Showing posts with label জীবন ও বাস্তবতা. Show all posts

আমরা আসলে পুরো জীবনটাই কাটিয়ে দেই একটা অদ্ভুত শব্দের পেছনে দৌড়ে - “তারপর”। ছোটবেলা থেকে এই “তারপর” আমাদের মাথায় বসিয়ে দেওয়া হয়। “এই পরীক্ষা শেষ হোক, তারপর একটু শান্তি”, “এই চাকরিটা পেলে তারপর জীবনটা সেট হবে”, “আরেকটু গুছিয়ে নেই, তারপর নিজের জন্য সময় রাখবো” - এভাবেই আমরা প্রতিটা মুহূর্তকে ভবিষ্যতের কোনো এক অজানা দিনে ঠেলে দেই। মনে হয়, আজকে না, কাল থেকেই সত্যিকারের জীবন শুরু হবে। অথচ সেই “কাল” টা কখনো আজ হয়ে আসে না আমাদের জীবনে।

এই “তারপর” টা অনেকটা দিগন্তের মতো - দেখতে খুব কাছাকাছি লাগে, কিন্তু যতই সামনের দিকে এগোই, ততই সেটা সরে যায়। অনেকটা মরিচিকার মতো। আমরা ভাবি, একটা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছালেই সব ঠিক হয়ে যাবে - চিন্তা থাকবে না, দুশ্চিন্তা থাকবে না, আমরা মন ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারব। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জীবন কখনো থেমে থাকে না। একটা লক্ষ্য পূরণ হলে আরেকটা এসে দাঁড়ায়, একটা চিন্তা শেষ হলে আরেকটা জায়গা নেয়। আর এই দৌড়ের মাঝখানে আমরা বুঝতেই পারি না জীবনটা কখন আমাদের পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে।

আসলে জীবনটা ঘটে খুব সাধারণ, ছোট ছোট মুহূর্তে - যেগুলো আমরা প্রায়ই গুরুত্বই দেই না। যেমন- কোনো ক্লান্ত বিকেলে বারান্দায় বসে কফি খাওয়া, যদিও মাথায় হাজারটা চিন্তা ঘুরছে। অথবা, রাতে হঠাৎ কোনো পুরনো বন্ধুর মেসেজে অকারণে হেসে ফেলা, যদিও মনটা ভালো নেই। কিংবা কারো পাশে চুপচাপ বসে থাকা, কোনো কথা না বলেও একটা অদ্ভুত শান্তি পাওয়া - এই ছোট ছোট অনুভূতি গুলোই আসলে জীবনের সবচেয়ে সত্যিকারের অংশ। কিন্তু আমরা এগুলোকে তেমন মূল্য দেই না, কারণ আমাদের মাথায় তখনও ঘুরতে থাকে - “তারপর কী...?”

আমরা সবসময় ভাবি, জীবনের বড় বড় ঘটনা গুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ - সাফল্য, অর্জন, স্বীকৃতি। কিন্তু একসময় গিয়ে বুঝি, এই বড় বড় জিনিস গুলোর ফাঁকেই আসল জীবনটা লুকিয়ে ছিল। যে গুলোকে আমরা গুরুত্ব দিইনি, যেগুলোকে “তারপর” বলে সরিয়ে রেখেছিলাম - সেই ছোট ছোট মুহূর্ত গুলোই ছিল আমাদের সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে সত্য। আর যখন এটা বুঝতে পারি, তখন হয়তো অনেকটাই দেরি হয়ে যায়।

একদিন হঠাৎ করেই মনে হয়, আমরা যে “তারপর”- এর জন্য এতদিন দৌড়াচ্ছিলাম, সেটা তো কখনোই আসেনি। বরং এসেছে নতুন ব্যস্ততা, নতুন দায়িত্ব, নতুন দুশ্চিন্তা - আর সাথে নতুন আরেকটা “তারপর”। আর এই দৌড়ের মাঝেই অজান্তে হারিয়ে গেছে অনেক হাসি, অনেক মুহূর্ত, অনেক অনুভূতি। তখন মনে হয়, যদি একটু থেমে যেতাম, যদি আজকেই একটু বাঁচতাম, তাহলে হয়তো জীবনটা এতটা ফাঁকা লাগত না।

জীবন আসলে কোনো গন্তব্য না, যেখানে পৌঁছালেই সবকিছু শুরু হবে। জীবন হচ্ছে এই চলার পথটাই - যেখানে প্রতিটা ছোট মুহূর্তের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার আসল মানে। তাই হয়তো দরকার, মাঝে মাঝে থেমে যাওয়া, একটু নিঃশ্বাস নেওয়া, আর নিজেকে মনে করিয়ে দেওয়া - জীবনটা “তারপর” না, জীবনটা এখন, জীবনটা বর্তমান। অতীত বা ভবিষ্যৎ আমাদের বর্তমানকে বিলীন করে দেয়...।

অনেক সময় এমন হয়, আমরা একদম ঠিক আছি - বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি, হয়তো কফি খেতে খেতে গল্প করছি, বা একা বসে প্রিয় একটা বই পড়ছি। মুহূর্তটা সুন্দর, হালকা, নির্ভার। কিন্তু ঠিক তখনই মাথার ভেতর একটা চিন্তা ঢুকে পড়ে - “কাল অফিসে মিটিং…”, “কাল অনেক প্রেসার যাবে…”। আর এই একটা ভাবনাই ধীরে ধীরে পুরো মুহূর্তটার রং বদলে দেয়, ফ্যাকাসে করে দেয়। আমরা তখন আর পুরোপুরি ওই সময়টার মধ্যে থাকি না। শরীরটা থাকে এখানে, কিন্তু মন চলে যায় আগামীকালের দুশ্চিন্তায়। আবার এমনও হয়, আজ ভালো একটা সময় কাটাতে কাটাতেই হঠাৎ মনে পড়ে যায় - “ইশ, কাল দিনটা ভালো যায়নি…”, “ওই কাজটা একটু অন্যভাবে করলে হয়তো ভালো হতো…”। মানে, একদিকে ভবিষ্যতের চিন্তা, আরেকদিকে অতীতের আফসোস - এই দুইয়ের মাঝে পড়ে আমরা আজকের ভালো সময়টাকেও ঠিকভাবে উপভোগ করতে পারি না। মনে হয়, যেন কিছু একটা ঠিক নেই, যদিও আসলে এই মুহূর্তে সব ঠিকই ছিল।

আমাদের ধীরে ধীরে এটা অভ্যাস হয়ে যায়। আমরা বুঝতেই পারি না কখন থেকে আমরা “এখন”-এ থাকা ভুলে গেছি, বর্তমানে থাকা ভুলে গেছি। সবসময় হয় আগের কিছু নিয়ে ভাবছি, না হয় সামনে কী হবে সেটা নিয়ে চিন্তায় আছি। অথচ সত্যি বলতে, আমাদের জীবনে যেটুকু সময় সত্যিকারের আছে, সেটা এই এখনটুকুই, বর্তমান টুকুই। না "কাল", না "গতকাল", না "তারপর" - শুধু বর্তমান এই মুহূর্তটাই বাস্তব।

আর এখানেই সমস্যা। আমরা এই বর্তমানটাকে ঠিকমতো ধরে রাখতে পারি না, অনুভব করতে পারি না। ছোট ছোট ভালো লাগার মুহূর্তগুলো - যেগুলো আসলে আমাদের সুখের আসল জায়গা - সে গুলো হাতছাড়া হয়ে যায়। কারণ আমরা তখনো “তারপর” নিয়ে ব্যস্ত, “কাল” নিয়ে ব্যস্ত, বা “ইশ যদি…”-এর ভেতরে আটকে আছি। শেষে গিয়ে মনে হয়, এতকিছুর মাঝেও যেন কোথাও একটা শান্তি নেই, শুন্যতা কাজ করে। আসলে শান্তিটা ছিল, ঠিক আমাদের সামনেই, আমাদের সাথেই - আমরা শুধু সেটাকে ঠিক সময়ে চিনতে পারিনি, ধরতে পারিনি।

জীবনটা “তারপর” না, জীবনটা এখন- এই সত্যিটা আমরা জানি, কিন্তু মানতে শিখি খুব দেরিতে। আমরা হয়তো অতীতের কোনো ভুল, কোনো অপূর্ণতা, কোনো আফসোস আঁকড়ে ধরে থাকি; অথবা ভবিষ্যতের কোনো স্বপ্ন, কোনো ভয়, কোনো অনিশ্চয়তার পেছনে ছুটতে থাকি। আর এই দুইয়ের টানাপোড়নে আমাদের বর্তমানটা ধীরে ধীরে ঝাপসা করে দেয়, গুরুত্ব হারায়। অথচ জীবনের একমাত্র বাস্তব সময়টা হলো এই বর্তমান- এই মুহূর্ত, যেখানে আমরা নিঃশ্বাস নিচ্ছি, অনুভব করছি, বেঁচে আছি। অতীত আমাদের শেখানোর জন্য, ভবিষ্যৎ আমাদের অনুপ্রাণিত করার জন্য - কিন্তু বাঁচার জন্য নয়। বাঁচতে হলে ফিরে আসতে হয় এই এখন-এ, এই ছোট ছোট অনুভূতিতে, এই অসম্পূর্ণ কিন্তু সত্য মুহূর্ত গুলোর মাঝে। কারণ শেষ পর্যন্ত, জীবনের সবচেয়ে বড় আফসোস হয় না আমরা কী পাইনি - বরং হয়, আমরা কতটা সময় “তারপর”-এর অপেক্ষায় থেকে আজকেই হারিয়ে ফেলেছি...।


প্রতিদিন আমরা অসংখ্য মানুষের সঙ্গে দেখা করি, কথা বলি। কারো সঙ্গে অফিসে, কারো সঙ্গে পথে, আবার কারো সঙ্গে হয়তো হঠাৎ-ই ফ্লাইট বা কফিশপে। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি - এই এত মানুষের মধ্যে আসলে কয়জনের সঙ্গে আমাদের সত্যিকারের Connection গড়ে উঠে? কয়জনের সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে ওঠে যেটা হৃদয়ের ভেতর পৌঁছে যায়? আসলে আমরা চাইলেই সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে পারি না। কারণ সম্পর্ক মানে শুধু দেখা করা বা কথা বলা নয়। সম্পর্ক হলো এক ধরনের বোঝাপড়া, সময় দেওয়া, আন্তরিকতা, সহমর্মিতা আর পারস্পরিক সম্মানের সমন্বয়। চাইলেই এটা হঠাৎ করে কারো সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলা যায় না।

অনেকে ভাবে, “আমি তার সাথে দেখা করতে চাচ্ছি, কথা বলতে চাচ্ছি মানেই হলো বিপরীত পাশের মানুষও একই ভাবে কেন চাবে না !!!” কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই এরকম নয়। একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে ধীরে ধীরে। সেখানে শুধু ইচ্ছা থাকলেই হয় না; সময় দিতে হয়, অপরজনকে বুঝতে হয়, তার অনুভূতিকে সম্মান করতে হয়। আপনি যদি শুধু নিজের দিক থেকে ভাবেন আর অপরজনের অবস্থাকে না বোঝেন, তাহলে সেই সম্পর্ক কখনো গভীর হয় না, সামনে আগায় না। তখন আপনি চাওয়া বা না চাওয়ার উপর কিছুই নির্ভর করে না। 

আমরা প্রায়ই একটা ভুল করি - যদি কেউ আমাদের সঙ্গে সময় কাটাতে চায় বা কেউ কফি এর জন্য ইনফাইট করল কিন্তু তাকে সময় না দিতে পারলে, আমরা ভাবি সে হয়তো মুডি বা Selfish বা Self-Centered Person. কিন্তু আসল ব্যাপারটা অন্য রকমও হতে পারে রাইট? মানুষটার হয়তো পারিবারিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বা অফিসের কাজের চাপ যাচ্ছে, বা অন্য কোনো Personal Situation-নিয়ে সে ব্যস্ত। কিন্তু আমরা সেটা না ভেবে ধরে নিই, “সে চাইছে না।” অথচ বাস্তবতা হলো- সে হয়তো পারছে না। আর এখানেই তৈরি হয় ভুল বোঝাবুঝি। দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের অনেক সঠিক ভাবে বুঝতে সহযোগিতা করে।

এই বিষয়টাই আরেকটু ভিন্নভাবে ভাবি, ভাবুন তো-যদি কেউ আপনাকে সরাসরি প্রশ্ন করে, “আমি কেন আপনার জন্য সময় দেবো?” তখন আপনার উত্তর কী হবে? আপনি কি সত্যিই তার সঙ্গে এমন কোনো Communication Build-up করেছেন, যে কারণে সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আপনার সঙ্গে সময় কাটাতে চাইবে? যদি না করে থাকেন, তাহলে কেন সে আপনার জন্য সময় বের করবে? এখানে মূল কথাটা হলো- সম্পর্ক মানেই শুধু দেখা বা আড্ডা নয়। সম্পর্ক হলো বোঝাপড়া, Empathy, আন্তরিকতা আর একে অপরের অবস্থান বুঝে নেওয়ার চেষ্টার নাম।

এই বিষয়টা আমি নিজেও একবার গভীরভাবে বুঝতে পেরেছিলাম। মার্চ ২০২৫-এর শুরুতে আমি এক ব্যক্তিগত কাজে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলাম। যেহেতু একা ছিলাম, ছবি তোলার মতো কেউ ছিল না। তখন দেখি একজন চুপচাপ বসে আছে। আমি হালকা করে কথোপকথন শুরু করলাম। সে নিজেও খুব আগ্রহ দেখাল, ধীরে ধীরে আলাপ এগোতে লাগল। কথায় কথায় জানতে পারলাম তিনি জাপান থেকে এসেছেন, থাকবেন প্রায় ১৫ দিন। কাকতালীয়ভাবে তখন আমি Kaizen: The Japanese Method for Transforming Habits, One Small Step at a Time বইটা পড়ছিলাম জাপানি culture নিয়ে জানতে। সেটা শেয়ার করতেই তিনি খুব খুশি হলেন। প্রায় ৩০ মিনিট আমরা আলাপ করলাম। শেষে তিনি আমাকে জাপানে আসার আমন্ত্রণ জানালেন, আমি তাকে coffee-এর জন্য invite করলাম। আরও অবাক হলাম যখন তিনি নিজেই বললেন, চাইলে আমি আপনার ছবি তুলে দিতে পারি। সেই মুহূর্তে বুঝলাম - এই Approach, এই Openness না থাকলে কোনো সম্পর্কই তৈরি হতো না। এখনো তার সাথে যোগাযোগ আছে, কথা হয়। যদি কোনোদিন জাপান যাই, অবশ্যই তার সঙ্গে দেখা করবো।

এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে - কেউ আপনার জন্য সময় দেবে, সেটা কখনোই একদিনে হয় না। সম্পর্ক গড়তে হয়, Nurturing করতে হয়, এবং এর জন্য আন্তরিকতা, সময় আর Effort দিতে হয়। আপনি যদি কারো কাছে গুরুত্ব চান, আগে তাকে গুরুত্ব দিন। আগে বুঝতে হবে, শুনতে হবে, Respect দেখাতে হবে। সময় না দিয়ে সময় আশা করা বোকামি, গুরুত্ব না দিয়ে গুরুত্ব পাওয়ার ইচ্ছা থাকাটা উচিত না, Respect না দিয়ে Respect আশা করতে নেই।  

Relationship building takes time। Relationship- হলো বোঝাপড়া আর সমঝোতার উপর দাঁড়ানো এক দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কেউ হুট করেই আপনার জন্য সময় বের করে দেবে না। আপনাকেই আগে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি সেই সময় & সম্পর্কের যোগ্য। যখন আন্তরিকতা, Understanding আর Respect একসঙ্গে কাজ করে, তখনই দেখা যাবে- মানুষ আনন্দের সঙ্গে আপনার জন্য সময় বের করছে, আপনার কথা শুনছে, আর আপনাকে সত্যিকারের Value দিচ্ছে।

জীবনের পথচলায় আমরা প্রতিনিয়ত নানান মানুষের সঙ্গে দেখা করি, কথা বলি। কেউ এসে হারিয়ে যায় ভিড়ের মাঝে, আবার কেউ নিঃশব্দে গেঁথে যায় হৃদয়ের এক নির্জন কোণে। প্রতিদিনকার ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেকের সঙ্গ পাই, কিন্তু সবাই সমানভাবে আমাদের মনে ছাপ, দাগ কাটে না। কিছু সম্পর্ক নিঃশব্দে, ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। যেগুলো হয়তো আমরা কোনোদিন কল্পনা করিনি, কিন্তু একসময় দেখেছি সেই সম্পর্ক গুলোই আমাদের দিন গুলোর সবচেয়ে উজ্জ্বল আলো হয়ে ধরা দেয়।

কর্মস্থল, যেখানে আমরা দিনের বড় একটা সময় কাটাই, সেখানে সম্পর্ক গুলো শুধুমাত্র কাজের প্রয়োজনেই গড়ে ওঠে না। কখনো কখনো নির্বিচারে, অজান্তেই কেউ কেউ হয়ে ওঠে বিশেষ। তাদের সঙ্গে কোনো অফিসিয়াল মিটিং শুধু নয়, বরং জীবনের গল্প ভাগাভাগি হয়। যেখানে বয়স, ডেজিগনেশন কোন ম্যাটারই করে না। যেখানে মানসিক চিন্তা ভাবনা, পারস্পরিক বোঝাপড়াই মুখ্য বিষয় হয়ে থাকে। কাজের ফাঁকে এক কাপ কফি আর কিছু মুহূর্তের নির্ভরতা দিয়ে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব, ভরসা, ভালোবাসা।

আলাদা করে কিছু না বললেও, কিছু মানুষ বুঝে যায় আমাদের মুড ভালো নেই, ভেতরে ঝড় বয়ে যাচ্ছে বা অস্থিরতা। দিনের শেষে, যখন অফিসের কাজ শেষে ঘরে ফিরার সময় আসে, তখনো কিছু সম্পর্ক নিভে যায় না। অফিসের বাইরেও তাদের সঙ্গে দেখা হয় আড্ডায় কোনো প্রিয় ক্যাফের টেবিলে গল্প জমে ওঠে। কখনো পরিকল্পনা হয় একটা হুটহাট ট্রিপের, কখনো গভীর জীবন দর্শনের, কখনো পরের দিনের কাজের প্লান, কখনো বা অফিসের কাজের দক্ষতার দায়ভার নিয়ে। এই সকল মুহূর্ত, এই সকল মানুষ আস্তে আস্তে আমাদের জীবনের অভ্যাসে পরিণত হয়। এমন এক অভ্যাস, যা আমাদের স্বস্তি দেয়, শান্তি দেয়, ভরসা যোগায়, সাথে নিজের করে নেওয়ার অনুভূতি দেয়।

এই সম্পর্ক গুলোতে হিসেবের জায়গা নেই। কে কতটা দিচ্ছে বা কে কতটা নিচ্ছে তার পরিমাপ নেই। আছে কেবল মনের মিল, চোখের চাহনি থেকে বোঝার ক্ষমতা, আর নির্ভরতার অদৃশ্য সুতোর টান, মায়ার টান, আস্থার জায়গা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এরা হয়ে ওঠে এমন কিছু মুখ, যাদের ছাড়া দিনটা অসম্পূর্ণ মনে হয়। মাঝে মাঝে মনে হয়; এরা না থাকলে কাজের চাপের পাহাড় ভেঙে কীভাবে বেঁচে থাকতাম! সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো এই সম্পর্ক গুলোতে কোনো অভিনয় নেই। অফিস পলিটিক্সের বাইরে, কর্পোরেট প্রতিযোগিতার বাইরে, একদম নির্মল মন থেকে তৈরি হওয়া এক ধরনের বোঝাপড়া। হয়তো একসঙ্গে অনেক গল্প হয় না, কিন্তু একসঙ্গে কফি নিয়ে চুপ করে বসে থাকাটাও আরামদায়ক মনে হয়।

এভাবেই কর্মজীবনের ক্লান্তির মাঝে কিছু মানুষ, কিছু মুহূর্ত জীবনের সৌন্দর্য হয়ে ওঠে। তারা আমাদের শেখায় কাজ শুধু কাজ নয়, মাঝে মাঝে জীবনের গভীরতাও। তারা আমাদের মনে করিয়ে দেয় সফলতা কেবল অ্যাপ্রিসিয়েশন, প্রমোশন বা প্রজেক্ট শেষ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং যাদের সঙ্গে এই পথ পেরোনো যায় সেটাই জীবনের আসল প্রাপ্তি। আমার মনে হয়, এমন কিছু মানুষ জীবনে থাকা মানেই একধরনের আশীর্বাদ, যেখানে মনের ভাব নির্দ্বিধায় প্রকাশ করা যায়। আর এমন কিছু সম্পর্ক, যা প্রতিদিনকার রুটিনের ভেতরেও এক টুকরো শান্তি এনে দেয় সেগুলোই সত্যিকারের সম্বল।

জীবনটা অনেকটা একটা ট্রেন যাত্রার মতো স্টেশন বদলায়, গন্তব্য বদলায়, দায়িত্ব আর সময়ের রেলগাড়ি ছুটে চলে সামনের দিকে। কিন্তু কিছু সহযাত্রী থাকে, যাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া প্রতিটি মুহূর্ত একেকটা গল্প হয়ে যায়। এই গল্প গুলোতেই লুকিয়ে থাকে জীবনের আসল সৌন্দর্য। তাদের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি হাসি, প্রতিটি নিরবতা, প্রতিটি একান্ত আলোচনার মধ্যেই যেন জীবনের ছন্দ লুকিয়ে থাকে। তাদের সাথে কাটানো সময় আমাদের শেখায় কাজ শুধু বেঁচে থাকার উপায় নয়, বরং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে বাঁচার সত্যিকারের মানে।

এই মানুষগুলো, এই সম্পর্কগুলো, আর এই মুহূর্তগুলো একসময় হয়তো চোখের আড়ালে চলে যাবে, কিন্তু মনের গহীনে থেকে যাবে সবসময়। সময় বদলাবে, স্থান বদলাবে, জীবনের গল্প অন্যদিকে এগোবে তবুও কিছু অনুভব থেকে যাবে একেবারে নিঃশব্দে, নরম বাতাসের মতো, বৃষ্টির প্রতি ফোঁটার মতো। ঠিক সেভাবেই থেকে যায় অদৃশ্য, অথচ গভীর। এমন কিছু সম্পর্ক থাকে, যেগুলো কখনোই হারায় না, তারা থেকে যায় হৃদয়ের পাতায়, নিঃশব্দ ভালোবাসায়, জীবনের প্রতিটি শূন্যতায় নিঃশব্দে আলো হয়ে..।

অনেক দিন যাবৎ-ই লিখা হয় না, হয় না বললে ভুল হবে, লিখতে পারি না। কেন লিখতে পারি না সেই ব্যাখ্যায় যদি যাই তাহলে প্রথমেই আসবে লিখতে ইচ্ছা করে না। কিছু লিখার জন্য মনের যে ইচ্ছা, আশা, আগ্রহ দরকার হয় সেটা আস্তে আস্তে মরে যাচ্ছে। মাথাটা অন্য কোন কিছুতে খুব বেশি Occupied হয়ে আছে। 

একটা সময় ছিল মাসে ৩-৪ টা ব্লগ লিখা হয়ে যেতো, এখন মনেই পরে না লাস্ট কবে ব্লগ লিখেছিলাম। চাইলেও মনে করতে পারি না। হঠাৎ কেন এমন হল তার ব্যাখ্যা খুঁজতে গিয়ে লক্ষ্য করলাম লেখালেখিটা আসলে মনের একটা ভাললাগার জায়গা থেকে আসে। এই লেখার আগ্রহটা নির্ভর করে আশেপাশের পরিস্থিতি, মনের অবস্থা, মানসিক ভাবে কতোটা শান্তিতে থাকা হয় তার উপর। একটু খেয়াল করে দেখলাম লাস্ট কয়েক বছর যাবৎ আমি মানসিক ভাবে এতো বেশি Occupied হয়ে আছি যে, Job, Corporate life balancing, Family issues এসব ছাড়া আর কিছুই তেমন ভেবে লক্ষ্য করা যায় না। 

জীবনটা বড়ই ধীরগতি আর যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে। কোন ব্যস্ততাই আমাকে স্পর্শ করে না, মাঝে মাঝে মনে হয় এতো বেশি ব্যস্ত থাকি যে ব্যস্ততাও আমাকে দেখে অন্য কিছুতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কোন কিছুতেই কোন আকর্ষণ বোধ করি না। কেমন জানি উদাস উদাস মনে হয় সব সময়। হয়তোবা এটা উদাসীন হওয়ার ই সময় । জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে এতগুলো অধ্যায় দেখে এখন অনেকটাই আশাহত। আমি আমার আমিকে হারিয়ে ফেলেছি অনেক আগেই। এখন শুধুই খোঁজার চেষ্টা করছি নিজেকে সেই আমার আমিকে।

আমি এক স্বপ্নকথক, চলেছি অজানার উদ্দেশ্যে। আমার কিছুই বলার নেই। তারপরেও, অনেক কিছুই বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু বলার সাহস পাই না। অসীম শূন্যতার মাঝে সামনের দিকে চলা একাকী এক নাবিক। আমার আমি'কে নিয়ে সামনে চলা, এক নিরন্তরের পথে! হাজারো মানুষের ভিড়ে একজন মানুষ, এখনো জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পাইনি। বেঁচে আছি, বেঁচে থাকতে হয় বলে। আমি স্বপ্নের ফেরিওয়ালা স্বপ্ন খূঁজে ফিরি। স্বপ্নেই খুঁজে বেড়াতাম নিজেকে। ঘুমহীন চোখে স্মৃতির রাজ্যে নিরন্তর অনেক ঘুরে বেড়িয়েছি । কখনো কখনো খুঁজে পেয়েও আবার হারিয়ে ফেলেছি। গন্তব্যহীন পথে উদ্ভ্রান্ত পথিকের মতই আপাতত ঘুরপাক খাচ্ছি।

এক সময় নিজেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতাম। স্বপ্ন দেখতে দেখতে স্বপ্নের মাঝে গা ভাসিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখলাম আমি মিথ্যে স্বপ্নের পাহাড়ে দাঁড়িয়ে আছি, সপ্ন আর বাস্তব এক না। জীবনের এই মুহূর্তে এসে হিসেব করে দেখলাম, পাওয়ার চেয়ে না পাওয়াই বেশি। আশারা তাচ্ছিল্যভরে তাকিয়ে থাকে, আর নিরাশাও মুখ ফিরিয়ে নেয় চরম নির্মমতায়। আশা পূরণের আনন্দে আপ্লুত হয়ে উচ্ছ্বসিত কথোপকথনকে আজ আমার বাতুলতা মনে হয়। মনে হয় আশা শুধুই বৃথা। সব মিলিয়ে জীবন যেন দিন দিন মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। চারিদিকে ধূলো বালি, তপ্ত,উত্তপ্ত, তৃষার্ত। এই আমি খুঁজে বেড়াই সামান্য মেঘ, সামান্য বৃষ্টি।খুঁজতে খুঁজতে আমি হতাশ,  ক্লান্ত।

জীবনটা মনে হয় এরকম-ই...
যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই, যাহা পাই তাহা চাই না...॥


মাঝে মাঝে আমরা অন্যকে ভালোবাসতে গিয়ে নিজেকেই ভালোবাসতে ভুলে যাই। মানুষটাকে উজার করে ভালোবাসা দিতে গিয়ে নিজের বলতে আর কিছু থাকে না। ভালোবাসার মানুষের কাছে আমরা নিজেদের তুচ্ছ করে ফেলি। মনে হয়, আর কিভাবে ভালোবাসলে সে আমাকে ছেড়ে যাবে না, সে শুধু আমাকেই ভালোবাসবে। নিজেকে তুচ্ছ করতে করতে নিজের সবটুকু মানুষটার কাছে বিলিয়ে দেই, নিজের বলতে তখন অবশিষ্ট কিছুই থাকেনা। নিজের প্রতি ভালোবাসা তো দূরের কথা, তার কাছে আত্মসম্মান বোধটুকুও আর থাকেনা। এই অবস্থায় মানুষটা যখন ছেড়ে চলে যায়, তখন কারো সাধ্য থাকেনা নিজেকে নিয়ে উঠে দাঁড়ানোর।

বলছি না, ভালোবাসতে কৃপণতা করতে। এটুকু বলছি, কাউকে ভালোবাসতে হলে, কাউকে সম্মান দিতে হলে, নিজেকে আগে ভালোবাসো। নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে কাজ করো। যখন নিজেকে সম্মান দিতে জানবে না, নিজেকে ভালোবাসতে ভুলে যাবে তখন অন্য আরেকজনের কাছ থেকে ভালোবাসা,সম্মান কিভাবে আশা করবে। যে তোমাকে সন্মান দিতে জানে না, সে আর যাই হোক তোমাকে সে ভালোবাসে না। তার সাথে তুমি কখনোই ভালো থাকবে না, নিজের সবটা উজার করে দিলেও না। 

নিজেকে সময় দেওয়া প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। নারী বা পুরুষ যেই হোক না কেন, নিজের যত্নটা নিজেকেই বুঝতে হবে। কারণ, জীবনের অনেকটা সময় থাকে শুধু নিজের জন্যই বাঁচতে হয়। নিজেকে নিয়ে মাঝে মাঝে একটু বসতে হয়, নিজেকে নিজে প্রশ্ন করতে হয়; আমি কি ঠিক আছি ? যা করছি ঠিক করছি তো ? উত্তরটা সহজে মিলে, কাজটাও সহজ হয়। জীবন তো একটাই, একান্ত আমার নিজের, এখানে হাজার মানুষের মতামত, ভালোলাগা-মন্দলাগার থেকেও বেশি প্রয়োজনীয় আমার নিজের ভালোলাগা-মন্দলাগা। কারণ, দিন শেষে তোমার মনের খোঁজটা তোমাকেই নিতে হবে। চোখের পানি গুলো তোমার গাল বেয়েই ঝড়বে। 

সোডিয়াম বাতি আর ভালোবাসার মায়ায় জড়িয়ে আবার কবে মধ্যরাতে গল্প করতে করতে হারিয়ে যাওয়া হবে তা আমরা কেউই জানিনা। হঠাৎ করে একদিন "নেই" হয়ে গেলাম... কী হবে তখন ? পৃথিবী এলোমেলো হয়ে যাবে, আকাশ ভেঙে পড়বে, সবাই খুব কাঁদবে, প্রিয় মানুষটি তোমার ভাবনায় পাগলের মত হয়ে যাবে, আজীবন আপনার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে জীবন কাটিয়ে দেবে? সত্যি কথা হচ্ছে, কিছুই হবে না! কিচ্ছু না। পৃথিবী যেমন ছিল, সেভাবেই চলবে। কেবল তোমার জীবন বাদে বাকি সকলের জীবনই সামনে দৌড়াবে। যাদের সাথে বাস করতে পরিবার, বন্ধু, প্রিয়জন- কয়েকটা দিন তাঁদের খারাপ লাগবে খুব। কিছুদিন হায়-আফসোস হবে, সামাজিক ব্যাপার গুলি ঘটবে..।
তারপর---

এসব আয়োজনের মাঝে কোন এক ফাঁকে টুক করে তুমি স্মৃতি হয়ে যাবে, দেয়ালে ঝোলানো ছবি হয়ে যাবে। সবাই ভুলে যেতে শুরু করবে, তুমি হয়ে যাবে অতীত। প্রিয়জনেরা কেউ ভাগ্যের পরিহাস হিসাবে মেনে নেবে, কেউ কেউ আরও কিছুদিন মনে মনে অপেক্ষা করবে তোমার ফিরে আসার। তারপর একটা সময় এমন আসবে- যখন কেউ আর অপেক্ষাও করবে না ! বিলিভ মি, এটাই হবে...। 

কিছুদিন বাদে সবচাইতে প্রিয় মানুষটিও শোক ভুলে কিছু একটা নিয়ে খুব হাসবে, তোমার প্রিয় খাবারটি পেট পুরে খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলবে। তাঁর মনেও পড়বে না যে তুমি নেই, তুমি হারিয়ে গেছো, না জানি কোথায় কেমন আছো ! আরো কিছুদিন বাদে তোমার প্রিয় মানুষটিরো আরেকজন প্রিয় মানুষ হবে, তুমি হয়ে যাবে প্রাক্তন, কিংবা প্রাক্তনের স্মৃতি ! লিখে রাখো- জীবনে কোন কিছুই চিরস্থায়ী না। আর প্রিয়জন...!!? প্রিয় থেকে অপ্রিয় হতে সময়ের ব্যবধানে সর্বোচ্চ কয়েকটা সেকেন্ড। 

পৃথিবীতে কেবল একটা জিনিসই সত্য... মৃত্যু। কিংবা ফুরিয়ে যাওয়া, নেই হয়ে যাওয়া...


যখন আপনি কারো সাথে সম্পর্কে জড়াবেন তখন খুব ভালোভাবে ভেবে নিবেন যে মানুষটাকে আজ আপনার জীবনের সাথে জড়াচ্ছেন তাকে কতোটা নিজের করতে পারবেন। বিশেষ করে সমবয়সের করো সাথে জড়ালে। 

বিয়ের সময় যদি আপনার মনে হয় আপনার পরিবার না চাইলে সেই মানুষটার সাথে সারাটা জীবন থাকা সম্ভব না তবে আপনার জন্য সম্পর্কে না জড়ানোই শ্রেয়। আপনি তাকে ভালোবাসেন সব জেনে বুঝেই, বিয়ের সময় যদি প্রশ্ন আসে আপনার বিয়ের কাবিন এতো টাকা হতে হবে, নাহলে লোক কি বলবে, পরিবার মানবে না কাবিন কম হলে, এই টাকায় সংসার চলবে না, সে কি আপনার খরচ বহন করতে পারবে কিনা..এরকম আরো অনেক প্রশ্ন...

যে ছেলে আপনার সমবয়সি তার পক্ষে নিজে ইনকাম করে ২০ লাখ টাকা কাবিনের টাকা পরিশোধ করে বিয়ে করা সম্ভব না, যে আপনার সমবয়সী তার পক্ষে বিয়ের শুরু তেই আপনাকে বিলাসিতায় রাখা হয়ত সম্ভব না, তার কাছে এটা এক্সপেক্ট করাটা ঠিক হবে না সে মাসে লাখ টাকা ইনকাম করবে আর আপনাকে রানীর মত রাখবে, সে অবশ্যই আপনাকে রানীর মতই রাখবে কিন্তু সেটা সে যে টাকা ইনকাম করে সেই টাকার মধ্যে। 

তার প্রতি আপনার ভালোবাসা, তাকে আপনি কতোটা বুঝেন, তার বর্তমান পরিস্থিতি কতোটা বুঝেন সেটার উপর নির্ভর করবে এই প্রশ্ন গুলো আপনার মাঝে আসবে কিনা...আপনি বলতেই পারেন জীবনের নিশ্চয়তা ভাবা কি অন্যায়...? অবশ্যই না, তবে ভালোবাসার মানুষের ক্ষেত্রে সেটা ভাবা টা যুক্তি সঙ্গত কিনা সেটা একটু ভেবে দেখা জরুরী। ভালোবাসার মানুষকে জীবন সঙ্গী করে পাচ্ছেন এটার চেয়ে যদি অন্য কিছুতে অনিশ্চয়তায় আপনার মনে চলে আসে তাহলে ভালোবাসাটা প্রশ্নবিদ্ধ। তাহলে আপনার এমন কাউকে ভালোবাসা উচিত ছিল যে সব দিক থেকেই আপনার যোগ্য, আপনার জন্য পারফেক্ত। ভেবে দেখুন তো যে মানুষটাকে আজ আপনি এরকম কথা হাসির ছলে বললেন সে হয়তো আপনার জন্য ব্যাটার কিছু করতে বাকি সব কিছু দূরে ছুড়ে ফেলেছে। সে হয়তো এমন কিছুর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যা আপনার অজানা। আপনার এই হাসির ছলে, মজা করে বলা কথাটি শুনার পর তার দীর্ঘশ্বাস, তার অসহায়ত্ব হয়তো কখনো আপনার চোখে পড়বে না। একটা ছেলেই শুধু জানে এই কথা গুলো কতোটা ব্যথিত করে তাকে, কতোটা অসহায় বোধ হয় তার মাঝে। এমন অনেক কিছু হয়তো আছে যা আপনাকে সে বলেই না আপনি তাকে অযোগ্য ভাববেন এই ভেবে। জীবনের কেউই পেরফেক্ত না, কিন্তু যে যাকে চায় তাকে সে নিজের মতো পেরফেক্ত করে নেন। আর কেউ হাত ছেড়ে অন্য কারো হাত ধরেন। আজকে যাকে অযোগ্য, পারফেক্ত না বলছেন কালই হয়তো সে পারফেক্ত, যোগ্য একজন মানুষ হয়ে যাবেন। শুধু সময়ের পার্থক্য...কিন্তু আপনার কাছ থেকে তার খারাপ সময়ের এই কথা গুলো তার মনে ঠিকই গেঁথে থাকবে। 

আপনাকে নিয়ে কয়েকশো বছরের অগ্রিম দেখা স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রনা সহজে মেনে নিতে পারে না সে,  কখনোই না, কেউ-ই মেনে নিতে পারে না। কাউকে ভালোবাসার আগে অন্তত একবার হলেও ভাবুন এই মানুষটি কেই নিজের ভাবতে পারবেন কিনা, তার সবকিছুকে মেনে নিতে পারবেন কিনা...।







ছোটবেলায় অনেক কিছু করতে চাইতাম, পারলে সব করতে চাইতাম। কেবল স্কুলের কোন বিষয়ে কিছু লিখতে বললেই দুনিয়া উল্টে ফেলতাম। লেখার প্রতি কেমন যেন এক চরম বিতৃষ্ণা ছিল সেসময়। কেন এরকম ছিল সেটা সত্যিই আমার জানা নেই। পেনসিল দিলে কলম দিয়ে লিখতে চাইতাম আর কলম দিলে পেন্সিল দিয়ে। পেন্সিল ধরলেই ইঁদুরের মতো শুরু করতাম কামড়ানো। খাতা ভরে আকাআকি করতাম, তবু লিখব না কিছুতেই।

এখন ভাবলেও হাসি পায়। এখন তো লেখা ছাড়া নিজেকে কল্পনাও করতে পারি না। ডান হাতটা একটু ব্যাথা করলে বা কাটলেও রাগ লাগে যদি ল্যাপটপ এর কীবোর্ড ধরতে না পারি। আমার এই ভার্চুয়াল লিখাবন্ধু আমায় কোনো দিন ধোঁকা দেয় না যে...! যেকোনো হাসি–কান্না, ভাল-খারাপ লাগার অনুভুতি, জীবনে যা কিছুই ঘটুক, সব কিছুতে এই ভার্চুয়াল কাগজ–কলম আমার সব সময়ের সঙ্গী।

কেন লিখি...!! প্রশ্নটা একটু বেশ কঠিন আমার কাছে। যেমন কেউ যখন  জিজ্ঞেস করলো- কেমন আছেন...? এর উত্তর দায়সারা ভাবে দিলেও সত্যিকার অর্থে কি দিতে পারি...? আসলেই পারা যায় না। প্রতিদিন আমরা এরকম প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছি আর নিজেকে প্রশ্ন করছি। এমন তাগিদ বোধ থেকে বলা খুব মুশকিল কেন লিখি। নিজেকে প্রশ্ন করার মতো বলি- "লিখি নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য, নিজের মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য, জীবনের প্রতিটা ধাপ-সময় কোন এক জায়গায় লিপিবদ্ধ করে রাখার জন্য, জীবনকে কিছুটা বোঝার জন্য, জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি গুলো পাঠককে বিলিয়ে দিয়ে নিজেকে মিলিয়ে নেয়া। লেখাকে আনন্দ-দুঃখ সমান ভাবে উপলব্ধি করি। আমার অনুভূতি প্রকাশ না করতে পারলে কষ্ট পাই, সেই প্রকাশের মাধ্যম টাই এই আবোল-তাবোল, অগোছালো কিছু লেখা-লেখি। খুব প্রিয় মানুষটির সাথেও হয়তো মন নিংড়ানো সব কথা বলা যায় না। কথা বলার সময় নিজের সবটা সঠিক ভাবে প্রকাশ করতে যতোটা না কষ্ট হয় তারচেয়ে বেশি কষ্ট হয় পরবর্তীতে কথা গুলোর ভুল ব্যাখ্যা শুনে। কারো কাছে নিজের খারাপ লাগার সময়টা শেয়ার করে পরবর্তীতে সেই খারাপ সময়ের ভুল ব্যাখ্যার সাথে তীর ছোড়া কথা বেশি কষ্ট দেয়, স্তব্ধ করে দেয়। এটা ভাবতে বাধ্য করে-"নিজের কথা গুলোকে, নিজের মনের ভাবটাকে নিজের মাঝে ধামা চাপা দিলেই হয়তো ভালো হতো।"  অর্জিত অভিজ্ঞতা আর অপারগতা এই লেখার মধ্য দিয়েই প্রকাশ করি।

আগে প্রতিদিনের কোনো একটা সময় বের করে ফেলতাম কাজের ফাঁকে। বর্তমান ব্যস্ততা আমাকে এতটাই আচ্ছন্ন করে রেখেছে যে, চাইলেও মনমতো পর্যাপ্ত সময় নিয়ে পড়তে পারি না, মনের ভাবটা প্রকাশ করতে পারি না। লিখতে পারি না অনেক কিছুই। ব্যক্তিগত লাইব্রেরির দিকে তাকালে শুধু আক্ষেপ হয়, হায়, কত পড়া বাকি এখনও!

‘মানুষের চেয়ে কাগজের, লেখার ধৈর্য বেশি’। এর সঙ্গে নিজের কথা যোগ করে বলি, কাগজ - লেখাকে হয়তো মানুষের চেয়ে বিশ্বাসও করা যায় বেশি।


আচ্ছা একটা মানুষের সবচেয়ে নোংরা অভ্যাস কি..? আমার মতে ইগো, জেদ।কোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইগো ঋণাত্মক প্রভাবক হিসাবে কাজ করে, কখনোই ভালো কিছু নিয়ে আসবে না । যতবেশি ইগো থাকবে ততবেশি সম্পর্ক খারাপ হবে এতা প্রমাণিত।

ধরুন, আপনারা দু'জন দু'জনকে ভালোবাসেন। কিন্তু কোনো কারণে একে অপেরের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন কেউ কাউকে স্যরি বলতে রাজি না।
এখন দু'জনেরই প্রশ্ন হলো:-
আমি কেন আগে কথা বলবো !? আমাকেই কেন প্রতিবার স্যরি বলতে হবে, সম্পর্কটাকে এগিয়ে নিতে হবে...? অর্থাৎ, আপনাদের মাঝে তৃতীয় জন হিসাবে ইগো, জেদ প্রবেশ করলো। সম্পর্কের চেয়ে ইগো অনেক বেসি দামি হয়ে গেলো। আপনি সম্পর্ক টাকে যতোটা না ভালোবাসেন তার চেয়ে বেশি ভালোবাসেন আপনার জেদ আর ইগো কে।

আচ্ছা আসলেই কি ইগো দামি, কতোটা দামি...?
তাহলে আপনার ফেসবুকের সার্চলিষ্টের প্রথমে প্রিয় মানুষটার আইডি কেন...? কেন বার বার চেক করা হয় ঐ আইডিটা...? কেনই বা রাত নামলে আপনাদের আত্মার তীব্র আর্তনাদ শুনা যায়...? কেনই বা বারবার চেক করেন সে কোন পোস্ট করেছে কিনা...? এসকল প্রশ্নের কোনো উত্তর আছে আপনার কাছে...? থাকবে বা কি করে আপনারা তো দুই'জন দুইজনকে সবসময় নিজেকে সুখী ও ব্যস্তময় আছেন দেখানোর নোংরা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, ভালো আছেন এটা দেখাতে ব্যস্ত। দু'জনেই এমন ভাব দেখাচ্ছেন যেন দু'জনেই অনেক ভাল আছেন। আসলে কতোটা ভালো আছেন তা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে চোখ কে জিজ্ঞাস করুন।ইগো দেখিয়ে কথা না বলাটা কোনো স্মার্টনেস না। ইগোপ্রবণ মানুষরা অনেক সময় সেল্প রেসপেক্ট ব্যাপারটিকেও ইগোর সাথে মিলিয়ে ফেলে। 

একটা সম্পর্ক তৈরি করা কিন্তু খুব একটা কঠিন না। কঠিন কিন্তু এতো টাও না যতটা কঠিন ঐ সম্পর্কটাকে অটুট রাখা, টিকিয়ে দুইজন সুখে থাকা। ঝগড়া করে কথা বন্ধ রেখে আসলে কি হয় ! দূরত্ব বেড়ে যায় নিজেদের মাঝে, একটা সময় সেই দূরত্ব পাহাড় সমান হয়ে দু'টি পথ দু'দিকে চলে যায়। টিকিয়ে রাখার যদি ইচ্ছেই থাকে, যদি সত্যি তার জন্য ভালোবাসা থেকেই থাকে ,একজন না একজন ঠিকই দুইদিন পরে গিয়ে সরি বলে। ইগো ভেঙ্গে সরি যেহেতু বলবেনই, তাহলে ২ দিন কথা বন্ধ রাখার কিছু আছে ? ভাবুন তো একবার...

ইগো দেখিয়ে যে মানুষটার সাথে দূরে সরে আছেন সেই মানুষটার ভালো দিক যেমন আপনাকে আনন্দ দিয়েছে, খারাপ দিক আপনাকে কষ্ট দিবে - এটাই স্বাভাবিক। আপনি ভালো দিক, ভালো ব্যবহার মেনে নিবেন কিন্তু খারাপ কিছুই মানতে পারবে না তা তো হয় না। হাতের পাঁচ আঙ্গুল কখনোই সমান হয় না, তেমনি একটা মানুষের বর্তমান পরিস্থিতি, মনের অবস্থা এক হয়না। যে মানুষটার কথায়, ব্যবহারে আপনাকে কাঁদাচ্ছে, যার কথায় আজ চোখে জ্বল চলে আসছে, যার ব্যবহারে তাকে আজ ঘৃণার চোখে দেখছেন ভেবে দেখেন তার জন্য আপনি জীবনের অনেক কঠিন কঠিন সময়ে হেসেছেন, সে আপনাকে হাসিয়েছে, মানসিক ভাবে সাপোর্ট দিয়েছে। ভেবে দেখেন এই মানুষটা আর সেই মানুষটা একই মানুষ কিন্তু আপনি তার বর্তমান অবস্থা, মনের পরিস্থিতি না বুঝে তার থেকে দূরে সয়ে ঠিকি গিয়েছেন, আপনি ইগো টাকেই বড় করে দেখেছেন। কখনো হয়তো এটা বুঝতে চাননি এই মানুষটার হয়তো এখন সময় খারাপ যাচ্ছে, হয়তো সে অনেক বাজে পরিস্থিতিতে আছে। বুঝতে চাননি তার পাশে আপনার এখন থাকাটা বেশি প্রয়োজন, তাকে একটু মানুষিক ভাবে সাপোর্ট দেওয়া আপানার দরকার। এগুলো কিছুই না করে রাগের মাঝে তার কথা গুলো শুনে ঠিকই আপনি তার জীবন থেকে সরে গিয়েছেন। আপনার ভাষ্য মতে এটা কে কি ভালোবাসা বলে...?

আপনাকে বুঝতে হবে, রাগ-ঝগড়া-কথা কাটাকাটি ছাড়া কখনো কোনো সম্পর্ক হয় না। এটা সম্পর্কের একটা অংশ। কিন্তু, আপনি যাকে ভালোবাসেন বা আপনাকে যে ভালোবাসে তার সাথে সামান্য ঝগড়াতেই সম্পর্ক শেষ করে দেওয়ার সিধান্ত নিয়েছেন। তবে এটা ধরে নিন আপনি যাকে ভালোবাসেন তার চেয়ে আপনার ইগো, জেদ, আত্মসম্মান বোধ টাই বড়। সে আপনার জীবনে থাকুক বা না থাকুক তাতে আপনার কিছু আসে যায় না।

সবসময় নিজের দিক ভাবলেও চলে না। অনেক সময় অপর পাশের মানুষটির কথাও ভাবতে হয়। আপনি যে মানুষটার সাথে জড়িয়ে আছেন সে মানুষটার উপর আপনার যেমন অধিকার আছে তার যেকোন বিষয়ে কথা বলার, ঠিক তেমনি আপনার বিষয়েও কথা বলার অধিকার সে রাখে। যদি আপনি ভেবেই থাকেন আপনার সব কিছুর সিধান্ত আপনি একা নিজে আর আপনার বাবা-মা নিবে তাহলে আপনার ভাবা উচিত আপনার সাথে আরেকটা মানুষ জড়িত। তার কথাও আপনাকে ভাবতে হবে, আপনাকে ভাবতে হবে তারও কোন সিন্ধান্ত দেওয়ার থাকতে পারে আপনাকে নিয়ে। সে চাইতেই পারে আপনার সবচেয়ে কাছের মানুষটি যেন সে হয়, আপনার কোন বিপদে সেই যেন সবার আগে উপস্থিত হতে পারে, সে চাইতেই পারে আপনাকে চোখের আড়াল না করতে। আপনি সর্বদাই চাইবেন জিততে, সর্বদাই চাইবেন আপনি সবসময় আপনার সিদ্ধান্তটাই উর্ধ্বে থাকতে। আপনাকে সে কিচ্ছুটি বলতে পারবে না, কিন্তু কেনো..? 

ভালোবাসার সম্পর্ক হোক বা অন্য কিছু ইগোকে কখনোই প্রশয় দিতে নেই। দেখবেন আপনার সাময়িক ইগো, জেদ এর জন্য তার জীবনের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। তখন তার কাছে ফিরে এসেও তাকে আগের মতো হয়তো পাবেন না।

কি হবে প্রিয় মানুষটার কাছে নিজের পার্সোনালিটি লস করলে ?  এর জন্য আপনার আত্মসম্মান কমবে না বরং বাড়বে। আমার তোমাকে ছাড়াও চলবে এই চিন্তা না করে বরং এই চিন্তাকে গলা টিপে হত্যা করে বাক্সবন্ধি করে পানিতে ভাসিয়ে দিন, যদি তার সাথেই থাকতে চান, তাকে মন থেকে আসলেই ভালোবেসে থাকেন। কোনো কিছুকে নেগেটিভভাবে না নিয়ে পজিটিভভাবে নিন। দেখবেন আপনার জীবন শান্তিতে ভরপুর, সাথে আপনার প্রিয় মানুষটিরও।

ডিপ্রেশন নাকি মন খারাপ, এটা আমাদের অনেকের কাছেই একটা বড় ধাঁধা। অনেকসময়ই আমরা বুঝে উঠতে পারিনা আমাদের মনের আসল অসুখটা ঠিক কী? রেজাল্ট খারাপ বা খেলতে গিয়ে ম্যাচ হেরে যাওয়ার দুঃখ কিন্তু ডিপ্রেশন নয়। বহুদিন ধরে পারিপার্শিক অনেক কঠিন অবস্থার সঙ্গে ঝুলতে ঝুলতে, নিজেকে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি আমরা অনেকেই। আর এখান থেকেই শুরু হয় যাবতীয় সমস্যা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অতীতের অনেক না পাওয়া বা হেরে যাওয়া বা আশানুরূপ ভবিষ্যৎ সামনে ধরা দিবে কিনা এই চিন্তা গুলোই আমাদের ডিপ্রেশনের জন্য অনেকাংশে দায়ী। আর এই দৈনন্দিন সমস্যা গুলি আমাদের মাঝে একটু একটু করে জমতে থাকে, জমতে জমতে একটা সময় ঘোরের মধ্যে চলে যাই; যেখান থেকে আর কাটিয়ে উঠতে পারি না।

ডিপ্রেশন নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রতিটা মানুষ কোন না কোন এক জায়গায় অসম্পূর্ণ, যেখান থেকেই ডিপ্রেশন এর জন্ম।যার হয়তো টাকা নেই তার টাকার জন্য, যার টাকা আছে কিন্তু মনের সুখ নেই, তার মনের সুখের জন্য। যার বাবা - মা নেই তার বাবা মায়ের জন্য, আবার যার বিয়ের ১৫/২০ বছরেও সন্তান হয়নি তার সন্তানের জন্য। বেকার ছেলেটির চাকরির জন্য, কখনো বা নিজের প্রিয়তমার বিয়ে হয়ে যাবে নিজের যোগ্যতার কমতির জন্য। বিয়ে উপযুক্ত মেয়েটির ভালো একটা চাকরী কিংবা ভালো একজন স্বামীর জন্য। আবার একই ছাদের নিচে বছরের পর বছর বাস করে কেউ কাউকে না বোঝার জন্য, কখনো বা পরিবারের কাছে থেকেও মনে হওয়া হাজার মাইল দূরে।

ডিপ্রেশন কখনো এক প্রকারের হয় না, যার যেটা নেই তার সেটার জন্যই ডিপ্রেশন! প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড়ের তাল মেলাতে গিয়ে আমরা প্রত্যেকেই হাঁফিয়ে উঠি একটা সময়ের পর। আমাদের পারিপার্শিক সমাজ যত আধুনিক হচ্ছে, প্রতিযোগিতাও ততই বাড়চ্ছে এবং পাল্লা দিয়ে বাড়চ্ছে আমাদের মানসিক সমস্যা গুলিও, এবং বেড়েও যাচ্ছে। 

শুধুমাত্র ভালোবেসে হারিয়ে ফেললেই ডিপ্রেশন হয়না। কোন একটা ছেলে বা মেয়ে মানসিক যন্ত্রণার মাঝ দিয়ে যাচ্ছে, স্বাভাবিক ভাবেই আমরা ধরে নেই, ছেলেটি কিংবা মেয়েটি প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ডিপ্রেশনে আছে। এটা ঠিক প্রকারভেদে হয়তো এইটা বেশি হয়ে থাকে তার মানে এই নয় সবাইকে একই পাল্লায় মাপতে হবে! শুধুমাত্র প্রেমের জন্য নয় অনেক কারণেই মানুষ ডিপ্রেশনে ভুগে।

আমি নিজের কথা বলতে পারি,ব্যক্তি জীবনে আল্লাহ্‌ আমাকে সব দিয়েছেন, কোনকিছুর অভাব রাখেন নাই। ভালো জীবন বলতে যা যা কিছু লাগে সবকিছুই আমি পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আমার কোন কিছুর অভাব না থাকাটাও হয়তো একটা অসম্পূর্ণতা। শুনতে হাস্যকর মনে হলেও এটাই সত্যি। তবে কিছু একটার অভাব যে রয়েছে সেটা খুব করেই অনুভব করি, যে অভাবটা অপূরণীয়। অভাবটা ভালোবাসার নয়তো...!? হতে পারে...

আমার মাঝে অকারণ মন খারাপের অভ্যাস আছে।আমি মাঝে মাঝে অকারণেই একা হয়ে যাই! সবকিছু থেকে তখন একা আড়ালে থাকতে ভালো লাগে।যেকোন আয়োজন, হৈচৈ, বেশি মানুষের আনাগোনা বিরক্ত লাগে। কারণ, এই সময় টা আমি নিজের মত করেই কাটাতে ভালোবাসি, তার জন্য একা থাকাটা তখন জরুরী হয়ে পড়ে।খুব যারা আপন, যাদের ছাড়া আমার চলেই না শুধু তাদের সাথেই কথা বলি, তবুও খুব কম। আমি জানি আমাকে যারা ভালোবাসে, তারা জানে আমি কেমন। তারা কখনো প্রশ্ন তুলেনা আমি কেন এমন হয়ে যাই। কারণ, তারা জানে আমি সময়টাকে নিজেই রিকোভার করতে পারবো। আর আবার আগের মতই হয়ে যাবো।তারজন্য আমার একটু সময়ের প্রয়োজন। যাই বলি না কেন,  সত্যিকারের  হাবুডুবু  খাচ্ছি প্রতিমুহূর্তের আশঙ্কায়। নিজেকে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা আমাকে দিনে দিনে  আরো বেশি গ্রাস করে নিচ্ছে। ছোট্ট  ছোট্ট  তথ্য  অথবা প্রয়োজনীয়  কাজের  কথা ভুলে যাচ্ছি। আমি প্রয়োজনীয় কথা  বলা ও ভুলে যাচ্ছি। এটা কি ডিপ্রেশন ...!!! খুব কাছের মানুষ আমাকে দেখে ভাবে আমাকে কি যেন পাথর থেকে আরো পাথর  এর মতো নির্লিপ্ত করে তুলছে।  নিজেকে  অসুস্থ  মনে  হয়, কিন্তু ডাক্তার  পর্যন্ত দৌড়ানোর  আগ্রহ নেই।

শুধু একটাই ব্যাপার, এই সময়টা একজন প্রিয় মানুষের উপস্থিতি লাগে, যে সময়ে অসময়ে পাশে থাকবে। মানসিক সাপোর্ট দিবে, পরিস্থিতি বুঝতে চেষ্টা করবে।প্রতিটা মিনিট, ঘন্টা আমার কেয়ার নিতে ব্যস্ত থাকবে। সে কখনো আমায় ভুল বোঝবে না অহেতুক এই হঠাৎ মন খারাপের জন্য প্রশ্ন তুলবে না। মন খারাপের সময় বারবার মন খারাপের কারন জানতে চেয়ে আরও মন ভারী করে দিবে না। বরং আমার সময়টাকে রিকোভার করতে আপ্রাণ চেষ্টা করবে। বাস্তবতা ভিন্ন, বাস্তবতা কল্পনার মতো নয়। বাস্তবতা কঠিন, আমি কঠিনেরে ভালোবাসিলাম... 


বেঁচে থাকা আর বাঁচিয়ে রাখা দুটোর মধ্যে পার্থক্য বোঝ ? দু'টো কথা এক মনে হলেও একটু গভীর ভাবে ভাবলে এক নয়- একটা হল জীবন উপভোগ করা আর একটা হল জীবন উপভোগ করার আশায় বেঁচে থাকা। ওকে একটু বুঝিয়ে বলছি,
ধরো তোমার খুব ইচ্ছা কেউ তোমাকে তোমার মত ভালোবাসবে, তোমার মনের মতো কেউ আসবে জীবনে এবং সেই ইচ্ছায় বেঁচে আছো। এর মানে হলো আসলে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখছো।
আর ধরো, নিজেকে ভালোবেসে চমৎকার সময় কাটাচ্ছো, এর মানে হলো জীবন উপভোগ করছো। মানে বেঁচে আছো।
যারা নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে তাদের জীবন কাটে আসলে একদিন বাঁচবো সেই আশায়। এক সময় বার্দ্ধক্য গ্রাস করে, তখন আক্ষেপ লুকিয়ে ভাগ্য কে দোষারোপ করে স্বস্তি নেবার চেষ্টা করে কিন্তু জীবন আসলে এমন না। বাঁচিয়ে রাখাটা জীবন না। ওটা জীবনের ঘানি টানা মাত্র।

জীবন হল একটা ম্যাজিক। এর থেকে অসাধারণ ম্যাজিক আর কিছুই নেই। অর্ধেক গ্লাসটা ভরা কিংবা খালি দেখাটাই হল ম্যাজিক। যদি মনে হয় গ্লাসের অর্ধেকটা তো ভরা ওতেই আমার পিপাসা মিটবে তবে জীবন সুন্দর আর যদি মনে হয় বাকিটা কেন ভরা না একদিন হয়তো ভরবে তবে যে অর্ধেক ভরা তার তৃপ্তিও মিলবে না। কতো অল্পতে তুমি সন্তুষ্ট সেটা নিজেকে বুঝাতে পারাটাই ভালো থাকা।

মাঝে মাঝেই অনেক ঘটনা আমাদের চমকে দেয়, এই যেমন পা হারিয়েও পর্বত জয়ী কোন মানুষ কিংবা ধর্ষণের স্বীকার হয়েও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প অথবা সম্পূর্ণ শরীর অকেজ হয়েও মেধায় উত্তীর্ণ হওয়া কোন মানুষের গল্পগুলো দেখে মনে হয় আহা কি অসাধারণ এরা। কিন্তু সত্যিটা হল, এরা নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি, এরা বেঁচে থাকাটা বেঁছে নিয়েছে । বেঁচে থাকতে হবে এটাকেই বড় করে দেখেছে। 

তোমাকে কেন ভালোবাসে না এই প্রশ্ন নিজেকে করার আগে ভাবো তো তুমি নিজেকে ভালোবাসো ? পৃথিবীর সব চেয়ে সুন্দরী মেয়েটার হৃদয় বহুবার ভেঙেছে। আবার পৃথিবীর সব চেয়ে সুদর্শন ছেলেটা এখনো হৃদয় মিলিয়ে কাউকে পায়নি। তার হৃদয়ও অক্ষত নেই।কিন্তু তারা তো বেঁচে আছে । জীবন উপভোগ করছে, জীবনকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
তারা ভালোবাসলে বলে দেয় , জানে হৃদয় ভাঙতেই পারে কিন্তু পাবার চান্স নেয় আর মেনেও নেয় যে হৃদয় হয়তো ভাঙবে। কিন্তু ভালোবাসাটা ভালোবাসা দিয়েই বেঁধে রাখে বেঁচে থাকতে চায়। হয়তো অনেক সময় পারে, অনেক সময় পারে না। তবু সময়ের প্রয়োজনে নিজের জীবনকে উপভোগ করা, বেঁচে থাকে, বাঁচিয়ে রাখে ।

শুধু ভালোবাসার ক্ষেত্রে নয়, খুব অল্প সময়ের জীবনে ইচ্ছা গুলো নিজের পূরণ করতে হয়, রিক্স নিতেই হয়, আর ব্যর্থতাও যে স্বাভাবিক, এটা মানতেও হয়। মেনে নেওয়াটা সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট।

ছোট্ট একটা জীবন, গত কালকেই তো স্কুলে গিয়েছিলে ব্যাগ নিয়ে, আজকে বয়স কত বেড়েছে , হঠাৎ একদিন দেখবে চুল সব সাদা হয়ে গিয়েছে। যাকে নিয়ে বেঁচে থাকতে চাইতে বা যার জন্য নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে চাইতে ঐ মানুষটি হয়তো তোমার আগেই ওপারে চলে গিয়েছে। তবু কিন্তু তুমি নিজে বেঁচে আছো, নিজেকে মানিয়ে নিয়ে দিন আগাচ্ছো।
আমরা কেউ থাকবো না পৃথিবীতে, অথচ রোজ বেঁচে না থেকে বাঁচিয়ে রাখছো , কি অপচয় এই জীবনের।
আক্ষেপ করার চেয়ে রিক্স নিয়েই বাঁচো , আর বেঁচে থাকাটা শিখে ফেল ।

শুধুমাত্র ঝগড়া, কথা কাটাকাটির সূত্র ধরে আমি বেশকিছু সম্পর্ক ভাঙতে দেখেছি। আমাদের সমস্যাটা হলো, আমরা যখন কারো সাথে নিজেকে জড়াই, তখন শুধু তার ভালো দিকটা ভেবেই জড়াই, কিন্তু তিতা সত্যি হল- সম্পর্কে জড়াতে হলে আমাদেরকে মানুষটার খারাপ দিকটার সাথেও জড়াতে হবে। কেননা, পৃথিবীতে কেউ শতভাগ পারফেক্ট হতে পারে না, আমরা কেউ এখানে পারফেক্ট না। আমি না, তুমি না, সে ও না..।। 

একজন মানুষ তোমাকে প্রতিনিয়ত সুখে রাখতে পারবেনা। কেননা, আমাদের জীবনটা কোনো সরল রেখায় চলেনা, এমনকি সরল রেখাও সরল না। এখানে নানাবিধ জটিলতা আছে। ইচ্ছাকে অনিচ্ছায় রূপ দেওয়া, অনিচ্ছাকে ইচ্ছায় রূপ দেওয়ার মত কঠিন কাজ এখানে খুব যত্ন সহকারে করতে হয়। সবসময় মন মেজাজ নিয়ন্ত্রণে থাকেনা। আমার থাকেনা, তোমার থাকেনা, তার ও থাকেনা। ব্যাপারটা তোমাকে বুঝতে হবে। একজন মানুষ কোন পরিস্থিতিতে আছে, সে কোন পরিস্থিতিতে কি আচরণ করছে সেটা বুঝতে হবে। বুঝতে না পারলে চুপ থাকতে হবে, মানুষটাকে বোঝানোর জন্য সময় দিতে হবে, মানুষটাকে বুঝতেও সময় দিতে হবে। তবে বুঝা অবুঝের মতো আচরণ করলে চলবে না।

মানুষটার ভালো দিক যেমন তোমাকে আনন্দ দেয়, খারাপ দিক তোমাকে কষ্ট দিবে - এটাই স্বাভাবিক। তুমি ভালো দিক, ভালো ব্যবহার মেনে নিবে কিন্তু খারাপ কিছুই মানতে পারবে না তা তো হয় না। যে মানুষটা তোমাকে আজ কাঁদাচ্ছে, যার কথায় আজ চোখে জ্বল চলে আসছে তার জন্য তুমি জীবনে কঠিন কঠিন সময়ে হেসেছো, তার হাসি মুখের দিখে তাকিয়ে নিজেকে সব চেয়ে সুখি একজন মানুষ ভেবেছো- এটা ভুললে চলবে না। তোমাকে বুঝতে হবে, রাগ-ঝগড়া-কথা কাটাকাটি ছাড়া কখনো কোনো সম্পর্ক হয় না। এটা সম্পর্কের একটা অংশ। যেই মা-বাবার সাথে আমাদের সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্ক, তাদের সাথেও সেই ছোটবেলা থেকে অনেকবার অনেক রাগারাগি, কথা কাটাকাটি হয়ে গেছে।জীবনে বহুবার চিন্তা করা হয়েছে, বাসা থেকে চলে যাই, বাবা-মার সাথে আর কথা বলবে না... পেরেছো কি..? কিন্তু, তুমি যাকে ভালোবাসো বা তোমাকে যে ভালোবাসে তার সাথে সামান্য ঝগড়াতেই সম্পর্ক শেষ করে দেওয়ার সিধান্ত নিয়েছো। তবে কি শুধু রক্তের সম্পর্ক-ই টিকে থাকে বাকি সব সম্পর্ক মিথ্যে...? 

বিশ্বাস করো, এই পৃথিবীতে যাকেই তুমি ভালোবাসবে, সে-ই তোমার সাথে ভুল আচরণ করবে। যার সাথে সম্পর্কে জড়াবে, সে-ই তোমাকে কোনো না কোনোভাবে কষ্ট দিবে। তুমি পৃথিবীর কোথাও, কারও কাছে নিরবচ্ছিন্ন সুখ পাবেনা।নিরবচ্ছিন্ন সুখও কিন্তু তোমাকে পূর্ণতা দিবে না। তোমাকে মানতে হবে, "ভুল ছাড়া মানুষ হয় না, কষ্ট ছাড়া ভালোবাসা হয় না"।

আর হ্যাঁ সবসময় নিজের দিক ভাবলেও চলে না। অনেক সময় অন্যদের কথা ভাবতে হয়।তুমি যে মানুষটার সাথে জড়িয়ে আছো সে মানুষটার উপর তোমার যেমন অধিকার আছে তার যেকোন বিষয়ে কথা বলার, ঠিক তেমনি তোমার বিষয়েও কথা বলার অধিকার সে রাখে। যদি তুমি ভেবেই থাকো তোমার সব কিছুর সিধান্ত তুমি একা নিজে আর তোমার বাবা-মা নিবে তাহলে তোমার ভাবা উচিত তোমর সাথে আরেকটা মানুষ জড়িত। তার কথাও তোমাকে ভাবতে হবে, তোমাকে ভাবতে হবে তারও কোন সিন্ধান্ত দেওয়ার থাকতে পারে তোমাকে নিয়ে। তুমি সর্বদাই চাইবে জিততে, সর্বদাই চাইবে তুমি সবার উর্ধ্বে থাকতে। তোমাকে কেউ কিচ্ছুটি বলতে পারবে না, কিন্তু কেনো..? ভেবে দেখো তো তুমি নিজে ১০০% ঠিক..? তুমি কি বাচ্চা..?  আর সর্বদা জিতবে জীবনের এমন এক সময়ে হারবে তখন আর কোনো পথ খোলা পাবে না..।

মানুষটাকে ভালোবাসার আগে ভেবে নেওয়া উচিত এই মানুষটির জন্য তুমি অপেক্ষা করতে পারবে কিনা। ভালোবাসার চেয়ে অপেক্ষা করা অনেক বেশি কঠিন। আমি বলবো ভালো কম বাসো তাতে ক্ষতি নেই, কিন্তু তাকে পাওয়ার জন্য যে অপেক্ষা করা দরকার সেই সাহস, শক্তি, ইচ্ছা, মনের জোড় যেন মনে থাকে সবসময়। তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন তার প্রতি তোমার সন্মান বোধ কতোটা, তার ভালো থাকা, তার গুরুত্ব তোমার জীবনে কতোটা। তাকে ভালো থাকতে দেখতে চাওয়া আর তাকে ভালো রাখা এক জিনিস নয়। তুমি হয়তো চাও সে ভালো থাকুক কিন্তু ভালো থাকার জন্য যা করা দরকার তুমি ঠিক বিপরীতটাই করো। তাহলে এই চাওয়ার কোন বাস্তবিক অর্থ নেই। 

নিজের জেদ, ভালোবাসা, তার প্রতি গুরুত্বহীন কখনই এক সাথে চলতে পারে না। কারোর সাথে রিলেশনে জড়ানোর আগে একবারের জন্য হলেও ভাবা উচিৎ। তার সম্পর্কে জানা উচিত, তার পছন্দ - অপছন্দ সম্পর্কে জানা উচিত। তার মনের সাথে নিজের মন মিলিয়ে নিতে পাড়বে কিনা, তার ইচ্ছা কাছে নিজের ইচ্ছার ত্যাগ স্বীকার করতে পাড়বে কিনা তা খুব ভালো করে মিলিয়ে নেওয়া উচিত। তাকে পাওয়ার জন্য কতোটা কষ্ট, কতোটা ত্যাগ স্বীকার করতে পাড়বে তা খুব ভালো করে নিজের মনের কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত। তার সাথে সারা জীবন সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে চলতে পারবে কিনা, একটা ঘড়ে উভয়ে মিলে একসাথে শান্তিতে এক প্লেট ভাত আহার করতে পারবে কিনা, এক ছাদের নিচে উভয়ে মিলে ভালোবাসার তাজমহল তৈরি করতে পারবে কিনা, হাতে হাত রেখে একসাথে জীবন পাড়ি দিতে পারবে কিনা এগুলো খুব ভালো করে নিজের মনের সাথে বুঝে নেওয়া উচিত। এগুলো নিজের মনের সাথে নিজেকেই বুঝে নিতে হবে, কেউ তোমাকে এগুলো বুঝিয়ে দিয়ে যাবে না।

আজ আমি ভালবাসার নয়, লিখবো বিষণ্ণতার গল্প। আমার জীবনের গল্প, আর এটা উৎসর্গ করবো আমার পরিচিত অপরিচিত বিষণ্ণতায় ভোগা মানুষদের।আমার বলতে দ্বিধা নেই আমি কয়েক বছর ধরেই বেশ হতাশ, নিরাশাবাদী, অনেক বেশি বিষণ্ণতা কাজ করে। জীবন কে বার বার গুছিয়ে নিতে যেয়েও অনেকটা ব্যর্থ। কিন্তু আমি তো আমার বিষণ্ণতা গুলো নিয়েই বেশ আছি।কেন আমি বিষণ্ণ...? মাঝে মাঝে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আরো বেশি বিষণ্ণ হয়ে যাই। 

কোন কোন বিষণ্ণতার গল্প পৃথিবীর কাউকেই বলা যায় না। অদ্ভূত সেই বিষণ্ণতা, বিচিত্র সেই মন খারাপ।মাথার ভেতর "ভাল্লাগেনা" নামের পোকারা মাকড়শার জালের মত এলোমেলো জাল বুনতে থাকে। সেই জালে হাসি আর আনন্দ গুলো এক এক করে আটকে যায়। হারিয়ে যায়, মুছে যায় হাসি আর খুশি। দুঃস্বপ্নের মত সময় আসে মাঝে মাঝে।চোখ বুজে পড়ে থাকতে হয়, ঘুম ভাঙ্গলেই জগতটা খুব অচেনা লাগে।আশপাশটায় চোখ বুলিয়ে হুট করে মনে পড়ে যায়।ভয়াবহ এক মন খারাপের রাজ্যের রাজা হয়ে বসে আছি আমি।তখন আবার চোখ বুজতে ইচ্ছে হয়।

আমি নিজেও জানি না একটু একটু করে বেড়ে উঠা এই বিষণ্ণতার শুরু। বিষণ্ণতা হয়তো বেড়ে ওঠার পরিবেশ, হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোন ঘটনার শক বা পারিবারিক বিষণ্ণতায় ভোগা জীনগত সমস্যা থেকেও হতে পারে। তবে হঠাৎ করে বিষন্নতা জন্ম নেয় না। বিষণ্ণতা কাউকে কখনোই হুট করে পেয়ে বসে না।এটাও অনেকটা দীর্ঘ সময় নিয়ে অর্জন করে নিতে হয়। অর্জন...!! হ্যাঁ অর্জন...কারণ, বিষণ্ণতার স্তরে নিজেকে টেনে নিতে মনের অনেক সময় লাগে। মন হঠাৎ করে বিষণ্ণতার স্তরে ডুবে যেতে পারে না।অনেক ধাপ পেরুতে হয়। শুরুতে কোন কিছুতে ব্যর্থ হলে কষ্ট লাগে। আপনজন কেউ হারিয়ে গেলে দুঃখ লাগে, কাউকে না পাওয়ায় বা কেউ ছেড়ে যাওয়ায় একটা যন্ত্রণার অনুভূতি হয়, সফলতার পিছনে ছুটতে ছুটতে নিজেকে হারিয়ে ফেলা। এগুলোকে কাটিয়ে উঠতে পারে অনেকেই, তারা মনের দিক থেকে সফল। কিন্তু কেউ কেউ হয়তো হেরে যায়, হেরে যায় নিজের মনের সাথে। তখন মনে আস্তে আস্তে ভর করে হতাশা, নিরাশা, নিজের প্রতি একটা বিরক্তি ভাব। সেটাও বেশ ভালো, একটা কষ্ট কষ্ট অনুভূতি থাকে, হেরে যাবার যন্ত্রণা থাকে। আবার হতাশার মাঝেও হঠাৎ আনন্দের কিছু ঘটলে খানিকটা সুখ খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু হতাশা বা নৈরাশ্যের স্তরে মানুষ বেশিদিন থাকে না। যারা এই স্তরে একবার যাত্রা শুরু করে তারা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারলে তো ভালো, তা না হলে পরবর্তী স্তরে আছে বিষণ্ণতা, অবসাদ। হতাশার স্তর যন্ত্রণা এবং কষ্টের বলেই মানুষের ব্রেইন তাকে এর থেকে বাঁচাতে তাকে টেনে নিয়ে যায় বিষণ্ণতায়। এখানে একবার ঢুকে পড়লে জগতের আর কোন কিছুতেই কোন কিছু যায় আসে না। সব কিছু তুচ্ছ মনে হয়।না আছে কোন আনন্দের অনুভূতি, না আছে কষ্টের। সব কিছু মনে হয় রঙহীন ধূসর, একঘেয়ে, বিরক্তিকর। অনেকটা স্বাদ গন্ধহীন কাগজ চিবোনর মতন।জীবনের উদ্দেশ্য গুলো কেমন গুলিয়ে যায়।নিজেকে অনেকটা মনে হয় ঝর্না ধারায় পড়ে থাকা এক খন্ড নিষ্প্রাণ পাথর, যার জলের তৃষ্ণা আছে, কিন্তু জল তাকে ভেজাতে পারে না, শুধু ছুয়েই চলে যায়।গায়ে লাগে না...।

এখন আমি ২৫ বছরের তরুণ, এই স্বল্প সময়ের জীবনে এখনই প্রায়ই ভাবি যদি পালিয়ে যেতে পারতাম জীবন কে ফাঁকি দিয়ে।ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার অভ্যাস না থাকলেও, জীবন কে ফাঁকি দিতে প্রায়ই ইচ্ছে হয়। সবসময় এমন ছিলাম না আমি, হথাৎ মনে হয় একটু বেশিই এমন হয়ে যাচ্ছি। এক সময় আমিও স্বপ্ন দেখতাম, প্রাণ চাঞ্চল্য আর উৎসাহে ভরপুর চার'দিক। নিজের সামনে একটু একটু করে নিজের পরিবর্তনটা দেখেছি। এই একটু পরিবর্তন টা যে জীবনের এতোটা পরিবর্তন এনে দিবে সেটা হয়তো কখনো অবচেতন মন বুঝতে পারে নি। কিন্তু চেষ্টা করেও খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি।এখন মনে হয় আমি হারিয়ে গিয়েছি।আগের সেই আমাকে আর কোথাও খুঁজে পাই না। দুঃখ, কষ্ট বা আনন্দ গুলো মনে হয় আমাকে আর খুব একটা ছুঁয়ে যায় না। মনে হয় এক সময় খুব জোরে ঝংকার তুলে বাজতে থাকা আমার জীবনের সুরের কোথাও ছন্দ পতন হয়েছে, যেন একটু একটু করে একটা তানপুরা পুরনো হতে হতে তাল কেটে যেয়ে বেসুরো হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমি বুঝতে পারি এটা হঠাৎ করে কখনোই হয়নি। খুব আস্তে আস্তে অনেক সময় নিয়ে আমি এই স্তরে এসে পৌঁছেছি। নিজেকে যখন বিষণ্ণ হিসাবে আবিষ্কার করতে শুরু করি তখন থেকেই আমি ভাবতে থাকি কেন আমি এমন হলাম।উত্তর টা প্রশ্নের মাঝে সীমাবদ্ধ...। 
“The woods are lovely, dark and deep,
But I have promises to keep,
And miles to go before I sleep,
And miles to go before I sleep...”

অনেক ভালোবাসার পরও আমরা ভালোবাসার মানুষকে হারাই, ভালোবাসার মানুষকে বুঝতে না পারার জন্য।
ভালোবাসার মানুষের স্থান, মূল্য, Priority- কতোটুকু সেটাই আমরা বুঝে উঠতে পারি না।

সারাজীবন একসঙ্গে পথা চলার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ভালোবাসা হঠাৎ একটা দমকা হাওয়াতে ভেঙে গেলে, সে আঘাত সহ্য করতে না পেরে করা পাগলামী গুলো মোটেই অস্বাভাবিক না আমার কাছে। আমি এগুলো দেখে মোটেও অবাক হই না।কেউ হাত কাঁটছে, কেউ ডায়রীর পাতা ছিড়ছে, কেউ কেঁদে কেঁদে বালিশ ভেজাচ্ছে, কেউ ঘুমের ওষুধ খাচ্ছে, কেউ সিলিং ফ্যানে দড়ি ঝুলিয়ে রাখছে, কেউ নতুন সিগারেট ধরছে, কেউ হাত পা ছড়িয়ে চিৎকার করছে, কেউ দু'চার দিন না খেয়ে আছে, কেউবা কিছুই না করতে পেরে বাকরুদ্ধ হয়ে বসে আছে। এগুলো মোটেও অস্বাভাবিক না।এগুলো মোটেই বোকামী না।এগুলো মোটেই সস্তা আবেগ না।

মানুষ যতটা না ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে কষ্ট পায় তার চেয়ে বেশি কষ্ট পায় মানুষটার সাথে অতীতে ঘটে যাওয়া কিছু ভুল স্মৃতি গুলোকে ভুলে যাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করে। ভুল স্মৃতি গুলোকে যতই ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় স্মৃতিটা ততই ভয়ংকর রূপ ধারণ করে বার বার সামনে চলে আসবে।স্মৃতি কখনো ভুল হয় না, তবু ভুল বললাম কারণ হারিয়ে যাওয়ার পর সব কিছুই ভুল মনে হয়।

কত স্বপ্ন থাকে সম্পর্ক নিয়ে...! সপ্ন গুলো অনেক টা নিজ হাতে কোন কিছু বেড়ে উঠার মতো। বিয়ে করবে, নতুন সংসার হবে, ছোট্ট একটা ঘর হবে।দু'জনে মিলে একসাথে সাজাবে সেই ঘরটা। দেয়ালে দু'জনের ছবি থাকবে।টিভির রুমটায় দু'জন বসার মতো একটা সোফা থাকবে। সপ্তাহের শেষ দিন ওই সোফায় বসে মুভি দেখবে। রান্না শেখার চেষ্টা থাকবে। হাত-পুড়িয়ে রান্না করবে। তেল কম হবে, লবণ বেশী হবে, খাওয়া যাবে না তবুও ভালোবেসে খেয়ে নেবে। অফিসে যাবার সময় টাই বেধে দেবে। অফিসে গিয়ে মিস করবে, বার বার ফোন দেবে। বাসায় ফেরার সময় একটা বকুল ফুলের মালা নিয়ে আসবে।

পড়ন্ত বিকালে দু'জনে মিলে বাইরে যাবে।পছন্দের নীল শাড়ী-পাঞ্জাবী পরবে। বেশী ঝাল-টক দিয়ে ফুসকা খাবে। রাস্তায় হাটতে হাটতে হঠাৎ করে আঙ্গুলটা ধরে বসবে। গাড়ির সীটে বসে কাঁধে মাথা রেখে ঘুমাবে। অসুস্থ হলে রাত জাগবে, আহ্লাদ করে খাইয়ে দেবে।

ছেলে-মেয়ের নামও রাখা হয়ে যায়। ঝড় ঝাপটায় একই ছাতার নিচে থাকবে।বয়স বাড়ার সাথে সাথে সময় মতো ওষুধ খাইয়ে দেবে। প্রেসার মেপে দেবে। বৃদ্ধ বয়সে ঘোলাটে চশমাটা মুছে দেবে। স্পর্শে মানুষটা না থাকলেও বিধাতার কাছে করা প্রতিটা প্রার্থনায় মানুষটা থাকবে। দেয়ালে টাঙানো ছবিটা হাতে নিয়ে বার বার হাত বুলিয়ে স্পর্শ পাওয়ার চেষ্টা করবে। চোখটা ভারী হয়ে আসবে, চশমাটা ভিজে যাবে। ধরা যাবে না, ছোয়া যাবে না; তবু মানুষটা থাকবে প্রতিটা স্পন্দনে..।

এত সাধের স্বপ্ন গুলো ভেঙে যাবার পর কেউ স্বাভাবিক থাকতে পারে না। এই সময়টাতে আপনি তাকে ম্যাচিউরিটি শেখাতে যাবেন না, স্বপ্নভাঙ্গা বিধ্বস্ত মস্তিষ্কে ম্যাচিউরিটি আসে না।আপনি হয়তো তাকে ইমম্যাচিউরড পাগল বলবেন।কিন্তু তার কাছে- এই ইমম্যাচিউরিটি এবং পাগলামী গুলোই ভালোবাসা।

কয়েকশো বছরের অগ্রিম দেখা স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রনা সহজে মেনে নেয়া যায় না, কখনোই না, কেউ-ই মেনে নিতে পারে না।

এক জীবনে অনেক প্রশ্নই এড়িয়ে যাওয়া হয়, অনেক কথাই না বলা রয়ে যায়। অনেক বিদায়ের আগেই জানান দেয়া থাকে না। অনেক আবেগই অপ্রকাশ্য থেকে যায়, অনেক মেসেজই আনসিন থেকে যায়। অনেক বারই কাউকে ডাকতে গিয়ে মুখ দিয়ে কথা বের হয় না, শুধু দূর থেকে অপলক চেয়ে থাকতে হয়। অনেক কিছুই ফেরত দেয়া হয় না আর, আবার সব ফেরত দিলেও কী জানি হয়তো কিছু রয়ে যায়। হয়তো এই কিছুটা "মন"... 

অনেক বারই মোবাইলের স্ক্রিনে কারো নাম দেখে দীর্ঘঃশ্বাস লুকোনো যায় না। মোবাইল এর স্কীনে প্রিয় মানুষ টির নাম কখনো ভেসেও উঠে না, হয়তো সে তার প্রিয় মানুষ নিয়ে ব্যাস্ত। অমুক গানের সুর শুনে অনেক কথাই মনে পড়ে, একা একা হাসি পায়, চোখে পানি চলে আসে। তার কথা মনে করিয়ে দেয়। হাঁটতে, চলতে, ফিরতে ট্রেনে-বাসে রাস্তায় প্রায়ই কিছু চেহারা পরিচিত মনে হয়। খুব মিল থাকে কারো একজন মানুষের সাথে। একটু পরপরই আড়চোখে দেখে নেয়া হয় 'এই সে নয় তো...!'এমন হাজারো অনেক কিছু আমাদের 'একান্ত আপন কিছু' এই সমস্ত কথা, সব আবেগ, সব স্মৃতি মনের মধ্যে তাদের জায়গাটা ঠিকই আলাদা করে থাকে, আমরা যত্নে আগলে থাকে। সেখানে তাদের রাজ্য, আর কারো আনাগোনা নেই সেখানে, অসতীত্ব নেই।

উদাস চেহারা দেখে চারপাশের প্রশ্ন যখন নাড়িয়ে দিবে- তখন খুব স্বাভাবিক মুখ করে আমরা বলবো, "কই, কিছু ভাবছি না তো....!!" বাইরের জগতে খোলসে ঢাকা শামুক হয়ে থাকা শিখে যাই আমরা, কিন্তু মনে মনে হয়তো ঠিকই অঞ্জন দত্তের গানটা বেজে উঠবে- "একদিন বৃষ্টিতে বিকেলে মনে পড়ে যাবে সব কথা......কথা দিয়ে কথাটা না রাখার ফেলে আসা চিনচিনে ব্যথা...।।

কেউই জীবন থেকে পুরোপুরি চলে যায় না। প্রিয় গানটার সুরের মাঝে চুপচাপ লুকিয়ে থাকে সে তাকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না। শুধু তার অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়। শুধু মানুষটাই জীবন থেকে হারিয়ে যায়। মানুষটার স্মৃতি হারিয়ে যায় না, চ্যাট লিস্টে সবার উপরে যে নামটা থাকতো একসময় সে ব্লকলিস্টে বা কোন লিস্টেই নেই বা থাকে না। এখন তার নামটা সার্চ বক্সে টাইপ করলেও আর আসে না। হাজার হাজার একই নামের আইডি আসে কিন্তু সেই আইডিটা আর আসে না। খুব করে খুঁজলে ছবিবিহীন কালো রঙের নামটুকু জানিয়ে দেয় সবকিছু, জানিয়ে দেয় সে আজ অনেক দূরে। অনেক অনেক নতুন মানুষের ভীড়ে চাপা পড়ে যায় পুরনো কেউ নামের মানুষটা...। সেই চাপা পড়া ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ঐ মানুষটাই কোন কোন রাতে ফেরত চলে আসে। পূর্বাভাস ছাড়াই বুকের ভেতরটায় তখন তুমুল ঝড় বইতে থাকে। অতীত নামের দমকা হাওয়া এসে মূহুর্তেই ওলট-পালট করে দেয় সবকিছু... । শুরু হয়ে যায় বুকের বামপাশের চিনচিনে ব্যাথাটা। মাঝরাতের অন্ধকার রুমে বসে নিজের অজান্তেই চোখের জল চলে আসে হঠাৎ করেই চলে আসে। 

পুরনো কোন গল্প ই আসলে মুছে যায় না। গল্প গল্পের জায়গাতেই থাকে, একটা সময় শুধু তোমাকেই গল্পের চরিত্র থেকে মুছে দেয়া হয় খুব যত্ন করে। সময়, ভালোবাসা গুলো কখনোই বদলায় না, বদলে যায় মানুষটা।

আমরা সবাই জানি রাত জাগা অনেক ক্ষতিকর। কিন্তু তবুও আমরা রাত জাগি। কারন কিছু মোমেন্ট আমাদেরকে ঘুমাতে দেয়না, সব সময় অচেনা একটা কষ্ট এসে ভর করে বুকের বাম পাশে। তখন আর ঘুম আসেনা। মানুষ বদলায় না, বদলে যায় তার মনের চাওয়া পাওয়া গুলো। খুব চেনা, খুব আপন মানুষটা কিন্তু ঠিকই রয়ে যায়। মাঝে মাঝে চোখের সামনে দেখে ভীষণ মায়া হয়... মুঠো করা হাত গুলো ছুটে যেতে চায় তার হাত গুলো ধরার জন্য। হাত ধরার অদম্য ইচ্ছে টুকু মনে জন্মানোর সাথে সাথেই মাটিচাপা দিতে হয়। সবই আগের মতোই থাকে শুধু মনের দরজার সামনে চোখের জলের স্বচ্ছ কালিতে লেখা "প্রবেশ নিষেধ" নামক একটা অদৃশ্য সাইনবোর্ড নীরবে চিৎকার করে বলে-
"সবকিছুই আগের মতই আছে, শুধু অধিকারটুকু নেই...।"

"যে মন খারাপের কোন কারণ নেই, সেই মন খারাপ লুকিয়ে রাখাই বোধহয় ভালো। বেশিরভাগ মানুষই মন খারাপ দেখে যে 'কেন?' - প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করে, সেই প্রশ্নের উত্তর আমার নিজেরও জানা নেই !! কোন কোন মন খারাপের সময় কারো সাথে কোন প্রকার বাক্য বিনিময় করতে ইচ্ছা করে না । চুপচাপ থাকতে দেখে অনেক মানুষ অনেক কিছু ভাবতে থাকে। আর আমি ভাবি, আমার কোথাও হারিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। এমন কোথাও হারিয়ে যাওয়া প্রয়োজন যেখানকার ঠিকানা পৃথিবীর কেউ জানে না, কেউ না !!

সারাদিন হাসিমুখে থাকা মানুষটিও কাঁদতে জানে। তারও ইচ্ছে করে কেউ তার চোখের জলটুকু খুব যত্নে মুছে নিক। সবসময় "ভাল আছি" বলা মানুষটিরও কিছু মন খারাপের গল্প থাকে। তারও ইচ্ছে করে কেউ তার সেই গল্প গুলো মন দিয়ে শুনুক, একটু বুঝুক।

রোজ রোজ "ভেঙে পরবে না, কোনো আঘাতই জীবনকে থামিয়ে দিতে পারে না, তুমি নিজেই তোমার ভাল থাকার উপায়" এসব বলে সাহস দেয়া মানুষটিও কখনো কখনো প্রচণ্ড নিঃসঙ্গতায় ভোগে। তারও ইচ্ছে করে কেউ একজন নিঃশব্দে তার কাঁধে হাত রেখে বলুক "আমি আছি তো"। প্রেম, ভালবাসার তীব্র বিরোধী মানুষটিরও মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় কেউ তার হাতটি শক্ত করে ধরে অন্তত একটিবার বলুক "ভালবাসি"। শাসন করুক, আগলে রাখুক।

অনেক হাসির পিছনেই চোখের জল থাকে, অনেক ভাল থাকার পিছনেই ভীষণ রকমের মন খারাপের গল্প থাকে। শুধু অন্যরা বুঝতে পারেনা। হয়তো মানুষ গুলোই বুঝতে দেয় না। "বাইরে থেকে দেখে কারো জীবন সম্পর্কে আন্দাজ করাটা প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার। কিন্তু এই অসম্ভব কাজটাই আমরা প্রতিনিয়ত করতে থাকি। হাসিখুশি মানুষটাকে দেখে ভাবি, তার জীবনে কোন সমস্যাই নেই। কেউ একটু দুঃখের গান শুনলে ভাবি, তার জীবনে অনেক কষ্ট। অথচ ব্যাপারটা এরকম নাও হতে পারে !!

একজনের গল্প বলি। দেশের টপ ভার্সিটিতে পড়া শুনা করে, Top Multinational Company-তে Job- একদম পারফেক্ট লাইফ...।। অথচ কেউ আন্দাজও করতে পারবে না, মানুষটা কি ভয়াবহ ডিপ্রেসনে ভুগচ্ছে । এই মানুষটিকে প্রায়ই সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে যেতে হয় কিন্তু তবু ঠিক হচ্ছে না। কেউ শুনলে বিশ্বাস করতে চায় না, ব্যাঙ্গ করে বলে "ওর আবার কিসের ডিপ্রেসন !!??" ওর মত জীবন পেলে আমি স্বর্গে থাকতাম। কেউ আবার বলে, আরেহ ঢং। সব আছে, তাও ডিপ্রেসড...! এগুলো ভাব,  বিলাসিতা !! দিন শেষে ঐ মানুষটিই শুধু জানে তার মনে কি চলতেছে। 

আমরা অনেক অল্পতেই জাজমেন্ট দিয়ে ফেলি। বাইরে থেকে দেখেই কোন কিছু সম্পর্কে একটা কথা বলে বসি। বলার আগে ভাবি না যে, আমি যেভাবে চিন্তা করছি ব্যাপারটা অন্যভাবেও তো হতে পারে...!! একটা মানুষ তার মাথার ভেতর, মনের ভেতর কেমন অনুভব করছে আপনি আমি তার এক ভাগও বুঝতে পারবো না, হাজার চেষ্টা করলেও না... !!

আমার কাছে যার জীবনটা স্বপ্নের মত লাগে, তার দুঃস্বপ্ন গুলোর এক বিন্দুও হয়তো আমি দেখি নি। কিন্তু আমি ভেবে নিয়েছি তার জীবনটা সপ্নের মতো। আমার জীবনটা যার কাছে রূপকথার গল্পের মত সুন্দর লাগে, সে হয়তো আমার ভিতরের শূন্যতা, বাস্তবতার ছিটেফোঁটাও টের পায় নি বা কখনো অনুভব করে নি !! জীবনটা এমনই, কেউ এক মূহুর্ত সময় নিয়ে চোখে চোখ রেখে কাউকে বুঝতে চায় না কিন্তু তাকে নিয়ে অনেক কিছুই বলা হয়ে যায়। 

এই পৃথিবীতে ঠিকানাবিহীন হারিয়ে যাওয়ার কিংবা লুকিয়ে যাওয়ার কোন জায়গা নেই। দিনশেষে ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় আমাদের একটা ঠিকানাতে ফেরত আসতে হয়। সেই ঠিকানাতে নিজে লুকিয়ে থাকা যায় না। তাই নিজের অনুভূতি গুলো যত্ন করে সূক্ষ্ম অভিনয়ের নীল খামে ভরে, কালো ডায়েরীতে লুকিয়ে রেখে বেঁচে থাকতে হয় !!" তখন হয়তো নিজে বেঁচে থাকা যায় কিন্তু অনুভুতি গুলোকে বাঁচিয়ে রাখা যায় না...

যে মানুষটা তোমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে, সে মানুষটাই তোমাকে সবচেয়ে বেশি সন্দেহ করে। কারন একটাই, তোমাকে হারানোর ভয়। সে তার সবকিছুর বিনিময়ে হলেও তোমাকে চায়। তোমাকে হারাতে চায় না বলেই তার এতো সন্দেহের আয়োজন। সন্দেহ যে তোমাকে করে বিষয় টা এমন না। তার ভয় তোমার আশেপাশের মানুষদের নিয়ে। 

মানুষ প্রথম যখন প্রেমে পড়ে, তখন উচিত অনেক ভেবে চিন্তে প্রেমে পড়া। কারন ক্ষুদ্র জীবনের পথ চলায় এমন অনেকের সাথে দেখা হবে যে তোমার প্রিয় মানুষটির চেয়ে সুন্দর, তোমার প্রিয় মানুষটির চেয়ে অনেক বেশি ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন, অনেক বড় কোনো ভার্সিটির শিক্ষার্থী নতুবা বড় কোনো কোম্পানির একজন চাকুরিজীবী। তখন যদি তুমি তোমার প্রিয় মানুষটাকে ছেড়ে নতুন কারো হাত ধরে চলে যাও, তখন সে তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকবে কি করে? তোমাকে ছাড়া যে তার পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটা সম্পূর্ণ অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায় তখন!

মানুষ নাকি আবেগের বশে বলে, 'আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না'। এটা হয়তো সত্য। অনেক মানুষ বললেও খুব কম মানুষ এটা করে দেখিয়েছে। কিন্তু একটা মানুষ কখন এমনটা বলে জানো? যখন সে তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসে। তাইতো সবাই বলে, প্রেম নাকি অন্ধ। আসলেই তাই, প্রেম অন্ধ। একটা মানুষ কখন নিজেকে মেরে ফেলতে চায় জানো...? যখন তাকে বুঝার মতো, তার নীরবতা, শুন্যতা বুঝার মতো একটা মানুষও থাকে না। 

তুমি যখন কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে যাও, তখন সবচেয়ে বেশি চিন্তিত থাকে তোমার প্রিয় মানুষটি। যদি নতুন কারো সাথে তোমার সখ্যতা গড়ে ওঠে ! যদি নতুন কারো সাথে তোমার ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে ! যদি এর কারনে তোমাকে সে হারিয়ে ফেলে ! তাইতো সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকে তোমাকে নিয়ে। এটা তোমাকে হারানোর ভয়, আর তুমি ভাবচ্ছো এটা সন্দেহ...!!  

রিলেশান থাকা স্বত্বেও অন্যের উপর গায়ে পড়া ভাব দেখানো ছেলে মেয়ের সংখ্যা নিতান্তই কম নয়। নিজেকে সিঙ্গেল শো করে তারা কেমন যেন একটু বেশি মজা পায়। কেননা সিঙ্গেলদের উপরই অন্যদের আকর্ষন বেশি থাকে। আর তাই বেশিরভাগই চায় নিজেকে সিঙ্গেল শো করতে। এতে করে ৫ জন সুদর্শন/সুদর্শনা তোমার দিকে এগিয়ে আসবে নতুন সম্পর্ক সৃষ্টির জন্য। কথার ছলে বন্ধুত্ব, এক সময় তা প্রেমের প্রস্তাব পর্যন্ত গড়ায়। আর তখন কেউ যদি তোমাকে প্রপোজ করে, আমি মনে করি তা মোটেও তার দোষের না। দোষটা তোমার, কারন প্রথমেই তুমি নিজেকে সিঙ্গেল দাবি করেছো। যদি নিজেকে ডাবল শো করতে, তবে এ সম্পর্ক প্রপোজাল পর্যন্ত কখনোই গড়াতো না। ডাবল শো করতে না পারলেও যদি তুমি একটু দূরত্ব রেখে চলতে তাহলে হয়তো সে এই সুযোগ পেতো না। তুমি এখানে সবার সাথে মিশে আনন্দ করছো। আর ওদিকে তোমার ভালোবাসার মানুষটি কেবলই টিন্তায় ডুবে আছে। অপেক্ষায় থাকে, কখন তুমি তাকে একটি কল দিবে, একটু রিলাক্স করবে তাকে। একটু টেনশন ফ্রি করবে তাকে।

তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসে বলেই তার এ চিন্তার আয়োজন। তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসে বলেই তোমাকে নিয়ে অতশত ভাবে। তোমাকে হারানোর ভয় কাজ করে বলেই তোমাকে এতো বেশি সন্দেহ করে। আর তুমি এটাকে অনেক বড় অপরাধ মনে করো...!!

তুমি যখন একটা সম্পর্কে জড়াও তখন তোমাকে অবশ্যই সম্পর্কের প্রতি যত্নশীল হতে হবে, Dedicated-হতে হবে, Loyal-হতে হবে। নিজের মাঝে কিছুটা হলেও পরিবর্তন আনতে হবে, কিছুটা হলেও আশাপাশের মানুষদের সাথে একটু ভিন্ন ভাবে মিশতে হবে। কিছুটা হলেও তার মন বুঝতে হবে। সম্পর্কে জড়ানোর পরোও যদি নিজের খেয়াল খুশি মতো  চলো তাহলে সম্পর্কটা হয়তো বেঁচে থাকবে কিন্তু ভালো থাকবে না। 

অনেকে বলবে, ভালোবাসায় বিশ্বাস হলো সবচেয়ে বড় ব্যপার। দেখুন, সব গুলো সম্পর্কই বিশ্বাসের উপর ভর করে দাড়িয়ে থাকে। তারপরও কেন প্রতিদিন এতো এতো সম্পর্ক ভেঙে যায়। অনেকের ১ বছর, ৫ বছর কিংবা ৮-১০ বছরের সম্পর্কও এক সময় ভেঙে যায়। তবে কি তাদের মাঝে বিশ্বাস ছিলো না ? ছিল ঠিকি...সবকিছু ঠিক-ঠাক থাকার পরও এক সময় কিছু সম্পর্ক ভেঙে যায়। এর পেছনে ঠিক কোন কারনটাকে দায়ী করবো বুঝতে পারছিনা। তবে আমি মনে করি তাদের নিজেদের মাঝে বুঝাবুঝির ভুল ছিল। সম্পর্কের মাঝে Dedication-এর অভাব ছিল। 

তবে হ্যাঁ, যাকে ভালোবাসো, তাকে মন-প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসো। সব প্রতিকূলতায় তার সাথে থাকার সংকল্প নাও। জীবনে কোনো পরিবেশেই তাকে ফেলো চলে যেওনা। দেখবে, তোমার ভালোবাসা হবে পৃথিবীর জন্য দৃষ্টান্ত। তোমার ভালোবাসা-ই হবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা।

আমাদের আশার ক্লান্ত দিনগুলো প্রতিনিয়ত আঁধারের সাথে মিশে যাচ্ছে। শেষ রাতে জীবন গুলো পরিবর্তনের জন্য নতুন আলোর অপেক্ষায় থাকি আমরা কিন্তু পৃথিবী ধীরে ধীরে জেগে ওঠে তবু আশা গুলো নতুন ভাবে জেগে উঠে না।সারাদিন একটা নিদিষ্ট মানুষের ম্যাসেজ বা ফোন কলের অপেক্ষায় থাকি আমরা। বিশ্বাস করুন ঐ একটা মানুষের ফোনকলের জন্য বিপরীত পাশের  আরেকজন বারবার মোবাইলের ডিস্পে অন-অফ করতে থাকে, বারবার চেক করতে থাকে ম্যাসেজ এর রিংটোন বেজে উঠা মাত্র। মানুষটা জানে তার ফোনে কোন টেক্সট বা কল আসবে না তবুও অপেক্ষা করতে থাকে।

অপেক্ষা শুদ্ধতম ভালোবাসার রুপ এই থিওরির ওপর নির্ভর করে শতশত মানুষ অপেক্ষা করে তার প্রিয় মানুষটার টেক্সটের, ফোন কলের অথচ প্রিয় মানুষ কখনই তা বোঝে না অথবা বুঝেও অবুঝের মতন থাকে। জীবনে সবচেয়ে মূল্য যাকে দেওয়া হয় সেই মানুষটা অবহেলা করবে এটাই চিরায়িত সত্য।

দিনের শুরুতে ঘুমের মধ্যেও যে মানুষটার জন্য অপেক্ষা করা হয়। মানুষটার কাছে আমি আপনি মূল্যায়িত হবেন এটা ভাবাও একরকম পাপ। সব মানুষই চায় তার প্রিয় মানুষের ফোন কলে তার ঘুম ভাঙ্গুক কিন্তু ভোরটা শুরু হয় অন্য ভাবে। মানুষটা জানে না তার একটা কথায়, মানুষটা জানে না তার একটু হাসিতে বিপরীত মানুষটার হৃদয় স্পন্দন থেমে যায়।

এক তরফা ভালোবাসা বা একরোখা অনুভূতি গুলো বড্ড ঘাড়ত্যড়া। কেন পৃথিবীতে কি ঐ মানুষটার রিপ্লেসমেন্ট নেই...? হবে না কখনই...।। কিন্তু না আমার যত অপেক্ষা ঐ মানুষটার জন্যই, তার রিপ্লেসমেন্ট শুধু সে নিজেই। শতবার অবহেলা করলেও নিজেকে ছোট করে হলেও মানুষটার সামনে অবনত মস্তকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নিলজ্জের মতন। তার অপ্রিয় একজন মানুষ হয়েও নিজের মনের কুঠরে তার স্থান সবার উপরেই থেকে যায়। তাকে ঘিরে ছোট ছোট ইচ্ছে গুলো দিন শেষে অপূর্ণতার খাতায় লিখা হয়। 

নির্ঘুম প্রতিটি রাতে মানুষটার জন্য অপেক্ষা করতে করতে আজ বড্ড ক্লান্ত। তবুও অপেক্ষার শেষ হয় না, মানুষটা হয়তো একটা সময় সব বুঝবে। তাকে ঘিরে স্বপ্ন গুলো, ছোট ছোট ইচ্ছে গুলো। আমার আমিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিশ্বাসের ওপর ভর করে অপেক্ষার পালা শেষ হয় না আর।

মানুষটা খুব সুন্দর গল্প বলে আমি বিমুগ্ধ হয়ে শুনতে থাকি তার গল্পে আমাকে কোথাও রেখেছে কি না। আমি নিজেকে খুজতে থাকি, নিরাশ হয়ে যাই মানুষটার জীবনে যেমনটা আমি নেই তার গল্পেও আমার অস্তিত্ব নেই। তার চোখে নিজেকে বারবার খুঁজতে গিয়ে নিজে হারিয়ে যাই কিন্তু তার চোখে নিজেকে খুজে পাই না। তার অসতীত্বে নিজেকে খুঁজে পাই না। 

মানুষটা আমাকে নিয়ে একটুও হয়তো ভাবে না। আর দশটা মানুষের মতন আমিও তার কাছে শ্রেফ একটা মানুষ, রক্তে মাংসে গড়া একটা মানুষ। অন্য সবার মতন অবহেলা আমার জন্য বরাদ্দ থাকে তবুও আমি অপেক্ষা করি। শুধু ঐ মানুষটির জন্যই অপেক্ষায় থাকি। জানি মানুষটা আমাকে চায় না  তার কোন স্বপ্নে, তবুও আমি তার জন্য অপেক্ষা করি অথচ যে মানুষটা আমাকে সবার অগোচরে প্রচন্ড ভালোবাসে আমার ছোট্ট একটা ম্যাসেজের অপেক্ষা করে আমি তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি না।

প্রচন্ড রকমের স্বার্থপর আমি। যে মানুষটাকে আমার চাই তাই তার অবহেলাকে অবহেলা মনে হয় না কিন্তু যে মানুষটা আমাকে চায় সেও তো অপেক্ষা করে আমার। সমীকরণের সূত্রে একটি কথায় আসে মানুষটা আমাকে অবহেলা করে তার বিপরীতে আমিও মানুষটাকে অবহেলা করি অথচ এই অবহেলা নিয়েই আমার অভিযোগের শেষ নেই, কখনও শেষ হবেও না।


বিলাসিতা আর দুঃখ বিলাস এক নয়। অনেকটা গানের কথার মতো-"মনটা যদি না থাকতো আমার কিছুই মনে পড়তো না, এই মন তবে এমন করে কেমন কেমন করতো না- আর তাকেও মনে পড়তো না ।" আমার যখন বিষণ মন খারাপ হয়, হাজার মাইল দূরে থাকা মানুষটির দরজায় গিয়ে আনমনে কড়া নাড়ি। মানুষটা খুব বেশি ভালো- দরজা খুলে আমাকে আশ্রয় দিতো তার কাছে নিতো প্রতিনিয়ত। আমার বুকের ভেতর যখন বোকা সোঁকা কষ্ট গুলো চেপে বসতো আনমনেই, আমার অবচেতন মনের তখন ইচ্ছে হতো- এই ভারটা একটু হালকা করা দরকার। আমি মানুষটাকে চোখ বুঝে ডাকতাম। চোখ বন্ধ করে যখন তাকে দেখতাম, কষ্ট গুলো কিভাবে যেন হালকা হয়ে যেতো চোখের পলকেই।

এই বিশাল পৃথিবীতে যখন নিজেকে খুব একলা লাগতো, চোখ বুজে মানুষটার সামনে চলে যেতাম। আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই মানুষটা বুঝে নিতো। মানুষটা চোখে চোখ রেখে বলতো, "আরেহ আমি আছি না...?" তখন আমার আর একলা লাগতো না। সুখি সুখি একটা অনুভূতি হতো।

মাঝরাতে প্রায়শই আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে কেমন যেন একটা অস্থির রকমের "কোথাও কেউ নেই" নামক অনুভূতি জেগে উঠে। এই অনুভূতিটা খুব কষ্ট দেয়, আমাকে ঘুমাতে দেয় না। চোখ বন্ধ করলেই এই মানুষটা তখন 'প্লিজ ঘুম হয়ে যাও চোখে' আর ঘুম হয়ে আসতো আমার মন খারাপের রাতে। আর আমিও ঘুমিয়ে পড়তাম অস্থিরতা থেকে।।

সারা দিনে একলা পথ চলতে চলতে সারাদিনের জমে থাকা গল্প গুলো বলার জন্য একজন মানুষকে খুব দরকার হতো। আমি মানুষটিকে ডাকতাম। মানুষটা আমার হাত ধরে আমার পাশে বসে গভীর মনোযোগ দিয়ে আমার সব অর্থহীন, মূল্যহীন গল্প গুলো ক্লান্তিহীন ভাবে শুনতো। আমার হাসিতে হাসতো খুব, আর কান্নার রঙটা বুঝতো নিমিষেই।। 

আমার কখনোই কোন কিছুর নেশা ছিল না, এখনো নেই। কিন্তু আস্তে আস্তে কিভাবে যেন মানুষটার নেশা হয়ে গেলো আমার। খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারচ্ছিলাম মানুষটার প্রতি আমি কিভাবে যেন নেশাগ্রস্ত হয়ে গেলাম। দিন দিন এই নেশা তীব্র থেকে  তীব্রতর আকার ধারণ করলো। কতটা তীব্র সেটা আমি আগে বুঝতে পারি নি তবে এতোটা বুঝতে পারতাম তীব্রতার মাত্রা গভীর... একদিন টের পেলাম খুব ভালোভাবে...

কোন এক শীতের সকালে ঘুম ভেঙ্গে আমি আবিষ্কার করলাম, কি যেন আর আগের মত নেই। আমি পাগলের মতো হয়ে যেতে লাগলাম কিন্তু কিছুই খুঁজে পেলাম না। আমি পাগলের মত মানুষটিকে ডাকলাম, কিন্তু মানুষটা আমার ডাকে সাড়া দিচ্ছে না। অনেকটা এমন সে আমার ডাক শুনছে না। আমার প্রশ্নের জবাব তাচ্ছিল ভাবে দিয়ে সে কোথায় যেন হারিয়ে গেলো। নিজের মাঝে আমার ছোট ছোট গল্প গুলো জমতে থাকলো। বুকটা আসতে আসতে ভারী হতে লাগলো। বুকের ভেতর এত এত বোকাবোকা কষ্ট অপেক্ষা করতো মানুষটার জন্য। মানুষটা আর আগের মত এসে পাশে বসে গল্প শুনছে না...মন খারাপের রাতে মানুষটা 'ভিনদেশী তারা' হয়ে আমার আকাশে জ্বলতে থাকে। সে আমার ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। তাকে আর ছুঁতে পারি না, একদম না...।।

বুঝতে পারলাম মানুষটি ছিল আমার কল্পনা। বাস্তবের সাথে যার কিছুই মিল নেই। মানুষের মন পৃথিবীর সবচেয়ে বিচিত্র জিনিস। ভালোলাগা নিমেষেই তৈরি হয়, ভালোলাগা নিমেষেই চলে যায়।

আমার মনে জমে থাকা ছোট ছোট গল্প, বুকের ভেতর চেপে থাকা ভারী ভারী কষ্ট, আমার নিঃঘুম রাতের ঘুম ভাঙ্গা সকালের অবচেতন মন, ভীড়ের মাঝে ফুটপাতের প্রতিটি পায়ের পদক্ষেপ, সারাদিনের এলোমেলো কাজের ফাকে বা কফির মগে চুমুকে মনে পড়ে যাওয়া মানুষটার অস্তিত্বের স্মৃতির কথা। ওরা তো বুঝে না এটা বাস্তব না, এটা কল্পনা ছিল। ওরা খুঁজতে থাকে সেই মানুষটাকে... ওরা প্রশ্ন করে, "কেন বাস্তব নয় এগুলো...?"

আমি এই কেন এর উত্তর খুঁজে পাইনি, আমার কাছে এই 'কেন?' এর উত্তর নেই। আমি জানি না আমার কল্পনা কেন আমার বাস্তবতার মতো নয়। আমি শুধু জানি,  আমার কল্পনাটা ভুল ছিল। ভুল কল্পনায় আমি মানুষটির কাঁধে আশ্রয় চেয়েছিলাম, ভুল কল্পনায় মানুষটির আঙ্গুলের ফাঁকে অধিকার খুঁজেছিলাম। কল্পনায় যে মানুষটার সাথে থাকার নেশা একসময় খুব ভরসা দিতো, সেই অভ্যাসই একসময় তীব্র কষ্ট দেয়। সেই কষ্ট থেকে বের হওয়া খুব কঠিন, সেই তিব্র নেশা থেকে চাইলেই বের হওয়া যায় না...

ভালোবাসা হঠাৎ করে হলেও ভালোবাসার পর সব কিছু হুট করে হয়ে উঠে না। শুরুর দিকে সব কিছু মধুর মতো লাগলেও আসতে আসতে সেটা তিক্ততায় পরিণত হয় নিজেদের কিছু ভুলের কারণে। আমরা কেউই সম্পর্কের মাঝে তিক্ততা চাই না কিন্তু তিক্ততা চলেই আসে। আর এই তিক্ততা আসে একে অপরকে ভুল বুঝার কারণে, বুঝতে না পারার কারনে। আমরা ভালোবাসি ঠিকই কিন্তু ভালোবাসার মানুষটিকে একটুও বুঝার চেষ্টা করি কি...?  তিক্ততা এখান থেকেই শুরু হয়, আসতে আসতে তিক্ততা বাড়তে বাড়তে সম্পর্কের বিচ্ছেদর দিকে চলে যায় কিন্তু আমরা কখনোই চাই না কোন সম্পর্কের বিচ্ছেদ হোক। আমরা অনেক কিছুই চাই না কিন্তু সেটাই ঘটে যায়।

সম্পর্কের আগে এবং সম্পর্কের পরের সময়টা অনেক বেশি পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যেমন, মেয়েটা কেমন সেটা সম্পর্কের আগে খুব ভালোভাবেই জানা থাকে। সে কি করতে পছন্দ করে, কি অপছন্দ করে, তার খারাপ অভ্যাস গুলো কি কি, তার চলাফেরা কেমন আরো অনেক কিছু কিন্তু সম্পর্ক শুরু হওয়ার পর এগুলো নিয়েই বেশি ঝামেলা হয়। যেখানে মানুষটি কেমন সেটা জেনেই ভালোবাসেন সেখানে সম্পর্ক হয়ে যাওয়ার পর তার এসকল বিষয়ে কথা বলাটা কেমন হয়ে যায় না...? এই বিষয় গুলো একটা মেয়ের চেয়ে একটা ছেলে বেশি Face-করে। একটা ছেলে হয়তো তার চলাফেলা তার ভালোবাসার মানুষের কথায় বদলিয়ে নিতে পারে কিন্তু ধাক্কা টা খায় অন্য জায়গায়। মেয়েটা সমবয়সী হোক আর বয়সে ছোট হোক সে যাই হোক মেয়েটা কিন্তু ছেলেটার বর্তমান অবস্থা জেনেই ভালোবাসায় জড়ায় কিন্তু দু'দিন যেতে না যেতেই কথার সুর ঠিকই পাল্টায়। ছেলেটার Career- নিয়ে কথা বলে না এরকম মেয়ের সংখ্যা নাই বললেই চলে। আমি বলছি না Career- নিয়ে কথা কেন বলে, Career- নিয়ে কথা অবশ্যই বলা উচিত & এটা বলার Right-তার আছে। কারন, Career- উপর নির্ভর করে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ। 

তুমি Career- নিয়ে ভাবচ্ছো না, তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না, আমাকে নিয়ে তোমার কোন চিন্তা নেই, এভাবে আর কত দিন, Job-এর জন্য try- করচ্ছো না কেন, ভালো Job- এর জন্য কেন Preparation-নিচ্ছো না; এরকম আরো অনেক কথা শুনতে হয়। আচ্ছা একটা ছেলে কি বেকার ভাবে বসে থাকতে চায়...? হয়তো সে Better- কিছুর জন্য try-করে কিন্তু সেটা হয়ে উঠচ্ছে না এই মুহূর্তে বা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আজ বললে কাল ই তো সে কোন Company-এর CEO হয়ে যেতে পারবে না তাই না ? Actually- আমি বলতে চাচ্ছি Career- নিয়ে একটা মেয়ে যে ভাবে কথা বলে সেটা একটা ছেলে কখনোই মেনে নিতে পারে না। এই সময়টিতে ছেলেটার Inspiration, Motivation, Support - খুব বেশি দরকার হয়। কারন, একটা ছেলে যখন সমবয়সী কাউকে ভালোবাসে তখন তার ভালোবাসার মানুষকে হারানোর ভয়ে থাকে শুধু তার Career-এর জন্য। সে এমনিতেই খুব বেশি Tension, Depression-এ ভোগে। একটা মেয়ে যে ভাবে Career- নিয়ে ব্যাঙ্গ করে কথা বলে তাতে ছেলেটা Inspired-না হয়ে আরও বেশি Depression-এ ভোগে Frustration-এর মাঝে দিন কাটায় Demotivated- হয়ে যায়। আচ্ছা আপনি যখন তার Career-নিয়ে কথা বলেন একবারও কি তার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখেছেন? একবারও কি দেখার চেষ্টা করেছেন আপনার এই কথায় তার ভিতরটা কতোটা কষ্টে কাতর হয়ে যায়, একবারও কি দেখতে পেরেছেন তার চোখের দিকে তাকিয়ে আপনাকে পাওয়ার জন্য সে কতোটা Effort- দিচ্ছে, কিভাবে Career-এর পিছনে ছুটে বেড়াছে। যেখানে হয়তো এই সময়টিতে Career-নিয়ে তার ভাবার কথাই না। হয়তো আপনার চোখে এগুলো পড়ে না বা আপনি এগুলোকে কিছুই মনে করেন না। আপনার জন্য তার Effort-যদি আপনার চোখে না পড়ে তাহলে আপনি তাকে কতোটা ভালোবাসেন সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই হয়...।

কয়টা মেয়ে আছে যে এই কথা গুলোকেই Positive way-তে, একটু ভালোবেসে Support-দিয়ে বলতে পারে...? হাজারে একটা পাওয়া যাবে না। আপনি জানেন কি একটা ছেলে পরিবারের কাছ থেকেও বেশি তার ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে Positive-কথা শুনে, Support-পেয়ে Inspired-হয়...? কিন্তু এই কাজটা কোন প্রেমিকাই করে না। দেখা যায় এমন কিছু Negative-কথা বলে যা Demotivate-করে দেয়। আমার দেখা অনেক প্রেমিক যুগল এর মাঝে Only-একটা মেয়েকে দেখেছিলাম যে তার প্রেমিক কে Support- দিতো যেখানে ভাইয়া বেকার ছিল, অপর পাশে আপুটা Job-করতো। ভাইয়ার Job- হচ্ছিল না কিন্তু আপুটা যেভাবে Support-দিত সেটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।  খুব কম মেয়েই এই কাজটি করতে পারে। 

একটা ছেলের যখন Support-প্রয়োজন ঐ সময়টিতে তার ভালোবাসার মানুষের মতো Support- আর কেউই দিতে পারে না। সফল একজন মানুষ হওয়ার জন্য পরিবারের ভূমিকা অনেক, কিন্তু আমি মনে করি পরিবারের চেয়ে প্রিয়জন, ভালোবাসার মানুষ বেশি Support- দিতে পারে সফল হওয়ার জন্য। যারা এই Support- পায় এদের মতো ভাগ্যবান আর কেউই নেই। 

যাকে ভালো লাগে, সে হয়তো আমার মত না। ভালো তো কত মানুষকেই লাগে। কারো চেহারা দেখে ভালো লাগে, কারো কাজকর্ম দেখে ভালো লাগে, কারো কথা শুনে ভালো লাগে। ভালো লাগার কোন শেষ নেই । ভুলটা হয় তখনই যখন শুধুমাত্র ঐ 'ভালো লাগা' এর উপর ভিত্তি করে আমরা কাউকে পাকাপাকিভাবে নিজের জীবনের সাথে জড়ানোর চিন্তা করি !!

যাকে ভালো লাগে, সে হয়তো আমার মত না। তার সাথে হয়তো আমার কিছুই মেলে না। তার হয়তো আমার মত জোছনা ভালো লাগে না। যে টকটকে লাল রঙের লিপস্টিক তার ঠোঁটে আমি কল্পনা করতাম, সেই লাল রং হয়তো তার ভীষণ অপছন্দ। যে নীল রঙের পাঞ্জাবি তার ভীষণ ভালো লাগে, আমার হয়তো নীল রঙের কোন পাঞ্জাবিই নেই !! সে হয়তো অনেক খোলা মেলা মনের, অনেক Extrovert- অপর দিকে আমি হয়তো অতোটা খোলা মেলা মনের না- Introvert.

আমার নীরবতা ভালো লাগে, হয়তো এমন হতে পারে তার কোলাহল পছন্দ। আমার প্রিয় বইটার উপর তার বাড়ির ধূলো গুলো জমতে থাকে প্রতিনিয়ত। প্রচন্ড চঞ্চল ঐ মানুষটাকে আমার মত চুপচাপ কম কথা বলা মানুষের ভালো লাগে, হয়তো তারও আমাকে ভালো লাগে। কিন্তু দিনশেষে, সে আমাকে বুঝে না, আমিও তাকে বুঝি না, একদম না !! মন দিয়ে মন না বুঝলে কি কিছু হয়...!!! কিচ্ছু না...

তার এলো চুল গুলো দু' আঙ্গুল দিয়ে সরিয়ে দেয়ার প্রচন্ড ইচ্ছা কিংবা চোখের কাজলের ভেতর মায়া খুঁজে পাওয়া অথবা হাতের মুঠোয় হাত রেখে একটা হৃদস্পন্দন মিস করে যাওয়াটাই কি সব ??

দিনশেষে শত সহস্র অমিল গুলোর কাছে আর কেউ কাউকে না বুঝতে পারার দ্বন্দ্ব গুলোর কাছে এইসব ভালোলাগা গুলো, তীব্র অনুভূতি গুলো হেরে যায়। হেরে যেতে বাধ্য...!! অমিল গুলো মনে খুব ভালোভাবেই বসে যায়। এই অমিল গুলোই পথ চলায় বাঁধা, পথের কাটা। এই কাটা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়া খুব সহজ কাজ নয়। 

ভালোলাগার মানুষের সাথে মাঝে মাঝে ভালো থাকা যায় না এই অমিল গুলোর জন্য। ভালোলাগা আর ভালো থাকা এর মাঝে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে অমিলের দেয়াল। তবে ভালোলাগাতে দোষ নেই। সে হয়তো অনুভূতি বোঝে না, অনুভূতির পরোয়া করে না !! কিন্তু নিজের অনুভুতি তো নিজের কাছে, নিজের ভালোলাগাতো একান্তই নিজের...।  তবু ভালোবাসা বেঁচে থাকে মনে, ভালোবাসা বাঁচিয়ে রাখে, মন দিয়ে মনকে টানে...। 

MARI themes

Powered by Blogger.