পৃথিবীতে কেউই পারফেক্ট নয়। নদীর ওপারের ঘাস বেশি সবুজ এটা ভাবার কোনো কারন নেই। মানুষের হাতের পাঁচ আঙ্গুল যেমন সমান হয় না, তেমনই প্রতিটা মানুষ, মানুষের ধরণ, মানুষের মন এক নয়। 
কেউ কেউ নিজের ভাললাগা, খারাপ লাগা, কষ্ট গুলো খুব সহজেই হর-হর করে বলে দিতে পারে। নিজের কষ্টের কথা অনেক উপায়ে, অনেক অঙ্গ-ভঙ্গীতে প্রকাশ করতে পারে। আবার অনেকেই আছে যারা হাজার কষ্ট পেলেও মুখ ফুটে বলতে পারে না, বলতে পারে না যে সে কতোটা কষ্ট পেয়েছে, মনে কতোটা আঘাত লেগেছে। তবে সেও কষ্ট পায় অনেক বেশি কষ্ট পায় কিন্তু সে কখনোই চায় না যে তাকে কষ্ট দিলো, যার কারণে কষ্ট পেলো তাকে বুঝতে দিতে, জানতে দিতে। কষ্ট পাওয়ার পর সে চুপ হয়ে যায়, একদম চুপ, স্তব্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বাহিরে কিছুই প্রকাশ পায় না, কখনো পাবেও না। শুধু তার মন-ই জানে কতোটা কষ্ট, আঘাত সে পেয়েছে। 
কষ্টের কথা প্রকাশ করে কি হবে যদি সে নাই বোঝে যে তার কথার জন্য, তার ব্যবহারে সে এতোটা কষ্ট পেয়েছে। 
আমাদের মাঝে চিন্তা ভাবনায় একটু ভুল আছে। যারা খুব সহজে মনের কথা, নিজের কথা, নিজের কষ্টের কথা প্রকাশ করতে পারে আমরা তাদের ভাবি তাঁরাই একমাত্র Emotional-, তাদেরই একমাত্র মন আছে। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে আসলেই কি তাই...?? এমনো তো হতে পারে সে Acting-করছে, এমনো তো হতে পারে সে Just-আপনাকে দেখানোর জন্য কাজ গুলো করছে। আসলে মানুষ যা প্রকাশ করে সেটাকেই আমরা বেশি গুরত্ব দেই, আসল সত্যটা কি সেটা খুব কমই লক্ষ্য করি। সে বাহিরে যা প্রকাশ করছে আর তার মনে কি আছে এই দু'টো জিনিস খুব কমই মিলানোর চেষ্টা করি। 

"আমি তাদের দলে যারা প্রকাশ করতে পারে না বা জানে  না...।।"

প্রকাশ করাটাই কি সব...!!?? যে মানুষটা প্রকাশ করতে পারলো না তার কি মন নেই...?? তার কি কষ্ট হয় না...?? তার কি কান্না পায় না...?? নাকি সে মানুষই না...?? তার মনও আছে, কষ্টও হয়, কান্নাও পায় কিন্তু সে তা সবার সামনে প্রকাশ করতে ইচ্ছুক না। এমনকি যে মানুষটা তাকে কষ্ট দিলো, কথা শুনালো তার সামনেও না। 
একটু লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবেন আপনি একটু আগে যে কথাটা এই মানুষটাকে বললেন বা যে ব্যবহারটা করলেন তার জন্য হয়তো সে কান্না করেছে যা আপনি দেখেন নি বা সে আপনাকে দেখাতে চায়নি। শুধু এ জন্য যে আপনিও হয়তো কষ্ট পাবেন, আপনারও হয়তো মন খারাপ হয়ে যাবে। একটু পর সেই মানুষটাই যখন আপনার সামনে এসে হাঁসি মুখে কথা বললো আর আপনি ভেবে নিলেন যে তার কিছুই হয় নি, কষ্টও লাগেনি !!! এই ভাবনাটাই সব চেয়ে বড় ভুল। আপনি যদি সত্যি বোঝার চেষ্টা করতেন যে সে কষ্ট পেয়েছে কিনা বা কতোটা কষ্ট পেয়েছে তাহলে একটু লক্ষ করলেই দেখতে পেতেন তার গলার স্বর ভেজা, তার চোখের দিকে একটু তাকালেই বুঝতে পারবেন তার চোখ লাল, চোখ দু'টো ভেজা, সে আপনার দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারচ্ছে না। আপনার সামনে এসে হাসি মুখে কথা বলার আড়ালে তার কান্নাটা আপনার চোখ দেখলো না। এই মানুষ গুলোর হাসির আড়ালে যে কতো কষ্ট লুকায়িত থাকে তা আপনি বুঝতে পারবেন না বা বোঝার চেষ্টাও করবেন না কখনো। এই মানুষ গুলো বাহিরে যতোটাই কঠিন দেখাক না কেন, ভিতরে খুবই নরম, খুব বেশিই কোমল। তাদের মনে আঘাত পেলেও তাঁরা হাঁসি মুখে কথা বলতে জানে। এই মানুষ গুলো জানে কিভাবে কষ্ট লুকোতে হয়, নিজেকে আড়াল করতে হয়, এই মানুষ গুলোর কষ্ট সহনীয় ক্ষমতা অনেক বেশি।
এই মানুষ গুলোই সবার চোখে  Hard Type,  Emotional Less-মানুষ হিসেবে সু-পরিচিত থাকে। কেউ জানে না তাদের মনে কতোটা Emotion-রয়েছে। আবেগ সব সময় প্রকাশ করা যায় না বা পায় না। এই মানুষটা হয়তো এটা ভাবে যে কেউ একজন তার না বলা কথা, অপ্রকাশিত চোখের ভাষা বুঝবে... 






চেনা মানুষ অচেনা হওয়াটা যতোটা'না স্বাভাবিক তার চেয়ে বেশি অস্বাভাবিক লাগে আমার কাছে। প্রতিদিন আমি একটু একটু করে মানুষ চিনি, আর অল্প অল্প করে বড় হই। আজব এ শহরে মানুষের যে কত রূপ, কত রঙ্গ যে জানে সেই মানুষ গুলো...!!

অনেক দিনের চেনা মানুষ টিকেও হঠাৎ কেমন যেন অচেনা লাগে, তার কথায়-ব্যবহারে টাকে চেনা যায় না । আবার অল্প ক'দিনের পরিচিত মানুষটিও কেমন মুহূর্তেই আপন করে নেয়, আপন হয়ে যায়। বিপদে যার এগিয়ে আসার কথা সবার আগে, তাঁকে অনেক সময় খুঁজে পাওয়া যায় না আশেপাশে। যাকে কখনোই আশা করেন নি, তাঁকেই হয়তো পেয়ে যেতে পারেন কষ্টের দিনে। সেই আপনার চোখের জ্বল মুছে দিবে, কষ্টে পাশে থাকবে, মুখে হাঁসি ফোঁটাবে আর যদি কাউকে না পান, দেখবেন নিজের মাঝেই অন্য এক আমির অস্তিত্ব টের পাবেন। এই আমিত্বটা স্রষ্টার দান। যার কেউ নেই, তাঁর জন্যও মনে হয় কেউ একজন থাকেন। কিন্তু আমরা তা বুঝি না, আমরা তা অনুভব করতে পারি না। কেউ একজন আছেন, কেউ একজন থাকবেই।

কেউ কেউ মানুষকে কষ্ট দিয়ে পৈশাচিক আনন্দ পায়। বিপদে হাত না ধরে কষ্ট দিতেই যেন পছন্দ করে, কষ্টে পাশে না দাঁড়িয়ে দূর থেকে উপহাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। অনেক ক্ষতি করার পরেও যখন সে দেখে, ক্ষতিগ্রস্থ মানুষটি তারপরেও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এগিয়ে চলেছে, তখন সে ঈর্ষান্বিত হয়। নিরীহ মানুষটির সাময়িক কষ্ট হয়, কিন্তু একদিন সে-ই কিন্তু জয়ী হয়। একটা সময় সেই কিন্তু সব চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়, মনের দিক থেকে একটা সময় সব চেয়ে কঠিন হয়। এতো বেশি কঠিন যে পাথরকেও যেন হার মানায়।

যে মানুষটা একটা সময় একটুতেই কষ্ট পেতো, একটুতেই চোখে জল গড়িয়ে পড়তো সেই মানুষটা হোঁচট খেতে খেতে উঠে দাঁড়ায়, কষ্টকে বস্তা বন্ধী করে পাথর করে মনে রেখে দেয়। পাথরও হয়তো একটা সময় ভাঙ্গে, গলে যায় কিন্তু এই মানুষটার মন গলে না। কারণ এই মনটা কষ্টে লালিত, নিঃসঙ্গতার চাদরে পালিত, মিথ্যা কথায় মন ভাঙ্গনের সুতোয় গড়া...।।

এই মনটা কি এতোটা পাথর হতো যদি চেনা মানুষ চেনাই থাকতো...!!?? যদি হাতটা কেউ বাড়াতো, যদি কষ্টের মাঝে, একা থাকার মাঝে একটু কেউ ভরসা দিতো, কেউ একজন সঙ্গী হতো পথ চলার...!!

একা চলা কষ্টের কিন্তু কিছু কিছু মানুষ আছে, যারা শত বাধা অতিক্রম করে একা একাই ছুটে চলে। হয়তো আপনার আশেপাশেই আছে সে। আপনিই হয়তো কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোনো না কোনোভাবে তাকে আঘাত করেছেন, হয়তো তার পাশে না দাঁড়িয়ে দূর থেকে দেখেছেন। হয়তো আপনিও কোনো সময় তার কষ্টে হেসেছেন, সে ভালো করলেও উৎসাহ না দিয়ে আড়ালে হেসেছেন। তার দুঃখে কষ্ট না পেয়ে হেসেছেন, মজা নিয়েছেন।

এই অদম্য মানুষ গুলি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হতাশ হয়ে পড়ে কিন্তু কখনোই হাল ছাড়ে না। জীবন যুদ্ধে এরা খুবই বাস্তবতাবাদী, সাহসী, কর্মঠ। পরাজিত এরা কখনোই মেনে নিতে পারে না। কিন্তু কিছু সময় এরা হতাশ হয়ে পড়ে, একা একা বোধ করে, নিঃসঙ্গতা ঘিয়ে ধরে। কারণ, এদের পাশে কেউ দাঁড়ায় না। কোন একটা সময় তাঁরা কারো সঙ্গ চায়, তার হাতে একটা হাতের স্পর্শ চায়, সেই হাতের সাহস চায়। কেউ পাশে আসে না, কেউ হাত ধরে সাহস দেয় না, কেউ এসে হাতটি ধরে কিছুদূর এগিয়ে দেয় না। একটিবার জানতে চায় না, সে এইবেলা খেয়েছে কিনা, তার আজ মন খারাপ কেন, তার মনের ইচ্ছা গুলো কি, মনের নীরব কষ্ট গুলো কি...!!? তার হাসিমুখের আড়ালে নিরব কান্নার জল কেউ দেখে না। তার একাকীত্বতা, নিঃসঙ্গতা কারো চোখে পড়ে না।।

আমি এই মানুষটির দলে। আমি জানি, এর কতো কষ্ট মনে।


জীবনটা সম্পর্কের মায়া জালে আবদ্ধ। এই মায়া জালটাই সম্পর্কটাকে বাঁচিয়ে রাখে, জীবনের অক্সিজেন, জীবনের বেঁচে থাকার প্রেরণা।
জীবনে তুমি নামের অনেক গুলো সম্পর্ক থাকে। তবে একটা বিশেষ তুমি জীবনটায় অনেক আলাদা অর্থ বহন করে। সে হয়তোবা প্রথম থেকেই পরিচিত থাকে না, হুট করে খুবই আচমকা এসে আঙুলের ফাকা জায়গা গুলো পূরণ করে দেয় বা হয়তো আগে থেকেই পরিচিত থাকে কিন্তু হুট করে এসে তুমি নামের অর্থটার নতুন রুপ দেয়। এই তুমি নামের সম্পর্কটার অনেক গুলো বিশেষায়িত দিক থাকে। যাকে অন্য সবার থেকে আলাদা মনে হয়, যে কখনোবা মন খারাপের কারণ হয়, কখনোবা আনন্দ জলে স্নান করায়, কখনোবা গুণ গুণ করে গান গাওয়ার কারণ হয়, কখনবা উদাস মনে একলা পথে হাটার কারণ হয়।

জীবনে তার আবির্ভাবে অগোছালো সব নিয়ম গুলো শৃঙ্খল হয়ে উটে। সাদা-মাটা স্বভাব গুলো সব বদলে যেতে শুরু করে। তুমি করে ডাকা মানুষের অভাব হয় না, কিন্তু এই একটা বিশেষ তুমিতেই যেন সব ভালোলাগা আটকে থাকে, এই তুমিতেই যেন সব খুশি লুকায়িত থাকে। এই তুমির সব পছন্দ গুলো পছন্দের আর অপছন্দ গুলোও নিজের অপছন্দের তালিকায় জায়গা করে নেয়। একসময় ভালো না লাগা জিনিসটাও হয়ে উঠে অতিপ্রিয়, কখনো কোনদিন মুখে না নেওয়া খাবারটাও যেন তখন অনেক সুস্বাদু। তখন নিজের প্রতি অন্য কারো জন্য হলেও একটু অতিরিক্ত কেয়ার চলে আসে, নিজের মাঝে অন্য কারো অস্তিত্ব অনুভব করে। রাস্তায় হঠাৎ করে কারো সাথে ধাক্কা খেলে নিজের দোষ না হলেও সরি বলে চলে আসতে ইচ্ছে করে, কোনদিন ফুলের সুভাষ না নেওয়া মানুষটারও ফুলের দোকান দেখলে সব গুলো ফুল কিনে নিতে ইচ্ছে জাগে, পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া বকুল ফুলের মালা নিয়ে যাওয়া লোকটির কাছ থেকে সব গুলো মালা কিনে ফেলতে ইচ্ছে করে। রেস্টুরেন্টের দামি খাবার গুলোর থেকে রাস্তার পাশের ফুসকা আর চটপটি গুলো খেতে বেশি ভালো লাগে। হাতের মোবাইলটা তখন হয়ে উঠে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস, সবসময়ের খোলামেলা স্বভাবটায় একটা প্রাইভেসি চলে আসে। পরীক্ষার খাতায় নিজে থেকে দুই লাইন লিখতে না পারা ছাত্রটাও তখন কবিতা লিখতে শিখে যায়।

সবকিছুতেই একটা পরিবর্তন আসে। পছন্দের রঙে পরিবর্তন আসে, আইসক্রিমের ফ্লেভারে পরিবর্তন আসে, সাচ্ছন্দে পরা কাপড়টায় পরিবর্তন আসে, চুলের কাটে পরিবর্তন আসে, সেভ করা মুখে দাড়ি গজায়, হাটার Style-এ পরিবর্তন আসে...।। এই সব কিছুই সেই একটা বিশেষ তুমির কারণে। এই তুমিটাই তার জীবনের আল্লাদ, ইচ্ছা, পূর্ণতা, জীবনের রং...।। এই তুমিটার জন্যই মানুষ বেঁচে থাকে, বেঁচে থাকার আশা জাগায়, জীবন স্বপ্ন দেখে...।।



প্রতিটা মানুষের জীবন-ই ভিন্ন, প্রতিটা মানুষের জীবনের কথা ভিন্ন।
আমি যে সব সময় Impulse / Emotional-এর উপরে চলি তা কিন্তু না। তবে আমি অতি মাত্রায় Emotional- এটা সত্য।
কাজে-কর্মে, চিন্তাভাবনায় আমি শুধু যে গোছানো তা নয়, অসম্ভব গোছানো। পান থেকে চুন খসা যাবে না এই type-এর গোছানো। ১৯-২০ হওয়া যাবে না, ১৯ হলে ১৯-ই, ২০ হলে ২০-ই। আকাশ কুসুম চিন্তা করা কখনোই ছিল না, যা এখনও নই। হয়তো হবে, হয়তো থাকবে, হয়তো / যদি এই Word গুলো আমার Dictionary-তে নেই। হয় হবে আর নয়তো না। সব সরল রেখায় হতে হবে, হতে হবে বললে ভুল হবে। হতেইই হবে...তাল মিলানো স্বভাবটা খুবই অপছন্দ, হ্যাঁ তে হ্যাঁ আর না তে না তাল মিলাতে পারি না। "হ্যাঁ" তে "না" আর "না" তে "হ্যাঁ" বলতে পারি দেখে বেশির ভাগ মানুষের কাছেই অপছন্দের পাত্র। কখন কী করবো, কতক্ষণ করবো তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখা। Confusion-, দোটনা কখনোই কাজ করে না। কাজ করবো বলেছি মানে কাজটি আমি করবোই, করতেই হবে। দু'বার ভাবার সময় নেই। কাজটি করতে কতোটা ধকল, কষ্ট পোহাতে হবে সেটা কোন বিষয় নয়... কঠিন রুটিন। সময় ভাগ করা...
তারপরোও হঠাৎ হঠাৎ কেন জানি মাথা এলোমেলো হয়ে যায়। হঠাৎ কেমন যেন কিছু জিনিস সরল রেখা থেকে বাকা পথে চলে যায়। এতো কঠিন রুটিন থেকে কিভাবে যেন কিছু ছুটে যায়, কিছু জিনিস এদিক-সেদিক হয়ে যায়। মাঝে মাঝে উদ্ভট একেকটা কাণ্ড করে বসি। কোনো সুস্থ মাথার মানুষ যা কখনো করবে না।
মাঝে মাঝে এলোমেলো হতে ইচ্ছে করে...।।

সকলের সাথে আমার মিশি না, সকলের সাথে আসলে আমাদের মন মিশার ইচ্ছা প্রকাশ করে না। আপন সকলকে ভাবা যায় না, তাই আপন মানুষের সংখ্যা কম। সবাই আপনত্বের অধিকার পায়না, সবাই আপন হতে পারে না।
"যত ঝগড়া আর রাগারাগি সব কাছের, আপন মানুষের সাথেই হয়। একটা মানুষ যত বেশি তোমার সাথে মিশবে, তুমি যতো বেশি তার সাথে মিশবে,  দিনের পর দিন তোমার প্রতি ঐ মানুষটার Expectation  একটু একটু করে বাড়তে থাকবে । একটা সময় তুমি যখন তার কাছের মানুষ হয়ে যাবা, নিজের মানুষ হয়ে যাবে,  মানুষটা তোমার কাছ থেকে নিজের অজান্তেই অনেক বেশি Expect করা শুরু করবে ।।
খুব সকালে ঘুম ভাঙতেই মানুষটা Expect করবে, তুমি তার খোঁজ নিবে, তোমার ফোনেই তার ঘুম ভাঙ্গুক, ভোরের “শুভ সকালটা” তাকে বলেই শুরু হোক।। এই সময়টায় তোমার সামান্য নীরবতাই তখন তাকে ভয়াবহ রাগিয়ে দিবে। মানুষটা নিজেও জানবে, সে সামান্য ব্যাপারেই তোমার উপর বেশি রাগ করে ফেলেছে, অনেক কথা শুনিয়ে ফেলেছে। সে সব জানবে, বুঝবে কিন্তু মানবে না । হয়তো অনেক সময় তার এই রাগ, অভিমানটা নিজের মাঝেই রেখে দিবে প্রকাশ করবে না। সব দোষ ঐ " Expectation " এর ।।
পুরো পৃথিবীর সবাই ব্যস্ত থাকুক, সমস্যা নেই। কিন্তু তুমি ব্যস্ত থাকলে তার পৃথিবীটাই উলটে যাবে, সে অস্থির হয়ে যাবে।সে তোমার এই ব্যস্ততা মেনে নিতে পারবে না। মানুষটা মনে প্রাণে চাইবে, শত ব্যস্ততার মাঝেও তুমি তাকে সময় দাও, তার একটু খোঁজ নাও, তার সাথে একটু কথা বলো। সেই চাওয়া যখন পূরণ হয় না, তখনই কষ্ট হয় ... ভীষণ কষ্ট ...।। এই কষ্টের কোন নাম নেই, এই কষ্ট বুঝানো যায় না। সে যে কষ্ট পেতে পারে, তার যে খারাপ লাগতে পারে এটা তোমাকেই বুঝতে হবে, বুঝে নিতে হবে...।।
কারণ ছাড়াই যে মেয়েটা বা ছেলেটা তোমার উপর রাগ দেখায়, তাকে ভুল বুঝো না। একটু উনিশ-বিশ হলেই যে ছেলেটা বা মেয়েটা তোমার উপর মন খারাপ করে বা, Over-React করে, তাকে দূরে ঠেলে দিও না ।। এই মানুষটার কাছেই তুমি সব চেয়ে ভালো থাকবে, সুখি থাকবে।
কারো "কাছের মানুষ" হওয়াটা সহজ ব্যাপার না। চারপাশের হাজার হাজার মানুষের মাঝে কেউ একজন তোমাকেই খুব আপন ভাবে, তার একটুখানি অত্যাচার সহ্য করতে পারবে না তুমি ?? তোমাকে যে আপন ভাবে তার চেয়ে তুমি বেশি Lucky একটু ভেবে দেখো। কারণ, হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে তোমাকেই সে আপন ভেবেছে, আপনত্ব দিয়েছে।।
অন্যান্য সব অত্যাচারের ভেতর যন্ত্রণা মেশানো থাকে, কিন্তু কাছের মানুষের অত্যাচারের ভেতর ভালোবাসা মেশানো থাকে ...।। এই ভালোবাসা অনেক দামী, অনেক খাঁটি...।।

আমাদের জীবনের ভাললাগা- খারাপ লাগার বেশির ভাগই নিজের চেয়ে অন্যের উপর নির্ভর করে। খুব ছোট্ট কোন কারনেই মন খারাপও হয়ে যায় আবার খুব ছোট্ট কোন কারনেই মন ভালো হয়ে যায়। এই ভালোলাগা, খারাপ- লাগাটা কিন্তু নিজের উপর নির্ভর করে না। সময় ভেদে মানুষও পরিবর্তন হয়।
বাল্যকালে ভাললাগা-খারাপ লাগা বাবা-মা, ভাই-বোনের উপর নির্ভর করে, আসতে একটু বড় হওয়ার সাথে সাথে বন্ধু-বান্ধব যোগ হয়। সময় বাড়তে বাড়তে যদি সে কাউকে ভালোবেসে ফেলে তখন তার এই ভালোলাগা-খারাপ লাগাটা নির্ভর করে ঐ ভালোবাসার মানুষটির উপর আর বিবাহিত জীবনে নির্ভর করে স্ত্রী, সন্তানের উপর, পুরো পরিবারের উপর।

যখন আপনার ভালোলাগা খারাপ লাগাটা আরেকটি মানুষের উপর নির্ভর করবে তখন আপনার সব কিছুই অন্য একজনের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। তখন আপনার মাঝে আপনি থাকলেও আপনার মনকে Control-করবে অন্য একজন মানুষ। এই সময়টা তখন হয় যখন আপনি কাউকে ভালবেসে ফেলবেন, মনের মনি কোঠায় তাকে জায়গা দিবেন, কাউকে মন থেকে বন্ধুত্বের সর্বোচ্চ আসনে বসাবেন।

একটা সময় আপনি বুঝতে পারবেন ঐ একটা মানুষের জন্যই আপনার চিন্তা হচ্ছে, ঐ মানুষটাকে নিয়েই আপনি ভাবছেন, ঐ মানুষটা ভালো থাকলে আপনিও ভালো আছেন, ঐ মানুষটার ছোট্ট বিপদের কথা শুনেই আপনি অস্থির হয়ে যাচ্ছেন, ঐ মানুষটার অনুপস্থিতির মুহূর্তই আপনাকে সবচেয়ে বিষন্নতা, মন খারাপের চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়। ঐ একটি মানুষের একটু উপস্থিতিতে আপনার মুখে হাঁসি ফোটে, মনে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। যখন আপনার খুব বেশি মন খারাপ থাকবে খেয়াল করে দেখুন তখন আপনার ঐ মানুষটার কথাই মনে পড়বে, ঐ মানুষটার কথাই ভাববেন। মন খারাপের সময় প্রিয়জনের কথাই প্রথমে মনে পড়ে, বেশি মনে পড়ে।

যার উপর আপনার ভাললাগা-খারাপ লাগা, আপনার মনের হাঁসি কান্না নির্ভর করে সে আর কেউ নয়, আপনার সবচেয়ে কাছের মানুষ। এ রকম অনুভূতি সবার জন্য আসে না, সবার জন্য আসা সম্ভবও নয়।
যখন নিজের ভাললাগা, খারাপ লাগা আরেকজন মানুষের উপর নির্ভর করে তখন খুব কম সময়ই ভালো থাকা হয়। কারণ, হয়তো তাকে আপনি বুঝাতে পারেন না যে তার জন্য আপনার আজ মন খারাপ, হয়তো সে বুঝেও অবুঝ হয়ে থাকে, হয়তো তার এই কথা - ব্যবহারের জন্য যে আপনার মন খারাপ হতে পারে সেটা সে বুঝতেই পারেন না বা গুরত্বই দেয় না। তখন অনেকটা কাঠের পুতুলের মতো অবস্থা হয়।

কারো জন্য যদি আপনার মনে শূন্যতা সৃষ্টি হয়, তার অনুপস্থিতি যদি আপনার মনকে অস্থির করে তোলে, শূন্যতার সৃষ্টি করে তাহলে বুঝে নিবেন সে আপনার অনেক কাছের, অনেক আপন একজন মানুষ। সেই একমাত্র মানুষ যার উপস্থিতিতে আপনি ভালো থাকবেন, হাজার মানুষের ভিড়েও আপনি যে একাকীত্বে ভুগতেন সেই একজন মানুষের উপস্থিতিতেই একাকীত্ব দূর হবে। ভালোথাকাটা এই একটি মানুষের হাত ধরেই, এই মানুষটাকে ঘিরেই। আপনার মনের প্রবাহ, গতিবেগ এই মানুষটাকে ঘিরেই।

আপনার অনুপস্থিতিতে যখন আরেকজন মানুষের মনে আপনার জন্য অসীম শূন্যতার সৃষ্টি হয় তখন বুঝে নিবেন আপনি পৃথিবীতে সবচেয়ে ভাগ্যবান/ভাগ্যবতী একজন মানুষ।
"He or She really Care about You, Your emotion and badly Care about your Single Moment."

কিছু বিষয়, কিছু কথা আমরা মনের চোখ দিয়ে দেখি না, বিবেকের চোখ দিয়ে দেখি না কিন্তু সেই বিষয়টাই যদি বিবেকের চোখ দিয়ে দেখা হতো তাহলে ফলাফল অনেক ভালো কিছুই হতে পারতো।
যার হাত ধরে আপনি বিপদে থেকে মুক্তি পেলেন, যে আপনার অন্ধকার পথের সহযোগী, যার জন্য আপনি নিজেকে নতুন ভাবে উপস্থাপন করতে পারলেন, অন্ধকার থেকে আলোর মুখ দেখলেন সেই মানুষটাকেই আপনি আজে-বাজে কথা শুনিয়ে দিলেন, মিথ্যা কিছু অপবাদ, অভিশাপ দিয়ে দিলেন কিন্তু আদৌ কি সে এগুলো পাওয়ার মতো ছিল...!!! কথা গুলো তাকে বলার আগে একবার কি ভেবেছেন কাকে কথা গুলো বলচ্ছেন, মানুষটা কে...?? এই মানুষটাই কিন্তু সেই মানুষটা যে মানুষটা আপনার সব চেয়ে কষ্টের, বিপদের মুহূর্তে পাশে ছিল, আপনার কান্না ভেজা চোখে হাঁসি ফুটিয়েছে। এই মানুষটাই আপনাকে বারবার টেনে তুলেছে যখন আপনি বারবার হোঁচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছিলেন।।হয়তো ভুলে গিয়েছেন...
মানুষ বড়ই ভুলোও মনো, খুব সহজেই অতীত ভুলে যায়।।
যে মানুষটাকে আপনার সর্বোচ্চ সন্মান দেওয়া উচিত ছিল, সেই মানুষটাকেই আপনি অসন্মান করে বাজে কথা বললেন।। আপনার কি মনে হয় আপনি তার কাছ থেকে সন্মান পাবেন। তার কথা বাদ-ই দিন, অন্য কারো কাছ থেকে কি কখনো সন্মান পাবেন...!!! কখনোই না...।। যাকে সবচেয়ে বেশি সন্মান দেওয়া উচিত ছিল সেই মানুষটাকেই আপনি সন্মান দিতে পারলেন না তাহলে ঐ মানুষটা বা অন্য কারো কাছ থেকে কিভাবে ভালো কিছু বা সন্মান আশা করেন...!!?? নিজেকেই একটু প্রশ্ন করে দেখুন...

জীবন এতো সোজা নয়।। আপনি তার জন্য কিছু করতে না পারলেও তাকে অন্তত আপনার ছোট করা উচিত নয়, তাকে অপমান করা উচিত নয়। At least-তার প্রতি আপনার কৃতঞ্জতা স্বীকার করা উচিত ছিল। জীবনের কোন একটা সময় হয়তো আপনি ঠিকই বুঝতে পারবেন সেই মানুষটা আপনাকে কতোটা সামনের দিকে এগিয়ে দিয়েছে, যার জন্য আপনি বর্তমানে দাঁড়িয়ে আছেন কিন্তু তা বর্তমানে আপনি বুঝতে পারচ্ছেন না। আচ্ছা, যখন আপনি বুঝতে পারবেন তখন ঐ মানুষটার কাছে আপনার ব্যবহারের জন্য  Sorry-বলার জন্য তাকে খুঁজে পাবেন তো, Sorry-বলার সময় পাবেন তো...??
মনে রাখবেন জীবনের মোড় ঘুড়তে সময় লাগে না...।।

Virtual Life, Virtual জগত নিয়ে কিছু একটা লিখার খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু কিবা লিখার আছে তা জানা নেই। ভার্চুয়াল- Life- আমার পছন্দ না সেই প্রথম থেকেই। মাঝে মাঝে মনে হয় সব কেমন যেন ভার্চুয়াল হয়ে যাচ্ছে।।ভার্চুয়াল জগত টা কেমন যেন মিথ্যা, সত্য বলতে কিছুই খুঁজে পাই না...।।
আমি খুব ছোট্ট একটি Example-দিয়ে বিষয়টাকে Clear-করবো। ১ দিসেম্বর-২০১৬ আমি Facebook-এ traveling to Darjeeling দেই। বিষয়টা তখনও এতোটা Serious-ভাবে দেখিনি কিন্তু হঠাৎ বিষয়টা আমাকে খুব ভাবিয়ে তুললো। মনে কেমন যেন খচ খচ করতে লাগলো, কেমন যেন একটা অস্থিরতায় ভুগতেছিলাম। কয়েকজন আমাকে জিজ্ঞাস করেছে হঠাৎ দেশের বাহিরে কেন, হঠাৎ India-কেন...? আমি কিছুই বলতে পারিনি। আমার আপু যখন জিজ্ঞাস করলো তখন নিজের কাছে নিজেকে খুব বেশি ছোট লাগলো, কিছুই বলতে পারতেছিলাম না। কি বলবো, এতো বড় মিথ্যা...!!! মজা করতে গিয়ে বোনের কাছে মিথ্যাবাদী হবো...!!! ভাবতে পারতেছিলাম না...বিষয়টি কিন্তু মোটেই ছোট নয়। বিষয়টি জীবনের সব চেয়ে গুরত্ব পূর্ণ বিষয় বিশ্বাস-অবিশ্বাস নিয়ে। বিশ্বাস-অবিশ্বাস কি এতোটাই তুচ্ছো...!!! না, কখনোই নয়।।
এরকম মিথ্যা হাজারটা আমরা বলি প্রতিনিয়ত। ফোনের এ প্রান্তে দাঁড়িয়ে বলছেন আপনি ঢাকা, কিন্তু আপনি তখন ঢাকার বাহিরে বা অন্য কোন জায়গায়।
আপনার মনটা কোন কারণে খুব খারাপ। Facebook-এ Status-দিলেন feeling sad, সাথে কিছু আবেগময় কথা...।। বাহহ মন খারাপের অনুভূতি প্রকাশ করা হয়ে গেলো। কতো সহজ তাই না...!!!
 Virtual Life- আমাদের সকলের সাথে Communication-কতোটা ভালো করেছে তা জানি না, কিন্তু আমার মনে হয় কাছের মানুষদের সাথে Communication gap-সৃষ্টি করেছে অনেক বেশি। এখন কেউ আড্ডা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করে না, খেলাধুলা করার প্রয়োজন মনে করে না। সকলের সাথে Chat-তো হচ্ছেই, mobile games-তো আছেই।  একটা মানুষের সাথে ২ ঘণ্টা Chat-করুন আর ঐ মানুষটার সাথেই ১০ মিনিট এর জন্য দেখা করে কথা বলে দেখুন কোনটা ভাললাগে। দেখা করা, আড্ডা দেওয়ার মাঝে এক ধরনের মনের আত্মতৃপ্তি আছে, এক ধরনের সজীবতা আছে যা আপনি সারা দিন ফোনে কথা বলে, Chat-করেও পাবেন না।
ধরুন আজ আপনার Birth Day. সকলেই আপনাকে Facebook-এ wish করতেছে। আপনাকে ফোন করে বা Mobile-SMS খুব কম মানুষ-ই দিবে কারন বাকিরা কেউই মনে রাখেনি। মনে তারাই রাখে যারা কাছের, আপন। Facebook-এ Notification-দেখে যারা আপনাকে Wish- করতেছে তাঁরা Just Formality-দেখাচ্ছে, এছাড়া আর কিচ্ছু না। তাঁরা জানেও না আপনার জন্মদিন কবে, বিশ্বাস হলো না...!! তাহলে একদিন পর তাকে Ask-করে দেখুন, দেখবেন সে বলতে পারবে না।
সব কিছুরই ভালো - খারাপ দু'টি দিকই আছে। তবে কিছু জিনিসের ভালোটা জেনেও আমরা খারাপটাই বেছে নেই।
ভার্চুয়াল জগত টা মানুষের বিবেক, বুদ্ধি, সন্মান বোধ সব দিন দিন কমিয়ে দিচ্ছে।।
"A virtual life is easier than real life, but it is really no life at all."


আবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসা সবার মাঝেই থাকে কিন্তু প্রকাশ করার ভাষাটা ভিন্ন। অনেকে খুব সহজেই প্রকাশ করতে পারে আবার অনেকে প্রকাশ করতে পারে না। যে প্রকাশ করতে পারে না তবে কি তার মাঝে আবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসা নেই...!!! তারো আছে কিন্তু সেটা খুবই গভীরে। সেই আবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসা খুঁজতে হলে, পেতে হবে ততোটাই মন বুঝতে হয়, ততোটাই মনের ভিতরে প্রবেশ করতে হয়। তারা যেমন আবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারে না তেমনি তার কষ্টটাও অপ্রকাশিত থেকে যায়। তবে কি সে কষ্ট পায় না...!!?? পায়, কিন্তু তা বাহিরে প্রকাশ করে না। নিজের মাঝেই রেখে দেয়। সে নিজেকে নিজের মাঝেই আবদ্ধ রাখতে চায়। সে চায় কেউ একজন তার সেই অপ্রকাশিত জিনিস গুলোই মনের গভীরে গিয়ে প্রকাশিত করবে।।

আজকে যে ঘটনাটি নিয়ে তুমি কাঁদছো, কয়েক মাস কিংবা কয়েক বছর পর পেছন ফিরে ঐ একই ঘটনার কথা মনে পড়লে খেয়াল করবে তোমার আর কান্না পাচ্ছে না।। কোন কোন ক্ষেত্রে পেছনের ঐ কান্নার ঘটনার কথা মনে করলে তুমি হেসে ফেলবে আর ভাববে কতটা বোকাই না ছিলাম !!"তুমি বিশ্বাস করো আর নাই করো, "সময়" নামের জিনিসটা সব কিছু বদলিয়ে দেয়, সব কিছু।। চিন্তা ভাবনা, দুঃখ কষ্ট, ভালোবাসা - সবকিছু বদলে দেয় একটা সময়...।।  তোমার ভেতরটাকে সে নতুন করে সাজায়।। আজকে তোমার কাছে যা অনেক বেশি "Important"  কাল বা পরশু ঐ একই জিনিস "মূল্যহীন" হয়ে যেতে পারে; এটাই স্বাভাবিক।। তুমি নিজেই বুঝতে পারবে না যে জিনিসটা এতো বেশি "Important" ছিল সেই জিনিসটাই এখন মূল্যহীন...!!! সময় অনেক কিছুই বদলিয়ে দেয়।।

আমাকে অনেকেই মাঝে মাঝে প্রশ্ন করেঃ"ভাইয়া, আমি অমুক এর থেকে কষ্ট পেয়েছি । ভুলতে পারছি না, আমার আর বাঁচতে ইচ্ছা হয় না, Depressed  লাগে, অনেক খারাপ লাগে। আমি কি করবো ??" আমি সবাইকেই একটি কথাই বলি- "Time is a Great Healer !!" সময় সব ক্ষত সারিয়ে দিবে। সময়ই সব বলে দেয়। সব দুঃখ ভুলিয়ে দেয় আস্তে আস্তে, সময় নাও ...।।"
ছোটবেলায় একটা খেলনা ভেঙ্গেছিলো দেখে চিৎকার করে কান্নাকাটি করেছি...।। এখন ঐ খেলনার কোন মূল্য আছে ?? নেই...।। ধাক্কা খেয়ে পড়ে গিয়ে কতবার কেঁদেছো ??  এখন রাস্তায় ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলে তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়িয়ে আবার হাঁটা শুরু করো, তাই না ?? কাঁদো কি তুমি আগের মত ?? না তো ...??!! সময় নাও ।। সব রোগের ওষুধ হলো সময় নেয়া... তোমাকে কেউ কষ্ট দিয়েছে ?? একটু সময় নিয়ে কষ্ট সহ্য করো ।। কিন্তু এই কষ্টতা সহ্য করার শক্তি, সাহস ঐ সময়টায় থাকে না। মুখে বলা অনেক সহজ কিন্তু সেই সময়টার মুখোমুখি হয়ে ঐ সময়টা অতিক্রম করা অনেক বেশি কঠিন। এক সময় হয়তো কষ্টটা ভুলে যাবে অথবা কষ্টটা আর গায়ে লাগবে না কিংবা তুমি এই কষ্টটার কথা মনে করে হাসবে ।। চোখ থেকে না হয় দু ফোঁটা অশ্রু পড়লোই ।। হাত দিয়ে ঘুমের ওষুধটা কিংবা ফ্যানের সাথের দড়িটা স্পর্শ করো না। হাত দিয়ে বরং অশ্রুটুকু মুছে ফেলো ।। Trust me, সব বদলে যাবে একটি সময় ।। একটিবার পেছন ফিরে দেখার জন্য হলেও অপেক্ষা করো, সময় নাও।।

তার পরোও কিছু কথা রয়েই যায়, কিছু চাপা কষ্ট রয়েই যায়। শারীরিক কষ্ট আর মানষিক কষ্ট এক না। আমি যতোটা সহজে কথা গুলো বললাম ততোটা সহজে মেনে নেওয়া যায় না, বিষয়টা অতোটাও সহজ নয়।
চোখের পানি শুকিয়ে যায়। কষ্টের রংগুলো একটু একটু করে অস্পষ্ট হতে থাকে। কিন্তু মনের মাঝে সেই কষ্ট, সেই চিনচিনে ব্যাথাটা কিন্তু রয়েই যায়। রয়ে যায় সেই অনুভূতিটুকুও । শুধু সময়ের ব্যবধানে কষ্ট, আবেগ প্রকাশ করার ভাষাটা ভিন্ন হয়ে যায়।। ব্যথা গুলো আস্তে আস্তে কমে যায় কিন্তু মনে সেই কষ্টের দাগটা ঠিকই লেগে থাকে...।।

MARI themes

Powered by Blogger.