ভালোবাসা একদিনে বদলে যায় না - চুপচাপ, খুব ধীরে ধীরে বদলে যায়। এতটাই ধীরে যে, আমরা বেশিরভাগ সময় সেটা টেরই পাই না। একদিন হঠাৎ করে খেয়াল হয় - আমাদের আগের মতো আর বুক ধড়ফড় করে না, মেসেজের জন্য সেই অস্থির অপেক্ষাটাও নেই, নামটা দেখলেই যে অকারণ হাসিটা চলে আসত, সেটাও যেন কোথায় হারিয়ে গেছে। অথচ মানুষটা ঠিকই আছে, আগের মতোই। তখন ভেতরে ভেতরে একটা অস্বস্তি কাজ করে - কিছু কি কমে গেল, এমন কি হলো !!!? সম্পর্কটা কি আগের মতো নেই? নাকি ভালোবাসাটাই শেষ হয়ে গেল? নাকি মায়াটা কমে গেলো...!!? আমরা এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়ে সবচেয়ে বড় ভুলটা করি - আমরা পরিবর্তনকে শেষ হিসেবে ধরে নিই।

শুরুর ভালোবাসার একটা আলাদা রঙ থাকে। সেখানে সবকিছুই নতুন, অজানা, আর সেই অজানার মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ কাজ করে। মানুষটা তখন শুধু একজন মানুষ থাকে না - সে হয়ে ওঠে একটা অনুভূতি, একটা নেশা, একটা অভ্যাস। তার ছোট ছোট কথায়ও আনন্দ লাগে, অকারণে মনে পড়ে, তার সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো বারবার মনে করতে ইচ্ছে করে। ধরুন, প্রথমবার আপনি তার সাথে দেখা করতে যাচ্ছেন - কী বলবেন, কীভাবে বসবেন, সে কী ভাববে - এসব নিয়ে ভেতরে ভেতরে এক ধরনের উত্তেজনা কাজ করে। ফিরে এসে আবার সেই মুহূর্ত গুলোই মনে পড়ে। এই পুরো সময়টায় ভালোবাসা শুধু অনুভূতি না, এটা একটা অভিজ্ঞতা - যেটা আপনি বারবার নতুন করে পেতে চান।

কিন্তু কোনো কিছুই চিরকাল নতুন থাকে না। মানুষটাও না, সম্পর্কটাও না, কিন্তু সময় কিন্তু নতুন ভাবেই আসে। সময়ের সাথে সাথে সেই অজানাটা কমে যায়, মানুষটা পরিচিত হয়ে যায়, তার অভ্যাস গুলো জানা হয়ে যায়, তার প্রতিক্রিয়া গুলো অনুমান করা যায়। তখন আর নতুন করে কিছু আবিষ্কারের জায়গা থাকে না, থাকে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার জায়গা, থাকে খুব চেনাজানা একটা জায়গা। আর ঠিক এখানেই অনুভূতির ধরন বদলাতে শুরু করে। আগে যেখানে প্রতিটা মুহূর্তে উত্তেজনা ছিল, এখন সেখানে একটা স্বাভাবিকতা চলে আসে। আগে যেখানে তাকে ছাড়া অস্থির লাগত, এখন সে পাশে থাকলেই একটা শান্তি লাগে, কিন্তু সেই শান্তিটাকে আমরা ঠিকভাবে চিনতে পারি না। এই শান্তি, স্বস্তি টাকে আমরা বেমালুম ভাবেই অমনোযোগী, বেখেয়ালি ভাবে অচেনা ভাবে দেখি।

এই জায়গাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আবার সবচেয়ে ভুল বোঝাবুঝির জায়গা। কারণ আমরা ভালোবাসাকে সবসময় সেই শুরুর উত্তেজনার সাথে মিলিয়ে ফেলি। আমরা ভাবি, ভালোবাসা মানেই অস্থিরতা, ভালোবাসা মানেই হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ভালোবাসা মানেই সবকিছু ছাপিয়ে একজন মানুষকে অনুভব করা। তাই যখন এই জিনিস গুলো কমে যায়, তখন মনে হয় ভালোবাসাও কমে গেছে। অথচ সত্যিটা হলো, ভালোবাসা তখনই অন্য এক রূপ নিতে শুরু করে। সেটা আর আগের মতো তীব্র না, কিন্তু অনেক গভীর। সেটা আর চোখে পড়ে না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে থাকে শান্তভাবে, এক চেনা সুর হয়ে।

একটা ছোট গল্প, খুব সাধারণ একটা দিয়ে শুরু - যেটা হয়তো হাজারো সম্পর্কের ভেতরেই চুপচাপ লুকিয়ে থাকে। হঠাৎ ছেলেটা খেয়াল করল - মেয়েটার সাথে এখন আর আগের মতো কথা হয় না। মেয়েটাও হয়তো ব্যস্ত হয়ে গেছে, ছেলেটাও। কিন্তু তবুও তারা সম্পর্কটা ধরে রেখেছে। ছেলেটার মাঝে মাঝে মনে হতো - আগের মতো কিছু নেই। সে ভাবতে শুরু করে, হয়তো ভালোবাসাটা কমে গেছে। ছেলেটার হঠাৎ অসুস্থতায় মেয়েটার একটা ছোট্ট মেসেজ - “ওষুধ খেয়েছ?” খুব সাধারণ একটা প্রশ্ন। কোনো বড় কথা না, কোনো আবেগী লাইন নেই। কিন্তু সেই মুহূর্তে ছেলেটার মনে হলো - পরিবারের বাহিরে এই একটা মানুষই আছে, যে না বললেও তার কথা ভাবে, তার কথা মনে রাখে। সেই এক লাইনের ভেতরে যতটা যত্ন ছিল, সেটা আগের হাজারটা “I miss you” থেকেও বেশি গভীর ছিল।

এই জায়গাটাই আসল।

যেখানে ভালোবাসা শব্দে প্রকাশ পায় না, কিন্তু Approach-এ বোঝা যায়। যেখানে কিছু প্রমাণ দেওয়ার দরকার হয় না, কারণ উপস্থিতিটাই বড় প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায়।

তবুও অনেকেই সম্পর্কের এই জায়গায় এসে ভুল করে। তারা ভাবে - যেটা আর আগের মতো অনুভূত হয় না, সেটা আর রাখার দরকার নেই। তাই তারা আবার নতুন কিছু খোঁজে। নতুন মানুষ, নতুন অনুভূতি, নতুন উত্তেজনা খুঁজতে শুরু করে। আবার সেই একই শুরু - আবার সেই একই শেষের দিকে যাওয়ার একই সমাপ্তি। আসলে তারা ভালোবাসাকে না, তারা খুঁজে বেড়ায় সেই প্রথম অনুভূতিটাকে। কিন্তু সেই অনুভূতি কখনোই স্থায়ী না - সেটা আসার জন্যই আসে, আর যাওয়ার জন্যই যায়।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সহজ, কিন্তু উত্তরটা কঠিন। আপনি কি সেই মানুষটার সাথে থাকতে পারবেন, যখন সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়? যখন আর প্রতিটা মুহূর্তে Excitement থাকে না, যখন কথা কমে যায়, যখন জীবনটা নিজের গতিতে চলতে থাকে? ভালবাসার রং বদলায় না, সময়ের সাথে সাথে ভালবাসার মানুষের সাথে ভালোবাসার ধরণ, অনুভূতি, প্রকাশ করার ধরণ পাল্টায়। কারণ ভালোবাসা তখনই সত্যি হয়ে ওঠে, যখন সেটা আর অনুভূতির ওপর নির্ভর করে না; বরং একটা সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিদিন, খুব সাধারণভাবে, কোনো বড় কারণ ছাড়াই একই মানুষটাকে আবার বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত, নিজের করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত।

আর মজার ব্যাপারটা হচ্ছে - 

এই সিদ্ধান্তটা কেউ হঠাৎ করে নেয় না। কোনো একদিন, কোনো বড় ঘটনার মধ্যেও না।

ধীরে ধীরে, অজান্তেই,

একসময় মানুষ বুঝতে পারে --

যে অনুভূতিটাকে সে হারিয়ে গেছে ভাবছিল, সেটা আসলে হারায়নি।

শুধু বদলে গেছে--

এমন এক জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখান থেকে ফিরে যাওয়া সহজ না…

আর সেখানেই দাঁড়িয়ে, মানুষ প্রথমবারের মতো ভাবে;

এটা কি সত্যিই শেষ,

নাকি এখান থেকেই আসলে শুরু?



আমরা আসলে পুরো জীবনটাই কাটিয়ে দেই একটা অদ্ভুত শব্দের পেছনে দৌড়ে - “তারপর”। ছোটবেলা থেকে এই “তারপর” আমাদের মাথায় বসিয়ে দেওয়া হয়। “এই পরীক্ষা শেষ হোক, তারপর একটু শান্তি”, “এই চাকরিটা পেলে তারপর জীবনটা সেট হবে”, “আরেকটু গুছিয়ে নেই, তারপর নিজের জন্য সময় রাখবো” - এভাবেই আমরা প্রতিটা মুহূর্তকে ভবিষ্যতের কোনো এক অজানা দিনে ঠেলে দেই। মনে হয়, আজকে না, কাল থেকেই সত্যিকারের জীবন শুরু হবে। অথচ সেই “কাল” টা কখনো আজ হয়ে আসে না আমাদের জীবনে।

এই “তারপর” টা অনেকটা দিগন্তের মতো - দেখতে খুব কাছাকাছি লাগে, কিন্তু যতই সামনের দিকে এগোই, ততই সেটা সরে যায়। অনেকটা মরিচিকার মতো। আমরা ভাবি, একটা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছালেই সব ঠিক হয়ে যাবে - চিন্তা থাকবে না, দুশ্চিন্তা থাকবে না, আমরা মন ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারব। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জীবন কখনো থেমে থাকে না। একটা লক্ষ্য পূরণ হলে আরেকটা এসে দাঁড়ায়, একটা চিন্তা শেষ হলে আরেকটা জায়গা নেয়। আর এই দৌড়ের মাঝখানে আমরা বুঝতেই পারি না জীবনটা কখন আমাদের পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে।

আসলে জীবনটা ঘটে খুব সাধারণ, ছোট ছোট মুহূর্তে - যেগুলো আমরা প্রায়ই গুরুত্বই দেই না। যেমন- কোনো ক্লান্ত বিকেলে বারান্দায় বসে কফি খাওয়া, যদিও মাথায় হাজারটা চিন্তা ঘুরছে। অথবা, রাতে হঠাৎ কোনো পুরনো বন্ধুর মেসেজে অকারণে হেসে ফেলা, যদিও মনটা ভালো নেই। কিংবা কারো পাশে চুপচাপ বসে থাকা, কোনো কথা না বলেও একটা অদ্ভুত শান্তি পাওয়া - এই ছোট ছোট অনুভূতি গুলোই আসলে জীবনের সবচেয়ে সত্যিকারের অংশ। কিন্তু আমরা এগুলোকে তেমন মূল্য দেই না, কারণ আমাদের মাথায় তখনও ঘুরতে থাকে - “তারপর কী...?”

আমরা সবসময় ভাবি, জীবনের বড় বড় ঘটনা গুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ - সাফল্য, অর্জন, স্বীকৃতি। কিন্তু একসময় গিয়ে বুঝি, এই বড় বড় জিনিস গুলোর ফাঁকেই আসল জীবনটা লুকিয়ে ছিল। যে গুলোকে আমরা গুরুত্ব দিইনি, যেগুলোকে “তারপর” বলে সরিয়ে রেখেছিলাম - সেই ছোট ছোট মুহূর্ত গুলোই ছিল আমাদের সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে সত্য। আর যখন এটা বুঝতে পারি, তখন হয়তো অনেকটাই দেরি হয়ে যায়।

একদিন হঠাৎ করেই মনে হয়, আমরা যে “তারপর”- এর জন্য এতদিন দৌড়াচ্ছিলাম, সেটা তো কখনোই আসেনি। বরং এসেছে নতুন ব্যস্ততা, নতুন দায়িত্ব, নতুন দুশ্চিন্তা - আর সাথে নতুন আরেকটা “তারপর”। আর এই দৌড়ের মাঝেই অজান্তে হারিয়ে গেছে অনেক হাসি, অনেক মুহূর্ত, অনেক অনুভূতি। তখন মনে হয়, যদি একটু থেমে যেতাম, যদি আজকেই একটু বাঁচতাম, তাহলে হয়তো জীবনটা এতটা ফাঁকা লাগত না।

জীবন আসলে কোনো গন্তব্য না, যেখানে পৌঁছালেই সবকিছু শুরু হবে। জীবন হচ্ছে এই চলার পথটাই - যেখানে প্রতিটা ছোট মুহূর্তের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার আসল মানে। তাই হয়তো দরকার, মাঝে মাঝে থেমে যাওয়া, একটু নিঃশ্বাস নেওয়া, আর নিজেকে মনে করিয়ে দেওয়া - জীবনটা “তারপর” না, জীবনটা এখন, জীবনটা বর্তমান। অতীত বা ভবিষ্যৎ আমাদের বর্তমানকে বিলীন করে দেয়...।

অনেক সময় এমন হয়, আমরা একদম ঠিক আছি - বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি, হয়তো কফি খেতে খেতে গল্প করছি, বা একা বসে প্রিয় একটা বই পড়ছি। মুহূর্তটা সুন্দর, হালকা, নির্ভার। কিন্তু ঠিক তখনই মাথার ভেতর একটা চিন্তা ঢুকে পড়ে - “কাল অফিসে মিটিং…”, “কাল অনেক প্রেসার যাবে…”। আর এই একটা ভাবনাই ধীরে ধীরে পুরো মুহূর্তটার রং বদলে দেয়, ফ্যাকাসে করে দেয়। আমরা তখন আর পুরোপুরি ওই সময়টার মধ্যে থাকি না। শরীরটা থাকে এখানে, কিন্তু মন চলে যায় আগামীকালের দুশ্চিন্তায়। আবার এমনও হয়, আজ ভালো একটা সময় কাটাতে কাটাতেই হঠাৎ মনে পড়ে যায় - “ইশ, কাল দিনটা ভালো যায়নি…”, “ওই কাজটা একটু অন্যভাবে করলে হয়তো ভালো হতো…”। মানে, একদিকে ভবিষ্যতের চিন্তা, আরেকদিকে অতীতের আফসোস - এই দুইয়ের মাঝে পড়ে আমরা আজকের ভালো সময়টাকেও ঠিকভাবে উপভোগ করতে পারি না। মনে হয়, যেন কিছু একটা ঠিক নেই, যদিও আসলে এই মুহূর্তে সব ঠিকই ছিল।

আমাদের ধীরে ধীরে এটা অভ্যাস হয়ে যায়। আমরা বুঝতেই পারি না কখন থেকে আমরা “এখন”-এ থাকা ভুলে গেছি, বর্তমানে থাকা ভুলে গেছি। সবসময় হয় আগের কিছু নিয়ে ভাবছি, না হয় সামনে কী হবে সেটা নিয়ে চিন্তায় আছি। অথচ সত্যি বলতে, আমাদের জীবনে যেটুকু সময় সত্যিকারের আছে, সেটা এই এখনটুকুই, বর্তমান টুকুই। না "কাল", না "গতকাল", না "তারপর" - শুধু বর্তমান এই মুহূর্তটাই বাস্তব।

আর এখানেই সমস্যা। আমরা এই বর্তমানটাকে ঠিকমতো ধরে রাখতে পারি না, অনুভব করতে পারি না। ছোট ছোট ভালো লাগার মুহূর্তগুলো - যেগুলো আসলে আমাদের সুখের আসল জায়গা - সে গুলো হাতছাড়া হয়ে যায়। কারণ আমরা তখনো “তারপর” নিয়ে ব্যস্ত, “কাল” নিয়ে ব্যস্ত, বা “ইশ যদি…”-এর ভেতরে আটকে আছি। শেষে গিয়ে মনে হয়, এতকিছুর মাঝেও যেন কোথাও একটা শান্তি নেই, শুন্যতা কাজ করে। আসলে শান্তিটা ছিল, ঠিক আমাদের সামনেই, আমাদের সাথেই - আমরা শুধু সেটাকে ঠিক সময়ে চিনতে পারিনি, ধরতে পারিনি।

জীবনটা “তারপর” না, জীবনটা এখন- এই সত্যিটা আমরা জানি, কিন্তু মানতে শিখি খুব দেরিতে। আমরা হয়তো অতীতের কোনো ভুল, কোনো অপূর্ণতা, কোনো আফসোস আঁকড়ে ধরে থাকি; অথবা ভবিষ্যতের কোনো স্বপ্ন, কোনো ভয়, কোনো অনিশ্চয়তার পেছনে ছুটতে থাকি। আর এই দুইয়ের টানাপোড়নে আমাদের বর্তমানটা ধীরে ধীরে ঝাপসা করে দেয়, গুরুত্ব হারায়। অথচ জীবনের একমাত্র বাস্তব সময়টা হলো এই বর্তমান- এই মুহূর্ত, যেখানে আমরা নিঃশ্বাস নিচ্ছি, অনুভব করছি, বেঁচে আছি। অতীত আমাদের শেখানোর জন্য, ভবিষ্যৎ আমাদের অনুপ্রাণিত করার জন্য - কিন্তু বাঁচার জন্য নয়। বাঁচতে হলে ফিরে আসতে হয় এই এখন-এ, এই ছোট ছোট অনুভূতিতে, এই অসম্পূর্ণ কিন্তু সত্য মুহূর্ত গুলোর মাঝে। কারণ শেষ পর্যন্ত, জীবনের সবচেয়ে বড় আফসোস হয় না আমরা কী পাইনি - বরং হয়, আমরা কতটা সময় “তারপর”-এর অপেক্ষায় থেকে আজকেই হারিয়ে ফেলেছি...।


জীবনের পথে চলতে চলতে আমরা প্রায়ই এক অদ্ভুত অনুভূতির মুখোমুখি হই - কখনো মন উড়ে যায় স্বপ্নের আকাশে, আবার কখনো থমকে যায় ভেতরের হাজারও প্রশ্নে। নিজের মনের সাথে নিজে প্রশ্ন করে আটকে যাওয়ার মতো বিব্রতকর পরিস্থিতি আর নেই। আমাদের জীবনের পথচলায় দুটি শব্দ বারবার ফিরে আসে - আবেগ এবং বিবেক। আমরা হয়তো প্রতিদিন এই শব্দ দুটো নিয়ে তেমন ভাবি না, কিন্তু আমাদের প্রতিটি অনুভূতি, প্রতিটি দ্বিধা এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তের ভেতরে এই শব্দ দুটোর উপস্থিতি বেশি। আবেগ আমাদের ভেতরের শক্তি, যা আমাদের এগিয়ে যেতে, স্বপ্ন দেখতে এবং ভালোবাসতে শেখায়। বিবেক সেই শক্তির নীরব নিয়ন্ত্রক, যা আমাদের থামিয়ে দেয়, নিজেকে প্রশ্ন করে - “তুমি যা করতে যাচ্ছো, সেটা কি সত্যিই ঠিক, সত্যি করা উচিত?” একদিকে আবেগ মানুষকে কর্মের দিকে ঠেলে দেয়, আর বিবেক তাকে পথের গভীরতা দেখায়, যাতে ভুল পথে হারিয়ে না যায়।

অনেক সময় আবেগ মানুষকে এমন এক কল্পনার জগতে নিয়ে যায়, যেখানে বাস্তবতার হিসাব-নিকাশের কোনো গুরুত্ব থাকে না। মনে হয়, সবকিছুই সম্ভব - সব অনুভূতি সত্য, সব ইচ্ছা পূরণযোগ্য। কিন্তু ঠিক তখনই বিবেক নীরবভাবে উপস্থিত হয়। যেন নদীর দ্রুত বয়ে যাওয়া জল আর তার তীরে দাঁড়ানো স্থির পাথর - যা নদীর গতিপথ থামিয়ে দেয় না, শুধু সঠিক পথ দেখায়। এই অদ্ভুত ভারসাম্যই মানুষের জীবনের সৌন্দর্য এবং সংগ্রামের মূল।

তবুও নিজের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ করা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ গুলোর মধ্যে একটি। আমরা চারপাশের সবকিছু বুঝি - বাস্তবতা, যুক্তি, ভবিষ্যতের হিসাব-নিকাশ। তবুও আবেগের ঝড় মাঝে মাঝে আমাদের মনকে দখল করে ফেলে। কিছু স্মৃতি, কিছু অনুভূতি আছে যেগুলোকে যুক্তি দিয়ে মাপা যায় না। কখনো হাসি, কখনো কষ্ট, কখনো বিষণ্ণতা - সবই আমাদের ভেতরের আবেগের প্রতিচ্ছবি। জীবনের এই অদৃশ্য লড়াইয়ে কখনো আবেগ জিতে যায়, আবার কখনো বিবেক।

ধরুন, এক বন্ধু অনেকদিন পর আপনার সাথে দেখা করতে এসেছে। সে আপনাকে একটি ছোট নোটবুক দিলো, যেখানে আপনার একসময় করা ছোট্ট কাজ গুলো লেখা - এক কাপ চা বানিয়ে রাখা, কোনো কঠিন সময়ে পাশে থাকা, হাসি মুখে কথা বলা। বিবেক বলে - “এটা তো শুধু ছোট জিনিস,” কিন্তু আবেগ তখন বলে - “দেখো, এসবই জীবনের আসল মধুর মুহূর্ত।” কখনো ছোট্ট জিনিসেই আমাদের হৃদয় স্পর্শ হয়, কখনো আবেগই আমাদের জীবনের রঙে ভরিয়ে দেয়।

Rabindranath Tagore- এর একটি কথা মনে পড়ে গেলো - “মানুষের হৃদয়ের যে সত্য, তাকে সব সময় যুক্তি দিয়ে মাপা যায় না।” এই কথার ভেতরে মানুষের জীবনের এক গভীর সত্য লুকিয়ে আছে। মানুষের অনেক অনুভূতি, সিদ্ধান্ত এবং সম্পর্ক এমন জায়গা থেকে জন্ম নেয়, যাকে কেবল যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। ভালোবাসা, মমতা, স্মৃতি - এসবের পেছনে আবেগের অদৃশ্য শক্তি কাজ করে।

মাঝে মাঝে আমরা ভাবি – তবে কি আমাদের সব আবেগ সত্যিই অর্থহীন? হয়তো না। কারণ যদি আবেগ অর্থহীন হতো, তাহলে মানুষের জীবনে এর অস্তিত্বই থাকত না। আমরা হয়তো কোনো কিছুর অর্থ তখনই বুঝতে পারি না, যখন সেই অনুভূতির ভেতর দিয়ে আমরা হাঁটছি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে, ধীরে ধীরে, অনুভূতির ভেতরের অর্থ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জীবন শেখায় - মানুষ শুধু যুক্তি দিয়ে বাঁচে না, আবার শুধু আবেগ দিয়েও বাঁচে না। জীবনের আসল সৌন্দর্য হয়তো এই দুইয়ের সূক্ষ্ম ভারসাম্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে।

শেষ পর্যন্ত, আমরা সবাই সেই মানুষটা, মাঝে মাঝে আবেগের জোয়ারে ভেসে যাই, আবার কখনো বিবেকের হাত ধরে ফিরে আসি। কখনো আবেগ জিতে যায়, কখনো বিবেক। আর সেই জয়-পরাজয়ের মাঝেই আমরা ধীরে ধীরে নিজেদের চিনতে শেখি, মানিয়ে নিতে শিখি। হয়তো জীবনের আসল শিক্ষা হলো - সব আবেগকে জয় করতে হয় না, সব যুক্তিকেও মানতে হয় না। কিছু অনুভূতি শুধু অনুভব করার জন্যই থাকে, আর কিছু সত্য… কেবল হৃদয় দিয়েই বোঝা যায়। 

জীবন হয়তো আমাদের শেখায়, যে আবেগ এবং বিবেককে আমরা কখনো একসাথে পূর্ণরূপে ধরে রাখতে পারি না। কিন্তু তাদের এই অদৃশ্য খেলা আমাদের শক্ত করে, আমাদের অনুভূতিকে জীবন্ত রাখে। প্রতিটি হাসি, প্রতিটি চোখের জল, প্রতিটি হৃদয়ের ডাক - সবই এই যুদ্ধক্ষেত্রের সাক্ষী...।



প্রতিদিন আমরা অসংখ্য মানুষের সঙ্গে দেখা করি, কথা বলি। কারো সঙ্গে অফিসে, কারো সঙ্গে পথে, আবার কারো সঙ্গে হয়তো হঠাৎ-ই ফ্লাইট বা কফিশপে। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি - এই এত মানুষের মধ্যে আসলে কয়জনের সঙ্গে আমাদের সত্যিকারের Connection গড়ে উঠে? কয়জনের সঙ্গে এমন সম্পর্ক গড়ে ওঠে যেটা হৃদয়ের ভেতর পৌঁছে যায়? আসলে আমরা চাইলেই সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে পারি না। কারণ সম্পর্ক মানে শুধু দেখা করা বা কথা বলা নয়। সম্পর্ক হলো এক ধরনের বোঝাপড়া, সময় দেওয়া, আন্তরিকতা, সহমর্মিতা আর পারস্পরিক সম্মানের সমন্বয়। চাইলেই এটা হঠাৎ করে কারো সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলা যায় না।

অনেকে ভাবে, “আমি তার সাথে দেখা করতে চাচ্ছি, কথা বলতে চাচ্ছি মানেই হলো বিপরীত পাশের মানুষও একই ভাবে কেন চাবে না !!!” কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই এরকম নয়। একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে ধীরে ধীরে। সেখানে শুধু ইচ্ছা থাকলেই হয় না; সময় দিতে হয়, অপরজনকে বুঝতে হয়, তার অনুভূতিকে সম্মান করতে হয়। আপনি যদি শুধু নিজের দিক থেকে ভাবেন আর অপরজনের অবস্থাকে না বোঝেন, তাহলে সেই সম্পর্ক কখনো গভীর হয় না, সামনে আগায় না। তখন আপনি চাওয়া বা না চাওয়ার উপর কিছুই নির্ভর করে না। 

আমরা প্রায়ই একটা ভুল করি - যদি কেউ আমাদের সঙ্গে সময় কাটাতে চায় বা কেউ কফি এর জন্য ইনফাইট করল কিন্তু তাকে সময় না দিতে পারলে, আমরা ভাবি সে হয়তো মুডি বা Selfish বা Self-Centered Person. কিন্তু আসল ব্যাপারটা অন্য রকমও হতে পারে রাইট? মানুষটার হয়তো পারিবারিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বা অফিসের কাজের চাপ যাচ্ছে, বা অন্য কোনো Personal Situation-নিয়ে সে ব্যস্ত। কিন্তু আমরা সেটা না ভেবে ধরে নিই, “সে চাইছে না।” অথচ বাস্তবতা হলো- সে হয়তো পারছে না। আর এখানেই তৈরি হয় ভুল বোঝাবুঝি। দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের অনেক সঠিক ভাবে বুঝতে সহযোগিতা করে।

এই বিষয়টাই আরেকটু ভিন্নভাবে ভাবি, ভাবুন তো-যদি কেউ আপনাকে সরাসরি প্রশ্ন করে, “আমি কেন আপনার জন্য সময় দেবো?” তখন আপনার উত্তর কী হবে? আপনি কি সত্যিই তার সঙ্গে এমন কোনো Communication Build-up করেছেন, যে কারণে সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আপনার সঙ্গে সময় কাটাতে চাইবে? যদি না করে থাকেন, তাহলে কেন সে আপনার জন্য সময় বের করবে? এখানে মূল কথাটা হলো- সম্পর্ক মানেই শুধু দেখা বা আড্ডা নয়। সম্পর্ক হলো বোঝাপড়া, Empathy, আন্তরিকতা আর একে অপরের অবস্থান বুঝে নেওয়ার চেষ্টার নাম।

এই বিষয়টা আমি নিজেও একবার গভীরভাবে বুঝতে পেরেছিলাম। মার্চ ২০২৫-এর শুরুতে আমি এক ব্যক্তিগত কাজে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলাম। যেহেতু একা ছিলাম, ছবি তোলার মতো কেউ ছিল না। তখন দেখি একজন চুপচাপ বসে আছে। আমি হালকা করে কথোপকথন শুরু করলাম। সে নিজেও খুব আগ্রহ দেখাল, ধীরে ধীরে আলাপ এগোতে লাগল। কথায় কথায় জানতে পারলাম তিনি জাপান থেকে এসেছেন, থাকবেন প্রায় ১৫ দিন। কাকতালীয়ভাবে তখন আমি Kaizen: The Japanese Method for Transforming Habits, One Small Step at a Time বইটা পড়ছিলাম জাপানি culture নিয়ে জানতে। সেটা শেয়ার করতেই তিনি খুব খুশি হলেন। প্রায় ৩০ মিনিট আমরা আলাপ করলাম। শেষে তিনি আমাকে জাপানে আসার আমন্ত্রণ জানালেন, আমি তাকে coffee-এর জন্য invite করলাম। আরও অবাক হলাম যখন তিনি নিজেই বললেন, চাইলে আমি আপনার ছবি তুলে দিতে পারি। সেই মুহূর্তে বুঝলাম - এই Approach, এই Openness না থাকলে কোনো সম্পর্কই তৈরি হতো না। এখনো তার সাথে যোগাযোগ আছে, কথা হয়। যদি কোনোদিন জাপান যাই, অবশ্যই তার সঙ্গে দেখা করবো।

এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে - কেউ আপনার জন্য সময় দেবে, সেটা কখনোই একদিনে হয় না। সম্পর্ক গড়তে হয়, Nurturing করতে হয়, এবং এর জন্য আন্তরিকতা, সময় আর Effort দিতে হয়। আপনি যদি কারো কাছে গুরুত্ব চান, আগে তাকে গুরুত্ব দিন। আগে বুঝতে হবে, শুনতে হবে, Respect দেখাতে হবে। সময় না দিয়ে সময় আশা করা বোকামি, গুরুত্ব না দিয়ে গুরুত্ব পাওয়ার ইচ্ছা থাকাটা উচিত না, Respect না দিয়ে Respect আশা করতে নেই।  

Relationship building takes time। Relationship- হলো বোঝাপড়া আর সমঝোতার উপর দাঁড়ানো এক দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কেউ হুট করেই আপনার জন্য সময় বের করে দেবে না। আপনাকেই আগে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি সেই সময় & সম্পর্কের যোগ্য। যখন আন্তরিকতা, Understanding আর Respect একসঙ্গে কাজ করে, তখনই দেখা যাবে- মানুষ আনন্দের সঙ্গে আপনার জন্য সময় বের করছে, আপনার কথা শুনছে, আর আপনাকে সত্যিকারের Value দিচ্ছে।

জীবনের পথচলায় আমরা প্রতিনিয়ত নানান মানুষের সঙ্গে দেখা করি, কথা বলি। কেউ এসে হারিয়ে যায় ভিড়ের মাঝে, আবার কেউ নিঃশব্দে গেঁথে যায় হৃদয়ের এক নির্জন কোণে। প্রতিদিনকার ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেকের সঙ্গ পাই, কিন্তু সবাই সমানভাবে আমাদের মনে ছাপ, দাগ কাটে না। কিছু সম্পর্ক নিঃশব্দে, ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। যেগুলো হয়তো আমরা কোনোদিন কল্পনা করিনি, কিন্তু একসময় দেখেছি সেই সম্পর্ক গুলোই আমাদের দিন গুলোর সবচেয়ে উজ্জ্বল আলো হয়ে ধরা দেয়।

কর্মস্থল, যেখানে আমরা দিনের বড় একটা সময় কাটাই, সেখানে সম্পর্ক গুলো শুধুমাত্র কাজের প্রয়োজনেই গড়ে ওঠে না। কখনো কখনো নির্বিচারে, অজান্তেই কেউ কেউ হয়ে ওঠে বিশেষ। তাদের সঙ্গে কোনো অফিসিয়াল মিটিং শুধু নয়, বরং জীবনের গল্প ভাগাভাগি হয়। যেখানে বয়স, ডেজিগনেশন কোন ম্যাটারই করে না। যেখানে মানসিক চিন্তা ভাবনা, পারস্পরিক বোঝাপড়াই মুখ্য বিষয় হয়ে থাকে। কাজের ফাঁকে এক কাপ কফি আর কিছু মুহূর্তের নির্ভরতা দিয়ে গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব, ভরসা, ভালোবাসা।

আলাদা করে কিছু না বললেও, কিছু মানুষ বুঝে যায় আমাদের মুড ভালো নেই, ভেতরে ঝড় বয়ে যাচ্ছে বা অস্থিরতা। দিনের শেষে, যখন অফিসের কাজ শেষে ঘরে ফিরার সময় আসে, তখনো কিছু সম্পর্ক নিভে যায় না। অফিসের বাইরেও তাদের সঙ্গে দেখা হয় আড্ডায় কোনো প্রিয় ক্যাফের টেবিলে গল্প জমে ওঠে। কখনো পরিকল্পনা হয় একটা হুটহাট ট্রিপের, কখনো গভীর জীবন দর্শনের, কখনো পরের দিনের কাজের প্লান, কখনো বা অফিসের কাজের দক্ষতার দায়ভার নিয়ে। এই সকল মুহূর্ত, এই সকল মানুষ আস্তে আস্তে আমাদের জীবনের অভ্যাসে পরিণত হয়। এমন এক অভ্যাস, যা আমাদের স্বস্তি দেয়, শান্তি দেয়, ভরসা যোগায়, সাথে নিজের করে নেওয়ার অনুভূতি দেয়।

এই সম্পর্ক গুলোতে হিসেবের জায়গা নেই। কে কতটা দিচ্ছে বা কে কতটা নিচ্ছে তার পরিমাপ নেই। আছে কেবল মনের মিল, চোখের চাহনি থেকে বোঝার ক্ষমতা, আর নির্ভরতার অদৃশ্য সুতোর টান, মায়ার টান, আস্থার জায়গা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এরা হয়ে ওঠে এমন কিছু মুখ, যাদের ছাড়া দিনটা অসম্পূর্ণ মনে হয়। মাঝে মাঝে মনে হয়; এরা না থাকলে কাজের চাপের পাহাড় ভেঙে কীভাবে বেঁচে থাকতাম! সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো এই সম্পর্ক গুলোতে কোনো অভিনয় নেই। অফিস পলিটিক্সের বাইরে, কর্পোরেট প্রতিযোগিতার বাইরে, একদম নির্মল মন থেকে তৈরি হওয়া এক ধরনের বোঝাপড়া। হয়তো একসঙ্গে অনেক গল্প হয় না, কিন্তু একসঙ্গে কফি নিয়ে চুপ করে বসে থাকাটাও আরামদায়ক মনে হয়।

এভাবেই কর্মজীবনের ক্লান্তির মাঝে কিছু মানুষ, কিছু মুহূর্ত জীবনের সৌন্দর্য হয়ে ওঠে। তারা আমাদের শেখায় কাজ শুধু কাজ নয়, মাঝে মাঝে জীবনের গভীরতাও। তারা আমাদের মনে করিয়ে দেয় সফলতা কেবল অ্যাপ্রিসিয়েশন, প্রমোশন বা প্রজেক্ট শেষ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং যাদের সঙ্গে এই পথ পেরোনো যায় সেটাই জীবনের আসল প্রাপ্তি। আমার মনে হয়, এমন কিছু মানুষ জীবনে থাকা মানেই একধরনের আশীর্বাদ, যেখানে মনের ভাব নির্দ্বিধায় প্রকাশ করা যায়। আর এমন কিছু সম্পর্ক, যা প্রতিদিনকার রুটিনের ভেতরেও এক টুকরো শান্তি এনে দেয় সেগুলোই সত্যিকারের সম্বল।

জীবনটা অনেকটা একটা ট্রেন যাত্রার মতো স্টেশন বদলায়, গন্তব্য বদলায়, দায়িত্ব আর সময়ের রেলগাড়ি ছুটে চলে সামনের দিকে। কিন্তু কিছু সহযাত্রী থাকে, যাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া প্রতিটি মুহূর্ত একেকটা গল্প হয়ে যায়। এই গল্প গুলোতেই লুকিয়ে থাকে জীবনের আসল সৌন্দর্য। তাদের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি হাসি, প্রতিটি নিরবতা, প্রতিটি একান্ত আলোচনার মধ্যেই যেন জীবনের ছন্দ লুকিয়ে থাকে। তাদের সাথে কাটানো সময় আমাদের শেখায় কাজ শুধু বেঁচে থাকার উপায় নয়, বরং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে বাঁচার সত্যিকারের মানে।

এই মানুষগুলো, এই সম্পর্কগুলো, আর এই মুহূর্তগুলো একসময় হয়তো চোখের আড়ালে চলে যাবে, কিন্তু মনের গহীনে থেকে যাবে সবসময়। সময় বদলাবে, স্থান বদলাবে, জীবনের গল্প অন্যদিকে এগোবে তবুও কিছু অনুভব থেকে যাবে একেবারে নিঃশব্দে, নরম বাতাসের মতো, বৃষ্টির প্রতি ফোঁটার মতো। ঠিক সেভাবেই থেকে যায় অদৃশ্য, অথচ গভীর। এমন কিছু সম্পর্ক থাকে, যেগুলো কখনোই হারায় না, তারা থেকে যায় হৃদয়ের পাতায়, নিঃশব্দ ভালোবাসায়, জীবনের প্রতিটি শূন্যতায় নিঃশব্দে আলো হয়ে..।

অনেক দিন যাবৎ-ই লিখা হয় না, হয় না বললে ভুল হবে, লিখতে পারি না। কেন লিখতে পারি না সেই ব্যাখ্যায় যদি যাই তাহলে প্রথমেই আসবে লিখতে ইচ্ছা করে না। কিছু লিখার জন্য মনের যে ইচ্ছা, আশা, আগ্রহ দরকার হয় সেটা আস্তে আস্তে মরে যাচ্ছে। মাথাটা অন্য কোন কিছুতে খুব বেশি Occupied হয়ে আছে। 

একটা সময় ছিল মাসে ৩-৪ টা ব্লগ লিখা হয়ে যেতো, এখন মনেই পরে না লাস্ট কবে ব্লগ লিখেছিলাম। চাইলেও মনে করতে পারি না। হঠাৎ কেন এমন হল তার ব্যাখ্যা খুঁজতে গিয়ে লক্ষ্য করলাম লেখালেখিটা আসলে মনের একটা ভাললাগার জায়গা থেকে আসে। এই লেখার আগ্রহটা নির্ভর করে আশেপাশের পরিস্থিতি, মনের অবস্থা, মানসিক ভাবে কতোটা শান্তিতে থাকা হয় তার উপর। একটু খেয়াল করে দেখলাম লাস্ট কয়েক বছর যাবৎ আমি মানসিক ভাবে এতো বেশি Occupied হয়ে আছি যে, Job, Corporate life balancing, Family issues এসব ছাড়া আর কিছুই তেমন ভেবে লক্ষ্য করা যায় না। 

জীবনটা বড়ই ধীরগতি আর যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে। কোন ব্যস্ততাই আমাকে স্পর্শ করে না, মাঝে মাঝে মনে হয় এতো বেশি ব্যস্ত থাকি যে ব্যস্ততাও আমাকে দেখে অন্য কিছুতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কোন কিছুতেই কোন আকর্ষণ বোধ করি না। কেমন জানি উদাস উদাস মনে হয় সব সময়। হয়তোবা এটা উদাসীন হওয়ার ই সময় । জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে এতগুলো অধ্যায় দেখে এখন অনেকটাই আশাহত। আমি আমার আমিকে হারিয়ে ফেলেছি অনেক আগেই। এখন শুধুই খোঁজার চেষ্টা করছি নিজেকে সেই আমার আমিকে।

আমি এক স্বপ্নকথক, চলেছি অজানার উদ্দেশ্যে। আমার কিছুই বলার নেই। তারপরেও, অনেক কিছুই বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু বলার সাহস পাই না। অসীম শূন্যতার মাঝে সামনের দিকে চলা একাকী এক নাবিক। আমার আমি'কে নিয়ে সামনে চলা, এক নিরন্তরের পথে! হাজারো মানুষের ভিড়ে একজন মানুষ, এখনো জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পাইনি। বেঁচে আছি, বেঁচে থাকতে হয় বলে। আমি স্বপ্নের ফেরিওয়ালা স্বপ্ন খূঁজে ফিরি। স্বপ্নেই খুঁজে বেড়াতাম নিজেকে। ঘুমহীন চোখে স্মৃতির রাজ্যে নিরন্তর অনেক ঘুরে বেড়িয়েছি । কখনো কখনো খুঁজে পেয়েও আবার হারিয়ে ফেলেছি। গন্তব্যহীন পথে উদ্ভ্রান্ত পথিকের মতই আপাতত ঘুরপাক খাচ্ছি।

এক সময় নিজেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতাম। স্বপ্ন দেখতে দেখতে স্বপ্নের মাঝে গা ভাসিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখলাম আমি মিথ্যে স্বপ্নের পাহাড়ে দাঁড়িয়ে আছি, সপ্ন আর বাস্তব এক না। জীবনের এই মুহূর্তে এসে হিসেব করে দেখলাম, পাওয়ার চেয়ে না পাওয়াই বেশি। আশারা তাচ্ছিল্যভরে তাকিয়ে থাকে, আর নিরাশাও মুখ ফিরিয়ে নেয় চরম নির্মমতায়। আশা পূরণের আনন্দে আপ্লুত হয়ে উচ্ছ্বসিত কথোপকথনকে আজ আমার বাতুলতা মনে হয়। মনে হয় আশা শুধুই বৃথা। সব মিলিয়ে জীবন যেন দিন দিন মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। চারিদিকে ধূলো বালি, তপ্ত,উত্তপ্ত, তৃষার্ত। এই আমি খুঁজে বেড়াই সামান্য মেঘ, সামান্য বৃষ্টি।খুঁজতে খুঁজতে আমি হতাশ,  ক্লান্ত।

জীবনটা মনে হয় এরকম-ই...
যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই, যাহা পাই তাহা চাই না...॥


কখন যে কোথা থেকে মানুষের মনে ভর করে আকাশ সমান ক্লান্তি, বিষণ্নতার কালো মেঘ আচ্ছন্ন করে ফেলে তাকে। জীবন হয়ে ওঠে এক অসহ্য যন্ত্রণার নাম। রাজ্যের নৈরাশ্য গ্রাস করে, ঘুম কেড়ে নেয় তার। কোনো এক ‘ফাল্গুনের রাতের আঁধারে, যখন ডুবে যায় পঞ্চমীর চাঁদ, মরণের সাধ জাগে দুর্নিবার।’ প্রেম, স্নেহ-পৃথিবীর তাবৎ সৌন্দর্য, ঘৃণা, পিছুটান তুচ্ছ মনে হয়। অর্থশূন্য মানবজীবনের অবসানই একমাত্র কাঙ্ক্ষিত হয়ে ওঠে তখন।

একজন মানুষ হিসেবে আমাদের পক্ষে খুব কঠিন ভিন্ন আরেকজনের মানসিক কষ্ট বুঝে, সত্যিকার অর্থে তা অনুভব করা। অধিকাংশ মানুষ এটি বুঝেই না যে বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে কেন লোকে বিষণ্ণ হয়ে পড়ে। অনেক রোগী ডাক্তারদেরকে বলেছেন যে, তারা যখন আত্মহত্যা করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তাদের নিজেদের ব্যথাটাই এত বেশি ছিল যে তখন তারা তাদের প্রিয়জনদের কথা ভাবেনি। মনে হতেই পারে এটা খুব স্বার্থপরের মতো আচরণ। কিন্ত আসলে তা নয়। মানুষ আত্মহত্যা করে শুধু নিজে পালিয়ে বাঁচার জন্য। সে আসলে নিজে বাঁচার উপায় হিসেবেই মৃত্যুকে বেঁচে নেয়। এদের চলে যাওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকলেও, মূল কারণ কিন্তু একটাই, আর সেটা হচ্ছে মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা এবং হতাশা। যা তারা বহন করতে পারেনি। আমরা সবাই এখন এক অর্থহীন দৌড় প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যেখানে জীবন মানেই অর্থহীন লোক দেখানো ছুটে চলা। এই অস্বাভাবিক ও অসুস্থ প্রতিযোগিতা আমাদের হতাশা ও বিষণ্ণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। হতাশা মানুষের সৃজনশীলতা, বিবেকবোধ ও বুদ্ধিমত্তা নষ্ট করে দিচ্ছে। পরিবারের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত মানুষকে আরও চাপের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।

মানসিক চাপকে আমরা খুব ভারী বা মোটামুটি ভারী কোনো জিনিসের সঙ্গে তুলনা করতে পারি। মোটামুটি ভারী কোনো জিনিস আমরা নির্দিষ্ট একটা সময় পর্যন্ত হাতে ধরে রাখতে পারব। এখানে জিনিসটির ওজন কোনো ব্যাপার নয়। ব্যাপার হচ্ছে আমরা কতক্ষণ এটি ধরে আছি। যত বেশি সময় ধরে থাকব, তত বেশি হাতটা অবশ হতে থাকবে। এই ভারী জিনিসটির মতোই হচ্ছে মানসিক চাপ। প্রচন্ড কোনো মানসিক চাপ একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আমরা সহ্য করে নিলেও নিতে পারি, কিন্তু সেই চাপের সময়সীমা দীর্ঘস্থায়ী হলেই বাঁধে বিপত্তি। মানুষ তখন সেই চাপ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য অস্থির হয়ে পড়ে। এরকম কোনো এক পর্যায়েই মানুষ আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।

অনেকসময় অন্যের মন খারাপকে আমরা পাত্তা দেই না। ভাবি হয়ত এটি সামান্য ব্যাপার, সাধারণ মন খারাপ। কিন্তু এভাবে চিন্তা করা মোটেও ঠিক নয়। চরম হতাশায় থাকা ব্যক্তির প্রতি আমাদের দায়িত্ব আছে। অস্বাভাবিক চাপের মুখোমুখি হয়ে অনেকেই আত্মহত্যার কথা ভাবে কিন্তু সেই ভাবনাটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাময়িক ভাবনা। তবে এই ভাবনাটাই যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তখুনি রোগী তা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যায়।

জীবনকে উপভোগের জন্য খ্যাতি-বিত্ত নয়, সস্তা বিনোদন কিংবা একঘেয়েমি জীবন নয়, বরং আনন্দের যে পথটা সেটা জানা দরকার, বুঝা দরকার। সেই পথ জানা থাকলে আপনাকে আর আত্মহত্যা করতে হবে না। জীবনে চলার পথে আত্মবিশ্বাস খুবই দরকার। আপনি চলে গেলে মানুষ ভুলে যাবে, পরিবারে শূন্যতা সৃষ্টি হবে। অথচ আপনি যদি সমাজের বাধা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন, নিজের মতো বাঁচতে পারেন তবে এই সমাজ, এই মানুষগুলোই মনে রাখবে আপনাকে।

শুধু একটাই ব্যাপার, এই সময়টা একজন প্রিয় মানুষের উপস্থিতি লাগে, যে সময়ে অসময়ে পাশে থাকবে। মানসিক সাপোর্ট দিবে, পরিস্থিতি বুঝতে চেষ্টা করবে।প্রতিটা মিনিট, ঘন্টা আমার কেয়ার নিতে ব্যস্ত থাকবে। সে কখনো আমায় ভুল বোঝবে না অহেতুক এই হঠাৎ মন খারাপের জন্য প্রশ্ন তুলবে না। মন খারাপের সময় বারবার মন খারাপের কারন জানতে চেয়ে আরও মন ভারী করে দিবে না। বরং আমার সময়টাকে রিকোভার করতে আপ্রাণ চেষ্টা করবে। বাস্তবতা ভিন্ন, বাস্তবতা কল্পনার মতো নয়।



মাঝে মাঝে আমরা অন্যকে ভালোবাসতে গিয়ে নিজেকেই ভালোবাসতে ভুলে যাই। মানুষটাকে উজার করে ভালোবাসা দিতে গিয়ে নিজের বলতে আর কিছু থাকে না। ভালোবাসার মানুষের কাছে আমরা নিজেদের তুচ্ছ করে ফেলি। মনে হয়, আর কিভাবে ভালোবাসলে সে আমাকে ছেড়ে যাবে না, সে শুধু আমাকেই ভালোবাসবে। নিজেকে তুচ্ছ করতে করতে নিজের সবটুকু মানুষটার কাছে বিলিয়ে দেই, নিজের বলতে তখন অবশিষ্ট কিছুই থাকেনা। নিজের প্রতি ভালোবাসা তো দূরের কথা, তার কাছে আত্মসম্মান বোধটুকুও আর থাকেনা। এই অবস্থায় মানুষটা যখন ছেড়ে চলে যায়, তখন কারো সাধ্য থাকেনা নিজেকে নিয়ে উঠে দাঁড়ানোর।

বলছি না, ভালোবাসতে কৃপণতা করতে। এটুকু বলছি, কাউকে ভালোবাসতে হলে, কাউকে সম্মান দিতে হলে, নিজেকে আগে ভালোবাসো। নিজের আত্মসম্মান বজায় রেখে কাজ করো। যখন নিজেকে সম্মান দিতে জানবে না, নিজেকে ভালোবাসতে ভুলে যাবে তখন অন্য আরেকজনের কাছ থেকে ভালোবাসা,সম্মান কিভাবে আশা করবে। যে তোমাকে সন্মান দিতে জানে না, সে আর যাই হোক তোমাকে সে ভালোবাসে না। তার সাথে তুমি কখনোই ভালো থাকবে না, নিজের সবটা উজার করে দিলেও না। 

নিজেকে সময় দেওয়া প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। নারী বা পুরুষ যেই হোক না কেন, নিজের যত্নটা নিজেকেই বুঝতে হবে। কারণ, জীবনের অনেকটা সময় থাকে শুধু নিজের জন্যই বাঁচতে হয়। নিজেকে নিয়ে মাঝে মাঝে একটু বসতে হয়, নিজেকে নিজে প্রশ্ন করতে হয়; আমি কি ঠিক আছি ? যা করছি ঠিক করছি তো ? উত্তরটা সহজে মিলে, কাজটাও সহজ হয়। জীবন তো একটাই, একান্ত আমার নিজের, এখানে হাজার মানুষের মতামত, ভালোলাগা-মন্দলাগার থেকেও বেশি প্রয়োজনীয় আমার নিজের ভালোলাগা-মন্দলাগা। কারণ, দিন শেষে তোমার মনের খোঁজটা তোমাকেই নিতে হবে। চোখের পানি গুলো তোমার গাল বেয়েই ঝড়বে। 

সোডিয়াম বাতি আর ভালোবাসার মায়ায় জড়িয়ে আবার কবে মধ্যরাতে গল্প করতে করতে হারিয়ে যাওয়া হবে তা আমরা কেউই জানিনা। হঠাৎ করে একদিন "নেই" হয়ে গেলাম... কী হবে তখন ? পৃথিবী এলোমেলো হয়ে যাবে, আকাশ ভেঙে পড়বে, সবাই খুব কাঁদবে, প্রিয় মানুষটি তোমার ভাবনায় পাগলের মত হয়ে যাবে, আজীবন আপনার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে জীবন কাটিয়ে দেবে? সত্যি কথা হচ্ছে, কিছুই হবে না! কিচ্ছু না। পৃথিবী যেমন ছিল, সেভাবেই চলবে। কেবল তোমার জীবন বাদে বাকি সকলের জীবনই সামনে দৌড়াবে। যাদের সাথে বাস করতে পরিবার, বন্ধু, প্রিয়জন- কয়েকটা দিন তাঁদের খারাপ লাগবে খুব। কিছুদিন হায়-আফসোস হবে, সামাজিক ব্যাপার গুলি ঘটবে..।
তারপর---

এসব আয়োজনের মাঝে কোন এক ফাঁকে টুক করে তুমি স্মৃতি হয়ে যাবে, দেয়ালে ঝোলানো ছবি হয়ে যাবে। সবাই ভুলে যেতে শুরু করবে, তুমি হয়ে যাবে অতীত। প্রিয়জনেরা কেউ ভাগ্যের পরিহাস হিসাবে মেনে নেবে, কেউ কেউ আরও কিছুদিন মনে মনে অপেক্ষা করবে তোমার ফিরে আসার। তারপর একটা সময় এমন আসবে- যখন কেউ আর অপেক্ষাও করবে না ! বিলিভ মি, এটাই হবে...। 

কিছুদিন বাদে সবচাইতে প্রিয় মানুষটিও শোক ভুলে কিছু একটা নিয়ে খুব হাসবে, তোমার প্রিয় খাবারটি পেট পুরে খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলবে। তাঁর মনেও পড়বে না যে তুমি নেই, তুমি হারিয়ে গেছো, না জানি কোথায় কেমন আছো ! আরো কিছুদিন বাদে তোমার প্রিয় মানুষটিরো আরেকজন প্রিয় মানুষ হবে, তুমি হয়ে যাবে প্রাক্তন, কিংবা প্রাক্তনের স্মৃতি ! লিখে রাখো- জীবনে কোন কিছুই চিরস্থায়ী না। আর প্রিয়জন...!!? প্রিয় থেকে অপ্রিয় হতে সময়ের ব্যবধানে সর্বোচ্চ কয়েকটা সেকেন্ড। 

পৃথিবীতে কেবল একটা জিনিসই সত্য... মৃত্যু। কিংবা ফুরিয়ে যাওয়া, নেই হয়ে যাওয়া...


যখন আপনি কারো সাথে সম্পর্কে জড়াবেন তখন খুব ভালোভাবে ভেবে নিবেন যে মানুষটাকে আজ আপনার জীবনের সাথে জড়াচ্ছেন তাকে কতোটা নিজের করতে পারবেন। বিশেষ করে সমবয়সের করো সাথে জড়ালে। 

বিয়ের সময় যদি আপনার মনে হয় আপনার পরিবার না চাইলে সেই মানুষটার সাথে সারাটা জীবন থাকা সম্ভব না তবে আপনার জন্য সম্পর্কে না জড়ানোই শ্রেয়। আপনি তাকে ভালোবাসেন সব জেনে বুঝেই, বিয়ের সময় যদি প্রশ্ন আসে আপনার বিয়ের কাবিন এতো টাকা হতে হবে, নাহলে লোক কি বলবে, পরিবার মানবে না কাবিন কম হলে, এই টাকায় সংসার চলবে না, সে কি আপনার খরচ বহন করতে পারবে কিনা..এরকম আরো অনেক প্রশ্ন...

যে ছেলে আপনার সমবয়সি তার পক্ষে নিজে ইনকাম করে ২০ লাখ টাকা কাবিনের টাকা পরিশোধ করে বিয়ে করা সম্ভব না, যে আপনার সমবয়সী তার পক্ষে বিয়ের শুরু তেই আপনাকে বিলাসিতায় রাখা হয়ত সম্ভব না, তার কাছে এটা এক্সপেক্ট করাটা ঠিক হবে না সে মাসে লাখ টাকা ইনকাম করবে আর আপনাকে রানীর মত রাখবে, সে অবশ্যই আপনাকে রানীর মতই রাখবে কিন্তু সেটা সে যে টাকা ইনকাম করে সেই টাকার মধ্যে। 

তার প্রতি আপনার ভালোবাসা, তাকে আপনি কতোটা বুঝেন, তার বর্তমান পরিস্থিতি কতোটা বুঝেন সেটার উপর নির্ভর করবে এই প্রশ্ন গুলো আপনার মাঝে আসবে কিনা...আপনি বলতেই পারেন জীবনের নিশ্চয়তা ভাবা কি অন্যায়...? অবশ্যই না, তবে ভালোবাসার মানুষের ক্ষেত্রে সেটা ভাবা টা যুক্তি সঙ্গত কিনা সেটা একটু ভেবে দেখা জরুরী। ভালোবাসার মানুষকে জীবন সঙ্গী করে পাচ্ছেন এটার চেয়ে যদি অন্য কিছুতে অনিশ্চয়তায় আপনার মনে চলে আসে তাহলে ভালোবাসাটা প্রশ্নবিদ্ধ। তাহলে আপনার এমন কাউকে ভালোবাসা উচিত ছিল যে সব দিক থেকেই আপনার যোগ্য, আপনার জন্য পারফেক্ত। ভেবে দেখুন তো যে মানুষটাকে আজ আপনি এরকম কথা হাসির ছলে বললেন সে হয়তো আপনার জন্য ব্যাটার কিছু করতে বাকি সব কিছু দূরে ছুড়ে ফেলেছে। সে হয়তো এমন কিছুর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যা আপনার অজানা। আপনার এই হাসির ছলে, মজা করে বলা কথাটি শুনার পর তার দীর্ঘশ্বাস, তার অসহায়ত্ব হয়তো কখনো আপনার চোখে পড়বে না। একটা ছেলেই শুধু জানে এই কথা গুলো কতোটা ব্যথিত করে তাকে, কতোটা অসহায় বোধ হয় তার মাঝে। এমন অনেক কিছু হয়তো আছে যা আপনাকে সে বলেই না আপনি তাকে অযোগ্য ভাববেন এই ভেবে। জীবনের কেউই পেরফেক্ত না, কিন্তু যে যাকে চায় তাকে সে নিজের মতো পেরফেক্ত করে নেন। আর কেউ হাত ছেড়ে অন্য কারো হাত ধরেন। আজকে যাকে অযোগ্য, পারফেক্ত না বলছেন কালই হয়তো সে পারফেক্ত, যোগ্য একজন মানুষ হয়ে যাবেন। শুধু সময়ের পার্থক্য...কিন্তু আপনার কাছ থেকে তার খারাপ সময়ের এই কথা গুলো তার মনে ঠিকই গেঁথে থাকবে। 

আপনাকে নিয়ে কয়েকশো বছরের অগ্রিম দেখা স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রনা সহজে মেনে নিতে পারে না সে,  কখনোই না, কেউ-ই মেনে নিতে পারে না। কাউকে ভালোবাসার আগে অন্তত একবার হলেও ভাবুন এই মানুষটি কেই নিজের ভাবতে পারবেন কিনা, তার সবকিছুকে মেনে নিতে পারবেন কিনা...।







মানুষ যত বেশি নিজেকে চিনতে থাকে,
ভিড় থেকে ততো বেশি দূরে সরে যায়।
অতিরিক্ত লোকজন ভাললাগে না তার,
অযথা মাতামাতি এড়িয়ে যায়।
অপ্রয়োজনীয় কথায় মন বসে না বেশিক্ষণ।
কাউকে কাছে ঘেষতে দেয় না- বরং দূরে ঠেলে দেয়।

ওরা একটা মুক্ত জেলখানার মতো হয়ে যায়,
দরজা বিহীন, দেয়াল বিহীন একটা মুক্ত জেল খানা।
সহজেই পালিয়ে যেতে পারে কিন্তু তাও সেখানেই আটকে রাখে সেখানে।
ওরা হুটহাট কারো সাথে কথা বলে না,
আবার যাদের সাথে বলে- সেখানে কথা শেষই হয় না।

আসলে ভিতর ভিতর নিজের সাথে ওরা এতো বেশি কথা বলে-
বাহিরে তার খুব সামান্য অংশই প্রকাশ পায়।
ওরা মাঝে মাঝে চলে যেতে চায়-
চলে যেতে চায় কোন এক অচেনা শহরে।
যেখানে কোন পরিচিত মুখ নেই।
এই শহরে অনেক পরিচিত মুখ-
অপরিচিত মুখ হয়ে সে ঘুড়ে বেড়ায়।

ওরা নিজের সাথে খুব সাচ্ছন্দ বোধ করায়-
অন্যের সাথে মিশে যেতে পারে না-
কিন্তু একবার মিশে গেলে ওদের থেকে ভালো সঙ্গী পাওয়া দুষ্কর।

ওরা নানা বিষয় নিয়ে পারদর্শিতার সাথে আলোচনা করতে পারে-
বাহ্যিক পৃথিবী ছাড়াও ওদের আলাদা একটা জগত থাকে।
যেখানে খুব যত্ন করে সাজিয়ে রাখে ভালোবাসা।

ওরা অসুস্থ বা মানসিক রোগে আক্রান্ত নয়-
ওদের সমস্তটা একটা বাঁধ দিয়ে আটকিয়ে রাখে,
বাঁধ খুলে দিতে পারলে দূর_দুরান্ত পর্যন্ত ভিজিয়ে দিতে পারে।
তফাৎ ওই বাঁধ সবাই খুলতে পারে না।
হ্যাঁ, ওই বাঁধ  সবাই খুলতে পারে না...।। 

মনে হয় মৃত্যুর মিছিলে সামিল হয়েই গেলাম,
যেটুকু ছিলো রাগ অভিমান সবটুকু যেও তবে ভুলে,
ভুলে গিয়ে যতো অভিযোগ,অনুযোগ ফেলো না হয় দু ফোঁটা চোখের জ্বল, 
নয়তো দীর্ঘ নিঃশ্বাস...
শেষ বিদায়ের বেলায় দূর থেকেই না হয় শেষ বার বলে দিও ভালোবাসি।

মৃত্যুর আলিঙ্গনে দেহ ত্যাগ করে যদি চলেই যাই,
আমায় তবে অন্তরে রেখো, স্মৃতির কোটরে রেখো ,
মনের পরতে পরতে রেখো।
আর যেটুকু ছিলো মান অভিমান সব ফানুসের মতো আকাশে উড়িয়ে দিও।
ভুলে যেয়ো তিক্ত কথা-
অনুরোধ রইলো অভিমান রেখোনা মনে।
কখনো খুব বেশি মনে পড়ে গেলে না হয় চোখের জ্বল দিয়েই আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো!

কাছে এসে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ তো আর হবে না এ মৃত্যু বেলায়,
হয়তো সুযোগ হবে না কাছে এসে দেখার-
তাই দূর থেকেই ধ্বনি তুলো ভালোবাসি।
মন দিয়েই ছুঁয়ে দিও দূর থেকে,
মন দিয়ে মনকে জড়িয় ভালোবাসায়।
প্রার্থনায় জমিয়ে রেখো আমায় নিয়ম করে।
অভিশাপটা না'হয় ঝেড়ে ফেলো দূরে।

যতো দূরেই যাই না কেনো চলে!
কারণে-অকারণে,নিয়ম-অনিয়মে,
ভুল করে কিংবা সচেতন খেয়ালে-
'ভালোবাসি' শব্দটার মাঝেই আমাকে রাখিও বাঁধি,
ভুলে যেতে যেতেও বেলা শেষে বলে দিও 'তবু ভালোবাসি'!

জীবনের অর্থই হচ্ছে একটি যাত্রা। যে যাত্রাপথে আপনার সাথে হাজার মানুষের দেখা হবে, কথা হবে, আপনার সাথে বন্ধুত্ব হবে আবার তা চোখের পলকে ভেঙে ও হারিয়ে যাবে। জীবনের সবটুকু পথই সুন্দরভাবে কাটবে তা কিন্তু নয়। কারণ আপনি খারাপ সময়ের দেখা না পেলে সুখের মূল্য বুঝবেন না। তেমনি জীবন পথে অতিবাহিত হওয়া কঠিন সময় আপনার সংস্পর্শে না এলেও আপনি ভেতর থেকে কতটা আত্মবিশ্বাসী আর নিজের প্রতি আস্থা রাখতে পারেন তাও বুঝে উঠতে পারবেন না। কঠিন সময় কখন আসবে তা যেমন কেউ জানেনা তেমনি সেই সময়ে কী করতে হবে সেটাও বলা যায় না। কেউ ভাবেন এই সময় আর শেষ হবার না। নিজের প্রতি নিজের এই কম আত্মবিশ্বাস আপনার জেতা বাজিটাও মাঝে মাঝে হারিয়ে দেয়।

মানুষ একাকী বাঁচতে পারে না। যাবতীয় দুঃখ কষ্ট আর বিপদের দিনে কাছের মানুষ গুলোই তার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় সবার আগে। মানুষ  একা থাকতে পারে না বলেই একাকিত্ব অনেক সময় অসহনীয় হয়ে ওঠে। সেই একাকিত্ব ঘোঁচাতেই শুধু নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও প্রয়োজন কাছে থাকার, পাশে থাকার মতো একজন মানুষ। যে সব কিছুতে সময়ে অসময়ে পাশে থাকবে, বিপদে ভরসা দিবে।

সম্পর্ক জীবনের বৈচিত্র্যময় আনন্দকে চিনতে সাহায্য করে। প্রিয় কারো সঙ্গে  সময় কাটানো নিশ্চয় স্মৃতিকে পরিপূর্ণ করে। কিন্তু তার মানে এই নয়, জীবন  সবার একই রকম কাটবে বা সবসময় একই রকম যাবে। কখনো কখনো একাকীত্ব অপরিহার্য হয়ে  উঠে। এ একাকীত্ব নিজেকে বোঝাপড়ার জন্য খুবই দরকারী। একাকীত্ব মানুষকে এমন  অভিজ্ঞতা দেয়, যা অন্য কোনোভাবে অনুধাবন করা সম্ভব নয়। একাকীত্ব ভয়ংকর এক অসুখ যা তোমাকে জ্বালাবে পোড়াবে, কিন্তু মারবে না। প্রতি মুহূর্তে মনে করিয়ে দেবে তুমি সবার মতো হতে পারোনি, তোমার মতো কেউ নেই। অদৃশ্য এই অসুখ তোমাকে কুরে কুরে খাবে কিন্তু তোমার শরীরে রক্তে তার কোনো  চিহ্ন থাকবে না। তাই কেউ ধরতে পারবে না তোমার অসুখ, তোমার কষ্ট । তুমি জ্বলে, পুড়ে ছাই হবে। সেই ছাই থেকে ফিনিক্স পাখির (ছাই থেকে বারবার জন্ম যে পাখি) মতো আবার জন্মাবে। তোমার রক্তক্ষরণ, ধ্বংস হয়ে যাওয়া কেউ বুজবে না, কেউ বুঝবে না তোমার একাকীত্ব। 

অতিরিক্ত মন খারাপ হলে মানুষ একেবারে নীরব নিথর হয়ে যায়। একা থাকতে ভালোবাসে। কারণ তখন তার সমস্যাকে নিজের মত করে কেউ দেখে না কিংবা মূল্যায়ন করে না। তাই মন খারাপের বেলায় একাকীত্বই হয় মানুষের একমাত্র সঙ্গী। একা থাকতে থাকতে একটা সময় একাকীত্বের মাঝে নিজেকে সপে দেয়। সে নিজেও বুঝতে পারে না সে কিভাবে জীবন যাপন করছে। .

নিঃসঙ্গতা বলতে সাধারণত একাকী থাকা বা নির্জনতাকে বুঝালেও মূলত এটি একটি  মানসিক অবস্থা। যখন মানুষ শূন্যতা অনুভব করে এবং সবার কাছ থেকে নিজেকে  গুটিয়ে রাখে তখন নিঃসঙ্গতা দেখা দেয়। নিঃসঙ্গতায় ভোগা মানুষেরা অনেক সময়  অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলেও তাদের মানসিক অবস্থার কারণে তা পারে না। মানসিক অবস্থার পরিবর্তন একদিনে হয় না, একটু একটু করে হোঁচট খেতে খেতে হয়। নিজের মনের সাথে, ইচ্ছের সাথে হেরে যেতে হয়। যদি নিজের কথা একটু বলি তাহলে বলতে হয়- গত ৭০ দিন আমি একা একটা বাসায় ঢাকা অবস্থান করছি। অনেকটা পরিস্থির জন্য। চাইলেই হয়তো এই পরিস্থিতির দোহায় না দিয়ে পরিবারের কাছে চলে যাওয়া যেত। কিন্তু কোন এক কারনে যাওয়া হয়নি। যাওয়া হয়নি বললে ভুল হবে, ইচ্ছে করেই যাই নি। হোক সেটা পরিবারের প্রতি অভিমান বা অন্য কিছু। আমার কি এই সময় গুলো ভালো কেটেছে? একা একটা বাসায়, বুয়া নেই, কাজের লোক নেই, কথা বলার একজন মানুষ নেই। একটা মানুষের কতোটা নিজের প্রতি অভিমান, অভিযোগ থাকলে এতোটা একা হয়ে যেতে পারে...!! বড্ড ব্যস্ত জীবনে একাকীত্বের চতুর থাবা আজ বারে বারে বিপর্যস্ত করছে। এই একাকীত্ব যাতে না আসে, একে নির্মূল করতে নিজেকে ব্যস্ত রাখার কতই না চেষ্টা করি। একাকীত্বের মাঝে নিজের সত্ত্বাকে বিলিয়ে দিয়েছিলাম, এতোটাই সপে দিয়েছিলাম যে প্রিয় মানুষ গুলোর সাথে সময় কাটানো কেমন হয় সেই অনুভূতি গুলোই ভুলে গিয়েছি। ভুলে গিয়েছি শেষ কবে প্রিয় মানুষের সামনে গিয়েছিলাম, শেষ কবে বাড়ি গিয়েছিলাম, ভুলে গিয়েছি শেষ কবে মন থেকে হেসেছিলাম। একাকীত্বের মাঝে ডুবে গিয়ে ভুলে গিয়েছি আমি এখনো জীবিত একজন মানুষ। এই মুহূর্ত গুলো মানুষ মানুষকে খুব ভালোভাবে চিনতে সহায়তা করে। একাকীত্ব মানুষকে খুব ভয়ংকর কিছু অভিজ্ঞতা দেয়...।। জীবন যাত্রার ভিন্নতার সাথে ঘুণপোকার বাসার মতোই আজ অন্যতম অপ্রতিরোধ্য সঙ্গী হয়ে উঠেছে একাকীত্ব। 

আগামিকাল জীবনে কী ঘটতে যাচ্ছে তা কেউই জানি না, হতে পারে এই লিখাটাই শেষ লিখা। তারপরেও এই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের কল্পনার শেষ নেই। আর এই কল্পনা মাঝে মাঝে গিয়ে দাঁড়ায় চিন্তা আর জীবনকে কঠিন করার মাধ্যম। 

যোগ্যতা প্রমানের খেলায় আমি ক্লান্ত। ভালো স্কুল, ক্লাসে দশের মধ্যে থাকো, ভালো কলেজে পড়ো, গোল্ডেন পাও, ভালো ভার্সিটি, ভালো সাবজেক্ট, অনার্স তো সবাই পড়ে আরো পড়ো আরো পড়ো, CA-পড়ো ভালো বেতন পাবে,  CMA, CFA, CPA- করতে পারলে তো কথাই নেই, পারলে  Merchandising-এ Join-করো দেখবা টাকা আর টাকা। পড়তে পড়তে  ভাবো বিদেশ যাবে নাকি দেশে সরকারি চাকরি করবে, ভেবে প্রিপারেশন নেয়া শুরু করো। বিদেশ গেলে আরো পড়ো, নতুন জীবন নতুন জায়গা নতুন সংগ্রাম। দেশে থাকলে নিয়োগের গ্যাড়াকলে পৃথিবীর সব বিষয়ে জ্ঞানী হতে হতে বুড়ো হও। একদিন অফিসার হয়ে যাবা মুখে কুলুপ এটে যাবতীয় সব সুবিধা পাবা, বেসরকারি চাকরিতে পয়সা আছে স্বাধীনতা আছে দুই দিন পর পর সিভি রেডি করো কোম্পানী শিফট করো বেতন বাড়াও প্রতিদিন নিজেকে প্রমান করো নাহলে ব্যাকডেটেড হয়ে বাদ পড়ে যাও। এভাবেই ছুটে বেড়াও যোগ্যতার পরিধি আরও বড় করতে, জীবনে বড় কিছু করতে হলে ছুটতে হবে, অনেক ছুটতে হবে। 

জীবনে যে রঙ টুকু দিয়ে আঁকা স্বপ্ন ছিল, যোগ্যতার পিছনে ছুটতে গিয়ে আজ তার সবই ধূলোয় মিশে একাকার। সেই সপ্ন গুলো আর স্বপ্ন হয়ে আমার চোখে আসে না। আলো আঁধারের জীবনে হারিয়ে গেছে জীবনের আলো। সেই যে শুরু এই শহরের সাথে যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়া, সেই সাথে হারিয়ে ফেলা নিজের অস্তিত্ব। আস্তে আস্তে ডুবে যাওয়া মিথ্যে হাসির হাঁসি হেসে নিজেকে সজাক রাখা। হারিয়ে গিয়েছে ঠোঁটের কোণে সেই হাসি টা। স্বপ্নের পিছনে ছুটতে গিয়ে নিজেকেই অনেকটা হারিয়ে ফেলেছি। খুব গোপনে আমি দুঃখে ভাসি, ভিতরটা অন্য রকম এক শুন্যতা। মনের কথা, স্বপ্ন, আশা গুলো মনে জমা রয়ে যায়। যে চোখ ছিল সরল-সহজ, সেই চোখের ভাষা হারিয়ে জমেছে কঠিন নীরবতা। হারানোর শেষ সীমানায় এসে আজ বেঁচে থাকার আশাটা হারিয়ে ফেলেছি। সব ছেড়ে লুকাতে ব্যস্ত নিজেকে, চলে যেতে হয় অজানা প্রান্তে।

এমন জীবনের স্বপ্ন তো আমি দেখি নাই মা...! আমি তো একটু আমার মতো বাঁচতে চেয়েছিলাম। একটু মাটি হাতাবো, একটু গাছে চড়বো, একটু ঘাসে বিশ্রাম নিবো, পুকুরে সাতার কাটবো। আমার তো দু'টো ডাল-ভাতেই হয়ে যায়। এই বার্গার, পাস্তা, এসি, ফ্রিজ, ফ্ল্যাট, গাড়ি, ইট কাঠ পাথরে আমাকে কখন জড়ালে...? এতো মানুষকে আমি কেনো চিনলাম, এতো আঙ্গুল কেনো আমার দিকে...? যেখানে মানুষের চেয়ে মানুষ মানুষের যোগ্যতাকে বেশি ভালোবাসে। 

মৃত্যু কি পারবে আমাকে তোমাদের হাত থেকে মুক্তি দিতে? আমি তোমাদের সাফল্যের হাত থেকে আমার জীবন ভিক্ষা চাই। তোমাদের সমালোচনার হাত থেকে আমার শুদ্ধ নিশ্বাস ভিক্ষা চাই। আমি তোমাদের সবার থেকে দূরে, সবার চিন্তা বাদ দিয়ে একটু বেঁচে থাকতে চাই। এ সমাজ আমাকে বাঁচতে দিবেনা প্রতিজ্ঞা করেছে... আমি তোমাদের সবার মতো বেঁচে থাকার প্রতিজ্ঞা করতে পারছিনা।

যোগ্যতা প্রমানের খেলায় আমি ক্লান্ত। এ জীবনের স্বপ্ন আমি কোনদিন দেখিনি, কখনোই না...।

ছোটবেলায় অনেক কিছু করতে চাইতাম, পারলে সব করতে চাইতাম। কেবল স্কুলের কোন বিষয়ে কিছু লিখতে বললেই দুনিয়া উল্টে ফেলতাম। লেখার প্রতি কেমন যেন এক চরম বিতৃষ্ণা ছিল সেসময়। কেন এরকম ছিল সেটা সত্যিই আমার জানা নেই। পেনসিল দিলে কলম দিয়ে লিখতে চাইতাম আর কলম দিলে পেন্সিল দিয়ে। পেন্সিল ধরলেই ইঁদুরের মতো শুরু করতাম কামড়ানো। খাতা ভরে আকাআকি করতাম, তবু লিখব না কিছুতেই।

এখন ভাবলেও হাসি পায়। এখন তো লেখা ছাড়া নিজেকে কল্পনাও করতে পারি না। ডান হাতটা একটু ব্যাথা করলে বা কাটলেও রাগ লাগে যদি ল্যাপটপ এর কীবোর্ড ধরতে না পারি। আমার এই ভার্চুয়াল লিখাবন্ধু আমায় কোনো দিন ধোঁকা দেয় না যে...! যেকোনো হাসি–কান্না, ভাল-খারাপ লাগার অনুভুতি, জীবনে যা কিছুই ঘটুক, সব কিছুতে এই ভার্চুয়াল কাগজ–কলম আমার সব সময়ের সঙ্গী।

কেন লিখি...!! প্রশ্নটা একটু বেশ কঠিন আমার কাছে। যেমন কেউ যখন  জিজ্ঞেস করলো- কেমন আছেন...? এর উত্তর দায়সারা ভাবে দিলেও সত্যিকার অর্থে কি দিতে পারি...? আসলেই পারা যায় না। প্রতিদিন আমরা এরকম প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছি আর নিজেকে প্রশ্ন করছি। এমন তাগিদ বোধ থেকে বলা খুব মুশকিল কেন লিখি। নিজেকে প্রশ্ন করার মতো বলি- "লিখি নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য, নিজের মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য, জীবনের প্রতিটা ধাপ-সময় কোন এক জায়গায় লিপিবদ্ধ করে রাখার জন্য, জীবনকে কিছুটা বোঝার জন্য, জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি গুলো পাঠককে বিলিয়ে দিয়ে নিজেকে মিলিয়ে নেয়া। লেখাকে আনন্দ-দুঃখ সমান ভাবে উপলব্ধি করি। আমার অনুভূতি প্রকাশ না করতে পারলে কষ্ট পাই, সেই প্রকাশের মাধ্যম টাই এই আবোল-তাবোল, অগোছালো কিছু লেখা-লেখি। খুব প্রিয় মানুষটির সাথেও হয়তো মন নিংড়ানো সব কথা বলা যায় না। কথা বলার সময় নিজের সবটা সঠিক ভাবে প্রকাশ করতে যতোটা না কষ্ট হয় তারচেয়ে বেশি কষ্ট হয় পরবর্তীতে কথা গুলোর ভুল ব্যাখ্যা শুনে। কারো কাছে নিজের খারাপ লাগার সময়টা শেয়ার করে পরবর্তীতে সেই খারাপ সময়ের ভুল ব্যাখ্যার সাথে তীর ছোড়া কথা বেশি কষ্ট দেয়, স্তব্ধ করে দেয়। এটা ভাবতে বাধ্য করে-"নিজের কথা গুলোকে, নিজের মনের ভাবটাকে নিজের মাঝে ধামা চাপা দিলেই হয়তো ভালো হতো।"  অর্জিত অভিজ্ঞতা আর অপারগতা এই লেখার মধ্য দিয়েই প্রকাশ করি।

আগে প্রতিদিনের কোনো একটা সময় বের করে ফেলতাম কাজের ফাঁকে। বর্তমান ব্যস্ততা আমাকে এতটাই আচ্ছন্ন করে রেখেছে যে, চাইলেও মনমতো পর্যাপ্ত সময় নিয়ে পড়তে পারি না, মনের ভাবটা প্রকাশ করতে পারি না। লিখতে পারি না অনেক কিছুই। ব্যক্তিগত লাইব্রেরির দিকে তাকালে শুধু আক্ষেপ হয়, হায়, কত পড়া বাকি এখনও!

‘মানুষের চেয়ে কাগজের, লেখার ধৈর্য বেশি’। এর সঙ্গে নিজের কথা যোগ করে বলি, কাগজ - লেখাকে হয়তো মানুষের চেয়ে বিশ্বাসও করা যায় বেশি।


জানি,পৃথিবীর সব কোলাহল ছেড়ে-
একদিন চলেই যাবো দূর বহুদূরে,
ফিরে আর আসা হবে না,
প্রাণ খুলে আর হাসা হবে না,
নিঃশেষ হয়ে যাবে এই অস্তিত্ব চিরতরে।
একদিন চলেই যাবো সবকিছু ছেড়ে।

কেউ যাবে না আমার সাথে-
আমি একাই চলে যাবো একদিন,
তুমি সমস্ত পৃথিবী জুড়েও খুঁজে পাবে না,
হয়তো ভুলে যাবে কয়েক মিনিট বা কিছু দিন পর। 
আমি রেখে যাবো কিছু স্মৃতি তোমার জন্য-
ভাবতে পারো আমার অসমাপ্ত ভালোবাসা এটা,
আমি থাকবো না তবুও-
আমার স্পর্শ টুকু অনুভব করে নিও , 
জানি না সেদিনও কি আমার এই ভালোবাসা টুকু-
অবহেলিত থাকবে তোমার কাছে ...!!?? 

জানি, সেদিন আমায় কেউ রাখবে না মনে-
ভুলে যাবে আমার কথা খুব গোপণে।
দূর হতে দেখবো সেদিন অলক্ষ্যে দাঁড়িয়ে
বর্ণিল স্মৃতি গুলো গেছে অতীতে হারিয়ে।
ব্যস্তময় নির্মম বাস্তবতার ভীড়ে
জানি, হারিয়ে যাবো আমি চিরতরে।

হয়তো, থাকবো না সেদিন প্রিয় কোন বন্ধুদের আড্ডায়
কিংবা স্বজনদের পারিবারিক আলাপচারিতায়,
বা তোমার আনমনে ভাবনায়-
হয়তো, আমার ছবি দেয়ালের কোণে পাবে শোভা,
বছর পার হতেই বড়জোর একটা স্মরণ সভা।
তারপর, আমি আর নেই তোমাদের ভীড়ে
হারিয়ে যাবো মন থেকে চিরতরে।

অধরা স্বপ্নটা বুকে নিয়েই-
আমি হারিয়ে যাবো চিরতরে...।। 

আচ্ছা একটা মানুষের সবচেয়ে নোংরা অভ্যাস কি..? আমার মতে ইগো, জেদ।কোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইগো ঋণাত্মক প্রভাবক হিসাবে কাজ করে, কখনোই ভালো কিছু নিয়ে আসবে না । যতবেশি ইগো থাকবে ততবেশি সম্পর্ক খারাপ হবে এতা প্রমাণিত।

ধরুন, আপনারা দু'জন দু'জনকে ভালোবাসেন। কিন্তু কোনো কারণে একে অপেরের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন কেউ কাউকে স্যরি বলতে রাজি না।
এখন দু'জনেরই প্রশ্ন হলো:-
আমি কেন আগে কথা বলবো !? আমাকেই কেন প্রতিবার স্যরি বলতে হবে, সম্পর্কটাকে এগিয়ে নিতে হবে...? অর্থাৎ, আপনাদের মাঝে তৃতীয় জন হিসাবে ইগো, জেদ প্রবেশ করলো। সম্পর্কের চেয়ে ইগো অনেক বেসি দামি হয়ে গেলো। আপনি সম্পর্ক টাকে যতোটা না ভালোবাসেন তার চেয়ে বেশি ভালোবাসেন আপনার জেদ আর ইগো কে।

আচ্ছা আসলেই কি ইগো দামি, কতোটা দামি...?
তাহলে আপনার ফেসবুকের সার্চলিষ্টের প্রথমে প্রিয় মানুষটার আইডি কেন...? কেন বার বার চেক করা হয় ঐ আইডিটা...? কেনই বা রাত নামলে আপনাদের আত্মার তীব্র আর্তনাদ শুনা যায়...? কেনই বা বারবার চেক করেন সে কোন পোস্ট করেছে কিনা...? এসকল প্রশ্নের কোনো উত্তর আছে আপনার কাছে...? থাকবে বা কি করে আপনারা তো দুই'জন দুইজনকে সবসময় নিজেকে সুখী ও ব্যস্তময় আছেন দেখানোর নোংরা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, ভালো আছেন এটা দেখাতে ব্যস্ত। দু'জনেই এমন ভাব দেখাচ্ছেন যেন দু'জনেই অনেক ভাল আছেন। আসলে কতোটা ভালো আছেন তা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে চোখ কে জিজ্ঞাস করুন।ইগো দেখিয়ে কথা না বলাটা কোনো স্মার্টনেস না। ইগোপ্রবণ মানুষরা অনেক সময় সেল্প রেসপেক্ট ব্যাপারটিকেও ইগোর সাথে মিলিয়ে ফেলে। 

একটা সম্পর্ক তৈরি করা কিন্তু খুব একটা কঠিন না। কঠিন কিন্তু এতো টাও না যতটা কঠিন ঐ সম্পর্কটাকে অটুট রাখা, টিকিয়ে দুইজন সুখে থাকা। ঝগড়া করে কথা বন্ধ রেখে আসলে কি হয় ! দূরত্ব বেড়ে যায় নিজেদের মাঝে, একটা সময় সেই দূরত্ব পাহাড় সমান হয়ে দু'টি পথ দু'দিকে চলে যায়। টিকিয়ে রাখার যদি ইচ্ছেই থাকে, যদি সত্যি তার জন্য ভালোবাসা থেকেই থাকে ,একজন না একজন ঠিকই দুইদিন পরে গিয়ে সরি বলে। ইগো ভেঙ্গে সরি যেহেতু বলবেনই, তাহলে ২ দিন কথা বন্ধ রাখার কিছু আছে ? ভাবুন তো একবার...

ইগো দেখিয়ে যে মানুষটার সাথে দূরে সরে আছেন সেই মানুষটার ভালো দিক যেমন আপনাকে আনন্দ দিয়েছে, খারাপ দিক আপনাকে কষ্ট দিবে - এটাই স্বাভাবিক। আপনি ভালো দিক, ভালো ব্যবহার মেনে নিবেন কিন্তু খারাপ কিছুই মানতে পারবে না তা তো হয় না। হাতের পাঁচ আঙ্গুল কখনোই সমান হয় না, তেমনি একটা মানুষের বর্তমান পরিস্থিতি, মনের অবস্থা এক হয়না। যে মানুষটার কথায়, ব্যবহারে আপনাকে কাঁদাচ্ছে, যার কথায় আজ চোখে জ্বল চলে আসছে, যার ব্যবহারে তাকে আজ ঘৃণার চোখে দেখছেন ভেবে দেখেন তার জন্য আপনি জীবনের অনেক কঠিন কঠিন সময়ে হেসেছেন, সে আপনাকে হাসিয়েছে, মানসিক ভাবে সাপোর্ট দিয়েছে। ভেবে দেখেন এই মানুষটা আর সেই মানুষটা একই মানুষ কিন্তু আপনি তার বর্তমান অবস্থা, মনের পরিস্থিতি না বুঝে তার থেকে দূরে সয়ে ঠিকি গিয়েছেন, আপনি ইগো টাকেই বড় করে দেখেছেন। কখনো হয়তো এটা বুঝতে চাননি এই মানুষটার হয়তো এখন সময় খারাপ যাচ্ছে, হয়তো সে অনেক বাজে পরিস্থিতিতে আছে। বুঝতে চাননি তার পাশে আপনার এখন থাকাটা বেশি প্রয়োজন, তাকে একটু মানুষিক ভাবে সাপোর্ট দেওয়া আপানার দরকার। এগুলো কিছুই না করে রাগের মাঝে তার কথা গুলো শুনে ঠিকই আপনি তার জীবন থেকে সরে গিয়েছেন। আপনার ভাষ্য মতে এটা কে কি ভালোবাসা বলে...?

আপনাকে বুঝতে হবে, রাগ-ঝগড়া-কথা কাটাকাটি ছাড়া কখনো কোনো সম্পর্ক হয় না। এটা সম্পর্কের একটা অংশ। কিন্তু, আপনি যাকে ভালোবাসেন বা আপনাকে যে ভালোবাসে তার সাথে সামান্য ঝগড়াতেই সম্পর্ক শেষ করে দেওয়ার সিধান্ত নিয়েছেন। তবে এটা ধরে নিন আপনি যাকে ভালোবাসেন তার চেয়ে আপনার ইগো, জেদ, আত্মসম্মান বোধ টাই বড়। সে আপনার জীবনে থাকুক বা না থাকুক তাতে আপনার কিছু আসে যায় না।

সবসময় নিজের দিক ভাবলেও চলে না। অনেক সময় অপর পাশের মানুষটির কথাও ভাবতে হয়। আপনি যে মানুষটার সাথে জড়িয়ে আছেন সে মানুষটার উপর আপনার যেমন অধিকার আছে তার যেকোন বিষয়ে কথা বলার, ঠিক তেমনি আপনার বিষয়েও কথা বলার অধিকার সে রাখে। যদি আপনি ভেবেই থাকেন আপনার সব কিছুর সিধান্ত আপনি একা নিজে আর আপনার বাবা-মা নিবে তাহলে আপনার ভাবা উচিত আপনার সাথে আরেকটা মানুষ জড়িত। তার কথাও আপনাকে ভাবতে হবে, আপনাকে ভাবতে হবে তারও কোন সিন্ধান্ত দেওয়ার থাকতে পারে আপনাকে নিয়ে। সে চাইতেই পারে আপনার সবচেয়ে কাছের মানুষটি যেন সে হয়, আপনার কোন বিপদে সেই যেন সবার আগে উপস্থিত হতে পারে, সে চাইতেই পারে আপনাকে চোখের আড়াল না করতে। আপনি সর্বদাই চাইবেন জিততে, সর্বদাই চাইবেন আপনি সবসময় আপনার সিদ্ধান্তটাই উর্ধ্বে থাকতে। আপনাকে সে কিচ্ছুটি বলতে পারবে না, কিন্তু কেনো..? 

ভালোবাসার সম্পর্ক হোক বা অন্য কিছু ইগোকে কখনোই প্রশয় দিতে নেই। দেখবেন আপনার সাময়িক ইগো, জেদ এর জন্য তার জীবনের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। তখন তার কাছে ফিরে এসেও তাকে আগের মতো হয়তো পাবেন না।

কি হবে প্রিয় মানুষটার কাছে নিজের পার্সোনালিটি লস করলে ?  এর জন্য আপনার আত্মসম্মান কমবে না বরং বাড়বে। আমার তোমাকে ছাড়াও চলবে এই চিন্তা না করে বরং এই চিন্তাকে গলা টিপে হত্যা করে বাক্সবন্ধি করে পানিতে ভাসিয়ে দিন, যদি তার সাথেই থাকতে চান, তাকে মন থেকে আসলেই ভালোবেসে থাকেন। কোনো কিছুকে নেগেটিভভাবে না নিয়ে পজিটিভভাবে নিন। দেখবেন আপনার জীবন শান্তিতে ভরপুর, সাথে আপনার প্রিয় মানুষটিরও।

তোমাকে দেবার মতো আমার তেমন কিছু নেই-
যা কিছু আছে তা অতি নগন্য...!!
তবু চাইলেই দিতে পারি তোমায়-
দু'আঙুলে জড়ানো প্রেম, মুঠো ভর্তি স্বপ্ন-
আর সুপ্ত কিছু অনুভূতি।

তোমাকে দেয়ার মতো আমার বেশী কিছু নেই,
আছে তোমাকে নিয়ে আমার কিছু অসমাপ্ত কবিতা-
যার নাম দেওয়া হয়নি আজো-
নীল চিরকুটে তোমায় ভেবে লেখা আমার অব্যক্ত কথা,
কিছু দুপুর ভর্তি নিরবতা।

তোমাকে দেয়ার মত আমার তেমন কিছু নেই,
নেই তোমাকে নিয়ে Mercedes বা Audi- তে করে এখানে সেখানে ঘুড়ে বেরানোর মতো প্রাচুর্য,
আমি হয়তো তোমার জন্য এতটুকুই পারবো,
আমার কোলে মাথা রেখে দশ টাকার বাদাম আর নুনে তোমায় প্রতিটা সূর্য অস্ত দেখাতে,
চাদনি পসর রাতে পাশাপাশি হেঁটে লুটোপুটি জ্যোৎস্নায় ভিজতে।
সাথে দু'পাতা টিপ, এক লাঠি কাজল, কিছু চুল বন্ধনী
কয়েক ডজন নীল চুড়ি, একটা নীল শাড়ি আর
ছোট্ট একখানা কুঁড়োঘরে শুয়ে আমার বুকের পাটাতনে
বিছানা পেতে
তোমায় সুখেরী এক নির্ঘুম নগরীতে পৌঁছে দিতে।

তোমাকে দেয়ার মত আমার কিছু নেই,
বিলাসিতার চাদরে লুকানোর মতো অট্টালিকা।
আমি হয়তো পারবো-
কোন এক ঝুম বৃষ্টিতে এক গুচ্ছ কদম ফুল নিয়ে তোমার সামনে দাঁড়াতে,
নিজ হাতে তোমার পায়ে পায়েল পড়িয়ে দিতে-
তারপর কিছুটা সময় পাশাপাশি ভিজে বৃষ্টি বিলাস করতে।

দেখো, তোমাকে দেয়ার মতো আমার যে এর থেকে বেশী কিছু নেই,
যা কিছু আছে অতি নগন্য!
তবু চাইলেই আমাকে দিয়ে দেবো তোমায়।

ডিপ্রেশন নাকি মন খারাপ, এটা আমাদের অনেকের কাছেই একটা বড় ধাঁধা। অনেকসময়ই আমরা বুঝে উঠতে পারিনা আমাদের মনের আসল অসুখটা ঠিক কী? রেজাল্ট খারাপ বা খেলতে গিয়ে ম্যাচ হেরে যাওয়ার দুঃখ কিন্তু ডিপ্রেশন নয়। বহুদিন ধরে পারিপার্শিক অনেক কঠিন অবস্থার সঙ্গে ঝুলতে ঝুলতে, নিজেকে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি আমরা অনেকেই। আর এখান থেকেই শুরু হয় যাবতীয় সমস্যা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অতীতের অনেক না পাওয়া বা হেরে যাওয়া বা আশানুরূপ ভবিষ্যৎ সামনে ধরা দিবে কিনা এই চিন্তা গুলোই আমাদের ডিপ্রেশনের জন্য অনেকাংশে দায়ী। আর এই দৈনন্দিন সমস্যা গুলি আমাদের মাঝে একটু একটু করে জমতে থাকে, জমতে জমতে একটা সময় ঘোরের মধ্যে চলে যাই; যেখান থেকে আর কাটিয়ে উঠতে পারি না।

ডিপ্রেশন নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রতিটা মানুষ কোন না কোন এক জায়গায় অসম্পূর্ণ, যেখান থেকেই ডিপ্রেশন এর জন্ম।যার হয়তো টাকা নেই তার টাকার জন্য, যার টাকা আছে কিন্তু মনের সুখ নেই, তার মনের সুখের জন্য। যার বাবা - মা নেই তার বাবা মায়ের জন্য, আবার যার বিয়ের ১৫/২০ বছরেও সন্তান হয়নি তার সন্তানের জন্য। বেকার ছেলেটির চাকরির জন্য, কখনো বা নিজের প্রিয়তমার বিয়ে হয়ে যাবে নিজের যোগ্যতার কমতির জন্য। বিয়ে উপযুক্ত মেয়েটির ভালো একটা চাকরী কিংবা ভালো একজন স্বামীর জন্য। আবার একই ছাদের নিচে বছরের পর বছর বাস করে কেউ কাউকে না বোঝার জন্য, কখনো বা পরিবারের কাছে থেকেও মনে হওয়া হাজার মাইল দূরে।

ডিপ্রেশন কখনো এক প্রকারের হয় না, যার যেটা নেই তার সেটার জন্যই ডিপ্রেশন! প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড়ের তাল মেলাতে গিয়ে আমরা প্রত্যেকেই হাঁফিয়ে উঠি একটা সময়ের পর। আমাদের পারিপার্শিক সমাজ যত আধুনিক হচ্ছে, প্রতিযোগিতাও ততই বাড়চ্ছে এবং পাল্লা দিয়ে বাড়চ্ছে আমাদের মানসিক সমস্যা গুলিও, এবং বেড়েও যাচ্ছে। 

শুধুমাত্র ভালোবেসে হারিয়ে ফেললেই ডিপ্রেশন হয়না। কোন একটা ছেলে বা মেয়ে মানসিক যন্ত্রণার মাঝ দিয়ে যাচ্ছে, স্বাভাবিক ভাবেই আমরা ধরে নেই, ছেলেটি কিংবা মেয়েটি প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ডিপ্রেশনে আছে। এটা ঠিক প্রকারভেদে হয়তো এইটা বেশি হয়ে থাকে তার মানে এই নয় সবাইকে একই পাল্লায় মাপতে হবে! শুধুমাত্র প্রেমের জন্য নয় অনেক কারণেই মানুষ ডিপ্রেশনে ভুগে।

আমি নিজের কথা বলতে পারি,ব্যক্তি জীবনে আল্লাহ্‌ আমাকে সব দিয়েছেন, কোনকিছুর অভাব রাখেন নাই। ভালো জীবন বলতে যা যা কিছু লাগে সবকিছুই আমি পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আমার কোন কিছুর অভাব না থাকাটাও হয়তো একটা অসম্পূর্ণতা। শুনতে হাস্যকর মনে হলেও এটাই সত্যি। তবে কিছু একটার অভাব যে রয়েছে সেটা খুব করেই অনুভব করি, যে অভাবটা অপূরণীয়। অভাবটা ভালোবাসার নয়তো...!? হতে পারে...

আমার মাঝে অকারণ মন খারাপের অভ্যাস আছে।আমি মাঝে মাঝে অকারণেই একা হয়ে যাই! সবকিছু থেকে তখন একা আড়ালে থাকতে ভালো লাগে।যেকোন আয়োজন, হৈচৈ, বেশি মানুষের আনাগোনা বিরক্ত লাগে। কারণ, এই সময় টা আমি নিজের মত করেই কাটাতে ভালোবাসি, তার জন্য একা থাকাটা তখন জরুরী হয়ে পড়ে।খুব যারা আপন, যাদের ছাড়া আমার চলেই না শুধু তাদের সাথেই কথা বলি, তবুও খুব কম। আমি জানি আমাকে যারা ভালোবাসে, তারা জানে আমি কেমন। তারা কখনো প্রশ্ন তুলেনা আমি কেন এমন হয়ে যাই। কারণ, তারা জানে আমি সময়টাকে নিজেই রিকোভার করতে পারবো। আর আবার আগের মতই হয়ে যাবো।তারজন্য আমার একটু সময়ের প্রয়োজন। যাই বলি না কেন,  সত্যিকারের  হাবুডুবু  খাচ্ছি প্রতিমুহূর্তের আশঙ্কায়। নিজেকে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা আমাকে দিনে দিনে  আরো বেশি গ্রাস করে নিচ্ছে। ছোট্ট  ছোট্ট  তথ্য  অথবা প্রয়োজনীয়  কাজের  কথা ভুলে যাচ্ছি। আমি প্রয়োজনীয় কথা  বলা ও ভুলে যাচ্ছি। এটা কি ডিপ্রেশন ...!!! খুব কাছের মানুষ আমাকে দেখে ভাবে আমাকে কি যেন পাথর থেকে আরো পাথর  এর মতো নির্লিপ্ত করে তুলছে।  নিজেকে  অসুস্থ  মনে  হয়, কিন্তু ডাক্তার  পর্যন্ত দৌড়ানোর  আগ্রহ নেই।

শুধু একটাই ব্যাপার, এই সময়টা একজন প্রিয় মানুষের উপস্থিতি লাগে, যে সময়ে অসময়ে পাশে থাকবে। মানসিক সাপোর্ট দিবে, পরিস্থিতি বুঝতে চেষ্টা করবে।প্রতিটা মিনিট, ঘন্টা আমার কেয়ার নিতে ব্যস্ত থাকবে। সে কখনো আমায় ভুল বোঝবে না অহেতুক এই হঠাৎ মন খারাপের জন্য প্রশ্ন তুলবে না। মন খারাপের সময় বারবার মন খারাপের কারন জানতে চেয়ে আরও মন ভারী করে দিবে না। বরং আমার সময়টাকে রিকোভার করতে আপ্রাণ চেষ্টা করবে। বাস্তবতা ভিন্ন, বাস্তবতা কল্পনার মতো নয়। বাস্তবতা কঠিন, আমি কঠিনেরে ভালোবাসিলাম... 


চিঠি দিও, করুণা করে হলেও চিঠি দিও,
খামে ভরে তুলে দিও তোমার ভালোবাসার ছোঁয়ায় আঙ্গুলের মিহিন সেলাই
ভুল বানানেও লিখো প্রিয়, বেশি হলে কেটে ফেলো তবুও,
এটুকুই সামান্য দাবি, চিঠি দিও প্রিয়,
তোমার শাড়ির মতো-
অক্ষরের পাড়-বোনা একখানি চিঠি।

চুলের মতন কোনো চিহ্ন দিও বিস্ময় বোঝাতে যদি চাও...
বর্ণনা আলস্য লাগে তোমার চোখের মতো চিহ্ন কিছু দিও!
আজও তো অমন আমি চিঠি চাই, পথ চেয়ে আছি,
কোন এক পাখির ডানায় বেঁধে-
চিঠি দিও, বাড়ি পৌঁছে দেবে ....

এমন ব্যস্ততা যদি
একটি শব্দই শুধু লিখো, তোমার কুশল !
করুণা করে হলেও চিঠি দিও,
ভুলে গিয়ে ভুল করে একখানি চিঠি দিও খামে আমার ঠিকানায়-
কিছুই লেখার নেই তবু লিখো একটি পাখির নাম,
একটি ফুলের ছোট নাম,
টুকিটাকি হয়তো হারিয়ে গেছে
কিছু হয়তো পাওনি খুঁজে
সেইসব চুপচাপ কোন দুপুরবেলার গল্প
খুব মেঘ করে এলে কখনো কখনো বড় একা লাগে, তাই লিখো
করুণা করে হলেও চিঠি দিও, মিথ্যে করে হলেও বোলো, ভালোবাসি...!
মিথ্যে করে হলেও বোলো, ভালোবাসি...

বেঁচে থাকা আর বাঁচিয়ে রাখা দুটোর মধ্যে পার্থক্য বোঝ ? দু'টো কথা এক মনে হলেও একটু গভীর ভাবে ভাবলে এক নয়- একটা হল জীবন উপভোগ করা আর একটা হল জীবন উপভোগ করার আশায় বেঁচে থাকা। ওকে একটু বুঝিয়ে বলছি,
ধরো তোমার খুব ইচ্ছা কেউ তোমাকে তোমার মত ভালোবাসবে, তোমার মনের মতো কেউ আসবে জীবনে এবং সেই ইচ্ছায় বেঁচে আছো। এর মানে হলো আসলে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখছো।
আর ধরো, নিজেকে ভালোবেসে চমৎকার সময় কাটাচ্ছো, এর মানে হলো জীবন উপভোগ করছো। মানে বেঁচে আছো।
যারা নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে তাদের জীবন কাটে আসলে একদিন বাঁচবো সেই আশায়। এক সময় বার্দ্ধক্য গ্রাস করে, তখন আক্ষেপ লুকিয়ে ভাগ্য কে দোষারোপ করে স্বস্তি নেবার চেষ্টা করে কিন্তু জীবন আসলে এমন না। বাঁচিয়ে রাখাটা জীবন না। ওটা জীবনের ঘানি টানা মাত্র।

জীবন হল একটা ম্যাজিক। এর থেকে অসাধারণ ম্যাজিক আর কিছুই নেই। অর্ধেক গ্লাসটা ভরা কিংবা খালি দেখাটাই হল ম্যাজিক। যদি মনে হয় গ্লাসের অর্ধেকটা তো ভরা ওতেই আমার পিপাসা মিটবে তবে জীবন সুন্দর আর যদি মনে হয় বাকিটা কেন ভরা না একদিন হয়তো ভরবে তবে যে অর্ধেক ভরা তার তৃপ্তিও মিলবে না। কতো অল্পতে তুমি সন্তুষ্ট সেটা নিজেকে বুঝাতে পারাটাই ভালো থাকা।

মাঝে মাঝেই অনেক ঘটনা আমাদের চমকে দেয়, এই যেমন পা হারিয়েও পর্বত জয়ী কোন মানুষ কিংবা ধর্ষণের স্বীকার হয়েও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প অথবা সম্পূর্ণ শরীর অকেজ হয়েও মেধায় উত্তীর্ণ হওয়া কোন মানুষের গল্পগুলো দেখে মনে হয় আহা কি অসাধারণ এরা। কিন্তু সত্যিটা হল, এরা নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি, এরা বেঁচে থাকাটা বেঁছে নিয়েছে । বেঁচে থাকতে হবে এটাকেই বড় করে দেখেছে। 

তোমাকে কেন ভালোবাসে না এই প্রশ্ন নিজেকে করার আগে ভাবো তো তুমি নিজেকে ভালোবাসো ? পৃথিবীর সব চেয়ে সুন্দরী মেয়েটার হৃদয় বহুবার ভেঙেছে। আবার পৃথিবীর সব চেয়ে সুদর্শন ছেলেটা এখনো হৃদয় মিলিয়ে কাউকে পায়নি। তার হৃদয়ও অক্ষত নেই।কিন্তু তারা তো বেঁচে আছে । জীবন উপভোগ করছে, জীবনকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
তারা ভালোবাসলে বলে দেয় , জানে হৃদয় ভাঙতেই পারে কিন্তু পাবার চান্স নেয় আর মেনেও নেয় যে হৃদয় হয়তো ভাঙবে। কিন্তু ভালোবাসাটা ভালোবাসা দিয়েই বেঁধে রাখে বেঁচে থাকতে চায়। হয়তো অনেক সময় পারে, অনেক সময় পারে না। তবু সময়ের প্রয়োজনে নিজের জীবনকে উপভোগ করা, বেঁচে থাকে, বাঁচিয়ে রাখে ।

শুধু ভালোবাসার ক্ষেত্রে নয়, খুব অল্প সময়ের জীবনে ইচ্ছা গুলো নিজের পূরণ করতে হয়, রিক্স নিতেই হয়, আর ব্যর্থতাও যে স্বাভাবিক, এটা মানতেও হয়। মেনে নেওয়াটা সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট।

ছোট্ট একটা জীবন, গত কালকেই তো স্কুলে গিয়েছিলে ব্যাগ নিয়ে, আজকে বয়স কত বেড়েছে , হঠাৎ একদিন দেখবে চুল সব সাদা হয়ে গিয়েছে। যাকে নিয়ে বেঁচে থাকতে চাইতে বা যার জন্য নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে চাইতে ঐ মানুষটি হয়তো তোমার আগেই ওপারে চলে গিয়েছে। তবু কিন্তু তুমি নিজে বেঁচে আছো, নিজেকে মানিয়ে নিয়ে দিন আগাচ্ছো।
আমরা কেউ থাকবো না পৃথিবীতে, অথচ রোজ বেঁচে না থেকে বাঁচিয়ে রাখছো , কি অপচয় এই জীবনের।
আক্ষেপ করার চেয়ে রিক্স নিয়েই বাঁচো , আর বেঁচে থাকাটা শিখে ফেল ।

MARI themes

Powered by Blogger.