আমাদের আশার ক্লান্ত দিনগুলো প্রতিনিয়ত আঁধারের সাথে মিশে যাচ্ছে। শেষ রাতে জীবন গুলো পরিবর্তনের জন্য নতুন আলোর অপেক্ষায় থাকি আমরা কিন্তু পৃথিবী ধীরে ধীরে জেগে ওঠে তবু আশা গুলো নতুন ভাবে জেগে উঠে না।সারাদিন একটা নিদিষ্ট মানুষের ম্যাসেজ বা ফোন কলের অপেক্ষায় থাকি আমরা। বিশ্বাস করুন ঐ একটা মানুষের ফোনকলের জন্য বিপরীত পাশের  আরেকজন বারবার মোবাইলের ডিস্পে অন-অফ করতে থাকে, বারবার চেক করতে থাকে ম্যাসেজ এর রিংটোন বেজে উঠা মাত্র। মানুষটা জানে তার ফোনে কোন টেক্সট বা কল আসবে না তবুও অপেক্ষা করতে থাকে।

অপেক্ষা শুদ্ধতম ভালোবাসার রুপ এই থিওরির ওপর নির্ভর করে শতশত মানুষ অপেক্ষা করে তার প্রিয় মানুষটার টেক্সটের, ফোন কলের অথচ প্রিয় মানুষ কখনই তা বোঝে না অথবা বুঝেও অবুঝের মতন থাকে। জীবনে সবচেয়ে মূল্য যাকে দেওয়া হয় সেই মানুষটা অবহেলা করবে এটাই চিরায়িত সত্য।

দিনের শুরুতে ঘুমের মধ্যেও যে মানুষটার জন্য অপেক্ষা করা হয়। মানুষটার কাছে আমি আপনি মূল্যায়িত হবেন এটা ভাবাও একরকম পাপ। সব মানুষই চায় তার প্রিয় মানুষের ফোন কলে তার ঘুম ভাঙ্গুক কিন্তু ভোরটা শুরু হয় অন্য ভাবে। মানুষটা জানে না তার একটা কথায়, মানুষটা জানে না তার একটু হাসিতে বিপরীত মানুষটার হৃদয় স্পন্দন থেমে যায়।

এক তরফা ভালোবাসা বা একরোখা অনুভূতি গুলো বড্ড ঘাড়ত্যড়া। কেন পৃথিবীতে কি ঐ মানুষটার রিপ্লেসমেন্ট নেই...? হবে না কখনই...।। কিন্তু না আমার যত অপেক্ষা ঐ মানুষটার জন্যই, তার রিপ্লেসমেন্ট শুধু সে নিজেই। শতবার অবহেলা করলেও নিজেকে ছোট করে হলেও মানুষটার সামনে অবনত মস্তকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নিলজ্জের মতন। তার অপ্রিয় একজন মানুষ হয়েও নিজের মনের কুঠরে তার স্থান সবার উপরেই থেকে যায়। তাকে ঘিরে ছোট ছোট ইচ্ছে গুলো দিন শেষে অপূর্ণতার খাতায় লিখা হয়। 

নির্ঘুম প্রতিটি রাতে মানুষটার জন্য অপেক্ষা করতে করতে আজ বড্ড ক্লান্ত। তবুও অপেক্ষার শেষ হয় না, মানুষটা হয়তো একটা সময় সব বুঝবে। তাকে ঘিরে স্বপ্ন গুলো, ছোট ছোট ইচ্ছে গুলো। আমার আমিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিশ্বাসের ওপর ভর করে অপেক্ষার পালা শেষ হয় না আর।

মানুষটা খুব সুন্দর গল্প বলে আমি বিমুগ্ধ হয়ে শুনতে থাকি তার গল্পে আমাকে কোথাও রেখেছে কি না। আমি নিজেকে খুজতে থাকি, নিরাশ হয়ে যাই মানুষটার জীবনে যেমনটা আমি নেই তার গল্পেও আমার অস্তিত্ব নেই। তার চোখে নিজেকে বারবার খুঁজতে গিয়ে নিজে হারিয়ে যাই কিন্তু তার চোখে নিজেকে খুজে পাই না। তার অসতীত্বে নিজেকে খুঁজে পাই না। 

মানুষটা আমাকে নিয়ে একটুও হয়তো ভাবে না। আর দশটা মানুষের মতন আমিও তার কাছে শ্রেফ একটা মানুষ, রক্তে মাংসে গড়া একটা মানুষ। অন্য সবার মতন অবহেলা আমার জন্য বরাদ্দ থাকে তবুও আমি অপেক্ষা করি। শুধু ঐ মানুষটির জন্যই অপেক্ষায় থাকি। জানি মানুষটা আমাকে চায় না  তার কোন স্বপ্নে, তবুও আমি তার জন্য অপেক্ষা করি অথচ যে মানুষটা আমাকে সবার অগোচরে প্রচন্ড ভালোবাসে আমার ছোট্ট একটা ম্যাসেজের অপেক্ষা করে আমি তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি না।

প্রচন্ড রকমের স্বার্থপর আমি। যে মানুষটাকে আমার চাই তাই তার অবহেলাকে অবহেলা মনে হয় না কিন্তু যে মানুষটা আমাকে চায় সেও তো অপেক্ষা করে আমার। সমীকরণের সূত্রে একটি কথায় আসে মানুষটা আমাকে অবহেলা করে তার বিপরীতে আমিও মানুষটাকে অবহেলা করি অথচ এই অবহেলা নিয়েই আমার অভিযোগের শেষ নেই, কখনও শেষ হবেও না।


আমার কিছুই ভাল্লাগেনা । এই ধরনের একটি কথা আমার মাথায় বার বার আসলেও আমি ঠিক সে রকম করে বার বার বলতে পারি না । ভালো লাগা , না লাগা , মন খারাপ কিংবা ভালো নেই এই ব্যাপার গুলো একা একা মেনে নিতে ভাল্লাগে না। শুধু আমার নয়, আমার মনে হয় আমার মতো অনেকেরই একা একা মেনে নিতে ভালোলাগে না। কাউকে না কাউকে বলতে ইচ্ছে হয় । বলাটা ঠিক কঠিন কিছুও নয়। মুখ দিয়ে খুব সহজেই এই কাজ টি করা যায় । কিন্তু বলার মতো মানুষটিই খুজে পাওয়া কঠিন। আমার আশে পাশে সব মানুষ গুলোই এমন। সব মানুষ বলতে হাতে গোনা দুই - তিন জন, যাদেরও কোন কিছুই ভাল্লাগেনা । সুতরাং মন খারাপ করার অতি জরুরী সংবাদটি কিংবা আমি ভালো নেই এই ব্যাপার গুলো তেমন ভাবে বলতে ইচ্ছে হয় না বা বলা হয়ে উঠে না । তারপরেও আমার না ভালো লাগার ব্যাপারটি আমি কাউকে না কাউকে জানিয়ে দেই। বেশির ভাগ জানানো হয় আমার ব্লগ বা Facebook Page-এ লিখে। আমার ভালো না লাগবার কথা শুনে আমার আশে পাশের মানুষ গুলোর ঠিক তেমন ধরনের ভাবান্তর হয় না কিংবা তাদের চিন্তাগত তেমন একটা পরিবর্তন আসে না বলেই চলে। কেবল মুখের অবস্থানগত একটা পরিবর্তন হয় । “ও আচ্ছা” জাতীয় বাক্যটিই শুধু মুখ দিয়ে বের হয়। আমি তাই আজকাল দীর্ঘক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি আর প্রায়ই ভাবার চেষ্টা করি এর শেষ কোথায় । অর্থহীন ভাবনা তো বটেই। রাত যতই হোক রুম থেকে বের হয়ে যাই তখন। অন্ধকার রাতে খোঁজার চেষ্টা করি নির্জন কোন রাস্তা বা কোন স্থির লেক বা পুকুর। তার পর চুপটি মেরে বসে থাকি মন যতক্ষণ সারা দেয়।  

আমরা প্রায় সময়ই 'ডিপ্রেশন' আর 'মন খারাপ' এই দুইটা শব্দ গুলিয়ে ফেলি। অথচ শব্দ দুটির মাঝে পার্থক্য অনেক, কোন দিক দিয়েই এক নয়। আমাদের মন খারাপ হয় ছোটখাটো কিছু কারনে, খুব নগণ্য বিষয় নিয়ে। যেমন, প্রিয় মানুষটা কথা শুনেনি বা কথা রাখেনি অথবা আব্বু-আম্মুর উপর ভীষণ অভিমানে। একটু পরই সেটা ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু ডিপ্রেশসড্ আমরা তখন হই যখন অনেকের মাঝে থেকেও আমাদের মনে হয় আমাকে বোঝার মতো কেউ আসলে নেই। যখন আমরা বুঝতে পারি আমাদের খারাপ লাগা বা একা লাগার ব্যাপার গুলো কেউ কেয়ার করেনা। যখন খুব মন চায় একজন কেউ এসে বলুক,'আমি তোমার সব কথা শুনবো' কিন্তু এমন কেউই আসলে আসেনা। নিজের সব টুকু দিয়ে কেনই বা কেউ এভাবে চাইবে...? সবাই নিজেকে নিয়েই ব্যাস্ত থাকে। এটাই স্বাভাবিক... 

অনেকের মাঝেও নিজেকে একা লাগার অনুভূতির মতো ভয়ংকর অনুভূতি বোধ হয় আর হয়না।সবার সাথে আমি হয়তো খুব হাসিখুশি কিন্তু এই আমিই হয়তো হাসি থামার পর ভীষণ একা। মাঝে মাঝে হয়তো মনে মনে চিৎকার করে বলি,"আমি অনেক একা। ভীষণ একা। প্লিজ কেউ আমার কথা গুলো শুনো। প্লিজ কেউ আমার মন খারাপ বুঝো"!
কিন্তু মুখে একটা মিথ্যা হাসি ঝুলিয়ে রেখে বুঝাই আমি অনেক হাসিখুশি একজন মানুষ "এটাই ডিপ্রেশন"।

"সে শুধু আমার " এই কথাটি আমি কখনো চিন্তাই করিনা। আমি সর্বোচ্চ বলতে পারি "আমি শুধু তার"। সে আমার বা আমার হয়েই সারা জীবন থাকবে এটা আমি কখনোই Guarantee-দিতে পারি না।  তাকে আমার বলার আগে আমি ভাবি, আমি নিজেই তো আসলে কারো না।যেখানে আমি নিজেই কারো না, সেখানে আমি অন্য একজনকে নিজের বলে দাবী করতে পারি না। পৃথিবীর কোথাও না কোথাও কেউ হয়তো ভেবে বসে আছে, "আমি শুধু তার"। কিন্তু আসলেই কি আমি তার? আমি কি আমার নিজেকে কাউকে দিতে পেরেছি বা পারবো কখনো?

এই পৃথিবীতে একটা মানুষও পুরোপুরি অন্য কারো হয়না। এটা কখনোই সম্ভব নয়, যদি কেউ বলে যে সে পুরোপুরি তার, তবে এটা ১০০% মিথ্যা কথা। নিজের সমস্তটা আসলে কাউকে দেওয়া যায়না, কখনোই না। তুমি প্রায়ই শুনতে পাবে "তুমি শুধু আমার" কিন্তু কখনো বলতে শুনবেনা, "আমি শুধু তোমার"। কেন বলে না ...? মানুষ মূলত অন্যকে নিজের করে পেতে চায়, পুরোটা পেতে চায়। একটা আস্ত মানুষের মন এবং শরীরের সম্পূর্ন অধিকার চায়। কিন্তু, কাউকে পুরোটা পাওয়ার জন্য মানুষ তার নিজেকে পুরোটা দিতে চায় না।

আমি আমার নিজেকে হারিয়ে, নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে কাউকে পেতে চাইনা। আমি চাই, সে আমার হোক আর সে চায়, আমি তার হই। দিনশেষে আমরা আসলে কেউই কারো হয়ে উঠতে পারিনা। এটাই বাস্তবতা...কাউকে পেতে চাইলে নিজেকে সমান ভাবে তার দিকে আগাতে হবে, তাকেও সমান ভাবে আগাতে হবে। একজনের একটু কম বেশি হলেই কেউ কারো মতো না এটাই প্রকাশ পাবে।

আমি প্রচন্ড Liberal-স্বভাবের মানুষ! সম্পর্কের যেসব দায়বদ্ধতা থাকে সেগুলোকে খুব গভীর ভাবে মনে গেঁথে ফেলি, ভালোবেসে ফেলি। প্রিয় মানুষের অভিমান ভাঙাতে গিয়ে যে সময় বিনিয়োগ করতে হয়, এই ছোট্ট জীবনে অত'টা সময় আমার কাছে নেই! নেই বললে ভুল হবে...। অভিমান ভাঙানোর চেষ্টা বড়জোর একবার দুবার করা যায়। ভালোবাসি বললে অভিমান, রাগ ভেঙ্গে যাবে এটাতেই আমি বিশ্বাস করি। এরচেয়ে বেশি জমিয়ে রাখলে সেটা আর অভিমান, রাগ এ সীমাবদ্ধ থাকে না। এই অভিমান তখন সম্পর্কে একটু একটু করে বিষাক্ত করে দেয়।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা আসলে ভালোবাসার দাবী নিয়ে বিপরীত মানুষটার স্বাধীনতা নষ্ট করে ফেলার চেষ্টা করি। এটা করা যাবেনা, ওটা করা যাবেনা! এভাবে চলো, ওভাবে চলো! এত রাতে বাইরে কি করো? তোমার ফোন ওয়েটিং কেন? তোমার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড দাও! তুমি ওই মেয়ে বা ছেলের দিকে তাকাইলা কেন? আরেকজনের ছবিতে লাভ রিয়্যাক্ট দিয়েছো কেন? রাতে খেয়েছো? খাও নি কেন? ঘুমিয়েছো? এখনো ঘুমাও নি কেন? তুমি তো আমাকে ভালোবাসো না! তোমাকে এখন আর বিশ্বাস করিনা! তোমার সাথে আমার এডজাস্ট হচ্ছেনা! We are not made for each other. তোমার মতো মানুষকে ভালোবেসে ভুল করেছি, এভাবে আর হয়না...! Fantasy Level Cross- করলেই আমাদের অভিযোগের তালিকা বড় হতে থাকে। যার জন্য একজীবন বাঁচতে চেয়েছিলে, তার জন্যই জীবনটা বিরক্তিকর মনে হবে। কিন্তু আমার কাছে বিষয় গুলো অন্য রকম, আমি একটু ভিন্ন ভাবে দেখি। সে যখন আমার অস্তিত্ব থাকবে তার প্রতি আমার, আমার প্রতি তার একটা অধিকার, নির্ভরশীলতা থাকবে। সে যদি আমার অস্তিত্ব থাকে আমার সব বিষয় তার কথা বলার, ভালো- মন্দ জানার অধিকার তার আছে। এই বিষয় গুলো চাইলেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নেওয়া যায়, আবার Dominating- হিসেবেও নেওয়া যায়। Dominating- করছে এটা ভাবলে সম্পর্ক বিষিয়ে যাবে, ভালোবাসার বহিঃ প্রকাশ ভেবে নিয়ে ভালোবাসা বাড়বে।

নিজেকে নিয়ে বাঁচতে শেখাটা ভীষন জরুরী..
পরনির্ভরশীলতা একটা ব্যাধির মতো। এই অসুখ একবার ভেতরে জন্মে গেলে, তোমার চলার পথ কঠিন হয়ে উঠবে যদি ভালোবাসা টা মনে না থাকে। তবুও, আমার সাথে সবার মতাদর্শ মিলবেনা। কেউ কেউ প্রচন্ড পরনির্ভরশীল হতে ভালোবাসে। ফোনের ওপাশ থেকে কেউ খেতে না বলা পর্যন্ত খাবেনা। অসুখের সময় দু'বেলা যত্ন না নিলে কান্না করে চোখ লাল করে ফেলবে। একজন নির্দিষ্ট মানুষের অযত্নে মরে যেতে চাইবে, অভিমান করবে। অভিযোগ করবে, তারা পরজীবী হতে ভালোবাসে। তারা তাদের নিজের অস্তিত্বকে অন্যের কাছে হস্তান্তর করে দেয়। তারা এভাবেই ভালো থাকে। কারণ তারা ভালোবাসায় নিজেদের একই সুতোয় ভালোবাসায় বেঁধে রাখে। নিজের বলতে তখন একা বুঝায় না, দুজনকে মিলিয়েই বাঁচা বুঝায়। অর্থটা একটু ভিন্ন...।। শুধু নিজেকে নিয়ে বাঁচা, আরেকটা হলো ভালোবাসার মানুষের সাথে ভালোবাসা নিয়ে বাঁচা...।। 

অনেকে বলে,
যে মানুষ আমার হবে, সে মানুষ আমারই! যত্নে অযত্নে সে আমার। স্বাধীনভাবে বাঁচার পরও সে আমার। দু'জন মানুষ তার নিজ নিজ কক্ষপথে হেটে চলেও ভালোবাসতে পারে। এই ম্যাচিউরিটিটা আমাদের আসেনা। কিন্তু আমি বলি, ভালোবাসার সম্পর্কে ম্যাচিউরিটিটা আনতে নেই। ম্যাচিউরিটি  বলতে সম্পর্কের ছোট ছোট আল্লাদ, খুনসুটি, অভিমান, পাগলামো কে বুঝাচ্ছি। এগুলো সম্পর্কে সজীব রাখে, বাঁচিয়ে রাখে। এগুলোর মাঝে ম্যাচিউরিটি চলে আসলে সম্পর্ক আর সম্পর্ক থাকে না, কর্কশ হয়ে যায়, প্রাণটা চলে যায়। ভালোবাসা মানেই পাগলামো, এক জনের জন্য আরেক জনের ভালোবাসার পাগলামো...।।

আমরা ধরে নেই, যে আমার মানুষ হবে তার কোন ব্যক্তিগত জীবন থাকা যাবেনা। আমাকে ভালোবাসে মানে, তার জীবনের প্রতিটা জায়গায় আমার থাকা বাধ্যতামূলক। ভালোবাসার নামে আমরা মাঝে মাঝে বিরক্তি সৃষ্টি করি। সম্পর্কের এত এত দায়বদ্ধতায় একসময় দমবন্ধ লাগবে অপর পাশের মানুষটার। আমরা নিজে নিজে একজন অন্যজনের প্রতি থাকা বিশ্বাসের জায়গাটা নষ্ট করি।

যে মানুষ তোমাকে ঠকাবে, তুমি হাজারটা Restriction- দেওয়ার পরও সে ঠকাবে। যে রয়ে যাবে জীবনে, সে রয়েই যাবে। রয়ে যাওয়া মানুষ আসলে Restriction- এর জন্য রয়ে যায় না, রয়ে যায় তোমাকে সে ভালবাসে বলে। এমনি এমনি রয়ে যায়, সে তোমাকে ছাড়া থাকতে পারে না বলে রয়ে যায়, অন্য কাউকে ভাবতে পারে না বলে রয়ে যায়। তার উপস্থিতিতে তোমার অক্সিজেনের অভাববোধ না হওয়াটাই তো স্বাভাবিক, তেমনি তোমার উপস্থিতিতে সে সাচ্ছন্দ ভাবে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারে এটা অনুভব করাটাই ভালোবাসা। তার প্রতি ভালোবাসাটা একদম ভেঙেচূরে টাইপ ভালোবাসা...।।

তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
বাসি ভালো তোমার যা সব কিছু,
তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
মিশে যেতে চাই তোমার কোমল হাত ধরে,
দূর দিগন্তে চিরতরে কোন এক সবুজ ছায়া ঘেরা পথ ধরে।

তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
বাসি ভালো শুধুই তোমাকে,
তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
কেবলি তোমাকে চাই- চাই তোমার হৃদয় ও মন
চাই কিছু মিষ্টি আলাপন, হৃদয়ে হৃদয়ের আবেগে।

তোমাকে ভালোবাসি তাই- বাসি ভালো তোমারই নয়ন,
নয়নে নয়নে আলাপন,
সেথায় রয়েছে মনের মিলন।
তোমাকে ভালোবাসি তাই- সেথায় দেখতে পাই-
                                                                                 নিজেকে । 

তোমাকে ভালোবাসি তাই- বাসি ভালো তোমার রাঙা ঠোঁট,
তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
সেই ঠোঁটে এঁকে দিতে চাই- ভালবাসার চিহ্ন,
সঙ্কীর্ণ আলোকিত ওলোট-পালোট মন।

তোমাকে ভালোবাসি তাই- বাসি ভালো বিনয় তোমার,
তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
তোমার উড়ন্ত খোলা চুল কেড়ে নেয় মন,
সারাক্ষণ শুধু "তুমি" হৃদয়ে আমার।

তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
বাসি ভালো আমি তোমার পায়ের ঐ পায়েল,
তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
কোন এক পড়ন্ত বিকেলে নিজ হাতে পড়াতে চাই ঐ রাঙা পায় পায়েল খানি...। 

তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
তোমার হাতে কাঁচের চুড়ি আলতো করে পড়িয়ে নিতে চাই,
তোমাকে ভালোবাসি তাই- তোমার পায়ের নুপুরের রিনিঝিনি শব্দে-
এ হৃদয়ের গভীরে বাজে সর্বদাই।

তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
বাসি ভালো তোমার অশ্রুজল,
তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
মুছে দিতে চাই আঙ্গুলি স্পর্শে- পরম আবেগে,
অশ্রু তোমার চোখের- টলোমল।

তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
বাসি ভালো তোমার ভিজে দুটি পা,
তোমাকে ভালোবাসি তাই- বর্ষাস্নাত দিনে তোমাকে চাই,
কিংবা কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে তুমি - আমি আর কুয়াশা,
তারপর কুয়াশা ভেজা ঘাসে খালি পায়ে কিছুটা পথ হাটা।

তোমাকে ভালোবাসি তাই-  
তোমায় ভালোবাসি হাজার বার, হাজার ভাবে। 
তোমাকে ভালোবাসি তাই- আমি মনে আগুন জ্বালাই বারবার,
আমি এক মনে লিখি কবিতা- 
আমি কবি; কেবলি তোমার কবি।
ভালোবাসি তাই তোমায় ভালোবেসে যাই।

প্রেমে ঝগড়া থাকবেই। জ্ঞানীরা বলেন- ঝগড়া ছাড়া প্রেম আর মশলা ছাড়া তরকারী সমান কথা। বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় বড় ঝগড়া হয়ে যায় প্রেমিক প্রেমিকার মাঝে। মনের মানুষের সঙ্গে প্রচণ্ড ঝগড়া করার কিছুক্ষণ পরে যখন মন কেমন কেমন করে, অথবা সেই মনের মানুষ রেগেমেগে ফোন সুইচ অফ করার পরে নিজেই যখন আবার ফোন করেন, ঠিক তখনই ঝগড়া-কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জিতে যায় ভালোবাসা। এতো ঝগড়ার পর মনের সাথে যুদধ করে যখন হেরে গিয়ে তার কথাই মনে পরে, তার কাছে যেতে ইচ্ছে করে তখন আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন তাকে আপনি কতোটা ভালবাসেন। ছোট্ট এই বিষয়টি বুঝতে কোনও মনোবিদের প্রয়োজন নেই। যে কোনও অনুভূতিশীল মানুষ,  সিরিয়াস সম্পর্কে রয়েছেন এমন কেউ যদি হন তবে তিনি নিজেকে দিয়েই সেটা বুঝতে পারবেন এবং পারা উচিত।

‘গার্ডিয়ান’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সমীক্ষার ফলাফল বলছে, যে সমস্ত দম্পতি বা যুগলরা ঝগড়া করেন বা বেশি বেশি অভিমান করেন, তাঁরাই সম্পর্কের দিক থেকে অনেক বেশি সুখী তুলনা মূলক ভাবে তাঁদের থেকে যাঁরা সচরাচর সমস্ত মতান্তর-মনান্তর, মনের ভাব ঝুলিতে লুকিয়ে রাখেন। এই সংক্রান্ত একাধিক মার্কিনি গবেষণার ফলাফলও তাই বলছে। 

দম্পতিদের বা যুগলদের সবচেয়ে বড় ভুল হল কোন কিছু এড়িয়ে যাওয়া। আমরা ভাবি কিন্তু মুখে বলি না, অন্তত যতক্ষণ না গোটা ব্যাপারটা অসহ্য হয়ে ওঠে, ততক্ষণ পর্যন্ত না। আমরা আসলে এই সব কথোপকথন গুলো এড়িয়ে যাই এটা ভেবে যে বললে অনেক কিছু হতে পারে। কিন্তু আমরা এটা বুঝি না যে না বললেও অনেক কিছু হতে পারে। মনের কথা চেপে রাখলে যেটা হবে নিজের মাঝে শুধু শুধু একটা তিক্ততা জমা হবে, আস্তে আস্তে তা বিষাক্ততায় পরিণত হবে। তখন আর বিশ ঝেড়ে ফেলা সম্ভব হবে না। 

আসলে সম্পর্কে ঝগড়া যত বেশি, তত বেশি উষ্ণ সেই সম্পর্ক। পরস্পরের কাজ নিয়ে, ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, তার সমালোচনা করা অথবা অভিমান করা এই সব কিছুই সম্পর্ককে উজ্জীবিত রাখে।ঝগড়া কখনো ভালোবাসা কে শেষ করতে পারে না বরং ভালোবাসাকে ভালো বাসতে শেখায়।

বিলাসিতা আর দুঃখ বিলাস এক নয়। অনেকটা গানের কথার মতো-"মনটা যদি না থাকতো আমার কিছুই মনে পড়তো না, এই মন তবে এমন করে কেমন কেমন করতো না- আর তাকেও মনে পড়তো না ।" আমার যখন বিষণ মন খারাপ হয়, হাজার মাইল দূরে থাকা মানুষটির দরজায় গিয়ে আনমনে কড়া নাড়ি। মানুষটা খুব বেশি ভালো- দরজা খুলে আমাকে আশ্রয় দিতো তার কাছে নিতো প্রতিনিয়ত। আমার বুকের ভেতর যখন বোকা সোঁকা কষ্ট গুলো চেপে বসতো আনমনেই, আমার অবচেতন মনের তখন ইচ্ছে হতো- এই ভারটা একটু হালকা করা দরকার। আমি মানুষটাকে চোখ বুঝে ডাকতাম। চোখ বন্ধ করে যখন তাকে দেখতাম, কষ্ট গুলো কিভাবে যেন হালকা হয়ে যেতো চোখের পলকেই।

এই বিশাল পৃথিবীতে যখন নিজেকে খুব একলা লাগতো, চোখ বুজে মানুষটার সামনে চলে যেতাম। আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই মানুষটা বুঝে নিতো। মানুষটা চোখে চোখ রেখে বলতো, "আরেহ আমি আছি না...?" তখন আমার আর একলা লাগতো না। সুখি সুখি একটা অনুভূতি হতো।

মাঝরাতে প্রায়শই আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে কেমন যেন একটা অস্থির রকমের "কোথাও কেউ নেই" নামক অনুভূতি জেগে উঠে। এই অনুভূতিটা খুব কষ্ট দেয়, আমাকে ঘুমাতে দেয় না। চোখ বন্ধ করলেই এই মানুষটা তখন 'প্লিজ ঘুম হয়ে যাও চোখে' আর ঘুম হয়ে আসতো আমার মন খারাপের রাতে। আর আমিও ঘুমিয়ে পড়তাম অস্থিরতা থেকে।।

সারা দিনে একলা পথ চলতে চলতে সারাদিনের জমে থাকা গল্প গুলো বলার জন্য একজন মানুষকে খুব দরকার হতো। আমি মানুষটিকে ডাকতাম। মানুষটা আমার হাত ধরে আমার পাশে বসে গভীর মনোযোগ দিয়ে আমার সব অর্থহীন, মূল্যহীন গল্প গুলো ক্লান্তিহীন ভাবে শুনতো। আমার হাসিতে হাসতো খুব, আর কান্নার রঙটা বুঝতো নিমিষেই।। 

আমার কখনোই কোন কিছুর নেশা ছিল না, এখনো নেই। কিন্তু আস্তে আস্তে কিভাবে যেন মানুষটার নেশা হয়ে গেলো আমার। খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারচ্ছিলাম মানুষটার প্রতি আমি কিভাবে যেন নেশাগ্রস্ত হয়ে গেলাম। দিন দিন এই নেশা তীব্র থেকে  তীব্রতর আকার ধারণ করলো। কতটা তীব্র সেটা আমি আগে বুঝতে পারি নি তবে এতোটা বুঝতে পারতাম তীব্রতার মাত্রা গভীর... একদিন টের পেলাম খুব ভালোভাবে...

কোন এক শীতের সকালে ঘুম ভেঙ্গে আমি আবিষ্কার করলাম, কি যেন আর আগের মত নেই। আমি পাগলের মতো হয়ে যেতে লাগলাম কিন্তু কিছুই খুঁজে পেলাম না। আমি পাগলের মত মানুষটিকে ডাকলাম, কিন্তু মানুষটা আমার ডাকে সাড়া দিচ্ছে না। অনেকটা এমন সে আমার ডাক শুনছে না। আমার প্রশ্নের জবাব তাচ্ছিল ভাবে দিয়ে সে কোথায় যেন হারিয়ে গেলো। নিজের মাঝে আমার ছোট ছোট গল্প গুলো জমতে থাকলো। বুকটা আসতে আসতে ভারী হতে লাগলো। বুকের ভেতর এত এত বোকাবোকা কষ্ট অপেক্ষা করতো মানুষটার জন্য। মানুষটা আর আগের মত এসে পাশে বসে গল্প শুনছে না...মন খারাপের রাতে মানুষটা 'ভিনদেশী তারা' হয়ে আমার আকাশে জ্বলতে থাকে। সে আমার ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। তাকে আর ছুঁতে পারি না, একদম না...।।

বুঝতে পারলাম মানুষটি ছিল আমার কল্পনা। বাস্তবের সাথে যার কিছুই মিল নেই। মানুষের মন পৃথিবীর সবচেয়ে বিচিত্র জিনিস। ভালোলাগা নিমেষেই তৈরি হয়, ভালোলাগা নিমেষেই চলে যায়।

আমার মনে জমে থাকা ছোট ছোট গল্প, বুকের ভেতর চেপে থাকা ভারী ভারী কষ্ট, আমার নিঃঘুম রাতের ঘুম ভাঙ্গা সকালের অবচেতন মন, ভীড়ের মাঝে ফুটপাতের প্রতিটি পায়ের পদক্ষেপ, সারাদিনের এলোমেলো কাজের ফাকে বা কফির মগে চুমুকে মনে পড়ে যাওয়া মানুষটার অস্তিত্বের স্মৃতির কথা। ওরা তো বুঝে না এটা বাস্তব না, এটা কল্পনা ছিল। ওরা খুঁজতে থাকে সেই মানুষটাকে... ওরা প্রশ্ন করে, "কেন বাস্তব নয় এগুলো...?"

আমি এই কেন এর উত্তর খুঁজে পাইনি, আমার কাছে এই 'কেন?' এর উত্তর নেই। আমি জানি না আমার কল্পনা কেন আমার বাস্তবতার মতো নয়। আমি শুধু জানি,  আমার কল্পনাটা ভুল ছিল। ভুল কল্পনায় আমি মানুষটির কাঁধে আশ্রয় চেয়েছিলাম, ভুল কল্পনায় মানুষটির আঙ্গুলের ফাঁকে অধিকার খুঁজেছিলাম। কল্পনায় যে মানুষটার সাথে থাকার নেশা একসময় খুব ভরসা দিতো, সেই অভ্যাসই একসময় তীব্র কষ্ট দেয়। সেই কষ্ট থেকে বের হওয়া খুব কঠিন, সেই তিব্র নেশা থেকে চাইলেই বের হওয়া যায় না...

ভালোবাসা হঠাৎ করে হলেও ভালোবাসার পর সব কিছু হুট করে হয়ে উঠে না। শুরুর দিকে সব কিছু মধুর মতো লাগলেও আসতে আসতে সেটা তিক্ততায় পরিণত হয় নিজেদের কিছু ভুলের কারণে। আমরা কেউই সম্পর্কের মাঝে তিক্ততা চাই না কিন্তু তিক্ততা চলেই আসে। আর এই তিক্ততা আসে একে অপরকে ভুল বুঝার কারণে, বুঝতে না পারার কারনে। আমরা ভালোবাসি ঠিকই কিন্তু ভালোবাসার মানুষটিকে একটুও বুঝার চেষ্টা করি কি...?  তিক্ততা এখান থেকেই শুরু হয়, আসতে আসতে তিক্ততা বাড়তে বাড়তে সম্পর্কের বিচ্ছেদর দিকে চলে যায় কিন্তু আমরা কখনোই চাই না কোন সম্পর্কের বিচ্ছেদ হোক। আমরা অনেক কিছুই চাই না কিন্তু সেটাই ঘটে যায়।

সম্পর্কের আগে এবং সম্পর্কের পরের সময়টা অনেক বেশি পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যেমন, মেয়েটা কেমন সেটা সম্পর্কের আগে খুব ভালোভাবেই জানা থাকে। সে কি করতে পছন্দ করে, কি অপছন্দ করে, তার খারাপ অভ্যাস গুলো কি কি, তার চলাফেরা কেমন আরো অনেক কিছু কিন্তু সম্পর্ক শুরু হওয়ার পর এগুলো নিয়েই বেশি ঝামেলা হয়। যেখানে মানুষটি কেমন সেটা জেনেই ভালোবাসেন সেখানে সম্পর্ক হয়ে যাওয়ার পর তার এসকল বিষয়ে কথা বলাটা কেমন হয়ে যায় না...? এই বিষয় গুলো একটা মেয়ের চেয়ে একটা ছেলে বেশি Face-করে। একটা ছেলে হয়তো তার চলাফেলা তার ভালোবাসার মানুষের কথায় বদলিয়ে নিতে পারে কিন্তু ধাক্কা টা খায় অন্য জায়গায়। মেয়েটা সমবয়সী হোক আর বয়সে ছোট হোক সে যাই হোক মেয়েটা কিন্তু ছেলেটার বর্তমান অবস্থা জেনেই ভালোবাসায় জড়ায় কিন্তু দু'দিন যেতে না যেতেই কথার সুর ঠিকই পাল্টায়। ছেলেটার Career- নিয়ে কথা বলে না এরকম মেয়ের সংখ্যা নাই বললেই চলে। আমি বলছি না Career- নিয়ে কথা কেন বলে, Career- নিয়ে কথা অবশ্যই বলা উচিত & এটা বলার Right-তার আছে। কারন, Career- উপর নির্ভর করে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ। 

তুমি Career- নিয়ে ভাবচ্ছো না, তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না, আমাকে নিয়ে তোমার কোন চিন্তা নেই, এভাবে আর কত দিন, Job-এর জন্য try- করচ্ছো না কেন, ভালো Job- এর জন্য কেন Preparation-নিচ্ছো না; এরকম আরো অনেক কথা শুনতে হয়। আচ্ছা একটা ছেলে কি বেকার ভাবে বসে থাকতে চায়...? হয়তো সে Better- কিছুর জন্য try-করে কিন্তু সেটা হয়ে উঠচ্ছে না এই মুহূর্তে বা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আজ বললে কাল ই তো সে কোন Company-এর CEO হয়ে যেতে পারবে না তাই না ? Actually- আমি বলতে চাচ্ছি Career- নিয়ে একটা মেয়ে যে ভাবে কথা বলে সেটা একটা ছেলে কখনোই মেনে নিতে পারে না। এই সময়টিতে ছেলেটার Inspiration, Motivation, Support - খুব বেশি দরকার হয়। কারন, একটা ছেলে যখন সমবয়সী কাউকে ভালোবাসে তখন তার ভালোবাসার মানুষকে হারানোর ভয়ে থাকে শুধু তার Career-এর জন্য। সে এমনিতেই খুব বেশি Tension, Depression-এ ভোগে। একটা মেয়ে যে ভাবে Career- নিয়ে ব্যাঙ্গ করে কথা বলে তাতে ছেলেটা Inspired-না হয়ে আরও বেশি Depression-এ ভোগে Frustration-এর মাঝে দিন কাটায় Demotivated- হয়ে যায়। আচ্ছা আপনি যখন তার Career-নিয়ে কথা বলেন একবারও কি তার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখেছেন? একবারও কি দেখার চেষ্টা করেছেন আপনার এই কথায় তার ভিতরটা কতোটা কষ্টে কাতর হয়ে যায়, একবারও কি দেখতে পেরেছেন তার চোখের দিকে তাকিয়ে আপনাকে পাওয়ার জন্য সে কতোটা Effort- দিচ্ছে, কিভাবে Career-এর পিছনে ছুটে বেড়াছে। যেখানে হয়তো এই সময়টিতে Career-নিয়ে তার ভাবার কথাই না। হয়তো আপনার চোখে এগুলো পড়ে না বা আপনি এগুলোকে কিছুই মনে করেন না। আপনার জন্য তার Effort-যদি আপনার চোখে না পড়ে তাহলে আপনি তাকে কতোটা ভালোবাসেন সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই হয়...।

কয়টা মেয়ে আছে যে এই কথা গুলোকেই Positive way-তে, একটু ভালোবেসে Support-দিয়ে বলতে পারে...? হাজারে একটা পাওয়া যাবে না। আপনি জানেন কি একটা ছেলে পরিবারের কাছ থেকেও বেশি তার ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে Positive-কথা শুনে, Support-পেয়ে Inspired-হয়...? কিন্তু এই কাজটা কোন প্রেমিকাই করে না। দেখা যায় এমন কিছু Negative-কথা বলে যা Demotivate-করে দেয়। আমার দেখা অনেক প্রেমিক যুগল এর মাঝে Only-একটা মেয়েকে দেখেছিলাম যে তার প্রেমিক কে Support- দিতো যেখানে ভাইয়া বেকার ছিল, অপর পাশে আপুটা Job-করতো। ভাইয়ার Job- হচ্ছিল না কিন্তু আপুটা যেভাবে Support-দিত সেটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।  খুব কম মেয়েই এই কাজটি করতে পারে। 

একটা ছেলের যখন Support-প্রয়োজন ঐ সময়টিতে তার ভালোবাসার মানুষের মতো Support- আর কেউই দিতে পারে না। সফল একজন মানুষ হওয়ার জন্য পরিবারের ভূমিকা অনেক, কিন্তু আমি মনে করি পরিবারের চেয়ে প্রিয়জন, ভালোবাসার মানুষ বেশি Support- দিতে পারে সফল হওয়ার জন্য। যারা এই Support- পায় এদের মতো ভাগ্যবান আর কেউই নেই। 

যাকে ভালো লাগে, সে হয়তো আমার মত না। ভালো তো কত মানুষকেই লাগে। কারো চেহারা দেখে ভালো লাগে, কারো কাজকর্ম দেখে ভালো লাগে, কারো কথা শুনে ভালো লাগে। ভালো লাগার কোন শেষ নেই । ভুলটা হয় তখনই যখন শুধুমাত্র ঐ 'ভালো লাগা' এর উপর ভিত্তি করে আমরা কাউকে পাকাপাকিভাবে নিজের জীবনের সাথে জড়ানোর চিন্তা করি !!

যাকে ভালো লাগে, সে হয়তো আমার মত না। তার সাথে হয়তো আমার কিছুই মেলে না। তার হয়তো আমার মত জোছনা ভালো লাগে না। যে টকটকে লাল রঙের লিপস্টিক তার ঠোঁটে আমি কল্পনা করতাম, সেই লাল রং হয়তো তার ভীষণ অপছন্দ। যে নীল রঙের পাঞ্জাবি তার ভীষণ ভালো লাগে, আমার হয়তো নীল রঙের কোন পাঞ্জাবিই নেই !! সে হয়তো অনেক খোলা মেলা মনের, অনেক Extrovert- অপর দিকে আমি হয়তো অতোটা খোলা মেলা মনের না- Introvert.

আমার নীরবতা ভালো লাগে, হয়তো এমন হতে পারে তার কোলাহল পছন্দ। আমার প্রিয় বইটার উপর তার বাড়ির ধূলো গুলো জমতে থাকে প্রতিনিয়ত। প্রচন্ড চঞ্চল ঐ মানুষটাকে আমার মত চুপচাপ কম কথা বলা মানুষের ভালো লাগে, হয়তো তারও আমাকে ভালো লাগে। কিন্তু দিনশেষে, সে আমাকে বুঝে না, আমিও তাকে বুঝি না, একদম না !! মন দিয়ে মন না বুঝলে কি কিছু হয়...!!! কিচ্ছু না...

তার এলো চুল গুলো দু' আঙ্গুল দিয়ে সরিয়ে দেয়ার প্রচন্ড ইচ্ছা কিংবা চোখের কাজলের ভেতর মায়া খুঁজে পাওয়া অথবা হাতের মুঠোয় হাত রেখে একটা হৃদস্পন্দন মিস করে যাওয়াটাই কি সব ??

দিনশেষে শত সহস্র অমিল গুলোর কাছে আর কেউ কাউকে না বুঝতে পারার দ্বন্দ্ব গুলোর কাছে এইসব ভালোলাগা গুলো, তীব্র অনুভূতি গুলো হেরে যায়। হেরে যেতে বাধ্য...!! অমিল গুলো মনে খুব ভালোভাবেই বসে যায়। এই অমিল গুলোই পথ চলায় বাঁধা, পথের কাটা। এই কাটা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়া খুব সহজ কাজ নয়। 

ভালোলাগার মানুষের সাথে মাঝে মাঝে ভালো থাকা যায় না এই অমিল গুলোর জন্য। ভালোলাগা আর ভালো থাকা এর মাঝে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে অমিলের দেয়াল। তবে ভালোলাগাতে দোষ নেই। সে হয়তো অনুভূতি বোঝে না, অনুভূতির পরোয়া করে না !! কিন্তু নিজের অনুভুতি তো নিজের কাছে, নিজের ভালোলাগাতো একান্তই নিজের...।  তবু ভালোবাসা বেঁচে থাকে মনে, ভালোবাসা বাঁচিয়ে রাখে, মন দিয়ে মনকে টানে...। 

সঠিক সময়ে হোক আর ভুল সময়ে হোক, জীবনের কোন এক সময় আমরা ভালোবেসেই ফেলি। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে আমরা কখনোই চলতে পারি না, মনের সাথে তো নয়-ই। যে মানুষটি ভালোবাসা থেকে হাজার মাইল দূরে থাকতে চায় সেও একটা সময় অনুভব করে তার জীবনে একজন মনের মানুষ দরকার, মনের কথা বুঝার মতো কেউ একজন দরকার। তবে ভুল সময়ে কারো জীবনে গিয়ে বা কাউকে জীবনে এনে ভালোবাসার অর্থ- আমরা বদলীয়ে দেই। একটা ছেলেকে জীবনে আনা যেমন সহজ কাজ নয়, ঠিক তেমনি একটা মেয়েকেও জীবনে জড়িয়ে ফেলা সহজ কাজ নয়। অনেক সময় অনেক হিসেব-নিকেশ করতে হয় যদি হোঁচট খেতে না চায়। 

কোন ছেলের প্রেমে যদি পড়তেই হয়, ভালোবাসতেই হয় তবে ছেলেটির জীবনের সবচেয়ে খারাপতম সময়েই তাকে ভালোবাসা উচিত একজন মেয়ের। জীবনের ভালো সময়ে সব ছেলেই থাকে নিজের দুনিয়ায় রাজা। রাজার প্রেমে তো জরিনা থেকে জারিন সবাই পড়তে চায়। জীবন যুদ্ধে দুর্দান্ত অসহায় সময়ে একজন ছেলের পাশে কেউ ই থাকতে চায় না। আর যে মেয়েটি এই জীবন যুদ্ধে ঢাল হয়ে দাঁড়ায়, অসহায় পরাজিত ছেলেটির আশ্রয় হয় যে মেয়েটি; তার মতো সাহসী এবং সহিষ্ণু নারী হবার অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম। সবাই এই সাহসিকতা দেখাতে পারে না। এই খারাপতম সময়ে একটা ছেলের হাত ধরার মতো, পাশে থাকার মতো, পাশে থেকে সাহস যোগানো খুব সহজ কাজ নয়। খুব কম সংখ্যক মেয়েই পারে এই কাজ করতে, হাতে গোনা ১% এরও কম। এই সময়ে যে মেয়েটি কোন ছেলের জীবনে পাশে থাকে সে আর যাই হোক ঐ মেয়েকে কখনোই ছেড়ে যেতে পারে না।

ভালোবাসার মেয়েটির মুখের ছোট্ট এক টুকরো হাসি দেখার জন্য যে পুরুষটি পুরো নীলক্ষেতের সমস্ত গল্পের বই কিনে চমকে দিতে পারে, শীতের ভোরে আলো ফোঁটার আগেই পুরো শহরের সমস্ত ফুল মেয়িটির বাসার দরজায় উপহার পাঠাতে পারে-- এ রকম রোমান্টিক, যত্নশীল মনের এবং প্রতিষ্ঠিত, পয়সাওআলা পুরুষকে তো সব মেয়ে-ই ভালোবাসতে পারে এবং ভালোবাসতে চায়ও। কিন্তু জীবন নামক যুদ্ধে যখন এই প্রতাপশালী এবং দুর্দান্তরকম ভালোবাসতে জানা পুরুষটিই জীবনের চরম খারাপ সময়ে এসে দাঁড়ায়, এতোটাই অসহায় সময় সামনে আসে যে সূর্যের আলোটুকুও তাকে হিসেব কষে দেখতে হয় , অক্সিজেন টানতে হলেও হিসেব কষতে হয় , বেঁচে থাকাই যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ-- এ রকম সময়ে তার জীবনের সব থেকে প্রায়োরিটি পাওয়া মেয়েটি, ভালোবাসার মানুষটি কি করবে বলুন তো...?

এ রকম পরিস্থিতিতে সম্ভবত দুটো অপশন থাকে মেয়েটির সামনেঃ- 

এক--"We are Just Friend" বলে কেটে পরা। আর যাওয়ার সময় বলে যাওয়া "আরে আমি তো তোমাকে শুধু বন্ধু ভাবতাম এর বেশী কিছু না, আমরা ভালো Friend- হয়েই থাকি"- বলে ফেলা। বর্তমান ভার্চুয়াল যুগে সব থেকে সহজ অপশন হচ্ছে এটা।

দুই-- আমরা যারা 90s-এর তারা সম্ভবতঃ যা করবে তা হলো নিজেও সূর্যের আলো দেখা বন্ধ করে দিবে, সূর্যের আলোটাকে আলো ভাববে না। নিজেও হিসেব কষে অক্সিজেন টানবে। এমনকি নিজের ঘরে ভালো খাবার থাকলেও খাবে না কিংবা এসি থাকলেও তা আর অন করা হবে না, কিংবা নিজের গাড়ি থাকলেও গাড়ি Use- করবে না। পুরুষটির সমান কষ্টটুকু মেয়েটি নিজেও ফিল করতে চাইবে। যদিও এটা করা খুব সহজ কাজ নয়, এতোটা Risk, অনিশ্চয়তায় কোন মেয়েই হয়তো সাহস করে থাকবে না। থাকার কথাও নয়। 

যদিও বর্তমান ডিজিটাল যুগে এসব কাজকে পাগলামো বলা হলেও এসব পাগলামোতে মেয়েটি ভালোবাসা খুঁজে পেতে চাইবে, একটু বেঁচে থাকতে চাইবে। আর তার প্রতিবেলার নামাজের প্রার্থনা তে ভালোবাসার মানুষটির জন্য দোয়া চাইবে, তার পরিস্থিতির উন্নতির জন্য চাইতেই থাকবে স্রষ্টার কাছে।

খুবকরে ভালোবাসতে জানা এই পুরুষটি যখন অন্ধকাচ্ছন্ন সময় কে পেছনে ফেলে বেঁচে ফিরে আসবে কাঙ্খিত নারীটির কাছে তখন সারা জীবনের জন্য একজন পুরুষকে জয় করে তার কলিজা হয়ে যাবে মেয়েটি। কারণ, শুধু ভালো সময়ে নয়, জীবনের সব থেকে খারাপতম সময়ে নারীটি সব ধরনের অপশন থাকার পরেও ছেলেটিকে ছেড়ে চলে যায়নি। চাইলেই পারতো অনেক ভালো কোন অপশন বেছে নিতে। ভালোবাসাতে কোন অপশন নেই, ভালোবাসা Fixed-থাকে একজনের মাঝে, মনটা একজনের জন্য Fixed-  হয়ে যায়। 

অপরদিকে একজন অসহায়, বিপদে পড়া কোন মেয়েকে প্রোপোজ করার মাঝে কোন বিশেষত্বর কিছু নেই। অসহায়, দুঃসময়ে একজন মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর মতো, মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার পুরুষের সংখ্যার অভাব নেই। শুধু আমাদের সমাজেই অগণিত না বরং পুরো পৃথিবী জুড়েই অসংখ্য।সুযোগ সন্ধানী তো সবাই হতে পারে। ক'জন পুরুষ পারে ভালো সময়ে, জীবন যুদ্ধে On fire- এ থাকা একজন যোদ্ধা নারীকে নিজের করে পাবার চেষ্টাটুকু করতে ? একজন তীক্ষ্ম অনুভূতি সম্পন্ন Sensible- প্রতিষ্ঠিত নারীকে জয় করে ক'জন পুরুষ পারে ভালোবেসে নিজের মাথা নতজানু করতে ? ক'জন পারে একজন মেয়ের হাজার অপশন থাকার পরেও তাকে নিজের করে পেতে, তার ভালোবাসাতে মেয়েটিকে জয় করতে...? সব পুরুষ পারে না। একটা মেয়ে খারাপ সময়ে সব চেয়ে বেশি ভুল করে, এই সময়ে তাকে কেউ একটু Support-দিলে, একটু পাশে থাকলে সে তাকেই আপন ভাবতে শুরু করে। আর এই সময়ে সুযোগ সন্ধানী অনেক ছেলের পাশে এসে ভীড় জমায়। কিন্তু ভালো সময়টিতে একটা মেয়েকে ভালোবেসে মন জয় করে কাছে পাওয়া যুদ্ধ জয় করার চেয়েও বেশি কষ্টকর। একটা মেয়েকে যদি ভালোবাসতেই হয় তাহলে মেয়েটি যখন "আসল আমি থাকে" "দুর্বল আমি না" তখন ভালোবেসে বুকে জড়াতে হয়।

টাকা এবং ভালোবাসা দুটি বড় বিষয় যা প্রায়ই কথায় কথায় বিতর্কিত হয়। কিছু মানুষ মনে করেন যে টাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ কারণ টাকা ছাড়া তাদের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে কষ্টকর হয়ে যাবে। অন্যদিকে, কিছু মানুষ মনে করে যে ভালোবাসা টাকার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, টাকা দিয়ে ভালোবাসা কিনতে পারা যায় না কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে সব জয় করা যায়। 

এই লিখাটিতে আমি সর্বপরি বুঝানোর চেষ্টা করবো জীবনে আপনার কাছে কি গুরুত্বপূর্ণ। সেটা কি ভালোবাসা...? নাকি টাকা...?

প্রথমেই টাকার বিষয়টায় আসি। কেন টাকা গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটি খুবই বোকার মতো একটি প্রশ্ন। যারা মনে করেন যে, টাকা ভালোবাসার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তারা বিশ্বাস করে যে টাকা ছাড়া সে তার ভালবাসাকে নিজের কাছে ধরে রাখতে পারবে না। তারা ভাবেন টাকাই পারে এক মাত্র তাদের দু'জনকে এক সাথে ধরে রাখতে। সুখি পরিবার গড়তে তারা প্রথমেই ভাবেন সে টাকা ছাড়া বাড়ি, গাড়ি কিনতে পারবেন না। তারা মনে করেন সুখে থাকার জন্য বাড়ি, গাড়ি, থিয়েটারে সিনেমা দেখা, বিলাস-বহুল জীবন যাপন। টাকা ছাড়া মানুষ Comfortable-ভাবে জীবন যাপন করতে পারে না।

ভালোবাসা কি...? ভালোবাসা কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয় যেখানে টাকা ভালোবাসা কিনতে পারে না? ভালোবাসা ছাড়া আপনি যা করেন তা অর্থহীন বলে মনে হবে আপনার। টাকা থাকার পরও দেখবেন ভালোবাসা ছাড়া আপনি ভিতরে খালি খালি অনুভব করবেন। সব কিছুই ঠিক আছে কিন্তু ভালোবাসা ছাড়া সব অসম্পূর্ণ মনে হবে। আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যদি আপনি অনেক ধনী এবং বিশ্বের সমস্ত টাকা আছে; এই টাকা উদযাপন করার জন্য হলেও কিন্তু আপনার একজন প্রিয় মানুষ, ভালোবাসার মানুষ দরকার হবে। এটাতেই কি প্রকাশ পায় না- টাকা নয় ভালোবাসাই বেশি প্রয়োজন সুখি হওয়ার জন্য? 

ভালোবাসা নাকি টাকা এই উত্তরটি সহজে খুঁজে বের করার জন্য আমি আর একটু গভীরে গিয়ে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করচ্ছি। আসলে কোনটি বেশি প্রভাবিত করে জীবনকে- "টাকা নাকি ভালোবাসা"।

জীবনে বেঁচে থাকার জন্য টাকা এবং ভালোবাসা উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। "ভালোবাসা এবং টাকা" জীবনে তাদের নিজস্ব কাজ রয়েছে এবং এই দুটিই আমাদের চলার সঙ্গি। একটু ভেবে দেখুন তো আপনি আপনার হাত নাকি পা'কে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন? সম্ভবত, উভয় হাত এবং পা গুরুত্বপূর্ণ আপনার কাছে এবং আপনি স্পষ্টভাবে কোনটিকেই হারাতে চান না। একই ভাবে ভালোবাসা এবং টাকার জন্য বলা যেতে পারে। উভয় আমাদের জীবন সহজ করার জন্য তাদের নিজস্ব উপায়ে কাজ করে এবং গুরুত্বপূর্ণ। 

ভালোবাসা গুরুত্বপূর্ণ জীবনের জন্য। কিন্তু এই যুগে আপনি এক সেকেন্ডের জন্য চিন্তা করবেন না, শুধু ভালোবাসা নিয়ে জিরো টাকা নিয়ে ভালোবাসা টিকিয়ে রাখতে পারবেন।

টাকা জীবনের জন্য প্রয়োজন কিন্তু ভালোবাসা তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন। ভালোবাসা থাকলে আপনি কম টাকাতেও সুখি হতে পারবেন, ভালোবাসা না থাকলে হাজার টাকা থাকলেও সুখি হতে পারবেন না। জীবনে সুখি হওয়ার জন্য টাকার চেয়ে ভালোবাসার বেশি প্রয়োজন। ভালোবাসা থাকলে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ৫ টাকা দিয়ে এক কাপ চা- তেও সুখ অনুভব হবে কিন্তু ভালোবাসা না থাকলে 5 Star-হোটেলে ১০০০ টাকা দিয়ে এক কাপ চা- খেয়েও অসুখি অনুভব করবেন। ভালোবাসা থাকলে ছোট্ট চিলে কুঠতেও সুখি ভাবে জীবন যাপন করতে পারবেন, কিন্তু ভালোবাসা না থাকলে Duplex-বাড়ি, Marsadiz-গাড়িতে ঘুড়েও সুখি হবেন না। 

সর্বশেষে একটি কথাই বলবো- টাকা ভালোবাসা কিনতে পারে না, সুখ কিনতে পারে না। কিন্তু ভালোবাসা সব জয় করতে পারে। সুখি হওয়ার জন্য ভালবাসাটিই বেশি প্রয়োজন।  

MARI themes

Powered by Blogger.