অনেক দিন আগের কথা। তখন আমি সবে মাত্র HSC 2nd Year-এ পড়ি। ছোট ছিলাম, অনেক কিছুই বুঝতাম আবার অনেক কিছুই বুঝে উঠতে পারতাম না। সেই সময় এক ভাইয়ার সাথে পরিচয়। সেই ভাইয়াকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম "এত ভালো ভার্সিটিতে পড়ো,  বাবা-মা খুশি; এর পরও এত Depressed- কেন...।।
সে বলেছিল- "আর কিছু দিন,  আর একটা বছর অপেক্ষা করো...! তখন তোমাকে আমি বলবো " Welcome to university Life"!!!

Frustration -Depression এই word-দু'টো আমার Dictionary -তে ছিলোনা বললেই চলে। তবে কিছুটা চাপা কষ্ট ছিল সেটা অন্য কোন কারণে। 

শুধু প্রেমে ছ্যাকা খাওয়ার পড়েই Depression- আসেনা। Separation- আসলেই Frustration- আসেনা।
Frustration- তখন আসে যখন তুমি তোমার আশে-পাশের True Faced- মানুষ দের চিনতে পাড়বে।যে তোমাকে সবচেয়ে ভালো বন্ধু বানাবে, মুখে বলবে অনেক ভালো বন্ধু, মুখে বলবে ভাইয়ের চেয়েও বেশি কিছু, তোমাকে বোন বানাবে, তোমাকে ফিল করাবে তোমাকে পেয়ে সে বা তারা ধন্য...!! তারপর তোমার সবকিছু জেনে তোমাকে Backbite- করবে, উপহাস করবে, অন্যের কাছে হাসির পাত্র বানাবে বা নিজেই কথায় কথায় ছোট করে কথা বলবে। তোমার প্রতি Jealousy-করে তোমার সবকিছু কেড়ে নিবে। তখন তোমার মনে হবে একটু বন্ধুত্ব ছাড়া আর তো কিছু চাইনি। এগুলো পেলাম কেন তাহলে...!! তখন তোমার প্রচন্ড খারাপ লাগবে আর তখন থেকেই তোমার  নিজের মাঝে Frustration- আসবে।

যখন তোমার আশে-পাশের মানুষের কাছে হাসির আড়ালে মিথ্যে অভিনয়, স্বার্থপরতা আর Jealousy- ছাড়া আর কিছুই দেখবে না তখন তোমার Feel- হবে ব্যাপারটা এমন হলো কেনো...?? ব্যাপারটা সুন্দর হলেও তো পারতো, এরকম না হলেও তো পারতো। বন্ধুর নামে অভিনয়, স্বার্থপর গুলো; বন্ধু হলেও তো পারতো, আপন হলেও তো পারতো। তখন তুমি ভাববে- মুখে মধু, অন্তরে বিষ রাখার কি বা দরকার ছিল, কি বা দরকার ছিল মুখে মধুর সুরে কথা বলার। যে মধুর শুরে রয়েছে শুধুই মিথ্যে অভিনয়, মিথ্যে কথার ফুল ঝুড়ি...!!? তখন তোমার মাঝে Depression- কাজ করবে, হতাশ লাগবে। আসতে আসতে তুমি Depression-এ ভুগতে শুরু করবে। এই Depression- তোমাকে একা হয়ে যেতে বাধ্য করবে। তোমার কারো সাথে মিশার ইচ্ছে করবে না, মিশার ইচ্ছেটা চলে যাবে। এই Depression-টা আসতে আসতে বাড়তেই থাকবে, একটা সময় খুব ভালোভাবেই তা উপলব্ধি করতে পারবে।

ছোটবেলা থেকে স্কুল - কলেজ লাইফে স্বার্থপরতা, অভিনয় এই জিনিস টা আমরা সবচেয়ে কম পাই। Friendship- গুলো তখন অনেক নিষ্পাপ হয়, স্বার্থহীন, অভিনয়হীন হয়। স্বার্থ কি, অভিনয় কি তা ঐ সময়ে কেউ-ই বোঝে না।

মাঝে মাঝে নিজেকে খুব বোকা মনে হয়। আমি মানুষ চিনি খুব দেরীতে, কিন্তু এখন চিনি। কিছুটা হলেও চিনি। প্রতিনিয়ত কাউকে না কাউকে চিনচ্ছি। বড় হচ্ছি ধীরে ধীরে, খুব ধিরে...।।

ছোট বেলায় স্কুল, কোচিং ছাড়া বাড়ির চার দেয়ালের বাহিরে যাওয়ার অনুমতি ছিল না। এমন কি বাড়ির নিচে নামারো অনুমতি ছিল না। তখন ভাবতাম  বড় হবো কবে, বড় হচ্ছি না কেন। বড় হওয়ার তীব্র ইচ্ছায় ছোটবেলা পার করেছি। এখন নিজের উপর রাগ হয়, খুব বেশি রাগ হয়। কেনো বড় হতে চেয়েছিলাম, কেন বড় হলাম...!!!??

আমাকে কিছুদিন আগে একজন জিজ্ঞাসা করেছিল আমার Close Friend কয়জন ?? অদ্ভুত ভাবে বিনা দ্বিধায় উত্তর দিয়েছিলাম, এক সেকেন্ডও ভাবতে হয় নি...উত্তরটা কি তবে ভুল দিয়েছিলাম...!! না, কখনোই না। আমি কাকে আপন ভাবি, কে আমার Close-তা বলেছি। আমাকে কে আপন ভাবে বা Close-ভাবে সেটা জানতে চায় নি সে। Actually- কাকে তুমি আপন ভাবো তার চেয়ে বেশি জানা দরকার কে তোমাকে কতোটা আপন ভাবে, কতোটা কাছের মানুষ ভাবে। কারণ যে তোমাকে আপন, কাছের কেউ ভাবে না তাকে তুমি আপন, কাছের কেউ ভাবলে একটা সময় কষ্ট ছাড়া কিছুই তুমি পাবে না। তখন তোমার করারও কিছু থাকবে না.। ঐ সময়ে তোমার কষ্টের মাত্রাটা এতোই বেশি হবে যে তোমার সহ্যের ক্ষমতার বাহিরে চলে যাবে।  

আসলে একসাথে Chill- করলে বন্ধু হওয়া যায়না, Selfie-  তুলে Facebook-এ Check In- দিলেই Close- হওয়া যায়না। অনেক অনেক Tour আর Hangout arrange-করলেই Best Friend  হওয়া যায়না।

তুমি যখন একজনের ঘাড়ে নিজের চোখের পানি ফেলে Comfort- খুজতে যাবে আর পরক্ষণেই বুঝবে তার কাছে তোমার চোখের পানির বিন্দু পরিমাণ দাম নেই, যখন তুমি তোমার কষ্টের কথা তার সাথে শেয়ার করতে যাবে কিন্তু তুমি দেখবে তোমার কথা শোনার বিন্দু পরিমাণ আগ্রহ তার নেই; সবকিছুই "Show off", অভিনয় মনে হবে তখন। Best Friend-সেটাই যার কাছে তুমি সব কিছু Share-করে স্বস্তি পাবে,যাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে পারবে, যাকে নিজের একান্ত গোপন কথা বা কষ্টের কথা বলতে পারবে, যার কাছে তুমি এবং তোমার পরিবার সমান সন্মানের। এখন "বন্ধু-বান্ধবী" শব্দ গুলা শুধুই High Level-এর একটা Show off. University-এর ক্ষেত্রে এটা একটু বেশিই High level- এর।

                      "সম্পর্কটা দরকার মনের, মুখের বা অভিনয়ের নয়...।।" 

তারপরও একটা কথা রয়েই যায়- There will be a hope always...Right..??

সেই Hope- টা হলো Family- আর র্ভাগ্যক্রমে পাওয়া হাতে গোণা দু- একজন কাছের মানুষ...!!

আস্তে আস্তে যোগাযোগ কমতে শুরু করে। একটা সময় কমতে কমতে শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। হয়তো আপনার মনেই হবে না কেউ একজনের সাথে আপনার আজ কথা হয়নি। একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন সে ঠিকই মনে রেখেছে কতো ঘণ্টা, কতো সেকেন্ড কথা হয়নি। খেয়াল করলে দেখবেন শুধুমাত্র অবহেলার জন্য কিছু মানুষ আপনার থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে...। দূরে সরে যাচ্ছে না, আপনি দূরে সরে যেতে বাধ্য করছেন। কাছে আসতে চায়, আবার আসতে গিয়ে থেমে যায়। দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে...।।

যে মানুষটির সাথে দিনে দুই তিন ঘন্টা কথা হতো, দেখা হতো প্রতিদিন...। সেই মানুষ টির সাথেই আপনার দিনের পর দিন দেখা নেই, যোগযোগ নেই...। হয়তো মাঝে মাঝে কথা হয়, অনেকটা হয়তো আপনার ইচ্ছের বিরুদ্ধে। কিন্তু একটা সময় এমনটি ছিল না। তার সাথে কথা হতো আপনার ইচ্ছেতেই, তার সাথে দেখা হতো দু'জনের ইচ্ছেতেই, দু'জনের মন মিলিয়েই। যে মানুষটি আপনার একটু প্রশয়-এ শত মাইল দূর থেকে চলে আসতে পারে আর সে আজ কাছাকাছি থেকেও বলার সাহস পায় না কিছু। শুধু আপনার নিজের বদলে যাওয়ার কারণে। প্রতিটা বদলে যাওয়া, প্রতিটা অবহেলা একটা মানুষের সুখ, ইচ্ছা গলা টিপে হত্যা করে।  

যে মানুষ আপনার একটা মেসেজ কলের জন্য রাত জেগে থাকতো, আপনার একটু অসুখ করলে, আপনার হালকা মাথা ব্যাথাতেই যার মন অস্থির হয়ে যায়। হয়তো আপনিও সচেতন মনে বা অবচেতন মনে তার অপেক্ষায় থাকতেন।  কিন্তু আজ সেই মানুষ টির নাম আপনার সামনে বললে না চিনার একটা ভাব করে কথার প্রসঙ্গ পাল্টে ফেলেন...।। ব্যাপারটা খুবই সচেতন ভাবেই করেন...।। অনেকটা এমন প্রসঙ্গটা পাল্টাতে পারলেই আপনি হাফ ছেড়ে বাঁচেন। 

আপনার কাছ থেকে পাওয়া সামান্য একটু একটু অবহেলার জন্য জন্ম নেওয়া এই কষ্ট একদিন বাড়তে থাকে তার মনে। আর আপনি ভুলে যেতে থাকেন অনেক কিছুই কিন্তু সে ভুলে না, কিচ্ছু না...।। প্রিয় কিছু সময়, কিছু কথার মাঝে কথা দেওয়া, হাসি-ঠাট্টা, শেরারিং-কেরারিং, জন্মদিনের তারিখ, প্রথম দেখা, প্রিয়-অপ্রিয় জিনিস গুলো সবই ভুলতে বসেন। হয়তো অবচেতন মনেই ভুলে যেতে চান কিন্তু সে...??!! 

তার চোখের কোণে এক ফোটা জল, মলিন মুখের হাসি অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেয়, অনেক কথাই বলে যায়...যা হয়তো আপনি দেখতে পান না বা আমি দেখতে চান না বা আপনি দেখেও না বুঝার ভান করেন।। যে অধিকার আপনি নিজে দিয়েছেন এখন সেই অধিকারের সুতো ধরে যখন টান দিচ্ছেন তখন আপনার নিজের মনে কিছু না ঘটে গেলেও তার মন ওলট- পালট হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। আর এই সুতোটা যখন ছিঁড়ে ফেলচ্ছেন তখন আপনার কাছে হয়তো কিছুই মনে হবে না কিন্তু তার কাছে...??!! ভেবেছেন কি একটি বারও...!! হয়তো না কারণ, আপনার কাছে এটা হয়তো মামলি ব্যাপার ছাড়া কিছুই না। কিন্তু তার কাছে এটা সুখ হনন করা, সুখের মৃত্যু, নিজের অস্তিত্ব হারানো, নিজের কাছে নিজের পরাজয়। 

অবহেলা হঠাৎ করে সৃষ্টি হয় না, আস্তে আস্তে হয়...। খুবই ধীর গতিতে হয়। নিজের সাথে এমন টা না হলে আপনি কখনো কারো কষ্ট বুঝতে পারবেন না। এই কষ্টটা এমন এক কষ্ট যা কখনোই প্রকাশ পায় না। মনে চাপা রয়ে যায়, একটা চাপা কষ্ট মনে একটু একটু করে লালিত হয়, একটু একটু বাড়তে থাকে। অন্য সকল কষ্ট বাহির থেকে কিছুটা অনুধাবন করা গেলেও, এই কষ্টটা আপনি কখনোই বুঝতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপনি এর সম্মুখিন হবেন। আপনি চাইলেও বুঝতে পারবেন না এটা কতোটা মনের গভীরে ক্ষত করে। তার বুকের চিনচিনে ব্যাথা, চাপা কষ্টটা কখনোই আপনার মনের চার দেয়ালে স্পর্শ করবে না...।।

অধিকার তখনই জন্ম নেয় যখন কেউ অধিকার দেয়। অধিকার তখনই জন্মায় যখন মনের সম্পর্ক তৈরী হয়। যেখানে মন-ই পাওয়া যায় না সেখানে অধিকার রাগ বা মান অভিমানের কোন সুযোগ ই তো নেই। যা কিছু দেখি সবই ছলনা, অভিনয় ছাড়া কিছুনা। মন সে তো মহামুল্যবান, ক'জনের ভাগ্যে জোটে সে মন..???!!! 

জানেন পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছে, যাদের বাহ্যিক দিকটা দেখলে মনে হয় বোধহয় তারাই সবচেয়ে সুখী। কিন্তু তার অভ্যন্তরে কতোটা কষ্ট আর হাহাকার লুকিয়ে আছে সেটা বোঝার মতো শক্তি কারো থাকেনা। হয়তো বুঝতে কেউ চায় না। এই মানুষ গুলো বড্ড অভিনয়ও করতে পারে। অভিনয় তাঁরা করে তাদের নিজের সাথেই, নিজের মনের সাথে। দুঃখের আড়ালে সুখের আভাসটা যখন সে হাসির মাধ্যমে প্রকাশ করে, তখন মনে হয় শ্রেষ্ট অভিনেতা হিসেবে অস্কারটা তারই প্রাপ্য। একটা মানুষের খারাপ লাগার অনুভূতিটা কি আদৌ কেউ বুঝতে পারে...?? না...।। কিভাবে একটা মানুষ এতটা কষ্টকে চুপসে দিয়ে মুখে হাসি আঁকে। এদের হাসিটা কি কেউ বুঝতে পারে...?? এদের হাসির আড়ালে যে কতোটা কষ্টের অনুভূতি, কতোটা বেদনা লুকিয়ে থাকে তা কতজন মানুষই বা বুঝতে পারে, লক্ষ্য করে...? সত্যি অনেক বড় অভিনেতা তারা। নিজের মনের সাথে অভিনয় করা সব চেয়ে বড় কঠিন, সব চেয়ে বড় কষ্ট। 

বুকের মাঝে আগলে রাখা হাজারো অব্যক্ত কথা আর চাপা কষ্টটা প্রকাশ পায় তার শেষ রাতের প্রার্থনায়। সাথে থাকে কিছু চোখের অশ্রু। সারাদিন অভিনয়ের আড়ালে যে কষ্টটা জমে ছিল তা ঝেরে ফেলে দেয় তখন। প্রস্তুতি নেয় আবার অভিনয়ের অন্য একটি অধ্যায় শুরু করার জন্য, একটি নতুন দিনের।

মানুষ গুলোর মাঝে কি আছে তা কেউ বুঝতে চায় না। তারাও তো সবসময় সবার মতো হাসে, সবার সাথে চলে, সবার সাথে কথা বলে। কিন্তু একবারও মনে হয়না তার জীবনেও আছে কোন এক অশ্রু ঝরানো কাহীনি। আসলে বুঝবেই বা কিভাবে। তারা তো সেটা বুঝতেই দেয়না কখনো। আসলে কারো সেটা বোঝার মতো সময় নেই। সেও হয়তো চায় কেউ একজন তাকে বুঝুক, তার হাসির আড়ালে কষ্টও গুলো খুঁজুক। কিন্তু না, এরকম কখনোই হয়ে উঠে না... 

দুঃখ, কষ্ট, আশাহীনতা, প্রত্যাশাহীনতা, হাহাকার, ব্যর্থতা, সবকিছুই ছাপিয়ে নিয়েছে তার জীবনটা। একটু একটু করে কেড়ে নিচ্ছে তার মনের রং দিয়ে সাজানো সব রঙিন স্বপ্ন গুলো। তবুও নেই তার মাঝে কোন প্রতিক্রিয়া, নেই কোন চিৎকার, নেই কোন অশ্রু। শুধু আছে ঠোটের কোনে এক চিলতি অভিনয়ে জড়ানো হাসি। সেটা দুঃখের না সুখের সেটা শুধু সেই জানে। এই হাসিটিতে যে কতো কিছু লুকায়িত তা শুধু সেই জানে।

স্বপ্নতো সবাই দেখে। স্বপ্ন দেখতে মানা নেই। পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষ- ই স্বপ্ন দেখে। তবে বোধহয় কিছু মানুষের জন্য স্বপ্ন দেখাটাই ভুল, আশা করাটাই ভুল। তার স্বপ্নের বাস্তব কোন রুপ নেই তা জানা সর্তেও স্বপ্নের কারনে আজ সে নিদ্রাহীন, আশা গুলো নিরাশ হয়ে আজ সে অনুভূতিহীন, কেন সে প্রাণ থাকতেও প্রাণহীণ...??

প্রত্যেকটা জিনিসের পিছনেই থাকে কোন এক অজানা রহস্য। তেমনি একজন মানুষের জীবনেও থাকতে পারে এমন সব হাতাশা আর কষ্টের রহস্য। তাই তার সেই হাসিটা দেখেই ভাববেন না সে আসলেই অনেক সুখী। বরং তার হাসিটার আড়ালে কি লুকিয়ে আছে তা দেখার চেষ্টা করুন। এমনো হতে পারে আপনার কথায় সে অনেক বেশি কষ্ট পেলো কিন্তু আপনাকে বুঝতে না দিতে সে তা হাসির আড়ালে লুকালো। যদি কারনটা খুজে পেয়ে যান তবে সেটা ভুলিয়ে সত্যি মন থেকে হাসানোর চেষ্টা করুন।
সব হাসি সুখের হাসি নয়, নিজেকে লুকানোর জন্যও অনেক সময় হাসতে হয়...।। 

বর্তমান যুগে রিলেশন, ভালোবাসা নিয়ে কিছু লিখতে বা বলতে আমার খুব ভয় লাগে, খুব হতাশা লাগে। কেমন যেন হাত কাপে, মুখ ফ্যাঁকাশে হয়ে যায়, কেমন যেন অস্বস্তি লাগে। বর্তমান যুগের রিলেশন গুলি কেমন যেন নড়বড়ে হয়ে থাকে। একটু দমকা বাতাসে হুট করে ভেঙ্গে যায়, অনেক সময় বাতাসের দরকার হয় না। কারণ, এ রিলেশন গুলো হুট করে হয়ে থাকে। যা সহজে এসে তা সহজেই চলে যায়। কেউ কাউকে নিয়ে ভাবার সুযোগ পায়না, Actually-কেউ কাউকে নিয়ে ভাবতে চায় না। অতো সময় নেই হয়তো। আর সময় পেলেও কাজে লাগায় না। সময় পাবেই বা কিভাবে...??!! তাঁরা তোঁ ভালোবাসতে নয়, "পটাতে" ব্যাস্ত। কাউকে আজ পছন্দ হলো, কাল ভোর হতে না হতেই প্রপোজ করে ফেলে। Facebook-এ দুই দিন কথা বলতে না বলতে তার প্রেমে পড়ে যায়, তৃতীয় দিন তাকে প্রপোজ করে ফেলে। ঐ মানুষটার সম্পর্কে জানার কোনো প্রয়াস নেই, কোনো উৎসাহ নেই, প্রয়োজন নেই। যার ফল স্বরূপ কিছুদিন যেতে না যেতেই একটু মৃদু বাতাসে সম্পর্কটা ভেঙে যায়। এখনকার যুগের ভালোবাসার মাঝে সন্মান বোধ নেই। আছে শুধু Ego, তাকে Dominating-করার প্রবণতা, নিজে কিভাবে বড় থাকা যায় আর তাকে কিভাবে ছোট করা যায় এই চিন্তা-চেতনা। যে ভালোবাসার মাঝে Ego, Dominating, আত্ন-সন্মানবোধ বেশি থাকে সেই সম্পর্কের নাম কখনোই ভালোবাসা হতে পারে না। Ego, Dominating, আত্ন-সন্মানবোধ আর "ভালোবাসা" একসাথে কখনোই সম্ভব না। যে কোন একটাকে তোমার বেছে নিতে হবে। তোমাকে সে একটু রাগ দেখিয়ে কথা বললো, একটু ধমকের শুরে কথা বললো, একটু অপমান করলো আর সাথেই সাথেই তোমার  Ego-তে লেগে গেলো...!!! তুমি যদি এই সময় ভাবো যে তোমার আত্ন-সন্মানে লেগেছে; তাহলে তোমাকে আমি লিখে দিতে পারি তুমি তাকে কখনোই ভালোবাসো না। এই Simple-কথা সহ্য করার ক্ষমতা যদি না থেকে থাকে তোমার তাহলে কিভাবে তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার চিন্তা করো, তাকে নিয়ে ভবিষ্যতে এক সাথে ঘড় করার চিন্তা করো...??!! যে তোমাকে ভালোবাসে, যাকে তুমি ভালোবাসো অবশ্যই তোমার প্রতি তার & তার প্রতি তোমার অধিকার আছে কিছু বলার, শাসন করার। তার অধিকার আছে বিধায়ই সে কথা বলার Right- পেয়েছে। বাহিরের কেউ কিন্তু এসে তোমাকে কিছু বলে যায়নি। তোমার যদি এতে আত্ন-সন্মানে লাগে তাহলে বাহিরে মানুষ আর তোমার এই ভালোবাসার মানুষের মধ্যে পার্থক্য কি...?? নিজেকে একটি বার প্রশ্ন করো...

কারোর সাথে রিলেশনে জড়ানোর আগে একবারের জন্য হলেও ভাবা উচিৎ। তার সম্পর্কে জানা উচিত, তার পছন্দ - অপছন্দ সম্পর্কে জানা উচিত। তার মনের সাথে নিজের মন মিলিয়ে নিতে পাড়বে কিনা, তার ইচ্ছা কাছে নিজের ইচ্ছার ত্যাগ স্বীকার করতে পাড়বে কিনা তা খুব ভালো করে মিলিয়ে নেওয়া উচিত। তাকে পাওয়ার জন্য কতোটা কষ্ট, কতোটা ত্যাগ স্বীকার করতে পাড়বে তা খুব ভালো করে নিজের মনের কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত। তার সাথে সারা জীবন সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে চলতে পারবে কিনা, একটা ঘড়ে উভয়ে মিলে একসাথে শান্তিতে এক প্লেট ভাত আহার করতে পারবে কিনা, এক ছাদের নিচে উভয়ে মিলে ভালোবাসার তাজমহল তৈরি করতে পারবে কিনা, হাতে হাত রেখে একসাথে জীবন পাড়ি দিতে পারবে কিনা এগুলো খুব ভালো করে নিজের মনের সাথে বুঝে নেওয়া উচিত। এগুলো নিজের মনের সাথে নিজেকেই বুঝে নিতে হবে, কেউ তোমাকে এগুলো বুঝিয়ে দিয়ে যাবে না। আর এগুলো বোঝার জন্য, জানার জন্য, তার মন বোঝার জন্য অনেকটা সময়ের দরকার। একদিন নয়, দুই দিন নয়...প্রয়োজন কয়েক মাস, অনেক সময় কয়েক বছর। প্রয়োজনে তার চেয়ে বেশি সময় নেওয়া উচিত। হুট করে "ভালোবাসি" বলে দেওয়াটা মোটেই উচিত নয়। আবার এতো বেশি সময় নিয়ো না যখন সে অন্য কারো হয়ে যায়। সম্পর্ক শুরু করার আগে যতো বুঝে নেওয়া যায় নাও, সম্পর্কে জড়ানোর পর পিছন দিকে ফিরে তাকানোর উপায় নেই।

কিছু কিছু সম্পর্ক অনেক মজবুত হওয়ার পরও টিকিয়ে রাখা যায়না। কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পরই কেউ হাল ছেড়ে দেয়। সম্পর্কের মাঝ থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, সম্পর্কে প্রতি সন্মান বোধ থাকে না। এক তরফা ভালোবাসা যাকে বলা হয়। একজন মনে প্রাণে ভালোবাসে আর অন্যজন শুধু দেখে যায়।

মানুষটাকে ভালোবাসার আগে ভেবে নেওয়া উচিত এই মানুষটির জন্য তুমি অপেক্ষা করতে পারবে কিনা। ভালোবাসার চেয়ে অপেক্ষা করা অনেক বেশি কঠিন। আমি বলবো ভালো কম বাসো তাতে ক্ষতি নেই, কিন্তু তাকে পাওয়ার জন্য যে অপেক্ষা করা দরকার সেই সাহস, শক্তি, ইচ্ছা, মনের জোড় যেন মনে থাকে সবসময়। 

অনেকেই বলেন- নিজের সমবয়সী কোনো মেয়ে বা ছেলের সাথে রিলেশনে না জড়াতে। আমি বলবো না সমবয়সী কারো সাথে রিলেশনে জড়াতে, আবার এটাও বলবো না সমবয়সী কারো সাথে রিলেশনে না জড়াতে। তবে সমবয়সী রিলেশনে মন ভাঙ্গার আওয়াজ স্পষ্ট শুনা যায়। কিন্তু মনের জোড় থাকলে এই মন ভাঙ্গার আওয়াজ শুনতে হয় না। তুমি যখন সমবয়সী কারো সাথে সম্পর্কে জড়াচ্ছ তোমাকে খুব ভালো করেই মাথায় রাখতে হবে সেই মানুষটাও তোমার একই বয়সী। কিছু দিন পর যখন কিছু বিপদ, কিছু তীর-ছোড়া কথা গায়ে লাগবে, পরিবারের চাপ সামনে আসবে তখন তুমি তোমার সেই মানুষটির সাথে কেমন ব্যবহার করবে, কি Expect-করবে তার কাছ থেকে...?? তোমাকে এটা খুব ভালো ভাবেই মাথায় রাখতে হবে তার কাছ থেকে কিছু Expect-করার নেই, যা করার তোমাকেই করতে হবে। তোমাকে এটা বুঝতে হবে এই সময়ে তার করার কিছুই নেই, তাকে কিছু করার জন্য কিছু সময় দরকার। একটা সময় দরকার যে সময়টায় সে কিছু করতে পাড়বে তোমার জন্য। তাকে তোমার সেই সময়টা দিতে হবে, সেই সময় পর্যন্ত তোমাকে অপেক্ষা করতে হবে যদি তুমি তাকে নিজের করে পেতে চাও, যদি তুমি তাকে সত্যি মন থেকে ভালোবেসে থাকো।

কি ভাবচ্ছো অনেক কঠিন...? না...যদি তার প্রতি ভালোবাসাটা সত্যি মন থেকে হয়ে থাকে তবে এটা তেমন কোন কঠিন কাজ নয়। তোমাকে এটাও মাথায় রাখতে হবে এই সময়টিতে তোমাকে অনেকে অনেক কিছুই বোঝাবে। অনেকে বলবে ছেলেটার ভবিষ্যৎ নেই, Future-এ কি করবে, Established- আদৌ হতে পাড়বে কিনা...এরকম আরো অনেক কিছু। যা তোমার মনটাকে দুর্বল করে দিবে, মনে যে সাহস ছিল তা আসতে আসতে কমিয়ে দিবে। আমি তোমাকে শুধু একটি কথাই বলবো তুমি যদি তাকে ছেড়ে যাও তার জীবনেও একটা সময় কেউ আসবে। সেও তার পরিবারের সকল ভার বহন করবে, পরিবার Maintain-করবে একটি সময়। প্রতিটা মানুষই কিছু না কিছু করে, করতেই হয় জীবিকার তাগিদে। শুধু তোমাকে অপেক্ষা করতে হবে সেই দিনটির জন্য। তাকে তোমার জন্য কিছু করার জন্য সময়, সুযোগ দিতে হবে। এতোটুকু কি পাড়বে না...?? অবশ্যই পাড়বে যদি ভালোবাসাটা সত্যি থেকে থাকে, ভালোবাসাটা মন থেকে হয়ে থাকে। শুধু তার হাতটি ধরো শক্ত করে আর তাকে সাহস দাও।। তোমার এই মুহূর্তে যে শক্তিটা প্রয়োজন তা তোমাকে তোমার ভালোবাসা জুগাবে। এই শক্তিটা যে কতোটা শক্তিশালী তা তুমি নিজে নিজেই বুঝতে পাড়বে প্রতিটা মুহূর্তে।। আর যদি এতো কিছুর মুখোমুখি হওয়ার সাহস না থেকে থাকে মনে, ভয় হয় তবে শুরুতেই কেটে পড়ো তুমি। ভালোবাসার পথে হাটার দরকার নেই, ভালোবাসা তোমার জন্য নয়...।। 

ভালোবাসা হলো শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত প্রিয় মানুষের চোখের জল গাল বেয়ে গড়িয়ে পরার দৃশ্যটা উপভোগ করা। তার বিপদের সময়ে তার হাত শক্ত করে ধরে রাখা। ভালোবাসা হলো প্রিয় আর প্রিয়ার খুনসুটি। ভালোবাসা হলো প্রিয় আর প্রিয়ার মুখে আনন্দের হাসি...।।


জীবনে কতো কিছুই না ঘটছে। কিছু ঘটনা আমাদের মন ছুঁয়ে যায়, মনে দাগ কাটে, মন খারাপ করিয়ে দেয়। কখনো কখনো বিনা কারণেই মন খারাপ হয়। বিষন্ন লাগে, উদাস লাগে, শূন্যতা ভর করে মনে। কিছুতেই যেন মন বসতে চায় না কিছুতে। অতি প্রয়োজনীয় কাজও হয়ে যায় অপ্রয়োজনীয়।  এই সময়টায় আমরা কেউ একজনকে খুঁজি মনের অজানতেই। "মন খারাপের সময় কেউ যদি এসে তোমাকে প্রশ্ন করে - "মন খারাপ..?" তাহলে সেই মানুষটাকে চিনে রাখো, খুব ভালো করে চিনে রাখো...।। 

তোমার মন খারাপ থাকা সর্তেও যাকে তুমি মন ভালোর কথা বলে চালিয়ে দিলে, কিন্তু সে তোমার চোখের দিকে তাঁকিয়ে বুঝে গেলো, তোমার কথা শুনেই বুঝে গেলো তুমি মিথ্যা বলছো। বার বার প্রশ্ন করে জানতে চাচ্ছে- কেন মন খারাপ..? কি হয়েছে..? ইত্যাদি ইত্যাদি...!! এ যেন নাছোড়বান্দা...।। তাহলে এই মানুষটাকে ভালো করে চিনে রাখো, পাড়লে ধরে রাখো।। নিজের কাছে আড়াল করে রাখো...। এই ব্যস্ত জীবনে মানুষ নিজেকেই সময় দিতে পারে না, অথচ সে তোমার মন খারাপের কারণ জানতে চাচ্ছে। তোমাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সত্যিটা বের করতে চাচ্ছে। তোমার মনের কথাটি জানতে চাচ্ছে, তোমার দুঃখের ভাগীদার হতে চাচ্ছে। সেই মানুষটা আর যাই হোক না কেন তোমার জন্য বড় পাওয়া। তোমাকে বুঝতে হবে এই মানুষটির কাছে তুমি কতোটা দামী, তোমার মন ভালো রাখাটা কতোটা গুরত্বপূর্ণ তার কাছে, তুমি কতোটা গুরত্বপূর্ণ তার কাছে। তার অস্তিত্বে যতোটা না সে আছে, তার চেয়ে বেশি তুমি আছো তার অস্তিত্বে মিশে।

মানুষের সুখের ভাগীদার সবাই হতে চায় কিন্তু দুঃখের ভাগীদার কেউ হতে চায় না। ভালো সময়ে বুকে টেনে নিবে কিন্তু খারাপ সময়ে ফিরেও তাঁকাবে না। ভালো সময়ে তোমার পাশে মানুষের অভাব হবে না, কিন্তু খারাপ সময়ে দেখবে কেউ নেই, কিচ্ছু নেই।। একটি খড়খুটোও নেই...।। আনন্দের মাঝে হঠাৎ তোমার চুপ হয়ে বসে যাওয়ার দৃশ্যটা সবাই দেখবে কিন্তু কাছে এসে বিনয়ের সাথে সবাই জিজ্ঞাসা করবে না। কেউ জিজ্ঞাস করবে না- "কি হয়েছে..?" মন খারাপের সময় এই টাইপের প্রশ্নবোধক বাক্য সবার ভাগ্যে জুঁটে না। এই প্রশ্নবোধক বাক্যটি শুনতে ভাগ্য লাগে, কপাল লাগে। যে প্রশ্নটি করে তাকে হারিয়ে যেতে দিয়ো না। তাকে তোমার লাগবে, তোমার মন একমাত্র সেই ভালো করতে পাড়বে। তার প্রয়োজনে নয়, তোমার প্রয়োজনেই তাকে তুমি ধরে রাখো...তাকে হাড়ালে অনেক বড় কিছুই হাড়াবে...।। 

মানুষ নিজের আনন্দের গল্পটা শেয়ার করে যতটা না তৃপ্তি পায়, তার চেয়েও কষ্টের গল্পটা শেয়ার করে বেশি তৃপ্তি পায়। কারণ, দুঃখের গল্পটা কেউ শুনতে চায় না। মানুষ দুঃখ শেয়ার করার সঙ্গী পায় না। দুঃখ শেয়ার করার জন্য খুব কাছের মানুষের দরকার হয়, খুব আপন মানুষের দরকার হয়। এমন একজন যে চুপটি করে বসে মনোযোগ দিয়ে তোমার দুঃখের কথা গুলো শুনবে, তোমার কান্না ভেজা চোখ দু'টো দেখে নিজের চোখ দুটোও অশ্রু সিক্ত করবে। তোমার দুঃখের সঙ্গী হবে...।। 

তোমার জীবনের আনন্দের গল্পগুলো হয়তো অনেকেই জানে, কিন্তু কতজন মানুষ তোমার কষ্টের গল্পটা জানে, তোমার মন খারাপের গল্প টা জানে..?? খোঁজ নিয়ে দেখো যে তোমার কষ্টের গল্পটা জানে সেই তোমার প্রকৃত বন্ধু, প্রকৃত আপনজন, প্রকৃত কাছের মানুষ !!" কেউ তোমার পাশে না থাকলেও হাত বাড়ালেই তাকে কাছে পাবে, কাউকে পাশে না পেলেও সে ঠিকই পাশে থাকবে ছায়ার মতো...।। 


বিশ্ববিখ্যাত লিংকিং পার্কের গায়ক চেস্টারের কিসের অভাব ছিলো যার কারণে সে আত্মহত্যা করেছে..?!!! জগদ্বিখ্যাত আমেরিকার বিখ্যাত লেখক জিন স্টেইনের কিসের এতো অভাব ছিলো যার কারণে তাকে পনের তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করতে হয়েছিলো..?!!! দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত লেখক ক্যারেল শুম্যানের যার ডজন খানিক উপন্যাস জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলো তার বা কিসের অভাব ছিলো যার কারণে আত্মহত্যা করতে হবে..!!!

আমরা যেখানে সামান্য একটু প্রাপ্তিতে যুগ যুগ বেঁচে থাকতে চাই সেখানে অসামান্য ব্যক্তিরা কেনো যুগে যুগে আত্মহত্যা করে নিজেকে শেষে করে দিয়েছেন বা দিচ্ছেন..! কারণ, নিজেদের নিজে আমরা বুঝতে পারি না। জীবনে আমি কি কি পেয়েছি সেটার হিসেব করি না কখনো। কি কি পাইনি সেগুলোর হিসেব নিয়ে প্রতিটা সেকেন্ড মস্তিষ্ক আমাদের জ্বালাতে থাকে, কুটকুট করে কামরায়। হতাশার রুগী বানিয়ে ছেড়ে দেয় আমাদের, দিনের পর দিন Depression-এ ভুগায় চরম ভাবে, খুব বেশি বিষন্নতায় ভোগায়। মনের অশান্তিতে ভুগা মানুষের সংখ্যা বড্ড বেশি। 

মানুষ কেন বিষন্নতায় ভোগে..?? এর কোনো সহজ উত্তর নেই। নানা কারণেই বিষন্নতায় গ্রাস করে মনকে। মানসিক চাপ থেকে বিষন্নতায় ভোগে মানুষ, হয়ে পড়ে অবসাদগ্রস্থ, দ্বিধাগ্রস্থ। "পরিবার বিচ্ছিন্নতা, প্রিয় মানুষকে হারানোর বেদনা, প্রিয় মানুষের থেকে পাওয়া অবহেলা, খুব কাছের মানুষ হঠাৎ অচেনা হয়ে যাওয়া, হঠাৎ বদলে যাওয়া মানুষকে বিষন্নতার দিকে নিয়ে যায়।" Caring, Sharing-করার মতো মানুষের সংখ্যা কমেছে, কমেছে ভাললাগা - খারাপ লাগা মন খুলে বলার মতো মানুষের। নিজের মনোকষ্টের কথা, খারাপ লাগা গুলো অপরজনের কাছে খুলে বলা  মানুষের সংখ্যা এখন নেই। যে বিষয়টি  কেউ একজন মনোযোগ দিয়ে শুনবে, বুঝবে, অন্যদের কাছে গোপন রাখবে এবং শক্ত করে হাতটি ধরে রাখবে, সাহস জুগাবে। এই বদলে যাওয়া আচরণ বিষন্নতাকে বাড়িয়ে দেয় দিনকে দিন। মন ভালো রাখার জন্য মনের কথা শেয়ার করা খুব বেশি প্রয়োজন, খুব বেশি প্রয়োজন একজন আস্থা রাখার মতো মানুষের। 

জীবন যন্ত্রণা থেকে মানুষ আক্রান্ত হয় বিষন্নতায়। তার আবেগে ধস নামলে জীবনকে শূন্য মনে হয়, আশাহীনতা গ্রাস করে, মন শূন্যতায় ভরে যায়। এই অবস্থা যদি কোনো ব্যক্তির কিছু দিন চলতে থাকে তবে সে বিষন্নতায় আক্রান্ত হয়ে যায়। এই অবস্থা আরো ভয়াবহ হলে সেই ব্যক্তি আত্মহত্যার কথা ভাবতে থাকে। মানসিক রোগের মাত্রা, মানসিক চাপ আরো বেশি বেড়ে গেলে মানুষ আত্মহত্যা করেন।

বিষন্নতায় আক্রান্ত ব্যক্তি শুধুমাত্র আবেগ সংশ্লিষ্ট মানসিক অশান্তিতেই ভোগে না। বরং নানা উদ্ভট চিন্তা-ভাবনা, শারীরিক, মানসিক এবং চলাফেরাতেও তা প্রকাশ পায়। একজন বিষন্নতায় আক্রান্ত মানুষ নানা উপসর্গে ভোগে। বিষাদময় অনুভূতি, হতাশা, সবকিছু অর্থহীন-মূল্যহীন ভাবা, মনের আনন্দ হারিয়ে ফেলা, ক্ষুধামন্দা, ওজন কমে যাওয়া, নিদ্রাহীনতা, চলার গতি ধীর হয়ে যাওয়া, অনেকটা অস্থিরতা। শেষে সে  মৃত্যুচিন্তা বা আত্মহত্যার কথা ভাবতে থাকে।

জীবনের কোন না কোন সময়, কোন না কোন ভাবে আমরা কারো মায়ায় পরি। খুব গভীর ভাবেই পরি। আসতে আসতে এই মায়াটা মনের অনেক বড় একটা জায়গা দখল করে নেয়। দখল করতে করতে মনের সবটুকু জায়গাই তার মায়ার দখলে চলে যায়। এই সময়টায় এসে বুঝতে পারবেন আপনি আর আপনার মাঝে নেই। আপনি আছেন কিন্তু আপনার অস্তিত্ব আপনার মাঝে নেই। আপনার অস্তিত্ব বিলুপ্ত পেয়ে তার অস্তিত্ব আপনার মাঝে দখল করেছে। এই অস্তিত্বটা একটা সময় অনেক বড় ধাক্কা দিবে আপনাকে যদি তার অস্তিত্বে আপনি না থাকেন।

একটা সময় বুঝতে পারবেন খুব নিখুঁত ভাবে একটু একটু করে সে দূরে সরে যাচ্ছে, আপনাকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। খুব ভালভাবেই বুঝতে পারবেন অনেক বড় কিছু একটা হারাচ্ছেন, মনে অনেক বড় শূন্যতা সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। আপনার অস্তিত্ব যে তার মাঝে কখনোই ছিল না তা এই সময়টায় এসে খুব ভালভাবেই বুঝতে পারবেন। সেই আপনাকে বুঝিয়ে দিবে খুব যত্ন করে, খুব নিখুঁত ভাবে প্রতিটা কথায়, ব্যবহারে। আপনি শুধু অবাগ হয়ে দেখবেন, আর নিঃচুপ হয়ে তাকিয়ে থাকবেন। 

অনেক কিছুই বদলে যাবে, অনেক কিছুর সাথেই অনেক কিছু আর মিল খুঁজে পাবেন না। মিল খুঁজে পাবেন না প্রতিটি কথায়, প্রতিটি ব্যবহারে। এই সব কিছুই আপনার কাছে একটা ঘোরের মত লাগবে। ভাববেন হয়তো একটু পরেই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু আপনার এই ভাবনা টিকে সে মিথ্যা প্রমাণ করে দিবে। বুঝতে পারবেন দিন দিন আরও বেশি বদলে যাচ্ছে সে, সব কিছু আরও বেশি কঠিন হয়ে যাচ্ছে।কঠিন হয়ে যাচ্ছে সব কিছু মেনে নেওয়া, কঠিন হয়ে যাচ্ছে আপনার সহ্যের ক্ষমতা, কঠিন হয়ে যাচ্ছে আপনার পথ চলা। তার প্রচন্ড রকমের খারাপ ব্যবহার খুব ঠাণ্ডা মাথায় সহ্য করেও হাসি মুখেই কথা বলচ্ছেন, তাকে বুঝতেই দিচ্ছেন না কতোটা খারাপ লাগা আপনার মাঝে কাজ করচ্ছে। সে হয়তো বুঝতেই পারবে না আপনার এই হাসিটা কষ্টকে লুকানোর জন্য, নিজের মন খারাপটা লুকানোর জন্য...।। খুব ভালভাবেই বুঝতে পারচ্ছেন এই সময়টায় এসে আপনাকে এমন কিছু সহ্য করতে হবে বা হচ্ছে যার জন্য আপনি মোটেই প্রস্তু ছিলেন না। 

যখন দেখবেন আগে যেমন ছিল এখন আর তেমন নেই; সব দিক থেকে বদলে গিয়েছে, বদলে গিয়েছে সব ভাবে, আপনার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গিয়েছে তার মন থেকে। তখন ধরে নিতে পারেন আপনার জায়গাটা অন্য কেউ এসে দখল করে নিয়েছে। তার অস্তিত্বে এখন ঐ অন্য কেউ একজনের বসবাস। আপনি আর এখন তার মাঝে নেই, তার অস্তিত্বে নেই...।।  আপনি ছিটকে পরেছেন তার মায়ার জাল থেকে, তার মন থেকে...।।

এই সময়টিতে এসে আপনি স্তব্ধ হয়ে যাবেন, বাক শক্তি হারিয়ে ফেলবেন। হয়তো বলতে অনেক কিছুই ইচ্ছে করবে কিন্তু আপনি কিছুই বলতে পারবেন না, বলার অধিকার থাকবে না, বলতে গিয়েও থমকে যাবেন...।। শুধু মিলানোর চেষ্টা করবেন আগের সেই কথা গুলোর সাথে, মিলানোর চেষ্টা করবেন আগের সেই মানুষটির সাথে এখনকার এই মানুষটির। কিন্তু কিছুই মিল খুঁজে পাবেন না। আপনি না সামনে এগুতে পারবেন, না পিছাতে পারবেন, না তার অস্তিত্ব আপনার মন থেকে মুছে ফেলতে পারবেন। এই অবস্থায় আপনি উপলব্ধি করবেন আপনার দেহ আছে কিন্তু আপনার সাথে মন নেই, আপনি আছেন কিন্তু আপনার অস্তিত্ব আপনার মাঝে নেই।আপনি হয়তো এখনো বুঝতে পারছেন না আপনার জন্য সামনের পথটুকু চলা কতোটা কষ্টদায়ক , কতোটা শূন্যতায় ঘেরা, কতোটা কঠিন সময় আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

মায়া জিনিসটা খারাপ, খুব বেশি খারাপ। একবার মায়ায় পড়ে গেলে বাড়তেই থাকে। বাড়তে বাড়তে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে যাবে যেখান থেকে আপনি আর ফিরে আসতে পারবেন না, কখনো সম্ভবও হয় না ফিরে আসা।

সব ভুলে থাকা গেলেও আপনি এই মানুষটাকে ভুলতে পারবেন না, এই মায়া দিন দিন বাড়তেই থাকবে। মনে রয়েই যাবে; হয়তো অপ্রকাশিত থেকে যাবে। কিন্তু রয়ে যাবে মনে, মনের সমস্ত জায়গা জুড়ে। তখন জীবনের মৃত্যু না হলেও; মনের মৃত্যু ঠিকই হবে, নিজের অস্তিত্বের মৃত্যু হয়ে যাবে। হারিয়ে যাবে জীবন থেকে নিজের অস্তিত্ব। বেঁচে থাকবেন কিন্তু নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে...।। 

ছোট থেকে বড় হওয়া, পথ চলা, একা একা কখনোই সম্ভব হয় না।  জন্মের পর থেকেই বাবা – মা ছায়ার মতো আমাদের আগলে রাখেন। বড় হতে হতে এই ছায়া থেকে আমরা একটু একটু করে বের হয়ে আসি। আসতে আসতে আমাদের স্কুল জীবন শুরু হয়, পরিচিত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে, সহপাঠীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এই পররিচিত সব মানুষের মাঝে সব পরিচিতকে আমরা সমান ভাবে দেখি না, সব সহপাঠীর সাথে আমরা সমান ভাবে মিশি না। একজন সহপাঠী থাকে যে হয় আমাদের খেলার সাথি, একা পথ চলার সঙ্গী, আমাদের সব কাজের সঙ্গী, যার সাথে আমরা ক্লাসে এক সাথে বসি, যার সাথে আমরা থাকতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করি। এই একজন সহপাঠীই আমাদের মনে জায়গা করে নেয়। এই পর্যন্ত এসেও আমরা বুঝি না বন্ধু কি, বন্ধুত্ব কি…!!

সময়ের পরিবর্তনে আসে, আমরাও বুঝতে শিখি বন্ধু কি, বন্ধুত্ব কি…।। সকলের চেয়ে ভিন্ন সেই সহপাঠীই আমাদের বন্ধুত্বের সর্বোচ্চ স্থান দখল করে নেয়। এটাই Best Friend। একটু লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবেন এই মানুষটির সাথে কথা না বললে, কথা শেয়ার না করলে আপনার ভাললাগে না। অন্য কারো জন্য এমন হয় না, হওয়ার কথাও না…।। একমাত্র Best Friend- ই আপনার সব কিছু জানে, সব কিছু জানার Right- রাখে…।।

চলার পথে Best Friend- অনেক বড় ভুমিকা রাখে, অনেক বড় Support- দেয়। একটি মজার বিষয় হলো Best Friend- এর কাছে আপনার কোন ভুল নেই, সব সঠিক। সবার সামনে আপনাকেই Support- দিবে, আপনার পক্ষেই কথা বলবে, কিন্তু দিন শেষে আপনার ভুলটা ঠিকি আপনাকে বুঝিয়ে দিবে, ঠিকি সঠিক পথ দেখাবে। যত যাই হোক Best Friend-কখনোই আপনার হাত ছাড়বে না...।।

প্রতিটি সম্পর্কের মাঝে Jealous – থাকাটা খুব বেশি জরুরী। Jealous-হলো যে কোন সম্পর্কের ভালোবাসা প্রকাশের একটি মাধ্যম। যে সম্পর্কে Jealous-নেই সেটা কোন ভালো সম্পর্ক বা গভীর কোন সম্পর্ক নয়। আপনার Best Friend- অন্য কোন Friend- এর সাথে আড্ডা দিচ্ছে, ঘুড়তেছে, সেগুলো দেখে আপনার রাগ হবে, Jealous- হবে। হওয়াটাই স্বাভাবিক, Jealous না হওয়াটা অস্বাভাবিক। যদি এমন হয় আপনার মনে কোন Jealous বা কিছুই হচ্ছে না তবে ধরে নিবেন Best Friend- নয়, তাকে আপনি শুধু Friend- ভাবেন। Best Friend- আর শুধু Friend এক নয়, কখনোই এক নয়। আকাশ - পাতাল ব্যবধান। সবাইকে আপনি Best Friend- ভাবতে পারবেন না, Friend- ভাবতে পারবেন। আর যদি এমন হয় সবার সাথেই আপনি একই ভাবে কথা বলেন, একই ভাবে মিশেন তাহলে ধরে নিবেন আপনি ব্যক্তিত্বহীন।  হুমায়ূন আহমেদ স্যার একটি কথা বলেছেন-“যে সবার সাথে তাল মিলিয়ে চলে সে বেক্তিত্বহীন। সে নিজের প্রয়োজনে সবার সাথে মিশে”। কেউ একজন Special- থাকবেই। কেউ একজন থাকবেই যে সবার চেয়ে ভিন্ন, সবার থেকে আলাদা। যাকে আপনি সবার থেকে আলাদা করতে পারেন, যার সাথে আপনি সবার থেকে আপন হয়ে মিশেন, যাকে আপনি কখনোই কারো সাথে Compare- করেন না...।। 

সবাইকে আপনি সমান গুরত্ব দিবেন না। সবার আগে স্থান থাকে Best Friend- এর, তারপর অন্য Friend-দের। ধরুন, একই সাথে দু'জন আপনাকে কল করে দেখা করতে বললো। একজন Best Friend, আরেক জন শুধু Friend। আপনি কার কাছে আগে যাবেন…?? নিচ্ছই এটা ভাবতে আপনার সময় লাগবে না; যে আপনি আগে Best Friend- এর কাছেই যাবেন। কারণ- তার স্থান , তার Importance ,Priority-  সবার উপরে…।। তার গুরত্বটা আপনাকে বুঝতে হবে, Best Friend-  কি তা বুঝতে হবে, বুঝতে হবে সবার জায়গা এক নয়, সবার গুরত্ব এক নয়…।।

Best Friend, Good Friend, Only Friend- কখনোই এক নয়। আপনাকে বুঝতে হবে এই তিনটার Meaning, এই তিনটির অর্থ। Best is Always Best…
A friend can leave any time when they need but A Best Friend  never leave until last Breath of life. If you call Best friend he/she will leave whatever they are in the middle of the work and come to in-font you but A Friend call you back within 10 minutes or more then if you ring them up while they are busy. Now, try to find out the Difference...

আচ্ছা যদি এমন হয় আপনি যেই মানুষটাকে Best Friend- ভাবেন সে আপনাকে Best Friend-না ভেবে থাকে…?? এই সময়টায় আপনার অনুভূতি কেমন হবে…?? একটু একটু করে গড়ে তোলা বন্ধুত্ব, মনের মধ্যে কতো কিছু আঁকা, কতো আশা-ভরশা, আস্থা...!!! এই সময়টায় আপনি সব চেয়ে বড় ধাক্কা খাবেন, এই কষ্টটা সহ্যের মতো হবে না। বিপরীত পাশের মানুষটাকে বলচ্ছি- যদি তাকে নিয়ে কোন সংশয় থাকে, কিছু বলার থাকে তবে নিঃসঙ্কোচে তাকে বলে দিন। তাকে নিয়ে আপনার চিন্তা-ভাবনা তাকে জানিয়ে দিন, মনে গোপন রাখবেন না। দোয়া করি এরকম যেন কখনোই কারো সাথে না হয়। যে যাকে Best Friend- ভাবে তার বিপরীত পাশের মানুষটিও যেন তাকেই Best Friend- ভাবে…।। তবু কেন যেন মনে সংশয় থেকেই যায়, ভয়টা রয়েই যায়...।। 

প্রতিটা সম্পর্কেই একে অপরকে বুঝতে পারা সব চেয়ে বড় ব্যাপার। আপনার প্রতি তার যেমন Expectation- আছে, তার প্রতিও আপনার Expectation- থাকবে। তার Expectation- বোঝার চেষ্টা করুন। বন্ধুত্বের যত্ন  নিন, বেঁচে থাকুক মনের বন্ধু গুলো, বেঁচে থাকুক বন্ধুত্ব…।।
"মনে রাখবেন একজন Best Friend- পাওয়া জীবনের সব চেয়ে বড় পাওয়া...।।"


কেউ যদি ভালোবাসে, তবে তোমাকেই ভালোবাসবে। তোমার রোদে পোড়া তামাটে ত্বক, না ঘুমিয়ে চোখের নিচে কালো দাগ, কেটে যাওয়া হাতের দাগ, এলোমেলো চুল, এমনকি তোমার ঘামে ভেজা জামার গন্ধটাকেও সে ভালোবাসবে। ভালোবাসবে তোমার ননস্টপ ভাঙ্গা রেডিও এর মতো রেকর্ডারের বকবকানি, কিংবা হঠাৎ করে খুব আবেগ প্রবণ অথবা প্রচণ্ড রেগে যাওয়ার বদ-অভ্যাস টাকেও...!!! ভালবাসবে তোমার নির্মল হাসি বা কর্কষ চোখে তাকানোর ভঙ্গী। 

যে তোমাকে ভালোবাসবে তার জন্য তোমাকে সানস্ক্রিন লোশন মেখে রোদে নামতে হবে না, চুল স্ট্রেইট করার জন্য যেতে হবে না পার্লারে, পড়তে হবে না নামকরা ব্রান্ড এর জামা-জুতো। শরীরে মাখতে হবে না "Clive Christian No. 1" এর মতো কোন দামি Perfume. ভালোবাসার জন্য Byke, PRADO, AUDI Car-এর প্রয়োজন নেই। 
যদি সে সত্যি ভালোবাসার হয় তাহলে তোমার যা কিছু, তুমি যা, তুমি যেমন, তোমার যা কিছু আছে তাতেই সে তোমাকে ভালবাসবে। বিলাসিতার দরকার পড়বে না, মনটাকেই ভালোবাসবে। 

কাকের রং কালো..... কেউ যদি বলে কাক সাদা হলেই সে তাকে পছন্দ করতো বা করবে ভালোবাসতো। তবে ধরে নিতে হবে তার কাক নয়; সাদা রং টাকে পছন্দ। তাকে সাথে রং এর অন্য কিছুর সন্ধান করা উচিত। কারণ, কাককেই যদি কেউ চায়, তবে সে কালোকেও চাইবে। Extra-কিছু Add-করার প্রয়োজন হবে না। 

কোন কিছু সংযোজন বা বিয়োজন করে নয়; কেউ যদি তোমাকে চায় তবে তোমার যা কিছু আছে তা নিয়েই এবং তুমি যেমন ঠিক তেমনটাই চাইবে।

কারো ভালোবাসা পাওয়ার জন্য যদি নিজেকে পরিবর্তন করতে হয়, তবে জেনে রেখো সে ভালোবাসা তোমার নয়। বদলে যাওয়া সেই অন্য কারোর। ভালোবাসা বলতে নিজেকে বদলানো নয়, মনের সাথে মনের আদান - প্রদান বোঝায়...।। 

আমরা যেটাকে Expectation বলি, আশা করা বলি, প্রত্যাশা বলি, অবহেলা বলি...এটা আসলে অবহেলা নয়। এটা আমাদের অতিরিক্ত চাহিদা। একজন মানুষের প্রতি Expectation-একদিনে মনে বাসা বাঁধে না। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস বিন্দু বিন্দু করে গড়ে উঠে। মনের অজান্তেই সেই গুলো আমাদের মনে বাসা বাঁধে। যেই চাহিদা গুলো মিটানো আমাদের প্রিয় মানুষ গুলোর পক্ষে কঠিন হয়ে উঠে বা তাঁরা বুঝতে পারে না...অতঃপর সেই মানুষটি বিরক্ত হয়।

আমরা শুধু নিজেদের ইচ্ছে গুলোকেই প্রাধান্য দেই। যার ফলে অপর প্রান্তের মানুষটা কি চায় সেটা বুঝতে পারিনা। আমরা নিজেদের মনটার সাথে তুলনা করে তাদের মনের বিচার করে ফেলি।
যেটা আমাদের কাছে একটু চাওয়া মাত্র, সেটা তাদের কাছে অতিরিক্তও মনে হতে পারে। সবার মন এক রকম নয়। এমনো হতে পারে আপনি তাকে আপনের চেয়ে আপন ভেবে তার প্রতি Expectation-করলেন, কিছু আবদার করলেন কিন্তু সে সেই আবদার, সেই Expectation-না বুঝে বিরক্ত হলো। আপনি কষ্ট পেলেন। আপনি তাকে অনেক আপন ভেবেছেন যার ফলে তার প্রতি Expectation-চলে এসেছে, সেও যে আপনাকেই আপন ভেবেছে এমন তোঁ নয়। এমনো তোঁ হতে পারে সে আপনাকে আপন-ই ভাবেনি। আপনি তাকে বুঝতে হয়তো ভুল করেছিলেন। সে হয়তো আপানকে আর দশ জন মানুষের মতই দেখেছে, আর সবার মতোই ভেবেছে। আপনি তাকে আপনার জীবনের একজন Exceptional Person-ভেবেছেন, Special-একজন ভেবেছেন। যার উপর আপনার ভালোলাগা-খারাপ লাগা নির্ভর করে, যার উপর আপনার Mind-নির্ভর করে আর সে আপনাকে As usual-একজন মানুষ ভেবেছে। তার মনের সাথে আপনার মনের পার্থক্যটা এখানেই। তার কাছে হয়তো মনে হবে এটা Over Expectation; কিন্তু আপনার কাছে এটা মোটেই Over Expectation- নয়। Expectation- তার কাছেই আমরা করি যার কাছে আমরা একটু আশ্রয় চাই, যাকে আমরা অনেক বেশি আপন ভাবি, যে হয়তো আপনার অনুভূতিটা বুঝবে এই প্রত্যাশাই আপনার নিজের কাছে থাকে। বাহিরের মানুষের কাছে আমরা কখনোই কোন Expectation-করি না। কারো কাছে Expectation- করার আগে এটা ভাবা খুব বেশি জরুরী যে সেই মানুষটাও কি আপনাকে আপন ভাবে...?? নাকি আর দশজন মানুষের মতোই। যদি আপনার সব Expectation, সব প্রত্যাশা, আশার মূল্য সে দেয়, সব কিছুর উপরে আপনার Importance-থাকে তাহলে বুঝে নিবেন সেও আপনাকে আপন একজনই ভাবে, কাছের একজনই ভাবে। যখন বুঝতে পারবেন সে আপনাকে আপন একজন নয়, আর দশজন মানুষের মতোই ভাবে তখন আর কষ্টের সীমা থাকবে না আপনার। আর এজন্যই দিনের পর দিন আপনি কষ্ট পাচ্ছেন, মুখ বুঝে কষ্ট সয়ে যাচ্ছেন। 

একটু বুঝুন, একটু মানিয়ে নিন, একটু ভেবে দেখুন। আপনি ভাবছেন সে আপনাকে অবহেলা করে। যদি তার দিক থেকে ভেবে দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন আপনাকে কেউ অবহেলা করছে না। আপনাকে ঘিরে ঐ মানুষটার মনে কোন আগ্রহ নেই, নেই কোন চাহিদা তাহলে আপনাকে সে Importance-দিবেই বা কেন। তার মনের কোন জায়গাতেই তো আপনি নেই। তার দিক থেকে ভাবলে সে আপনাকে অবহেলা করছে না, আপনার দিক থেকে ভাবলে আপনি অবহেলিত হচ্ছেন। 

মানুষ যখন কাউকে আপন ভাবতে শুরু করে; তখন সেই মানুষটার কাছে তার চাহিদা, প্রত্যাশা গুলোও বাড়তে থাকে। আর সেই অপূর্ণ চাহিদা গুলোই আমাদেরকে অবহেলার অনুভূতিতে ভোগায়, কষ্টের সাগরে ডুবায়, সুখটাকে কেরে নেয়।

MARI themes

Powered by Blogger.