রোজই থাকে সমস্ত দিন কাজ, আর চার দিকে লোকজন। রোজই মনে হয়, সে দিনকার কাজে, সে দিনকার আলাপে সে দিনকার সব কথা দিনের শেষে বুঝি একেবারে শেষ করে দেওয়া হয়। ভিতরে কোন্‌ কথাটি যে বাকি রয়ে গেল তা বুঝে নেবার সময় পাওয়া যায় না।

আজ সকাল বেলা মেঘে মেঘে আকাশের বুক ভরে উঠেছে। আজও সমস্ত দিনের কাজ আছে সামনে, আর লোক আছে চার দিকে। কিন্তু, আজ মনে হচ্ছে ভিতরে যা-কিছু আছে বাইরে তা সমস্ত বের করে দেই। তাই ছুটি নিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে পড়লাম, মনের শান্তিটাই বড়। এতো কাজ করে কি হবে।

মানুষ সমুদ্র পার হলো, পর্বত ডিঙিয়ে গেলো, পাতাল পুরীতে সিঁধ কেটে মণিমানিক চুরি করে আনলো, কিন্তু একজনের অন্তরের কথা আর-একজন কিছুতেই বুঝতে পারলো না।

আজ মেঘলা দিনের সকালে সেই আমার বন্দী কথাটাই মনের মধ্যে পাখা ঝাপটে মরছে। ভিতরের মানুষ বলছে, "আজ আমার হারিয়ে যেতে নেই মানা, হারিয়ে যাবো আকাশের মাঝে, বাতাসের সাথে, বৃষ্টির মাঝে।" আজ সারা দিন ভিজবো।

আজ মেঘলা দিনের সকালে শুনতে পাচ্ছি, সেই ভিতরের কথাটা কেবলই বন্ধ দরজার শিকল নাড়ছে। ভাবছি, 'কী করি। কে আছে যার ডাকে কাজের বেড়া ডিঙিয়ে এখনি আমার বাণী  বেরিয়ে পড়বে। কে আছে যার চোখের একটি ইশারায় আমার সব ছড়ানো ব্যথা এক মুহূর্তে এক আনন্দে গাঁথা হবে, এক আলোতে জ্বলে উঠবে। আমার কাছে ঠিক সুরটি লাগিয়ে চাইতে পারে যে আমি তাকেই কেবল দিতে পারি। কিন্তু কেউ নেই, ছিলও না।

আমার ভিতর মহলের ব্যথা আজ ব্যাকুল হয়ে পড়েছে। পথে বাহির হতে চায়, সকল কাজের বাহিরের পথে, যে পথ একটি মাত্র সরল তারের এক তারার মতো...।।

অনেক রাত পর্যন্ত জেগে থাকাটা অনেকেরই অভ্যাস আছে। কিন্তু, তাদের মধ্যে এক শ্রেণীর মানুষ আছে, যারা খুব একটা জরুরি কাজ না থাকলেও রাতটাকে জেগে থেকে উপভোগ করে। তাদের কোন প্রিয়জন নেই যে রাতে কল করতে হবে, নেই কেউ যে তাদের ফোন বা এসএমএস এর অপেক্ষায় থাকে,  নেই পড়া-লেখার কোন চাপ..!! তবুও তারা জেগে থাকে। কখনও বা ছাদে বা বেলকুনিতে দাড়িয়ে আকাশ দেখা, চাঁদ দেখা, রাতের জোত্স্নাটাকে উপভোগ করা অথবা ছাদে বা বাইরে গিয়ে খোলা রাস্তায় হাটাহাটি করা, গভীর রাতে ছাদে উঠে ঝুম বৃষ্টিতে ভেজা-ই যেন তারা প্রতিদিনের রুটিন করে নিয়েছে। তাছাড়া মাঝে মধ্যে ফেসবুকে লগ ইন করে রোমান্টিক স্ট্যাটাস গুলো মনোযোগ দিয়ে পড়া এবং হঠাৎ করেই লগ আউট করা। ভালো লাগতেছে না, কিছুই ভালো লাগতেছে না এসব টাইপের অসুখে ভোগে তারা। কোন কিছুতেই মন বসে না। অবশেষে হতাশা নিয়ে ঘুমিয়ে পড়া। এভাবেই কাটে তাদের জীবন। এভাবেই চলতে থাকে তাদের দিন গুলো...

জীবন চলার পথে আমারা অনেক কিছুই দেখি, অনেক কিছুই সাথে থাকে আবার চলে হায়, হারিয়েও যায়। আচ্ছা, হারিয়ে যাওয়া কাকে বলে? যে আশে পাশেই ছিলো, যা আশে পাশেই ছিলো — সে হঠাৎ করেই নাই হয়ে যাওয়া বা চলে যাওয়াকে..?? সে কোথায় চলে গেলে হারিয়ে যাওয়া হবে..? যখন আমি জানিনা সে কোথায় গেছে, তখনই কেবল হারিয়ে যাওয়া হয়। যদি জানি সে কোথায় গেছে, আছে — তাহলে তো হারানো হয়না তাইনা..? ভুল, এটাও হারিয়ে যাওয়া। যদি সে আমাকে না বলে চলে যায় তবে..?? অথবা সে ছিলো, আচামক নাই হয়ে গেলো — তাহলেও কি হারিয়ে যাওয়া নয়...?? এটাও হারিয়ে যাওয়া, সবই হারিয়ে যাওয়া।
আমি হারিয়ে যাওয়া নিয়ে কেন এত কথা বলছি..? কারণ বিশেষ কিছু না। স্রেফ জীবনের একটা সময়ে এসে থাকা, হারানো, পাওয়া জাতীয় জিনিস বেলা শেষেই মাথায় ভড় করে। প্রশ্ন গুলো প্রচন্ড রকমের যন্তনা দেয়...।।

এই জগতের মাঝে আমি বেঁচে থাকি থাকতে হয় বলে। আমি হয়তো বাস্তববাদীদের মতন অনেককিছু করার মতন নই, করতে পারি না। আমি সব কিছুতে থেকেও নেই। আমি আসলে কোন মানুষের আপন হবার মতনও নই। আমি তো জানিনা কী করে আপন হয়, কি করে আপন হতে হয়। আমিও তাই অমন করে সবার কাছ থেকে হারিয়ে যাই –যারা থেকেও নেই, যারা থেকেও থাকেনা। কাছে-পিঠে যাদের পেতাম, হঠাৎ-ই একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখি তারা দূরে চলে গেছে। যারা চলে যায় তাদের কাছে অনেক যুক্তি থাকে, এক গাদা ব্যাকরণ আর সরল অংক কষে তারা হিসেব করে চাওয়া-পাওয়ার, নানা যুক্তি দেখায় দূরে চলে যাওয়ার। তাদের বেধে রাখাও যায় না, চলেই যায়। আমি আগের মতই স্রোতের সাথে ভেসে চলি। নদীর স্রোতে ভেসে থাকা একটা টুকরা পাতার মতই মনে হয় নিজেকে… ভেসে যেতে যেতে দেখি কতো নাম না জানা স্মৃতী , কতো অজানা কথা...।

এই তীব্র হিসেব-নিকেশের বেড়াজাল থেকে বেঁচে থাকতে খুব ইচ্ছে করে। এত গুলো বছর যখন পেড়েছি, আগামীতে পারবো না...?? জানিনা আমি। হয়তো পারবো তবে চলার পথটা অনেক কষ্টের হবে হয়তো অসমাপ্ত থেকে যাবে। এই অসংজ্ঞায়িত বিচিত্রতার তীর আমাকে যেন বিদ্ধ না করে, আমি কোন কিছুতে বিদ্ধ হতে চাই না...।।


ছোট্ট জীবন, ছোট্ট আমাদের অস্তিত্ব  । ছোট ছোট বিক্ষিপ্ত কল্পনার রাজ্যে আমরা প্রায়ই ইতস্তত ভাবে খালি পায়ে ঘুরে বেড়াই । নগ্ন পায়ে ভবঘুরের মতো কিছু নষ্টালজিয়া অতীতে হেঁটে বেড়াতে বেড়াতে আমরা প্রায় সময়ই বর্তমান থেকে অনেক দূরে সরে যাই । তখন চাইলেও আর মনে করতে পারি না আমরা কোথায় আমাদের বাস্তবতার জুতো জোড়াকে ফেলে এসেছি, বাস্তবতাকে ফেলে এসেছি।

আমাদের প্রত্যেকের জীবনে কিছু না কিছু গল্প আছে, দুঃখ-সুখের গল্প, বিষণ্ণতার গল্প, পাওয়া না-পাওয়ার গল্প, অথবা কোন কিছু পেয়েও হারিয়ে ফেলার গল্প । আমরা কেউ কেউ সে গল্প গুলো কালো মলাটের ডায়েরীর মাঝে লিখে ফেলি, কেউ হলুদ ডায়েরীতে ।  কিন্তু প্রায় সময়ই সে গল্পগুলো সবার অজানাই থেকে যায়, যা কোনদিন পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখতে পায় না । প্রকৃত পক্ষে আমার মুখ দেখাই না।

আচ্ছা, প্রকৃতি কি মানুষের কথা শুনতে পায় । আচ্ছা, বৃষ্টি বিলাসী আমাদের গল্প গুলো যদি বৃষ্টি শুনতে পেত, তবে কেমন হতো । বৃষ্টি যদি আমাদের মনের কথা বুঝতো, মন খারাপের কারণ বুঝতো তবে কেমন হতো...??

যতদিন বেঁচে থাকবো ততোদিন নিজের কষ্টের কথা কাউকে বলবো না। হাজার কষ্ট হোক, নীরবে সয়ে যাবো সব।
যার কাছে কষ্টের কথা বলে  কষ্টটা হালকা করতে চাই,  সে-ই আমার কষ্ট বোঝেনি কোনদিন। জানি বুঝবেওনা কোনদিন কেউ। তাই নীরবতাকেই বেছে নিলাম। সবাই জানবে আমি ভাল আছি, সুখেই আছি। ভাল থাকবই না বা কেন, আমার তো কোনো দুঃখ নেই...।।  নিজেকে নিজের মাঝে ঢেকে রাখবো নিজেরি মতো করে।
প্রায় দিনই মন খারাপ করে বসে থাকতে হয়। অদ্ভুৎ একটা life style আমার।। আমি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছি নিজের থেকে, সত্যি হারিয়ে যাচ্ছি আমি...।

'কাটে না সময় যখন আর কিছুতে/বন্ধুর টেলিফোনে মন বসে না/জানলার গ্রিলটাতে ঠেকাই মাথা/মনে হয় বাবার মতো কেউ বলে না/ আয় খুকু আয়, আয় খুকু আয়...।' হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুমদারের গাওয়া এই গানটি সন্তানদের এক অসীম নস্টালজিয়ায় ডুবিয়ে দেয়। বাবা, সন্তানের মাথার ওপর যার স্নেহচ্ছায়া বটবৃক্ষের মতো, সন্তানের ভালোর জন্য জীবনের প্রায় সবকিছুই নির্দ্বিধায় ত্যাগ করতে হয় তাকে, আদর-শাসন আর বিশ্বস্ততার জায়গা হলো বাবা। আর বাবার তুলনা বাবা নিজেই। বাবা শাশ্বত, চির আপন, চিরন্তন। আজ বিশ্ব বাবা দিবস। সারা বিশ্বের সন্তানেরা পালন করবেন এই দিবসটি।
দিবস দিয়ে কখন ভালবাসা প্রকাশ করা যায় না, ভালবাসা প্রতি দিনের, প্রতি মুহুতের। এটা কনো দিন বা ক্ষন বেধে হয় না। ভালবাসার জন্য আমি কোন দিবস মানি না।
অনেক বারই চেষ্টা করেছি, দু’চার লাইন যে লিখিনি তাও নয়। কিন্তু সব থেকে বেশী ভালোবাসার মানুষদের জন্য লিখতে বসার অবসর এর অভাব যতটা তার থেকে অনেক বেশী অভাব হয় সাহসের। হ্যাঁ, আমার হাত কাঁপতে শুরু করে, আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে চোখ ছলছল করে ওঠে, অকারণেই অশ্রু জমে চোখের কোনে। আর কোন কারণেই এভাবে অকারণ কাঁদতে পারি না আমি, কাঁদি না। কিন্তু তোমার কথা ভাবতে গেলে, তোমার বিষয়ে লিখতে গেলে, কিছু বলতে গেলে, আর পারিনা। সব এলোমেলো হয়ে যায়। তবু তোমাকে কিছু কথা আমার বলতেই হবে। সে কথা গুলো যা কোনদিন তোমাকে বলতে পারিনি। হয়তো আজও বলতে পারবো না। হয়তো তোমার সামনে দাঁড়িয়ে কোন দিন বলা হবে না। কিন্তু অনেক ইচ্ছা ছিল বলার...।।
আমার মনে পড়েনা, কোন দিন বলেছি কিনা- "তোমাকে অনেক ভালোবাসি বাবা" । আজ বলছি- "তোমাকে অনেক ভালোবাসি বাবা, অনেক"।
অনেক কথাই ছিল বলার, অনেক কিছুই ছিল লিখার। কিছুই বলতে পারলাম না, কিছুই লিখতে পারলাম না।
বাবা তোমার প্রতি আমার অনেক অভীমান, অনেক বেশি অভীমান...।। হয়তো বলা হবে না কোন দিন...।।

কোনো কাজ করার আগে চিন্তা করে নিয়ে কাজে হাত দেয়া অনেক বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু যদি আপনি পুরো সময় চিন্তার পেছনেই কাটিয়ে দেন তাহলে তা কি খুব বুদ্ধিমানের কাজ হবে? সেটাও নয়। তাই চিন্তা করারও নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। চিন্তা করে কাজ করা যেমন ভালো তেমনই অতিরিক্ত চিন্তা করাও ডেকে আনতে বিপদ। ভাবছেন কি করে? ভাবুন তো আপনার হাতে দারুণ একটি সুযোগ এসেছে যার সাথে ঝুঁকিও রয়েছে অনেক। ঝুঁকির কারণে আপনি চিন্তা করতে বসে গেলেন আর সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেলো। এবার বলুন, আপনি কি করতে পারবেন। এরকমই অনেক ভাবে অতিরিক্ত চিন্তা করার ফলে জীবনে আপনিই ডেকে নিয়ে আসছেন বিপদ।

১) মানুষ কি বলবে তা নিয়ে চিন্তা:
আমরা সামাজিক জীব, আমাদের সমাজেই থাকতে হয়। আর সে কারনে কিছুটা হলেও চিন্তা করতে হয় সমাজ সংসার নিয়ে। কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয় তাহলে আপনার বিফলতার দায়ভারও আপনারই থাকবে। কারন আপনার অতিরিক্ত অযথা চিন্তা আপনাকে সামনে এগুতে বাধাই দিতে থাকবে। অতিরিক্ত ভাব বেন না, কারন আপনি বিফল হলে এই সমাজের মানুষ আপনাকেই কথা শোনাবে।

২) ভবিষ্যতের অতিরিক্ত চিন্তা:
ভবিষ্যত নিয়ে আগে ভাগেই চিন্তা ভাবনা করা ভালো একটি কাজ। কিন্তু এই চিন্তা যদি আপনার বর্তমানের উপর প্রভাব ফেলে এবং আপনার ভবিষ্যত নষ্ট করতে থাকে তাহলে তা আপনার জন্য বিপদজনকই বটে। কি হবে ভবিষ্যতে তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে ভবিষ্যতটা উজ্জ্বল করতে বর্তমানে নজর দিন।

৩) জীবনের সুখ দু:খ নিয়ে চিন্তা:
জীবন টা সুখ দু:খ নিয়েই গঠিত, এই বিষয়টি যত দ্রুত মেনে নেয়া যায় ততই ভালো। তা না হলে জীবনে কতোটা সুখ পেলেন তা নিয়ে হিসেব কষতে গিয়ে চিন্তা করেই জীবন পার করে দিতে পারবেন। তাই অতিরিক্ত চিন্তা করে কিছুই পাবেন না আপনি বিফলতা ও দুঃখ ছাড়া।

বন্ধুত্বের সম্পর্ক খুবই স্পশকাতর আর এ জন্যেই এ সম্পর্কে মান অভীমান, খুনশুটি এগুলো বেশিই থাকে...।। এই অভীমান যেন রাগ- এ পরিনত না হয়, দুরত্ব সৃষ্টি না হয়। দুরত্ব সৃষ্টি হওয়ার আগেই দুরত্ব সৃষ্টি হওয়ার কারন গুলো খুজে তার সমাধান বের করা উচিৎ। 
আর এ জন্য নিচের বিষয় গুলো অবশ্যই মাথায় রাখবেনঃ  

আলোচনা এবং আলোচনা: সম্পর্কের ছন্দপতনে আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। বন্ধুর মতামত মনোযোগ দিয়ে শুনুন, তাঁর অবস্থান থেকে বোঝার চেষ্টা করুণ এবং গ্রহণ করুন।

নিজের দুর্বলতা স্বীকার: আলোচনার সময় প্রথমেই অন্যের দোষ নিয়ে কথা বলার আগে নিজের দুর্বলতা স্বীকার করে নিন। আপনার উদারতা বন্ধুকে উদার হতে সাহায্য করবে।

অভিযোগ নয়: বন্ধুর সঙ্গে কোনো বিষয়ে মতানৈক্য হলে বা কষ্ট পেলে মনের মধ্যে তা পুষে না রেখে সরাসরি তাঁকে জানান। এ ক্ষেত্রে সরাসরি অভিযোগ করা বা হেয় করা থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখা ভালো, অন্যের আত্মাভিমানে আঘাত দিয়ে কখনোই আপনার কথা অন্যের কাছে পৌঁছাতে পারবেন না।

আলোচনায় তর্ক নয়: বন্ধুর মতামত গ্রহণযোগ্য না হলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করে নিজের যুক্তিগুলো তুলে ধরুন। যদি বুঝতে পারেন, কোনো বিষয়ে আপনার বন্ধু অনঢ় অবস্থানে রয়েছেন, তাহলে সেটা ঘাঁটাঘাঁটি না করে এড়িয়ে যান। আলোচনার সময় ‘আমিই ঠিক’—এমন আচরণ পরিহার করুণ।

আবেগ প্রশমনে সময় নিন: বন্ধুর কোনো কথা বা আচরণে বিরক্ত হলে বা কষ্ট পেলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া থেকে বিরত থাকুন। এ ক্ষেত্রে আপনার রাগ প্রশমিত হওয়ার জন্য সময় নিন।

মনে রাখা উচিত, আবেগের টালমাটাল সময়ে বন্ধুত্বের সমস্যা নিয়ে না ভাবাই ভালো। কারণ, আবেগের প্রাবল্য আমাদের চিন্তার সংকোচন ঘটায়। এ সময় সামান্য জিনিস অনেক বড় করে দেখি বা অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস এড়িয়ে যাই। ফলে, এটা থেকে হুটকারী সিদ্ধান্তের আশঙ্কা বেড়ে যায়। আবেগ প্রশমিত হলে আপনি যৌক্তিক চিন্তা করতে পারবেন এবং অনেক পরিষ্কার করে বিষয়টি দেখতে পারবেন।

‘সরি’ বলুন: আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হঠাৎ করে দূরত্ব তৈরি করলে মাথায় রাখতে হবে, হয়তো আপনার অজান্তে তাঁকে কষ্ট দিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে অভিমান না করে এগিয়ে যান, জানতে চান, প্রয়োজনে ‘সরি’ বলুন। এটাও মাথায় রাখবেন সে ‘সরি’ বলা পছন্দ করে কিনা। যদি পছন্দ না করে তাহলে ‘সরি’ না বলাটাই ভাল। 

বন্ধুর এগিয়ে আসা গ্রহণ করুন: দূরত্ব তৈরি হওয়ার পর আপনার বন্ধু এগিয়ে এলে (যেমন পুনরায় যোগাযোগ করা) সেটা মন খুলে গ্রহণ করুন। এ ক্ষেত্রে জেদ চেপে রাখবেন না বা পুরোনো তর্ক তুলবেন না। কেউ নিজ থেকে আসা মানে সব তর্কের ঊর্ধ্বে আপনার বন্ধুত্বের গুরুত্বই তাঁর কাছে সবচেয়ে বেশি।

 অমীমাংসিত বিষয় গ্রহণ করুন: যদিও দুজন ব্যক্তির মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয় তাঁদের ভাবনা, ব্যক্তিত্ব ও মূল্যবোধের কিছু মৌলিক মিল থেকে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে বন্ধুর সব বৈশিষ্ট্যই ভালো লাগবে বা সব বিষয়ে তাঁর সঙ্গে মতামতের মিল হবে। সুতরাং, সব তর্কের সমাধান হতেই হবে—এমন কোনো কথা নেই। যেকোনো ছন্দপতনে বন্ধুত্ব যে মূল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, সেগুলো মূল্যায়ন করুন এবং মনোযোগী হোন।

সব কথার শেষ কথা: বন্ধুত্ব মানে নানা রঙের ভালো লাগা মুহূর্তের এক দারুণ অভিজ্ঞতা। কিন্তু কিছু খারাপ লাগার অভিজ্ঞতাও এ বন্ধুর সঙ্গেই হতে পারে। তবে সেই নেতিবাচক অভিজ্ঞতাকে ‘সামান্য’ করে দেখা বা ক্ষণস্থায়ী করার দায়িত্ব আপনারই। কারণ, দীর্ঘদিনের ‘আহা’র মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া এ বন্ধুর সঙ্গেই সামনের দিন গুলোতে আরও চমৎকার ও উষ্ণ অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করে আছে।
মনে রাখবেন বন্ধুত্ব সুধু একটা শব্দ না, আত্না্র একটি বন্ধন। এ বন্ধন কে কখনো ভাঙ্গবেন না, এটা ভাঙ্গার জিনিষ না।

আমাদের সব সম্পর্কের মধ্যে সবচেয়ে স্বাধীন ও নির্ভার সম্পর্কটি বোধ হয় বন্ধুত্বের। শুধু মনের খোরাক মেটানোর জন্য অনন্য এই সম্পর্কের তুলনা বোধ করি অন্য কোনো সম্পর্কের সঙ্গে হয় না। পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া এই সম্পর্কের কাছে আমরা আমাদের ভালো লাগা, মন্দ লাগা, ভাবনা, মতাদর্শ নিঃসংকোচ ও নির্দ্বিধায় প্রকাশ করতে পারি। জীবনের পথ চলায় যখন আমরা ক্লান্ত হই, তখন বন্ধুত্বের খোলা হাওয়াই পারে আমাদের উজ্জীবিত করতে। বন্ধুদের মধ্যেই আমরা নতুন করে নিজেদের খুঁজে পাই, বেড়ে উঠি প্রতিনিয়ত।

তবে এ সম্পর্কেও ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থাকে। মতের অমিল, না বুঝে কোনো স্পর্শকাতর বিষয়ে আঘাত দেওয়া, ছোটখাটো প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া, তুচ্ছ বিষয় থেকে মনো মালিন্য ইত্যাদি কারণেই গভীর আস্থার এ সম্পর্কে ছন্দ পতন হতে পারে।


সম্পর্কটি খুব প্রিয় বলেই হয়তো এ ছন্দপতনে যৌক্তিক সমাধানের চেয়ে আবেগের প্রাবল্য ও আত্মাভিমানই অনেক সময় তীব্র হয়ে ওঠে। এ কারণে সহজ বিষয়গুলো হয়ে যায় জটিল। পরস্পরের যে চমৎকার বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এই সম্পর্ক একসময়ে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল, সেগুলো আর আমাদের মনে থাকে না; বরং সম্পর্কের ছোটখাটো সমস্যাগুলোই প্রধান হয়ে ওঠে। অভিমানের কারণে নিজেকে বন্ধুর কাছে লাগে অগুরুত্বপূর্ণ। ফলে, অনিবার্যভাবেই তৈরি হয় দূরত্ব। আর সম্পর্কটি খুব স্বাধীন বলেই সাময়িক দূরত্ব থেকে দীর্ঘস্থায়ী দূরত্বের ঝুঁকি থেকে যায়। নিজের অজান্তেই হারিয়ে ফেলি যেকোনো সংকট-আনন্দে শর্তহীনভাবে পাশে থাকা বন্ধুটিকে।


এখন গভীর রাত আর আমি দাঁড়িয়ে আছি জানালার পাশে। খুব বৃষ্টি হচ্ছে। অঝর ধারায় বৃষ্টি। যেন ছন্দময় নৃত্যে ঘুঙুর এর শব্দ। টিনের চালে একটানা বৃষ্টির শব্দে দু'চোখ বুঝে যেন ঘুম আসছে। কিন্তু ‍ঘুমাতে ইচ্ছে করছে না। মনে হচ্ছে ঘুমালেই বুঝি এই ছন্দময় নৃত্যের ঝংকার কে হারিয়ে ফেলবো। হয়তো ঘুম ফুরালে এই বৃষ্টি আর থাকবে না। হয়তো তখন রাতের নিঃস্তব্ধতা সকল ছন্দকে গ্রাস করবে। হয়তো তখন শুরু হবে রাত জাগা ঝি ঝি পোকার এক টানা ডাক। হয়তো কালো মেঘ ঢেকে রাখবে রাতের আকাশের চাঁদকে। হয়তো অন্ধকার হয়ে থাকবে চারপাশ। নিশাচর প্রাণি হয়তো ঘুমাবার একটু সুযোগ পাবে। হয়তো তখন সকালও হয়ে যেতে পারে। তাই হয়তো বৃষ্টিকে চাই যেন এমন ভাবে ঝরে,  যেন তাকে অনুভব করতে পারি আমার মর্মে মর্মে।

সকলের মাঝেও আমি একা হলেও আমি বিষন্ন নই; আমি গর্বিত। আর আমার দূর্বলতাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। বৃষ্টি হচ্ছে,অনেকদিন পর ঝুম বৃষ্টি... এই না হলে বর্ষা। অনেক দিন পর বৃষ্টি এসে তার মাদকতাময় রিমঝিম শব্দে পাগল করে দিচ্ছে। মুছে দিচ্ছে সব পঙ্কিলতা এই বৃষ্টিতে। ছাদে দাঁড়িয়ে যখন আকাশের দিকে মুখ তুলে, হাত দুটো বাড়িয়ে চোখ বন্ধ করে ভিজি মনের সব দুঃখ চলে যায়, মনে হয় মনের সব পাপ ধুয়ে যাচ্ছে। তবে আজ ভিজবো না আমি। বৃষ্টির সাথে রাগ করেছি, ভিশন রাগ করেছি। কারন অনেক দিন চেয়েছি এই রিমঝিম অঝড় ধারায় বৃষ্টি কিন্তু তখন বৃষ্টি নামেনি, তবে এতো দিন পর আজ কেন নামলো..??
যদি জমে ওঠে মেঘ মনের কোণে, চোখে জমে জল, গাল বেয়ে ঝরে পরে বৃষ্টি ধারা...

৯-জুন, দেখতে দেখতে ২২ টা বর্ষা পার হয়ে গেল।  কেমন করে দিন গুলো গেল তা বুঝতে পারছি না। আগে বড়দের কাছে শুনতাম ফুটন্ত গরম পানির মত সময গুলো নিঃশেষ হয়ে যায়। এখন দেখছি তাই। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ভাবি আজ অনেক কাজ করবো। এটা করবো, সেটা করবো, কিন্তু বাস্তবিক সব কাজের মাঝে আর সেই সব প্রিয় কাজ গুলো করা হয়ে উঠে না প্রায়ই।

প্রিয় গল্পের বই গুলো নিয়ে আগের মত বসা হয় না। Book Self-এ থাকা বইয়ে ধুলো জমে আছে। মাঝে মাঝে সেই ধুলো গুলো পরিষ্কার করলেও অনেক গুলো বই এখনো পড়ার বাকি আছে। কবে করবো...??? এই ছোট জীবনটিতে যদি সব গুলো বই পড়ে না শেষ করতে পারি..??? তাহলে আসফোস করে মরতে হবে..।।

যদি ভাগ্য ভালো হয় জান্নাত নামক স্থানে যদি মৃত্যুর পর জায়গা হয় তাহলে তো কথাই নেই। শুনেছি জান্নাতে যা চাওয়া হয় তাই পাওয়া যায়। কি চাইবো আমি ? কিছুক্ষন চিন্তা করে বই ছাড়া কিছু খুঁজে পেলাম না। সারাক্ষণ সকল বই গুলো পড়বো। আর একটি জিনিস চাইবো, আমাকে যেন লেখা-লেখি করার জন্য ডায়েরি আর কলম দেয়। আহা যদি  সত্যি এমন হতো ।

কি আজব চিন্তা...??? জন্মদিনের মত আনন্দের একটি দিনে আমি মৃত্যু বিষয়ক চিন্তা করছি তাই না...!!! কিন্তু আমার কাছে জন্মদিন মানে আনন্দের কোন দিন নয়।
 আজ আমার জন্মদিন পরিবারের সবাই ভুলে গেছে। এতে দু:খ পাওয়া কিছু নেই। এটাই স্বাভাবিক, খুব স্বাভাবিক ভাবেই নেই আমি। অনেক কাছের বন্দুরাও ভুলে গেছে। এখন আর কষ্ট পাই না, খারাপও লাগে না...।।

ঘড়ির কাটা ১২টা বাজার সাথে সাথে অপেক্ষায় ছিলাম কিন্তু খুব কাছের বন্ধুরাও ভুলে গেছে আমার জন্ম দিন। হয়তো তাদের অন্য প্রিয় বন্ধু নিয়ে ব্যাস্ত কিন্তু আমার তো সবার মতো অতো বন্ধু নেই...।।

একাকিত্বের সাথে দিন গুলো খারাপ যাচ্ছে না। ভালোই যাচ্ছে...।।

জন্মদিনের দিনটি বসে বসে কাটাবো মন্দ নয়...থাক না প্রিয় বন্ধু গুলো তাদের প্রিয় বন্ধুদের নিয়ে, মন্দ কি...???!!! 

সময় গুলো কেমন আজব type এর যেন, কি অদ্ভুত যেন। আমি অবাক হয়ে সময়ের খেলা লক্ষ্য করছি। আমি যে ব্যাপারটা চিন্তা করি বেশির ভাগ সময় তাই ঘটে, আবার অনেক সময় বিপরীতও ঘটে। ব্যাপারটাকে কাকতালীয় বলা ছাড়া আর কিছু বলা যাবে না। তবে একই ঘটনা যখন কয়েকবার রিপিট হয় তখন কেন যেন এক ধরনের পানসে অনুভূতি চলে আসে। তখন আর ভাল লাগে না, পানসে মনে হয়।এই পানসে ভাবটা কখনো দূর হয় না, দূর হলেও সময় লাগে। আমার কি নেই ,কি চলে গেল এটা নিয়ে আমি ইদানিং অযথা হইচই করি। যখন করি তখন হয়তো মাথায় রক্ত উঠে যায়।নিজের অশান্তি ,অস্তিরতা,অসহায়বোধ কাটানো জন্য হয়তো করি। কিন্তু যখন সেই রেস কেটে যায় যখন  বাস্তবতায় চলে আসি তখন যেন আমি থমকে যাই। কি করছি আমি?? কিন্তু তখন আর সময় থাকে না। মনের সাথে ভুল বোঝা-বোঝি যেন চলতে থাকে জগতের নিয়ম মেনে। কাউকে আর আগের মত করে বুঝাতে যাবো না বলে ভাবছি মনে মনে তীব্র বাসনা নিয়ে। কিন্তু পরক্ষনে যেন আমি ভুলে যাই। যে দিন থেকে এই পৃথীবিতে বুঝতে শিখলাম যেদিন থেকেই  আজব আজব কথা -বার্তা মনে আসছে।সবই অলীক কোন স্বপ্ন জগতে ঘটে যাওয়া বলে মনে হয়। তবুও যেন আর মানতে পারা যায় না। ছুটে চলি, ছুটে চলি। আজকের রাতটা বড়ই সৌন্দর্য বলে মনে হচ্ছে কেন তা জানি না।মনে হচ্ছে আমি একজন অতিমানবে পরিনত হচ্ছি । যদিও নিজে ভাল করে জানি না এই অতিমানব ব্যাপারটা। কোন রসবোধ নেই আমার মধ্যে। পুরাই শুকনো দারচিনির মত আমি। যেটা খেলে মানুষের প্রচন্ড পানির পিপাসা লাগে। অথবা নিজের মনে হয় মাছের কাটার মত। কাউও গলায় আটকে যাওয়ার মত মাছের কাটা অথবা বিড়ালে প্রিয় মাছের কাটা।
নানা রকম উপমা আজ খেলা করছে মনের অতলে। সেই শব্দগুলো হয়তো ব্যবহার করা যাবে না।

যখন আমি চোখ বন্ধ করি।প্রায়ই আমি অলীক চিন্তা মসগুলো হয়ে যাই।চিন্তাগুলো যেন স্বপ্ন হয়ে দেখা দেয়। মনে হয় আমার মাঝে ঘটে যাচ্ছে ঘটনাটা। আর আমি যেন নিজের চোখের সামনে দেখছি । যখন চিন্তা বন্ধ করি তখন আসফোস হয়, ইস আর একটু চিন্তা করতাম।
ইদানিং সারাটা দিন কাটে আমার চেয়ার আর টেবিলে বসে। মাঝে মাঝে আমার খুব ইচ্ছা করে রাঙ্গামাটি যেতে। তখন দুচোখ বন্ধ করে চিন্তা করি রাঙ্গামাটির পাহাড় গুলো।মনের অজান্তে কল্পনায় চলে যাই আমি কোন এক পাহাড়ে।তখন জীবনটাকে বড়ই সুন্দর মনে হয়। বলতে ইচ্ছা করে “life is beautiful”।ইচ্ছা করে অনন্তকাল সেই পাহাড়ের চুড়াঁয় একটা ছোট ঘর করে থাকি।যখন সূর্য ডুবে যাবে সেই দৃশ্যটা প্রতিদিন দেখব। পাহাড়ের উপর থেকে চারপাশের গাছ-পালা,পাখি ,বন-জঙ্গল দেখব।নিজের মত করে ঘুরে বেড়াব। কেউ বলবে না কেন এত দেরি করছি?? এখন তো আমার এটা করার সময়?? কেউ চিনবে না আমাকে । আমার রাজ্যে আমি একা...।। 

কিছু কিছু সময় অকারনেই যেন মন খারাপ হয়ে যায়, মন খারাপের কারণ খুজে পাই না। আসলে কিছু কিছু মন খারাপের কারণ থাকে না। তবে আমি সব সময়-ই কারন খুজি, যদি পেয়ে যাই…।
আজ সকাল থেকেই ভাবতেছি অনেক কিছু লিখবো কিন্তু কি লিখবো সেটা বুঝতেছি না। বুঝতেছি না বললে ভুল হবে আসলে কি দিয়ে শুরু করবো সেটা বুঝতেছি না। ভাবতেছি অনেক কিছু লিখবো কিন্তু আদৌ লিখতে পারবো কিনা জানি না…হয়তোবা লেখাটা অসমাপ্ত থেকে যাবে। থাক না অসমাপ্ত ক্ষতি কি, হয়তো এক সময় সমাপ্ত হবে।

ছোট্ট এই জীবনে চলার পথে অনেক কিছুই দেখেছি, তার মধ্যে সব চেয়ে বেশি যেটা চোখে পড়েছে তা হলো মানুষের অভাব, মানুষের চাওয়া। একটা অভাব পূণ হলে আরেকটা অভাব, আরেকটা চাওয়া সামনে এসে দাঁড়ায়। কিন্তু আমার মাঝে এমন কিছু ঘটে নি, ঘটবেই বা কিভাবে…?? অভাব বোধ করার আগেই তো অভাব পুণ করে দিয়েছে। কিন্তু একটি অভাব কখনই পুণ করেনি। যে অভাবটা আমার জীবন সব চেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল কিন্তু আমি পাই নি। এখন প্রযন্ত পাইনি আর এটাও জানি আর কখন পাবোও না।এই অভাবটা আমাকে প্রতিটা মুহুত কূরেকূরে খায়। অভাব পূরণের জন্য চেষ্টা যে করিনি তা কিন্তু নয়। অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু …  

কি অভাব সেটাই তো বলা হয় নি। আমার জীবনে একটাই অভাব আর তা হলো বাবা- মা’র সাথে ছোট বেলা থেকে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে তা কমানো, তাদের একটু কাছাকাছি থাকা। কিন্তু আমি ব্যাথ হয়েছি, অনেক চেষ্টার পরোও ব্যাথ হয়েছি…।। কষ্ট হয় তখন যখন দেখি আমার সামনে অন্য কোন বাবা-মা তার সন্তানের এতোটা কাছাকাছি। সত্যি তখন খুব হিংসে হয়, খুব হিংসে হয়। খুব অভিমান হয় তখন বাবা-মা’র উপর কিন্তু প্রকাশ করতে পারি না, কারো কাছেই বলতে পারি না। আমার বাবা-মা আমাকে অনেক অনেক ভালবাসে কিন্তু কখনো প্রকাশ করে না। এই প্রকাশ করে না দেখেই আমার এতোটা অভিমান তাদের উপর। হুমায়ুন আহম্মেদ তার কোন এক বই এ লিখেছিলঃ "যে ভালবাসা প্রকাশ করতে জানে না, সে ভালবাসতেই জানে না।"

এর পর ভাবলাম বন্ধুদের নিয়ে পুণজীবীত করবো নিজেকে। আমার বন্ধুর সংখা খুব সীমিত, হাতে গোনা দু-এক জন। হাজার বন্ধু দিয়ে কি করবো। বন্ধুর মতো বন্ধু একটি-ই যঠেষ্ট। কিন্তু না পেলাম না নিজেকে পুণজীবীত করতে। যাকে মনের শীষ স্থানে জায়গা দিয়েছি, বন্ধুত্বের সবোচ্চ স্থান দিয়েছি তার কাছে আমি আর দশ টা মানুষের মতই, আর দশ টা বন্ধুর মতই। এখানেও আমি হেরে গেলাম। হেরে গেলাম নিজের কাছে, নিজের বন্ধুত্বের কাছে, নিজের চাওয়ার কাছে।

এখন আমার আর কোন চাওয়া নেই, নেই কোন কিছু পাওয়ার আশা। কারন এগুলো পাওয়ার যোগ্য হয়তো আমি না, হয়তো এগুলো পাওয়ার প্রাপ্প্য আমি না।

এগুলো আমি ভাবতে চাই না। কেন যেন হঠাৎ করেই মনে পরে যায় আর বুকের বাম পাশের চিনচিনে ব্যাথার অনুভূতো হয়। মাঝে মাঝে কেউ এক জনকে পাশে পেতে ইচ্ছে করে। এমন এক জনকে যে আমার অনুভুতি টুকু বুঝবে, আমার না পাওয়া টা পাওয়ায় রুপান্তর করবে। জানি এটা শুধুই আমার কল্পনা, বাস্তবে কোন রুপ নেই এর। কেনই বা বাস্তবে এর রুপ থাকবে…??? কে এতো বড় দায়িত্ব নিবে, কে জেনে শুনে কষ্টের মাঝে আসবে… !!! জ়েনে শুনে কেউ-ই কষ্টের মাঝে আসবে না, কেউ না…

তাই নিজেকে একটা ঘোরের মধ্যে আবদ্ধ করার চেষ্টা করতেছি, নিজেকে একা রাখার চেষ্টা করতেছি, নিজেকে নিজের মাঝে রাখার চেষ্টা করতেছি…।। কষ্ট টুকু না হয় আমারি থাক…  



কোন কোন রাত অকারনেই মন খারাপ করিয়ে দেয়গভীর রাতে অসীম নিঃশব্দে মনের জানালায় উকি দিয়ে যায় পুরনো কোন স্মৃতিমনে পড়ে হারিয়ে যাওয়া কত স্মৃতিমনের গহীনে অভাব বোধ করি দূরে চলে যাওয়া কোন এক প্রিয় বন্ধুকেএক দিন যে ছিল হাসি-আনন্দে-বেদনায় সব থেকে কাছের সঙ্গী, আজ সে সরে গেছে কতটা দূরে ! যার সঙ্গ পেয়ে আর যাকে সংগ দিয়ে একদিন নিজের মানব জন্মকে সার্থক মনে হয়েছিল, যাকে বন্ধু ভেবে বন্ধুত্বের সংগা নতুন ভাবে সাজিয়ে নিয়েছিলাম আনমনে, সেই প্রিয় মুখ আজ অনেক দূরে ! যাকে বন্ধু হিসেবে পেয়ে নিজেকে ধনী মনে হত, আজ তাঁর থেকে কত দূরে সরে গেছি আমি, Sorry ভুল বললাম- দূরে সরে যাইনি, দূরে সরিয়ে দিয়েছে !

স্মৃতি বড়ই আজব জিনিসমনের গহীনে যেই স্মৃতি চিনচিনে ব্যাথার জন্ম দেয়, সেই স্মৃতিকে আমি সযত্নে লালন করিব্যাথা দিক,তবুও এগুলো সত্যআকাশের জাজ্বল্যমান শুক তারার মত আমার মনের আকাশে চিরদিন থাকবে এই স্মৃতি প্রতিটা মানুষ সারা জীবন কিছুর জন্য অথবা কারো জন্যে অপেক্ষা করে_হয়তো সচেতন ভাবে নয়, অবচেতনভাবেঅপেক্ষার প্রতিটি মুহূর্ত আনন্দের আর বেদনারআমি জানিনা আমার অপেক্ষা অর্থহীন কিনা ! কেউ-ই জানে না আমার কোন ধারনা নেই আমি আমার বন্ধুকে যতটা মিস করি তার কাছাকাছি পরিমানেও সে আমাকে মনে করে কিনা । হয়তো সে আমার কথা কখনো ভাবেই না, আমার কথা তার কখনো মনেই পরে না। তবুও, একদিন যাকে আমি বেস্ট ফ্রেন্ড ভেবেছি তার জন্যে অপেক্ষা করে যাব সারা জীবনহয়ত কোন দিন আমি না পারলেও সে পারবে বন্ধুত্বকে পুনরজ্জীবিত করতেঅপেক্ষা করি সেই দিনের জন্যেহয়ত কোন একদিন আবার আলো ঝলমল করে উঠবে আমার পৃথিবীতেহয়ত, হয়ত কোন একদিন শেষ হবে এই অপেক্ষার……হয়তো শেষ হবে আমার জীবনও...।।  

আজকাল অপারগতার কথা কাউকে বলতেই ভয় হয়। ভয় হয় যাকে বললাম তাকে কথার ভার দিয়ে ফেললাম না তো...? কথার ভার খুব বড় বেশি ওজনদার না হলেও জলের ভারের চেয়ে কম কিছু নয়। আর সে জন্যই আজকাল দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেও অপারগতার কথা, কষ্টে কথা প্রকাশ করা হয় না আমার। সেই এত টুকুন বয়স থেকে নিজেকে ঢেকে রাখার স্বভাব আমার নিজেকে নিজের মাঝে। সময়ে-অসময়ে ভেবে বসি যেন আমি ঝিনুকের পুত্র। শক্ত খোলসের ভেতরই থাকুক না হয় আমার বাসবাস। দুনিয়া জোড়া আলোর ছটায় কত রুপ যে ভেসে বেড়ায় এক-একটি বার, স্বাদ জাগে দেখি চোখ মেলে আবার মনে পড়ে যায় সেই কথা আমি যে একা, আমাকে নিজের মাঝেই ঢেকে রাখতে হবে
নিজেকে নিয়েই যতো ভয়, তারপর নিজেকে নিয়ে ক্ষয়। এক সময় অচলাবস্থা। নিজেকে নিয়ে কত কি ভাবা। হেরে যাবার গল্প বলতেও সেই অপরাগতা। মনে মনে একটা কথা ঠিক তোলা থাকে- ডুবে যাবার আগে, শেষ হয়ে যাবার আগে ঠিক একবার বিস্ফোরিত হবো, প্রকাশিত হবো।
আমার ছেলেবেলা আমাকে কখনো ডাকে না, কারন আমার ছেলেবেলা ছিল এখন কার চেয়ে হাজার গুন বেদনা দায়ক, একাকিত্বময়, কষ্ট দায়ক। আমি আনন্দের চেয়ে  নিরানন্দ কে বেশি ভালবাসি। সবাই যদি আনন্দকে ভালোবাসে তাহলে নিরানন্দের কি হবে...?
আমার দুই-একজন কাছের বন্ধুরা ,মাঝে মাঝেই বলে তুই এমন নিরামিশ কেন...? Enjoy Life..তখন তাদের বলি - আমি একটু ভিন্ন, একটু আলাদা সবার থেকে...।। সবার মতই যে হতে হবে তা তো না, হই না আমি একটু ভিন্ন...ক্ষতি কি।। তাদের সান্তনা দেওয়ার জন্য তখন একটু হাসি , কেন যেন হাসতে পারি না। হাসতে ভুলে গেছি অনেক আগে।  সেই হাসিতে হয়তো ঠোটের কোনে হাসি থাকে কিন্তু তাতে প্রাণ থাকেনা...।।
ভেবেছিলাম কবিতা লিখবোনা আর, লেখালেখিও করবো না। ভেবেছিলাম কারো উপর অভিমান করবো কিন্তু কার উপর অভিমান করব...?? অভিমান করার মত কাউকে তো খুজে পাচ্ছি না...।। তখন ভাবলাম নিজের সাথেই অভিমান করবো...ধুর কি আবল-তাবল চিন্তা ভাবনা...।।  ফরিঙ তো নই যে উড়াল দিবো, তবে বৃথা চেষ্টা কখনো- সখনো দুর্দান্ত তৃষ্ণা জাগায়, এ তৃষ্ণা মনের তৃষ্ণা...।।

এখন কবিতা লিখতে হবে অন্তত অভিমান জমা রাখার জন্যে হলেও... 

MARI themes

Powered by Blogger.