আচ্ছা একটা মানুষের সবচেয়ে নোংরা অভ্যাস কি..? আমার মতে ইগো, জেদ।কোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইগো ঋণাত্মক প্রভাবক হিসাবে কাজ করে, কখনোই ভালো কিছু নিয়ে আসবে না । যতবেশি ইগো থাকবে ততবেশি সম্পর্ক খারাপ হবে এতা প্রমাণিত।

ধরুন, আপনারা দু'জন দু'জনকে ভালোবাসেন। কিন্তু কোনো কারণে একে অপেরের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন কেউ কাউকে স্যরি বলতে রাজি না।
এখন দু'জনেরই প্রশ্ন হলো:-
আমি কেন আগে কথা বলবো !? আমাকেই কেন প্রতিবার স্যরি বলতে হবে, সম্পর্কটাকে এগিয়ে নিতে হবে...? অর্থাৎ, আপনাদের মাঝে তৃতীয় জন হিসাবে ইগো, জেদ প্রবেশ করলো। সম্পর্কের চেয়ে ইগো অনেক বেসি দামি হয়ে গেলো। আপনি সম্পর্ক টাকে যতোটা না ভালোবাসেন তার চেয়ে বেশি ভালোবাসেন আপনার জেদ আর ইগো কে।

আচ্ছা আসলেই কি ইগো দামি, কতোটা দামি...?
তাহলে আপনার ফেসবুকের সার্চলিষ্টের প্রথমে প্রিয় মানুষটার আইডি কেন...? কেন বার বার চেক করা হয় ঐ আইডিটা...? কেনই বা রাত নামলে আপনাদের আত্মার তীব্র আর্তনাদ শুনা যায়...? কেনই বা বারবার চেক করেন সে কোন পোস্ট করেছে কিনা...? এসকল প্রশ্নের কোনো উত্তর আছে আপনার কাছে...? থাকবে বা কি করে আপনারা তো দুই'জন দুইজনকে সবসময় নিজেকে সুখী ও ব্যস্তময় আছেন দেখানোর নোংরা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, ভালো আছেন এটা দেখাতে ব্যস্ত। দু'জনেই এমন ভাব দেখাচ্ছেন যেন দু'জনেই অনেক ভাল আছেন। আসলে কতোটা ভালো আছেন তা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে চোখ কে জিজ্ঞাস করুন।ইগো দেখিয়ে কথা না বলাটা কোনো স্মার্টনেস না। ইগোপ্রবণ মানুষরা অনেক সময় সেল্প রেসপেক্ট ব্যাপারটিকেও ইগোর সাথে মিলিয়ে ফেলে। 

একটা সম্পর্ক তৈরি করা কিন্তু খুব একটা কঠিন না। কঠিন কিন্তু এতো টাও না যতটা কঠিন ঐ সম্পর্কটাকে অটুট রাখা, টিকিয়ে দুইজন সুখে থাকা। ঝগড়া করে কথা বন্ধ রেখে আসলে কি হয় ! দূরত্ব বেড়ে যায় নিজেদের মাঝে, একটা সময় সেই দূরত্ব পাহাড় সমান হয়ে দু'টি পথ দু'দিকে চলে যায়। টিকিয়ে রাখার যদি ইচ্ছেই থাকে, যদি সত্যি তার জন্য ভালোবাসা থেকেই থাকে ,একজন না একজন ঠিকই দুইদিন পরে গিয়ে সরি বলে। ইগো ভেঙ্গে সরি যেহেতু বলবেনই, তাহলে ২ দিন কথা বন্ধ রাখার কিছু আছে ? ভাবুন তো একবার...

ইগো দেখিয়ে যে মানুষটার সাথে দূরে সরে আছেন সেই মানুষটার ভালো দিক যেমন আপনাকে আনন্দ দিয়েছে, খারাপ দিক আপনাকে কষ্ট দিবে - এটাই স্বাভাবিক। আপনি ভালো দিক, ভালো ব্যবহার মেনে নিবেন কিন্তু খারাপ কিছুই মানতে পারবে না তা তো হয় না। হাতের পাঁচ আঙ্গুল কখনোই সমান হয় না, তেমনি একটা মানুষের বর্তমান পরিস্থিতি, মনের অবস্থা এক হয়না। যে মানুষটার কথায়, ব্যবহারে আপনাকে কাঁদাচ্ছে, যার কথায় আজ চোখে জ্বল চলে আসছে, যার ব্যবহারে তাকে আজ ঘৃণার চোখে দেখছেন ভেবে দেখেন তার জন্য আপনি জীবনের অনেক কঠিন কঠিন সময়ে হেসেছেন, সে আপনাকে হাসিয়েছে, মানসিক ভাবে সাপোর্ট দিয়েছে। ভেবে দেখেন এই মানুষটা আর সেই মানুষটা একই মানুষ কিন্তু আপনি তার বর্তমান অবস্থা, মনের পরিস্থিতি না বুঝে তার থেকে দূরে সয়ে ঠিকি গিয়েছেন, আপনি ইগো টাকেই বড় করে দেখেছেন। কখনো হয়তো এটা বুঝতে চাননি এই মানুষটার হয়তো এখন সময় খারাপ যাচ্ছে, হয়তো সে অনেক বাজে পরিস্থিতিতে আছে। বুঝতে চাননি তার পাশে আপনার এখন থাকাটা বেশি প্রয়োজন, তাকে একটু মানুষিক ভাবে সাপোর্ট দেওয়া আপানার দরকার। এগুলো কিছুই না করে রাগের মাঝে তার কথা গুলো শুনে ঠিকই আপনি তার জীবন থেকে সরে গিয়েছেন। আপনার ভাষ্য মতে এটা কে কি ভালোবাসা বলে...?

আপনাকে বুঝতে হবে, রাগ-ঝগড়া-কথা কাটাকাটি ছাড়া কখনো কোনো সম্পর্ক হয় না। এটা সম্পর্কের একটা অংশ। কিন্তু, আপনি যাকে ভালোবাসেন বা আপনাকে যে ভালোবাসে তার সাথে সামান্য ঝগড়াতেই সম্পর্ক শেষ করে দেওয়ার সিধান্ত নিয়েছেন। তবে এটা ধরে নিন আপনি যাকে ভালোবাসেন তার চেয়ে আপনার ইগো, জেদ, আত্মসম্মান বোধ টাই বড়। সে আপনার জীবনে থাকুক বা না থাকুক তাতে আপনার কিছু আসে যায় না।

সবসময় নিজের দিক ভাবলেও চলে না। অনেক সময় অপর পাশের মানুষটির কথাও ভাবতে হয়। আপনি যে মানুষটার সাথে জড়িয়ে আছেন সে মানুষটার উপর আপনার যেমন অধিকার আছে তার যেকোন বিষয়ে কথা বলার, ঠিক তেমনি আপনার বিষয়েও কথা বলার অধিকার সে রাখে। যদি আপনি ভেবেই থাকেন আপনার সব কিছুর সিধান্ত আপনি একা নিজে আর আপনার বাবা-মা নিবে তাহলে আপনার ভাবা উচিত আপনার সাথে আরেকটা মানুষ জড়িত। তার কথাও আপনাকে ভাবতে হবে, আপনাকে ভাবতে হবে তারও কোন সিন্ধান্ত দেওয়ার থাকতে পারে আপনাকে নিয়ে। সে চাইতেই পারে আপনার সবচেয়ে কাছের মানুষটি যেন সে হয়, আপনার কোন বিপদে সেই যেন সবার আগে উপস্থিত হতে পারে, সে চাইতেই পারে আপনাকে চোখের আড়াল না করতে। আপনি সর্বদাই চাইবেন জিততে, সর্বদাই চাইবেন আপনি সবসময় আপনার সিদ্ধান্তটাই উর্ধ্বে থাকতে। আপনাকে সে কিচ্ছুটি বলতে পারবে না, কিন্তু কেনো..? 

ভালোবাসার সম্পর্ক হোক বা অন্য কিছু ইগোকে কখনোই প্রশয় দিতে নেই। দেখবেন আপনার সাময়িক ইগো, জেদ এর জন্য তার জীবনের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। তখন তার কাছে ফিরে এসেও তাকে আগের মতো হয়তো পাবেন না।

কি হবে প্রিয় মানুষটার কাছে নিজের পার্সোনালিটি লস করলে ?  এর জন্য আপনার আত্মসম্মান কমবে না বরং বাড়বে। আমার তোমাকে ছাড়াও চলবে এই চিন্তা না করে বরং এই চিন্তাকে গলা টিপে হত্যা করে বাক্সবন্ধি করে পানিতে ভাসিয়ে দিন, যদি তার সাথেই থাকতে চান, তাকে মন থেকে আসলেই ভালোবেসে থাকেন। কোনো কিছুকে নেগেটিভভাবে না নিয়ে পজিটিভভাবে নিন। দেখবেন আপনার জীবন শান্তিতে ভরপুর, সাথে আপনার প্রিয় মানুষটিরও।

তোমাকে দেবার মতো আমার তেমন কিছু নেই-
যা কিছু আছে তা অতি নগন্য...!!
তবু চাইলেই দিতে পারি তোমায়-
দু'আঙুলে জড়ানো প্রেম, মুঠো ভর্তি স্বপ্ন-
আর সুপ্ত কিছু অনুভূতি।

তোমাকে দেয়ার মতো আমার বেশী কিছু নেই,
আছে তোমাকে নিয়ে আমার কিছু অসমাপ্ত কবিতা-
যার নাম দেওয়া হয়নি আজো-
নীল চিরকুটে তোমায় ভেবে লেখা আমার অব্যক্ত কথা,
কিছু দুপুর ভর্তি নিরবতা।

তোমাকে দেয়ার মত আমার তেমন কিছু নেই,
নেই তোমাকে নিয়ে Mercedes বা Audi- তে করে এখানে সেখানে ঘুড়ে বেরানোর মতো প্রাচুর্য,
আমি হয়তো তোমার জন্য এতটুকুই পারবো,
আমার কোলে মাথা রেখে দশ টাকার বাদাম আর নুনে তোমায় প্রতিটা সূর্য অস্ত দেখাতে,
চাদনি পসর রাতে পাশাপাশি হেঁটে লুটোপুটি জ্যোৎস্নায় ভিজতে।
সাথে দু'পাতা টিপ, এক লাঠি কাজল, কিছু চুল বন্ধনী
কয়েক ডজন নীল চুড়ি, একটা নীল শাড়ি আর
ছোট্ট একখানা কুঁড়োঘরে শুয়ে আমার বুকের পাটাতনে
বিছানা পেতে
তোমায় সুখেরী এক নির্ঘুম নগরীতে পৌঁছে দিতে।

তোমাকে দেয়ার মত আমার কিছু নেই,
বিলাসিতার চাদরে লুকানোর মতো অট্টালিকা।
আমি হয়তো পারবো-
কোন এক ঝুম বৃষ্টিতে এক গুচ্ছ কদম ফুল নিয়ে তোমার সামনে দাঁড়াতে,
নিজ হাতে তোমার পায়ে পায়েল পড়িয়ে দিতে-
তারপর কিছুটা সময় পাশাপাশি ভিজে বৃষ্টি বিলাস করতে।

দেখো, তোমাকে দেয়ার মতো আমার যে এর থেকে বেশী কিছু নেই,
যা কিছু আছে অতি নগন্য!
তবু চাইলেই আমাকে দিয়ে দেবো তোমায়।

ডিপ্রেশন নাকি মন খারাপ, এটা আমাদের অনেকের কাছেই একটা বড় ধাঁধা। অনেকসময়ই আমরা বুঝে উঠতে পারিনা আমাদের মনের আসল অসুখটা ঠিক কী? রেজাল্ট খারাপ বা খেলতে গিয়ে ম্যাচ হেরে যাওয়ার দুঃখ কিন্তু ডিপ্রেশন নয়। বহুদিন ধরে পারিপার্শিক অনেক কঠিন অবস্থার সঙ্গে ঝুলতে ঝুলতে, নিজেকে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি আমরা অনেকেই। আর এখান থেকেই শুরু হয় যাবতীয় সমস্যা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অতীতের অনেক না পাওয়া বা হেরে যাওয়া বা আশানুরূপ ভবিষ্যৎ সামনে ধরা দিবে কিনা এই চিন্তা গুলোই আমাদের ডিপ্রেশনের জন্য অনেকাংশে দায়ী। আর এই দৈনন্দিন সমস্যা গুলি আমাদের মাঝে একটু একটু করে জমতে থাকে, জমতে জমতে একটা সময় ঘোরের মধ্যে চলে যাই; যেখান থেকে আর কাটিয়ে উঠতে পারি না।

ডিপ্রেশন নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রতিটা মানুষ কোন না কোন এক জায়গায় অসম্পূর্ণ, যেখান থেকেই ডিপ্রেশন এর জন্ম।যার হয়তো টাকা নেই তার টাকার জন্য, যার টাকা আছে কিন্তু মনের সুখ নেই, তার মনের সুখের জন্য। যার বাবা - মা নেই তার বাবা মায়ের জন্য, আবার যার বিয়ের ১৫/২০ বছরেও সন্তান হয়নি তার সন্তানের জন্য। বেকার ছেলেটির চাকরির জন্য, কখনো বা নিজের প্রিয়তমার বিয়ে হয়ে যাবে নিজের যোগ্যতার কমতির জন্য। বিয়ে উপযুক্ত মেয়েটির ভালো একটা চাকরী কিংবা ভালো একজন স্বামীর জন্য। আবার একই ছাদের নিচে বছরের পর বছর বাস করে কেউ কাউকে না বোঝার জন্য, কখনো বা পরিবারের কাছে থেকেও মনে হওয়া হাজার মাইল দূরে।

ডিপ্রেশন কখনো এক প্রকারের হয় না, যার যেটা নেই তার সেটার জন্যই ডিপ্রেশন! প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড়ের তাল মেলাতে গিয়ে আমরা প্রত্যেকেই হাঁফিয়ে উঠি একটা সময়ের পর। আমাদের পারিপার্শিক সমাজ যত আধুনিক হচ্ছে, প্রতিযোগিতাও ততই বাড়চ্ছে এবং পাল্লা দিয়ে বাড়চ্ছে আমাদের মানসিক সমস্যা গুলিও, এবং বেড়েও যাচ্ছে। 

শুধুমাত্র ভালোবেসে হারিয়ে ফেললেই ডিপ্রেশন হয়না। কোন একটা ছেলে বা মেয়ে মানসিক যন্ত্রণার মাঝ দিয়ে যাচ্ছে, স্বাভাবিক ভাবেই আমরা ধরে নেই, ছেলেটি কিংবা মেয়েটি প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ডিপ্রেশনে আছে। এটা ঠিক প্রকারভেদে হয়তো এইটা বেশি হয়ে থাকে তার মানে এই নয় সবাইকে একই পাল্লায় মাপতে হবে! শুধুমাত্র প্রেমের জন্য নয় অনেক কারণেই মানুষ ডিপ্রেশনে ভুগে।

আমি নিজের কথা বলতে পারি,ব্যক্তি জীবনে আল্লাহ্‌ আমাকে সব দিয়েছেন, কোনকিছুর অভাব রাখেন নাই। ভালো জীবন বলতে যা যা কিছু লাগে সবকিছুই আমি পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আমার কোন কিছুর অভাব না থাকাটাও হয়তো একটা অসম্পূর্ণতা। শুনতে হাস্যকর মনে হলেও এটাই সত্যি। তবে কিছু একটার অভাব যে রয়েছে সেটা খুব করেই অনুভব করি, যে অভাবটা অপূরণীয়। অভাবটা ভালোবাসার নয়তো...!? হতে পারে...

আমার মাঝে অকারণ মন খারাপের অভ্যাস আছে।আমি মাঝে মাঝে অকারণেই একা হয়ে যাই! সবকিছু থেকে তখন একা আড়ালে থাকতে ভালো লাগে।যেকোন আয়োজন, হৈচৈ, বেশি মানুষের আনাগোনা বিরক্ত লাগে। কারণ, এই সময় টা আমি নিজের মত করেই কাটাতে ভালোবাসি, তার জন্য একা থাকাটা তখন জরুরী হয়ে পড়ে।খুব যারা আপন, যাদের ছাড়া আমার চলেই না শুধু তাদের সাথেই কথা বলি, তবুও খুব কম। আমি জানি আমাকে যারা ভালোবাসে, তারা জানে আমি কেমন। তারা কখনো প্রশ্ন তুলেনা আমি কেন এমন হয়ে যাই। কারণ, তারা জানে আমি সময়টাকে নিজেই রিকোভার করতে পারবো। আর আবার আগের মতই হয়ে যাবো।তারজন্য আমার একটু সময়ের প্রয়োজন। যাই বলি না কেন,  সত্যিকারের  হাবুডুবু  খাচ্ছি প্রতিমুহূর্তের আশঙ্কায়। নিজেকে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা আমাকে দিনে দিনে  আরো বেশি গ্রাস করে নিচ্ছে। ছোট্ট  ছোট্ট  তথ্য  অথবা প্রয়োজনীয়  কাজের  কথা ভুলে যাচ্ছি। আমি প্রয়োজনীয় কথা  বলা ও ভুলে যাচ্ছি। এটা কি ডিপ্রেশন ...!!! খুব কাছের মানুষ আমাকে দেখে ভাবে আমাকে কি যেন পাথর থেকে আরো পাথর  এর মতো নির্লিপ্ত করে তুলছে।  নিজেকে  অসুস্থ  মনে  হয়, কিন্তু ডাক্তার  পর্যন্ত দৌড়ানোর  আগ্রহ নেই।

শুধু একটাই ব্যাপার, এই সময়টা একজন প্রিয় মানুষের উপস্থিতি লাগে, যে সময়ে অসময়ে পাশে থাকবে। মানসিক সাপোর্ট দিবে, পরিস্থিতি বুঝতে চেষ্টা করবে।প্রতিটা মিনিট, ঘন্টা আমার কেয়ার নিতে ব্যস্ত থাকবে। সে কখনো আমায় ভুল বোঝবে না অহেতুক এই হঠাৎ মন খারাপের জন্য প্রশ্ন তুলবে না। মন খারাপের সময় বারবার মন খারাপের কারন জানতে চেয়ে আরও মন ভারী করে দিবে না। বরং আমার সময়টাকে রিকোভার করতে আপ্রাণ চেষ্টা করবে। বাস্তবতা ভিন্ন, বাস্তবতা কল্পনার মতো নয়। বাস্তবতা কঠিন, আমি কঠিনেরে ভালোবাসিলাম... 


চিঠি দিও, করুণা করে হলেও চিঠি দিও,
খামে ভরে তুলে দিও তোমার ভালোবাসার ছোঁয়ায় আঙ্গুলের মিহিন সেলাই
ভুল বানানেও লিখো প্রিয়, বেশি হলে কেটে ফেলো তবুও,
এটুকুই সামান্য দাবি, চিঠি দিও প্রিয়,
তোমার শাড়ির মতো-
অক্ষরের পাড়-বোনা একখানি চিঠি।

চুলের মতন কোনো চিহ্ন দিও বিস্ময় বোঝাতে যদি চাও...
বর্ণনা আলস্য লাগে তোমার চোখের মতো চিহ্ন কিছু দিও!
আজও তো অমন আমি চিঠি চাই, পথ চেয়ে আছি,
কোন এক পাখির ডানায় বেঁধে-
চিঠি দিও, বাড়ি পৌঁছে দেবে ....

এমন ব্যস্ততা যদি
একটি শব্দই শুধু লিখো, তোমার কুশল !
করুণা করে হলেও চিঠি দিও,
ভুলে গিয়ে ভুল করে একখানি চিঠি দিও খামে আমার ঠিকানায়-
কিছুই লেখার নেই তবু লিখো একটি পাখির নাম,
একটি ফুলের ছোট নাম,
টুকিটাকি হয়তো হারিয়ে গেছে
কিছু হয়তো পাওনি খুঁজে
সেইসব চুপচাপ কোন দুপুরবেলার গল্প
খুব মেঘ করে এলে কখনো কখনো বড় একা লাগে, তাই লিখো
করুণা করে হলেও চিঠি দিও, মিথ্যে করে হলেও বোলো, ভালোবাসি...!
মিথ্যে করে হলেও বোলো, ভালোবাসি...

বেঁচে থাকা আর বাঁচিয়ে রাখা দুটোর মধ্যে পার্থক্য বোঝ ? দু'টো কথা এক মনে হলেও একটু গভীর ভাবে ভাবলে এক নয়- একটা হল জীবন উপভোগ করা আর একটা হল জীবন উপভোগ করার আশায় বেঁচে থাকা। ওকে একটু বুঝিয়ে বলছি,
ধরো তোমার খুব ইচ্ছা কেউ তোমাকে তোমার মত ভালোবাসবে, তোমার মনের মতো কেউ আসবে জীবনে এবং সেই ইচ্ছায় বেঁচে আছো। এর মানে হলো আসলে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখছো।
আর ধরো, নিজেকে ভালোবেসে চমৎকার সময় কাটাচ্ছো, এর মানে হলো জীবন উপভোগ করছো। মানে বেঁচে আছো।
যারা নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে তাদের জীবন কাটে আসলে একদিন বাঁচবো সেই আশায়। এক সময় বার্দ্ধক্য গ্রাস করে, তখন আক্ষেপ লুকিয়ে ভাগ্য কে দোষারোপ করে স্বস্তি নেবার চেষ্টা করে কিন্তু জীবন আসলে এমন না। বাঁচিয়ে রাখাটা জীবন না। ওটা জীবনের ঘানি টানা মাত্র।

জীবন হল একটা ম্যাজিক। এর থেকে অসাধারণ ম্যাজিক আর কিছুই নেই। অর্ধেক গ্লাসটা ভরা কিংবা খালি দেখাটাই হল ম্যাজিক। যদি মনে হয় গ্লাসের অর্ধেকটা তো ভরা ওতেই আমার পিপাসা মিটবে তবে জীবন সুন্দর আর যদি মনে হয় বাকিটা কেন ভরা না একদিন হয়তো ভরবে তবে যে অর্ধেক ভরা তার তৃপ্তিও মিলবে না। কতো অল্পতে তুমি সন্তুষ্ট সেটা নিজেকে বুঝাতে পারাটাই ভালো থাকা।

মাঝে মাঝেই অনেক ঘটনা আমাদের চমকে দেয়, এই যেমন পা হারিয়েও পর্বত জয়ী কোন মানুষ কিংবা ধর্ষণের স্বীকার হয়েও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প অথবা সম্পূর্ণ শরীর অকেজ হয়েও মেধায় উত্তীর্ণ হওয়া কোন মানুষের গল্পগুলো দেখে মনে হয় আহা কি অসাধারণ এরা। কিন্তু সত্যিটা হল, এরা নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি, এরা বেঁচে থাকাটা বেঁছে নিয়েছে । বেঁচে থাকতে হবে এটাকেই বড় করে দেখেছে। 

তোমাকে কেন ভালোবাসে না এই প্রশ্ন নিজেকে করার আগে ভাবো তো তুমি নিজেকে ভালোবাসো ? পৃথিবীর সব চেয়ে সুন্দরী মেয়েটার হৃদয় বহুবার ভেঙেছে। আবার পৃথিবীর সব চেয়ে সুদর্শন ছেলেটা এখনো হৃদয় মিলিয়ে কাউকে পায়নি। তার হৃদয়ও অক্ষত নেই।কিন্তু তারা তো বেঁচে আছে । জীবন উপভোগ করছে, জীবনকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
তারা ভালোবাসলে বলে দেয় , জানে হৃদয় ভাঙতেই পারে কিন্তু পাবার চান্স নেয় আর মেনেও নেয় যে হৃদয় হয়তো ভাঙবে। কিন্তু ভালোবাসাটা ভালোবাসা দিয়েই বেঁধে রাখে বেঁচে থাকতে চায়। হয়তো অনেক সময় পারে, অনেক সময় পারে না। তবু সময়ের প্রয়োজনে নিজের জীবনকে উপভোগ করা, বেঁচে থাকে, বাঁচিয়ে রাখে ।

শুধু ভালোবাসার ক্ষেত্রে নয়, খুব অল্প সময়ের জীবনে ইচ্ছা গুলো নিজের পূরণ করতে হয়, রিক্স নিতেই হয়, আর ব্যর্থতাও যে স্বাভাবিক, এটা মানতেও হয়। মেনে নেওয়াটা সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট।

ছোট্ট একটা জীবন, গত কালকেই তো স্কুলে গিয়েছিলে ব্যাগ নিয়ে, আজকে বয়স কত বেড়েছে , হঠাৎ একদিন দেখবে চুল সব সাদা হয়ে গিয়েছে। যাকে নিয়ে বেঁচে থাকতে চাইতে বা যার জন্য নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে চাইতে ঐ মানুষটি হয়তো তোমার আগেই ওপারে চলে গিয়েছে। তবু কিন্তু তুমি নিজে বেঁচে আছো, নিজেকে মানিয়ে নিয়ে দিন আগাচ্ছো।
আমরা কেউ থাকবো না পৃথিবীতে, অথচ রোজ বেঁচে না থেকে বাঁচিয়ে রাখছো , কি অপচয় এই জীবনের।
আক্ষেপ করার চেয়ে রিক্স নিয়েই বাঁচো , আর বেঁচে থাকাটা শিখে ফেল ।

আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে,
শুধু আমায় একটু মানসিক শান্তি দিলেই হবে!
যখন আমি তুচ্ছ বিষয়ে খুব রাগ করি,
সান্তনার পাহাড়ে ঘর ভরাতে হবে না তোমাকে!
শুধু যেন অনায়াসে জড়িয়ে ধরতে পারি তোমাকে খুব কষে!

আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে,
শুধু আমায় একটু সময় উপহার দিলেই হবে!
অফিসে যখন কাজের চাপে আমার নাস্তানাবুদ অবস্থা,
ফোনের লক স্ক্রিনে তোমার কয়েকটা মিস কল!
তখন শুধু একটি টেক্সটই যথেষ্ট, " মিস করছি? "

আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে,
বলছি না কারণে-অকারণে আমায় মনে করার কথা!
আমার যখন খুব দুঃখে মন ভেঙে যায়,
বন্ধু বিচ্ছেদ কিংবা মনের ঘরে ভীষণ যুদ্ধ চলে,
তখন না হয় তোমার কাঁধটা ভিজুক আমার চোখের জলে!

আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে,
বলছি না রোজ আমার সাথে ঘুরতে যেতে হবে!
বিকেলবেলায় আমি যখন ছাদে, সূর্য অস্তাচলে, হাতটি ধরে হাটবো দুজনায়, 
ভেসে যাবো মধুর প্রেমালাপে,
তখন না হয় সাজিয়ো তোমর খোঁপা বাগান ভরা লাল গোলাপে!

আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে,
আমি যখন প্রবল জ্বরে, ঘুম আসেনা পোড়া চোখে, 
এলোমেলো হয়ে যায় সবকিছু মনের শূন্য ঘরে,
তখন না হয় চুপটি মেরে বসে থেকো মাথার পাশে !

আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে,
আমার সব আবদারের ঝুলি তোমাকেই পূরণ করতে হবে!
সমস্ত পৃথিবী যখন একদিকে, মিথ্যা দোষারোপ এ ব্যস্ত সবাই,
আমার খুশি হাসি আনন্দ চঞ্চলতা সব যখন পতনের মূলে!
তখন শুধু চাই, তোমার ভরসার বাহুডোরে যেন থাকি খুব সুখে...

যদি আমাকে না পেলেও তোমার দিব্যি দিন কাটে,
সকালের নাস্তা হয়, তারপর দুপুরের খাবার,
রাতের খাবার শেষে-
ঘুমে আচ্ছন্ন হয় তোমার চোখের শহর,
তবে বুঝে নিও প্রিয়-
আমার জন্য কিছুই থেমে নেই তোমার।

যদি সামান্য জ্বরে ড্রয়ার থেকে খুঁজে বের করো থার্মোমিটার,
কতোটা জ্বর হলো-
মেপে দেখে নিজেই খেয়ে নাও জ্বরের ঔষধ,
তবে জেনে নিও প্রিয়-
আমার যত্নহীনতায় কিছুই যায় আসে না তোমার।

যদি মেঘলা দিনে বিষণ্ণ না লাগে,
বুকের ভিতর হাঁসফাঁস না হয়,
নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃসঙ্গ মানুষটি মনে না হয়,
তবে বুঝে নিও প্রিয়-
এক সাথে অনেক স্মৃতি জমলেও,
আমার জন্য ভালোবাসা জমে নি তোমার।

ভালোবাসলে এলোমেলো হতে হয়-
ভালোবাসাহীনতায় তারচেয়েও বেশি অগোছালো হতে হয়।
আমাকে না পেলেও যদি দিব্যি দিন কেটে যায়,
রুটিং মেনে সমস্ত জীবন কাটে,
গোছালো একটা ঘড় হয়!
তাহলে বুঝে নিও প্রিয়-
আমাকে যতোটা ভালোবেসেছিলে;
তারচেয়েও ভালোবেসেছ নিজেকে।

শুধুমাত্র ঝগড়া, কথা কাটাকাটির সূত্র ধরে আমি বেশকিছু সম্পর্ক ভাঙতে দেখেছি। আমাদের সমস্যাটা হলো, আমরা যখন কারো সাথে নিজেকে জড়াই, তখন শুধু তার ভালো দিকটা ভেবেই জড়াই, কিন্তু তিতা সত্যি হল- সম্পর্কে জড়াতে হলে আমাদেরকে মানুষটার খারাপ দিকটার সাথেও জড়াতে হবে। কেননা, পৃথিবীতে কেউ শতভাগ পারফেক্ট হতে পারে না, আমরা কেউ এখানে পারফেক্ট না। আমি না, তুমি না, সে ও না..।। 

একজন মানুষ তোমাকে প্রতিনিয়ত সুখে রাখতে পারবেনা। কেননা, আমাদের জীবনটা কোনো সরল রেখায় চলেনা, এমনকি সরল রেখাও সরল না। এখানে নানাবিধ জটিলতা আছে। ইচ্ছাকে অনিচ্ছায় রূপ দেওয়া, অনিচ্ছাকে ইচ্ছায় রূপ দেওয়ার মত কঠিন কাজ এখানে খুব যত্ন সহকারে করতে হয়। সবসময় মন মেজাজ নিয়ন্ত্রণে থাকেনা। আমার থাকেনা, তোমার থাকেনা, তার ও থাকেনা। ব্যাপারটা তোমাকে বুঝতে হবে। একজন মানুষ কোন পরিস্থিতিতে আছে, সে কোন পরিস্থিতিতে কি আচরণ করছে সেটা বুঝতে হবে। বুঝতে না পারলে চুপ থাকতে হবে, মানুষটাকে বোঝানোর জন্য সময় দিতে হবে, মানুষটাকে বুঝতেও সময় দিতে হবে। তবে বুঝা অবুঝের মতো আচরণ করলে চলবে না।

মানুষটার ভালো দিক যেমন তোমাকে আনন্দ দেয়, খারাপ দিক তোমাকে কষ্ট দিবে - এটাই স্বাভাবিক। তুমি ভালো দিক, ভালো ব্যবহার মেনে নিবে কিন্তু খারাপ কিছুই মানতে পারবে না তা তো হয় না। যে মানুষটা তোমাকে আজ কাঁদাচ্ছে, যার কথায় আজ চোখে জ্বল চলে আসছে তার জন্য তুমি জীবনে কঠিন কঠিন সময়ে হেসেছো, তার হাসি মুখের দিখে তাকিয়ে নিজেকে সব চেয়ে সুখি একজন মানুষ ভেবেছো- এটা ভুললে চলবে না। তোমাকে বুঝতে হবে, রাগ-ঝগড়া-কথা কাটাকাটি ছাড়া কখনো কোনো সম্পর্ক হয় না। এটা সম্পর্কের একটা অংশ। যেই মা-বাবার সাথে আমাদের সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্ক, তাদের সাথেও সেই ছোটবেলা থেকে অনেকবার অনেক রাগারাগি, কথা কাটাকাটি হয়ে গেছে।জীবনে বহুবার চিন্তা করা হয়েছে, বাসা থেকে চলে যাই, বাবা-মার সাথে আর কথা বলবে না... পেরেছো কি..? কিন্তু, তুমি যাকে ভালোবাসো বা তোমাকে যে ভালোবাসে তার সাথে সামান্য ঝগড়াতেই সম্পর্ক শেষ করে দেওয়ার সিধান্ত নিয়েছো। তবে কি শুধু রক্তের সম্পর্ক-ই টিকে থাকে বাকি সব সম্পর্ক মিথ্যে...? 

বিশ্বাস করো, এই পৃথিবীতে যাকেই তুমি ভালোবাসবে, সে-ই তোমার সাথে ভুল আচরণ করবে। যার সাথে সম্পর্কে জড়াবে, সে-ই তোমাকে কোনো না কোনোভাবে কষ্ট দিবে। তুমি পৃথিবীর কোথাও, কারও কাছে নিরবচ্ছিন্ন সুখ পাবেনা।নিরবচ্ছিন্ন সুখও কিন্তু তোমাকে পূর্ণতা দিবে না। তোমাকে মানতে হবে, "ভুল ছাড়া মানুষ হয় না, কষ্ট ছাড়া ভালোবাসা হয় না"।

আর হ্যাঁ সবসময় নিজের দিক ভাবলেও চলে না। অনেক সময় অন্যদের কথা ভাবতে হয়।তুমি যে মানুষটার সাথে জড়িয়ে আছো সে মানুষটার উপর তোমার যেমন অধিকার আছে তার যেকোন বিষয়ে কথা বলার, ঠিক তেমনি তোমার বিষয়েও কথা বলার অধিকার সে রাখে। যদি তুমি ভেবেই থাকো তোমার সব কিছুর সিধান্ত তুমি একা নিজে আর তোমার বাবা-মা নিবে তাহলে তোমার ভাবা উচিত তোমর সাথে আরেকটা মানুষ জড়িত। তার কথাও তোমাকে ভাবতে হবে, তোমাকে ভাবতে হবে তারও কোন সিন্ধান্ত দেওয়ার থাকতে পারে তোমাকে নিয়ে। তুমি সর্বদাই চাইবে জিততে, সর্বদাই চাইবে তুমি সবার উর্ধ্বে থাকতে। তোমাকে কেউ কিচ্ছুটি বলতে পারবে না, কিন্তু কেনো..? ভেবে দেখো তো তুমি নিজে ১০০% ঠিক..? তুমি কি বাচ্চা..?  আর সর্বদা জিতবে জীবনের এমন এক সময়ে হারবে তখন আর কোনো পথ খোলা পাবে না..।

মানুষটাকে ভালোবাসার আগে ভেবে নেওয়া উচিত এই মানুষটির জন্য তুমি অপেক্ষা করতে পারবে কিনা। ভালোবাসার চেয়ে অপেক্ষা করা অনেক বেশি কঠিন। আমি বলবো ভালো কম বাসো তাতে ক্ষতি নেই, কিন্তু তাকে পাওয়ার জন্য যে অপেক্ষা করা দরকার সেই সাহস, শক্তি, ইচ্ছা, মনের জোড় যেন মনে থাকে সবসময়। তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন তার প্রতি তোমার সন্মান বোধ কতোটা, তার ভালো থাকা, তার গুরুত্ব তোমার জীবনে কতোটা। তাকে ভালো থাকতে দেখতে চাওয়া আর তাকে ভালো রাখা এক জিনিস নয়। তুমি হয়তো চাও সে ভালো থাকুক কিন্তু ভালো থাকার জন্য যা করা দরকার তুমি ঠিক বিপরীতটাই করো। তাহলে এই চাওয়ার কোন বাস্তবিক অর্থ নেই। 

নিজের জেদ, ভালোবাসা, তার প্রতি গুরুত্বহীন কখনই এক সাথে চলতে পারে না। কারোর সাথে রিলেশনে জড়ানোর আগে একবারের জন্য হলেও ভাবা উচিৎ। তার সম্পর্কে জানা উচিত, তার পছন্দ - অপছন্দ সম্পর্কে জানা উচিত। তার মনের সাথে নিজের মন মিলিয়ে নিতে পাড়বে কিনা, তার ইচ্ছা কাছে নিজের ইচ্ছার ত্যাগ স্বীকার করতে পাড়বে কিনা তা খুব ভালো করে মিলিয়ে নেওয়া উচিত। তাকে পাওয়ার জন্য কতোটা কষ্ট, কতোটা ত্যাগ স্বীকার করতে পাড়বে তা খুব ভালো করে নিজের মনের কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত। তার সাথে সারা জীবন সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে চলতে পারবে কিনা, একটা ঘড়ে উভয়ে মিলে একসাথে শান্তিতে এক প্লেট ভাত আহার করতে পারবে কিনা, এক ছাদের নিচে উভয়ে মিলে ভালোবাসার তাজমহল তৈরি করতে পারবে কিনা, হাতে হাত রেখে একসাথে জীবন পাড়ি দিতে পারবে কিনা এগুলো খুব ভালো করে নিজের মনের সাথে বুঝে নেওয়া উচিত। এগুলো নিজের মনের সাথে নিজেকেই বুঝে নিতে হবে, কেউ তোমাকে এগুলো বুঝিয়ে দিয়ে যাবে না।

আজ আমি ভালবাসার নয়, লিখবো বিষণ্ণতার গল্প। আমার জীবনের গল্প, আর এটা উৎসর্গ করবো আমার পরিচিত অপরিচিত বিষণ্ণতায় ভোগা মানুষদের।আমার বলতে দ্বিধা নেই আমি কয়েক বছর ধরেই বেশ হতাশ, নিরাশাবাদী, অনেক বেশি বিষণ্ণতা কাজ করে। জীবন কে বার বার গুছিয়ে নিতে যেয়েও অনেকটা ব্যর্থ। কিন্তু আমি তো আমার বিষণ্ণতা গুলো নিয়েই বেশ আছি।কেন আমি বিষণ্ণ...? মাঝে মাঝে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আরো বেশি বিষণ্ণ হয়ে যাই। 

কোন কোন বিষণ্ণতার গল্প পৃথিবীর কাউকেই বলা যায় না। অদ্ভূত সেই বিষণ্ণতা, বিচিত্র সেই মন খারাপ।মাথার ভেতর "ভাল্লাগেনা" নামের পোকারা মাকড়শার জালের মত এলোমেলো জাল বুনতে থাকে। সেই জালে হাসি আর আনন্দ গুলো এক এক করে আটকে যায়। হারিয়ে যায়, মুছে যায় হাসি আর খুশি। দুঃস্বপ্নের মত সময় আসে মাঝে মাঝে।চোখ বুজে পড়ে থাকতে হয়, ঘুম ভাঙ্গলেই জগতটা খুব অচেনা লাগে।আশপাশটায় চোখ বুলিয়ে হুট করে মনে পড়ে যায়।ভয়াবহ এক মন খারাপের রাজ্যের রাজা হয়ে বসে আছি আমি।তখন আবার চোখ বুজতে ইচ্ছে হয়।

আমি নিজেও জানি না একটু একটু করে বেড়ে উঠা এই বিষণ্ণতার শুরু। বিষণ্ণতা হয়তো বেড়ে ওঠার পরিবেশ, হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোন ঘটনার শক বা পারিবারিক বিষণ্ণতায় ভোগা জীনগত সমস্যা থেকেও হতে পারে। তবে হঠাৎ করে বিষন্নতা জন্ম নেয় না। বিষণ্ণতা কাউকে কখনোই হুট করে পেয়ে বসে না।এটাও অনেকটা দীর্ঘ সময় নিয়ে অর্জন করে নিতে হয়। অর্জন...!! হ্যাঁ অর্জন...কারণ, বিষণ্ণতার স্তরে নিজেকে টেনে নিতে মনের অনেক সময় লাগে। মন হঠাৎ করে বিষণ্ণতার স্তরে ডুবে যেতে পারে না।অনেক ধাপ পেরুতে হয়। শুরুতে কোন কিছুতে ব্যর্থ হলে কষ্ট লাগে। আপনজন কেউ হারিয়ে গেলে দুঃখ লাগে, কাউকে না পাওয়ায় বা কেউ ছেড়ে যাওয়ায় একটা যন্ত্রণার অনুভূতি হয়, সফলতার পিছনে ছুটতে ছুটতে নিজেকে হারিয়ে ফেলা। এগুলোকে কাটিয়ে উঠতে পারে অনেকেই, তারা মনের দিক থেকে সফল। কিন্তু কেউ কেউ হয়তো হেরে যায়, হেরে যায় নিজের মনের সাথে। তখন মনে আস্তে আস্তে ভর করে হতাশা, নিরাশা, নিজের প্রতি একটা বিরক্তি ভাব। সেটাও বেশ ভালো, একটা কষ্ট কষ্ট অনুভূতি থাকে, হেরে যাবার যন্ত্রণা থাকে। আবার হতাশার মাঝেও হঠাৎ আনন্দের কিছু ঘটলে খানিকটা সুখ খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু হতাশা বা নৈরাশ্যের স্তরে মানুষ বেশিদিন থাকে না। যারা এই স্তরে একবার যাত্রা শুরু করে তারা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারলে তো ভালো, তা না হলে পরবর্তী স্তরে আছে বিষণ্ণতা, অবসাদ। হতাশার স্তর যন্ত্রণা এবং কষ্টের বলেই মানুষের ব্রেইন তাকে এর থেকে বাঁচাতে তাকে টেনে নিয়ে যায় বিষণ্ণতায়। এখানে একবার ঢুকে পড়লে জগতের আর কোন কিছুতেই কোন কিছু যায় আসে না। সব কিছু তুচ্ছ মনে হয়।না আছে কোন আনন্দের অনুভূতি, না আছে কষ্টের। সব কিছু মনে হয় রঙহীন ধূসর, একঘেয়ে, বিরক্তিকর। অনেকটা স্বাদ গন্ধহীন কাগজ চিবোনর মতন।জীবনের উদ্দেশ্য গুলো কেমন গুলিয়ে যায়।নিজেকে অনেকটা মনে হয় ঝর্না ধারায় পড়ে থাকা এক খন্ড নিষ্প্রাণ পাথর, যার জলের তৃষ্ণা আছে, কিন্তু জল তাকে ভেজাতে পারে না, শুধু ছুয়েই চলে যায়।গায়ে লাগে না...।

এখন আমি ২৫ বছরের তরুণ, এই স্বল্প সময়ের জীবনে এখনই প্রায়ই ভাবি যদি পালিয়ে যেতে পারতাম জীবন কে ফাঁকি দিয়ে।ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার অভ্যাস না থাকলেও, জীবন কে ফাঁকি দিতে প্রায়ই ইচ্ছে হয়। সবসময় এমন ছিলাম না আমি, হথাৎ মনে হয় একটু বেশিই এমন হয়ে যাচ্ছি। এক সময় আমিও স্বপ্ন দেখতাম, প্রাণ চাঞ্চল্য আর উৎসাহে ভরপুর চার'দিক। নিজের সামনে একটু একটু করে নিজের পরিবর্তনটা দেখেছি। এই একটু পরিবর্তন টা যে জীবনের এতোটা পরিবর্তন এনে দিবে সেটা হয়তো কখনো অবচেতন মন বুঝতে পারে নি। কিন্তু চেষ্টা করেও খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি।এখন মনে হয় আমি হারিয়ে গিয়েছি।আগের সেই আমাকে আর কোথাও খুঁজে পাই না। দুঃখ, কষ্ট বা আনন্দ গুলো মনে হয় আমাকে আর খুব একটা ছুঁয়ে যায় না। মনে হয় এক সময় খুব জোরে ঝংকার তুলে বাজতে থাকা আমার জীবনের সুরের কোথাও ছন্দ পতন হয়েছে, যেন একটু একটু করে একটা তানপুরা পুরনো হতে হতে তাল কেটে যেয়ে বেসুরো হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমি বুঝতে পারি এটা হঠাৎ করে কখনোই হয়নি। খুব আস্তে আস্তে অনেক সময় নিয়ে আমি এই স্তরে এসে পৌঁছেছি। নিজেকে যখন বিষণ্ণ হিসাবে আবিষ্কার করতে শুরু করি তখন থেকেই আমি ভাবতে থাকি কেন আমি এমন হলাম।উত্তর টা প্রশ্নের মাঝে সীমাবদ্ধ...। 
“The woods are lovely, dark and deep,
But I have promises to keep,
And miles to go before I sleep,
And miles to go before I sleep...”

অনেক ভালোবাসার পরও আমরা ভালোবাসার মানুষকে হারাই, ভালোবাসার মানুষকে বুঝতে না পারার জন্য।
ভালোবাসার মানুষের স্থান, মূল্য, Priority- কতোটুকু সেটাই আমরা বুঝে উঠতে পারি না।

সারাজীবন একসঙ্গে পথা চলার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ভালোবাসা হঠাৎ একটা দমকা হাওয়াতে ভেঙে গেলে, সে আঘাত সহ্য করতে না পেরে করা পাগলামী গুলো মোটেই অস্বাভাবিক না আমার কাছে। আমি এগুলো দেখে মোটেও অবাক হই না।কেউ হাত কাঁটছে, কেউ ডায়রীর পাতা ছিড়ছে, কেউ কেঁদে কেঁদে বালিশ ভেজাচ্ছে, কেউ ঘুমের ওষুধ খাচ্ছে, কেউ সিলিং ফ্যানে দড়ি ঝুলিয়ে রাখছে, কেউ নতুন সিগারেট ধরছে, কেউ হাত পা ছড়িয়ে চিৎকার করছে, কেউ দু'চার দিন না খেয়ে আছে, কেউবা কিছুই না করতে পেরে বাকরুদ্ধ হয়ে বসে আছে। এগুলো মোটেও অস্বাভাবিক না।এগুলো মোটেই বোকামী না।এগুলো মোটেই সস্তা আবেগ না।

মানুষ যতটা না ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে কষ্ট পায় তার চেয়ে বেশি কষ্ট পায় মানুষটার সাথে অতীতে ঘটে যাওয়া কিছু ভুল স্মৃতি গুলোকে ভুলে যাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করে। ভুল স্মৃতি গুলোকে যতই ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় স্মৃতিটা ততই ভয়ংকর রূপ ধারণ করে বার বার সামনে চলে আসবে।স্মৃতি কখনো ভুল হয় না, তবু ভুল বললাম কারণ হারিয়ে যাওয়ার পর সব কিছুই ভুল মনে হয়।

কত স্বপ্ন থাকে সম্পর্ক নিয়ে...! সপ্ন গুলো অনেক টা নিজ হাতে কোন কিছু বেড়ে উঠার মতো। বিয়ে করবে, নতুন সংসার হবে, ছোট্ট একটা ঘর হবে।দু'জনে মিলে একসাথে সাজাবে সেই ঘরটা। দেয়ালে দু'জনের ছবি থাকবে।টিভির রুমটায় দু'জন বসার মতো একটা সোফা থাকবে। সপ্তাহের শেষ দিন ওই সোফায় বসে মুভি দেখবে। রান্না শেখার চেষ্টা থাকবে। হাত-পুড়িয়ে রান্না করবে। তেল কম হবে, লবণ বেশী হবে, খাওয়া যাবে না তবুও ভালোবেসে খেয়ে নেবে। অফিসে যাবার সময় টাই বেধে দেবে। অফিসে গিয়ে মিস করবে, বার বার ফোন দেবে। বাসায় ফেরার সময় একটা বকুল ফুলের মালা নিয়ে আসবে।

পড়ন্ত বিকালে দু'জনে মিলে বাইরে যাবে।পছন্দের নীল শাড়ী-পাঞ্জাবী পরবে। বেশী ঝাল-টক দিয়ে ফুসকা খাবে। রাস্তায় হাটতে হাটতে হঠাৎ করে আঙ্গুলটা ধরে বসবে। গাড়ির সীটে বসে কাঁধে মাথা রেখে ঘুমাবে। অসুস্থ হলে রাত জাগবে, আহ্লাদ করে খাইয়ে দেবে।

ছেলে-মেয়ের নামও রাখা হয়ে যায়। ঝড় ঝাপটায় একই ছাতার নিচে থাকবে।বয়স বাড়ার সাথে সাথে সময় মতো ওষুধ খাইয়ে দেবে। প্রেসার মেপে দেবে। বৃদ্ধ বয়সে ঘোলাটে চশমাটা মুছে দেবে। স্পর্শে মানুষটা না থাকলেও বিধাতার কাছে করা প্রতিটা প্রার্থনায় মানুষটা থাকবে। দেয়ালে টাঙানো ছবিটা হাতে নিয়ে বার বার হাত বুলিয়ে স্পর্শ পাওয়ার চেষ্টা করবে। চোখটা ভারী হয়ে আসবে, চশমাটা ভিজে যাবে। ধরা যাবে না, ছোয়া যাবে না; তবু মানুষটা থাকবে প্রতিটা স্পন্দনে..।

এত সাধের স্বপ্ন গুলো ভেঙে যাবার পর কেউ স্বাভাবিক থাকতে পারে না। এই সময়টাতে আপনি তাকে ম্যাচিউরিটি শেখাতে যাবেন না, স্বপ্নভাঙ্গা বিধ্বস্ত মস্তিষ্কে ম্যাচিউরিটি আসে না।আপনি হয়তো তাকে ইমম্যাচিউরড পাগল বলবেন।কিন্তু তার কাছে- এই ইমম্যাচিউরিটি এবং পাগলামী গুলোই ভালোবাসা।

কয়েকশো বছরের অগ্রিম দেখা স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রনা সহজে মেনে নেয়া যায় না, কখনোই না, কেউ-ই মেনে নিতে পারে না।

MARI themes

Powered by Blogger.