Showing posts with label বৃষ্টির দিন গুলি. Show all posts

সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে, বাইরে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। তাই জানালার পাশে চুপচাপ বসে আছি। এভাবে করেই আজকের সকালটি কাটিয়ে দিলাম। আর অনুভব করার চেষ্টা করলাম একটি বৃষ্টি মুখোর সকালকে। এই বৃষ্টি গুলো ভাললাগে। ভালোলাগার মতো অনেক কিছু আছে এই বৃষ্টি ভেজা সকালে। বৃষ্টির রিমঝিম শব্দে যখন ভোরের ঘুম ভাঙ্গে তখন সে সকালটা হয় আরো মধুর। শুনেছি বৃষ্টি ভেজা সকালে প্রিয়জনের ফোন পেয়ে ঘুম ভাঙ্গাটা নাকি সোভাগ্য, সেই সকালটা নাকি আরও বেশি মধুর হয়। বৃষ্টির ছন্দে ছন্দে প্রিয় মানুষটির সাথে কথা বলা, মন বিনিময় করা। মনের সাথে মন বৃষ্টির ছন্দে প্রকাশ পায়। কিন্তু প্রিয়জন নামক সেই সোভাগ্যটা এখনো আমার কাছে এসে ধরা দেয়নি।

এ মুহূর্তে আমি যা অনুভব করছি তা কী করে প্রকাশ করবো...?? এই অনুভূতিটা নিজের মনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আমিতো কবি নই। যদি কবি হতাম তাহলে এখনই রবীন্দ্রনাথের মতো লিখে ফেলতাম একটি কবিতা, লিখে ফেলতাম একটি ছন্দ। সমস্ত আকাশ এমন কালো মেঘে ছেয়ে গেছে, দেখে মনে হচ্ছে আমি এক ঘন কালো অন্ধকার আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছি। মেঘে ঢাকা আকাশটাকে মনের মধ্যে জমে থাকা কালো মেঘের সাথে কিছুটা মিলানোর চেষ্টা করলাম। আকাশ কি সত্যি মন বোঝে, মন খারাপের অর্থ বোঝে, মনের কথা বোঝে...!!!
মন বোঝা অতো সহজ না। তবে কিছু মন বোঝা যায়, কিছু চোখের ভাষা পড়া যায়, কিছু কথার ধারা উপলব্ধি করা যায়।

রাতটা বেশ কাটলো আমার । অবিরাম বৃষ্টি চলছেই...সব মিলিয়ে কেমন যেন লাগছিলো আমার । বারান্দায় গিয়ে গ্রিল  ধরে দারালাম তখন দেখতে পেলাম শ্রাবণের অশান্ত বর্ষণ... নিতান্তই বৃষ্টি পড়ছে... এ থামার নয়। থামেওনি...
আকাশটা পুরো ফ্যাঁকাসে সাদা মনে হচ্ছিলো। কালো মেঘ গুলো  ভেসে যাচ্ছিলো আর ভয়ানক বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিলো একটু পর পর ।
আমি অবাক হয়ে বৃষ্টি দেখছিলাম । আর বৃষ্টির ঝাঁপটা এসে নিতান্তই ভিজিয়ে দিচ্ছিলো আমার মুখখানি। ভালোই লাগছিলো। একটু পর বুঝতে পারলাম বৃষ্টির জল আর আমার চোখের জল এক হয়ে মিশে যাচ্ছে...
ঠিক করলাম বৃষ্টি তে ভিজবো..।।

অনেকদিন পর অনেক্ষন রাতে বৃষ্টি তে ভিজলাম । বৃষ্টি তে ভিজতে আমার অনেক ভালো লাগে কিন্তু আজ যেন মনে হচ্ছিলো কতদিন ধরে এই বৃষ্টি তে ভেজার অপেক্ষায় ছিলাম আমি। কেন এই অপেক্ষা আমার অজান্তেই আমার মনে তৈরি হয়েছিলো জানিনা। কিন্তু বৃষ্টির সাথে মিশে একাকার হয়ে নিজের কস্ত গুলোকে বৃষ্টির সাথে ভাগ করতে পেরে বেশ প্রশান্তি লাগছিলো।

বৃষ্টির এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। যদিও বৃষ্টি দেখতে সবারই ভালো লাগে কিন্তু বৃষ্টি তে ভিজে ভিজে চোখ বন্ধ করে বৃষ্টির গান যারা আমার মতো অন্তর দিয়ে অনুভব করতে পেরেছে বা পারে তারাই বুঝতে পারবে বৃষ্টির প্রকৃত ভালোলাগা।
আধো ভেজা মনকে যখন বৃষ্টি পূর্ণভাবে ভিজিয়ে দেয় তখন অজান্তেই মনের কষ্ট গুলো চোখ বেয়ে বাহিরে নেমে আসে ঠিক যেমনি করে বৃষ্টি নামে এবং তা বর্ষণের সাথে বর্ষা হয়েই যোগ দেয়...
কিন্তু এই বর্ষণ কারো চোখে পড়ার মতো নয়। তাই ঐ বর্ষণ চাক্ষুস হলেও কারো বোধগম্য নয় । তাই বৃষ্টি তে ভিজে ভিজে বৃষ্টির সাথে নিজের সব কষ্ট গুলোকে উন্মুক্ত করার আনন্দ বর্ণনা করা সম্ভব নয়.

তবে এ ভেজার মাঝে আরেকটি গোপন ভাললাগা কাজ করে আমার মাঝে.
আমাকে নিতান্তই ছুঁয়ে দিচ্ছিলো বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা হয়ে...
তখন মেঘ কালো শ্রাবণের আকাশই হয় আমার একমাত্র আশ্রয়....।।

হঠাৎ করেই বুঝতে পারলাম আকাশের চাঁদটি আর বেশিক্ষন টিকছেনা !! মেঘ গুঁড় গুঁড় শব্দে আকাশ অনেক বেশী আবেগি হয়ে উঠেছে !!
তবে কি আজ, আমার মতো আকাশেরও মন খারাপ ?? ভালোই হলো, শ্রাবণের রাতের বৃষ্টি এর কথা আর কি বলবো । আসুক......

বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে হলো না... শুরু হয়ে গেলো বৃষ্টি...
শ্রাবণের রাতভর বৃষ্টি !! আর এ বৃষ্টি থামার নয়......
এবার আষাঢ়ের আগমনে আমি সত্যি অনেক ক্ষোভভরা মনে ছিলাম,তাই বোধয় আমার সাথে ভাব জমাবার জন্যই হঠাৎ এভাবে বৃষ্টির আগমন !! বৃষ্টির প্রতি যে ক্ষোভ দেখিয়েছিলাম তা এখন একদমি নেই ।

মনটা ভয়ানক খারাপ হয়ে ছিলো...তাঁর উপর নানান ঝামেলা নিয়ে অনেকটা বেশী আওলা-ঝাওলা হয়ে অন্যমানষকই ছিলাম ।
ভাবছিলাম... মানুষের জীবন আসলে শ্রাবণের মতই । এই বৃষ্টিহীন আকাশে অসহ্য রোদের তাপ,রাতে চাঁদের সাথে সাদা-কালো মেঘের ভাব আবার হঠাৎ করেই কালো মেঘের আগমনে চিৎকার করে কান ফাটিয়ে আকাশের কান্না হয়ে বৃষ্টির আগমন ...।।
মানুষের জীবনে অনেক কষ্টই থাকে... কেও প্রকাশ করে আবার কেও প্রকাশ করতে পারেনা। আমি দ্বিতীয় গোত্রের মধ্যেই পড়ি আর এই দ্বিতীয় গোত্রের মানুষদের অবস্থা আসলেই অনেক করুন। কারন না আছে তাদের চারিপাশে কেও আর না পারে তাঁরা মন খুলে কথা বলে মনের সবটুকু ঢেলে কথা বলতে। মনের কষ্ট গুলো চাপা দিতে দিতে তারা নিজেরাই একসময় এক অচেনা গহব্বরে হারিয়ে যায় যে নিজেকেই আর খুঁজে পায়না তারা ।

আকাশের সাদা মেঘ গুলোর পাশে যখন কালো মেঘ গুলো এসে জমা হতে হয় ধিরে ধিরে তখন আকাশের সাদা মেঘগুলো সরে যায় এবং সেখানে কালো মেঘগুলো দখল নেয় ফলে পুরো আকাশটা তখন অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে যায় কিন্তু যখন কালো মেঘগুলো খুব ভয়নক অন্ধকার আঁধার বয়ে আনে তখন আকাশে বৃষ্টি নামে ।
কারন ঐ কালো মেঘগুলো থাকে আকাশের কষ্টের প্রতীক যা সাদা মেঘ গুলোকে সড়িয়ে দেয় এবং কষ্টের বাঁধ ভেঙ্গে যায় যখন আকাশের মেঘেরা তাদের কান্না থামাতে পারেনা,নেমা আসে বৃষ্টি ।
অবিরাম সে বৃষ্টি হয়তো অনেক্ষন চলে কিন্তু তা থেমেও যায়। কিন্তু এ থেমে যাওয়ার মানেই কি সব থেমে যাওায়া ? সব শেষ হয়ে যাওয়া ?
অনেক কষ্টই আছে মানুষকে বয়ে চলতে হয়...হাজার চাইলেও সে অপ্রিয় সত্য কষ্ট গুলো মানুষকে খুরে খুরে খায় প্রতি নিয়ত।

 খুব মেঘ করে বৃষ্টি নামার আগে রাতের আকাশ যখন অফুরন্ত উল্লাসে নিজেকে লালচে রঙ্গে সাজায়, তখন মাঝে মাঝে আমার মনে অদ্ভুত একটি ইচ্ছে জেগে উঠে । বোকা বোকা একটি ইচ্ছে , কিন্তু আমার কাছে এই ইচ্ছেটি ভীষণ প্রিয় । রাতের মেঘলা আকাশ দেখলে আমার কেন যেন নির্জন একটি দ্বীপ কিনে ফেলতে ইচ্ছে করে । ইচ্ছেমত সবুজ আর নীলচে রঙ করা সেই দ্বীপটিতে শুধু আমার একলা রাজত্ব হবে । আমার অনেক দিনের ইচ্ছে , মাঝরাতের আকাশ ভেঙ্গে সেখানে যখন ঝুম বৃষ্টি নামবে , সেই বৃষ্টিতে আমি তখন দুরন্ত নদীর মত উল্লাসে মেতে উঠব । সেই বৃষ্টির আনন্দ থেকে বঞ্চিত করবার জন্যে কোন শাসনের জাল আমাকে বাঁধতে আসবেনা । আমার একলা দ্বীপে কেবল আমার মুগ্ধতায় মাখা বৃষ্টি বিলাস হবে । আর আমার সামনে থাকা ছোট্ট সমুদ্রতটে অবিরাম দুলতে থাকবে রঙ্গিন কোন পানসি , হতে পারে সেটি অনেক দুরের কোন দ্বীপাঞ্চল থেকে ভেসে এসেছে , হতে পারে সেটি কোন খেয়ালি রাজ কন্যার বিলাসী ভ্রমণসঙ্গী । হয়ত সেই পানসিতে উদাস নয়নে বসে থাকবে সেই ভীষণ সাহসী বৃষ্টিমুগ্ধ রাজকন্যা । আর উন্মত্ত বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থেকে আমি দেখব সেই রাজকন্যার  চুলের সাথে বাতাসের যুদ্ধ , বৃষ্টির ছিটেতে ঝাপসা হয়ে যাওয়া তার চশমার কাঁচ । এই যা ! কি ভাবছি , রাজকন্যারা বুঝি চশমা পরে.. ?? আছে কোন রাজার কন্যা যে কিনা চোখে কম দেখে বলে চশমা পরতো... ?? কি জানি ...

নিজের অজান্তেই হেসে ফেললাম । আমার ভাবনা গুলি এত বাউন্ডুলে কেন হয় কে জানে ... ?? ফুটপাথের উপর ধীর পা ফেলে এই ভরসন্ধ্যাবেলায় যখন আমি হাটছি, তখন আমার এই অদ্ভুত কল্পনা বিলাসীতার কি কোন কারন থাকা উচিত ? না আকাশে কোন মেঘ আছে , না আছে ঝড়ো হাওয়া । তবে কেন যেন মনে হচ্ছে আজ রাতে বৃষ্টি নামবে , বষা কাল তো সারপ্রাইজ দিতে ভীষণ পছন্দ করে বলেই জানি । হঠাত লক্ষ্য করলাম , একা একা হাসছি বলে কয়েকজন পথচারি ঘুরে আমার দিকে তাকাচ্ছে , সম্ভবত পাগল ভেবেছে আমাকে । সে যাকগে ,যার যা ভাবার তাই ভাবুক । কে কি ভাবল তা দিয়ে আমার কি...।।

রোজই থাকে সমস্ত দিন কাজ, আর চার দিকে লোকজন। রোজই মনে হয়, সে দিনকার কাজে, সে দিনকার আলাপে সে দিনকার সব কথা দিনের শেষে বুঝি একেবারে শেষ করে দেওয়া হয়। ভিতরে কোন্‌ কথাটি যে বাকি রয়ে গেল তা বুঝে নেবার সময় পাওয়া যায় না।

আজ সকাল বেলা মেঘে মেঘে আকাশের বুক ভরে উঠেছে। আজও সমস্ত দিনের কাজ আছে সামনে, আর লোক আছে চার দিকে। কিন্তু, আজ মনে হচ্ছে ভিতরে যা-কিছু আছে বাইরে তা সমস্ত বের করে দেই। তাই ছুটি নিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে পড়লাম, মনের শান্তিটাই বড়। এতো কাজ করে কি হবে।

মানুষ সমুদ্র পার হলো, পর্বত ডিঙিয়ে গেলো, পাতাল পুরীতে সিঁধ কেটে মণিমানিক চুরি করে আনলো, কিন্তু একজনের অন্তরের কথা আর-একজন কিছুতেই বুঝতে পারলো না।

আজ মেঘলা দিনের সকালে সেই আমার বন্দী কথাটাই মনের মধ্যে পাখা ঝাপটে মরছে। ভিতরের মানুষ বলছে, "আজ আমার হারিয়ে যেতে নেই মানা, হারিয়ে যাবো আকাশের মাঝে, বাতাসের সাথে, বৃষ্টির মাঝে।" আজ সারা দিন ভিজবো।

আজ মেঘলা দিনের সকালে শুনতে পাচ্ছি, সেই ভিতরের কথাটা কেবলই বন্ধ দরজার শিকল নাড়ছে। ভাবছি, 'কী করি। কে আছে যার ডাকে কাজের বেড়া ডিঙিয়ে এখনি আমার বাণী  বেরিয়ে পড়বে। কে আছে যার চোখের একটি ইশারায় আমার সব ছড়ানো ব্যথা এক মুহূর্তে এক আনন্দে গাঁথা হবে, এক আলোতে জ্বলে উঠবে। আমার কাছে ঠিক সুরটি লাগিয়ে চাইতে পারে যে আমি তাকেই কেবল দিতে পারি। কিন্তু কেউ নেই, ছিলও না।

আমার ভিতর মহলের ব্যথা আজ ব্যাকুল হয়ে পড়েছে। পথে বাহির হতে চায়, সকল কাজের বাহিরের পথে, যে পথ একটি মাত্র সরল তারের এক তারার মতো...।।

ছোট্ট জীবন, ছোট্ট আমাদের অস্তিত্ব  । ছোট ছোট বিক্ষিপ্ত কল্পনার রাজ্যে আমরা প্রায়ই ইতস্তত ভাবে খালি পায়ে ঘুরে বেড়াই । নগ্ন পায়ে ভবঘুরের মতো কিছু নষ্টালজিয়া অতীতে হেঁটে বেড়াতে বেড়াতে আমরা প্রায় সময়ই বর্তমান থেকে অনেক দূরে সরে যাই । তখন চাইলেও আর মনে করতে পারি না আমরা কোথায় আমাদের বাস্তবতার জুতো জোড়াকে ফেলে এসেছি, বাস্তবতাকে ফেলে এসেছি।

আমাদের প্রত্যেকের জীবনে কিছু না কিছু গল্প আছে, দুঃখ-সুখের গল্প, বিষণ্ণতার গল্প, পাওয়া না-পাওয়ার গল্প, অথবা কোন কিছু পেয়েও হারিয়ে ফেলার গল্প । আমরা কেউ কেউ সে গল্প গুলো কালো মলাটের ডায়েরীর মাঝে লিখে ফেলি, কেউ হলুদ ডায়েরীতে ।  কিন্তু প্রায় সময়ই সে গল্পগুলো সবার অজানাই থেকে যায়, যা কোনদিন পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখতে পায় না । প্রকৃত পক্ষে আমার মুখ দেখাই না।

আচ্ছা, প্রকৃতি কি মানুষের কথা শুনতে পায় । আচ্ছা, বৃষ্টি বিলাসী আমাদের গল্প গুলো যদি বৃষ্টি শুনতে পেত, তবে কেমন হতো । বৃষ্টি যদি আমাদের মনের কথা বুঝতো, মন খারাপের কারণ বুঝতো তবে কেমন হতো...??

এখন গভীর রাত আর আমি দাঁড়িয়ে আছি জানালার পাশে। খুব বৃষ্টি হচ্ছে। অঝর ধারায় বৃষ্টি। যেন ছন্দময় নৃত্যে ঘুঙুর এর শব্দ। টিনের চালে একটানা বৃষ্টির শব্দে দু'চোখ বুঝে যেন ঘুম আসছে। কিন্তু ‍ঘুমাতে ইচ্ছে করছে না। মনে হচ্ছে ঘুমালেই বুঝি এই ছন্দময় নৃত্যের ঝংকার কে হারিয়ে ফেলবো। হয়তো ঘুম ফুরালে এই বৃষ্টি আর থাকবে না। হয়তো তখন রাতের নিঃস্তব্ধতা সকল ছন্দকে গ্রাস করবে। হয়তো তখন শুরু হবে রাত জাগা ঝি ঝি পোকার এক টানা ডাক। হয়তো কালো মেঘ ঢেকে রাখবে রাতের আকাশের চাঁদকে। হয়তো অন্ধকার হয়ে থাকবে চারপাশ। নিশাচর প্রাণি হয়তো ঘুমাবার একটু সুযোগ পাবে। হয়তো তখন সকালও হয়ে যেতে পারে। তাই হয়তো বৃষ্টিকে চাই যেন এমন ভাবে ঝরে,  যেন তাকে অনুভব করতে পারি আমার মর্মে মর্মে।

সকলের মাঝেও আমি একা হলেও আমি বিষন্ন নই; আমি গর্বিত। আর আমার দূর্বলতাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। বৃষ্টি হচ্ছে,অনেকদিন পর ঝুম বৃষ্টি... এই না হলে বর্ষা। অনেক দিন পর বৃষ্টি এসে তার মাদকতাময় রিমঝিম শব্দে পাগল করে দিচ্ছে। মুছে দিচ্ছে সব পঙ্কিলতা এই বৃষ্টিতে। ছাদে দাঁড়িয়ে যখন আকাশের দিকে মুখ তুলে, হাত দুটো বাড়িয়ে চোখ বন্ধ করে ভিজি মনের সব দুঃখ চলে যায়, মনে হয় মনের সব পাপ ধুয়ে যাচ্ছে। তবে আজ ভিজবো না আমি। বৃষ্টির সাথে রাগ করেছি, ভিশন রাগ করেছি। কারন অনেক দিন চেয়েছি এই রিমঝিম অঝড় ধারায় বৃষ্টি কিন্তু তখন বৃষ্টি নামেনি, তবে এতো দিন পর আজ কেন নামলো..??
যদি জমে ওঠে মেঘ মনের কোণে, চোখে জমে জল, গাল বেয়ে ঝরে পরে বৃষ্টি ধারা...

আজ সারাদিন গুমোট মেঘলা। ঝির-ঝির বৃষ্টি… কখনো গুড় গুড় করে মেঘের ডেকে যাওয়া। আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢাকা। ভয়ংকর শব্দে কানে তালা লাগার মতো কিছু মেঘের গর্জন… আর এই মূহুর্তে তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে। তীব্র বৃষ্টিতে জানালা দিয়ে বৃষ্টির ছাঁট এসে মুখ ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। আমার বিছানাটা জানালার পাশে। সেই জানালা দিয়ে ভেসে আসছে মাটির সোঁদা গন্ধ। বৃষ্টি শুরু হলে এইরকম গন্ধ পাওয়া যায়– মনটা কেন যেন আনচান করে ওঠে…
একটা গল্পের বই পড়ছিলাম। ট্র্যাজেডি– শেষে মূল চরিত্র মারা গেলো। একটা পোস্ট পড়লাম ব্লগে। আরো খারাপ হয়ে গেলো মন। এই খারাপের অনুভূতিতে কেমন যেন কষ্ট মেশানো… এইটার কোন উপশম আমার জানা নেই। বরং নিজেকে খুব একা বলে মনে হচ্ছে। আসলে মনে হওয়ার কিছু নেই; আমি প্রকৃতই একা।এইরকম বর্ষণঘণ দিনে সেই একাকীত্বকে প্রকট করে খুঁজে পাই। এই খারাপ লাগাটাকে কমাতেও মন চাইছে না… এখন প্রায় সব সময়-ই এ রকম হয়…
এরকম ব্যাপারটাকে আমি নাম দিয়েছি “দুঃখ-বিলাস”। যখন মন খারাপ হয়, সেইটা আরো বাড়িয়ে দিতে মনে চায় কখনও কখনও… কেমন যেন নেশার মত লাগে !! থাক না, আর ভালো হওয়ার কী দরকার...??


নিঃসীম পৃথিবীতে কথা বলার মানুষ পাই না বলেই হয়ত কলম ধরলে কলম আমার চিন্তার আগেই এগিয়ে চলে… মনের জানালা গুলো খুলে যায়, আর আমি নিজের ভেতরের বদ্ধ হয়ে থাকা চিন্তাদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি দেই। এতক্ষণ, এতদিন যেই অনুভূতিরা গুমরে মরছিল, তাদের আর্তনাদ সইতে না পারলে লিখতে বসে পড়ি। হতে পারি আমি একজন মানুষ হিসেবে খুব সামান্য, কিন্তু একটু প্রশান্তি কে না চায়! আর সেই প্রশান্তি লেখার মাধ্যমেই কিছুটা পাই...
ব্লগ না থাকলে হয়তো আমি আমার "হলুদ রংয়ের ডায়েরিটা" নিয়ে বসে পড়তাম। যদিও ডায়েরিটাতে লিখি না আজ প্রায় ২বছর, তবুও আজ লিখতাম...সত্যি লিখতাম।  উন্মোচিত করতাম মনের ভেতর জমে থাকা কথা গুলোকে…
২২ টি বর্ষা অতিক্রান্ত হয়েছে এই জীবনে। আর একটি মাস পরে পা রাখবো ২২-এ। ক্ষুদ্র এই সময়ের ব্যাপ্তিতে যাদের একটু আপন করে পেয়েছিলাম, তারাই চলে গেছে দূরে। যাকে ভালোবেসে কাছে টেনেছি, সে-ই আমায় ফেলে গেছে দুঃসহ বেদনা দিয়ে। ভুল বুঝেছে, দিয়েছে মিথ্যে অপবাদ। বারংবার নিজেকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছি– আমাকে কেন কেউ ভালবাসে না? নাকি বাসে, আমিই কি টের পাইনা...?? কেন আমাকে কেউ কখনো আপন বন্ধু ভাবে না...?? নাকি আমি বন্ধু হওয়ার মতো না...? ? নাকি আমার বন্ধু হওয়ার যোগ্যতা নেই...??

কৈশোরে কিছু বন্ধুদের পেয়েছিলাম আপন করে– তারা আজ জীবনকে সফল করার তাগিদে আমার থেকে দূরে…আমি আবার সে-ই একাকীত্বে। সেই আমি, সেই বৃষ্টিস্নাত দিন। শুধু কিছু স্মৃতি আমার সংগী।আমি ওই স্মৃতিদেরই বুকে জড়িয়ে ধরে আছি। নিজের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে বুঝতে চাই কবে আমার মুক্তি মিলবে এই ব্যস্ত জীবনের শিকল থেকে!

এই রকম দিনে বড় স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ে মনটা। কত জনকে যে মনে পড়ে! কত কিছু যে মনে পড়ে! কেমন যেন একটা শূণ্যতা ভর করে বুকের মাঝে… এই রকমটা মনে হয় কম-বেশি সবারই হয়…

পরিষ্কার মনে আছে– ছেলেবেলায় এইরকম আবহাওয়া পেলে মুগ্ধ হয়ে দেখতাম, মুখ ভার করে জানালায় গিয়ে দাঁড়াতাম। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে কত-শত ভাবতাম! এলোমেলো, আবোল-তাবোল… খুব ভালো লাগত। স্বপ্ন দেখতাম– নিষ্কলুষ, অকলংক, পবিত্র সেই সব কল্পনা! তবু কত স্বপ্ন বাস্তব হলো! কত নতুন দুঃস্বপ্ন জীবনকে এলোমেলো করে দিলো!!

আমি চেয়ে চেয়ে দেখি! দেখি সবাই কিসের পেছনে যেন ছুটছে… ক্যারিয়ার, চাকুরি, উন্নতি… আরো কত রকমের স-ব শব্দ ভেসে আসে প্রতিনিয়ত কানের পাশে! আমি ওদের মত পারিনা। এতটা চিন্তিত হতে আমার ইচ্ছে করেনা। আমিতো আমার কাজ করছিই… তাহলে কেন প্রতি মূহুর্তে এত সচেতন হতে হবে জীবিকার চিন্তায়?
আমি হয়তো ওতটা বাস্তববাদী নই। আর তাই হয়ত আমি জীবন-যুদ্ধ থেকে ছিটকে পড়তে পারি… আর তাই হয়ত আমার দিকে কেউ চেয়ে দেখে না… আমি কারও পাশে থাকলে কারো ভাললাগবে, তার সময় ভালো কাটবে, এটা হয়তো কেউ বিশ্বাস করে না… — এইরকম কত-শত চিন্তাই তো মাথায় আসে!!
আমি শুধু ভেবেই চলি। ভেবে চলি আমায় একদিন চলে যেতে হবে এই প্রকৃতি ছেড়ে, যেতে হবে এই পৃথিবী ছেড়ে… তখন আমি আর এইভাবে বৃষ্টির পানিতে মুখ ভেজাতে পারব না… আমি আর মাটির সোঁদা গন্ধ নিতে পারব না বুক ভরে… আমি তখন আর পারব না বর্ষায় নগ্ন কদমের দুলে যাওয়া দেখতে… পারব না বৃষ্টিতে মাঠে গিয়ে শুয়ে গিয়ে প্রকৃতির সাথে মিশে যাবার ব্যর্থ চেষ্টা করতে…
চিৎকার করে উঠতে ইচ্ছে করে… নাআআআ...। তখন আমি কী করে থাকব...!
নাহ, এইতো বেশ আছি! কষ্টের মাঝে আবদ্ধ হয়ে, স্মৃতি গুলো নিয়ে...।।  কত না সুখী এই আমি! কত না সংগী এই আমারই– এই আকাশ, এই বাতাস, এই বৃষ্টি, এই স্নিগ্ধতা…সঙ্গী যে শুধু মানুষ হবে তাতো নয়...।।
হঠাৎ মুখে গানের ওই চরণগুলো জায়গা করে নেয়–
যদি এমনি করেই যায় চলে দিন,
যাক না ……


MARI themes

Powered by Blogger.