে। এটুকু বলছি, কাউকে ভালোবাসতে হলে, কাউকে সম্মান দিতে হলে, নিজেকে আগে ভালোবাসো। নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে কাজ করো। যখন নিজেকে সম্মান দিতে জানবে না, নিজেকে ভালোবাসতে ভুলে যাবে তখন অন্য আরেকজনের কাছ থেকে ভালোবাসা,সম্মান কিভাবে আশা করবে। যে তোমাকে সন্মান দিতে জানে না, সে আর যাই হোক তোমাকে সে ভালোবাসে না। তার সাথে তুমি কখনোই ভালো থাকবে না, নিজের সবটা উজার করে দিলেও না। 

নিজেকে সময় দেওয়া প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। নারী বা পুরুষ যেই হোক না কেন, নিজের যত্নটা নিজেকেই বুঝতে হবে। কারণ, জীবনের অনেকটা সময় থাকে শুধু নিজের জন্যই বাঁচতে হয়। নিজেকে নিয়ে মাঝে মাঝে একটু বসতে হয়, নিজেকে নিজে প্রশ্ন করতে হয়; আমি কি ঠিক আছি ? যা করছি ঠিক করছি তো ? উত্তরটা সহজে মিলে, কাজটাও সহজ হয়। জীবন তো একটাই, একান্ত আমার নিজের, এখানে হাজার মানুষের মতামত, ভালোলাগা-মন্দলাগার থেকেও বেশি প্রয়োজনীয় আমার নিজের ভালোলাগা-মন্দলাগা। কারণ, দিন শেষে তোমার মনের খোঁজটা তোমাকেই নিতে হবে। চোখের পানি গুলো তোমার গাল বেয়েই ঝড়বে। 

সোডিয়াম বাতি আর ভালোবাসার মায়ায় জড়িয়ে আবার কবে মধ্যরাতে গল্প করতে করতে হারিয়ে যাওয়া হবে তা আমরা কেউই জানিনা। হঠাৎ করে একদিন "নেই" হয়ে গেলাম... কী হবে তখন ? পৃথিবী এলোমেলো হয়ে যাবে, আকাশ ভেঙে পড়বে, সবাই খুব কাঁদবে, প্রিয় মানুষটি তোমার ভাবনায় পাগলের মত হয়ে যাবে, আজীবন আপনার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে জীবন কাটিয়ে দেবে? সত্যি কথা হচ্ছে, কিছুই হবে না! কিচ্ছু না। পৃথিবী যেমন ছিল, সেভাবেই চলবে। কেবল তোমার জীবন বাদে বাকি সকলের জীবনই সামনে দৌড়াবে। যাদের সাথে বাস করতে পরিবার, বন্ধু, প্রিয়জন- কয়েকটা দিন তাঁদের খারাপ লাগবে খুব। কিছুদিন হায়-আফসোস হবে, সামাজিক ব্যাপার গুলি ঘটবে..।
তারপর---

এসব আয়োজনের মাঝে কোন এক ফাঁকে টুক করে তুমি স্মৃতি হয়ে যাবে, দেয়ালে ঝোলানো ছবি হয়ে যাবে। সবাই ভুলে যেতে শুরু করবে, তুমি হয়ে যাবে অতীত। প্রিয়জনেরা কেউ ভাগ্যের পরিহাস হিসাবে মেনে নেবে, কেউ কেউ আরও কিছুদিন মনে মনে অপেক্ষা করবে তোমার ফিরে আসার। তারপর একটা সময় এমন আসবে- যখন কেউ আর অপেক্ষাও করবে না ! বিলিভ মি, এটাই হবে...। 

কিছুদিন বাদে সবচাইতে প্রিয় মানুষটিও শোক ভুলে কিছু একটা নিয়ে খুব হাসবে, তোমার প্রিয় খাবারটি পেট পুরে খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলবে। তাঁর মনেও পড়বে না যে তুমি নেই, তুমি হারিয়ে গেছো, না জানি কোথায় কেমন আছো ! আরো কিছুদিন বাদে তোমার প্রিয় মানুষটিরো আরেকজন প্রিয় মানুষ হবে, তুমি হয়ে যাবে প্রাক্তন, কিংবা প্রাক্তনের স্মৃতি ! লিখে রাখো- জীবনে কোন কিছুই চিরস্থায়ী না। আর প্রিয়জন...!!? প্রিয় থেকে অপ্রিয় হতে সময়ের ব্যবধানে সর্বোচ্চ কয়েকটা সেকেন্ড। 

পৃথিবীতে কেবল একটা জিনিসই সত্য... মৃত্যু। কিংবা ফুরিয়ে যাওয়া, নেই হয়ে যাওয়া...


যখন আপনি কারো সাথে সম্পর্কে জড়াবেন তখন খুব ভালোভাবে ভেবে নিবেন যে মানুষটাকে আজ আপনার জীবনের সাথে জড়াচ্ছেন তাকে কতোটা নিজের করতে পারবেন। বিশেষ করে সমবয়সের করো সাথে জড়ালে। 

বিয়ের সময় যদি আপনার মনে হয় আপনার পরিবার না চাইলে সেই মানুষটার সাথে সারাটা জীবন থাকা সম্ভব না তবে আপনার জন্য সম্পর্কে না জড়ানোই শ্রেয়। আপনি তাকে ভালোবাসেন সব জেনে বুঝেই, বিয়ের সময় যদি প্রশ্ন আসে আপনার বিয়ের কাবিন এতো টাকা হতে হবে, নাহলে লোক কি বলবে, পরিবার মানবে না কাবিন কম হলে, এই টাকায় সংসার চলবে না, সে কি আপনার খরচ বহন করতে পারবে কিনা..এরকম আরো অনেক প্রশ্ন...

যে ছেলে আপনার সমবয়সি তার পক্ষে নিজে ইনকাম করে ২০ লাখ টাকা কাবিনের টাকা পরিশোধ করে বিয়ে করা সম্ভব না, যে আপনার সমবয়সী তার পক্ষে বিয়ের শুরু তেই আপনাকে বিলাসিতায় রাখা হয়ত সম্ভব না, তার কাছে এটা এক্সপেক্ট করাটা ঠিক হবে না সে মাসে লাখ টাকা ইনকাম করবে আর আপনাকে রানীর মত রাখবে, সে অবশ্যই আপনাকে রানীর মতই রাখবে কিন্তু সেটা সে যে টাকা ইনকাম করে সেই টাকার মধ্যে। 

তার প্রতি আপনার ভালোবাসা, তাকে আপনি কতোটা বুঝেন, তার বর্তমান পরিস্থিতি কতোটা বুঝেন সেটার উপর নির্ভর করবে এই প্রশ্ন গুলো আপনার মাঝে আসবে কিনা...আপনি বলতেই পারেন জীবনের নিশ্চয়তা ভাবা কি অন্যায়...? অবশ্যই না, তবে ভালোবাসার মানুষের ক্ষেত্রে সেটা ভাবা টা যুক্তি সঙ্গত কিনা সেটা একটু ভেবে দেখা জরুরী। ভালোবাসার মানুষকে জীবন সঙ্গী করে পাচ্ছেন এটার চেয়ে যদি অন্য কিছুতে অনিশ্চয়তায় আপনার মনে চলে আসে তাহলে ভালোবাসাটা প্রশ্নবিদ্ধ। তাহলে আপনার এমন কাউকে ভালোবাসা উচিত ছিল যে সব দিক থেকেই আপনার যোগ্য, আপনার জন্য পারফেক্ত। ভেবে দেখুন তো যে মানুষটাকে আজ আপনি এরকম কথা হাসির ছলে বললেন সে হয়তো আপনার জন্য ব্যাটার কিছু করতে বাকি সব কিছু দূরে ছুড়ে ফেলেছে। সে হয়তো এমন কিছুর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যা আপনার অজানা। আপনার এই হাসির ছলে, মজা করে বলা কথাটি শুনার পর তার দীর্ঘশ্বাস, তার অসহায়ত্ব হয়তো কখনো আপনার চোখে পড়বে না। একটা ছেলেই শুধু জানে এই কথা গুলো কতোটা ব্যথিত করে তাকে, কতোটা অসহায় বোধ হয় তার মাঝে। এমন অনেক কিছু হয়তো আছে যা আপনাকে সে বলেই না আপনি তাকে অযোগ্য ভাববেন এই ভেবে। জীবনের কেউই পেরফেক্ত না, কিন্তু যে যাকে চায় তাকে সে নিজের মতো পেরফেক্ত করে নেন। আর কেউ হাত ছেড়ে অন্য কারো হাত ধরেন। আজকে যাকে অযোগ্য, পারফেক্ত না বলছেন কালই হয়তো সে পারফেক্ত, যোগ্য একজন মানুষ হয়ে যাবেন। শুধু সময়ের পার্থক্য...কিন্তু আপনার কাছ থেকে তার খারাপ সময়ের এই কথা গুলো তার মনে ঠিকই গেঁথে থাকবে। 

আপনাকে নিয়ে কয়েকশো বছরের অগ্রিম দেখা স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রনা সহজে মেনে নিতে পারে না সে,  কখনোই না, কেউ-ই মেনে নিতে পারে না। কাউকে ভালোবাসার আগে অন্তত একবার হলেও ভাবুন এই মানুষটি কেই নিজের ভাবতে পারবেন কিনা, তার সবকিছুকে মেনে নিতে পারবেন কিনা...।







মানুষ যত বেশি নিজেকে চিনতে থাকে,
ভিড় থেকে ততো বেশি দূরে সরে যায়।
অতিরিক্ত লোকজন ভাললাগে না তার,
অযথা মাতামাতি এড়িয়ে যায়।
অপ্রয়োজনীয় কথায় মন বসে না বেশিক্ষণ।
কাউকে কাছে ঘেষতে দেয় না- বরং দূরে ঠেলে দেয়।

ওরা একটা মুক্ত জেলখানার মতো হয়ে যায়,
দরজা বিহীন, দেয়াল বিহীন একটা মুক্ত জেল খানা।
সহজেই পালিয়ে যেতে পারে কিন্তু তাও সেখানেই আটকে রাখে সেখানে।
ওরা হুটহাট কারো সাথে কথা বলে না,
আবার যাদের সাথে বলে- সেখানে কথা শেষই হয় না।

আসলে ভিতর ভিতর নিজের সাথে ওরা এতো বেশি কথা বলে-
বাহিরে তার খুব সামান্য অংশই প্রকাশ পায়।
ওরা মাঝে মাঝে চলে যেতে চায়-
চলে যেতে চায় কোন এক অচেনা শহরে।
যেখানে কোন পরিচিত মুখ নেই।
এই শহরে অনেক পরিচিত মুখ-
অপরিচিত মুখ হয়ে সে ঘুড়ে বেড়ায়।

ওরা নিজের সাথে খুব সাচ্ছন্দ বোধ করায়-
অন্যের সাথে মিশে যেতে পারে না-
কিন্তু একবার মিশে গেলে ওদের থেকে ভালো সঙ্গী পাওয়া দুষ্কর।

ওরা নানা বিষয় নিয়ে পারদর্শিতার সাথে আলোচনা করতে পারে-
বাহ্যিক পৃথিবী ছাড়াও ওদের আলাদা একটা জগত থাকে।
যেখানে খুব যত্ন করে সাজিয়ে রাখে ভালোবাসা।

ওরা অসুস্থ বা মানসিক রোগে আক্রান্ত নয়-
ওদের সমস্তটা একটা বাঁধ দিয়ে আটকিয়ে রাখে,
বাঁধ খুলে দিতে পারলে দূর_দুরান্ত পর্যন্ত ভিজিয়ে দিতে পারে।
তফাৎ ওই বাঁধ সবাই খুলতে পারে না।
হ্যাঁ, ওই বাঁধ  সবাই খুলতে পারে না...।। 

মনে হয় মৃত্যুর মিছিলে সামিল হয়েই গেলাম,
যেটুকু ছিলো রাগ অভিমান সবটুকু যেও তবে ভুলে,
ভুলে গিয়ে যতো অভিযোগ,অনুযোগ ফেলো না হয় দু ফোঁটা চোখের জ্বল, 
নয়তো দীর্ঘ নিঃশ্বাস...
শেষ বিদায়ের বেলায় দূর থেকেই না হয় শেষ বার বলে দিও ভালোবাসি।

মৃত্যুর আলিঙ্গনে দেহ ত্যাগ করে যদি চলেই যাই,
আমায় তবে অন্তরে রেখো, স্মৃতির কোটরে রেখো ,
মনের পরতে পরতে রেখো।
আর যেটুকু ছিলো মান অভিমান সব ফানুসের মতো আকাশে উড়িয়ে দিও।
ভুলে যেয়ো তিক্ত কথা-
অনুরোধ রইলো অভিমান রেখোনা মনে।
কখনো খুব বেশি মনে পড়ে গেলে না হয় চোখের জ্বল দিয়েই আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো!

কাছে এসে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ তো আর হবে না এ মৃত্যু বেলায়,
হয়তো সুযোগ হবে না কাছে এসে দেখার-
তাই দূর থেকেই ধ্বনি তুলো ভালোবাসি।
মন দিয়েই ছুঁয়ে দিও দূর থেকে,
মন দিয়ে মনকে জড়িয় ভালোবাসায়।
প্রার্থনায় জমিয়ে রেখো আমায় নিয়ম করে।
অভিশাপটা না'হয় ঝেড়ে ফেলো দূরে।

যতো দূরেই যাই না কেনো চলে!
কারণে-অকারণে,নিয়ম-অনিয়মে,
ভুল করে কিংবা সচেতন খেয়ালে-
'ভালোবাসি' শব্দটার মাঝেই আমাকে রাখিও বাঁধি,
ভুলে যেতে যেতেও বেলা শেষে বলে দিও 'তবু ভালোবাসি'!

MARI themes

Powered by Blogger.