ভালোবাসার কোন সংজ্ঞা নেই। আমার মনে হয় না Specific-ভাবে ভালোবাসার সংজ্ঞা আদৌ কেউ দিতে পেরেছে কিনা। আর যদি দিয়েও থাকে হয়তো আমার তা জানা নেই। তবে এটা সত্য কিছু Symptom-এ নিচ্ছয়ই কিছু বুঝা যায়, নিজের মাঝে কিছু জিনিস প্রকাশ পায়। ফুল ফুটলে সৌরভ ছড়াবে এটাই স্বাভাবিক,  ফুল ফুটবে সৌরভ ছড়াবে না তা কি করে হয়...!!

"কোন একজনকে নিয়ে ভাবতে ভালোলাগার নাম ভালোবাসা।" এই একজন মানুষকে নিয়ে তোমার ভাবতে ভাললাগবে তুমি যে পরিস্থিতিতেই থাকো না কেন। দেখা যাবে তোমার ভাবনা জুড়ে সেই মানুষটিই রয়েছে শুধু। তাকে নিয়ে ভাবতে কখনোই ক্লান্ত লাগবে না। তোমার মনে এক ধরনের প্রশান্তি কাজ করবে। তাকে নিয়ে এমন কিছু বিষয় নিয়ে তুমি ভাববে পরে তোমার সে গুলো মনে হলে নিজেরই হাসি পাবে। এই সময় টায় তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত সকল বিষয়ই তোমার ভাবনার বিষয় বস্তু হবে দাঁড়াবে। তুমি খুব ভালো করলেই বুঝতে পারবে সে কতোটা মন জুড়ে আছে। 

"মনের মাঝে একজন মানুষের জন্য শূন্যতা অনুভব করার নাম ভালোবাসা।" তোমার আশে পাশে সকলেই রয়েছে কিন্তু তবু তোমার মনে হাহাকার কাজ করছে, এক ধরনের শূন্যতা কাজ করছে, এক জন মানুষকেই খুঁজতেছো, সবার মাঝে একজনকে খুজতেছো । এই শূন্যতা যখন প্রকট আকার ধারন করবে তখন তুমি বুঝতে পারবে এই শূন্যতা শুধু ঐ মানুষটির জন্যই...।।

সারা দিন তোঁ কত মানুষের সাথেই কথা বলা হয়, কিন্তু এতো কিছুর পরও একজন মানুষের সাথে কথা বলার জন্য মন অস্থির লাগবে। প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে হয়তো তুমি আশেপাশের মানুষের সাথে কথা বলবে কিন্তু অবচেতন মন ঐ মানুষটিকেই শুধু খুঁজবে। একটু লক্ষ্য করলেই দেখবে- ফোনে Call- বা SMS-এর Vibrate- হলে তোমার প্রথম মনে হবে তার কথা। হয়তো ভাববে হয়তো তার Call- বা SMS- এসেছে কিন্তু যখন দেখবে এটা GP-থেকে এসেছে তখন হঠাৎ তুমি হেসে দিবে আর মনে মনে ভাববে "মাথাটা আমার পুরোটাই গেছে...!!!" তুমি বুঝতে পারবে তোমার অস্তিত্বটাই তাকে নিয়ে, তাকে ঘিরে। "তার সাথে কথা বলতে না পেয়ে ছটফট করার নামই ভালোবাসা।"

"কারো সাথে পাশাপাশি চলার তিব্র ইচ্ছার নাম ভালোবাসা।" ধরো তুমি বন্ধুদের সাথে দূরে কোথাও ঘুরতে গিয়েছো, খুব ভালো সময় কাটাচ্ছো। এমন সময় তুমি অনুভব করলে ইসস সে যদি পাশে থাকতো, তা হাত ধরে যদি পাশাপাশি হাঁটা যেতোঁ...!! তার কাঁধে মাথা রেখে যদি কোন এক সূর্যাস্ত দেখা যেত। কোন এক বৃষ্টি ভেজা বিকেলে যদি তার হাত ধরে রেল লাইনের পথ ধরে হাটা যেত, কোন এক পূর্ণিমা রাতে তার হাতে হাত রেখে যদি চাঁদ দেখা যেতো, কোন এক কুয়াশা ঘেরা সকলে খালি পায়ে  তার পাশে হাটা যেত বা কোন এক গোধূলি বিকেলে যদি তার হাত ধরে লেকের পাড়ে হাটা যেতো...!! মনের এই তিব্র ইচ্ছেটা আপনাকে ভীষণ যন্ত্রনা দিবে, পোড়াবে...ভীষণ পোড়াবে।। মনের এই তিব্র ইচ্ছাটাই ভালোবাসা। 

সুখ বলতে আমরা সাধারণত কি বুঝি ...?? নিজের কোন ইচ্ছার পূর্ণতা পেলে বা তুমি যা চাচ্ছ সেটা পূর্ণ হলেই নিজেকে সুখি মনে হয়। Right..?? কিন্তু একটা সময় তুমি ভুলে যাবে এই চরম সত্যতা। কখন জানো ...??? "যখন তুমি কাউকে মন থেকে ভালবাসাবে।" তখন তুমি তাকে খুশি করতে, তার মনের ইচ্ছা পূরণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তার কিসে ভালোলাগলো, সে কিসে Happy, তার পছন্দের জিনিস গুলো কি...!! এই খুঁটি-নাটি বিষয় গুলো দেখা যাবে তার চেয়ে তুমি ভালো জানো। তখন তুমি ভুলেই যাবে তোমার পছন্দের জিনিস কি, তোমার ভালোলাগার জিনিস গুলো কি। তখন তুমি ব্যস্ত হয়ে পড়বে তার প্রত্যেকটা পছন্দের, ভালোলাগার জিনিস গুলো পূর্ণ করে দিতে। যখন তুমি তার পূর্ণতায় তার মুখে সুখের হাসি দেখবে সেই হাসিতেই তুমি তোমার সুখ খুজে পাবে। "কাউকে সুখি দেখে নিজেকে সুখি ভাবার নামই ভালোবাসা।" 

আপনার পাশের বন্ধুটি মন খারাপ বা কোন কারনে কান্না করছে। একটু লক্ষ্য করে দেখো তো তোমার চোখে পানি জমেছে কিনা। হয়তো তার কান্নায়, তার মন খারাপে তোমারোও মন খারাপ হবে কিন্তু তোমার চোখে পানি আসবে না। কিন্তু এমন একজন আছে যার সামান্য মন খারাপে, সামান্য বিষন্নতায় তোমার চোখে কোনে জল চলে আসবে। তার চোখের পানি তো দুরেই থাক, তার সামান্য মন খারাপ তুমি সহ্য করতে পারো না। দেখা যাবে তার চোখের কোনে জল মুছে গিয়েছে কিন্তু তোমার চোখের জল পরেই যাচ্ছে। তার একটু বিপদে, তার একটু অসুস্থ্যতায় তোমার মন যতোটা কাঁদে অন্য কারো জন্য তোমার মনে এমন অনুভুতি হয় না। এটাই ভালোবাসা। "কারো চোখে দু'ফোটা জল দেখে কেদে ফেলার নামই ভালোবাসা।"

ভালোবাসা মানেই আমরা সাধারণত যেটা বুঝি তা হলো তার কাছ থেকেও ভালোবাসা পেতে হবে বা ভালোবাসা পাওয়াটা আশা করা, এটাই স্বাভাবিক। তুমি যখন থেকে তাকে ভালোবাসো তখন থেকে তোমার মনেও ইচ্ছে হবে তার কাছ থেকে একটু ভালোবাসা পেতে, একটু Care-পেতে, একটু Importance-পেতে, তার Priority list -এ তোমার নামটা সবার উপরে দেখতে। কিন্তু যখন তুমি জানো যে এগুলো তার কাছ থেকে কখনই তুমি পাবে না কিন্তু সেই মুহূর্তেও তোমার মনে একটা আশা রয়েই যায়, তার প্রতি মনের টানটা রয়েই যায়। এই আশাটাই ভালোবাসা, এই মনের টানটাই ভালোবাসা। তুমি হয়তো জানো তাকে তুমি কখনোই পাবে না বা সে তোমাকে কখনোই মন থেকে ভালোবাসবে না বা কখনোই তোমার হবে না। তবু তার অপেক্ষায় থাকার নামই ভালোবাসা। "তাকে পাবে না জেনেও তাকেই ভালবাসার নামই ভালোবাসা। "

ভালোবাসা মানে মন জয় করা নয়। ভালোবাসা মানে তাকে মনের গভীরে গেঁথে ফেলা, তার মনেও ভালোবাসার বীজ রোপণ করা। তাকে পাবে না জেনেও তাকেই ভালোবেসে অপেক্ষা করা। ভালোবাসা মানে তাকে ভালবাসার পর আর কাউকে ভালোবাসার ইচ্ছেটা মরে যাওয়া। 

জানিনা কেন হঠাৎ কোন কারন নেই কিছু নেই,
কারো জন্য খুব অন্য রকম লাগে...
কোনই কারন নেই...।।
তারপরও কাউকে খুব দেঁখতে ইচ্ছে হয়,
খুব কাছে পেতে ইচ্ছে হয়...
কারো সাথে খুব পাশাপাশি বসতে ইচ্ছে হয়।
ইচ্ছে হওয়ার কোন কারন নেই,
তারপরেও ইচ্ছে হয়...

ইচ্ছে গুলো পূরন হয় না,
তারপরেও ইচ্ছে গুলো বেশরমের মতো পড়ে থাকে।
তবুও আশায় আশায় থাকে,
কষ্ট হতে থাকে খূব,
কষ্ট হওয়ার কোন কারন নেই,
তবুও অনেক কষ্ট হতে থাকে...।।

কি জানি সে,
যার জন্য অন্য রকমটি লাগে,                   
যদি সে ইচ্ছে গুলো দেখে যায় ভিষন রেগে...!!!
তাই ভয়ে লুকিয়ে রাখি ইচ্ছে গুলো,
সেই ভয়ে আড়াল করে রাখি কষ্ট গুলো...।।

হেটে চলি আমি যেন কিছুই হয়নি,
আর সবার মতো সুখী মানুষ আমিও....!!
তাই আমি চলতেই থাকি যাই কতো দূর কোথাও যাই।

কেবল তার কাছেই শুধু যাই না, যার জন্য লাগে এমন,
জীবনের কতো কাজ বাকী কতো তাড়া,
তারপরও সবকিছু সরিয়ে রেখে শুধু তাকেই ভাবা...
তাকে ভেবে কোন লাভ নেই জেনেও ভাবি,
তাকে কোন দিন পাবো না জেনেও পেতে চাই একবার...?!
                 শুধু একবার...
ঐ এক দিন যেন পাওয়া হয়ে রয়ে যায় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ...


দিনশেষে একটা মানুষ লাগে ।। যে মানুষটা গালে হাত দিয়ে, মন দিয়ে শুধু শুনবে তোমার জমে থাকা সারাদিনের বোকা বোকা গল্প গুলো !! বুকের ভেতর পাহাড়ের মত যে কথা গুলো জমে থাকে, সেই পাহাড়ের ভার কমানোর জন্য একটা মানুষ লাগে ।। গলার ভেতর আটকে থাকা কথা গুলো বড় কষ্ট দেয়, সেই কষ্ট কমিয়ে দেয়ার জন্য একটা মানুষ লাগে ।। কত শত মানুষ চার পাশটাতে ।। শত মানুষ লাগে না, একটা মানুষ লাগে -- কথা বলার মানুষ, কথা শোনার মানুষ, হাতে হাত রাখার মানুষ, পাশে বসার মানুষ !! আশেপাশে হাজার মানুষ থাকলেও কথা বলার মানুষের খুব অভাব এই পৃথিবীতে...

আচ্ছা তুমি কি জানো মনের অজান্তেই কোন না কোন এক সময় তুমি একা অনুভব করো...?? তোমার পাশে সকলেই রয়েছে- তোমার বাবা-মা, ভাই, বন্ধু কিন্তু তবু কোন এক সময় তুমি অনুভব করচ্ছো তুমি একা !! কিছু কথা তুমি মনে মনে বলো যা কেউ শুনে না, জানে না। কিছু ইচ্ছা তোমার মনের কোণে রয়ে যায় যা প্রকাশ হয় না। এই কথা গুলো, ইচ্ছা গুলো তুমি কেউ একজনকে বলতে চাও। কারো কাছে  কথা গুলো বলে একটু হালকা হতে চাও... ।।

আমার মনে হয়, আমার মতো প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে এমন একটা সময় আসে, যখন একদিকে নিজেকে প্রচন্ড একাকী মনে হয় আর অন্যদিকে ঐ একাকীত্ব দূর করতে কাউকে নিজের জীবনের সাথে জড়িয়ে ফেলতেও অনেক বেশি ভয় হয় । এই ভয়টা কখনোই কারো হাত ধরার সাহস দেয় না। ভয়টা মনটাকে কুরেকুরে খায়। নিজেকে নিজের বলতে ইচ্ছে হয়- ঘুনে ধরা এ জীবন...।।

মাঝে মাঝে প্রচন্ড হাসতে ইচ্ছে হয়। লোক দেখানোর জন্য হাসি নয়, মন থেকে হাসতে ইচ্ছে হয়। অপরদিকে হাসির পরে অপ্রত্যাশিত কান্নার কথা ভেবে কেন জানি বার বার থেমে যেতে হয়। থেমে যেতে বাধ্য হতে হয় কারণ চোখের পানি মুছে দেওয়ার জন্য কেউই পাশে থাকে না।

আঙ্গুলের ফাঁকা জায়গা গুলোতে যখন অন্য মানুষটার আঙুল বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করার স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছে হয় ঠিক তখনই অজস্র ঘুমভাঙ্গা রাতে ঐ মানুষটার চলে যাওয়া পরবর্তী শূন্যতার আশঙ্কায় স্বপ্ন গুলোকে খুন করে ফেলতে ইচ্ছে হয়। পূরণ হয় না আর আঙ্গুলের ফাঁকা জায়গা গুলো।

মাঝে মাঝে মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যুদ্ধক্ষেত্র সম্ভবত নিজের মন, নিজের অস্তিত্ব। প্রতি মূহুর্তে ওখানে যে কত আমি, কত তুমি, কত আমরা যে জন্ম হয়, মরে যায়, কত শত গল্প যে সৃষ্টি হয়, ওলটপালট হয়ে যায়, আবার ধ্বংস হয়ে যায়। কত গুলো স্বপ্ন যে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়, কত শত ভয় যে কত সহস্র ইচ্ছেকে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় সে খবর কেউ রাখে না ।। মানুষ খবর রাখে শুধু বাহিরের দিকটার, বাহিরে কি ঘটলো মানুষ সব সময় সেটাই দেখে। মনের খবর কেউ রাখে না। মনের খবর রাখতে হলে মন টাকে জানতে হয়, মনের মাঝে মন থাকতে হয়, মনে প্রবেশ করতে হয়। 

দিন শেষে একটা মানুষকে তুমি ঠিকই চাও যে মানুষটা তোমার জন্য তোমার পাশে থাকবে, তোমায় ভালোবেসে তোমার হাত ধরবে, তোমার মুখের হাসির জন্য পৃথিবীর সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করবে। কিন্তু দিন শেষে শূন্য হাতটাই থেকে যায়, শূন্যতায় রয়ে যায় মন। মন যখন শূন্যতা দিয়ে পূর্ণ তখন সে মন কখনোই পূর্ণতা পায় না। সকলেই পূর্ণ হতে চায়, পূর্ণ করতে নয়...।। সেই তোমাকে ভালোবাসে যে তোমাকে পূর্ণ করতে চায়।। 

"আমার মাঝে মাঝে সারারাত ঘুম হয় না। আমি জেগে থাকি। কেন ঘুম হয় না তার উত্তর দিতে গিয়েও দিতে পারিনি। জেগে থাকতে থাকতে একটা সময় ক্লান্ত হয়ে যাই। ক্লান্তময় সময়টা দূর করতে মাঝরাতে কফি নিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই। ডাক্তারের বারণ সন্ধ্যার পর কফি খেতে, কিন্তু কফি ছাড়া তোঁ আর চলবে না। কেমন যেন একটা অনুভূতি হয় তখন। অন্ধকারে আমি গরম কফি হাতে দাঁড়িয়ে...!! এই সময়টাতে আমার অন্ধকারে গা-এলিয়ে দিতে ইচ্ছে করে, অন্ধকারে ডুবে যেতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু এ শহরে অন্ধকার নেই। চারিদিক আলোময় অন্ধকার। যে অন্ধকার আমার মন ছুতে পারে না। মন ছুতে গভীর অন্ধকার দরকার, অনেক গভীর...। এই শহরে অন্ধকারের মানুষ আছে, অন্ধকারের টাকা আছে, অন্ধকারের থাবা আছে। কিন্তু ডুবে যাবার মতন বিষণ্ণ অন্ধকার নেই। ডুবে যেতে হয় চোখ কালো অন্ধকারে। আমার এক বিষণ্ণ অন্ধকারের স্তব্ধ নির্জনতায় ডুবে যেতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু এখানে নির্জনতা নেই। এখানে সন্ধ্যা নেই, রাত্রী নেই, নিশুতি নেই...এখানে কিচ্ছু নেই...।।

এখানে অন্ধকার মানেই মৃত্যু।" তবে কি আমি মৃত্যুর স্বাদ নিতে চাই...!!

"প্রতিদিন খোঁজ রাখা মানুষটাও একদিন হারিয়ে যাবে যদি তুমি একদিনের জন্য হলেও তার খোঁজ না নাও। প্রতিদিন ভালোমন্দ বুঝে শাসন করা মানুষটাও একদিন আর তোমাকে শাসন করবে না যদি তুমি তাকে মূল্য না দাও, দিনের পর দিন অবহেলা করো। তোমাকে উপকার করা বন্ধুটাও একদিন তোমাকে ভুলে যাবে যদি তার উপকারের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করো। জগতে এ নিয়মের বাহিরে কেউ নেই, বাহিরে কেউ থাকে না।। এতো কিছুর পরো তুমি হয়তো এমন একজনকে পাবে যে তোমার খোঁজ রাখে, যার খোঁজ তুমি কখনোই রাখো না। যে তোমার হাজার ঝাড়ি, হাজার কথা শুনার পর মন খারাপ করে একটু পর আবার ফিরে আসে। যে কিনা তোমার জন্যই সব কিছুকে বিপরীত দিকে ঠেলে দেয়; এগুলো শুধু তোমার জন্যই এটা তোমাকে বুঝতে হবে। 

একটা গাছকে তুমি যত যত্ন নিবে যত পরিচর্যা করবে গাছটি আরো তত দ্রুত বড় হয়ে তোমাকে ছায়া দিতে থাকবে। যদি গাছটির পরিচর্যা না করো গাছটি শুকিয়ে মারা যাবে। তেমনি প্রতিদিন খোঁজ রাখা মানুষটাও যদি তোমার বিন্দুমাত্র নজর না পায়, প্রতিটা কথায় অবহেলা পায় তাহলে সেও একদিন তোমার কাছ থেকে দূরে সরে যাবে; দূরে সরে যেতে বাধ্য হবে। মনে তোমাকে ঠিকই রাখবে কিন্তু তোমার সামনে হয়তো আর সে আসবে না। যদি গাছটির দরকারই তোমার জীবনে আর না থাকে; সে ক্ষেত্রে গাছের যত্ন নেওয়ার কিছু নেই। তেমনই যদি ঐ মানুষটাকে যদি তোমার আর দরকার না লাগে বা তাকে ছাড়াই যদি তুমি ভালো থাকো তাহলে তার খোঁজ রাখার কোন প্রয়োজন তোমার মাঝে কাজ করবে না। 

তুমি ছোটদের একটা আদেশ করলে সে যদি তোমার আদেশটি অমান্য করে তাহলে পরবর্তীতে তুমি তাকে আদেশ করতে যাবে না, কারণ সে তোমাকে মানে না। তেমনি ভাবে কেউ একজন তোমার ভালোমন্দ বুঝে তোমাকে শাসন করে আর তুমি যদি তাকে গুরুত্ব না দাও, মূল্যহীন ভাবো সেও একদিন তোমার উপর থেকে অধিকার করা বন্ধ করে দিবে।। তাচ্ছিল্য, অতি মাত্রায় অবহেলা একটা মানুষ খুব বেশি দিন সহ্য করতে পারে না। ছয় মাস, আট মাস, এক বছর...!! আর যদি তোমাকে খুব বেশি ভালোবেসে থাকে তাহলে এক বছর, দুই বছর বা তার বেশি এই অবহেলা হয়তো সহ্য করবে। একটা সময় তোমার অবহেলা পেতে পেতে বাঁচতে শিখে যাবে, শিখে যাবে কষ্টের মাঝে কিভাবে হাসতে হয়। তুমি হয়তো ভাববে সে তোঁ ভালোই আছে। তাহলে কি সব নাটক ছিল...!! কিন্তু বাস্তবে হলো সে যে এখনো আগের মতোই তোমাকে চায়, তোমার আশে-পাশে ছায়ার মতো থাকতে চায় তা আর তোমার সামনে প্রকাশ করতে চায় না। কারণ কষ্টকে সে এখন খুব বেশি ভয় পায়, ভয় পায় অবহেলা কে, তোমার সেই তাচ্ছিল্য কে। একটু লক্ষ্য করলেই দেখবে তোমার বাড়ির কুকুরকে বা বিড়ালকে নিয়মিত তাড়িয়ে দেখো, কুকুর / বিড়ালও তোমার এলাকা ছেড়ে পালাবে আর সেখানে তো আমরা মানুষ। অবহেলা কেউই সহ্য করতে পারে না। সেই এলাকা ছেড়ে যাওয়া কুকুর বা বিড়ালকে আবার একটু ডেকে দেখো সে আগেই মতোই আছে, আগের মতোই তোমার ভক্ত। মানুষও তেমনই যে সত্তিকার অর্থেই তোমাকে চায় তাকে শত অবহেলা করার পরো একটা সময় ডাকলে ঠিকই রাগ, অভিমান, কষ্ট ভুলে চলে আসে। এটাই ভালোবাসা, এটাই মায়া।

কেউ তোমার সাথে ভালো ব্যবহার করলে বিনিময়ে সেও তোমার ভালো ব্যবহার আশা করে। যে তোমার খোঁজ রাখে সেও চায় তুমি তার একটু হলেও খোঁজ রাখো,  মনে রাখো। বিনা স্বার্থে মানুষ হয় না, বিনা স্বার্থে মন হয় না।। যে তোমার নিয়মিত খোঁজ রাখে, তোমার কেয়ার করে, বিনিময়ে সেও একটু হলেও চায় তুমি তার খোজ নাও। তারো তোঁ ইচ্ছে করে কেউ তার খোঁজ রাখুক, কেয়ার করুক, হুংকার শুরে শাসন করুক। এগুলোকে স্বার্থ বলে না, এগুলো হলো মনের খুরাক। যে তোমার একদিন হলেও উপকার করেছে তাকে কখনো ভুলে যেও না, সে শত্রু হলেও তার কাছে তুমি কিন্ত ঋণী। কাউকে অবহেলা না করে ভালোবাসতে শিখো এতে নিজেকে ছোট করা হয় না বরং নিজের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায়।।"

যে কোন সম্পর্ক জীবনের বৈচিত্র্যময় আনন্দকে, সময়কে চিনতে সাহায্য করে। প্রিয় কারো সঙ্গে  কাটানো সময় স্মৃতিকে পরিপূর্ণ করে, মনকে পূর্ণ করে। এই প্রিয় থেকেই জীবনে কখনো কখনো একাকীত্ব হয়ে উঠে। একাকীত্ব মানুষকে এমন অভিজ্ঞতা দেয়, যা অন্য কোনোভাবে অনুবাধন করা সম্ভব নয়। 

একাকীত্ব জিনিসটা হঠাৎ করেই আসে না। একটা কিছুর প্রতি সীমাহীন মায়া বাড়তে বাড়তে সে জিনিসটার শূন্যতা মনে একাকীত্বর সৃষ্টি করে। মায়াও কিন্তু এক দিনেই জন্ম নেয় না। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস মনে লালন করতে হয়, মনে স্থান দিতে হয়, মনে অনুভব করতে হয়। তবে মনে মায়ার জন্ম নেয়। কোন জিনিসের মায়া খুব সহজেই কাটিয়ে উঠা যায় কিন্তু মানুষের প্রতি মায়া কখনোই কাটিয়ে উঠা যায় না। মায়া একটু একটু করে বাড়তেই থাকে। একটা সময় অপর পাশের মানুষটি যখন মায়ার বাঁধন ছেড়ে বের হতে চায় তখন এ পাশের মানুষটির মায়ায় সুতোয় টান পড়ে। একটি সময় এ পাশের মানুষটি পরিপূর্ণ ভাবেই একা অনুভব করে। ধীরে ধীরে কষ্ট পুষতে পুষতে একদিন এ পাশের মানুষের মনে জায়গা করেই ফেলে এই একাকীত্বতা। একাকীত্ব অবশেষে তাকে ঘিরেই ফেলে,বন্দী করে নেয় তার জালে। সে চাইলেই সে জালটা ছিড়তে পারে না, বের হতে পারেনা সেই জালের থেকে। চাইলেই পারে না মুক্ত হতে, চাইলেই পারে না তার সাথে কাটানো সময় গুলো মন থেকে মুছে ফেলতে, মুছে ফেলতে পারে না তার সাথে প্রতিটা দুষ্ট - মিষ্ট স্মৃতি !! এগুলো মনে কাটা দেয়, প্রতিটা সময় অনুভব করায় তার সেই সময় গুলো, সেই কথা গুলো। একাকীত্বে ভাসায় তার সব কিছু, সব অনুভূতি গুলোকে। 

এই একাকীত্ব আরোও দৃড় হয়ে উঠে যদি সেই মানুষকে একাকীত্ব থেকে বের হওয়ার জন্য কেউ পাশে না থাকে,তার সহযোগী হয়ে না উঠে,তাকে সাহায্য না করে। একমাত্র সে মানুষটাই বোঝে একা থাকা কত কষ্টের, কত নির্মম, কত যন্ত্রণা।।

দিনদিন সে সবার থেকে আলাদা হতে থাকে, একটা সময় চলে যায় সবার থেকে দূরে। এতটাই দূরে যে আর আসে না ফিরে। সে তো জানে এটা কত ব্যাথার,কত আক্ষেপের, কত নির্ঘুম রাতের সাক্ষী তার সেই একাকীত্বতা। তিল তিল করে সে পুড়ে যন্ত্রণায়, পায় না কাউকে সে সহায়তায়।।কেউ বোঝে না তার হারিয়ে যাওয়া অস্তিত্ব, দেখে না তার হাসির আড়ালে কান্নাটা...!!

এমন সময় কারো হাত প্রয়োজন,প্রয়োজন কারো সহায়তা, দরকার ভালোবাসার, যে ভালবাসা দূর করতে পারে তার একাকীত্বতা। যে ভালবাসা তাকে বাঁচতে শেখাবে, শেখাবে তাকে নতুন করে পথ চলার, দেখাবে নতুন আশার আলো আর দূর করবে তার একাকীত্বতা। কিন্তু দুঃখের বিষয় সে ঐ মানুষটাকেই পাশে চায় যার জন্য সে একা হলো, যার জন্য তার আজকের এই একাকীত্ব। কিন্তু তাই কি আর হয়...!!! যে মায়ার সুততে একবার টান পড়েছে, সেই সুতো কি আর মায়ায় ফেরে...!!! 

অনেক দিন আগের কথা। তখন আমি সবে মাত্র HSC 2nd Year-এ পড়ি। ছোট ছিলাম, অনেক কিছুই বুঝতাম আবার অনেক কিছুই বুঝে উঠতে পারতাম না। সেই সময় এক ভাইয়ার সাথে পরিচয়। সেই ভাইয়াকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম "এত ভালো ভার্সিটিতে পড়ো,  বাবা-মা খুশি; এর পরও এত Depressed- কেন...।।
সে বলেছিল- "আর কিছু দিন,  আর একটা বছর অপেক্ষা করো...! তখন তোমাকে আমি বলবো " Welcome to university Life"!!!

Frustration -Depression এই word-দু'টো আমার Dictionary -তে ছিলোনা বললেই চলে। তবে কিছুটা চাপা কষ্ট ছিল সেটা অন্য কোন কারণে। 

শুধু প্রেমে ছ্যাকা খাওয়ার পড়েই Depression- আসেনা। Separation- আসলেই Frustration- আসেনা।
Frustration- তখন আসে যখন তুমি তোমার আশে-পাশের True Faced- মানুষ দের চিনতে পাড়বে।যে তোমাকে সবচেয়ে ভালো বন্ধু বানাবে, মুখে বলবে অনেক ভালো বন্ধু, মুখে বলবে ভাইয়ের চেয়েও বেশি কিছু, তোমাকে বোন বানাবে, তোমাকে ফিল করাবে তোমাকে পেয়ে সে বা তারা ধন্য...!! তারপর তোমার সবকিছু জেনে তোমাকে Backbite- করবে, উপহাস করবে, অন্যের কাছে হাসির পাত্র বানাবে বা নিজেই কথায় কথায় ছোট করে কথা বলবে। তোমার প্রতি Jealousy-করে তোমার সবকিছু কেড়ে নিবে। তখন তোমার মনে হবে একটু বন্ধুত্ব ছাড়া আর তো কিছু চাইনি। এগুলো পেলাম কেন তাহলে...!! তখন তোমার প্রচন্ড খারাপ লাগবে আর তখন থেকেই তোমার  নিজের মাঝে Frustration- আসবে।

যখন তোমার আশে-পাশের মানুষের কাছে হাসির আড়ালে মিথ্যে অভিনয়, স্বার্থপরতা আর Jealousy- ছাড়া আর কিছুই দেখবে না তখন তোমার Feel- হবে ব্যাপারটা এমন হলো কেনো...?? ব্যাপারটা সুন্দর হলেও তো পারতো, এরকম না হলেও তো পারতো। বন্ধুর নামে অভিনয়, স্বার্থপর গুলো; বন্ধু হলেও তো পারতো, আপন হলেও তো পারতো। তখন তুমি ভাববে- মুখে মধু, অন্তরে বিষ রাখার কি বা দরকার ছিল, কি বা দরকার ছিল মুখে মধুর সুরে কথা বলার। যে মধুর শুরে রয়েছে শুধুই মিথ্যে অভিনয়, মিথ্যে কথার ফুল ঝুড়ি...!!? তখন তোমার মাঝে Depression- কাজ করবে, হতাশ লাগবে। আসতে আসতে তুমি Depression-এ ভুগতে শুরু করবে। এই Depression- তোমাকে একা হয়ে যেতে বাধ্য করবে। তোমার কারো সাথে মিশার ইচ্ছে করবে না, মিশার ইচ্ছেটা চলে যাবে। এই Depression-টা আসতে আসতে বাড়তেই থাকবে, একটা সময় খুব ভালোভাবেই তা উপলব্ধি করতে পারবে।

ছোটবেলা থেকে স্কুল - কলেজ লাইফে স্বার্থপরতা, অভিনয় এই জিনিস টা আমরা সবচেয়ে কম পাই। Friendship- গুলো তখন অনেক নিষ্পাপ হয়, স্বার্থহীন, অভিনয়হীন হয়। স্বার্থ কি, অভিনয় কি তা ঐ সময়ে কেউ-ই বোঝে না।

মাঝে মাঝে নিজেকে খুব বোকা মনে হয়। আমি মানুষ চিনি খুব দেরীতে, কিন্তু এখন চিনি। কিছুটা হলেও চিনি। প্রতিনিয়ত কাউকে না কাউকে চিনচ্ছি। বড় হচ্ছি ধীরে ধীরে, খুব ধিরে...।।

ছোট বেলায় স্কুল, কোচিং ছাড়া বাড়ির চার দেয়ালের বাহিরে যাওয়ার অনুমতি ছিল না। এমন কি বাড়ির নিচে নামারো অনুমতি ছিল না। তখন ভাবতাম  বড় হবো কবে, বড় হচ্ছি না কেন। বড় হওয়ার তীব্র ইচ্ছায় ছোটবেলা পার করেছি। এখন নিজের উপর রাগ হয়, খুব বেশি রাগ হয়। কেনো বড় হতে চেয়েছিলাম, কেন বড় হলাম...!!!??

আমাকে কিছুদিন আগে একজন জিজ্ঞাসা করেছিল আমার Close Friend কয়জন ?? অদ্ভুত ভাবে বিনা দ্বিধায় উত্তর দিয়েছিলাম, এক সেকেন্ডও ভাবতে হয় নি...উত্তরটা কি তবে ভুল দিয়েছিলাম...!! না, কখনোই না। আমি কাকে আপন ভাবি, কে আমার Close-তা বলেছি। আমাকে কে আপন ভাবে বা Close-ভাবে সেটা জানতে চায় নি সে। Actually- কাকে তুমি আপন ভাবো তার চেয়ে বেশি জানা দরকার কে তোমাকে কতোটা আপন ভাবে, কতোটা কাছের মানুষ ভাবে। কারণ যে তোমাকে আপন, কাছের কেউ ভাবে না তাকে তুমি আপন, কাছের কেউ ভাবলে একটা সময় কষ্ট ছাড়া কিছুই তুমি পাবে না। তখন তোমার করারও কিছু থাকবে না.। ঐ সময়ে তোমার কষ্টের মাত্রাটা এতোই বেশি হবে যে তোমার সহ্যের ক্ষমতার বাহিরে চলে যাবে।  

আসলে একসাথে Chill- করলে বন্ধু হওয়া যায়না, Selfie-  তুলে Facebook-এ Check In- দিলেই Close- হওয়া যায়না। অনেক অনেক Tour আর Hangout arrange-করলেই Best Friend  হওয়া যায়না।

তুমি যখন একজনের ঘাড়ে নিজের চোখের পানি ফেলে Comfort- খুজতে যাবে আর পরক্ষণেই বুঝবে তার কাছে তোমার চোখের পানির বিন্দু পরিমাণ দাম নেই, যখন তুমি তোমার কষ্টের কথা তার সাথে শেয়ার করতে যাবে কিন্তু তুমি দেখবে তোমার কথা শোনার বিন্দু পরিমাণ আগ্রহ তার নেই; সবকিছুই "Show off", অভিনয় মনে হবে তখন। Best Friend-সেটাই যার কাছে তুমি সব কিছু Share-করে স্বস্তি পাবে,যাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে পারবে, যাকে নিজের একান্ত গোপন কথা বা কষ্টের কথা বলতে পারবে, যার কাছে তুমি এবং তোমার পরিবার সমান সন্মানের। এখন "বন্ধু-বান্ধবী" শব্দ গুলা শুধুই High Level-এর একটা Show off. University-এর ক্ষেত্রে এটা একটু বেশিই High level- এর।

                      "সম্পর্কটা দরকার মনের, মুখের বা অভিনয়ের নয়...।।" 

তারপরও একটা কথা রয়েই যায়- There will be a hope always...Right..??

সেই Hope- টা হলো Family- আর র্ভাগ্যক্রমে পাওয়া হাতে গোণা দু- একজন কাছের মানুষ...!!

আস্তে আস্তে যোগাযোগ কমতে শুরু করে। একটা সময় কমতে কমতে শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। হয়তো আপনার মনেই হবে না কেউ একজনের সাথে আপনার আজ কথা হয়নি। একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন সে ঠিকই মনে রেখেছে কতো ঘণ্টা, কতো সেকেন্ড কথা হয়নি। খেয়াল করলে দেখবেন শুধুমাত্র অবহেলার জন্য কিছু মানুষ আপনার থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে...। দূরে সরে যাচ্ছে না, আপনি দূরে সরে যেতে বাধ্য করছেন। কাছে আসতে চায়, আবার আসতে গিয়ে থেমে যায়। দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে...।।

যে মানুষটির সাথে দিনে দুই তিন ঘন্টা কথা হতো, দেখা হতো প্রতিদিন...। সেই মানুষ টির সাথেই আপনার দিনের পর দিন দেখা নেই, যোগযোগ নেই...। হয়তো মাঝে মাঝে কথা হয়, অনেকটা হয়তো আপনার ইচ্ছের বিরুদ্ধে। কিন্তু একটা সময় এমনটি ছিল না। তার সাথে কথা হতো আপনার ইচ্ছেতেই, তার সাথে দেখা হতো দু'জনের ইচ্ছেতেই, দু'জনের মন মিলিয়েই। যে মানুষটি আপনার একটু প্রশয়-এ শত মাইল দূর থেকে চলে আসতে পারে আর সে আজ কাছাকাছি থেকেও বলার সাহস পায় না কিছু। শুধু আপনার নিজের বদলে যাওয়ার কারণে। প্রতিটা বদলে যাওয়া, প্রতিটা অবহেলা একটা মানুষের সুখ, ইচ্ছা গলা টিপে হত্যা করে।  

যে মানুষ আপনার একটা মেসেজ কলের জন্য রাত জেগে থাকতো, আপনার একটু অসুখ করলে, আপনার হালকা মাথা ব্যাথাতেই যার মন অস্থির হয়ে যায়। হয়তো আপনিও সচেতন মনে বা অবচেতন মনে তার অপেক্ষায় থাকতেন।  কিন্তু আজ সেই মানুষ টির নাম আপনার সামনে বললে না চিনার একটা ভাব করে কথার প্রসঙ্গ পাল্টে ফেলেন...।। ব্যাপারটা খুবই সচেতন ভাবেই করেন...।। অনেকটা এমন প্রসঙ্গটা পাল্টাতে পারলেই আপনি হাফ ছেড়ে বাঁচেন। 

আপনার কাছ থেকে পাওয়া সামান্য একটু একটু অবহেলার জন্য জন্ম নেওয়া এই কষ্ট একদিন বাড়তে থাকে তার মনে। আর আপনি ভুলে যেতে থাকেন অনেক কিছুই কিন্তু সে ভুলে না, কিচ্ছু না...।। প্রিয় কিছু সময়, কিছু কথার মাঝে কথা দেওয়া, হাসি-ঠাট্টা, শেরারিং-কেরারিং, জন্মদিনের তারিখ, প্রথম দেখা, প্রিয়-অপ্রিয় জিনিস গুলো সবই ভুলতে বসেন। হয়তো অবচেতন মনেই ভুলে যেতে চান কিন্তু সে...??!! 

তার চোখের কোণে এক ফোটা জল, মলিন মুখের হাসি অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেয়, অনেক কথাই বলে যায়...যা হয়তো আপনি দেখতে পান না বা আমি দেখতে চান না বা আপনি দেখেও না বুঝার ভান করেন।। যে অধিকার আপনি নিজে দিয়েছেন এখন সেই অধিকারের সুতো ধরে যখন টান দিচ্ছেন তখন আপনার নিজের মনে কিছু না ঘটে গেলেও তার মন ওলট- পালট হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। আর এই সুতোটা যখন ছিঁড়ে ফেলচ্ছেন তখন আপনার কাছে হয়তো কিছুই মনে হবে না কিন্তু তার কাছে...??!! ভেবেছেন কি একটি বারও...!! হয়তো না কারণ, আপনার কাছে এটা হয়তো মামলি ব্যাপার ছাড়া কিছুই না। কিন্তু তার কাছে এটা সুখ হনন করা, সুখের মৃত্যু, নিজের অস্তিত্ব হারানো, নিজের কাছে নিজের পরাজয়। 

অবহেলা হঠাৎ করে সৃষ্টি হয় না, আস্তে আস্তে হয়...। খুবই ধীর গতিতে হয়। নিজের সাথে এমন টা না হলে আপনি কখনো কারো কষ্ট বুঝতে পারবেন না। এই কষ্টটা এমন এক কষ্ট যা কখনোই প্রকাশ পায় না। মনে চাপা রয়ে যায়, একটা চাপা কষ্ট মনে একটু একটু করে লালিত হয়, একটু একটু বাড়তে থাকে। অন্য সকল কষ্ট বাহির থেকে কিছুটা অনুধাবন করা গেলেও, এই কষ্টটা আপনি কখনোই বুঝতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপনি এর সম্মুখিন হবেন। আপনি চাইলেও বুঝতে পারবেন না এটা কতোটা মনের গভীরে ক্ষত করে। তার বুকের চিনচিনে ব্যাথা, চাপা কষ্টটা কখনোই আপনার মনের চার দেয়ালে স্পর্শ করবে না...।।

অধিকার তখনই জন্ম নেয় যখন কেউ অধিকার দেয়। অধিকার তখনই জন্মায় যখন মনের সম্পর্ক তৈরী হয়। যেখানে মন-ই পাওয়া যায় না সেখানে অধিকার রাগ বা মান অভিমানের কোন সুযোগ ই তো নেই। যা কিছু দেখি সবই ছলনা, অভিনয় ছাড়া কিছুনা। মন সে তো মহামুল্যবান, ক'জনের ভাগ্যে জোটে সে মন..???!!! 

জানেন পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছে, যাদের বাহ্যিক দিকটা দেখলে মনে হয় বোধহয় তারাই সবচেয়ে সুখী। কিন্তু তার অভ্যন্তরে কতোটা কষ্ট আর হাহাকার লুকিয়ে আছে সেটা বোঝার মতো শক্তি কারো থাকেনা। হয়তো বুঝতে কেউ চায় না। এই মানুষ গুলো বড্ড অভিনয়ও করতে পারে। অভিনয় তাঁরা করে তাদের নিজের সাথেই, নিজের মনের সাথে। দুঃখের আড়ালে সুখের আভাসটা যখন সে হাসির মাধ্যমে প্রকাশ করে, তখন মনে হয় শ্রেষ্ট অভিনেতা হিসেবে অস্কারটা তারই প্রাপ্য। একটা মানুষের খারাপ লাগার অনুভূতিটা কি আদৌ কেউ বুঝতে পারে...?? না...।। কিভাবে একটা মানুষ এতটা কষ্টকে চুপসে দিয়ে মুখে হাসি আঁকে। এদের হাসিটা কি কেউ বুঝতে পারে...?? এদের হাসির আড়ালে যে কতোটা কষ্টের অনুভূতি, কতোটা বেদনা লুকিয়ে থাকে তা কতজন মানুষই বা বুঝতে পারে, লক্ষ্য করে...? সত্যি অনেক বড় অভিনেতা তারা। নিজের মনের সাথে অভিনয় করা সব চেয়ে বড় কঠিন, সব চেয়ে বড় কষ্ট। 

বুকের মাঝে আগলে রাখা হাজারো অব্যক্ত কথা আর চাপা কষ্টটা প্রকাশ পায় তার শেষ রাতের প্রার্থনায়। সাথে থাকে কিছু চোখের অশ্রু। সারাদিন অভিনয়ের আড়ালে যে কষ্টটা জমে ছিল তা ঝেরে ফেলে দেয় তখন। প্রস্তুতি নেয় আবার অভিনয়ের অন্য একটি অধ্যায় শুরু করার জন্য, একটি নতুন দিনের।

মানুষ গুলোর মাঝে কি আছে তা কেউ বুঝতে চায় না। তারাও তো সবসময় সবার মতো হাসে, সবার সাথে চলে, সবার সাথে কথা বলে। কিন্তু একবারও মনে হয়না তার জীবনেও আছে কোন এক অশ্রু ঝরানো কাহীনি। আসলে বুঝবেই বা কিভাবে। তারা তো সেটা বুঝতেই দেয়না কখনো। আসলে কারো সেটা বোঝার মতো সময় নেই। সেও হয়তো চায় কেউ একজন তাকে বুঝুক, তার হাসির আড়ালে কষ্টও গুলো খুঁজুক। কিন্তু না, এরকম কখনোই হয়ে উঠে না... 

দুঃখ, কষ্ট, আশাহীনতা, প্রত্যাশাহীনতা, হাহাকার, ব্যর্থতা, সবকিছুই ছাপিয়ে নিয়েছে তার জীবনটা। একটু একটু করে কেড়ে নিচ্ছে তার মনের রং দিয়ে সাজানো সব রঙিন স্বপ্ন গুলো। তবুও নেই তার মাঝে কোন প্রতিক্রিয়া, নেই কোন চিৎকার, নেই কোন অশ্রু। শুধু আছে ঠোটের কোনে এক চিলতি অভিনয়ে জড়ানো হাসি। সেটা দুঃখের না সুখের সেটা শুধু সেই জানে। এই হাসিটিতে যে কতো কিছু লুকায়িত তা শুধু সেই জানে।

স্বপ্নতো সবাই দেখে। স্বপ্ন দেখতে মানা নেই। পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষ- ই স্বপ্ন দেখে। তবে বোধহয় কিছু মানুষের জন্য স্বপ্ন দেখাটাই ভুল, আশা করাটাই ভুল। তার স্বপ্নের বাস্তব কোন রুপ নেই তা জানা সর্তেও স্বপ্নের কারনে আজ সে নিদ্রাহীন, আশা গুলো নিরাশ হয়ে আজ সে অনুভূতিহীন, কেন সে প্রাণ থাকতেও প্রাণহীণ...??

প্রত্যেকটা জিনিসের পিছনেই থাকে কোন এক অজানা রহস্য। তেমনি একজন মানুষের জীবনেও থাকতে পারে এমন সব হাতাশা আর কষ্টের রহস্য। তাই তার সেই হাসিটা দেখেই ভাববেন না সে আসলেই অনেক সুখী। বরং তার হাসিটার আড়ালে কি লুকিয়ে আছে তা দেখার চেষ্টা করুন। এমনো হতে পারে আপনার কথায় সে অনেক বেশি কষ্ট পেলো কিন্তু আপনাকে বুঝতে না দিতে সে তা হাসির আড়ালে লুকালো। যদি কারনটা খুজে পেয়ে যান তবে সেটা ভুলিয়ে সত্যি মন থেকে হাসানোর চেষ্টা করুন।
সব হাসি সুখের হাসি নয়, নিজেকে লুকানোর জন্যও অনেক সময় হাসতে হয়...।। 

বর্তমান যুগে রিলেশন, ভালোবাসা নিয়ে কিছু লিখতে বা বলতে আমার খুব ভয় লাগে, খুব হতাশা লাগে। কেমন যেন হাত কাপে, মুখ ফ্যাঁকাশে হয়ে যায়, কেমন যেন অস্বস্তি লাগে। বর্তমান যুগের রিলেশন গুলি কেমন যেন নড়বড়ে হয়ে থাকে। একটু দমকা বাতাসে হুট করে ভেঙ্গে যায়, অনেক সময় বাতাসের দরকার হয় না। কারণ, এ রিলেশন গুলো হুট করে হয়ে থাকে। যা সহজে এসে তা সহজেই চলে যায়। কেউ কাউকে নিয়ে ভাবার সুযোগ পায়না, Actually-কেউ কাউকে নিয়ে ভাবতে চায় না। অতো সময় নেই হয়তো। আর সময় পেলেও কাজে লাগায় না। সময় পাবেই বা কিভাবে...??!! তাঁরা তোঁ ভালোবাসতে নয়, "পটাতে" ব্যাস্ত। কাউকে আজ পছন্দ হলো, কাল ভোর হতে না হতেই প্রপোজ করে ফেলে। Facebook-এ দুই দিন কথা বলতে না বলতে তার প্রেমে পড়ে যায়, তৃতীয় দিন তাকে প্রপোজ করে ফেলে। ঐ মানুষটার সম্পর্কে জানার কোনো প্রয়াস নেই, কোনো উৎসাহ নেই, প্রয়োজন নেই। যার ফল স্বরূপ কিছুদিন যেতে না যেতেই একটু মৃদু বাতাসে সম্পর্কটা ভেঙে যায়। এখনকার যুগের ভালোবাসার মাঝে সন্মান বোধ নেই। আছে শুধু Ego, তাকে Dominating-করার প্রবণতা, নিজে কিভাবে বড় থাকা যায় আর তাকে কিভাবে ছোট করা যায় এই চিন্তা-চেতনা। যে ভালোবাসার মাঝে Ego, Dominating, আত্ন-সন্মানবোধ বেশি থাকে সেই সম্পর্কের নাম কখনোই ভালোবাসা হতে পারে না। Ego, Dominating, আত্ন-সন্মানবোধ আর "ভালোবাসা" একসাথে কখনোই সম্ভব না। যে কোন একটাকে তোমার বেছে নিতে হবে। তোমাকে সে একটু রাগ দেখিয়ে কথা বললো, একটু ধমকের শুরে কথা বললো, একটু অপমান করলো আর সাথেই সাথেই তোমার  Ego-তে লেগে গেলো...!!! তুমি যদি এই সময় ভাবো যে তোমার আত্ন-সন্মানে লেগেছে; তাহলে তোমাকে আমি লিখে দিতে পারি তুমি তাকে কখনোই ভালোবাসো না। এই Simple-কথা সহ্য করার ক্ষমতা যদি না থেকে থাকে তোমার তাহলে কিভাবে তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার চিন্তা করো, তাকে নিয়ে ভবিষ্যতে এক সাথে ঘড় করার চিন্তা করো...??!! যে তোমাকে ভালোবাসে, যাকে তুমি ভালোবাসো অবশ্যই তোমার প্রতি তার & তার প্রতি তোমার অধিকার আছে কিছু বলার, শাসন করার। তার অধিকার আছে বিধায়ই সে কথা বলার Right- পেয়েছে। বাহিরের কেউ কিন্তু এসে তোমাকে কিছু বলে যায়নি। তোমার যদি এতে আত্ন-সন্মানে লাগে তাহলে বাহিরে মানুষ আর তোমার এই ভালোবাসার মানুষের মধ্যে পার্থক্য কি...?? নিজেকে একটি বার প্রশ্ন করো...

কারোর সাথে রিলেশনে জড়ানোর আগে একবারের জন্য হলেও ভাবা উচিৎ। তার সম্পর্কে জানা উচিত, তার পছন্দ - অপছন্দ সম্পর্কে জানা উচিত। তার মনের সাথে নিজের মন মিলিয়ে নিতে পাড়বে কিনা, তার ইচ্ছা কাছে নিজের ইচ্ছার ত্যাগ স্বীকার করতে পাড়বে কিনা তা খুব ভালো করে মিলিয়ে নেওয়া উচিত। তাকে পাওয়ার জন্য কতোটা কষ্ট, কতোটা ত্যাগ স্বীকার করতে পাড়বে তা খুব ভালো করে নিজের মনের কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত। তার সাথে সারা জীবন সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে চলতে পারবে কিনা, একটা ঘড়ে উভয়ে মিলে একসাথে শান্তিতে এক প্লেট ভাত আহার করতে পারবে কিনা, এক ছাদের নিচে উভয়ে মিলে ভালোবাসার তাজমহল তৈরি করতে পারবে কিনা, হাতে হাত রেখে একসাথে জীবন পাড়ি দিতে পারবে কিনা এগুলো খুব ভালো করে নিজের মনের সাথে বুঝে নেওয়া উচিত। এগুলো নিজের মনের সাথে নিজেকেই বুঝে নিতে হবে, কেউ তোমাকে এগুলো বুঝিয়ে দিয়ে যাবে না। আর এগুলো বোঝার জন্য, জানার জন্য, তার মন বোঝার জন্য অনেকটা সময়ের দরকার। একদিন নয়, দুই দিন নয়...প্রয়োজন কয়েক মাস, অনেক সময় কয়েক বছর। প্রয়োজনে তার চেয়ে বেশি সময় নেওয়া উচিত। হুট করে "ভালোবাসি" বলে দেওয়াটা মোটেই উচিত নয়। আবার এতো বেশি সময় নিয়ো না যখন সে অন্য কারো হয়ে যায়। সম্পর্ক শুরু করার আগে যতো বুঝে নেওয়া যায় নাও, সম্পর্কে জড়ানোর পর পিছন দিকে ফিরে তাকানোর উপায় নেই।

কিছু কিছু সম্পর্ক অনেক মজবুত হওয়ার পরও টিকিয়ে রাখা যায়না। কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পরই কেউ হাল ছেড়ে দেয়। সম্পর্কের মাঝ থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, সম্পর্কে প্রতি সন্মান বোধ থাকে না। এক তরফা ভালোবাসা যাকে বলা হয়। একজন মনে প্রাণে ভালোবাসে আর অন্যজন শুধু দেখে যায়।

মানুষটাকে ভালোবাসার আগে ভেবে নেওয়া উচিত এই মানুষটির জন্য তুমি অপেক্ষা করতে পারবে কিনা। ভালোবাসার চেয়ে অপেক্ষা করা অনেক বেশি কঠিন। আমি বলবো ভালো কম বাসো তাতে ক্ষতি নেই, কিন্তু তাকে পাওয়ার জন্য যে অপেক্ষা করা দরকার সেই সাহস, শক্তি, ইচ্ছা, মনের জোড় যেন মনে থাকে সবসময়। 

অনেকেই বলেন- নিজের সমবয়সী কোনো মেয়ে বা ছেলের সাথে রিলেশনে না জড়াতে। আমি বলবো না সমবয়সী কারো সাথে রিলেশনে জড়াতে, আবার এটাও বলবো না সমবয়সী কারো সাথে রিলেশনে না জড়াতে। তবে সমবয়সী রিলেশনে মন ভাঙ্গার আওয়াজ স্পষ্ট শুনা যায়। কিন্তু মনের জোড় থাকলে এই মন ভাঙ্গার আওয়াজ শুনতে হয় না। তুমি যখন সমবয়সী কারো সাথে সম্পর্কে জড়াচ্ছ তোমাকে খুব ভালো করেই মাথায় রাখতে হবে সেই মানুষটাও তোমার একই বয়সী। কিছু দিন পর যখন কিছু বিপদ, কিছু তীর-ছোড়া কথা গায়ে লাগবে, পরিবারের চাপ সামনে আসবে তখন তুমি তোমার সেই মানুষটির সাথে কেমন ব্যবহার করবে, কি Expect-করবে তার কাছ থেকে...?? তোমাকে এটা খুব ভালো ভাবেই মাথায় রাখতে হবে তার কাছ থেকে কিছু Expect-করার নেই, যা করার তোমাকেই করতে হবে। তোমাকে এটা বুঝতে হবে এই সময়ে তার করার কিছুই নেই, তাকে কিছু করার জন্য কিছু সময় দরকার। একটা সময় দরকার যে সময়টায় সে কিছু করতে পাড়বে তোমার জন্য। তাকে তোমার সেই সময়টা দিতে হবে, সেই সময় পর্যন্ত তোমাকে অপেক্ষা করতে হবে যদি তুমি তাকে নিজের করে পেতে চাও, যদি তুমি তাকে সত্যি মন থেকে ভালোবেসে থাকো।

কি ভাবচ্ছো অনেক কঠিন...? না...যদি তার প্রতি ভালোবাসাটা সত্যি মন থেকে হয়ে থাকে তবে এটা তেমন কোন কঠিন কাজ নয়। তোমাকে এটাও মাথায় রাখতে হবে এই সময়টিতে তোমাকে অনেকে অনেক কিছুই বোঝাবে। অনেকে বলবে ছেলেটার ভবিষ্যৎ নেই, Future-এ কি করবে, Established- আদৌ হতে পাড়বে কিনা...এরকম আরো অনেক কিছু। যা তোমার মনটাকে দুর্বল করে দিবে, মনে যে সাহস ছিল তা আসতে আসতে কমিয়ে দিবে। আমি তোমাকে শুধু একটি কথাই বলবো তুমি যদি তাকে ছেড়ে যাও তার জীবনেও একটা সময় কেউ আসবে। সেও তার পরিবারের সকল ভার বহন করবে, পরিবার Maintain-করবে একটি সময়। প্রতিটা মানুষই কিছু না কিছু করে, করতেই হয় জীবিকার তাগিদে। শুধু তোমাকে অপেক্ষা করতে হবে সেই দিনটির জন্য। তাকে তোমার জন্য কিছু করার জন্য সময়, সুযোগ দিতে হবে। এতোটুকু কি পাড়বে না...?? অবশ্যই পাড়বে যদি ভালোবাসাটা সত্যি থেকে থাকে, ভালোবাসাটা মন থেকে হয়ে থাকে। শুধু তার হাতটি ধরো শক্ত করে আর তাকে সাহস দাও।। তোমার এই মুহূর্তে যে শক্তিটা প্রয়োজন তা তোমাকে তোমার ভালোবাসা জুগাবে। এই শক্তিটা যে কতোটা শক্তিশালী তা তুমি নিজে নিজেই বুঝতে পাড়বে প্রতিটা মুহূর্তে।। আর যদি এতো কিছুর মুখোমুখি হওয়ার সাহস না থেকে থাকে মনে, ভয় হয় তবে শুরুতেই কেটে পড়ো তুমি। ভালোবাসার পথে হাটার দরকার নেই, ভালোবাসা তোমার জন্য নয়...।। 

ভালোবাসা হলো শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত প্রিয় মানুষের চোখের জল গাল বেয়ে গড়িয়ে পরার দৃশ্যটা উপভোগ করা। তার বিপদের সময়ে তার হাত শক্ত করে ধরে রাখা। ভালোবাসা হলো প্রিয় আর প্রিয়ার খুনসুটি। ভালোবাসা হলো প্রিয় আর প্রিয়ার মুখে আনন্দের হাসি...।।


MARI themes

Powered by Blogger.