আমার একটুখানি তুমি দরকার। যে কিনা সস্তা আধুনিকতার বদলে হবে বড্ড সেকেলের। নামী-দামী ব্রান্ডের মেকআপের বদলে যার চোখের নিচে কাজল দিলে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করবে বহুকাল ধরে..। ঐ কাজল কালো চোখে যে মায়াটা থাকবে সেই মায়া ভরা চোখের দিকে তাকিয়ে থাকার জন্য বেচে থাকতে ইচ্ছে হবে অনন্তকাল। ভরদুপুরে ভীষন ব্যাস্ত শহরের রাস্তা পার হবার সময় যে কিনা ভয়ে শার্টের হাতা খামচে ধরে রাখবে। রাত্রি করে বাড়ি ফেরার অভিযোগে যে মানুষটা মুখ গোমড়া করে বলবে তোমার সাথে আর কথা নেই!!

আমার একটুখানি তুমি দরকার। হেয়ার ড্রাইয়ার এর বদলে যে কিনা দুপুরে কার্নিশের রোদ পেরিয়ে ভেজা চুল শুকোবে। হাই-ফাই কোন ফাস্ট ফুডে চেকইন এর বদলে ঝাল-মাখা ফুচকায় মরিচের কামড়ে যে মেয়ে টুকটুকে লাল হবে। চ্যাটিং-ফ্যাটিং এতসব বাদ দিয়ে মন খারাপে যে আমায় কাগজের খাম ভরে দু-দন্ড চিঠি লিখবে, আমার মনের ঠিকানায় তার চিঠি আসবে। চিঠি আমার চাইই চাই...।। তার সাথে না হয় চিঠিতেই ভালোবাসা-বাসি হলো। 

ভরা চৈত্রের দাবদাহে একগ্লাস ঠান্ডা জলের মতো যার মুচকি হাসি আমার বেসামাল হৃদয়কে একদম শান্ত করবে। যার এক ছলাক হাসি দেখার জন্য শত মাইল দূর থেকে আসার পরো এতটুকু ক্লান্তি আসবে না। তার হাসিভরা মুখটা দেখার পর মনে শিতল বাতাসের মতো সব জুড়িয়ে যাবে। যে কিনা উচুঁ উচুঁ হিলের বদলে নুপুর পায়ে আমার পাশে পা দুলিয়ে বসে থাকবে, যে নুপুরটা পড়িয়ে দিবো আমি নিজ হাতে। একটু খানি জ্বর হলে কপালে হাত দিয়ে খানিকটা ছুঁয়ে দিলেই যেন সব জ্বর ভালো হয়ে যাবে। যে আমার সব অসুখের ডাক্তার হবে, যার উপস্থিতি পেলেই সব অসুখ পালাবে...। 

মন খারাপের পৌষের বিকেলে ব্যালকনিতে বসে গালে হাত দিয়ে যে আমার বোকা বোকা গল্প গুলো শুনবে, হাতে এক মগ গরম কফি। ঝুম বৃষ্টিতে কোন সন্ধায় যে কিনা ছাঁতার বদলে আমার হাত ধরে বৃষ্টি  ভিজবে। অভিমানের প্রহর শেষে হঠাৎ যে কিনা বলে বসবে "ভালোবাসি ভালোবাসি"। সেলফি-পাউটের ফ্যাশনের বদলে যে কিনা খোপাঁয় বুনো বেলীফুল গুঁজে সামনে এসে জিজ্ঞাসা করবে বলোতো আমায় কেমন লাগে...?
জুলাইয়ের শেষ কোন পূর্নিমার রাতে যে আমার বুকে মাথা রেখে একদম ছোট বাবুদের মতো হুট করেই চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়বে।

আমার ঠিক এমনই একটা তুমি দরকার। আধুনিকতার আড়ালে বড্ড সেকেলের একটুখানি তুমি। 
"বেশি বেশি চাই না, 
কেবল একটুখানি চাই। 
তোমাকে আমার একটুখানি চাই।" 


MARI themes

Powered by Blogger.