Showing posts with label স্বপ্ন ও শূণ্যতা. Show all posts

যোগ্যতা প্রমানের খেলায় আমি ক্লান্ত। ভালো স্কুল, ক্লাসে দশের মধ্যে থাকো, ভালো কলেজে পড়ো, গোল্ডেন পাও, ভালো ভার্সিটি, ভালো সাবজেক্ট, অনার্স তো সবাই পড়ে আরো পড়ো আরো পড়ো, CA-পড়ো ভালো বেতন পাবে,  CMA, CFA, CPA- করতে পারলে তো কথাই নেই, পারলে  Merchandising-এ Join-করো দেখবা টাকা আর টাকা। পড়তে পড়তে  ভাবো বিদেশ যাবে নাকি দেশে সরকারি চাকরি করবে, ভেবে প্রিপারেশন নেয়া শুরু করো। বিদেশ গেলে আরো পড়ো, নতুন জীবন নতুন জায়গা নতুন সংগ্রাম। দেশে থাকলে নিয়োগের গ্যাড়াকলে পৃথিবীর সব বিষয়ে জ্ঞানী হতে হতে বুড়ো হও। একদিন অফিসার হয়ে যাবা মুখে কুলুপ এটে যাবতীয় সব সুবিধা পাবা, বেসরকারি চাকরিতে পয়সা আছে স্বাধীনতা আছে দুই দিন পর পর সিভি রেডি করো কোম্পানী শিফট করো বেতন বাড়াও প্রতিদিন নিজেকে প্রমান করো নাহলে ব্যাকডেটেড হয়ে বাদ পড়ে যাও। এভাবেই ছুটে বেড়াও যোগ্যতার পরিধি আরও বড় করতে, জীবনে বড় কিছু করতে হলে ছুটতে হবে, অনেক ছুটতে হবে। 

জীবনে যে রঙ টুকু দিয়ে আঁকা স্বপ্ন ছিল, যোগ্যতার পিছনে ছুটতে গিয়ে আজ তার সবই ধূলোয় মিশে একাকার। সেই সপ্ন গুলো আর স্বপ্ন হয়ে আমার চোখে আসে না। আলো আঁধারের জীবনে হারিয়ে গেছে জীবনের আলো। সেই যে শুরু এই শহরের সাথে যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়া, সেই সাথে হারিয়ে ফেলা নিজের অস্তিত্ব। আস্তে আস্তে ডুবে যাওয়া মিথ্যে হাসির হাঁসি হেসে নিজেকে সজাক রাখা। হারিয়ে গিয়েছে ঠোঁটের কোণে সেই হাসি টা। স্বপ্নের পিছনে ছুটতে গিয়ে নিজেকেই অনেকটা হারিয়ে ফেলেছি। খুব গোপনে আমি দুঃখে ভাসি, ভিতরটা অন্য রকম এক শুন্যতা। মনের কথা, স্বপ্ন, আশা গুলো মনে জমা রয়ে যায়। যে চোখ ছিল সরল-সহজ, সেই চোখের ভাষা হারিয়ে জমেছে কঠিন নীরবতা। হারানোর শেষ সীমানায় এসে আজ বেঁচে থাকার আশাটা হারিয়ে ফেলেছি। সব ছেড়ে লুকাতে ব্যস্ত নিজেকে, চলে যেতে হয় অজানা প্রান্তে।

এমন জীবনের স্বপ্ন তো আমি দেখি নাই মা...! আমি তো একটু আমার মতো বাঁচতে চেয়েছিলাম। একটু মাটি হাতাবো, একটু গাছে চড়বো, একটু ঘাসে বিশ্রাম নিবো, পুকুরে সাতার কাটবো। আমার তো দু'টো ডাল-ভাতেই হয়ে যায়। এই বার্গার, পাস্তা, এসি, ফ্রিজ, ফ্ল্যাট, গাড়ি, ইট কাঠ পাথরে আমাকে কখন জড়ালে...? এতো মানুষকে আমি কেনো চিনলাম, এতো আঙ্গুল কেনো আমার দিকে...? যেখানে মানুষের চেয়ে মানুষ মানুষের যোগ্যতাকে বেশি ভালোবাসে। 

মৃত্যু কি পারবে আমাকে তোমাদের হাত থেকে মুক্তি দিতে? আমি তোমাদের সাফল্যের হাত থেকে আমার জীবন ভিক্ষা চাই। তোমাদের সমালোচনার হাত থেকে আমার শুদ্ধ নিশ্বাস ভিক্ষা চাই। আমি তোমাদের সবার থেকে দূরে, সবার চিন্তা বাদ দিয়ে একটু বেঁচে থাকতে চাই। এ সমাজ আমাকে বাঁচতে দিবেনা প্রতিজ্ঞা করেছে... আমি তোমাদের সবার মতো বেঁচে থাকার প্রতিজ্ঞা করতে পারছিনা।

যোগ্যতা প্রমানের খেলায় আমি ক্লান্ত। এ জীবনের স্বপ্ন আমি কোনদিন দেখিনি, কখনোই না...।

"প্রিয় মানুষটার অভাব কখনো অন্য কাউকে দিয়ে পূরণ করা যায় না। ঠিক এই মুহূর্তে আপনি যার সাথে আছেন তার অনুপস্থিতিতে আপনি আর নতুন কাউকে দিয়ে পূরন করতে পারবেন না সে যতই ভালো মানুষ হোক না কেন। যদি পারেনও তবুও আপনার মনে হবে কোথায় যেন কিসের শূন্যতা ঠিকই রয়ে আছে ।।

এই শূন্যতা একদিনেই কারো জন্য তৈরী হয়না। কারো সাথে চলতে চলতে একটা দীর্ঘ সময়ের পর এই শূন্যতা অনুভব করা যায়। মানুষ কখনো দু'দিনের পরিচয়ে কারো জন্য কষ্ট পায়না, কাঁদে না। মানুষ তখনই কষ্ট পায় কিংবা কাঁদে যখন তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করে কেউ চলে যায় ।।

বন্ধুদের সাথে মুভি দেখতে দেখতে হঠাৎ তার কথা মনে পড়বে। কিংবা রিকশাতে পাশের সিটটাতে তাকে অনুভব হবে অথবা ফেইসবুকেও অনেকের সাথে কথা হলেও ঐ একজনের সাথে কথা না হলে কেমন যেন ফেইসবুকটাও পানসে মনে হবে। এসব যা কিছুই হোক না কেন একজনের অভাব অন্যকেউ পূরণ করতে পারেনা ।।

বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলে একটা পর্যায় আমি কনের সামনে গিয়ে বসি। খুব আগ্রহ নিয়ে চোখের দিকে তাকিয়ে থাকি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় নিশ্চিত করে বলতে পারি- এ মেয়েটি জীবনের কোন না কোন এক সময় আজকের এই দিনটিতে অন্য কাউকে চেয়েছিল।

শাড়ি ঠিক করতে গিয়ে , টিস্যু দিয়ে মুখ মুছতে গিয়ে, ক্যামেরার দিকে তাকাতে গিয়ে কোন এক ফাঁকে কী সেই মানুষটির কথা তার মনে পড়ে ??? আমি তাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখি। কোথায় যেন পড়েছিলাম- প্রেম জন্ম নিলে মেয়েদের ঠোঁটের দু.পাশ শক্ত হয়ে কিছুটা উপরের দিকে উঠে যায়। একটি অচেনা মেয়ের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা কিছুটা বিব্রতকর। শুধু মাত্র কনের দিকে তাকিয়ে থাকা যায়। এই তাকানো বৈধ। আমি বৈধ ভাবে কনের ঠোঁট এবং চোখের দিকে তাকাই। সিগমান্ড ফ্রয়েড প্রায় ৩০ বছরের গবেষণার পর আক্ষেপ করে বলেছিলেন ''নারী কি চায় আমি জানি না"
“Was will das Weib?” ''নারী কী চায়?" যে ছেলেটি বিয়ে করছে আমি তাকেও দেখি। আজ রাতে বাসর হবে। কি কথা হবে সব কী আগে থেকে সাজানো ? আমরা আমাদের নিজস্ব গণ্ডি থেকে বের হতে পারি না।

যে মানুষটা তার স্ত্রীকে নিয়ে বিয়ের পর দার্জিলিং এ যাওয়ার Plan- করে। সে নিশ্চয়ই এক কালে তার কোন প্রেমিকাকে রাত দিন বলেছিল - কটা দিন অপেক্ষা করো। বলেছিল - সমরেশ মজুমদার এককালে যে হোটেলে বসে দার্জিলিং এর আকাশ দেখেছে তারা সে হোটেলটিতে উঠবে। স্ত্রীকে সাথে নিয়ে সমরেশের আকাশ যখন দেখা হয় সেখানে শুধুই কী পাশে বসে থাকা মানুষটি থাকে ? আকাশের অলিতে গলিতে এক কোণে কোথাও কী সেই দিনের মেয়েটি থাকে না ? জানি না আমি, কখনো কাউকে জিজ্ঞাস করিনি।

শৈশবের কোন মেয়েকে না পেয়ে যে ছেলেটা ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে বমি করেছিল, বার বার চেষ্টা করেও বলতে না পারার অপরাধে হাত ছাড়া হয়ে গেল। সিনেমার কোন রোমান্টিক দৃশ্য দেখে যে মেয়েটি কেঁদেছে একা একা। এইসব কান্না একদিন শেষ হয়। ইতিহাস ঘেটে দেখো, কাউকে না পেয়ে দু'দিন দরজা বন্ধ করে শুয়ে থাকা, দু'দিন না খেয়ে থাকা , সাহসের অভাবে ছাদ থেকে লাফিয়ে মরতে না পারা মানুষ গুলো এক সময় স্বাভাবিক হয়ে উঠে। প্রত্যেকে হাসি হাসি মুখে কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ে করে। ডেকারেশন ঠিক মত হয়েছে নাকি সেই তদারকিও করবে। পরিসংখ্যান তাই বলে।

আপনার আশে পাশের ব্যার্থ প্রেমিক অথবা প্রেমিকাদের দিকে তাকান। ক্যালেন্ডারে একটা দাগ দিন। নিশ্চিত থাকুন এরা প্রত্যেকেই একদিন হাসি হাসি মুখে কমিউনিটি সেন্টারে যাবে। প্রত্যেকেই একদিন স্বাভাবিক হবে। শুধু কিছু একটা থেকে যাবে। সেই একটা কিছুর ভেতরে কোন কিছুই নেই। ' কোন কিছু নেই' এর ভেতরে আবার একটা কিছু থাকে।

আগুন নেভানোর পর আগুন নিভে যায় তবু একটা লালাভ ফুল্কি থাকে। সেটা আগুন না। আগুনের ছায়া। পৃথিবীর সবকিছুর অভাবই কোন না কোন কিছু দিয়ে পূরণ করা যায় কিন্তু মানুষের অভাব অন্য কোন মানুষ দিয়ে কখনো পূরণ করা যায় না। যে চলে যায় বা হারিয়ে যায় তার অস্তিত্ব ওখানেই শেষ। তার অস্তিত্ব নিয়ে অন্যকেউ আসেনা। এ জন্যই মানুষের অভাব অপূরণীয় !!"

দিনশেষে একটা মানুষ লাগে ।। যে মানুষটা গালে হাত দিয়ে, মন দিয়ে শুধু শুনবে তোমার জমে থাকা সারাদিনের বোকা বোকা গল্প গুলো !! বুকের ভেতর পাহাড়ের মত যে কথা গুলো জমে থাকে, সেই পাহাড়ের ভার কমানোর জন্য একটা মানুষ লাগে ।। গলার ভেতর আটকে থাকা কথা গুলো বড় কষ্ট দেয়, সেই কষ্ট কমিয়ে দেয়ার জন্য একটা মানুষ লাগে ।। কত শত মানুষ চার পাশটাতে ।। শত মানুষ লাগে না, একটা মানুষ লাগে -- কথা বলার মানুষ, কথা শোনার মানুষ, হাতে হাত রাখার মানুষ, পাশে বসার মানুষ !! আশেপাশে হাজার মানুষ থাকলেও কথা বলার মানুষের খুব অভাব এই পৃথিবীতে...

আচ্ছা তুমি কি জানো মনের অজান্তেই কোন না কোন এক সময় তুমি একা অনুভব করো...?? তোমার পাশে সকলেই রয়েছে- তোমার বাবা-মা, ভাই, বন্ধু কিন্তু তবু কোন এক সময় তুমি অনুভব করচ্ছো তুমি একা !! কিছু কথা তুমি মনে মনে বলো যা কেউ শুনে না, জানে না। কিছু ইচ্ছা তোমার মনের কোণে রয়ে যায় যা প্রকাশ হয় না। এই কথা গুলো, ইচ্ছা গুলো তুমি কেউ একজনকে বলতে চাও। কারো কাছে  কথা গুলো বলে একটু হালকা হতে চাও... ।।

আমার মনে হয়, আমার মতো প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে এমন একটা সময় আসে, যখন একদিকে নিজেকে প্রচন্ড একাকী মনে হয় আর অন্যদিকে ঐ একাকীত্ব দূর করতে কাউকে নিজের জীবনের সাথে জড়িয়ে ফেলতেও অনেক বেশি ভয় হয় । এই ভয়টা কখনোই কারো হাত ধরার সাহস দেয় না। ভয়টা মনটাকে কুরেকুরে খায়। নিজেকে নিজের বলতে ইচ্ছে হয়- ঘুনে ধরা এ জীবন...।।

মাঝে মাঝে প্রচন্ড হাসতে ইচ্ছে হয়। লোক দেখানোর জন্য হাসি নয়, মন থেকে হাসতে ইচ্ছে হয়। অপরদিকে হাসির পরে অপ্রত্যাশিত কান্নার কথা ভেবে কেন জানি বার বার থেমে যেতে হয়। থেমে যেতে বাধ্য হতে হয় কারণ চোখের পানি মুছে দেওয়ার জন্য কেউই পাশে থাকে না।

আঙ্গুলের ফাঁকা জায়গা গুলোতে যখন অন্য মানুষটার আঙুল বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করার স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছে হয় ঠিক তখনই অজস্র ঘুমভাঙ্গা রাতে ঐ মানুষটার চলে যাওয়া পরবর্তী শূন্যতার আশঙ্কায় স্বপ্ন গুলোকে খুন করে ফেলতে ইচ্ছে হয়। পূরণ হয় না আর আঙ্গুলের ফাঁকা জায়গা গুলো।

মাঝে মাঝে মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যুদ্ধক্ষেত্র সম্ভবত নিজের মন, নিজের অস্তিত্ব। প্রতি মূহুর্তে ওখানে যে কত আমি, কত তুমি, কত আমরা যে জন্ম হয়, মরে যায়, কত শত গল্প যে সৃষ্টি হয়, ওলটপালট হয়ে যায়, আবার ধ্বংস হয়ে যায়। কত গুলো স্বপ্ন যে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়, কত শত ভয় যে কত সহস্র ইচ্ছেকে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় সে খবর কেউ রাখে না ।। মানুষ খবর রাখে শুধু বাহিরের দিকটার, বাহিরে কি ঘটলো মানুষ সব সময় সেটাই দেখে। মনের খবর কেউ রাখে না। মনের খবর রাখতে হলে মন টাকে জানতে হয়, মনের মাঝে মন থাকতে হয়, মনে প্রবেশ করতে হয়। 

দিন শেষে একটা মানুষকে তুমি ঠিকই চাও যে মানুষটা তোমার জন্য তোমার পাশে থাকবে, তোমায় ভালোবেসে তোমার হাত ধরবে, তোমার মুখের হাসির জন্য পৃথিবীর সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করবে। কিন্তু দিন শেষে শূন্য হাতটাই থেকে যায়, শূন্যতায় রয়ে যায় মন। মন যখন শূন্যতা দিয়ে পূর্ণ তখন সে মন কখনোই পূর্ণতা পায় না। সকলেই পূর্ণ হতে চায়, পূর্ণ করতে নয়...।। সেই তোমাকে ভালোবাসে যে তোমাকে পূর্ণ করতে চায়।। 

যাকে তুমি ছেড়ে দেবে, তাকে একবারে ছেড়েই দাও। খুব সোজা বাংলায় তাকে বলে দাও- "তুমি চলে যাও, তোমাকে আমার দরকার নেই"।
দিনের পর দিন একটা মানুষ কে একটু একটু করে Ignore করার কোনো মানে হয় না । ভদ্রতা বজায় রাখতে গিয়ে তিলে তিলে কাউকে কষ্ট দেয়াটা খুবই বাজে একটা কাজ ।। যে এটার মুখোমুখি হয় সেই একমাত্র বোঝে কতোটা কষ্ট এটা মেনে নিতে।
তার চেয়ে বরং অভদ্র হয়ে সোজা সাপটা বলে দাও। ঝুলিয়ে রেখো না তাকে...।। হয়তো সে সাময়িক কষ্ট পাবে কিন্তু একটা সময় নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে।

একটা মানুষ টানা ফোন করে যাচ্ছে তোমাকে সকাল বিকাল, তোমার খোঁজ নিচ্ছে। তুমি দেখেও না দেখার ভান করে ফোনটা বিছানায় ফেলে রাখছো ।
রিং বেজে যাচ্ছে ...🎶
মেসেজ আসছে, এসএমএস না দেখে এড়িয়ে গেলে। হয়তো তুমি তার এসএমএস না দেখে অন্য কারো সাথে Busy বা অন্য কাউকে নিয়ে Busy...হয়তো তুমি অন্য কারো চিন্তায়, অন্য কারো কল্পনায় উদাসীন...।।
আর যে মানুষটি তোমাকে Continue Call, SMS- দিয়ে যাচ্ছে সে তোমার চিন্তায় অস্থির হয়ে ছটফট করচ্ছে..।। একটি বারও কি তার জায়গায় নিজেকে দ্বাড় করিয়ে দেখেছো কেমন লাগতে পারে তার, কতোটা কষ্টের অনুভূতি নিজে নিজে সহ্য করে ছটফট করছে...??  

যখন তার মুখোমুখি দেখা হলো--
হাসি মুখে খুব ভালোমানুষি করে বললেঃ
"আমি অসুস্থ ছিলাম, খারাপ লাগতেছিল, ফোন silent ছিল, ঘুমিয়ে পড়েছিলাম আর কিছু অজুহাত।
তাই ফোন ধরা হয় নি, মেসেজ চেক করি নি। Sorry"

ঐ মানুষটা তোমার মুখের হাসি দেখে কষ্ট ভুলে ভরসা পেলো, কষ্ট সব ভুলে গেলো...।। তোমাকে কাছের মানুষই ভেবে বসে থাকলো...।। মনে মনে তোমায় নিয়ে স্বপ্নের পাহাড় গড়ে তুললো।
অথচ তুমি তো তাকে কাছের মানুষ ভাবো না। তুমি দূরে দূরে থেকে কাছের মানুষ হওয়ার অভিনয় করছো মাত্র...।।
কাজটা করা ঠিক না তোমার..একদমই ঠিক না। এটা অন্যায়...।।
যদি পাশেই না থাকো তাহলে দয়া করে "পাশে আছি" বলে কাউকে মিথ্যা ভরসা দিয়ো না...।। সরাসরি বলে দাও সত্যটা...।।

তুমি নিজেও জানো না, তুমি একজন ঠান্ডা মাথার খুনি...।।
মিথ্যে আশা দিয়ে, অপেক্ষায় রেখে রেখে শেষে তুমি একটা মানুষকে মানসিক ভাবে খুন করছো..।। সে মানসিক ভাবে কতোটা ভেঙ্গে পড়ছে দিন দিন তা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না...।।

দিনের পর দিন কারো মনে তোমার জন্য বিন্দু বিন্দু মিথ্যে Expectation- জমতে দিয়ে এক সময় সেই Expectation- এর সমুদ্রে তাকে ডুবিয়ে মারার কোন অধিকার তোমার নেই...।। তাকে মানসিক ভাবে মেরে ফেলে কি লাভ হবে তোমার, কি সুখ পাবে তুমি...?? কিন্তু তার অনেক ক্ষতি হবে। এমনো হতে পারে তার জীবনে আর সুখ নামের জিনিসটাই আর আসবে না, হারিয়ে যাবে স্বপ্ন নামের জিনিসটা, হারিয়ে যাবে সুখ।
নিজেকে প্রশ্ন করোতো একটি বার...।। তোমার সাথে একই ঘটনা যদি ঘটে, তুমি তার জায়গায় আর সে তোমার যায়গায়...তখন তোমার কেমন লাগবে ভেবে দেখতো একটি বার।।

এখন তোমার জন্য কেউ অপেক্ষা  করে আছে,  কেউ তোমার খোঁজ নেয়ার জন্য পাগল হয়ে আছে বলেই তুমি তাকে Ignore করার সুযোগ পাচ্ছো।
কারো দুর্বলতার জন্য তাকে অবহেলা করার এই সাহস টুকুই একদিন তোমার ভয়ের কারণ হবে...।


শূন্যের বাস্তবিক অর্থ অনেক দিক থেকে অনেক কিছুই বোঝায়। আবার অনেকের কাছে এর সংজ্ঞাও ভিন্ন। আমি আজ যা লিখতে যাচ্ছি তা অনেকে অনেক ভাবে নিবে। তবে সব চেয়ে মজার বিষয় হলো বেশির ভাগ মানুষ-ই Negative-ভাবে নিবে কিন্তু এই কথা গুলো Positive- ভাবে নিলে অনেক ভালো কিছু হতে পারতো বা পারে। আমার মতোন এমন অনেকেই আছেন যারা বাস্তবতা বাদী। সবাই ভাবে যারা বাস্তবতাবাদী তাঁরা কল্পনার জগতে বাস করে না বা কল্পনা করে না কিন্তু অবাগ করার বিষয় হলো বাস্তবতা বাদীরাই কল্পনার রাজ্যে বেশি থাকে, কল্পনা বেশি করে থাকেন। তাঁরা যদি কল্পনার জগতে নাই থাকতো তাহলে তাঁরা কখনোই বাস্তবিক চিন্তা করতে পারতো না।
আমরা অনেক সময় বলি "আমি কারো কাছে কখনো কিছু আশা করি না বা Expect- করি না"। কথাটি সম্পূর্ণ ভুল। আমরা প্রতিটা মানুষের কাছেই কিছু না কিছু আশা করি। তবে কাছের মানুষদের কাছে একটু বেশি আশা করি। ভালো ব্যবহারের বিনিময়ে ভালো ব্যবহার আশা করি, কিছু চাওয়ার বিনিময়ে ছোট্ট কিছু হলেও পাওয়ার আশা করি। বিষয়টা একটু খুলেই বলি- আপনি আপনার ভাই-বোন এর কাছ থেকে কি আশা করেন? এটাই নিচ্ছয়ই আশা করেন তাদের সাথে আপনার বন্ধুর মতো সম্পর্ক থাকবে, অনেক ভালো Understanding- থাকবে, ছায়ার মতো পাশে থাকবে। এই তো...?? এর বেশি কিছু কি...??!! আমার মনে হয় না এর বেশি কিছু কেউ আশা করেন। কিন্তু যখন দেখবেন আপনি এই বিষয় গুলো পাচ্ছেন না তখন কি আপনি হতাশ হবেন না, আপনার খারাপ লাগবে না, আপনার আশাটা ভাঙ্গবে না ...!!?? হুম, ভাঙ্গবে। তখন আপনার মনে হবে আপনি আপনার ভাই-বোন দের কাছ থেকে কিছুই পাননি। তখন আপনার এটা মনে হবে অনেক ভালোবাসা, আদর, যত্ন দিয়েও আপনি কিছুই পাননি। তখন কি আপনার মনে হবে না আপনি শূন্য...??
একজন Best Friend- এর কাছ থেকে আপনি কি আশা করেন...?? নিচ্ছয়ই তার কাছ থেকে আপনি বাড়ি, গাড়ি আশা করেন না। আপনার আশাটা হয়তো এমন যে সে আপনাকে কষ্টের সময় Support-দিবে, বিপদে আপদে আপনার পাশে থাকবে, আপনাকে ভালো বুঝলে, আপনি যা বুঝাতে চাচ্ছেন তা মুখে বলার আগেই সে বুঝে ফেলবে, পরিকল্পনাহীন ভাবে ঘোরাঘুরি এইতো...?? চাওয়ার আর কি বা আছে...!!! কিন্তু যখন আপনি দেখবেন আপনি আপনার সব চেয়ে কাছে, প্রিয় বন্ধুর কাছ থেকে এগুলো পাচ্ছেন না তখন কি আপনার খারাপ লাগবে না, কষ্ট লাগবে না...?? খারাপ লাগবে, কষ্টও লাগবে কিন্তু সেটা বাহিরে প্রকাশ পাবে না কখনো। তখন আপনার মনে হবে আপনি শূন্যের উপর বাস করচ্ছেন।
ভালোবাসা পেতে চায় না কে বলুন...!! সকলেই পেতে চায়। আপনি একজনকে মনে, প্রানে ভালোবাসেন ঠিক তেমনি সেও আপনাকে মনে, প্রানে ভালোবাসে। অনেকটা এমন যে আত্মার আত্মার বাঁধন। কিন্তু একটা সময় দেখা গেলো সে নেই, আপনার আসে পাশে তার অস্তিত্বও নেই। তার এই চলে যাওয়াটা আপনি কিভাবে দেখবেন...?? সে যখন ছিল তার প্রতি আপনার ভালোবাসাটা নিচ্ছয়ই এক দিনে হয়ে উঠেনি...?? দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর একটু একটু করে গড়ে উঠেছে। এই গড়ে যখন থেকে উঠেছে তখন থেকেই কিন্তু সে আপনার মনের পুরো জায়গাটাই দখল করে নিয়েছে। যখন সে চলে গেলো তখন কিন্তু সে আপনার মনের সেই জায়গাটা শূন্য করেই চলে গেলো। আপনি নিচ্ছয়ই এই শূন্যতা চাননি, মনের মধ্যে যে ফাঁকা জায়গাটা হলো সেটা নিচ্ছয়ই চাননি। আপনি সেটাই চেয়েছিলেন যে এই শূন্য জায়গাটা ঐ মানুষটি দ্বাড়াই পূর্ণ থাকুক। কিন্তু আপনি শূন্য, আপনার দেহ-মন সবই শূন্য।
এরকম হাজারও জিনিস আছে যা শূন্যতা সৃষ্টি করে মনে। আপনার এই রকম কোন চাওয়াই কিন্তু আপনার স্বার্থ না। এটা আপনার অধিকার, এটা আপনার প্রাপ্য।
এই জিনিস গুলো আপনার মনে শূন্যতার সৃষ্টি করবে, আসতে আসতে আপনার মনে হবে আপনার সব কিছুই শূন্য। শূনের মাঝে আপনার বসবাস। তখন শুধু আপনার এটাই মনে হবে আপনার শূন্য হাত। যেখানে পাওয়ার আশা নেই; আছে শুধু শূন্যতা।

( বিঃদ্রঃ- সকলের কাছে এটাই আশা করবো কেউ ভুল ভাবে, Negative-ভাবে কথা গুলো নিবেন না। আপনার চিন্তা, মতামতের সাথে আমার চিন্তা-ভাবনা নাও মিলতে পারে, আমি ভুলও হতে পারি। )



প্রিয় রঙ বলে আসলে কিছু নেই। বিয়ের কনের কাছে লাল শাড়ি ভাল লাগলেও লাল রক্ত ভাল লাগবে না। লাল শাড়ি স্বপ্নের প্রতীক হলেও লাল রক্ত ভয়ের প্রতীক।

হয়তো কোন দোকানে গিয়ে হলুদ টিশার্ট পছন্দ করলেন কিন্তু গাড়ি কেনার সময় এই রঙটাই অসহ্য লাগবে। প্রিয় রঙের ঝামেলা থেকে বাঁচতে অনেকেই কালো রঙ বেছে নেয়। তবে তার ঘরের দেয়ালে এই রঙ লাগাতে বললে অবশ্যই সে নিষেধ করবে। প্রিয় রঙ বলে আসলেই কিছু নেই। ব্যাপারটি এক ধরনের ক্ষেত্র বিশেষ। ভিন্ন ভিন্ন বস্তু আপনার ভিন্ন ভিন্ন রঙে ভাল লাগছে।

সময় বলেও আসলে কিছু নেই। সূর্য উঠেও না। নামেও না। আমরাই চারদিকে ঘুরি।
সময় চলতেই থাকবে...।
অন্য ভাবে চিন্তা করলে পৃথিবী সৃষ্টির আগেও সময় ছিল। একে ঘড়ি দিয়ে হিসেব করে ফায়দা নেই। ঘড়ি ইতিহাস কিছুই এটাকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারবে না। সময় চলতে থাকবে অমীমাংসিত কোন রহস্যে।
বিষয়টা সহজ মনে করলে সহজ। জটিল মনে করলে জটিল।

প্রিয় মানুষ বলেও আসলে কিছু নেই। ব্যাপারটা ক্ষেত্র বিশেষ। আজ যে মানুষটিকে খুব কাছের বলে মনে হচ্ছে ; মানুষটির সাথে পরিচয় না হলে এমনটা হত না।
যেমনঃ পেট ওয়ালা ট্রাক ড্রাইভার পানের ফিক ফেললো। এই দৃশ্য দেখে কোন সুন্দরী ' ইয়াক ' করে উঠল। ঠিক এই মেয়েটির জন্মই যদি ঐ ড্রাইভারের ঘরে হতো তাহলে ঐ মানুষটিকেই তার মনে হতো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা।
আজ যে মানুষটাকে ভালবাসতেছেন, যাকে নিয়ে জীবনের স্বপ্ন বুনতেছেন সেই মানুষটার প্রতি কিন্তু একদিনে ভালোবাসা জন্মায়নি, তার প্রতি অনুভূতি গুলো কিন্তু একদিনে হয় নি। দিনের পর দিন হয়েছে। তার সাথে যদি আপনার ভালোবাসা না হতো তাহলে কিন্তু তার জন্য আপনার মনে কোন অনুভূতি, ভাললাগা কাজ করতো না। কিন্তু আজ সে আপনার স্বপ্ন। আপনার স্বপ্নের পথের পথিক।
প্রিয় মানুষ ব্যাপারটা আসলে আপেক্ষিক, ক্ষেত্র বিশেষ।

জন্মের পর পৃথিবীর কেউই প্রিয় এবং অপ্রিয় থাকে না। আমরাই কাউকে প্রিয় এবং কাউকে অপ্রিয় বানিয়ে ফেলি। মনে জায়গা সেভাবেই দেই।
আসলে আমারা কি চাই বা করি তা আমরা অনেক সময় নিজেরাই জানিনা।

শান্ত, চুপচাপ আর কম কথা বলার অধিকারী এই আমি পছন্দ করি। মনে মনে রঙিন ছবি আকা, সুন্দর সুন্দর সব ছবি দেখা আর ছবি তোলা, গুন গুনিয়ে গান গাওয়া, প্রান ভরে গান শোনা, টুকটাক গীটার বাজানো কিংবা প্রকৃতির সৌন্দর্য্য উপভোগ করা। আরো পছন্দ করি স্বপ্ন দেখতে, স্বপ্নকে নিয়ে ভাবতে, কিছুটা কাল্পনিকতা এবং বড় বেশী ভালবাসি প্রকৃতির সব, প্রাকৃতিক সব। ভাল লাগে মানুষের ভাল কিছু দেখতে বা শুনতে, আরও ভাললাগে যখন সেই ভালো কিছুর কারণটা আমি হই।। শান্তি পাই যদি মানুষের জন্য কিছু করতে পারি, বিপদে পাশে দাঁড়াতে পারি। আর ভীষন কষ্ট পাই মানুষের কষ্ট দেখে এবং মানুষের অমানবিকতা দেখে। আরো বেশি কষ্ট পাই যখন কেউ আমার জন্য, আমার ব্যবহারে বা আমার কোন কারণে কষ্ট পায়।
যদিও আমি কোন লেখক কিংবা কবি নই, তবুও ভীষন ইচ্ছে, মনের মত ভাল কিছু একটা যদি লিখতে পারতাম, সেই আশায় আমার এই লিখার চেষ্টা মাএ।

আর আমার পরিচয়।আমার পরিচয় দেবার মতোন কিছু নেই। আমি ঠিক তেমনি যেমন করে আমি দেখি, আমার চিন্তাটাও ঠিক তেমনি যেমনটি আমি ভাবি, আমার মনটাও ঠিক তেমনি যেমনটি আমি অনুভব করি, আমার ভালোবাসাটাও কিন্তু ঠিক তেমনি যেমন করে আমি ভালবাসি।সবার মতো হতে চাই না। একটু ভিন্ন হতে চাই সবার থেকে, একটু আলাদা হয়ে থাকতে চাই।।

ভালো লাগে নিজের মতই থাকতে, নিজেকে নিজের মাঝে গুটিয়ে রাখতে; হয়তো কম কথা বলি বলেই। এবং সব সময়ই আমি চাই কোন একটা কিছু নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে। তবে অনেক সময় কাজহীন ভাবেও ব্যস্ত থাকতে হয়।  ভালো লাগে বই পড়তে এবং বড় লেখকদের জীবনী গুলো পড়তে। তাইতো মাঝে মাঝে নিজেরও লেখার শখ জাগে, যদিও আমি জানি ভালো লিখতে পারিনা। সবার লেখার মতো আমার লেখাও অতো ভালো হতে হবে এমনটাতো নয়। কিন্তু বড়ই দুঃখের ব্যাপার হলো, আমি যখন যাই লিখিনা কেন আমার লিখা গুলো কেন জানি খুবই সহজ-সরল ভাষায় হয়ে যায়, হয়ত আমিও সহজ-সরল বলেই।এই পর্যন্ত যা-ই লিখেছি শখের বশেই লিখেছি, নিজের অনুভূতি থেকে লিখেছি, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার জন্যই লিখেছি।নিজেকে মুখের চেয়ে লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করি। কিন্তু জানিনা কেমন লিখেছি বা লিখি, আর তাইতো ব্লগিং করি যদি আমার নিজের লিখা গুলো সন্মন্ধে কিছুটা হলেও জানতে পারি।

আসলে কি, মানুষের অনুভুতিটা হলো সুন্দর একটা পেইন্টিং যা কখনই নষ্ট হয় না। মানুষের চেহারাটা হলো সুন্দর একটি বইয়ের মত, সেটাকে পড়তে চেষ্টা করতে হয়। এবং ভালবাসা জিনিসটা হলো খুবই মূল্যবান, তাই এটাকে সঠিক মর্যাদা দিতে হয়। আর বন্ধুত্ব হলো সুন্দর একটি আয়নার মত, তাই সেটাকে খুব যত্ন করে রাখতে হয় যেন ভেঙ্গে না যায়। আর তাইতো অনুভূতিটাকে স্পর্শ করতে চাই, পড়তে চাই অনেক বই, মর্যাদা দিতে চাই মানুষ গুলোকে এবং যত্ন করে ধরে রাখতে চাই বুন্ধুত্বটাকে।

আমি মোটেও তেমন ভালো লিখিনা বা ভালো লিখতে পারিনা, লিখার চেষ্টা করছি মাত্র। যখন যা মনে আসে সেটাকেই প্রকাশ করার চেষ্টা করি, অনেকটা শখের বশেই, অনেকটা একাকীত্ব দূর করার জন্য, অনেকটা নিজেকে নিজের মাঝে ব্যস্ত রাখতে ।
এই আমি , এটাই আমি, এটাই আমার আমি...


মানুষের কিছু ভালোলাগা থাকে চিরন্তন। কিছু অনুভুতি কখনো মুছে ফেলা যায় না মনের ছোট্ট কোঠর থেকে। কিছু মানুষকে কাছে পেতে মন থাকে সদা ব্যাকুল। কিছু ভালবাসা ছাড়া জীবন অসম্পূর্নই থেকে যায়। কিছু প্রাপ্তিতে আরো কিছু বেশি পাওয়ার হাহাকার থেকে যায়।
আমার ভাললাগার জিনিস গুলো খুব কমই ধরে রাখতে পেরেছি। কিছু হারিয়ে ফেলেছি, কিছু হারিয়ে গেছে, কিছু পাওয়ার আশাটা দুঃস্বপ্ন মাত্র। খুব ভয় লাগে তখন যখন মন কিছু পাওয়ার আশায় ব্যাকুল হয়ে যায়, ব্যাকুল হয়ে চায়। মুখ ফুটে তখন আর প্রকাশ করার সাহস পাই না। এই ভরে যদি চাইলেই হারিয়ে ফেলি, যদি আরো দূরে চলে যায়।
কেন যেন মনে হয় ভাললাগার কোন কিছু আমার পাওয়ার অধিকার নেই, আমি পাওয়ার মতো নই। তাইতো মনে নতুন করে কোন স্বপ্ন জন্মাতে দেই না। নাজানি সেই স্বপ্নটাই দুঃস্বপ্নের রুপ নিবে।
স্বপ্ন গুলো মারতে মারতে আজ আমিই মৃত্যুর পথ যাত্রি...

কেউ কাউকে প্রচন্ড কষ্ট দিয়ে নিষ্ঠুরের মত চলে যাওয়ার পর আসলেই ভালো থাকে কিনা, আমার জানা নেই। তবে মানুষ সবই পারে।
বছর খানেক ধরে জমানো হাজার হাজার ছবির অ্যালবামটা এক রাতেই পুড়িয়ে ফেলে দিতে পারে।। মানুষ সব পারে ...
নিষ্ঠুর হওয়াটা দোষের না ।।  মানুষ যত না নিষ্ঠুর, তার চেয়েও বেশি আবেগ প্রবণ ... পার্থক্যটা এখানেই।।
তীব্র কষ্ট দিয়ে কাউকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে আসলেই সব শেষ হয়ে যায় না। ছবির অ্যালবামটা, চিঠি গুলো, ডায়েরি পুড়িয়ে ছাই করে ফেললেই সব মুছে যায় না ।
ঠান্ডা মাথায় কারো স্বপ্ন খুন করেছিল সে । স্বপ্ন খুনির কখনো ফাঁসি হয় না । শুধু নিজের ভেতরে যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়। কারাগারের সেই বদ্ধ ঘরে দুঃস্বপ্ন, বুকের চিনচিনে ব্যথা আর পুরনো স্মৃতি গুলো তাকে সারা জীবন তাড়িয়ে বেড়ায় । তীব্র যন্ত্রণার সুরের কম্পনের তালে হৃদপিন্ডটা ধকধক শব্দ করতে থাকে । সেই শব্দটা কেউ শুনতে পায় না। তাই সবাই ভাবে, ভালোই আছে মানুষটা ... খুব ভালো আছে ।।

জীবনে কি পেলাম আর কি হারালাম মাঝে মাঝে খুব জানতে ইচ্ছে করে। জীবনে পাওয়ার চেয়ে হারিয়েছিই বেশি। কিন্তু আসে পাশের মানুষ ভাবে ঠিক তার উল্টোটাই।  খুব গভীর ভাবে ভেবে দেখলে আমার কিছু পাওয়াটা শূন্যের কোঠায়। কিন্তু এতোটা কি হারানোর কথা ছিল...??? 
কি পেলাম...?? কিছুই তো পাই নি। পাওয়ার মতো কি কিছু ছিল না, নাকি আমি পাওয়ার মতো ছিলাম না...??
এই অপূর্ণ, শূন্য জীবন আর ভালো লাগে না। কেমন যেন শূন্য শূন্য লাগে। সে শূন্যতা কিসের আমি জানি না। এই শূন্যতা শুধু আমার মনের চার দেয়ালের মাঝেই সীমাবধ্য। বাহিরের কেও কখনো তা জানতে পারবে না, কখনো বুঝতেও পারবে না। আচ্ছা কেউ কি কখনো সেই শূন্যতা বুঝবে..!! নাকি এভাবেই কেটে যাবে বাকিটা জীবন...??
খুব ইচ্ছা করে আকাশের তাঁরা হয়ে যেতে। দূর আকাশের ছোট্ট একটি তাঁরা। মাঝে মাঝে মিটি মিটি করে জ্বলবো আবার অদৃশ্য হয়ে যাবো।
জীবন থেকে মুক্তি নিতে চাই, চির মুক্তি নিতে চাই। পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিতে চাই......।।

স্বপ্ন নিয়েই জীবন, স্বপ্নের মাঝেই জীবন। আমি এক স্বপ্ন কথক, চলেছি অজানার উদ্দেশ্যে। আমার কিছুই বলার নেই। তারপরেও, অনেক কিছুই বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু বলার সাহস পাই না। অসীম শূন্যতার মাঝে সামনের দিকে চলা একাকী এক পথিক। আমার আমিকে নিয়ে সামনে চলা,এক নিরন্তরের পথে। হাজারো মানুষের ভিড়ে একজন মানুষ, এখনো জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পাইনি। বেঁচে আছি, বেঁচে থাকতে হয় বলে। আমি স্বপ্নের ফেরিওয়ালা স্বপ্ন খূঁজে ফিরি, স্বপ্নেই খুঁজে বেড়াতাম নিজেকে। ঘুমহীন চোখে স্মৃতির রাজ্যে নিরন্তর অনেক ঘুরে বেড়িয়েছি ।কখনো কখনো খুঁজে পেয়েও আবার হারিয়ে ফেলেছি। গন্তব্যহীন পথে উদ্ভ্রান্ত পথিকের মতই আপাতত ঘুরপাক খাচ্ছি।

এক সময় নিজেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতাম। স্বপ্ন দেখতে দেখতে স্বপ্নের মাঝে গা ভাসিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখলাম আমি মিথ্যে স্বপ্নের পাহাড়ে দাঁড়িয়ে আছি। জীবনের এই মুহূর্তে এসে হিসেব করে দেখলাম, পাওয়ার চেয়ে, না পাওয়াই বেশি। আশারা তাচ্ছিল্যভরে তাকিয়ে থাকে, আর নিরাশাও মুখ ফিরিয়ে নেয় চরম নির্মমতায়। আশা পূরণের আনন্দে আপ্লুত হয়ে উচ্ছ্বসিত কথোপকথনকে আজ আমার বাতুলতা মনে হয়। মনে হয় আশা শুধুই বৃথা। সব মিলিয়ে জীবন যেন দিন দিন মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। চারিদিকে ধূলো বালি,তপ্ত,উত্তপ্ত। এই আমি খুঁজে বেড়াই সামান্য মেঘ, সামান্য বৃষ্টি। আমি আজ হতাশ,আমি আজ ক্লান্ত।


তারপরেও, প্রতিনিয়ত পথ হাঁটছি জীবনের প্রয়োজনে। অভিনয় করে যাচ্ছি ভালো থাকার। প্রতিনিয়ত শিখছি একটু একটু করে। ভীষণ ছোট্ট একটা জগত আমার। তবুও, পথ চলি অবিরাম। নতুন কোন সুন্দর আলো ঝলমলে সোনালী প্রভাতের প্রতিক্ষায়।

জীবন যে সাত রং-এ রাঙা ছিল তা না, তবুও  জীবন থেকে রঙ হারিয়ে গেছে। সাত রঙেতে আঁকা স্বপ্ন সব-ই
ধূলোয় মিশে একাকার। সেই সপ্ন গুলো আর স্বপ্ন হয়ে আমার চোখে আসে না। আলো আঁধারের জীবনে হারিয়ে গেছে জীবনের আলো। আলোটা না পেয়ে ভালোবাসি তাই রাতের কালো। সেই ছোট থেকে আলোহীন জীবন, আজ তাই আরেকটু বেশি কালো।। হারিয়ে গেছে ঠোঁটের কোণে হাসি, হাসতে ভুলে গেছি। সবাই দেখে সুখে আছি, ভালো আছি। খুব গোপনে আমি দুঃখে ভাসি, ভিতরটা কেউ দেখে না। মনের কথা, স্বপ্ন, আশা গুলো মনে জমা রয়ে যায়। একটি সময় সেই জমানো কথা, স্বপ্ন, আশা গুলো মনের গভীরে কবর দেই, নিজের হাতে মেরে ফেলি। মেরে ফেলতে একটুও কষ্ট হয় না, একটুও না।  চোখের ভাষা হারিয়ে জমেছে কঠিন নীরবতা। হারানোর শেষ সীমানায় এসে আজ বেঁচে থাকার আশাটা হারিয়ে ফেলেছি।। সব ছেড়ে লুকাতে চাই অজানা প্রান্তে।।

অনেক কস্ট হচ্ছে আমার। একি...!! কি বলছি এসব ? সপ্নহীন মানুষের আবার কস্ট হয় নাকি...?? হঠাৎ করেই চারিপাশ এতো নিরব কেনো লাগছে ..??
এতই নিরব যে একটা পিন এর আওায়াজও আমার কানে এসে লাগলে আমার মাথা টা ছিরে যাচ্ছে এমনটা মনে হচ্ছে।দেয়ালে কি ঘড়ি আছে..? ? তাহলে ঘরির কাঁটার শব্দ শুনছি আমি এতো জোরে জোরে..?? না..!! আমার নিঃশ্বাসের শব্দ.. !! আরে নিশ্বাসের শব্দ কিভাবে শুনবো...?? আমি কি বেঁচে আছি..? ? আওায়াজ টা অনেক বেশী কষ্ট দিচ্ছে।

আমার চোখ দিয়ে রক্ত বইছে, কাঁদতে পারছিনা আমি। কেনো এমন হয়..?? সপ্নহীন হয়েও সপ্নহীন টাকে গুছিয়ে নিয়েছিলাম আমি। কিন্তু সে সপ্নহীনটাও আজ বড় অচেনা লাগছে...!! নিজেকে চিনতে পারছিনা আমি। অশ্মরীর কান্না দেখেছো কখনো...?? কখনো কোন সপ্নহীন বালকের হাহাকার শুনেছো কান পেতে...?? পারবেনা শুনতে... সে ক্ষমতা তোমাদের নেই......।।

আমি কোনো অনুভুতি পাচ্ছিনা কেনো আজ। এতদিন তবু অনুভুতি ছিলো । তাহলে কি অনুভুতি শুন্য হয়ে গেলাম...?? এ জন্যই কি অচেনা লাগছে সব কিছু...?? সব কিছু ঘোলাটে লাগছে। সপ্নহীনতার কষ্ট টা অনেক বেশী তীক্ষ্ণ।

একটা তীক্ষ্ণ সুই এর মত করে মাথার মধ্যে কিছু একটা খুব বেশী কষ্ট দিচ্ছে। কষ্ট হচ্ছে বুঝতে পারছি কিন্তু কোনো অনুভুতি হচ্ছেনা। এ আবার কোন রুপ..??? সব কিছু ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে... চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে...।

 কষ্ট পাচ্ছি শুধু একটি তীক্ষ্ণ সুইয়ের মত শব্দ খুব বাজে ভাবে মাথায় আক্রমন করছে। কানে হাত দিয়েও আওয়াজ টা থামাতে পারছিনা অথচ প্রথমেই বলেছি আমার রাজ্যটা আজ অনেক নীরব। শুধু এই আওয়াজ টা থেমে গেলেই হয়তো  শান্তি না থাকলেও চোখটা বুঝতে পারতাম আর মুক্তি মিলতো আমার। চির মুক্তি ...

আমি এক পথহারা পথিক, জীবন পথের ঠিকানা হারিয়ে ছুটে বেড়াই দিক-বিদিক। ছুটতে ছুটতে আজ হঠাৎ করে এসে পড়েছি এক অচিনপুরে লোকালয় ছেড়ে অনেক দূরে। অজানা পথে হাটছি দিক বিদিক। জোছনা রাতের তারকারাজি শুধু আমায় পথ দেখায়, ঝিকিমিকি তারার আলোয় মনটা শুধু হারিয়ে যায়। তারা গুলোও আজ নেই আকাশে, থমকে আছি তাই পথের বাকে। আজ আকাশে তারা গুলো নেই। নেই জোছনায় তারার খেলা। রূপালী আলোয় আকাশটা আর ছড়ায়না আর রঙের মেলা। আচমকা এক হঠাৎ ঝড়ে পথটা যে আজ বড়ই অচেনা, দিকহারা এক পথিক আমি খুঁজে ফিরি তাই পথের ঠিকানা।।

জীবনে সপ্নের শেষ নেই, সপ্ন সপ্নের মতো দেখতেই থাকে। থামতে বললেও থামে না। আমি একটি কবিতার স্বপ্ন দেখেছিলাম। যে কবিতায় থাকবেনা কোন কষ্ট গাঁথা, রইবেনা কোন স্বজন হারানোর অব্যক্ত ব্যাথা, যার পরতে পরতে রইবেনা কোন কান্নার সুর। যে সুরের টানে জীবনে আসে দুখের সমুদ্রর।
আমি এমন একটি কবিতার স্বপ্ন দেখেছিলাম-যে কবিতায় থাকবে শুধু জীবনেরই জয়গান, পরতে পরতে রইবে শুধু স্বপ্নীল আহবান, যে স্বপ্নের মায়া জালে পড়ে উড়ে যায় সব জরা, রংধনুরই বর্ণিলতায় মুছে যায় যত ক্ষরা। স্বপ্নের সে কবিতা আজও আমার লেখা হয়ে ওঠেনি। ঝড়ের তোড়ে উড়ে যাওয়া সময়ে পাইনি সুখের দেখা। কষ্টের যত রঙ আছে তা কবিতায় আসে ফিরে কভু পাইনি দেখা সেই কবিতার, যা ভাসাবে আমায় সুখের সাগরে।।

কখনও কখনও নিজেকে আকাশের মত মনে হয়। হৃদয়টাকে মনে হয় আকাশের মত বিশাল। বিশাল ঐ হৃদয় নিয়ে জাগতের না পাওয়ার বেদনা মাড়িয়ে ভাবি শুধু পারতাম যদি করতে জয়, জাগতের সব না পাওয়ার বেদনা। কখনও কখনও নিজেকে সাগরের মত বড় মনে হয়। সাগরের বিশালতার মত নিজেকে বিশাল ভাবি। যত ঝড়-ঝঞ্চা আসুক, সাগরের ঢেউ এর মত সব কিছুকে ভাসিয়ে দিতে পারব বলে বিশ্বাস করি। আচমকা এক দমকা হাওয়া এসে আমার সেই বিশ্বাসের ভিত গুলো নাড়িয়ে দেয়। কল্পনার রাজ্যে বসে আকাশ আর সাগরের মত ভাবনা গুলো নিমেষেই বাস্তবতার আঘাতে জর্জরিত হয়ে যায়। জীবনের কঠিন বাস্তবতা তখনই আঘাত করে রেখে যায়। মনের মাঝে সত্যের কঠিন পরশ বুঝতে পারি সাগর ও আকাশের মত বিশাল আমি নই।
যা কিছু ভাবি, সবই আমার কল্পনা। কল্পনার রাজ্যে বসবাস, কল্পনাময়ী আমি...।।

ভেবেছিলাম একটা গল্প লিখব জীবনের নানান চড়াই উতরাই নিয়ে। নানা ঘটনা-দুর্ঘটনা পার হয়ে আজ জীবনের যে মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছি সে সব নিয়ে একটা গল্প লিখব। লেখাটা শুরুও করেছিলাম একসময়। কিছু দূর লেখার পর বুঝতে পারলাম কেমন যেন খেই হারিয়ে ফেলেছি, লেখাটা আর এগুচ্ছে না, মনের অব্যক্ত অনুভূতি গুলো কেমন যেন দুমড়ে- মুচড়ে, চুপসে গেছে। বারে বারে শুধু মনে হচ্ছে কি হবে গল্পটা লিখে...??? কে পড়বে আমার এ ছাঁইপাশ জীবনের গল্প, শিশুতোষ গল্প...??? মুল্যহীন মানুষের গল্প...??
জীবন পথের নানান মোড়ের, নানান বাঁকের ঘটে যাওয়া টুকরো টুকরো ঘটনা গুলো লিখতে চেয়েছিলাম গল্পের মত করে, একদিন এক খেই হারানো সুরের মত লেখার গতিটাও হঠাৎ কেমন যেন থেমে গেল, অসমাপ্ত গল্পটা তাই আর শেষ করা হলো না।।

অনেক দিন পর এতোটা ভোরে ঘুম থেকে উঠলাম। আদৌ ঘুমিয়েছিলাম কিনা জানি না। এখন কেমন যেন ভোরে উঠতে ইচ্ছে হয় না, ঘুম না আসলেও শুয়ে থাকি। কেমন যেন একটা অনুভুতী।
ভোর সবার-ই আসে, একেক জনের ভোর একেক রকম। কারো নতুন কিছু শুরু করার প্রত্যয়ে, কারো আরেকটি হতাশা ভরা দিনের শুরু। আমার দ্বিতীয় টি, মানে হতাশা ভরা আরেকটি দিন, আরেকটি ভোর। মাঝে মাঝে এই ভোরটা কে থামিয়ে দিতে ইচ্ছ করে, ইচ্ছা করে এই হতাশা কাটিয়ে একটু সস্থির নিঃশ্বাস ফেলতে। আমারো যে ইচ্ছা আছে, আমারো যে নতুন কিছু পাওয়ার স্বাদ জাগে।
একটি ভোর চাই আমি একটি ভোর। যে ভোরে চোখ খুলতেই ভয় নেই, আতংকের কোন হাহাকার নেই। একটি ভোর চাই আমি একটি সূর্য চাই চারিদিক আলোকিত মুগ্ধ সকাল চাই। স্বপ্ন পূরোন এর অঙ্গিকার চাই। আর অন্ধকারে আলোর আশা নয়, এই বার সত্যি একটি সোনালী সকাল চাই…।।


আমরা বেঁচে থাকি বেঁচে থাকার প্রাপ্তিতে, বেঁচে থাকার অনুভুতীতে, বিশ্বাসে, সপ্ন দেখার মাঝে, বেঁচে থাকার প্রতিশ্রুতিতে। একটি প্রতিশ্রুতি, কিছু ভালোলাগার মুহুর্ত সাথে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর উচ্ছল বর্তমান। একটি স্বপ্ন, কিছু সুখের অনুভূতির সাথে রঙীন দিনের বর্ণিলতার প্রতিশ্রুতি আর স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকার অব্যক্ত কিছু আকুতি। একটি ঝড়, কিছু এলোমেলো দিন সাথে দুঃসহ কিছু যন্ত্রণা আর স্বপ্ন ভাঙ্গার বেদনা। ঝড় সামলে উঠে আবার ঘর গোছানোর চেষ্টা নিত্য নতুন ঝড়ে আবার পিছিয়ে পড়া। একটা ঝড় সামলে উঠার আগেই আরেকটা ঝড় এর মুখে পড়া। ঝড় সামলে অগোছালো নিজেকে গোছাতে গোছাতেই আবার আগোছালো হয়ে যাওয়া। এখন গোছানোর একটা ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র। এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে অনিশ্চিত পথে জীবনের যাত্রা।।

আজ স্বপ্ন গুলোকে জড়ো করে তুলে দেবো সেই ভেলায় যে ভেলাটি যাবে ভেসে গোধুলী বেলার সমুদ্রের মোহনায়।
কাল থেকে আমার চোখে আর ভাসবে না কোনো স্বপ্ন। স্বপ্ন ভাঙ্গার যন্ত্রণায় আর কাটবেনা কোনো লগ্ন। সদ্য ফোঁটা ফুলের মত হোক শুরু এক নতুন প্রহর সেই আশারই ভেলায় করে দেবো পাড়ি সমুদ্রের সুনীল প্রান্তর।। ফিরবো না আর সে প্রান্ত থেকে।

MARI themes

Powered by Blogger.