এক জীবনে অনেক প্রশ্নই এড়িয়ে যাওয়া হয়, অনেক কথাই না বলা রয়ে যায়। অনেক বিদায়ের আগেই জানান দেয়া থাকে না। অনেক আবেগই অপ্রকাশ্য থেকে যায়, অনেক মেসেজই আনসিন থেকে যায়। অনেক বারই কাউকে ডাকতে গিয়ে মুখ দিয়ে কথা বের হয় না, শুধু দূর থেকে অপলক চেয়ে থাকতে হয়। অনেক কিছুই ফেরত দেয়া হয় না আর, আবার সব ফেরত দিলেও কী জানি হয়তো কিছু রয়ে যায়। হয়তো এই কিছুটা "মন"... 

অনেক বারই মোবাইলের স্ক্রিনে কারো নাম দেখে দীর্ঘঃশ্বাস লুকোনো যায় না। মোবাইল এর স্কীনে প্রিয় মানুষ টির নাম কখনো ভেসেও উঠে না, হয়তো সে তার প্রিয় মানুষ নিয়ে ব্যাস্ত। অমুক গানের সুর শুনে অনেক কথাই মনে পড়ে, একা একা হাসি পায়, চোখে পানি চলে আসে। তার কথা মনে করিয়ে দেয়। হাঁটতে, চলতে, ফিরতে ট্রেনে-বাসে রাস্তায় প্রায়ই কিছু চেহারা পরিচিত মনে হয়। খুব মিল থাকে কারো একজন মানুষের সাথে। একটু পরপরই আড়চোখে দেখে নেয়া হয় 'এই সে নয় তো...!'এমন হাজারো অনেক কিছু আমাদের 'একান্ত আপন কিছু' এই সমস্ত কথা, সব আবেগ, সব স্মৃতি মনের মধ্যে তাদের জায়গাটা ঠিকই আলাদা করে থাকে, আমরা যত্নে আগলে থাকে। সেখানে তাদের রাজ্য, আর কারো আনাগোনা নেই সেখানে, অসতীত্ব নেই।

উদাস চেহারা দেখে চারপাশের প্রশ্ন যখন নাড়িয়ে দিবে- তখন খুব স্বাভাবিক মুখ করে আমরা বলবো, "কই, কিছু ভাবছি না তো....!!" বাইরের জগতে খোলসে ঢাকা শামুক হয়ে থাকা শিখে যাই আমরা, কিন্তু মনে মনে হয়তো ঠিকই অঞ্জন দত্তের গানটা বেজে উঠবে- "একদিন বৃষ্টিতে বিকেলে মনে পড়ে যাবে সব কথা......কথা দিয়ে কথাটা না রাখার ফেলে আসা চিনচিনে ব্যথা...।।

কেউই জীবন থেকে পুরোপুরি চলে যায় না। প্রিয় গানটার সুরের মাঝে চুপচাপ লুকিয়ে থাকে সে তাকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না। শুধু তার অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়। শুধু মানুষটাই জীবন থেকে হারিয়ে যায়। মানুষটার স্মৃতি হারিয়ে যায় না, চ্যাট লিস্টে সবার উপরে যে নামটা থাকতো একসময় সে ব্লকলিস্টে বা কোন লিস্টেই নেই বা থাকে না। এখন তার নামটা সার্চ বক্সে টাইপ করলেও আর আসে না। হাজার হাজার একই নামের আইডি আসে কিন্তু সেই আইডিটা আর আসে না। খুব করে খুঁজলে ছবিবিহীন কালো রঙের নামটুকু জানিয়ে দেয় সবকিছু, জানিয়ে দেয় সে আজ অনেক দূরে। অনেক অনেক নতুন মানুষের ভীড়ে চাপা পড়ে যায় পুরনো কেউ নামের মানুষটা...। সেই চাপা পড়া ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ঐ মানুষটাই কোন কোন রাতে ফেরত চলে আসে। পূর্বাভাস ছাড়াই বুকের ভেতরটায় তখন তুমুল ঝড় বইতে থাকে। অতীত নামের দমকা হাওয়া এসে মূহুর্তেই ওলট-পালট করে দেয় সবকিছু... । শুরু হয়ে যায় বুকের বামপাশের চিনচিনে ব্যাথাটা। মাঝরাতের অন্ধকার রুমে বসে নিজের অজান্তেই চোখের জল চলে আসে হঠাৎ করেই চলে আসে। 

পুরনো কোন গল্প ই আসলে মুছে যায় না। গল্প গল্পের জায়গাতেই থাকে, একটা সময় শুধু তোমাকেই গল্পের চরিত্র থেকে মুছে দেয়া হয় খুব যত্ন করে। সময়, ভালোবাসা গুলো কখনোই বদলায় না, বদলে যায় মানুষটা।

আমরা সবাই জানি রাত জাগা অনেক ক্ষতিকর। কিন্তু তবুও আমরা রাত জাগি। কারন কিছু মোমেন্ট আমাদেরকে ঘুমাতে দেয়না, সব সময় অচেনা একটা কষ্ট এসে ভর করে বুকের বাম পাশে। তখন আর ঘুম আসেনা। মানুষ বদলায় না, বদলে যায় তার মনের চাওয়া পাওয়া গুলো। খুব চেনা, খুব আপন মানুষটা কিন্তু ঠিকই রয়ে যায়। মাঝে মাঝে চোখের সামনে দেখে ভীষণ মায়া হয়... মুঠো করা হাত গুলো ছুটে যেতে চায় তার হাত গুলো ধরার জন্য। হাত ধরার অদম্য ইচ্ছে টুকু মনে জন্মানোর সাথে সাথেই মাটিচাপা দিতে হয়। সবই আগের মতোই থাকে শুধু মনের দরজার সামনে চোখের জলের স্বচ্ছ কালিতে লেখা "প্রবেশ নিষেধ" নামক একটা অদৃশ্য সাইনবোর্ড নীরবে চিৎকার করে বলে-
"সবকিছুই আগের মতই আছে, শুধু অধিকারটুকু নেই...।"

"যে মন খারাপের কোন কারণ নেই, সেই মন খারাপ লুকিয়ে রাখাই বোধহয় ভালো। বেশিরভাগ মানুষই মন খারাপ দেখে যে 'কেন?' - প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করে, সেই প্রশ্নের উত্তর আমার নিজেরও জানা নেই !! কোন কোন মন খারাপের সময় কারো সাথে কোন প্রকার বাক্য বিনিময় করতে ইচ্ছা করে না । চুপচাপ থাকতে দেখে অনেক মানুষ অনেক কিছু ভাবতে থাকে। আর আমি ভাবি, আমার কোথাও হারিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। এমন কোথাও হারিয়ে যাওয়া প্রয়োজন যেখানকার ঠিকানা পৃথিবীর কেউ জানে না, কেউ না !!

সারাদিন হাসিমুখে থাকা মানুষটিও কাঁদতে জানে। তারও ইচ্ছে করে কেউ তার চোখের জলটুকু খুব যত্নে মুছে নিক। সবসময় "ভাল আছি" বলা মানুষটিরও কিছু মন খারাপের গল্প থাকে। তারও ইচ্ছে করে কেউ তার সেই গল্প গুলো মন দিয়ে শুনুক, একটু বুঝুক।

রোজ রোজ "ভেঙে পরবে না, কোনো আঘাতই জীবনকে থামিয়ে দিতে পারে না, তুমি নিজেই তোমার ভাল থাকার উপায়" এসব বলে সাহস দেয়া মানুষটিও কখনো কখনো প্রচণ্ড নিঃসঙ্গতায় ভোগে। তারও ইচ্ছে করে কেউ একজন নিঃশব্দে তার কাঁধে হাত রেখে বলুক "আমি আছি তো"। প্রেম, ভালবাসার তীব্র বিরোধী মানুষটিরও মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় কেউ তার হাতটি শক্ত করে ধরে অন্তত একটিবার বলুক "ভালবাসি"। শাসন করুক, আগলে রাখুক।

অনেক হাসির পিছনেই চোখের জল থাকে, অনেক ভাল থাকার পিছনেই ভীষণ রকমের মন খারাপের গল্প থাকে। শুধু অন্যরা বুঝতে পারেনা। হয়তো মানুষ গুলোই বুঝতে দেয় না। "বাইরে থেকে দেখে কারো জীবন সম্পর্কে আন্দাজ করাটা প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার। কিন্তু এই অসম্ভব কাজটাই আমরা প্রতিনিয়ত করতে থাকি। হাসিখুশি মানুষটাকে দেখে ভাবি, তার জীবনে কোন সমস্যাই নেই। কেউ একটু দুঃখের গান শুনলে ভাবি, তার জীবনে অনেক কষ্ট। অথচ ব্যাপারটা এরকম নাও হতে পারে !!

একজনের গল্প বলি। দেশের টপ ভার্সিটিতে পড়া শুনা করে, Top Multinational Company-তে Job- একদম পারফেক্ট লাইফ...।। অথচ কেউ আন্দাজও করতে পারবে না, মানুষটা কি ভয়াবহ ডিপ্রেসনে ভুগচ্ছে । এই মানুষটিকে প্রায়ই সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে যেতে হয় কিন্তু তবু ঠিক হচ্ছে না। কেউ শুনলে বিশ্বাস করতে চায় না, ব্যাঙ্গ করে বলে "ওর আবার কিসের ডিপ্রেসন !!??" ওর মত জীবন পেলে আমি স্বর্গে থাকতাম। কেউ আবার বলে, আরেহ ঢং। সব আছে, তাও ডিপ্রেসড...! এগুলো ভাব,  বিলাসিতা !! দিন শেষে ঐ মানুষটিই শুধু জানে তার মনে কি চলতেছে। 

আমরা অনেক অল্পতেই জাজমেন্ট দিয়ে ফেলি। বাইরে থেকে দেখেই কোন কিছু সম্পর্কে একটা কথা বলে বসি। বলার আগে ভাবি না যে, আমি যেভাবে চিন্তা করছি ব্যাপারটা অন্যভাবেও তো হতে পারে...!! একটা মানুষ তার মাথার ভেতর, মনের ভেতর কেমন অনুভব করছে আপনি আমি তার এক ভাগও বুঝতে পারবো না, হাজার চেষ্টা করলেও না... !!

আমার কাছে যার জীবনটা স্বপ্নের মত লাগে, তার দুঃস্বপ্ন গুলোর এক বিন্দুও হয়তো আমি দেখি নি। কিন্তু আমি ভেবে নিয়েছি তার জীবনটা সপ্নের মতো। আমার জীবনটা যার কাছে রূপকথার গল্পের মত সুন্দর লাগে, সে হয়তো আমার ভিতরের শূন্যতা, বাস্তবতার ছিটেফোঁটাও টের পায় নি বা কখনো অনুভব করে নি !! জীবনটা এমনই, কেউ এক মূহুর্ত সময় নিয়ে চোখে চোখ রেখে কাউকে বুঝতে চায় না কিন্তু তাকে নিয়ে অনেক কিছুই বলা হয়ে যায়। 

এই পৃথিবীতে ঠিকানাবিহীন হারিয়ে যাওয়ার কিংবা লুকিয়ে যাওয়ার কোন জায়গা নেই। দিনশেষে ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় আমাদের একটা ঠিকানাতে ফেরত আসতে হয়। সেই ঠিকানাতে নিজে লুকিয়ে থাকা যায় না। তাই নিজের অনুভূতি গুলো যত্ন করে সূক্ষ্ম অভিনয়ের নীল খামে ভরে, কালো ডায়েরীতে লুকিয়ে রেখে বেঁচে থাকতে হয় !!" তখন হয়তো নিজে বেঁচে থাকা যায় কিন্তু অনুভুতি গুলোকে বাঁচিয়ে রাখা যায় না...

All those times I cried for you,  you never came,
Out of all the sports I played,
 You never showed up at one game.

 All of the awards I received,
 I never heard you clap, 
You were never there For me to sit on your lap.

 All the times I fell and scratched my knee,
 You were the one who wasn't there To comfort me. 

All those times I was bored And wanted someone to call,
 You still weren't there, Not there at all. 

All the times I feel, I wish Hold My Hand,
 It’s badly need… 
But it’s never happened.

I always tried to make you proud,
Hoping you would love me more but you never seemed to care.

 It's as like you're not here in my present, 
But you’re in my present, 
And Just like you weren't there in my past..

I try to move on But no one knows how hard it is. 
I know you love me a lot more then my expectation,
 But really it’s empty in my inside.
It’s Empty….

যে মানুষটা তোমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে, সে মানুষটাই তোমাকে সবচেয়ে বেশি সন্দেহ করে। কারন একটাই, তোমাকে হারানোর ভয়। সে তার সবকিছুর বিনিময়ে হলেও তোমাকে চায়। তোমাকে হারাতে চায় না বলেই তার এতো সন্দেহের আয়োজন। সন্দেহ যে তোমাকে করে বিষয় টা এমন না। তার ভয় তোমার আশেপাশের মানুষদের নিয়ে। 

মানুষ প্রথম যখন প্রেমে পড়ে, তখন উচিত অনেক ভেবে চিন্তে প্রেমে পড়া। কারন ক্ষুদ্র জীবনের পথ চলায় এমন অনেকের সাথে দেখা হবে যে তোমার প্রিয় মানুষটির চেয়ে সুন্দর, তোমার প্রিয় মানুষটির চেয়ে অনেক বেশি ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন, অনেক বড় কোনো ভার্সিটির শিক্ষার্থী নতুবা বড় কোনো কোম্পানির একজন চাকুরিজীবী। তখন যদি তুমি তোমার প্রিয় মানুষটাকে ছেড়ে নতুন কারো হাত ধরে চলে যাও, তখন সে তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকবে কি করে? তোমাকে ছাড়া যে তার পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটা সম্পূর্ণ অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায় তখন!

মানুষ নাকি আবেগের বশে বলে, 'আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না'। এটা হয়তো সত্য। অনেক মানুষ বললেও খুব কম মানুষ এটা করে দেখিয়েছে। কিন্তু একটা মানুষ কখন এমনটা বলে জানো? যখন সে তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসে। তাইতো সবাই বলে, প্রেম নাকি অন্ধ। আসলেই তাই, প্রেম অন্ধ। একটা মানুষ কখন নিজেকে মেরে ফেলতে চায় জানো...? যখন তাকে বুঝার মতো, তার নীরবতা, শুন্যতা বুঝার মতো একটা মানুষও থাকে না। 

তুমি যখন কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে যাও, তখন সবচেয়ে বেশি চিন্তিত থাকে তোমার প্রিয় মানুষটি। যদি নতুন কারো সাথে তোমার সখ্যতা গড়ে ওঠে ! যদি নতুন কারো সাথে তোমার ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে ! যদি এর কারনে তোমাকে সে হারিয়ে ফেলে ! তাইতো সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকে তোমাকে নিয়ে। এটা তোমাকে হারানোর ভয়, আর তুমি ভাবচ্ছো এটা সন্দেহ...!!  

রিলেশান থাকা স্বত্বেও অন্যের উপর গায়ে পড়া ভাব দেখানো ছেলে মেয়ের সংখ্যা নিতান্তই কম নয়। নিজেকে সিঙ্গেল শো করে তারা কেমন যেন একটু বেশি মজা পায়। কেননা সিঙ্গেলদের উপরই অন্যদের আকর্ষন বেশি থাকে। আর তাই বেশিরভাগই চায় নিজেকে সিঙ্গেল শো করতে। এতে করে ৫ জন সুদর্শন/সুদর্শনা তোমার দিকে এগিয়ে আসবে নতুন সম্পর্ক সৃষ্টির জন্য। কথার ছলে বন্ধুত্ব, এক সময় তা প্রেমের প্রস্তাব পর্যন্ত গড়ায়। আর তখন কেউ যদি তোমাকে প্রপোজ করে, আমি মনে করি তা মোটেও তার দোষের না। দোষটা তোমার, কারন প্রথমেই তুমি নিজেকে সিঙ্গেল দাবি করেছো। যদি নিজেকে ডাবল শো করতে, তবে এ সম্পর্ক প্রপোজাল পর্যন্ত কখনোই গড়াতো না। ডাবল শো করতে না পারলেও যদি তুমি একটু দূরত্ব রেখে চলতে তাহলে হয়তো সে এই সুযোগ পেতো না। তুমি এখানে সবার সাথে মিশে আনন্দ করছো। আর ওদিকে তোমার ভালোবাসার মানুষটি কেবলই টিন্তায় ডুবে আছে। অপেক্ষায় থাকে, কখন তুমি তাকে একটি কল দিবে, একটু রিলাক্স করবে তাকে। একটু টেনশন ফ্রি করবে তাকে।

তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসে বলেই তার এ চিন্তার আয়োজন। তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসে বলেই তোমাকে নিয়ে অতশত ভাবে। তোমাকে হারানোর ভয় কাজ করে বলেই তোমাকে এতো বেশি সন্দেহ করে। আর তুমি এটাকে অনেক বড় অপরাধ মনে করো...!!

তুমি যখন একটা সম্পর্কে জড়াও তখন তোমাকে অবশ্যই সম্পর্কের প্রতি যত্নশীল হতে হবে, Dedicated-হতে হবে, Loyal-হতে হবে। নিজের মাঝে কিছুটা হলেও পরিবর্তন আনতে হবে, কিছুটা হলেও আশাপাশের মানুষদের সাথে একটু ভিন্ন ভাবে মিশতে হবে। কিছুটা হলেও তার মন বুঝতে হবে। সম্পর্কে জড়ানোর পরোও যদি নিজের খেয়াল খুশি মতো  চলো তাহলে সম্পর্কটা হয়তো বেঁচে থাকবে কিন্তু ভালো থাকবে না। 

অনেকে বলবে, ভালোবাসায় বিশ্বাস হলো সবচেয়ে বড় ব্যপার। দেখুন, সব গুলো সম্পর্কই বিশ্বাসের উপর ভর করে দাড়িয়ে থাকে। তারপরও কেন প্রতিদিন এতো এতো সম্পর্ক ভেঙে যায়। অনেকের ১ বছর, ৫ বছর কিংবা ৮-১০ বছরের সম্পর্কও এক সময় ভেঙে যায়। তবে কি তাদের মাঝে বিশ্বাস ছিলো না ? ছিল ঠিকি...সবকিছু ঠিক-ঠাক থাকার পরও এক সময় কিছু সম্পর্ক ভেঙে যায়। এর পেছনে ঠিক কোন কারনটাকে দায়ী করবো বুঝতে পারছিনা। তবে আমি মনে করি তাদের নিজেদের মাঝে বুঝাবুঝির ভুল ছিল। সম্পর্কের মাঝে Dedication-এর অভাব ছিল। 

তবে হ্যাঁ, যাকে ভালোবাসো, তাকে মন-প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসো। সব প্রতিকূলতায় তার সাথে থাকার সংকল্প নাও। জীবনে কোনো পরিবেশেই তাকে ফেলো চলে যেওনা। দেখবে, তোমার ভালোবাসা হবে পৃথিবীর জন্য দৃষ্টান্ত। তোমার ভালোবাসা-ই হবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা।

"প্রিয় মানুষটার অভাব কখনো অন্য কাউকে দিয়ে পূরণ করা যায় না। ঠিক এই মুহূর্তে আপনি যার সাথে আছেন তার অনুপস্থিতিতে আপনি আর নতুন কাউকে দিয়ে পূরন করতে পারবেন না সে যতই ভালো মানুষ হোক না কেন। যদি পারেনও তবুও আপনার মনে হবে কোথায় যেন কিসের শূন্যতা ঠিকই রয়ে আছে ।।

এই শূন্যতা একদিনেই কারো জন্য তৈরী হয়না। কারো সাথে চলতে চলতে একটা দীর্ঘ সময়ের পর এই শূন্যতা অনুভব করা যায়। মানুষ কখনো দু'দিনের পরিচয়ে কারো জন্য কষ্ট পায়না, কাঁদে না। মানুষ তখনই কষ্ট পায় কিংবা কাঁদে যখন তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করে কেউ চলে যায় ।।

বন্ধুদের সাথে মুভি দেখতে দেখতে হঠাৎ তার কথা মনে পড়বে। কিংবা রিকশাতে পাশের সিটটাতে তাকে অনুভব হবে অথবা ফেইসবুকেও অনেকের সাথে কথা হলেও ঐ একজনের সাথে কথা না হলে কেমন যেন ফেইসবুকটাও পানসে মনে হবে। এসব যা কিছুই হোক না কেন একজনের অভাব অন্যকেউ পূরণ করতে পারেনা ।।

বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলে একটা পর্যায় আমি কনের সামনে গিয়ে বসি। খুব আগ্রহ নিয়ে চোখের দিকে তাকিয়ে থাকি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় নিশ্চিত করে বলতে পারি- এ মেয়েটি জীবনের কোন না কোন এক সময় আজকের এই দিনটিতে অন্য কাউকে চেয়েছিল।

শাড়ি ঠিক করতে গিয়ে , টিস্যু দিয়ে মুখ মুছতে গিয়ে, ক্যামেরার দিকে তাকাতে গিয়ে কোন এক ফাঁকে কী সেই মানুষটির কথা তার মনে পড়ে ??? আমি তাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখি। কোথায় যেন পড়েছিলাম- প্রেম জন্ম নিলে মেয়েদের ঠোঁটের দু.পাশ শক্ত হয়ে কিছুটা উপরের দিকে উঠে যায়। একটি অচেনা মেয়ের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা কিছুটা বিব্রতকর। শুধু মাত্র কনের দিকে তাকিয়ে থাকা যায়। এই তাকানো বৈধ। আমি বৈধ ভাবে কনের ঠোঁট এবং চোখের দিকে তাকাই। সিগমান্ড ফ্রয়েড প্রায় ৩০ বছরের গবেষণার পর আক্ষেপ করে বলেছিলেন ''নারী কি চায় আমি জানি না"
“Was will das Weib?” ''নারী কী চায়?" যে ছেলেটি বিয়ে করছে আমি তাকেও দেখি। আজ রাতে বাসর হবে। কি কথা হবে সব কী আগে থেকে সাজানো ? আমরা আমাদের নিজস্ব গণ্ডি থেকে বের হতে পারি না।

যে মানুষটা তার স্ত্রীকে নিয়ে বিয়ের পর দার্জিলিং এ যাওয়ার Plan- করে। সে নিশ্চয়ই এক কালে তার কোন প্রেমিকাকে রাত দিন বলেছিল - কটা দিন অপেক্ষা করো। বলেছিল - সমরেশ মজুমদার এককালে যে হোটেলে বসে দার্জিলিং এর আকাশ দেখেছে তারা সে হোটেলটিতে উঠবে। স্ত্রীকে সাথে নিয়ে সমরেশের আকাশ যখন দেখা হয় সেখানে শুধুই কী পাশে বসে থাকা মানুষটি থাকে ? আকাশের অলিতে গলিতে এক কোণে কোথাও কী সেই দিনের মেয়েটি থাকে না ? জানি না আমি, কখনো কাউকে জিজ্ঞাস করিনি।

শৈশবের কোন মেয়েকে না পেয়ে যে ছেলেটা ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে বমি করেছিল, বার বার চেষ্টা করেও বলতে না পারার অপরাধে হাত ছাড়া হয়ে গেল। সিনেমার কোন রোমান্টিক দৃশ্য দেখে যে মেয়েটি কেঁদেছে একা একা। এইসব কান্না একদিন শেষ হয়। ইতিহাস ঘেটে দেখো, কাউকে না পেয়ে দু'দিন দরজা বন্ধ করে শুয়ে থাকা, দু'দিন না খেয়ে থাকা , সাহসের অভাবে ছাদ থেকে লাফিয়ে মরতে না পারা মানুষ গুলো এক সময় স্বাভাবিক হয়ে উঠে। প্রত্যেকে হাসি হাসি মুখে কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ে করে। ডেকারেশন ঠিক মত হয়েছে নাকি সেই তদারকিও করবে। পরিসংখ্যান তাই বলে।

আপনার আশে পাশের ব্যার্থ প্রেমিক অথবা প্রেমিকাদের দিকে তাকান। ক্যালেন্ডারে একটা দাগ দিন। নিশ্চিত থাকুন এরা প্রত্যেকেই একদিন হাসি হাসি মুখে কমিউনিটি সেন্টারে যাবে। প্রত্যেকেই একদিন স্বাভাবিক হবে। শুধু কিছু একটা থেকে যাবে। সেই একটা কিছুর ভেতরে কোন কিছুই নেই। ' কোন কিছু নেই' এর ভেতরে আবার একটা কিছু থাকে।

আগুন নেভানোর পর আগুন নিভে যায় তবু একটা লালাভ ফুল্কি থাকে। সেটা আগুন না। আগুনের ছায়া। পৃথিবীর সবকিছুর অভাবই কোন না কোন কিছু দিয়ে পূরণ করা যায় কিন্তু মানুষের অভাব অন্য কোন মানুষ দিয়ে কখনো পূরণ করা যায় না। যে চলে যায় বা হারিয়ে যায় তার অস্তিত্ব ওখানেই শেষ। তার অস্তিত্ব নিয়ে অন্যকেউ আসেনা। এ জন্যই মানুষের অভাব অপূরণীয় !!"

আমাদের আশার ক্লান্ত দিনগুলো প্রতিনিয়ত আঁধারের সাথে মিশে যাচ্ছে। শেষ রাতে জীবন গুলো পরিবর্তনের জন্য নতুন আলোর অপেক্ষায় থাকি আমরা কিন্তু পৃথিবী ধীরে ধীরে জেগে ওঠে তবু আশা গুলো নতুন ভাবে জেগে উঠে না।সারাদিন একটা নিদিষ্ট মানুষের ম্যাসেজ বা ফোন কলের অপেক্ষায় থাকি আমরা। বিশ্বাস করুন ঐ একটা মানুষের ফোনকলের জন্য বিপরীত পাশের  আরেকজন বারবার মোবাইলের ডিস্পে অন-অফ করতে থাকে, বারবার চেক করতে থাকে ম্যাসেজ এর রিংটোন বেজে উঠা মাত্র। মানুষটা জানে তার ফোনে কোন টেক্সট বা কল আসবে না তবুও অপেক্ষা করতে থাকে।

অপেক্ষা শুদ্ধতম ভালোবাসার রুপ এই থিওরির ওপর নির্ভর করে শতশত মানুষ অপেক্ষা করে তার প্রিয় মানুষটার টেক্সটের, ফোন কলের অথচ প্রিয় মানুষ কখনই তা বোঝে না অথবা বুঝেও অবুঝের মতন থাকে। জীবনে সবচেয়ে মূল্য যাকে দেওয়া হয় সেই মানুষটা অবহেলা করবে এটাই চিরায়িত সত্য।

দিনের শুরুতে ঘুমের মধ্যেও যে মানুষটার জন্য অপেক্ষা করা হয়। মানুষটার কাছে আমি আপনি মূল্যায়িত হবেন এটা ভাবাও একরকম পাপ। সব মানুষই চায় তার প্রিয় মানুষের ফোন কলে তার ঘুম ভাঙ্গুক কিন্তু ভোরটা শুরু হয় অন্য ভাবে। মানুষটা জানে না তার একটা কথায়, মানুষটা জানে না তার একটু হাসিতে বিপরীত মানুষটার হৃদয় স্পন্দন থেমে যায়।

এক তরফা ভালোবাসা বা একরোখা অনুভূতি গুলো বড্ড ঘাড়ত্যড়া। কেন পৃথিবীতে কি ঐ মানুষটার রিপ্লেসমেন্ট নেই...? হবে না কখনই...।। কিন্তু না আমার যত অপেক্ষা ঐ মানুষটার জন্যই, তার রিপ্লেসমেন্ট শুধু সে নিজেই। শতবার অবহেলা করলেও নিজেকে ছোট করে হলেও মানুষটার সামনে অবনত মস্তকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নিলজ্জের মতন। তার অপ্রিয় একজন মানুষ হয়েও নিজের মনের কুঠরে তার স্থান সবার উপরেই থেকে যায়। তাকে ঘিরে ছোট ছোট ইচ্ছে গুলো দিন শেষে অপূর্ণতার খাতায় লিখা হয়। 

নির্ঘুম প্রতিটি রাতে মানুষটার জন্য অপেক্ষা করতে করতে আজ বড্ড ক্লান্ত। তবুও অপেক্ষার শেষ হয় না, মানুষটা হয়তো একটা সময় সব বুঝবে। তাকে ঘিরে স্বপ্ন গুলো, ছোট ছোট ইচ্ছে গুলো। আমার আমিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিশ্বাসের ওপর ভর করে অপেক্ষার পালা শেষ হয় না আর।

মানুষটা খুব সুন্দর গল্প বলে আমি বিমুগ্ধ হয়ে শুনতে থাকি তার গল্পে আমাকে কোথাও রেখেছে কি না। আমি নিজেকে খুজতে থাকি, নিরাশ হয়ে যাই মানুষটার জীবনে যেমনটা আমি নেই তার গল্পেও আমার অস্তিত্ব নেই। তার চোখে নিজেকে বারবার খুঁজতে গিয়ে নিজে হারিয়ে যাই কিন্তু তার চোখে নিজেকে খুজে পাই না। তার অসতীত্বে নিজেকে খুঁজে পাই না। 

মানুষটা আমাকে নিয়ে একটুও হয়তো ভাবে না। আর দশটা মানুষের মতন আমিও তার কাছে শ্রেফ একটা মানুষ, রক্তে মাংসে গড়া একটা মানুষ। অন্য সবার মতন অবহেলা আমার জন্য বরাদ্দ থাকে তবুও আমি অপেক্ষা করি। শুধু ঐ মানুষটির জন্যই অপেক্ষায় থাকি। জানি মানুষটা আমাকে চায় না  তার কোন স্বপ্নে, তবুও আমি তার জন্য অপেক্ষা করি অথচ যে মানুষটা আমাকে সবার অগোচরে প্রচন্ড ভালোবাসে আমার ছোট্ট একটা ম্যাসেজের অপেক্ষা করে আমি তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি না।

প্রচন্ড রকমের স্বার্থপর আমি। যে মানুষটাকে আমার চাই তাই তার অবহেলাকে অবহেলা মনে হয় না কিন্তু যে মানুষটা আমাকে চায় সেও তো অপেক্ষা করে আমার। সমীকরণের সূত্রে একটি কথায় আসে মানুষটা আমাকে অবহেলা করে তার বিপরীতে আমিও মানুষটাকে অবহেলা করি অথচ এই অবহেলা নিয়েই আমার অভিযোগের শেষ নেই, কখনও শেষ হবেও না।


আমার কিছুই ভাল্লাগেনা । এই ধরনের একটি কথা আমার মাথায় বার বার আসলেও আমি ঠিক সে রকম করে বার বার বলতে পারি না । ভালো লাগা , না লাগা , মন খারাপ কিংবা ভালো নেই এই ব্যাপার গুলো একা একা মেনে নিতে ভাল্লাগে না। শুধু আমার নয়, আমার মনে হয় আমার মতো অনেকেরই একা একা মেনে নিতে ভালোলাগে না। কাউকে না কাউকে বলতে ইচ্ছে হয় । বলাটা ঠিক কঠিন কিছুও নয়। মুখ দিয়ে খুব সহজেই এই কাজ টি করা যায় । কিন্তু বলার মতো মানুষটিই খুজে পাওয়া কঠিন। আমার আশে পাশে সব মানুষ গুলোই এমন। সব মানুষ বলতে হাতে গোনা দুই - তিন জন, যাদেরও কোন কিছুই ভাল্লাগেনা । সুতরাং মন খারাপ করার অতি জরুরী সংবাদটি কিংবা আমি ভালো নেই এই ব্যাপার গুলো তেমন ভাবে বলতে ইচ্ছে হয় না বা বলা হয়ে উঠে না । তারপরেও আমার না ভালো লাগার ব্যাপারটি আমি কাউকে না কাউকে জানিয়ে দেই। বেশির ভাগ জানানো হয় আমার ব্লগ বা Facebook Page-এ লিখে। আমার ভালো না লাগবার কথা শুনে আমার আশে পাশের মানুষ গুলোর ঠিক তেমন ধরনের ভাবান্তর হয় না কিংবা তাদের চিন্তাগত তেমন একটা পরিবর্তন আসে না বলেই চলে। কেবল মুখের অবস্থানগত একটা পরিবর্তন হয় । “ও আচ্ছা” জাতীয় বাক্যটিই শুধু মুখ দিয়ে বের হয়। আমি তাই আজকাল দীর্ঘক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি আর প্রায়ই ভাবার চেষ্টা করি এর শেষ কোথায় । অর্থহীন ভাবনা তো বটেই। রাত যতই হোক রুম থেকে বের হয়ে যাই তখন। অন্ধকার রাতে খোঁজার চেষ্টা করি নির্জন কোন রাস্তা বা কোন স্থির লেক বা পুকুর। তার পর চুপটি মেরে বসে থাকি মন যতক্ষণ সারা দেয়।  

আমরা প্রায় সময়ই 'ডিপ্রেশন' আর 'মন খারাপ' এই দুইটা শব্দ গুলিয়ে ফেলি। অথচ শব্দ দুটির মাঝে পার্থক্য অনেক, কোন দিক দিয়েই এক নয়। আমাদের মন খারাপ হয় ছোটখাটো কিছু কারনে, খুব নগণ্য বিষয় নিয়ে। যেমন, প্রিয় মানুষটা কথা শুনেনি বা কথা রাখেনি অথবা আব্বু-আম্মুর উপর ভীষণ অভিমানে। একটু পরই সেটা ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু ডিপ্রেশসড্ আমরা তখন হই যখন অনেকের মাঝে থেকেও আমাদের মনে হয় আমাকে বোঝার মতো কেউ আসলে নেই। যখন আমরা বুঝতে পারি আমাদের খারাপ লাগা বা একা লাগার ব্যাপার গুলো কেউ কেয়ার করেনা। যখন খুব মন চায় একজন কেউ এসে বলুক,'আমি তোমার সব কথা শুনবো' কিন্তু এমন কেউই আসলে আসেনা। নিজের সব টুকু দিয়ে কেনই বা কেউ এভাবে চাইবে...? সবাই নিজেকে নিয়েই ব্যাস্ত থাকে। এটাই স্বাভাবিক... 

অনেকের মাঝেও নিজেকে একা লাগার অনুভূতির মতো ভয়ংকর অনুভূতি বোধ হয় আর হয়না।সবার সাথে আমি হয়তো খুব হাসিখুশি কিন্তু এই আমিই হয়তো হাসি থামার পর ভীষণ একা। মাঝে মাঝে হয়তো মনে মনে চিৎকার করে বলি,"আমি অনেক একা। ভীষণ একা। প্লিজ কেউ আমার কথা গুলো শুনো। প্লিজ কেউ আমার মন খারাপ বুঝো"!
কিন্তু মুখে একটা মিথ্যা হাসি ঝুলিয়ে রেখে বুঝাই আমি অনেক হাসিখুশি একজন মানুষ "এটাই ডিপ্রেশন"।

"সে শুধু আমার " এই কথাটি আমি কখনো চিন্তাই করিনা। আমি সর্বোচ্চ বলতে পারি "আমি শুধু তার"। সে আমার বা আমার হয়েই সারা জীবন থাকবে এটা আমি কখনোই Guarantee-দিতে পারি না।  তাকে আমার বলার আগে আমি ভাবি, আমি নিজেই তো আসলে কারো না।যেখানে আমি নিজেই কারো না, সেখানে আমি অন্য একজনকে নিজের বলে দাবী করতে পারি না। পৃথিবীর কোথাও না কোথাও কেউ হয়তো ভেবে বসে আছে, "আমি শুধু তার"। কিন্তু আসলেই কি আমি তার? আমি কি আমার নিজেকে কাউকে দিতে পেরেছি বা পারবো কখনো?

এই পৃথিবীতে একটা মানুষও পুরোপুরি অন্য কারো হয়না। এটা কখনোই সম্ভব নয়, যদি কেউ বলে যে সে পুরোপুরি তার, তবে এটা ১০০% মিথ্যা কথা। নিজের সমস্তটা আসলে কাউকে দেওয়া যায়না, কখনোই না। তুমি প্রায়ই শুনতে পাবে "তুমি শুধু আমার" কিন্তু কখনো বলতে শুনবেনা, "আমি শুধু তোমার"। কেন বলে না ...? মানুষ মূলত অন্যকে নিজের করে পেতে চায়, পুরোটা পেতে চায়। একটা আস্ত মানুষের মন এবং শরীরের সম্পূর্ন অধিকার চায়। কিন্তু, কাউকে পুরোটা পাওয়ার জন্য মানুষ তার নিজেকে পুরোটা দিতে চায় না।

আমি আমার নিজেকে হারিয়ে, নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে কাউকে পেতে চাইনা। আমি চাই, সে আমার হোক আর সে চায়, আমি তার হই। দিনশেষে আমরা আসলে কেউই কারো হয়ে উঠতে পারিনা। এটাই বাস্তবতা...কাউকে পেতে চাইলে নিজেকে সমান ভাবে তার দিকে আগাতে হবে, তাকেও সমান ভাবে আগাতে হবে। একজনের একটু কম বেশি হলেই কেউ কারো মতো না এটাই প্রকাশ পাবে।

আমি প্রচন্ড Liberal-স্বভাবের মানুষ! সম্পর্কের যেসব দায়বদ্ধতা থাকে সেগুলোকে খুব গভীর ভাবে মনে গেঁথে ফেলি, ভালোবেসে ফেলি। প্রিয় মানুষের অভিমান ভাঙাতে গিয়ে যে সময় বিনিয়োগ করতে হয়, এই ছোট্ট জীবনে অত'টা সময় আমার কাছে নেই! নেই বললে ভুল হবে...। অভিমান ভাঙানোর চেষ্টা বড়জোর একবার দুবার করা যায়। ভালোবাসি বললে অভিমান, রাগ ভেঙ্গে যাবে এটাতেই আমি বিশ্বাস করি। এরচেয়ে বেশি জমিয়ে রাখলে সেটা আর অভিমান, রাগ এ সীমাবদ্ধ থাকে না। এই অভিমান তখন সম্পর্কে একটু একটু করে বিষাক্ত করে দেয়।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা আসলে ভালোবাসার দাবী নিয়ে বিপরীত মানুষটার স্বাধীনতা নষ্ট করে ফেলার চেষ্টা করি। এটা করা যাবেনা, ওটা করা যাবেনা! এভাবে চলো, ওভাবে চলো! এত রাতে বাইরে কি করো? তোমার ফোন ওয়েটিং কেন? তোমার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড দাও! তুমি ওই মেয়ে বা ছেলের দিকে তাকাইলা কেন? আরেকজনের ছবিতে লাভ রিয়্যাক্ট দিয়েছো কেন? রাতে খেয়েছো? খাও নি কেন? ঘুমিয়েছো? এখনো ঘুমাও নি কেন? তুমি তো আমাকে ভালোবাসো না! তোমাকে এখন আর বিশ্বাস করিনা! তোমার সাথে আমার এডজাস্ট হচ্ছেনা! We are not made for each other. তোমার মতো মানুষকে ভালোবেসে ভুল করেছি, এভাবে আর হয়না...! Fantasy Level Cross- করলেই আমাদের অভিযোগের তালিকা বড় হতে থাকে। যার জন্য একজীবন বাঁচতে চেয়েছিলে, তার জন্যই জীবনটা বিরক্তিকর মনে হবে। কিন্তু আমার কাছে বিষয় গুলো অন্য রকম, আমি একটু ভিন্ন ভাবে দেখি। সে যখন আমার অস্তিত্ব থাকবে তার প্রতি আমার, আমার প্রতি তার একটা অধিকার, নির্ভরশীলতা থাকবে। সে যদি আমার অস্তিত্ব থাকে আমার সব বিষয় তার কথা বলার, ভালো- মন্দ জানার অধিকার তার আছে। এই বিষয় গুলো চাইলেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নেওয়া যায়, আবার Dominating- হিসেবেও নেওয়া যায়। Dominating- করছে এটা ভাবলে সম্পর্ক বিষিয়ে যাবে, ভালোবাসার বহিঃ প্রকাশ ভেবে নিয়ে ভালোবাসা বাড়বে।

নিজেকে নিয়ে বাঁচতে শেখাটা ভীষন জরুরী..
পরনির্ভরশীলতা একটা ব্যাধির মতো। এই অসুখ একবার ভেতরে জন্মে গেলে, তোমার চলার পথ কঠিন হয়ে উঠবে যদি ভালোবাসা টা মনে না থাকে। তবুও, আমার সাথে সবার মতাদর্শ মিলবেনা। কেউ কেউ প্রচন্ড পরনির্ভরশীল হতে ভালোবাসে। ফোনের ওপাশ থেকে কেউ খেতে না বলা পর্যন্ত খাবেনা। অসুখের সময় দু'বেলা যত্ন না নিলে কান্না করে চোখ লাল করে ফেলবে। একজন নির্দিষ্ট মানুষের অযত্নে মরে যেতে চাইবে, অভিমান করবে। অভিযোগ করবে, তারা পরজীবী হতে ভালোবাসে। তারা তাদের নিজের অস্তিত্বকে অন্যের কাছে হস্তান্তর করে দেয়। তারা এভাবেই ভালো থাকে। কারণ তারা ভালোবাসায় নিজেদের একই সুতোয় ভালোবাসায় বেঁধে রাখে। নিজের বলতে তখন একা বুঝায় না, দুজনকে মিলিয়েই বাঁচা বুঝায়। অর্থটা একটু ভিন্ন...।। শুধু নিজেকে নিয়ে বাঁচা, আরেকটা হলো ভালোবাসার মানুষের সাথে ভালোবাসা নিয়ে বাঁচা...।। 

অনেকে বলে,
যে মানুষ আমার হবে, সে মানুষ আমারই! যত্নে অযত্নে সে আমার। স্বাধীনভাবে বাঁচার পরও সে আমার। দু'জন মানুষ তার নিজ নিজ কক্ষপথে হেটে চলেও ভালোবাসতে পারে। এই ম্যাচিউরিটিটা আমাদের আসেনা। কিন্তু আমি বলি, ভালোবাসার সম্পর্কে ম্যাচিউরিটিটা আনতে নেই। ম্যাচিউরিটি  বলতে সম্পর্কের ছোট ছোট আল্লাদ, খুনসুটি, অভিমান, পাগলামো কে বুঝাচ্ছি। এগুলো সম্পর্কে সজীব রাখে, বাঁচিয়ে রাখে। এগুলোর মাঝে ম্যাচিউরিটি চলে আসলে সম্পর্ক আর সম্পর্ক থাকে না, কর্কশ হয়ে যায়, প্রাণটা চলে যায়। ভালোবাসা মানেই পাগলামো, এক জনের জন্য আরেক জনের ভালোবাসার পাগলামো...।।

আমরা ধরে নেই, যে আমার মানুষ হবে তার কোন ব্যক্তিগত জীবন থাকা যাবেনা। আমাকে ভালোবাসে মানে, তার জীবনের প্রতিটা জায়গায় আমার থাকা বাধ্যতামূলক। ভালোবাসার নামে আমরা মাঝে মাঝে বিরক্তি সৃষ্টি করি। সম্পর্কের এত এত দায়বদ্ধতায় একসময় দমবন্ধ লাগবে অপর পাশের মানুষটার। আমরা নিজে নিজে একজন অন্যজনের প্রতি থাকা বিশ্বাসের জায়গাটা নষ্ট করি।

যে মানুষ তোমাকে ঠকাবে, তুমি হাজারটা Restriction- দেওয়ার পরও সে ঠকাবে। যে রয়ে যাবে জীবনে, সে রয়েই যাবে। রয়ে যাওয়া মানুষ আসলে Restriction- এর জন্য রয়ে যায় না, রয়ে যায় তোমাকে সে ভালবাসে বলে। এমনি এমনি রয়ে যায়, সে তোমাকে ছাড়া থাকতে পারে না বলে রয়ে যায়, অন্য কাউকে ভাবতে পারে না বলে রয়ে যায়। তার উপস্থিতিতে তোমার অক্সিজেনের অভাববোধ না হওয়াটাই তো স্বাভাবিক, তেমনি তোমার উপস্থিতিতে সে সাচ্ছন্দ ভাবে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারে এটা অনুভব করাটাই ভালোবাসা। তার প্রতি ভালোবাসাটা একদম ভেঙেচূরে টাইপ ভালোবাসা...।।

তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
বাসি ভালো তোমার যা সব কিছু,
তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
মিশে যেতে চাই তোমার কোমল হাত ধরে,
দূর দিগন্তে চিরতরে কোন এক সবুজ ছায়া ঘেরা পথ ধরে।

তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
বাসি ভালো শুধুই তোমাকে,
তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
কেবলি তোমাকে চাই- চাই তোমার হৃদয় ও মন
চাই কিছু মিষ্টি আলাপন, হৃদয়ে হৃদয়ের আবেগে।

তোমাকে ভালোবাসি তাই- বাসি ভালো তোমারই নয়ন,
নয়নে নয়নে আলাপন,
সেথায় রয়েছে মনের মিলন।
তোমাকে ভালোবাসি তাই- সেথায় দেখতে পাই-
                                                                                 নিজেকে । 

তোমাকে ভালোবাসি তাই- বাসি ভালো তোমার রাঙা ঠোঁট,
তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
সেই ঠোঁটে এঁকে দিতে চাই- ভালবাসার চিহ্ন,
সঙ্কীর্ণ আলোকিত ওলোট-পালোট মন।

তোমাকে ভালোবাসি তাই- বাসি ভালো বিনয় তোমার,
তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
তোমার উড়ন্ত খোলা চুল কেড়ে নেয় মন,
সারাক্ষণ শুধু "তুমি" হৃদয়ে আমার।

তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
বাসি ভালো আমি তোমার পায়ের ঐ পায়েল,
তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
কোন এক পড়ন্ত বিকেলে নিজ হাতে পড়াতে চাই ঐ রাঙা পায় পায়েল খানি...। 

তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
তোমার হাতে কাঁচের চুড়ি আলতো করে পড়িয়ে নিতে চাই,
তোমাকে ভালোবাসি তাই- তোমার পায়ের নুপুরের রিনিঝিনি শব্দে-
এ হৃদয়ের গভীরে বাজে সর্বদাই।

তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
বাসি ভালো তোমার অশ্রুজল,
তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
মুছে দিতে চাই আঙ্গুলি স্পর্শে- পরম আবেগে,
অশ্রু তোমার চোখের- টলোমল।

তোমাকে ভালোবাসি তাই- 
বাসি ভালো তোমার ভিজে দুটি পা,
তোমাকে ভালোবাসি তাই- বর্ষাস্নাত দিনে তোমাকে চাই,
কিংবা কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে তুমি - আমি আর কুয়াশা,
তারপর কুয়াশা ভেজা ঘাসে খালি পায়ে কিছুটা পথ হাটা।

তোমাকে ভালোবাসি তাই-  
তোমায় ভালোবাসি হাজার বার, হাজার ভাবে। 
তোমাকে ভালোবাসি তাই- আমি মনে আগুন জ্বালাই বারবার,
আমি এক মনে লিখি কবিতা- 
আমি কবি; কেবলি তোমার কবি।
ভালোবাসি তাই তোমায় ভালোবেসে যাই।

প্রেমে ঝগড়া থাকবেই। জ্ঞানীরা বলেন- ঝগড়া ছাড়া প্রেম আর মশলা ছাড়া তরকারী সমান কথা। বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় বড় ঝগড়া হয়ে যায় প্রেমিক প্রেমিকার মাঝে। মনের মানুষের সঙ্গে প্রচণ্ড ঝগড়া করার কিছুক্ষণ পরে যখন মন কেমন কেমন করে, অথবা সেই মনের মানুষ রেগেমেগে ফোন সুইচ অফ করার পরে নিজেই যখন আবার ফোন করেন, ঠিক তখনই ঝগড়া-কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জিতে যায় ভালোবাসা। এতো ঝগড়ার পর মনের সাথে যুদধ করে যখন হেরে গিয়ে তার কথাই মনে পরে, তার কাছে যেতে ইচ্ছে করে তখন আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন তাকে আপনি কতোটা ভালবাসেন। ছোট্ট এই বিষয়টি বুঝতে কোনও মনোবিদের প্রয়োজন নেই। যে কোনও অনুভূতিশীল মানুষ,  সিরিয়াস সম্পর্কে রয়েছেন এমন কেউ যদি হন তবে তিনি নিজেকে দিয়েই সেটা বুঝতে পারবেন এবং পারা উচিত।

‘গার্ডিয়ান’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সমীক্ষার ফলাফল বলছে, যে সমস্ত দম্পতি বা যুগলরা ঝগড়া করেন বা বেশি বেশি অভিমান করেন, তাঁরাই সম্পর্কের দিক থেকে অনেক বেশি সুখী তুলনা মূলক ভাবে তাঁদের থেকে যাঁরা সচরাচর সমস্ত মতান্তর-মনান্তর, মনের ভাব ঝুলিতে লুকিয়ে রাখেন। এই সংক্রান্ত একাধিক মার্কিনি গবেষণার ফলাফলও তাই বলছে। 

দম্পতিদের বা যুগলদের সবচেয়ে বড় ভুল হল কোন কিছু এড়িয়ে যাওয়া। আমরা ভাবি কিন্তু মুখে বলি না, অন্তত যতক্ষণ না গোটা ব্যাপারটা অসহ্য হয়ে ওঠে, ততক্ষণ পর্যন্ত না। আমরা আসলে এই সব কথোপকথন গুলো এড়িয়ে যাই এটা ভেবে যে বললে অনেক কিছু হতে পারে। কিন্তু আমরা এটা বুঝি না যে না বললেও অনেক কিছু হতে পারে। মনের কথা চেপে রাখলে যেটা হবে নিজের মাঝে শুধু শুধু একটা তিক্ততা জমা হবে, আস্তে আস্তে তা বিষাক্ততায় পরিণত হবে। তখন আর বিশ ঝেড়ে ফেলা সম্ভব হবে না। 

আসলে সম্পর্কে ঝগড়া যত বেশি, তত বেশি উষ্ণ সেই সম্পর্ক। পরস্পরের কাজ নিয়ে, ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, তার সমালোচনা করা অথবা অভিমান করা এই সব কিছুই সম্পর্ককে উজ্জীবিত রাখে।ঝগড়া কখনো ভালোবাসা কে শেষ করতে পারে না বরং ভালোবাসাকে ভালো বাসতে শেখায়।

MARI themes

Powered by Blogger.