প্রেমে ঝগড়া থাকবেই। জ্ঞানীরা বলেন- ঝগড়া ছাড়া প্রেম আর মশলা ছাড়া তরকারী সমান কথা। বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় বড় ঝগড়া হয়ে যায় প্রেমিক প্রেমিকার মাঝে। মনের মানুষের সঙ্গে প্রচণ্ড ঝগড়া করার কিছুক্ষণ পরে যখন মন কেমন কেমন করে, অথবা সেই মনের মানুষ রেগেমেগে ফোন সুইচ অফ করার পরে নিজেই যখন আবার ফোন করেন, ঠিক তখনই ঝগড়া-কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জিতে যায় ভালোবাসা। এতো ঝগড়ার পর মনের সাথে যুদধ করে যখন হেরে গিয়ে তার কথাই মনে পরে, তার কাছে যেতে ইচ্ছে করে তখন আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন তাকে আপনি কতোটা ভালবাসেন। ছোট্ট এই বিষয়টি বুঝতে কোনও মনোবিদের প্রয়োজন নেই। যে কোনও অনুভূতিশীল মানুষ,  সিরিয়াস সম্পর্কে রয়েছেন এমন কেউ যদি হন তবে তিনি নিজেকে দিয়েই সেটা বুঝতে পারবেন এবং পারা উচিত।

‘গার্ডিয়ান’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সমীক্ষার ফলাফল বলছে, যে সমস্ত দম্পতি বা যুগলরা ঝগড়া করেন বা বেশি বেশি অভিমান করেন, তাঁরাই সম্পর্কের দিক থেকে অনেক বেশি সুখী তুলনা মূলক ভাবে তাঁদের থেকে যাঁরা সচরাচর সমস্ত মতান্তর-মনান্তর, মনের ভাব ঝুলিতে লুকিয়ে রাখেন। এই সংক্রান্ত একাধিক মার্কিনি গবেষণার ফলাফলও তাই বলছে। 

দম্পতিদের বা যুগলদের সবচেয়ে বড় ভুল হল কোন কিছু এড়িয়ে যাওয়া। আমরা ভাবি কিন্তু মুখে বলি না, অন্তত যতক্ষণ না গোটা ব্যাপারটা অসহ্য হয়ে ওঠে, ততক্ষণ পর্যন্ত না। আমরা আসলে এই সব কথোপকথন গুলো এড়িয়ে যাই এটা ভেবে যে বললে অনেক কিছু হতে পারে। কিন্তু আমরা এটা বুঝি না যে না বললেও অনেক কিছু হতে পারে। মনের কথা চেপে রাখলে যেটা হবে নিজের মাঝে শুধু শুধু একটা তিক্ততা জমা হবে, আস্তে আস্তে তা বিষাক্ততায় পরিণত হবে। তখন আর বিশ ঝেড়ে ফেলা সম্ভব হবে না। 

আসলে সম্পর্কে ঝগড়া যত বেশি, তত বেশি উষ্ণ সেই সম্পর্ক। পরস্পরের কাজ নিয়ে, ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, তার সমালোচনা করা অথবা অভিমান করা এই সব কিছুই সম্পর্ককে উজ্জীবিত রাখে।ঝগড়া কখনো ভালোবাসা কে শেষ করতে পারে না বরং ভালোবাসাকে ভালো বাসতে শেখায়।

বিলাসিতা আর দুঃখ বিলাস এক নয়। অনেকটা গানের কথার মতো-"মনটা যদি না থাকতো আমার কিছুই মনে পড়তো না, এই মন তবে এমন করে কেমন কেমন করতো না- আর তাকেও মনে পড়তো না ।" আমার যখন বিষণ মন খারাপ হয়, হাজার মাইল দূরে থাকা মানুষটির দরজায় গিয়ে আনমনে কড়া নাড়ি। মানুষটা খুব বেশি ভালো- দরজা খুলে আমাকে আশ্রয় দিতো তার কাছে নিতো প্রতিনিয়ত। আমার বুকের ভেতর যখন বোকা সোঁকা কষ্ট গুলো চেপে বসতো আনমনেই, আমার অবচেতন মনের তখন ইচ্ছে হতো- এই ভারটা একটু হালকা করা দরকার। আমি মানুষটাকে চোখ বুঝে ডাকতাম। চোখ বন্ধ করে যখন তাকে দেখতাম, কষ্ট গুলো কিভাবে যেন হালকা হয়ে যেতো চোখের পলকেই।

এই বিশাল পৃথিবীতে যখন নিজেকে খুব একলা লাগতো, চোখ বুজে মানুষটার সামনে চলে যেতাম। আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই মানুষটা বুঝে নিতো। মানুষটা চোখে চোখ রেখে বলতো, "আরেহ আমি আছি না...?" তখন আমার আর একলা লাগতো না। সুখি সুখি একটা অনুভূতি হতো।

মাঝরাতে প্রায়শই আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে কেমন যেন একটা অস্থির রকমের "কোথাও কেউ নেই" নামক অনুভূতি জেগে উঠে। এই অনুভূতিটা খুব কষ্ট দেয়, আমাকে ঘুমাতে দেয় না। চোখ বন্ধ করলেই এই মানুষটা তখন 'প্লিজ ঘুম হয়ে যাও চোখে' আর ঘুম হয়ে আসতো আমার মন খারাপের রাতে। আর আমিও ঘুমিয়ে পড়তাম অস্থিরতা থেকে।।

সারা দিনে একলা পথ চলতে চলতে সারাদিনের জমে থাকা গল্প গুলো বলার জন্য একজন মানুষকে খুব দরকার হতো। আমি মানুষটিকে ডাকতাম। মানুষটা আমার হাত ধরে আমার পাশে বসে গভীর মনোযোগ দিয়ে আমার সব অর্থহীন, মূল্যহীন গল্প গুলো ক্লান্তিহীন ভাবে শুনতো। আমার হাসিতে হাসতো খুব, আর কান্নার রঙটা বুঝতো নিমিষেই।। 

আমার কখনোই কোন কিছুর নেশা ছিল না, এখনো নেই। কিন্তু আস্তে আস্তে কিভাবে যেন মানুষটার নেশা হয়ে গেলো আমার। খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারচ্ছিলাম মানুষটার প্রতি আমি কিভাবে যেন নেশাগ্রস্ত হয়ে গেলাম। দিন দিন এই নেশা তীব্র থেকে  তীব্রতর আকার ধারণ করলো। কতটা তীব্র সেটা আমি আগে বুঝতে পারি নি তবে এতোটা বুঝতে পারতাম তীব্রতার মাত্রা গভীর... একদিন টের পেলাম খুব ভালোভাবে...

কোন এক শীতের সকালে ঘুম ভেঙ্গে আমি আবিষ্কার করলাম, কি যেন আর আগের মত নেই। আমি পাগলের মতো হয়ে যেতে লাগলাম কিন্তু কিছুই খুঁজে পেলাম না। আমি পাগলের মত মানুষটিকে ডাকলাম, কিন্তু মানুষটা আমার ডাকে সাড়া দিচ্ছে না। অনেকটা এমন সে আমার ডাক শুনছে না। আমার প্রশ্নের জবাব তাচ্ছিল ভাবে দিয়ে সে কোথায় যেন হারিয়ে গেলো। নিজের মাঝে আমার ছোট ছোট গল্প গুলো জমতে থাকলো। বুকটা আসতে আসতে ভারী হতে লাগলো। বুকের ভেতর এত এত বোকাবোকা কষ্ট অপেক্ষা করতো মানুষটার জন্য। মানুষটা আর আগের মত এসে পাশে বসে গল্প শুনছে না...মন খারাপের রাতে মানুষটা 'ভিনদেশী তারা' হয়ে আমার আকাশে জ্বলতে থাকে। সে আমার ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। তাকে আর ছুঁতে পারি না, একদম না...।।

বুঝতে পারলাম মানুষটি ছিল আমার কল্পনা। বাস্তবের সাথে যার কিছুই মিল নেই। মানুষের মন পৃথিবীর সবচেয়ে বিচিত্র জিনিস। ভালোলাগা নিমেষেই তৈরি হয়, ভালোলাগা নিমেষেই চলে যায়।

আমার মনে জমে থাকা ছোট ছোট গল্প, বুকের ভেতর চেপে থাকা ভারী ভারী কষ্ট, আমার নিঃঘুম রাতের ঘুম ভাঙ্গা সকালের অবচেতন মন, ভীড়ের মাঝে ফুটপাতের প্রতিটি পায়ের পদক্ষেপ, সারাদিনের এলোমেলো কাজের ফাকে বা কফির মগে চুমুকে মনে পড়ে যাওয়া মানুষটার অস্তিত্বের স্মৃতির কথা। ওরা তো বুঝে না এটা বাস্তব না, এটা কল্পনা ছিল। ওরা খুঁজতে থাকে সেই মানুষটাকে... ওরা প্রশ্ন করে, "কেন বাস্তব নয় এগুলো...?"

আমি এই কেন এর উত্তর খুঁজে পাইনি, আমার কাছে এই 'কেন?' এর উত্তর নেই। আমি জানি না আমার কল্পনা কেন আমার বাস্তবতার মতো নয়। আমি শুধু জানি,  আমার কল্পনাটা ভুল ছিল। ভুল কল্পনায় আমি মানুষটির কাঁধে আশ্রয় চেয়েছিলাম, ভুল কল্পনায় মানুষটির আঙ্গুলের ফাঁকে অধিকার খুঁজেছিলাম। কল্পনায় যে মানুষটার সাথে থাকার নেশা একসময় খুব ভরসা দিতো, সেই অভ্যাসই একসময় তীব্র কষ্ট দেয়। সেই কষ্ট থেকে বের হওয়া খুব কঠিন, সেই তিব্র নেশা থেকে চাইলেই বের হওয়া যায় না...

ভালোবাসা হঠাৎ করে হলেও ভালোবাসার পর সব কিছু হুট করে হয়ে উঠে না। শুরুর দিকে সব কিছু মধুর মতো লাগলেও আসতে আসতে সেটা তিক্ততায় পরিণত হয় নিজেদের কিছু ভুলের কারণে। আমরা কেউই সম্পর্কের মাঝে তিক্ততা চাই না কিন্তু তিক্ততা চলেই আসে। আর এই তিক্ততা আসে একে অপরকে ভুল বুঝার কারণে, বুঝতে না পারার কারনে। আমরা ভালোবাসি ঠিকই কিন্তু ভালোবাসার মানুষটিকে একটুও বুঝার চেষ্টা করি কি...?  তিক্ততা এখান থেকেই শুরু হয়, আসতে আসতে তিক্ততা বাড়তে বাড়তে সম্পর্কের বিচ্ছেদর দিকে চলে যায় কিন্তু আমরা কখনোই চাই না কোন সম্পর্কের বিচ্ছেদ হোক। আমরা অনেক কিছুই চাই না কিন্তু সেটাই ঘটে যায়।

সম্পর্কের আগে এবং সম্পর্কের পরের সময়টা অনেক বেশি পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যেমন, মেয়েটা কেমন সেটা সম্পর্কের আগে খুব ভালোভাবেই জানা থাকে। সে কি করতে পছন্দ করে, কি অপছন্দ করে, তার খারাপ অভ্যাস গুলো কি কি, তার চলাফেরা কেমন আরো অনেক কিছু কিন্তু সম্পর্ক শুরু হওয়ার পর এগুলো নিয়েই বেশি ঝামেলা হয়। যেখানে মানুষটি কেমন সেটা জেনেই ভালোবাসেন সেখানে সম্পর্ক হয়ে যাওয়ার পর তার এসকল বিষয়ে কথা বলাটা কেমন হয়ে যায় না...? এই বিষয় গুলো একটা মেয়ের চেয়ে একটা ছেলে বেশি Face-করে। একটা ছেলে হয়তো তার চলাফেলা তার ভালোবাসার মানুষের কথায় বদলিয়ে নিতে পারে কিন্তু ধাক্কা টা খায় অন্য জায়গায়। মেয়েটা সমবয়সী হোক আর বয়সে ছোট হোক সে যাই হোক মেয়েটা কিন্তু ছেলেটার বর্তমান অবস্থা জেনেই ভালোবাসায় জড়ায় কিন্তু দু'দিন যেতে না যেতেই কথার সুর ঠিকই পাল্টায়। ছেলেটার Career- নিয়ে কথা বলে না এরকম মেয়ের সংখ্যা নাই বললেই চলে। আমি বলছি না Career- নিয়ে কথা কেন বলে, Career- নিয়ে কথা অবশ্যই বলা উচিত & এটা বলার Right-তার আছে। কারন, Career- উপর নির্ভর করে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ। 

তুমি Career- নিয়ে ভাবচ্ছো না, তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না, আমাকে নিয়ে তোমার কোন চিন্তা নেই, এভাবে আর কত দিন, Job-এর জন্য try- করচ্ছো না কেন, ভালো Job- এর জন্য কেন Preparation-নিচ্ছো না; এরকম আরো অনেক কথা শুনতে হয়। আচ্ছা একটা ছেলে কি বেকার ভাবে বসে থাকতে চায়...? হয়তো সে Better- কিছুর জন্য try-করে কিন্তু সেটা হয়ে উঠচ্ছে না এই মুহূর্তে বা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আজ বললে কাল ই তো সে কোন Company-এর CEO হয়ে যেতে পারবে না তাই না ? Actually- আমি বলতে চাচ্ছি Career- নিয়ে একটা মেয়ে যে ভাবে কথা বলে সেটা একটা ছেলে কখনোই মেনে নিতে পারে না। এই সময়টিতে ছেলেটার Inspiration, Motivation, Support - খুব বেশি দরকার হয়। কারন, একটা ছেলে যখন সমবয়সী কাউকে ভালোবাসে তখন তার ভালোবাসার মানুষকে হারানোর ভয়ে থাকে শুধু তার Career-এর জন্য। সে এমনিতেই খুব বেশি Tension, Depression-এ ভোগে। একটা মেয়ে যে ভাবে Career- নিয়ে ব্যাঙ্গ করে কথা বলে তাতে ছেলেটা Inspired-না হয়ে আরও বেশি Depression-এ ভোগে Frustration-এর মাঝে দিন কাটায় Demotivated- হয়ে যায়। আচ্ছা আপনি যখন তার Career-নিয়ে কথা বলেন একবারও কি তার চোখের দিকে তাকিয়ে দেখেছেন? একবারও কি দেখার চেষ্টা করেছেন আপনার এই কথায় তার ভিতরটা কতোটা কষ্টে কাতর হয়ে যায়, একবারও কি দেখতে পেরেছেন তার চোখের দিকে তাকিয়ে আপনাকে পাওয়ার জন্য সে কতোটা Effort- দিচ্ছে, কিভাবে Career-এর পিছনে ছুটে বেড়াছে। যেখানে হয়তো এই সময়টিতে Career-নিয়ে তার ভাবার কথাই না। হয়তো আপনার চোখে এগুলো পড়ে না বা আপনি এগুলোকে কিছুই মনে করেন না। আপনার জন্য তার Effort-যদি আপনার চোখে না পড়ে তাহলে আপনি তাকে কতোটা ভালোবাসেন সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই হয়...।

কয়টা মেয়ে আছে যে এই কথা গুলোকেই Positive way-তে, একটু ভালোবেসে Support-দিয়ে বলতে পারে...? হাজারে একটা পাওয়া যাবে না। আপনি জানেন কি একটা ছেলে পরিবারের কাছ থেকেও বেশি তার ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে Positive-কথা শুনে, Support-পেয়ে Inspired-হয়...? কিন্তু এই কাজটা কোন প্রেমিকাই করে না। দেখা যায় এমন কিছু Negative-কথা বলে যা Demotivate-করে দেয়। আমার দেখা অনেক প্রেমিক যুগল এর মাঝে Only-একটা মেয়েকে দেখেছিলাম যে তার প্রেমিক কে Support- দিতো যেখানে ভাইয়া বেকার ছিল, অপর পাশে আপুটা Job-করতো। ভাইয়ার Job- হচ্ছিল না কিন্তু আপুটা যেভাবে Support-দিত সেটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।  খুব কম মেয়েই এই কাজটি করতে পারে। 

একটা ছেলের যখন Support-প্রয়োজন ঐ সময়টিতে তার ভালোবাসার মানুষের মতো Support- আর কেউই দিতে পারে না। সফল একজন মানুষ হওয়ার জন্য পরিবারের ভূমিকা অনেক, কিন্তু আমি মনে করি পরিবারের চেয়ে প্রিয়জন, ভালোবাসার মানুষ বেশি Support- দিতে পারে সফল হওয়ার জন্য। যারা এই Support- পায় এদের মতো ভাগ্যবান আর কেউই নেই। 

যাকে ভালো লাগে, সে হয়তো আমার মত না। ভালো তো কত মানুষকেই লাগে। কারো চেহারা দেখে ভালো লাগে, কারো কাজকর্ম দেখে ভালো লাগে, কারো কথা শুনে ভালো লাগে। ভালো লাগার কোন শেষ নেই । ভুলটা হয় তখনই যখন শুধুমাত্র ঐ 'ভালো লাগা' এর উপর ভিত্তি করে আমরা কাউকে পাকাপাকিভাবে নিজের জীবনের সাথে জড়ানোর চিন্তা করি !!

যাকে ভালো লাগে, সে হয়তো আমার মত না। তার সাথে হয়তো আমার কিছুই মেলে না। তার হয়তো আমার মত জোছনা ভালো লাগে না। যে টকটকে লাল রঙের লিপস্টিক তার ঠোঁটে আমি কল্পনা করতাম, সেই লাল রং হয়তো তার ভীষণ অপছন্দ। যে নীল রঙের পাঞ্জাবি তার ভীষণ ভালো লাগে, আমার হয়তো নীল রঙের কোন পাঞ্জাবিই নেই !! সে হয়তো অনেক খোলা মেলা মনের, অনেক Extrovert- অপর দিকে আমি হয়তো অতোটা খোলা মেলা মনের না- Introvert.

আমার নীরবতা ভালো লাগে, হয়তো এমন হতে পারে তার কোলাহল পছন্দ। আমার প্রিয় বইটার উপর তার বাড়ির ধূলো গুলো জমতে থাকে প্রতিনিয়ত। প্রচন্ড চঞ্চল ঐ মানুষটাকে আমার মত চুপচাপ কম কথা বলা মানুষের ভালো লাগে, হয়তো তারও আমাকে ভালো লাগে। কিন্তু দিনশেষে, সে আমাকে বুঝে না, আমিও তাকে বুঝি না, একদম না !! মন দিয়ে মন না বুঝলে কি কিছু হয়...!!! কিচ্ছু না...

তার এলো চুল গুলো দু' আঙ্গুল দিয়ে সরিয়ে দেয়ার প্রচন্ড ইচ্ছা কিংবা চোখের কাজলের ভেতর মায়া খুঁজে পাওয়া অথবা হাতের মুঠোয় হাত রেখে একটা হৃদস্পন্দন মিস করে যাওয়াটাই কি সব ??

দিনশেষে শত সহস্র অমিল গুলোর কাছে আর কেউ কাউকে না বুঝতে পারার দ্বন্দ্ব গুলোর কাছে এইসব ভালোলাগা গুলো, তীব্র অনুভূতি গুলো হেরে যায়। হেরে যেতে বাধ্য...!! অমিল গুলো মনে খুব ভালোভাবেই বসে যায়। এই অমিল গুলোই পথ চলায় বাঁধা, পথের কাটা। এই কাটা উপেক্ষা করে এগিয়ে যাওয়া খুব সহজ কাজ নয়। 

ভালোলাগার মানুষের সাথে মাঝে মাঝে ভালো থাকা যায় না এই অমিল গুলোর জন্য। ভালোলাগা আর ভালো থাকা এর মাঝে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে অমিলের দেয়াল। তবে ভালোলাগাতে দোষ নেই। সে হয়তো অনুভূতি বোঝে না, অনুভূতির পরোয়া করে না !! কিন্তু নিজের অনুভুতি তো নিজের কাছে, নিজের ভালোলাগাতো একান্তই নিজের...।  তবু ভালোবাসা বেঁচে থাকে মনে, ভালোবাসা বাঁচিয়ে রাখে, মন দিয়ে মনকে টানে...। 

সঠিক সময়ে হোক আর ভুল সময়ে হোক, জীবনের কোন এক সময় আমরা ভালোবেসেই ফেলি। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে আমরা কখনোই চলতে পারি না, মনের সাথে তো নয়-ই। যে মানুষটি ভালোবাসা থেকে হাজার মাইল দূরে থাকতে চায় সেও একটা সময় অনুভব করে তার জীবনে একজন মনের মানুষ দরকার, মনের কথা বুঝার মতো কেউ একজন দরকার। তবে ভুল সময়ে কারো জীবনে গিয়ে বা কাউকে জীবনে এনে ভালোবাসার অর্থ- আমরা বদলীয়ে দেই। একটা ছেলেকে জীবনে আনা যেমন সহজ কাজ নয়, ঠিক তেমনি একটা মেয়েকেও জীবনে জড়িয়ে ফেলা সহজ কাজ নয়। অনেক সময় অনেক হিসেব-নিকেশ করতে হয় যদি হোঁচট খেতে না চায়। 

কোন ছেলের প্রেমে যদি পড়তেই হয়, ভালোবাসতেই হয় তবে ছেলেটির জীবনের সবচেয়ে খারাপতম সময়েই তাকে ভালোবাসা উচিত একজন মেয়ের। জীবনের ভালো সময়ে সব ছেলেই থাকে নিজের দুনিয়ায় রাজা। রাজার প্রেমে তো জরিনা থেকে জারিন সবাই পড়তে চায়। জীবন যুদ্ধে দুর্দান্ত অসহায় সময়ে একজন ছেলের পাশে কেউ ই থাকতে চায় না। আর যে মেয়েটি এই জীবন যুদ্ধে ঢাল হয়ে দাঁড়ায়, অসহায় পরাজিত ছেলেটির আশ্রয় হয় যে মেয়েটি; তার মতো সাহসী এবং সহিষ্ণু নারী হবার অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম। সবাই এই সাহসিকতা দেখাতে পারে না। এই খারাপতম সময়ে একটা ছেলের হাত ধরার মতো, পাশে থাকার মতো, পাশে থেকে সাহস যোগানো খুব সহজ কাজ নয়। খুব কম সংখ্যক মেয়েই পারে এই কাজ করতে, হাতে গোনা ১% এরও কম। এই সময়ে যে মেয়েটি কোন ছেলের জীবনে পাশে থাকে সে আর যাই হোক ঐ মেয়েকে কখনোই ছেড়ে যেতে পারে না।

ভালোবাসার মেয়েটির মুখের ছোট্ট এক টুকরো হাসি দেখার জন্য যে পুরুষটি পুরো নীলক্ষেতের সমস্ত গল্পের বই কিনে চমকে দিতে পারে, শীতের ভোরে আলো ফোঁটার আগেই পুরো শহরের সমস্ত ফুল মেয়িটির বাসার দরজায় উপহার পাঠাতে পারে-- এ রকম রোমান্টিক, যত্নশীল মনের এবং প্রতিষ্ঠিত, পয়সাওআলা পুরুষকে তো সব মেয়ে-ই ভালোবাসতে পারে এবং ভালোবাসতে চায়ও। কিন্তু জীবন নামক যুদ্ধে যখন এই প্রতাপশালী এবং দুর্দান্তরকম ভালোবাসতে জানা পুরুষটিই জীবনের চরম খারাপ সময়ে এসে দাঁড়ায়, এতোটাই অসহায় সময় সামনে আসে যে সূর্যের আলোটুকুও তাকে হিসেব কষে দেখতে হয় , অক্সিজেন টানতে হলেও হিসেব কষতে হয় , বেঁচে থাকাই যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ-- এ রকম সময়ে তার জীবনের সব থেকে প্রায়োরিটি পাওয়া মেয়েটি, ভালোবাসার মানুষটি কি করবে বলুন তো...?

এ রকম পরিস্থিতিতে সম্ভবত দুটো অপশন থাকে মেয়েটির সামনেঃ- 

এক--"We are Just Friend" বলে কেটে পরা। আর যাওয়ার সময় বলে যাওয়া "আরে আমি তো তোমাকে শুধু বন্ধু ভাবতাম এর বেশী কিছু না, আমরা ভালো Friend- হয়েই থাকি"- বলে ফেলা। বর্তমান ভার্চুয়াল যুগে সব থেকে সহজ অপশন হচ্ছে এটা।

দুই-- আমরা যারা 90s-এর তারা সম্ভবতঃ যা করবে তা হলো নিজেও সূর্যের আলো দেখা বন্ধ করে দিবে, সূর্যের আলোটাকে আলো ভাববে না। নিজেও হিসেব কষে অক্সিজেন টানবে। এমনকি নিজের ঘরে ভালো খাবার থাকলেও খাবে না কিংবা এসি থাকলেও তা আর অন করা হবে না, কিংবা নিজের গাড়ি থাকলেও গাড়ি Use- করবে না। পুরুষটির সমান কষ্টটুকু মেয়েটি নিজেও ফিল করতে চাইবে। যদিও এটা করা খুব সহজ কাজ নয়, এতোটা Risk, অনিশ্চয়তায় কোন মেয়েই হয়তো সাহস করে থাকবে না। থাকার কথাও নয়। 

যদিও বর্তমান ডিজিটাল যুগে এসব কাজকে পাগলামো বলা হলেও এসব পাগলামোতে মেয়েটি ভালোবাসা খুঁজে পেতে চাইবে, একটু বেঁচে থাকতে চাইবে। আর তার প্রতিবেলার নামাজের প্রার্থনা তে ভালোবাসার মানুষটির জন্য দোয়া চাইবে, তার পরিস্থিতির উন্নতির জন্য চাইতেই থাকবে স্রষ্টার কাছে।

খুবকরে ভালোবাসতে জানা এই পুরুষটি যখন অন্ধকাচ্ছন্ন সময় কে পেছনে ফেলে বেঁচে ফিরে আসবে কাঙ্খিত নারীটির কাছে তখন সারা জীবনের জন্য একজন পুরুষকে জয় করে তার কলিজা হয়ে যাবে মেয়েটি। কারণ, শুধু ভালো সময়ে নয়, জীবনের সব থেকে খারাপতম সময়ে নারীটি সব ধরনের অপশন থাকার পরেও ছেলেটিকে ছেড়ে চলে যায়নি। চাইলেই পারতো অনেক ভালো কোন অপশন বেছে নিতে। ভালোবাসাতে কোন অপশন নেই, ভালোবাসা Fixed-থাকে একজনের মাঝে, মনটা একজনের জন্য Fixed-  হয়ে যায়। 

অপরদিকে একজন অসহায়, বিপদে পড়া কোন মেয়েকে প্রোপোজ করার মাঝে কোন বিশেষত্বর কিছু নেই। অসহায়, দুঃসময়ে একজন মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর মতো, মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার পুরুষের সংখ্যার অভাব নেই। শুধু আমাদের সমাজেই অগণিত না বরং পুরো পৃথিবী জুড়েই অসংখ্য।সুযোগ সন্ধানী তো সবাই হতে পারে। ক'জন পুরুষ পারে ভালো সময়ে, জীবন যুদ্ধে On fire- এ থাকা একজন যোদ্ধা নারীকে নিজের করে পাবার চেষ্টাটুকু করতে ? একজন তীক্ষ্ম অনুভূতি সম্পন্ন Sensible- প্রতিষ্ঠিত নারীকে জয় করে ক'জন পুরুষ পারে ভালোবেসে নিজের মাথা নতজানু করতে ? ক'জন পারে একজন মেয়ের হাজার অপশন থাকার পরেও তাকে নিজের করে পেতে, তার ভালোবাসাতে মেয়েটিকে জয় করতে...? সব পুরুষ পারে না। একটা মেয়ে খারাপ সময়ে সব চেয়ে বেশি ভুল করে, এই সময়ে তাকে কেউ একটু Support-দিলে, একটু পাশে থাকলে সে তাকেই আপন ভাবতে শুরু করে। আর এই সময়ে সুযোগ সন্ধানী অনেক ছেলের পাশে এসে ভীড় জমায়। কিন্তু ভালো সময়টিতে একটা মেয়েকে ভালোবেসে মন জয় করে কাছে পাওয়া যুদ্ধ জয় করার চেয়েও বেশি কষ্টকর। একটা মেয়েকে যদি ভালোবাসতেই হয় তাহলে মেয়েটি যখন "আসল আমি থাকে" "দুর্বল আমি না" তখন ভালোবেসে বুকে জড়াতে হয়।

টাকা এবং ভালোবাসা দুটি বড় বিষয় যা প্রায়ই কথায় কথায় বিতর্কিত হয়। কিছু মানুষ মনে করেন যে টাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ কারণ টাকা ছাড়া তাদের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে কষ্টকর হয়ে যাবে। অন্যদিকে, কিছু মানুষ মনে করে যে ভালোবাসা টাকার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, টাকা দিয়ে ভালোবাসা কিনতে পারা যায় না কিন্তু ভালোবাসা দিয়ে সব জয় করা যায়। 

এই লিখাটিতে আমি সর্বপরি বুঝানোর চেষ্টা করবো জীবনে আপনার কাছে কি গুরুত্বপূর্ণ। সেটা কি ভালোবাসা...? নাকি টাকা...?

প্রথমেই টাকার বিষয়টায় আসি। কেন টাকা গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশ্নটি খুবই বোকার মতো একটি প্রশ্ন। যারা মনে করেন যে, টাকা ভালোবাসার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তারা বিশ্বাস করে যে টাকা ছাড়া সে তার ভালবাসাকে নিজের কাছে ধরে রাখতে পারবে না। তারা ভাবেন টাকাই পারে এক মাত্র তাদের দু'জনকে এক সাথে ধরে রাখতে। সুখি পরিবার গড়তে তারা প্রথমেই ভাবেন সে টাকা ছাড়া বাড়ি, গাড়ি কিনতে পারবেন না। তারা মনে করেন সুখে থাকার জন্য বাড়ি, গাড়ি, থিয়েটারে সিনেমা দেখা, বিলাস-বহুল জীবন যাপন। টাকা ছাড়া মানুষ Comfortable-ভাবে জীবন যাপন করতে পারে না।

ভালোবাসা কি...? ভালোবাসা কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয় যেখানে টাকা ভালোবাসা কিনতে পারে না? ভালোবাসা ছাড়া আপনি যা করেন তা অর্থহীন বলে মনে হবে আপনার। টাকা থাকার পরও দেখবেন ভালোবাসা ছাড়া আপনি ভিতরে খালি খালি অনুভব করবেন। সব কিছুই ঠিক আছে কিন্তু ভালোবাসা ছাড়া সব অসম্পূর্ণ মনে হবে। আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যদি আপনি অনেক ধনী এবং বিশ্বের সমস্ত টাকা আছে; এই টাকা উদযাপন করার জন্য হলেও কিন্তু আপনার একজন প্রিয় মানুষ, ভালোবাসার মানুষ দরকার হবে। এটাতেই কি প্রকাশ পায় না- টাকা নয় ভালোবাসাই বেশি প্রয়োজন সুখি হওয়ার জন্য? 

ভালোবাসা নাকি টাকা এই উত্তরটি সহজে খুঁজে বের করার জন্য আমি আর একটু গভীরে গিয়ে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করচ্ছি। আসলে কোনটি বেশি প্রভাবিত করে জীবনকে- "টাকা নাকি ভালোবাসা"।

জীবনে বেঁচে থাকার জন্য টাকা এবং ভালোবাসা উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। "ভালোবাসা এবং টাকা" জীবনে তাদের নিজস্ব কাজ রয়েছে এবং এই দুটিই আমাদের চলার সঙ্গি। একটু ভেবে দেখুন তো আপনি আপনার হাত নাকি পা'কে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন? সম্ভবত, উভয় হাত এবং পা গুরুত্বপূর্ণ আপনার কাছে এবং আপনি স্পষ্টভাবে কোনটিকেই হারাতে চান না। একই ভাবে ভালোবাসা এবং টাকার জন্য বলা যেতে পারে। উভয় আমাদের জীবন সহজ করার জন্য তাদের নিজস্ব উপায়ে কাজ করে এবং গুরুত্বপূর্ণ। 

ভালোবাসা গুরুত্বপূর্ণ জীবনের জন্য। কিন্তু এই যুগে আপনি এক সেকেন্ডের জন্য চিন্তা করবেন না, শুধু ভালোবাসা নিয়ে জিরো টাকা নিয়ে ভালোবাসা টিকিয়ে রাখতে পারবেন।

টাকা জীবনের জন্য প্রয়োজন কিন্তু ভালোবাসা তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন। ভালোবাসা থাকলে আপনি কম টাকাতেও সুখি হতে পারবেন, ভালোবাসা না থাকলে হাজার টাকা থাকলেও সুখি হতে পারবেন না। জীবনে সুখি হওয়ার জন্য টাকার চেয়ে ভালোবাসার বেশি প্রয়োজন। ভালোবাসা থাকলে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ৫ টাকা দিয়ে এক কাপ চা- তেও সুখ অনুভব হবে কিন্তু ভালোবাসা না থাকলে 5 Star-হোটেলে ১০০০ টাকা দিয়ে এক কাপ চা- খেয়েও অসুখি অনুভব করবেন। ভালোবাসা থাকলে ছোট্ট চিলে কুঠতেও সুখি ভাবে জীবন যাপন করতে পারবেন, কিন্তু ভালোবাসা না থাকলে Duplex-বাড়ি, Marsadiz-গাড়িতে ঘুড়েও সুখি হবেন না। 

সর্বশেষে একটি কথাই বলবো- টাকা ভালোবাসা কিনতে পারে না, সুখ কিনতে পারে না। কিন্তু ভালোবাসা সব জয় করতে পারে। সুখি হওয়ার জন্য ভালবাসাটিই বেশি প্রয়োজন।  

ভালোবাসতে ভয় পায় এমন মানুষ পৃথিবীতে আছে। কিন্তু আমার মতো ভালোবাসার কথা ভাবতেই ভয় পায় এমন মানুষ খুব বেশি নেই। হ্যা, আমি এমন একজন মানুষ যে ভালোবাসার কথা ভাবতেই হাজারো প্রশ্ন মাথায় এসে হাজির হয়। ভালোবাসা যদি এতই মধুর তাহলে কেন আমার এতো ভয় হয়। কেন ভাবতে পারি না কেউ একজন হাত ধরে সারা জীবন পাশে থাকেবে...?

আমি ভালোবাসতে ভয় পাই। এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে আমি ভুল মানুষকে ভালোবাসতে ভয় পাই। এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে সঠিক নাকি ভুল সেটা বুঝে উঠাটাই বড় দায়। আমার হৃদয় চাইলেও আমি ভালোবাসি না, ভালোবাসাতে পারি না, ভয়ে কুঁকড়ে যাই। প্রিয়জনকে হারানোর ভয়ে আমি ভালোবাসি না, ভালোবাসাতে ভয় হয়।

খুব কাছ থেকে দেখেছি বছরের পর বছর ভালোবেসে যাওয়ার পর হঠাৎ করে হারিয়ে যেতে। কিন্তু তারা দু'জন দু'জনকেই কথা দিয়েছিল পাশে থাকবে সারাজীবন। আমি কাঁদতে দেখেছি খুব কাছ থেকে, হারিয়ে যেতে দেখেছি তাদের স্বপ্ন গুলোকে। হারিয়ে যেতে দেখেছি হাসি মাখা মুখটা; যে মুখে সবসময় হাসি লেগেই থাকতো। হারিয়ে যেতে দেখেছি নতুন করে তাদের মাঝে স্বপ্ন দেখতে। আমি এই হারানোর ব্যথাকে ভয় পাই, খুব বেশি ভয়। আমি প্রিয়জনের জন্য রাত জেগে কান্না করাকে ভয় পাই। আমি ভালোবাসিনা কারণ আমি জীবন নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে আক্রান্ত, স্বপ্ন গুলোকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে নিজেকে গুঁটিয়ে ফেলি। প্রেমিকার বুকভরা ছলনার কারণে অন্ধকার ভবিষ্যৎ এর ভয়ে আমি ভালোবাসিনা, ভয় হয় ভালবাসতে।

প্রিয়তমাকে হারিয়ে সারাজীবন মরে মরে বেঁচে থাকার ভয়ে ভালোবাসতে ভয় হয়। যে মানুষটিকে নিয়ে রাত জেগে স্বপ্ন বুনা হয়, সেই মানুষটি হারিয়ে যাওয়ার পর তাকে ঘিরে স্বপ্ন গুলো ভেবে রাতের ঘুম নষ্ট করার ভয়ে আমি ভালোবাসিনা। "যদি রাত জেগে প্রিয়তমার ছলনার কারণে অশ্রু ঝরাতে হয়" এই ভয়ে আমি ভালোবাসিনা।

আমি দেখেছি খুব কাছের বন্ধুকে প্রিয়তমাকে হারিয়ে কাঁদতে। আমি দেখেছি যুবককে শত শত ব্যথায় অশ্রু ঝরাতে। আমি দেখেছি যুবককে উন্নত জীবন ছেড়ে মাদকাসক্ত হতে। দেখেছি কলম ছেড়ে আঙুলের ফাকে সিগারেটকে শোভা পেতে। দেখেছি ভালোবাসি বলে হঠাৎ করে অন্য জনের হাত ধরে চলে যেতে, দেখেছি কাঁধে কাঁধ রেখে একই স্বপ্ন অন্য একজনকে দেখাতে; যে স্বপ্ন সে কিছু দিন আগেও আরেক জনকে দেখেয়েছিল। দেখেছি মিথ্যা আশ্বাস, মিথ্যা আবেগের ছলনা কতোটা গভীর হতে পারে। দেখেছি একটা ছেলের হাসি মুখটা কিভাবে মলিন হয়ে যায়, কিভাবে হারিয়ে যায় হাস্যজ্বল মুখ।

আমি ভয় পাই এসব কে, অনেক ভয় পাই। এসব ভয় আমাকে ভালোবাসতে দেয়না, ভালোবাসার কথা ভাবতে ভয় দেখায়। বারবার জানান দেয় "ভালোবাসবি না"। আমি সেই সকল ভালোবাসা এবং ভালোবাসার মানুষকে সন্মান জানাই মন থেকে যারা হাজার বিপদেও ভালোবাসা ধরে রেখেছে, ভালোবাসার মানুষকে নিজের করে রেখেছে।


রাগ কে আমরা কেইবা পছন্দ করি...? কেউ না...।। রাগ খারাপ জিনিস হলেও রাগী মানুষরা কিন্তু খারাপ নয়।   রাগীরা মানুষ হিসেবে অনেক চমৎকার হয়, তাদের থাকে প্রবল ব্যক্তিত্ব। থাকে নিজস্বতা, আত্বসন্মানবোধ। একটা মানুষকে চেনা সহজ নয়, খুব কঠিন, খুব বেশিয় কঠিন। তবুতোঁ আমরা মানুষ চেনার চেষ্টা করি। মানুষ চেনার উপায় হল মনের ভেতর ও বাহিরের পার্থক্য। যার যত এই পার্থক্য কম, সে তত ভাল। খারাপ মানুষদের এই পার্থক্য অনেক বেশি। রাগী মানুষদের মন ও বাহিরের মাঝখানে একটি স্বচ্ছ কাঁচের দেওয়াল থাকে। মনে কি লুকিয়ে আছে সহজেই দেখা যায়। মনের ভেতর এবং বাহিরের পার্থক্য খুব কম থাকে তাদের। যখন রাগ করে, তখন হয়তো অনেক কিছুই বলে বা করে ফেলে। কিন্তু যখন বুঝে, খুব সুন্দরভাবে সেটা মেনে নেয়। এদের মাঝে আরেকটি খুব ভালো ব্যাপার হল- এরা যখন রাগ করে বা রেগে যায় তখন এরা মনের সব কথা বলে দেয়। আপনার সম্পর্কে যতো অভিযোগ যত কথা সব হরহর করে বলে দেয়। গোপন করে কিছুই রাখে না। কিন্তু যারা রাগে না তাঁরা সব কিছুই গোপন করে যায়। বাহিরে এক রকম আর ভিতরে আরেক রকম থাকে।

দুজন মানুষ যতই Close, আপন হোক না কেনো, অথবা যতই Best Friend- হোক না কেনো তাদের মন-মানসিকতা পুরোপুরি এক হয় না, হওয়া সম্ভবও না। হিউম্যান সাইকোলজিও তাই বলে। মতের অমিল থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক। রাগের বশে আমরা যখন প্রিয় মানুষ গুলোর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকি Sacrifice আর Compromise- এর বিষয়টা ঠিক তখনই চলে আসে। রাগ, অভিমান, খুনসুটি এই শব্দ গুলোর মাঝে আমরা গন্ডগোল বাঁধিয়ে ফেলি। রাগ সবার জন্য হলেও, অভিমান আর খুনসুটি প্রিয় মানুষ গুলোর জন্যই।

রাগি মানুষ ওয়াদা করে কখনো ওয়াদা ভাংগে না, কথা দিয়ে কখনো কথার খেলাপ করে না। এদের জীবনে নিজস্ব একটা নীতি থাকে। রাগী মেজাজী মানুষ গুলো অনেকটা দৃঢ়চেতা স্বভাবের হয়ে থাকে।আবার এদের মন ভালো হয়।মানুষের অন্যান্য সকল অনুভূতির মত রাগও একটা গুরুত্ত্বপূর্ণ আবেগ। এরা প্রচণ্ড রকম ভালবাসতে পারে। আর সেটা হয় সত্যিকার ভালোবাসা। এরা অন্যদের হয়তো পাত্তা দেয় না, মুখের উপর অনেক কিছুই বলে ফেলে। ফলে অনেকেই তাদের অহংকারী ভাবে, কিংবা ভুল বুঝে বা রাগি ভেবে দূরে থাকে কিন্তু তাঁরা জানে না বাহিরে রাগ থাকলেও মনে কতোটা ভালোবাসা, মায়া লুকিয়ে আছে। এরা যাকে ভালোবাসে অন্তর থেকে ভালোবাসে। আর সেই ভালোবাসায় থাকে সততা আর বিশ্বস্ততা। হয়তোবা এই জন্যই রাগীরা খুব ভাল সংসারী হয়, জীবনসঙ্গী হিসেবে Best- হয়। কিন্তু সকলে তাদের বুঝতে পাড়ে না। রাগী মানুষ দেখে ভুলটাই সব সময় বুঝে। 

আমরা অনেক সময়ই বলি সে আমার মতো না। আমার যা পছন্দ তার সেগুলো পছন্দ না, আমি যা করতে ভালোবাসি সেগুলো সে করতে ভালবাসে না। তার সাথে আমার যাবে না, তার সাথে আমার মিল হবে না। আসলে কি জানেন জীবনে চলতে গেলে দুটো মানুষ একরকম হলে সুখী হওয়া যায়না।দুইজন কে দুই রকম হতে হয়।একজন রোদ হলে আরেকজন কে বৃষ্টি হতে হবে। একজন অনেক রাগি হলে অপর জনকে ঠাণ্ডা মেজাজের হতে হবে। একজন অনেক বেশি কথা বলা স্বভাবের হলে অপর জনকে কম কথা বলার স্বভাবের হতে হবে। 

কেউ কেউ তো প্রথমেই লাফিয়ে ওঠে যে আরে সে তো আমার মত, তার সাথে আমার স্বভাবের অনেক মিল সে নিশ্চয় আমাকে অনেক ভালো বুঝবে।এই ভাবনা টা একদমই ভুল। একই স্বভাবের দুইজন একসাথে থাকা মানেই ঝগড়া। যেমন একজন রেগে গেলে অন্যজনকে তো অবশ্যই মানাতে হবে। এখন দুইজনই যদি সমান তালে ঝগড়া করে তাহলে জীবন আর জীবন থাকবে না। জীবনের নাম হবে জাহান্নাম। আর এভাবেই শুরু হয় দু'জনের মাঝে দূরত্ব, সম্পর্ক নষ্টের বড় কারণ।

একজন হয়তো একটু অবুঝ, অপরজন যদি ভালোবেসে বোঝায় তবে সেই অবুঝ মানুষ টা নিশ্চয় বুঝবে কোনটা ভালো কোনটা খারাপ। সে ঠিকই বুঝবে অপর পাশের মানুষটি কি চাচ্ছে, কি বুঝাতে চাচ্ছে। একজন হয়তো একটু বেশি রাগী, অপরজন যদি গাল টা টেনে ধরে একটু আদর করে বলে এত রাগ করতে হয়না; চলো সব মিটমাট করে নেই। তাহলে দেখবেন আর রাগারাগি টা থাকেনা। ভালোবাসা আরও বাড়বে। একজন অভিমান করলে অপরজন যদি অভিমান টা ভাঙায় তবে সেই অভিমান গভীর ভালোবাসায় রুপ নিবে। এখন দুই জন'ই যদি অভিমান করে বসে থাকে তাহলে সেই অভিমান কখনোই ভালো কিছুর রুপ নিবে না। দুইজন মানুষ একসাথে থাকলে ছোট খাটো ঝগড়া হবেই। ঝগড়ার সময় একজনের চুপ থাকতে হবে নাহলে ঝগড়া বাড়তেই থাকবে। বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হলো দুইজন ব্যক্তি একই রকম হওয়া। একজন অনেক বেশি কথা বলা স্বভাবের হলে, অপর জনকে সেই কথা হাসি মুখে শুনতে হবে। এখন দুই জনই যদি একই ভাবে কথা বলে তাহলে কে কার কথা শুনবে। 

তাই একজন অবুঝ, রাগী মানুষের জন্য শান্ত মানুষই উপযুক্ত। অবুঝকে বোঝান আর যে বুঝে তাকে সম্মান করুন, ভালোবাসুন।

ভালোবাসায় কখনো চাওয়া - পাওয়া থাকে না। যেটা থাকে সেটা হচ্ছে অধিকার, এক জনের প্রতি আরেকজনের অধিকার। ভালোবাসায় কোন প্রতিশোধ থাকে না। মানুষ টা যার সাথে ভালো থাকতে চায় তাকে তার মতো ছেড়ে দেওয়া উচিত। চাপ দিয়ে একটা সম্পর্কে জোর করে কখনো ভালোবাসা আদায় করা যায়না, ভালোবাসায় পরিণত করা যায় না। এটা তাহলে আর ভালোবাসার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনা, এটা বাজারের নিলামে উঠানো ভালোবাসা হয়ে যায়।

যদি আপনার হাসিতে কেউ তিল পরিমাণও সুখ খুঁজে পায়, তাহলে হাজার কষ্টে থাকলেও আপনার অবশ্যই হাসা উচিত। এই পৃথিবীতে খুব কম মানুষ থাকে, যাদের হাসিতে অন্য কেউ ভাল থাকে। অন্য কারো প্রার্থনায় যারা বাস করে, নিঃসন্দেহে এই মানুষ গুলো অনেক ভাগ্যবান, অনেক বেশি ভাগ্যবান নিয়ে বাঁচে। অথচ এদের মধ্যেই অনেকে জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্যে দিনরাত ব্যতিব্যস্ত হয়ে থাকেন। একটা মানুষ আপনাকে একটু সুখী দেখবে বলে নিজের সবটুকুই সপে দিচ্ছে, আর আপনি জীবনের প্রতি বিমুখ হয়ে আছেন, তার প্রতি উদাসীনতা দেখাচ্ছেন ! দিন শেষে কিন্তু আপনি নিজেই নিজের মাঝে একা হচ্ছেন, নিজেকে ভালোবাসা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। যার জীবনের পুরোটাই আপনার অস্তিত্ব, আপনার অস্তিত্ব ঘিরেই তার সব কিছু। আর সেই তাকেই আপনি অবহেলায় দূরে সড়াছেন। হারাচ্ছেন কিন্তু আপনিই, ভালোবাসা থেকে হারাচ্ছেন, ভালোবাসার মানুষটিকে হারাচ্ছেন।

আপনি যদি কোন কিছু নিয়ে জীবনকে ধিক্কার দিয়ে জীবন থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকেন, তাহলে বলতেই হয় আপনি জীবনের মানে টাই বুঝেন নি। জীবনটা খুব ছোট, এই ছোট্ট জীবনে জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখতে হয়, জীবনকে অনুভব করতে হয়। আপনার কাছে যদি জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়ার ১০ টি কারণ থাকে, তবে জীবনে রয়ে যাওয়ার, জীবনকে কাছ থেকে দেখার ১০০০ টি কারণ রয়েছে। আপনি সেই কারণ গুলোর মুখোমুখি হতে চাইছেন না বলেই খুঁজে পাচ্ছেন না।

যে মেয়েটা কিংবা ছেলেটা আপনাকে পাগলের মতো ভালোবেসে আর আপনি মুখ ফিরিয়ে আছেন দেখবেন এই মানুষটিকেই একদিন খুব বেশি দরকার আপনার। খুব দেরি করে হলেও একদিন আপনার মনে হবে সেই মানুষটির মাঝেই আপনার সুখ গুলো ছিল কিন্তু সেটা ঐ সময়টিতে বুঝতে পারেন নি বা বুঝতে চান নি। 

একটি সময় তার সব কিছুই খুব বেশি মিস করবেন। বড্ড মিস করবেন তার Care- গুলো। যেগুলো ভালোবাসায় মিশে ছিল, তিলেতিলে গড়ে তোলা তার মাঝে আপনার অস্তিত্ব। এখন যে বিষয় গুলো আপনার কাছে নেকামো, ডং মনে হচ্ছে একটি সময় এই বিষয় গুলোই আপনাকে কাঁদাবে, চুপ করিয়ে দিবে। আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে বিষয় গুলোতে কতো ভালোবাসা লুকিয়ে ছিল।  

ঘুম থেকে উঠেই তার কাছ থেকে পাওয়া "Good Morning" text-টি হয়তো এখন আপনার কাছে কোন মূল্যই বহন করে না, তেমন কিছু মনে হয় না। আপনি হয়তো জানেন না "Good Morning" is not just a text, it's a silent message remanding that he/she remember you when he or she wake up." একটু ভেবে দেখেছেন কি একটা মানুষের দিন শুরু হয় আপনার কথা ভেবে, আপনাকে wish-না করে যার দিন শুরু হয় না। আর আপনার কাছে এটার কোন Value-ই বহন করে না...!!! 

অসুস্থ হলে না চাইলেও ওষুধ খেতেই হয়, অনেকটা বাধ্য হয়েই খেতে হয়। কেউ বললেও খেতে হয়, না বললেও খেতে হয়। একটু ভেবে দেখেন তো আপনার অসুস্থতায় আপনার পরিবারের মানুষ ছাড়াও কেউ একজন অস্থির থাকে, কেউ একজন ঠিকি মনে করিয়ে দেয় আপনি ওষুধ খেয়েছেন কিনা। আপনার কাছে মনে হতেই পারে সে না বললেও তো আপনি ওষুধ এমনিতেও খেতেন। কিন্তু একটু অন্য ভাবে ভেবে দেখুন তো, আপনি ওষুধ খেতে যেন ভুলে না যান, আপনার সুস্থতা তার কাছে কতোটা জরুরী এটাই কিন্তু প্রকাশ পায় কিন্তু আপনি এই মুহূর্তে সেটা বুঝতে পারচ্ছেন না। সময় মতো Breakfast, Lunch, Dinner- করা বেশির ভাগ সময়ই করা সম্ভব হয়ে উঠে না। কিন্তু কেউ একজন ঠিকই মনে করিয়ে দিবে আপনাকে Lunch-এর কথা। হয়তো ব্যস্ততায় সে নিজেই Breakfast- করতে পারেনি কিন্তু আপনাকে বলতে সে ভুলে নি। আপনার মনে হতেই পারে সে না বললেও তো আপনি Lunch, Dinner- করবেন ই কিন্তু এটা হয়তো ভাবেন-ই না আপনার প্রতি সে কতোটা Caring- কতোটা যত্নশীল।

এই Caring-টাকে আজ আপনার নেকামো, আধিখ্যেতা, ডং, Immature-বলতেই পারেন, মনে হতেই পারে। জানেন তো ভালোবাসার মাঝে Maturity-চলে আসলে সেটা আর ভালোবাসা থাকে না, সাথে যোগ হয় স্বার্থ। তখন আর সেই ভালোবাসা নিঃ স্বার্থ থাকে না। ভালোবাসা মানেই পাগলামো, ভালোবাসা মানেই তার প্রতি যত্নশীল, ভালোবাসা মানেই তার মন বুঝতে পারা, ভালবাসার মানুষকে ভালো রাখা। এই বিষয় গুলো আপনার মনে দাগ কাটবে না। আপনার কাছে নেকামো মনে হবে। কিন্তু একটা সময় বড্ড মিস করবেন এই জিনিস গুলো, সাথে ঐ মানুষটিকেও। আজ যে গুলো নেকামো, ডং বলে অবহেলা করছেন, পাত্তা দিচ্ছেন না দেখবেন কোন রাতে জ্বরের ঘোরে সেই মানুষটিকেই পাশে চাচ্ছেন, তার সেই যত্ন মাখানো ভালোবাসা খুব মিস করচ্ছেন, প্রচণ্ড জ্বরে কপালে তার হাতের স্পর্শ-ই চাচ্ছেন । কিন্তু সেটা অনেক দেরি হয়ে যাবে, আপনার বুঝতে পারার মাঝে অনেক দিনের ফারাক।

গাছ মারা যাওয়ার পর গাছের মূল্য বুঝে লাভ নেই। ঐ সময় গাছ টিকে আর বাঁচানো যায় না। আমাদের ভুলটা এখানেই হয়। আমরা সবই বুঝি কিন্তু দিন শেষে; যখন সময় আমাদের হাতে থাকে না। জীবন থেকে খুব বেশি মূল্যবান সময় চলে যাওয়ার পর, জীবন থেকে সোনালী, ভালোলাগার, ভালোবাসার সময় গুলো হারিয়ে যাওয়ার পর। তখন শুধু আমরা আফসোস করি, সুখ হাতরে ফিরি। কিন্তু সুখ কিন্তু সেই আগেই অবহেলায় পায়ের নিচে পিষে ফেলেছেন। দিন শেষে আমরা সুখি হতে চাই, কিন্তু সুখ কে দূরে সরিয়ে দিয়ে। 

সুখি হতে হলে জীবনের প্রতি বিমুখ না হয়ে তাকে ভালোবাসতে জানতে হয়, ভালোবাসাকে যত্ন নিতে হয়। তবেই প্রতিটা নতুন ভোর একটি নতুন উপহার হয়ে আসে, সুখ বয়ে আনে জীবনে।

MARI themes

Powered by Blogger.