ভালোবাসতে ভয় পায় এমন মানুষ পৃথিবীতে আছে। কিন্তু আমার মতো ভালোবাসার কথা ভাবতেই ভয় পায় এমন মানুষ খুব বেশি নেই। হ্যা, আমি এমন একজন মানুষ যে ভালোবাসার কথা ভাবতেই হাজারো প্রশ্ন মাথায় এসে হাজির হয়। ভালোবাসা যদি এতই মধুর তাহলে কেন আমার এতো ভয় হয়। কেন ভাবতে পারি না কেউ একজন হাত ধরে সারা জীবন পাশে থাকেবে...?

আমি ভালোবাসতে ভয় পাই। এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে আমি ভুল মানুষকে ভালোবাসতে ভয় পাই। এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে সঠিক নাকি ভুল সেটা বুঝে উঠাটাই বড় দায়। আমার হৃদয় চাইলেও আমি ভালোবাসি না, ভালোবাসাতে পারি না, ভয়ে কুঁকড়ে যাই। প্রিয়জনকে হারানোর ভয়ে আমি ভালোবাসি না, ভালোবাসাতে ভয় হয়।

খুব কাছ থেকে দেখেছি বছরের পর বছর ভালোবেসে যাওয়ার পর হঠাৎ করে হারিয়ে যেতে। কিন্তু তারা দু'জন দু'জনকেই কথা দিয়েছিল পাশে থাকবে সারাজীবন। আমি কাঁদতে দেখেছি খুব কাছ থেকে, হারিয়ে যেতে দেখেছি তাদের স্বপ্ন গুলোকে। হারিয়ে যেতে দেখেছি হাসি মাখা মুখটা; যে মুখে সবসময় হাসি লেগেই থাকতো। হারিয়ে যেতে দেখেছি নতুন করে তাদের মাঝে স্বপ্ন দেখতে। আমি এই হারানোর ব্যথাকে ভয় পাই, খুব বেশি ভয়। আমি প্রিয়জনের জন্য রাত জেগে কান্না করাকে ভয় পাই। আমি ভালোবাসিনা কারণ আমি জীবন নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে আক্রান্ত, স্বপ্ন গুলোকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে নিজেকে গুঁটিয়ে ফেলি। প্রেমিকার বুকভরা ছলনার কারণে অন্ধকার ভবিষ্যৎ এর ভয়ে আমি ভালোবাসিনা, ভয় হয় ভালবাসতে।

প্রিয়তমাকে হারিয়ে সারাজীবন মরে মরে বেঁচে থাকার ভয়ে ভালোবাসতে ভয় হয়। যে মানুষটিকে নিয়ে রাত জেগে স্বপ্ন বুনা হয়, সেই মানুষটি হারিয়ে যাওয়ার পর তাকে ঘিরে স্বপ্ন গুলো ভেবে রাতের ঘুম নষ্ট করার ভয়ে আমি ভালোবাসিনা। "যদি রাত জেগে প্রিয়তমার ছলনার কারণে অশ্রু ঝরাতে হয়" এই ভয়ে আমি ভালোবাসিনা।

আমি দেখেছি খুব কাছের বন্ধুকে প্রিয়তমাকে হারিয়ে কাঁদতে। আমি দেখেছি যুবককে শত শত ব্যথায় অশ্রু ঝরাতে। আমি দেখেছি যুবককে উন্নত জীবন ছেড়ে মাদকাসক্ত হতে। দেখেছি কলম ছেড়ে আঙুলের ফাকে সিগারেটকে শোভা পেতে। দেখেছি ভালোবাসি বলে হঠাৎ করে অন্য জনের হাত ধরে চলে যেতে, দেখেছি কাঁধে কাঁধ রেখে একই স্বপ্ন অন্য একজনকে দেখাতে; যে স্বপ্ন সে কিছু দিন আগেও আরেক জনকে দেখেয়েছিল। দেখেছি মিথ্যা আশ্বাস, মিথ্যা আবেগের ছলনা কতোটা গভীর হতে পারে। দেখেছি একটা ছেলের হাসি মুখটা কিভাবে মলিন হয়ে যায়, কিভাবে হারিয়ে যায় হাস্যজ্বল মুখ।

আমি ভয় পাই এসব কে, অনেক ভয় পাই। এসব ভয় আমাকে ভালোবাসতে দেয়না, ভালোবাসার কথা ভাবতে ভয় দেখায়। বারবার জানান দেয় "ভালোবাসবি না"। আমি সেই সকল ভালোবাসা এবং ভালোবাসার মানুষকে সন্মান জানাই মন থেকে যারা হাজার বিপদেও ভালোবাসা ধরে রেখেছে, ভালোবাসার মানুষকে নিজের করে রেখেছে।


রাগ কে আমরা কেইবা পছন্দ করি...? কেউ না...।। রাগ খারাপ জিনিস হলেও রাগী মানুষরা কিন্তু খারাপ নয়।   রাগীরা মানুষ হিসেবে অনেক চমৎকার হয়, তাদের থাকে প্রবল ব্যক্তিত্ব। থাকে নিজস্বতা, আত্বসন্মানবোধ। একটা মানুষকে চেনা সহজ নয়, খুব কঠিন, খুব বেশিয় কঠিন। তবুতোঁ আমরা মানুষ চেনার চেষ্টা করি। মানুষ চেনার উপায় হল মনের ভেতর ও বাহিরের পার্থক্য। যার যত এই পার্থক্য কম, সে তত ভাল। খারাপ মানুষদের এই পার্থক্য অনেক বেশি। রাগী মানুষদের মন ও বাহিরের মাঝখানে একটি স্বচ্ছ কাঁচের দেওয়াল থাকে। মনে কি লুকিয়ে আছে সহজেই দেখা যায়। মনের ভেতর এবং বাহিরের পার্থক্য খুব কম থাকে তাদের। যখন রাগ করে, তখন হয়তো অনেক কিছুই বলে বা করে ফেলে। কিন্তু যখন বুঝে, খুব সুন্দরভাবে সেটা মেনে নেয়। এদের মাঝে আরেকটি খুব ভালো ব্যাপার হল- এরা যখন রাগ করে বা রেগে যায় তখন এরা মনের সব কথা বলে দেয়। আপনার সম্পর্কে যতো অভিযোগ যত কথা সব হরহর করে বলে দেয়। গোপন করে কিছুই রাখে না। কিন্তু যারা রাগে না তাঁরা সব কিছুই গোপন করে যায়। বাহিরে এক রকম আর ভিতরে আরেক রকম থাকে।

দুজন মানুষ যতই Close, আপন হোক না কেনো, অথবা যতই Best Friend- হোক না কেনো তাদের মন-মানসিকতা পুরোপুরি এক হয় না, হওয়া সম্ভবও না। হিউম্যান সাইকোলজিও তাই বলে। মতের অমিল থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক। রাগের বশে আমরা যখন প্রিয় মানুষ গুলোর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকি Sacrifice আর Compromise- এর বিষয়টা ঠিক তখনই চলে আসে। রাগ, অভিমান, খুনসুটি এই শব্দ গুলোর মাঝে আমরা গন্ডগোল বাঁধিয়ে ফেলি। রাগ সবার জন্য হলেও, অভিমান আর খুনসুটি প্রিয় মানুষ গুলোর জন্যই।

রাগি মানুষ ওয়াদা করে কখনো ওয়াদা ভাংগে না, কথা দিয়ে কখনো কথার খেলাপ করে না। এদের জীবনে নিজস্ব একটা নীতি থাকে। রাগী মেজাজী মানুষ গুলো অনেকটা দৃঢ়চেতা স্বভাবের হয়ে থাকে।আবার এদের মন ভালো হয়।মানুষের অন্যান্য সকল অনুভূতির মত রাগও একটা গুরুত্ত্বপূর্ণ আবেগ। এরা প্রচণ্ড রকম ভালবাসতে পারে। আর সেটা হয় সত্যিকার ভালোবাসা। এরা অন্যদের হয়তো পাত্তা দেয় না, মুখের উপর অনেক কিছুই বলে ফেলে। ফলে অনেকেই তাদের অহংকারী ভাবে, কিংবা ভুল বুঝে বা রাগি ভেবে দূরে থাকে কিন্তু তাঁরা জানে না বাহিরে রাগ থাকলেও মনে কতোটা ভালোবাসা, মায়া লুকিয়ে আছে। এরা যাকে ভালোবাসে অন্তর থেকে ভালোবাসে। আর সেই ভালোবাসায় থাকে সততা আর বিশ্বস্ততা। হয়তোবা এই জন্যই রাগীরা খুব ভাল সংসারী হয়, জীবনসঙ্গী হিসেবে Best- হয়। কিন্তু সকলে তাদের বুঝতে পাড়ে না। রাগী মানুষ দেখে ভুলটাই সব সময় বুঝে। 

আমরা অনেক সময়ই বলি সে আমার মতো না। আমার যা পছন্দ তার সেগুলো পছন্দ না, আমি যা করতে ভালোবাসি সেগুলো সে করতে ভালবাসে না। তার সাথে আমার যাবে না, তার সাথে আমার মিল হবে না। আসলে কি জানেন জীবনে চলতে গেলে দুটো মানুষ একরকম হলে সুখী হওয়া যায়না।দুইজন কে দুই রকম হতে হয়।একজন রোদ হলে আরেকজন কে বৃষ্টি হতে হবে। একজন অনেক রাগি হলে অপর জনকে ঠাণ্ডা মেজাজের হতে হবে। একজন অনেক বেশি কথা বলা স্বভাবের হলে অপর জনকে কম কথা বলার স্বভাবের হতে হবে। 

কেউ কেউ তো প্রথমেই লাফিয়ে ওঠে যে আরে সে তো আমার মত, তার সাথে আমার স্বভাবের অনেক মিল সে নিশ্চয় আমাকে অনেক ভালো বুঝবে।এই ভাবনা টা একদমই ভুল। একই স্বভাবের দুইজন একসাথে থাকা মানেই ঝগড়া। যেমন একজন রেগে গেলে অন্যজনকে তো অবশ্যই মানাতে হবে। এখন দুইজনই যদি সমান তালে ঝগড়া করে তাহলে জীবন আর জীবন থাকবে না। জীবনের নাম হবে জাহান্নাম। আর এভাবেই শুরু হয় দু'জনের মাঝে দূরত্ব, সম্পর্ক নষ্টের বড় কারণ।

একজন হয়তো একটু অবুঝ, অপরজন যদি ভালোবেসে বোঝায় তবে সেই অবুঝ মানুষ টা নিশ্চয় বুঝবে কোনটা ভালো কোনটা খারাপ। সে ঠিকই বুঝবে অপর পাশের মানুষটি কি চাচ্ছে, কি বুঝাতে চাচ্ছে। একজন হয়তো একটু বেশি রাগী, অপরজন যদি গাল টা টেনে ধরে একটু আদর করে বলে এত রাগ করতে হয়না; চলো সব মিটমাট করে নেই। তাহলে দেখবেন আর রাগারাগি টা থাকেনা। ভালোবাসা আরও বাড়বে। একজন অভিমান করলে অপরজন যদি অভিমান টা ভাঙায় তবে সেই অভিমান গভীর ভালোবাসায় রুপ নিবে। এখন দুই জন'ই যদি অভিমান করে বসে থাকে তাহলে সেই অভিমান কখনোই ভালো কিছুর রুপ নিবে না। দুইজন মানুষ একসাথে থাকলে ছোট খাটো ঝগড়া হবেই। ঝগড়ার সময় একজনের চুপ থাকতে হবে নাহলে ঝগড়া বাড়তেই থাকবে। বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হলো দুইজন ব্যক্তি একই রকম হওয়া। একজন অনেক বেশি কথা বলা স্বভাবের হলে, অপর জনকে সেই কথা হাসি মুখে শুনতে হবে। এখন দুই জনই যদি একই ভাবে কথা বলে তাহলে কে কার কথা শুনবে। 

তাই একজন অবুঝ, রাগী মানুষের জন্য শান্ত মানুষই উপযুক্ত। অবুঝকে বোঝান আর যে বুঝে তাকে সম্মান করুন, ভালোবাসুন।

ভালোবাসায় কখনো চাওয়া - পাওয়া থাকে না। যেটা থাকে সেটা হচ্ছে অধিকার, এক জনের প্রতি আরেকজনের অধিকার। ভালোবাসায় কোন প্রতিশোধ থাকে না। মানুষ টা যার সাথে ভালো থাকতে চায় তাকে তার মতো ছেড়ে দেওয়া উচিত। চাপ দিয়ে একটা সম্পর্কে জোর করে কখনো ভালোবাসা আদায় করা যায়না, ভালোবাসায় পরিণত করা যায় না। এটা তাহলে আর ভালোবাসার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনা, এটা বাজারের নিলামে উঠানো ভালোবাসা হয়ে যায়।

যদি আপনার হাসিতে কেউ তিল পরিমাণও সুখ খুঁজে পায়, তাহলে হাজার কষ্টে থাকলেও আপনার অবশ্যই হাসা উচিত। এই পৃথিবীতে খুব কম মানুষ থাকে, যাদের হাসিতে অন্য কেউ ভাল থাকে। অন্য কারো প্রার্থনায় যারা বাস করে, নিঃসন্দেহে এই মানুষ গুলো অনেক ভাগ্যবান, অনেক বেশি ভাগ্যবান নিয়ে বাঁচে। অথচ এদের মধ্যেই অনেকে জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্যে দিনরাত ব্যতিব্যস্ত হয়ে থাকেন। একটা মানুষ আপনাকে একটু সুখী দেখবে বলে নিজের সবটুকুই সপে দিচ্ছে, আর আপনি জীবনের প্রতি বিমুখ হয়ে আছেন, তার প্রতি উদাসীনতা দেখাচ্ছেন ! দিন শেষে কিন্তু আপনি নিজেই নিজের মাঝে একা হচ্ছেন, নিজেকে ভালোবাসা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। যার জীবনের পুরোটাই আপনার অস্তিত্ব, আপনার অস্তিত্ব ঘিরেই তার সব কিছু। আর সেই তাকেই আপনি অবহেলায় দূরে সড়াছেন। হারাচ্ছেন কিন্তু আপনিই, ভালোবাসা থেকে হারাচ্ছেন, ভালোবাসার মানুষটিকে হারাচ্ছেন।

আপনি যদি কোন কিছু নিয়ে জীবনকে ধিক্কার দিয়ে জীবন থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকেন, তাহলে বলতেই হয় আপনি জীবনের মানে টাই বুঝেন নি। জীবনটা খুব ছোট, এই ছোট্ট জীবনে জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখতে হয়, জীবনকে অনুভব করতে হয়। আপনার কাছে যদি জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়ার ১০ টি কারণ থাকে, তবে জীবনে রয়ে যাওয়ার, জীবনকে কাছ থেকে দেখার ১০০০ টি কারণ রয়েছে। আপনি সেই কারণ গুলোর মুখোমুখি হতে চাইছেন না বলেই খুঁজে পাচ্ছেন না।

যে মেয়েটা কিংবা ছেলেটা আপনাকে পাগলের মতো ভালোবেসে আর আপনি মুখ ফিরিয়ে আছেন দেখবেন এই মানুষটিকেই একদিন খুব বেশি দরকার আপনার। খুব দেরি করে হলেও একদিন আপনার মনে হবে সেই মানুষটির মাঝেই আপনার সুখ গুলো ছিল কিন্তু সেটা ঐ সময়টিতে বুঝতে পারেন নি বা বুঝতে চান নি। 

একটি সময় তার সব কিছুই খুব বেশি মিস করবেন। বড্ড মিস করবেন তার Care- গুলো। যেগুলো ভালোবাসায় মিশে ছিল, তিলেতিলে গড়ে তোলা তার মাঝে আপনার অস্তিত্ব। এখন যে বিষয় গুলো আপনার কাছে নেকামো, ডং মনে হচ্ছে একটি সময় এই বিষয় গুলোই আপনাকে কাঁদাবে, চুপ করিয়ে দিবে। আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে বিষয় গুলোতে কতো ভালোবাসা লুকিয়ে ছিল।  

ঘুম থেকে উঠেই তার কাছ থেকে পাওয়া "Good Morning" text-টি হয়তো এখন আপনার কাছে কোন মূল্যই বহন করে না, তেমন কিছু মনে হয় না। আপনি হয়তো জানেন না "Good Morning" is not just a text, it's a silent message remanding that he/she remember you when he or she wake up." একটু ভেবে দেখেছেন কি একটা মানুষের দিন শুরু হয় আপনার কথা ভেবে, আপনাকে wish-না করে যার দিন শুরু হয় না। আর আপনার কাছে এটার কোন Value-ই বহন করে না...!!! 

অসুস্থ হলে না চাইলেও ওষুধ খেতেই হয়, অনেকটা বাধ্য হয়েই খেতে হয়। কেউ বললেও খেতে হয়, না বললেও খেতে হয়। একটু ভেবে দেখেন তো আপনার অসুস্থতায় আপনার পরিবারের মানুষ ছাড়াও কেউ একজন অস্থির থাকে, কেউ একজন ঠিকি মনে করিয়ে দেয় আপনি ওষুধ খেয়েছেন কিনা। আপনার কাছে মনে হতেই পারে সে না বললেও তো আপনি ওষুধ এমনিতেও খেতেন। কিন্তু একটু অন্য ভাবে ভেবে দেখুন তো, আপনি ওষুধ খেতে যেন ভুলে না যান, আপনার সুস্থতা তার কাছে কতোটা জরুরী এটাই কিন্তু প্রকাশ পায় কিন্তু আপনি এই মুহূর্তে সেটা বুঝতে পারচ্ছেন না। সময় মতো Breakfast, Lunch, Dinner- করা বেশির ভাগ সময়ই করা সম্ভব হয়ে উঠে না। কিন্তু কেউ একজন ঠিকই মনে করিয়ে দিবে আপনাকে Lunch-এর কথা। হয়তো ব্যস্ততায় সে নিজেই Breakfast- করতে পারেনি কিন্তু আপনাকে বলতে সে ভুলে নি। আপনার মনে হতেই পারে সে না বললেও তো আপনি Lunch, Dinner- করবেন ই কিন্তু এটা হয়তো ভাবেন-ই না আপনার প্রতি সে কতোটা Caring- কতোটা যত্নশীল।

এই Caring-টাকে আজ আপনার নেকামো, আধিখ্যেতা, ডং, Immature-বলতেই পারেন, মনে হতেই পারে। জানেন তো ভালোবাসার মাঝে Maturity-চলে আসলে সেটা আর ভালোবাসা থাকে না, সাথে যোগ হয় স্বার্থ। তখন আর সেই ভালোবাসা নিঃ স্বার্থ থাকে না। ভালোবাসা মানেই পাগলামো, ভালোবাসা মানেই তার প্রতি যত্নশীল, ভালোবাসা মানেই তার মন বুঝতে পারা, ভালবাসার মানুষকে ভালো রাখা। এই বিষয় গুলো আপনার মনে দাগ কাটবে না। আপনার কাছে নেকামো মনে হবে। কিন্তু একটা সময় বড্ড মিস করবেন এই জিনিস গুলো, সাথে ঐ মানুষটিকেও। আজ যে গুলো নেকামো, ডং বলে অবহেলা করছেন, পাত্তা দিচ্ছেন না দেখবেন কোন রাতে জ্বরের ঘোরে সেই মানুষটিকেই পাশে চাচ্ছেন, তার সেই যত্ন মাখানো ভালোবাসা খুব মিস করচ্ছেন, প্রচণ্ড জ্বরে কপালে তার হাতের স্পর্শ-ই চাচ্ছেন । কিন্তু সেটা অনেক দেরি হয়ে যাবে, আপনার বুঝতে পারার মাঝে অনেক দিনের ফারাক।

গাছ মারা যাওয়ার পর গাছের মূল্য বুঝে লাভ নেই। ঐ সময় গাছ টিকে আর বাঁচানো যায় না। আমাদের ভুলটা এখানেই হয়। আমরা সবই বুঝি কিন্তু দিন শেষে; যখন সময় আমাদের হাতে থাকে না। জীবন থেকে খুব বেশি মূল্যবান সময় চলে যাওয়ার পর, জীবন থেকে সোনালী, ভালোলাগার, ভালোবাসার সময় গুলো হারিয়ে যাওয়ার পর। তখন শুধু আমরা আফসোস করি, সুখ হাতরে ফিরি। কিন্তু সুখ কিন্তু সেই আগেই অবহেলায় পায়ের নিচে পিষে ফেলেছেন। দিন শেষে আমরা সুখি হতে চাই, কিন্তু সুখ কে দূরে সরিয়ে দিয়ে। 

সুখি হতে হলে জীবনের প্রতি বিমুখ না হয়ে তাকে ভালোবাসতে জানতে হয়, ভালোবাসাকে যত্ন নিতে হয়। তবেই প্রতিটা নতুন ভোর একটি নতুন উপহার হয়ে আসে, সুখ বয়ে আনে জীবনে।

কাউকে খুব ভালোবাসো...? কি ভাবচ্ছো তার প্রতি সব অধিকার আছে তোমার..!! তোমার ধারণা ভুল, ১০০% ভুল। ভালোবাসা আর তার প্রতি অধিকার এক জিনিস নয়। ভালোবাসলেই অধিকার খাটানো যায় না, যদি না সেও তোমাকে ভালো না বাসে। যখন কাউকে ভালোবাসো তখন তার প্রতি তোমার কোন অধিকার জন্মায় না, বরং তোমার প্রতি তার এক ধরনের অধিকার জন্মায়। হয়তো সে তোমাকে এতোটুকু ভালোবাসে না কিন্তু তবু তোমার প্রতি তার এক ধরনের অধিকার চলে আসবে, তুমি তাকে ভালোবাসো বলে। তোমার ভালোবাসার মাত্রা যতো গভীর, তার অধিকার ততোটা। 

কিন্তু, "যাকে তুমি ভালোবাসবে,  তার উপর তোমার এক ধরণের অধিকার খাটাতে ইচ্ছা করবে। খুব ছোট ছোট অধিকার। যে কোন মূহুর্তে তার খোঁজ নেয়ার অধিকার, কোথায় যাচ্ছে, কখন কি করছে, ঘণ্টায় ঘণ্টায় তার খোঁজ নিতে ইচ্ছে করবে। মানুষটা ঠিক মত খেয়েছে কিনা, ঘুমাচ্ছে কিনা, অসুখ হলে ঠিক মতো ওষুধ খেয়েছে কিনা - তা জানার অধিকার। ঠিক মতো না খেলে, না ঘুমালে, ওষুধ না খেলে অধিকার খাটিয়ে বলার অধিকার তোমার নেই, ধমকের শুরে কথা বলার অধিকার নেই তোমার যে এই কাজটি কেন করো নি বা এই কাজটি কেন করেছো।  মানুষটার মন খারাপ হলে মন ভালো করে দেয়ার অধিকার তোমার নেই। কিন্তু তোমার ভীষণ ভাবে ইচ্ছে করবে তার উপর এগুলো নিয়ে অধিকার খাঁটাতে, ভালোবাসা মিশিয়ে একটু ধমকের সুরে কথা বলতে। তোমার নিজেরো ইচ্ছে করবে অপর পাশের মানুষটিও তোমার উপর অধিকার নিয়ে কথা বলুক, একটু ধমকের শুরে কথা বলুক, ভীষণ ভাবে ইচ্ছে করবে পরাধীন হতে। 

প্রচন্ড জ্বর হলে তার মাথায় হাত রাখার অধিকার, তার কপাল স্পর্শ করে জ্বর দেখার অধিকার তোমার নেই। বৃষ্টির দিনে একই ছাতার নিচে একটুখানি আশ্রয় পাবার অধিকার, দিন শেষে বুকের ভেতর জমে থাকা গল্প গুলো চিন্তাভাবনা ছাড়াই তাকে শোনানোর অধিকার তোমার নেই। মনের সব কথা নিঃদ্বিধায় বলার অধিকার, তার কাছে মনের সব কথা নিঃসঙ্কোচে বলার অধিকার নেই তোমার।  

তুমি যাকে ভালোবাসো তার উপর এই অধিকার গুলো খাঁটাতে খুব করে ইচ্ছে করবে। এই অধিকার গুলো যদি তুমি মানুষটার উপর খাটাতে পারো তবে তুমি ভীষণ ভাগ্যবান বা ভাগ্যবতী। ভীষণ রকমের ভালোবাসার পরোও তার উপর অধিকার খাঁটাতে পারা যায় না, শুধু অপর পাশের মানুষটা ভালোবাসে না বলে। চাইলেও মানুষটার সামান্য খোঁজও নিতে পারা যায় না। কেন জানি আটকে যায়, অপর পাশের মানুষটির তির ছোড়া কথা আটকিয়ে দেয়। কঠিন বাস্তবতা তাকে আটকে দেয়।

অদৃশ্য অধিকার বলে একটা ব্যাপার আছে।  একমুখী বা এক তরফা ভালোবাসায় এই অধিকার গুলোই অদৃশ্য হয়ে থাকে। চাইলেও অনেক কিছুই করা যায় না, বলা যায় না। মানুষটা তোমার খুব কাছেই থাকবে, মানুষটার সাথে তোমার কথা হবে প্রতিদিন, গল্প হবে...।। কিন্তু এই অধিকার গুলো তুমি কখনোই খাটাতে পারবে না তার উপর। তুমি নিজের মাঝে ছটফট করবে কিন্তু করার কিছুই থাকবে না তোমার।  

বৃষ্টির দিনে মানুষটার ছাতার নিচে অনেক খানি জায়গা ফাঁকা থাকে, হুড তোলা রিকশাটাতে মানুষটার পাশের জায়গাটা শূন্য থাকে তুমি জানো। কিন্তু সেই শূন্যতা পূরণের অধিকার তোমার নেই। তোমার ইচ্ছে করবে এই শুন্যস্থান পূরণ করতে কিন্তু সে অধিকার তোমার নেই, একটুও নেই...।।  

প্রচন্ড মন খারাপের সময় মানুষটার গাল বেয়ে দু' ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়বে যখন, মানুষটি যখন মন খারাপ করে গালে হাত দিয়ে বসে থাকবে তখন ঐ নরম গালে আঙুল ছুঁয়ে অশ্রু মুছে দেওয়ার অধিকার তোমার নেই, তার হাত গাল থেকে সরিয়ে নিজের হাতে নিয়ে বলার অধিকার নেই যে "আমি তো আছি পাশে", এটা বলা তোমার জন্য নিষেধ।

ভালোবাসার মানুষকে এক পলক দেখতে চাওয়ার মতো ছটফটানি আর কিছুতে নেই। হঠাৎ মাঝরাতে তাকে ভীষণ দেখতে মন চাচ্ছে তোমার। কিন্তুু তুমি হাজার চেষ্টা করলেও তাকে দেখতে পারবেনা। না তাকে এতো রাতে ফোন দেওয়ার অধিকার আছে, না তাকে বুঝাতে পারবে তাকে তোমার ভীষণ দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে। 

তার সাথে হাঁটার অধিকার তোমার আছে,  কিন্তুু তোমার প্রচন্ড ইচ্ছা থাকার পরও তার হাতটি ধরে হাঁটার অধিকার তোমার নেই। তার হাত নিজের বুকে রেখে বলার অধিকার নেই "ভালোবাসি"। প্রচণ্ড ক্লান্তিতে যখন তোমার মাথা ঝিম ধরে আসে, মাথা ঘোড়াচ্ছে তখন তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকার অধিকার তোমার আছে কিন্তু তার কাঁধে মাথা রেখে একটু সস্তির নিঃশ্বাস ফেলার অধিকার তোমার নেই। রাস্তায় হাটার সময় পাশের বাগানের ফুল দেখিয়ে তাকে বলার অধিকার আছে "ফুলটা সুন্দর তাই না?" কিন্তু সেই ফুল ছিঁড়ে তার কানে ফাঁকে বা চুলে গুঁজে দেওয়ার অধিকার নেই তোমার। তার কপালের অবাধ চুলে হাত দিয়ে সরিয়ে দেওয়া ইচ্ছে হলেও তোমার অধিকার নেই চুল সরিয়ে দেওয়ার, চুলে একটু "ফুঁ" দিয়ে চুল গুলো এলোমেলো করে দেওয়ার। বিন্দু পরিমাণ অধিকার নেই তোমার। 

দিন শেষে তোমার শুন্যতা তোমার মনেই থাকে, সে বুঝবে না; কখনোই বুঝবে না। দিন শেষে তোমার জমে থাকা গল্প গুলো তোমারই থাকবে। ইচ্ছে করলেও তাকে কখনো বলা হবে না, তাকে কখনো বলা হয় না।

এই অদৃশ্য অধিকার গুলো শুধু কল্পনায় জমা থাকে। বাস্তবে দুটো মানুষের মাঝে একটা অদৃশ্য দেয়াল থাকে। দেয়ালের ওপাশ থেকে কেউ হাত না বাড়ালে ঐ দেয়াল টপকানো অসম্ভব ।"দেয়াল টপকানোর জন্য অপর পাশের মানুষটির হাত দরকার। এই দেয়ালটা চিনের প্রাচীর এর মতো বড়, প্রসস্থ মনে হলেও অপর পাশের মানুষটি চাইলেই হাত বাড়ালে ছুতে পারে।    

একদিক থেকে বা এক তরফা ভালোবাসা গুলো প্রচন্ড রকমের কষ্টের হয়। তারপরও মানুষ গুলো দিনের পর দিন একটা মানুষকে ভালোবেসে যায় কারন সে ভাবে মানুষটি একদিন এসে তাকে জড়িয়ে ধরে বলবে আমিও তোমায় "ভালোবাসি"। এটা তার বিশ্বাস, এই বিশ্বাস টাই তার অস্তিত্ব। হয়তো কারো স্বপ্ন পূরন হয় আবার কারোটা দিন শেষে সব মনের ইচ্ছা গুলো নিয়ে কাটিয়ে দেয় রাতের পর রাত। মানুষটি হয়তো একদিন অনেক দূরে চলে যায় আর বিপরীত পাশে মানুষটার সব ইচ্ছে গুলো একদিন নিজেকে মেরে ফেলে।

এক তরফা প্রেম নেশার মত, নেশার চেয়েও ভয়ানক, বিচ্ছেদের থেকেও যন্ত্রণাদায়ক। আপনাকে ভালোবাসে না, অথচ আপনি তাকে মন-প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসেন। হ্যা, এটা কেই একতরফা ভালোবাসা বলে। কিন্তু তার ভালোবাসা পাবেন এই আশায় কতদিন আপনি অপেক্ষা করবেন?

বুকের সীমাহীন ভালোবাসার মূল্যায়ন না পেয়ে হাজারো প্রকৃত প্রেমিক প্রেমিকার হৃদয় ভাঙার গল্প রয়েছে। কিন্তু সেই কাঙ্খিত মানুষটি যদি একটু গুরুত্ব দিতো তাহলে জীবনটাই না বদলে যেত। এ অভাবেই থেকে যায় একটি হৃদয়ের প্রতি অপর একটি হৃদয়ের একতরফা ভালোবাসা, রয়ে যায় মনে অপেক্ষারত ভালোবাসা।  চাইলেও কাঙ্খিত ব্যক্তিকে ভুলে যাওয়া যায় না, সত্যি বলতে সম্ভব হয় না বা অন্য কাউকে চিন্তায় আনাটাও সম্ভব হয় না। কী করেই বা সম্ভব, মনের মন্দির তো তার আশাতেই প্রদীপ জ্বেলে অপেক্ষায় থাকে।  আর সেজন্যই একটি মানুষের হাজারো অবহেলা সয়েও তবুও তার জন্য অপেক্ষা করা।

কোন এক প্রশ্ন প্রসঙ্গে ভারতের মনোবিজ্ঞানী ও সম্পর্ক-বিশেষজ্ঞ "প্রিতি সাইনি" বলেছিলেন- মূলত হৃদয় ভাঙা বলতে সেটাই বুঝায় যেখানে দু'পক্ষের স্বীকৃতিতে ভালোবাসা হয়েছিল; কিন্তু কোনো কারণে তা চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছায় নি। আবার একতরফা ভালোবাসাতেও এটা সত্য। এখানে তো একজনের ক্ষেত্রে অবশ্যই। যেখানে আপনার অনুভূতি ছিল কিন্তু তা প্রকাশ পায়নি বা প্রকাশ পেলেও স্বীকৃতি পায়নি। কখনো কখনো এই একতরফা ভালোবাসার অনিশ্চয়তার জন্যই কষ্টের কারণ বেড়ে যায়।  হয়তো কাঙ্খিত ব্যক্তি এক সময়ে ভালোবাসা বুঝতে পারবে, স্বীকৃতি দিবে- এ আশা নিয়েই মন আশায় বাচে। যে কারণে হৃদয় ভাঙার কারণ প্রত্যাখান নয়। আর স্বীকৃতি না পাওয়াটা হতাশায় থেকে যায়। এই হতাশা থেকে মনে অশান্তির সৃষ্টি হয়। এমনকি এই হতাশা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত করতে পারে।

যে আপনাকে ভালোবাসে না তাকে ভালোবাসা এক প্রকার আসক্তি বা নেশার মত। যেখানে আপনার ভালোবাসার কোনো স্বীকৃতি নেই সেখানে প্রত্যাখান হওয়ারও সম্ভাবনা নেই। প্রত্যাখান তখনই বলা যায় যখন আপনি তার কাছে আপনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার পর সে তা গ্রহণ না করে। তবে নিজের কাছে নিজে আপনি প্রত্যাখান ঠিকি হবেন, নিজের কাছে নিজেকে হেরে যাওয়া একজন মানুষ মনে হবে। তাকে নিয়ে কল্পনা করে তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে দেখতে আপনি নিজেই নিজের প্রতি আত্নবিশ্বাস হারিয়ে ফেলবেন। এতে করে কষ্টের কারণ বাড়তেই থাকবে। এই মানুষ টিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখার অভ্যাস পরিহার করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবেন কিন্তু আপনি ব্যর্থ হবেন, যদি সত্যি মন থেকে ঐ একজন মানুষকেই চেয়ে থাকেন। অনেকটা সময় নেওয়ার পর দেখবেন তার প্রতি ভালোবাসা কমেনি কিন্তু তাকে ভালোবাসা প্রকাশ করা আর হয়ে উঠচ্ছে না। নিজেকে সারাদিন নানা কাজে Busy- রাখার জন্য উঠেপড়ে লাগবেন কিন্তু দিন শেষে তাকেই মনে পড়বে। তবুও কিছুটা সময় কাজে ডুবে থেকে নিজেকে এবং তাকেও ভুলে থাকতে পারবেন কিন্তু সেটা ক্ষণিকের জন্য। 

মনোবিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন আপনি এমন পরিস্থিতিতে পড়বেন তখন বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে। তাও সম্ভব না হলে সব সময় নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। ফলে ভুল করেও সেই মানুষটির কথা আর মনে পড়বে না। কিন্তু একটা সময় নিজের নিঃশ্বাস ঠিকি ভারী হয়ে আসবে, তার কথা মনে হয়ে একটা দীর্ঘঃশ্বাস ঠিকি ফেলবেন। ভালোবাসাতো ভালোবাসাই, সেটা এক তরফা হোক আর দুইজন মিলেই হোক; মন থেকে ভালোবাসলে কোনটাই ভোলা যায় না।

পৃথিবীতে কোন মানুষই অন্য আরেকটা মানুষের মতো হয়না। আমরা প্রায়ই একটা কাজ করি, একজন মানুষের ভিতর আরেকজন মানুষকে খোঁজার চেষ্টা করি।একজনের সাথে আরেক জনকে মিলাতে চাই। হাত ধরলে আগের মানুষটার স্পর্শের কথা মনে পড়ে বা আরেকজন মানুষকে অনুভব করতে চাই। চোখের দিকে তাকালে মনে হয়, একদিন অন্য এক জোড়া চোখ ঠিক এভাবেই তাকিয়ে ছিলো, সেই চোখেও মায়া ছিল! আমরা নতুনের ভেতর পুরাতনকে খুঁজতে যেয়ে কখনো খেয়ালই করিনা, নতুন মানুষটাকে আবিস্কার করাই হয়নি! মনে রেখো- এই মানুষটা আর সেই মানুষটা এক নয়।

আমরা নিজের করে যা পাই, তা নিয়ে আমাদের সন্তুষ্টি আসেনা! যা হারিয়েছি টা নিয়ে আমরা অতৃপ্তিতে ভুগি সব সময়। একটা জিনিস ভালো করে খেয়াল  করে দেখবে, তুমি যখন একজন মানুষের কাছে ঠকে গিয়ে আরেক জন মানুষের সাথে সম্পর্কে জড়াও, তখন নতুন মানুষটাকে জানার আগ্রহের চেয়ে পুরাতন মানুষটার কথা নতুন মানুষকে জানানোর আগ্রহ বেশি কাজ করে তোমার। তাই না...? 

তুমি যখন একটা নতুন মানুষের জীবনে যাও, তখন মাঝে মাঝে এমন হয় যে, নতুনের ভেতর তুমি পুরাতনের একটা মিল পাও। সে এমন ছিল, সে এভাবে কথা বলতো, তার চাহনি এমন ছিল, তার রাগ এমন ছিল আরো অনেক কিছু। তারপর তোমার কল্পনায় নতুনের ভেতর পুরাতন জন্ম নেয়। আস্তে আস্তে পুরাতন মানুষটা মন দখল করে ফেলে। একদিন হুট করে অমিল দেখা দিলেই তুমি হয়তো বলে ফেলো "ও কখনোই আমার সাথে এমন করেনি!" এটা তোমার বর্তমান মানুষটিকে ভীষণ কষ্ট দেয়! তুলনা করা মানেই বুঝায় তুমি বর্তমানকে পেয়ে খুশি নও।

একজন মানুষের সাথে আরেকজন মানুষের আংশিক মিল থাকতে পারে কিন্তু কখনোই হুবহু মিলবেনা। জীবনে মানুষ আসবে, মানুষ যাবে। ভালোবাসা দিয়ে ভালোবাসা নিয়ে চলে যাবে। ভেঙে-চূড়ে চলে যাবে। আঙুল ধরে একটু একটু করে হাটতে হাটতে একদিন আঙুল ছেড়ে দিয়ে চলে যাবে অন্য পথে। তুমি একা হবে, নিঃসঙ্গতায় আক্রান্ত হবে। ডিপ্রেশন, অনিদ্রা, উদাসীনতা তোমার রক্তে মিশে যাবে, তোমাকে গিলে খাবে। তুমি মরে যাচ্ছো ভাবতে ভাবতে বেঁচে থাকবে। পথ চলবে একা, খাবে, ঘুমাবে, শ্বাস নিবে। বেঁচে থাকতে হয় বলে বেঁচে থাকবে। তারপর একদিন নতুন কেউ হুট করে জীবনে চলে আসবে, আসবেই...। গ্রহণ করা না করা সেটা তোমার বিষয়...। 

মানুষ কখনো অতোটা নিঃসঙ্গতায় বাঁচতে পারেনা। আমার কাউকে লাগবেনা বলা মানুষটাও ভেতরে ভেতরে বলে- "আমার একটা নিজের মানুষ চাই"। যখন একটা নতুন মানুষের কাছে তুমি পুরাতনের গল্প বলবে, তুমি বুঝে নিও তোমার Maturity Level- এখনো পরিপক্ক হয়নি। Mature-রা নিজের দুঃখ- কষ্টকে নিজের কাছে রাখে। এরা কখনোই তোমাকে তার মন খারাপের গল্প শোনাবেনা, কখনোই না।
তারা জানে, নিজের জীবনের এসব গল্প কেবল সাময়িক Sympathy- জোগাবো, চিরস্থায়ী কোন Solution- দিবে না। কারো করুনা পাওয়ার মতো অতোটা বোকা হলে জীবন চলে না। তুমি বরং নতুন মানুষকে আবিস্কার করতে চেষ্টা করো। মানুষ রহস্য পছন্দ করে, পৃথিবী রহস্য পছন্দ করে। নতুনে রহস্য থাকে, জানার অনেক কিছু থাকে, নতুন করে ভাব্বার অনেক কিছু থাকে। পুরাতনকে সামনে বসিয়ে নতুনকে আবিস্কার করা যায়না, পারবে না তুমি...। যে জায়গায় পুরাতন একটা গাছ রয়েছে সেখানে নতুন কোন গাছকে রোপণ করতে পারবে না, জীবনও অনেকটা এরকম। 

আমি বলছিনা, তাকে ঘিরে তুমি তোমার স্মৃতি সুখ, দুঃখ - কষ্ট, যন্ত্রনাকে ভুলে যাও। দুঃখ কষ্ট একান্তই নিজের। এসব অসুখের গল্প বুকের ভেতর জমিয়ে রাখতে হয়। মাঝে মাঝে অবসরে সেসব কষ্টকে চোখের সামনে বসিয়ে দুঃখ বিলাস করা লাগে। দুঃখ বিলাসের চেয়ে সুখের আর কিছু নেই। ধরো নতুনের সাথে এক প্লেটে ভাত খাওয়া শেষে বেলকনিতে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে পুরাতনকে মনে করে দু'মিনিট Nostalgic- হতে পারো। একটা ঘোর এসে দু'মড়ে মুচড়ে দিয়ে যাবে নিমিষেই। আবার ঘরে ফিরে নতুনের বুকে মুখ গুজে বসে থাকো। যে জিনিস জীবনে নেই, সে জিনিসের পিছে সময় বিনিয়োগ করার চেয়ে যে জিনিস জীবনে আছে, তার পেছনে সময়কে বিনিয়োগ করো। তখন জীবনে কিছু হলেও পাবে, ভাল কিছুই পাবে।

জীবনটা এমনই...।। এখানে অভিনয় করতে হয়, ভালো থাকার ভান করতে হয়, মিথ্যে মিথ্যে ভালোবাসতে হয়, ভুলে যাওয়ার অভিনয় করতে হয়, সব কিছু অভ্যাস করে নিতে হয়। Adjustment-করে নিতে হয় জীবনের সাথে, মনের সাথে, পরিবেশের সাথে। তুমি চাইলেই তোমার সুখের ভাগ সবাইকে দিতে পারো কিন্তু দুঃখ কষ্ট পারবে না কখনোই। কেউ বুঝবে না তোমার কষ্ট, কেউ শুনবে না তোমার মনের আর্তনাথ। দুঃখ কষ্টই তোমার নিজের অর্জন। এই দুঃখ কষ্ট তোমার একান্ত নিজের।

এসব অপ্রাপ্তিই তোমাকে আস্তে আস্তে বড় হতে শেখাবে। Mature- হতে শিখাবে। পরিপক্কতা এনে দিবে। কিছু জিনিস যত্ন করে নিজের কাছে রেখে দিতে হয়। নতুনকে আবিষ্কার করো, তার প্রাপ্যটুকু বুঝিয়ে দাও। পুরাতন সে তো এক অমিমাংশিত জীবনের গল্প, সে জীবনে নেই; কখনো আসবেও না। অতিতকে ভাবতে গিয়ে বর্তমান কে নষ্ট করতে নেই। বেঁচে থাকার এইসব যুদ্ধে, কতকিছু আসে আবার চলে যায়। অথচ, কারো মতো কেউ আর আসে না, কেউ কারো মতো নয়।

কিছু কথা না বলা ভালো, না বলাই থাক-
না শুনলেও তো হবেনা তেমন কোন মহাপাপ।
মন দিয়ে কথা গুলো আকাশে মিশে
মেঘে ভাসিয়ে চললাম আজ অজানার দেশে।
ততোটাই অজানা-
 যতোটা অজানায় নিজেকে খুঁজে পাওয়া যায় না।  


না বলা সে কথা গুলো মনের গহীনে
অরণ্য সাজাবো তাতে গহীনে আরো অরণ্যে।
ঝিঁঝিঁপোকা শতদল শতকোলাহল,
কত কথা শুনো রোজ কত কথার ছল।


ধরে নিও সে কথাও ছিলো কিছু টা এমন-
মনে যা আসুক যখন ধরে নিও তাই।
চাইনা সে না বলা কথা তুমি শুনো-
কিছু না বলে ফিরে যাও দূরে আরো দূরে।
তার চেয়ে এই ভালো আমি চললাম-
না বলা সে কথা গুলো নাইবা আর বললাম।


ফেলে আসা কিছু স্মৃতি যদি পাও কখনো খুঁজে-
না বলা সে কথা গুলো নিয়ো একটু বুঝে...?
হয়তো কথা গুলো সাধারণ_ অতিসাধারণ
অথবা ভেবে নিয়ো অর্থহীন খুব যাবতীক।
যদিওবা কখনো খুঁজে পাও সে কথার মানে-
তবে বলে দিও উত্তর বাতাসের কানে,
অথবা কোন এক নীল চিঠির খামে। 
সেই বাতাস বা চিঠি তো আমার পথ তো জানে...।


রাত জেগে তারাহীন তিমির আঁধার
পাড় হতে  কি পারবে সে কথার পাহাড়?
যা আমার মনে মনে...!!
যদি পারো সেখানে পাবে আমাকে-
পাবে তুমি সেথায় কিছু ঝড়া বুনো ফুল,
সে কথার বোঝা বড় পাহাড় সমান।


হয়তোবা পাবেনা সে কথা গুলো আমায় খুঁজে,
তাই আমি হারাচ্ছি আজ অজানার খোঁজে।
না বলা সে কথা গুলো নাহয় না বলাই থাক,
সব কথা না জানলেও তো হয়না কোন পাপ।


আমি বলছিনা ভালবাসতেই হবে....
আমি চাই,
তুমি আমার বটবৃক্ষ হয়ে,
তোমার ছায়ায় আমায় ঢেকে রাখো। 
আমার অনাকাংখিত  জেগে উঠা দ্বি-প্রহরে-
নিশি প্রহরী হয়ে আমার চোখের পাতায় ঘুম এঁকে দাও।
মাথায় বিলি কেটে ঘুম পাড়াতে হবে তা নয়,
কপাল ছুয়েই না হয় একটু ঘুম পাড়াও। 


আমি বলছিনা মায়ার বাঁধনে আমায় জড়াতেই হবে,
আমি চাই,
আমার ক্লান্তি শেষে কিংবা কোন এক পড়ন্ত বেলায়, 
আমার সাথে কিছুটা পথ হাঁটো।
দিন শেষে আমার একাকী রাতে, 
কষ্ট হয়ে আমার গায়ে লেগে থাকো।
বিষন্ন আমায় আনমনে পথের ধারে 
শুন্যে চেয়ে থাকতে দেখে,
তোমার সঞ্চিত ভালবাসা থেকে একফুটা 
করুনার দৃষ্টি আমার দিকে ছুড়ে দাও।


আমি বলছিনা পাশে বসতেই হবে, 
আমি চাই,
ঝড় শেষে ফাগুনী হাওয়া হয়ে তোমার 
দিশেহারা উড়ন্ত চুলে অধরটি একবার ছুঁতে দাও।


বলছিনা ভালবাসতেই হবে,
শুধু চাই,
আমার কষ্টে নিস্পেশিত বুকের পাজর ভেদ করে,
দীর্ঘশ্বাস হয়ে বাতাসে ছড়িয়ে পরো।


বলছিনা ভালবাসতেই হবে, 
ভালবেসে বেসে রাতভর জাগিয়ে রাখতেই হবে।
ভুল করে পাশ ফিরে, ঘুমের ঘোরে
আলতো তোমার হাতটি গায়ের উপর রেখো।


আমি বলছিনা ভালবাসতেই হবে। 
আমি চাই,
অনাহারে ভাঁশমান আমার বুকের পাঁজরে
তোমার সচল আঙ্গুল গুলো হেটে বেড়াক।
নয়তো- 
কোন পরন্ত বিকেলে আমার একাকী মুহুর্তে,
বিষাদের ভারে নুইয়ে পরা অবশ শরীরে
শীতের কাঁথাটি গায়ে জড়িয়ে দাও ।
কিংবা-
কোন এক বৃষ্টির রাতে যখন ঘুম ভেঙে যাবে তোমার,
ভেবে নিও আমি জেগে আছি-
পৃথিবীর কোন এক কোনে...! 


বলছিনা ভালবাসতেই হবে....
আমি চাই,
মনের ভুলে, ভুল করে আমায় দেখে একটু
পিছন ফিরে তাকাও...
আমার অগোছালো ভাবনা গুলো গুছিয়ে দাও।
আমার বিষন্ন চোখে কষ্ট হয়ে ঝরে পরো।


বলছিনা ভালবাসতেই হবে...!!
শুধু পাশে থাকো কিছুটা সময়, হাত ধরে..
জ্বরের ঘোরে অচেতন আমার মাথায় পাশে,
কিছুটা সময় স্থির করে দাও।।
কপালে হাত রাখতেই হবে তা নয়,
তবুও একটু পাশে স্থির হয়ে বসো। 


বলছিনা আমার অশ্রুকণা তোমার ঠোটের তপ্ত পরশে শুঁষে নাও।
আমি চাই,
তুমি আমার চোখে দিকে চেয়ে,
বুঝে নাও কতটা ঝড়ে কষ্ট নড়ে চোখের ভিতর।


আমি বলছিনা ভালবাসতেই হবে, 
আমি চাই,
আমার চোখে চেয়ে একবার বুঝে নিও
আমি ক্ষুদার্থ নাকি অবহেলীত।
এই চোখে তোমার জন্য কতোটা ভালোবাসা লুকায়িত। 


আমি বলছিনা ভালবাসতেই হবে...
কেউ একজন হাতটি শক্ত করে ধরুক,
আর বলুক- "আমি শুধু তোমার" 
"ভালোবাসি ভালোবাসি"
এতোটুকতেই আমি সুখী..। 

আমার একটুখানি তুমি দরকার। যে কিনা সস্তা আধুনিকতার বদলে হবে বড্ড সেকেলের। নামী-দামী ব্রান্ডের মেকআপের বদলে যার চোখের নিচে কাজল দিলে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করবে বহুকাল ধরে..। ঐ কাজল কালো চোখে যে মায়াটা থাকবে সেই মায়া ভরা চোখের দিকে তাকিয়ে থাকার জন্য বেচে থাকতে ইচ্ছে হবে অনন্তকাল। ভরদুপুরে ভীষন ব্যাস্ত শহরের রাস্তা পার হবার সময় যে কিনা ভয়ে শার্টের হাতা খামচে ধরে রাখবে। রাত্রি করে বাড়ি ফেরার অভিযোগে যে মানুষটা মুখ গোমড়া করে বলবে তোমার সাথে আর কথা নেই!!

আমার একটুখানি তুমি দরকার। হেয়ার ড্রাইয়ার এর বদলে যে কিনা দুপুরে কার্নিশের রোদ পেরিয়ে ভেজা চুল শুকোবে। হাই-ফাই কোন ফাস্ট ফুডে চেকইন এর বদলে ঝাল-মাখা ফুচকায় মরিচের কামড়ে যে মেয়ে টুকটুকে লাল হবে। চ্যাটিং-ফ্যাটিং এতসব বাদ দিয়ে মন খারাপে যে আমায় কাগজের খাম ভরে দু-দন্ড চিঠি লিখবে, আমার মনের ঠিকানায় তার চিঠি আসবে। চিঠি আমার চাইই চাই...।। তার সাথে না হয় চিঠিতেই ভালোবাসা-বাসি হলো। 

ভরা চৈত্রের দাবদাহে একগ্লাস ঠান্ডা জলের মতো যার মুচকি হাসি আমার বেসামাল হৃদয়কে একদম শান্ত করবে। যার এক ছলাক হাসি দেখার জন্য শত মাইল দূর থেকে আসার পরো এতটুকু ক্লান্তি আসবে না। তার হাসিভরা মুখটা দেখার পর মনে শিতল বাতাসের মতো সব জুড়িয়ে যাবে। যে কিনা উচুঁ উচুঁ হিলের বদলে নুপুর পায়ে আমার পাশে পা দুলিয়ে বসে থাকবে, যে নুপুরটা পড়িয়ে দিবো আমি নিজ হাতে। একটু খানি জ্বর হলে কপালে হাত দিয়ে খানিকটা ছুঁয়ে দিলেই যেন সব জ্বর ভালো হয়ে যাবে। যে আমার সব অসুখের ডাক্তার হবে, যার উপস্থিতি পেলেই সব অসুখ পালাবে...। 

মন খারাপের পৌষের বিকেলে ব্যালকনিতে বসে গালে হাত দিয়ে যে আমার বোকা বোকা গল্প গুলো শুনবে, হাতে এক মগ গরম কফি। ঝুম বৃষ্টিতে কোন সন্ধায় যে কিনা ছাঁতার বদলে আমার হাত ধরে বৃষ্টি  ভিজবে। অভিমানের প্রহর শেষে হঠাৎ যে কিনা বলে বসবে "ভালোবাসি ভালোবাসি"। সেলফি-পাউটের ফ্যাশনের বদলে যে কিনা খোপাঁয় বুনো বেলীফুল গুঁজে সামনে এসে জিজ্ঞাসা করবে বলোতো আমায় কেমন লাগে...?
জুলাইয়ের শেষ কোন পূর্নিমার রাতে যে আমার বুকে মাথা রেখে একদম ছোট বাবুদের মতো হুট করেই চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়বে।

আমার ঠিক এমনই একটা তুমি দরকার। আধুনিকতার আড়ালে বড্ড সেকেলের একটুখানি তুমি। 
"বেশি বেশি চাই না, 
কেবল একটুখানি চাই। 
তোমাকে আমার একটুখানি চাই।" 


MARI themes

Powered by Blogger.