ছোট থেকে বড় হওয়া, পথ চলা, একা একা কখনোই সম্ভব হয় না।  জন্মের পর থেকেই বাবা – মা ছায়ার মতো আমাদের আগলে রাখেন। বড় হতে হতে এই ছায়া থেকে আমরা একটু একটু করে বের হয়ে আসি। আসতে আসতে আমাদের স্কুল জীবন শুরু হয়, পরিচিত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে, সহপাঠীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এই পররিচিত সব মানুষের মাঝে সব পরিচিতকে আমরা সমান ভাবে দেখি না, সব সহপাঠীর সাথে আমরা সমান ভাবে মিশি না। একজন সহপাঠী থাকে যে হয় আমাদের খেলার সাথি, একা পথ চলার সঙ্গী, আমাদের সব কাজের সঙ্গী, যার সাথে আমরা ক্লাসে এক সাথে বসি, যার সাথে আমরা থাকতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করি। এই একজন সহপাঠীই আমাদের মনে জায়গা করে নেয়। এই পর্যন্ত এসেও আমরা বুঝি না বন্ধু কি, বন্ধুত্ব কি…!!

সময়ের পরিবর্তনে আসে, আমরাও বুঝতে শিখি বন্ধু কি, বন্ধুত্ব কি…।। সকলের চেয়ে ভিন্ন সেই সহপাঠীই আমাদের বন্ধুত্বের সর্বোচ্চ স্থান দখল করে নেয়। এটাই Best Friend। একটু লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবেন এই মানুষটির সাথে কথা না বললে, কথা শেয়ার না করলে আপনার ভাললাগে না। অন্য কারো জন্য এমন হয় না, হওয়ার কথাও না…।। একমাত্র Best Friend- ই আপনার সব কিছু জানে, সব কিছু জানার Right- রাখে…।।

চলার পথে Best Friend- অনেক বড় ভুমিকা রাখে, অনেক বড় Support- দেয়। একটি মজার বিষয় হলো Best Friend- এর কাছে আপনার কোন ভুল নেই, সব সঠিক। সবার সামনে আপনাকেই Support- দিবে, আপনার পক্ষেই কথা বলবে, কিন্তু দিন শেষে আপনার ভুলটা ঠিকি আপনাকে বুঝিয়ে দিবে, ঠিকি সঠিক পথ দেখাবে। যত যাই হোক Best Friend-কখনোই আপনার হাত ছাড়বে না...।।

প্রতিটি সম্পর্কের মাঝে Jealous – থাকাটা খুব বেশি জরুরী। Jealous-হলো যে কোন সম্পর্কের ভালোবাসা প্রকাশের একটি মাধ্যম। যে সম্পর্কে Jealous-নেই সেটা কোন ভালো সম্পর্ক বা গভীর কোন সম্পর্ক নয়। আপনার Best Friend- অন্য কোন Friend- এর সাথে আড্ডা দিচ্ছে, ঘুড়তেছে, সেগুলো দেখে আপনার রাগ হবে, Jealous- হবে। হওয়াটাই স্বাভাবিক, Jealous না হওয়াটা অস্বাভাবিক। যদি এমন হয় আপনার মনে কোন Jealous বা কিছুই হচ্ছে না তবে ধরে নিবেন Best Friend- নয়, তাকে আপনি শুধু Friend- ভাবেন। Best Friend- আর শুধু Friend এক নয়, কখনোই এক নয়। আকাশ - পাতাল ব্যবধান। সবাইকে আপনি Best Friend- ভাবতে পারবেন না, Friend- ভাবতে পারবেন। আর যদি এমন হয় সবার সাথেই আপনি একই ভাবে কথা বলেন, একই ভাবে মিশেন তাহলে ধরে নিবেন আপনি ব্যক্তিত্বহীন।  হুমায়ূন আহমেদ স্যার একটি কথা বলেছেন-“যে সবার সাথে তাল মিলিয়ে চলে সে বেক্তিত্বহীন। সে নিজের প্রয়োজনে সবার সাথে মিশে”। কেউ একজন Special- থাকবেই। কেউ একজন থাকবেই যে সবার চেয়ে ভিন্ন, সবার থেকে আলাদা। যাকে আপনি সবার থেকে আলাদা করতে পারেন, যার সাথে আপনি সবার থেকে আপন হয়ে মিশেন, যাকে আপনি কখনোই কারো সাথে Compare- করেন না...।। 

সবাইকে আপনি সমান গুরত্ব দিবেন না। সবার আগে স্থান থাকে Best Friend- এর, তারপর অন্য Friend-দের। ধরুন, একই সাথে দু'জন আপনাকে কল করে দেখা করতে বললো। একজন Best Friend, আরেক জন শুধু Friend। আপনি কার কাছে আগে যাবেন…?? নিচ্ছই এটা ভাবতে আপনার সময় লাগবে না; যে আপনি আগে Best Friend- এর কাছেই যাবেন। কারণ- তার স্থান , তার Importance ,Priority-  সবার উপরে…।। তার গুরত্বটা আপনাকে বুঝতে হবে, Best Friend-  কি তা বুঝতে হবে, বুঝতে হবে সবার জায়গা এক নয়, সবার গুরত্ব এক নয়…।।

Best Friend, Good Friend, Only Friend- কখনোই এক নয়। আপনাকে বুঝতে হবে এই তিনটার Meaning, এই তিনটির অর্থ। Best is Always Best…
A friend can leave any time when they need but A Best Friend  never leave until last Breath of life. If you call Best friend he/she will leave whatever they are in the middle of the work and come to in-font you but A Friend call you back within 10 minutes or more then if you ring them up while they are busy. Now, try to find out the Difference...

আচ্ছা যদি এমন হয় আপনি যেই মানুষটাকে Best Friend- ভাবেন সে আপনাকে Best Friend-না ভেবে থাকে…?? এই সময়টায় আপনার অনুভূতি কেমন হবে…?? একটু একটু করে গড়ে তোলা বন্ধুত্ব, মনের মধ্যে কতো কিছু আঁকা, কতো আশা-ভরশা, আস্থা...!!! এই সময়টায় আপনি সব চেয়ে বড় ধাক্কা খাবেন, এই কষ্টটা সহ্যের মতো হবে না। বিপরীত পাশের মানুষটাকে বলচ্ছি- যদি তাকে নিয়ে কোন সংশয় থাকে, কিছু বলার থাকে তবে নিঃসঙ্কোচে তাকে বলে দিন। তাকে নিয়ে আপনার চিন্তা-ভাবনা তাকে জানিয়ে দিন, মনে গোপন রাখবেন না। দোয়া করি এরকম যেন কখনোই কারো সাথে না হয়। যে যাকে Best Friend- ভাবে তার বিপরীত পাশের মানুষটিও যেন তাকেই Best Friend- ভাবে…।। তবু কেন যেন মনে সংশয় থেকেই যায়, ভয়টা রয়েই যায়...।। 

প্রতিটা সম্পর্কেই একে অপরকে বুঝতে পারা সব চেয়ে বড় ব্যাপার। আপনার প্রতি তার যেমন Expectation- আছে, তার প্রতিও আপনার Expectation- থাকবে। তার Expectation- বোঝার চেষ্টা করুন। বন্ধুত্বের যত্ন  নিন, বেঁচে থাকুক মনের বন্ধু গুলো, বেঁচে থাকুক বন্ধুত্ব…।।
"মনে রাখবেন একজন Best Friend- পাওয়া জীবনের সব চেয়ে বড় পাওয়া...।।"


কেউ যদি ভালোবাসে, তবে তোমাকেই ভালোবাসবে। তোমার রোদে পোড়া তামাটে ত্বক, না ঘুমিয়ে চোখের নিচে কালো দাগ, কেটে যাওয়া হাতের দাগ, এলোমেলো চুল, এমনকি তোমার ঘামে ভেজা জামার গন্ধটাকেও সে ভালোবাসবে। ভালোবাসবে তোমার ননস্টপ ভাঙ্গা রেডিও এর মতো রেকর্ডারের বকবকানি, কিংবা হঠাৎ করে খুব আবেগ প্রবণ অথবা প্রচণ্ড রেগে যাওয়ার বদ-অভ্যাস টাকেও...!!! ভালবাসবে তোমার নির্মল হাসি বা কর্কষ চোখে তাকানোর ভঙ্গী। 

যে তোমাকে ভালোবাসবে তার জন্য তোমাকে সানস্ক্রিন লোশন মেখে রোদে নামতে হবে না, চুল স্ট্রেইট করার জন্য যেতে হবে না পার্লারে, পড়তে হবে না নামকরা ব্রান্ড এর জামা-জুতো। শরীরে মাখতে হবে না "Clive Christian No. 1" এর মতো কোন দামি Perfume. ভালোবাসার জন্য Byke, PRADO, AUDI Car-এর প্রয়োজন নেই। 
যদি সে সত্যি ভালোবাসার হয় তাহলে তোমার যা কিছু, তুমি যা, তুমি যেমন, তোমার যা কিছু আছে তাতেই সে তোমাকে ভালবাসবে। বিলাসিতার দরকার পড়বে না, মনটাকেই ভালোবাসবে। 

কাকের রং কালো..... কেউ যদি বলে কাক সাদা হলেই সে তাকে পছন্দ করতো বা করবে ভালোবাসতো। তবে ধরে নিতে হবে তার কাক নয়; সাদা রং টাকে পছন্দ। তাকে সাথে রং এর অন্য কিছুর সন্ধান করা উচিত। কারণ, কাককেই যদি কেউ চায়, তবে সে কালোকেও চাইবে। Extra-কিছু Add-করার প্রয়োজন হবে না। 

কোন কিছু সংযোজন বা বিয়োজন করে নয়; কেউ যদি তোমাকে চায় তবে তোমার যা কিছু আছে তা নিয়েই এবং তুমি যেমন ঠিক তেমনটাই চাইবে।

কারো ভালোবাসা পাওয়ার জন্য যদি নিজেকে পরিবর্তন করতে হয়, তবে জেনে রেখো সে ভালোবাসা তোমার নয়। বদলে যাওয়া সেই অন্য কারোর। ভালোবাসা বলতে নিজেকে বদলানো নয়, মনের সাথে মনের আদান - প্রদান বোঝায়...।। 

আমরা যেটাকে Expectation বলি, আশা করা বলি, প্রত্যাশা বলি, অবহেলা বলি...এটা আসলে অবহেলা নয়। এটা আমাদের অতিরিক্ত চাহিদা। একজন মানুষের প্রতি Expectation-একদিনে মনে বাসা বাঁধে না। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস বিন্দু বিন্দু করে গড়ে উঠে। মনের অজান্তেই সেই গুলো আমাদের মনে বাসা বাঁধে। যেই চাহিদা গুলো মিটানো আমাদের প্রিয় মানুষ গুলোর পক্ষে কঠিন হয়ে উঠে বা তাঁরা বুঝতে পারে না...অতঃপর সেই মানুষটি বিরক্ত হয়।

আমরা শুধু নিজেদের ইচ্ছে গুলোকেই প্রাধান্য দেই। যার ফলে অপর প্রান্তের মানুষটা কি চায় সেটা বুঝতে পারিনা। আমরা নিজেদের মনটার সাথে তুলনা করে তাদের মনের বিচার করে ফেলি।
যেটা আমাদের কাছে একটু চাওয়া মাত্র, সেটা তাদের কাছে অতিরিক্তও মনে হতে পারে। সবার মন এক রকম নয়। এমনো হতে পারে আপনি তাকে আপনের চেয়ে আপন ভেবে তার প্রতি Expectation-করলেন, কিছু আবদার করলেন কিন্তু সে সেই আবদার, সেই Expectation-না বুঝে বিরক্ত হলো। আপনি কষ্ট পেলেন। আপনি তাকে অনেক আপন ভেবেছেন যার ফলে তার প্রতি Expectation-চলে এসেছে, সেও যে আপনাকেই আপন ভেবেছে এমন তোঁ নয়। এমনো তোঁ হতে পারে সে আপনাকে আপন-ই ভাবেনি। আপনি তাকে বুঝতে হয়তো ভুল করেছিলেন। সে হয়তো আপানকে আর দশ জন মানুষের মতই দেখেছে, আর সবার মতোই ভেবেছে। আপনি তাকে আপনার জীবনের একজন Exceptional Person-ভেবেছেন, Special-একজন ভেবেছেন। যার উপর আপনার ভালোলাগা-খারাপ লাগা নির্ভর করে, যার উপর আপনার Mind-নির্ভর করে আর সে আপনাকে As usual-একজন মানুষ ভেবেছে। তার মনের সাথে আপনার মনের পার্থক্যটা এখানেই। তার কাছে হয়তো মনে হবে এটা Over Expectation; কিন্তু আপনার কাছে এটা মোটেই Over Expectation- নয়। Expectation- তার কাছেই আমরা করি যার কাছে আমরা একটু আশ্রয় চাই, যাকে আমরা অনেক বেশি আপন ভাবি, যে হয়তো আপনার অনুভূতিটা বুঝবে এই প্রত্যাশাই আপনার নিজের কাছে থাকে। বাহিরের মানুষের কাছে আমরা কখনোই কোন Expectation-করি না। কারো কাছে Expectation- করার আগে এটা ভাবা খুব বেশি জরুরী যে সেই মানুষটাও কি আপনাকে আপন ভাবে...?? নাকি আর দশজন মানুষের মতোই। যদি আপনার সব Expectation, সব প্রত্যাশা, আশার মূল্য সে দেয়, সব কিছুর উপরে আপনার Importance-থাকে তাহলে বুঝে নিবেন সেও আপনাকে আপন একজনই ভাবে, কাছের একজনই ভাবে। যখন বুঝতে পারবেন সে আপনাকে আপন একজন নয়, আর দশজন মানুষের মতোই ভাবে তখন আর কষ্টের সীমা থাকবে না আপনার। আর এজন্যই দিনের পর দিন আপনি কষ্ট পাচ্ছেন, মুখ বুঝে কষ্ট সয়ে যাচ্ছেন। 

একটু বুঝুন, একটু মানিয়ে নিন, একটু ভেবে দেখুন। আপনি ভাবছেন সে আপনাকে অবহেলা করে। যদি তার দিক থেকে ভেবে দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন আপনাকে কেউ অবহেলা করছে না। আপনাকে ঘিরে ঐ মানুষটার মনে কোন আগ্রহ নেই, নেই কোন চাহিদা তাহলে আপনাকে সে Importance-দিবেই বা কেন। তার মনের কোন জায়গাতেই তো আপনি নেই। তার দিক থেকে ভাবলে সে আপনাকে অবহেলা করছে না, আপনার দিক থেকে ভাবলে আপনি অবহেলিত হচ্ছেন। 

মানুষ যখন কাউকে আপন ভাবতে শুরু করে; তখন সেই মানুষটার কাছে তার চাহিদা, প্রত্যাশা গুলোও বাড়তে থাকে। আর সেই অপূর্ণ চাহিদা গুলোই আমাদেরকে অবহেলার অনুভূতিতে ভোগায়, কষ্টের সাগরে ডুবায়, সুখটাকে কেরে নেয়।

কেউ কখনো আবেগ মিশিয়ে আমার কাছে জানতে চায়নি আমি কেমন আছি..! কেউ কখনো গভীর ভাবে চোখের দিকে তাকিয়েও দেখে নি দু'চোখে এতো বিষন্নতা কেন...? চোখের মাঝে হারিয়ে যেতে বলছি না, আমি শুধু বলছি কেউ কখনো মুখের দিকে তাকিয়ে হাসির অর্থ খুঁজে নি...হাসিটা সুখের নাকি অন্য কিছুর...!!!  

ভালো করে তাকিয়েও দেখে নি আমার চোখের নিচে দাগ হয়েছে কিনা বা কিভাবে হয়েছে...! চুল কোন পাশে আচরিয়েছি/ শিথি করেছি , চুল এলোমেলো কিনা গোছানো এগুলো খেয়াল করার তো প্রশ্নই আসে না..! পাঞ্জাবিতে, শার্ট, নাকি T-Shirt- এ ভালোলাগে এগুলো খেয়াল করার মত তো এখনো কেউ আসেনি..। Black Suit(কোট)- এর সাথে কোন Color-এর শার্ট, শার্টের Cuff-link-টা কোন Color হবে, টাই কোন Color-মানাবে তা আজো কারো মুখ থেকে শুনিনি। কেউ বলে নি এটাতে তোমাকে সুন্দর মানায়। কেউ কখনো বলেনি তোমার টাই বাধাঁটা বাঁকা হয়েছে বা এভাবে নয় এভাবে ভালোলাগবে, হাতের ঘড়িটা কিন্তু বেল্ট(Leather) এরই হতে হবে । 

ভোর থেকে শুরু করে কাজের চাপে যখন Breakfast, Launch- করার কথাটাই ভুলে যাই তখন কেউ ছোট্ট করে এসএমএস বা Call- দিয়ে মনে করিয়ে দেয় নি- "Breakfast- করার কথা ভুলো না"!! প্রচন্ড জ্বরে যখন চোখ দু'টো বুজে আসে তখন কারো হাত কপালে আলতো ছোঁয়া দেয়নি। দিন শেষে ক্লান্তির ছাপ যখন মুখে লাগে, ঘামে কপাল থেকে টপ-টপ পানি পড়ে তখন কেউ তার ওড়না এগিয়ে দেয়নি বা কপালটা তার ওড়না দিয়ে মুছে দেয়নি। মাথাটা যখন ঝিম ধরে আসে কেউ তার কাঁধ এগিয়ে দিয়ে বলেনি মাথা এখানে রাখো...।। 

আগে কিছুটা সংকোচ ছিল এ বিষয় গুলো নিয়ে..! এখন সংকোচ হয় না, জীবন তোঁ একটাই। মাঝে মাঝে পরাধীন হতে খুব বেশি ইচ্ছে করে। খুব বেশি ইচ্ছে করে কারো ধমকের সুরে কথা শুনতে, কারো চোখ রাঙ্গানো ভালোবাসা পূর্ণ আদেশ শুনতে। কেউ অন্তত অধিকারের জোড়ে কথা বলুক, অধিকার নিয়ে কথা বলুক, অধিকার নিয়ে পাশে থাকুক। মনটা বাঁধুক তার মনে...মনের সাথে মনে।। 

অনুভূতি গুলো আজ মৃত প্রায়,
ঝড়ে যাওয়া ফুলের মতো,
অবহেলায় আজ ইচ্ছেরা পড়ে রয় ..
চোখ ঝাপসা হয়েছে আজ নোনা জ্বলে,
স্বপ্নের লাশে ঘুণপোকারা বাসা বেধেছে মনে,
নেই কোন আর্তনাদ, নেই কোন হাহাকার,
নেই কোন ভয়…।।

হয়তো ক্ষাণিক পরেই এসে দাঁড়াবে -
মনের প্রথম মৃত্যু বা জীবনের শেষ অস্তিত্বের…।।
চাইনাতো আমি সুখের রাজ্যে ঘেরা রঙিন ছটায় আলোক বাতি,
আমি রবো সবার গল্প কাহিনীতে হয়ে নিস্তব্ধতার সাথী ।।

চন্দনের ধূপের সে বাসরের থেকে,
মাটির বুকেই করে নিবো আপন,
“মৃত্যু”- আমার দুয়ারে আজ তোমার নিমন্ত্রণ।
প্রতিদিন বার বার মরিবার থেকে আজ আপনি করিবো এ জীবন সমর্পণ ।।
একটু একটু করে জ্বলতে থাকা আশার প্রদীপ,
দমকা হাওয়ায় আজ নিভে যাক চিরতরে,
নিভে যাক মনের গভীর থেকে গহীনে...
আমি জ্বলে নিঃশেষ হয়েও এভাবেই রয়ে যাবো অগোচরে ।।

সন্ধ্যার সুখ তাঁরায় আমার স্মরণে কারো কাঁদিবে না মন,
হবে না এতোটুকু শূন্যতা, এতোটুকু না পাওয়ার বেদনা…।।

এজনম আমার বৃথাই গেল তাই সুখ গুলো করে যাবো দান ।
কারে বলিবো দাও ঠাই আমায়,
তোমার বুকে না হোক দু' চরণে দাও আশ্রয়,
ভালোবাসা না হয় লুটাবো তোমার চরণে হাজার বার…।।
এ আমার শেষ মিনতি রাখো তুমি একটি বার...

চির-বিদায়ের কালে পিছু ফিরে দেখি,
মায়ার বাঁধনে কেউ বাঁধেনি আমায়, বাঁধেনি কেউ মনের ঢোরে,
সবই সময়ের পরাজয়, মনের বড় পরাজয় ।।

কত ভোরের প্রার্থনা আমার বিফলে দিও নাকো সবি,
যাবার কালে দাও এতটুকু অধিকার মোরে-- হৃদয়ে ছবি আঁকি একবার,
ঝাপসা হোক তবু আমার …।।

ওগো মৃত্যু এসো আজ আমার দুয়ারে,
রইলো তোমার নিমন্ত্রন,
আজ মোরে দাও মুক্তি জীবন থেকে,
গ্রহণ করো এ জীবন সমর্পণ চিরতরে...।।


কিছু অভিমান আছে যাদের মনের কথা মনে রয়ে যায়, বাহিরে প্রকাশ পায় না। শুধু থাকে মনের গভীরে দীর্ঘশ্বাস। পৃথিবীর সব কিছুকেই একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা যায়, কিন্তু কষ্টকে, খারাপ লাগাকে কোন নির্দিষ্ট সঙ্গায় সংজ্ঞায়ীত করা যায় না। কারন, কষ্ট এমন এক জিনিস যা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি ভিন্ন হয়, সময় সময়ে ভিন্ন হয়।

একটি মানুষের মন আছে কি নেই, তাঁর ভাললাগা-খারাপলাগা আছে কি নেই সে যদি না বলে আপনি কিভাবে জানবেন...?? হুম, জানতে পারবেন একটি উপায়ে যদি আপনি তার চোখের দিকে একটু লক্ষ্য করেন। এই চোখের দিকে লক্ষ্য করাটা কিন্তু যেইসেই কাজ নয়। অনেক কঠিন কাজ, অনেক অধিকার-আপনত্ব থাকতে হবে তার প্রতি। তাকে এতোটা আপন ভাবার পড়েই কেবল আপনি তার চোখের দিকে তাকাতে পারবেন, তাকানোর ইচ্ছা জাগবে মনে। তাকে যদি আপনি আপন নাই ভাবেন, কাছের একজন নাই ভাবেন তাহলে কখনোই তার খারাপ লাগাটা আপনার মন ছুবে না, তার চোখের দিকে তাকিয়ে তার কষ্টটাও বোঝার ইচ্ছা হবে না। 

কিছু সময় আমি নির্বাক হয়ে যাই, স্তব্ধ হয়ে যাই। আজ কিছু ঘটনা আমি বলবো। কথা গুলো আমার খুবই ব্যক্তিগত, একান্তই নিজের। তবে কথা গুলো আজ খুব খারাপ লাগা থেকে বলচ্ছি।

কয়েক মাস আগে News-এ পড়েছিলাম আমার নিজ এলাকায় একটি অটো রিক্সা Accident-এ মা-ছেলে মারা গিয়েছে আর ছেলেটার বাবা হাসপাতালে। আমি তখনো জানতাম না এই তিন জন আমার পরিচিত, তাঁরা আমার ছোট বেলার Classmate-এর আপন ভাই। একদিন পর যখন জানতে পাড়লাম অন্য কারো মাধ্যমে তখন আমি সত্যি Shocked-হয়ে গিয়েছিলাম, বিশ্বাস-ই করতে পারছিলাম না যে এটা উনি হতে পারে। তখন আমি এতোটাই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম যে কোন কথা বলার শক্তি আমার ছিল না, কিছু বলার ভাষা ছিল না। আচ্ছা আপনাকে আমি প্রশ্ন করি- এই রকম News-শোনার পর আপনি কি করতেন বা কি বলতেন...?? হয়তো আপনারো কিছুই বলার থাকবে না বাকরুদ্ধ হয়ে যাওয়া ছাড়া, যেমনটা হয়েছিলাম আমি। কিন্তু সে আমাকে কিছু কথা শুনিয়েছিল...একজন মানুষ মারা গিয়েছে সে দিকে আমার কোন অনুভূতি নেই, আমার কিছুই বলার নেই, মন বলতে আমার কিছু নেই, নিষ্ঠুর - পাষণ্ড আরো কিছু কথা। কথা গুলোর জবাব আমি দেইনি। যদিও আমার Classmate-এর কাছ থেকে খোঁজ খবর নিয়েছিলাম যতদিন সে ঢাকা হসপিটালে ছিল, তার পড়েও অন্য কয়েক জনের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে জেনেছি। 

সব সময় আবেগ প্রকাশ করা যায় না, খারাপ লাগাটাও প্রকাশ করা যায় না। বিশেষ করে আমি প্রকাশ করতে পারি না। অনেক সময় কারো কষ্ট দেখলে আমি চুপচাপ থাকি যেন কিছুই হয়নি, অনেক সময় এড়িয়ে যাই। এড়িয়ে যাওয়া মানে এই নয় যে বিষয়টি আমার মনে দাগ কাটেনি। এড়িয়ে গেলেও বিষয়টা মন থেকে ঠিকই অনুভব করি, মনে রয়েই যায়। অনেক সময় এমন হয় যে কেউ আমাকে খুব কথা শুনাচ্ছে, আমাকে আঘাত করে কথা বলচ্ছে। আমার প্রচণ্ড রকমের কষ্ট হচ্ছে কিন্তু আমি পাশের মানুষটাকে বুঝতে দিচ্ছি না। তার সাথে হাসি মুখেই কথা বলে যাচ্ছি। সে হয়তো ভাবচ্ছে আমি তার কথায় কোন কষ্টই পাচ্ছি না, কোন খারাপ লাগার অনুভূতিই হচ্ছে না। কিন্তু ঐ সময়টা যদি সে আমার চোখের দিকে একটু লক্ষ্য করতো তাহলে হয়তো আমি ধরা খেয়ে যেতাম। নিজের খারাপ লাগাটা, কষ্টটা লুকিয়ে রাখার যে চেষ্টাটা করছিলাম তা আর সফল ভাবে করা হয়ে উঠতো না আমার। এমনো সময় হয়েছে যখন আমাকে চোখে পানির ঝাপটা দিতে হয়েছে কারণ, চোখের পানি আমি আটকাতে পারচ্ছিলাম না। কিন্তু সে বোঝেনি বা পাশের মানুষটি বোঝে নি। ভেবেছে হয়তো চোখে ময়লা লেগেছে বা অন্য কিছু।

কথায় আছে ছেলেদের নাকি চোখে পানি আসতে নেই, চোখে পানি আসলেও কাউকে দেখাতে নেই। ছেলেদের নাকি কঠোর হতে হয়।  আমার খারাপ লাগাটা কখনোই আমি কাউকে বুঝতে দিতে চাই না, বুঝতে দেইও না। ভালোলাগার অনুভূতি গুলো সবার সাথেই বীনা বাঁধায় Share-করতে পারি, Share-করি। কিন্তু খারাপ লাগার অনুভূতি কখনোই কাউকে বলার সাহস পাই না, কেনন যেন ভিতর থেকে বলার ইচ্ছা হয় না। যাকে বলবো সে যদি উপহাস করে, এমনো হতে পারে তার হাতে সময় নেই, হয়তো সে শুনতে ইচ্ছুক না। যে মানুষটার জন্য আমার মন খারাপ বা আমার ভিতরের সব ওলট-পালট হচ্ছে তার সামনে এমন ভাবে কথা বলি সে বুঝতেই পারে না যে কতোটা খারাপ আমার লেগেছে। কেন যেন কখনো নিজেকে প্রকাশ করতে ইচ্ছে হয় না, কেন যেন নিজেকে লুকিয়ে রাখতেই ভাললাগে। ভাললাগে নিজেকে নিজের মাঝে আবদ্ধ রাখতে, নিজের চার পাশে একটা খোলসের মতো আবরণ রাখতে। আচ্ছা আমি যদি তার সামনে প্রকাশ করতাম তাহলে কি হতো...?? কিচ্ছুই হতো না, সে হয়তো এটাকে নেকামো ভাবতো বা অন্য কিছু...।। সে যদি বুঝতোই আমার খারাপ লাগবে, কষ্ট হবে তাহলে সে ঐ কাজটি হয়তো করতোই না... জীবনটা এমনি...!! কষ্ট - খারাপ লাগার অনুভূতি, আবেগ কখনো বোঝানো যায় না...।। 

আবেগের কথা যখন এসেই গেলো তাহলে আর একটি ছোট্ট ঘটনা বলি---

আজ থেকে প্রায় ১৪-১৫ বছর আগে। আমি তখন ক্লাস ২-৩ তে পড়ি। খুব শখ ছিল কবুতর, মুরগী পোষার। খুব সখের বশে কয়েকটা বাচ্চা মুরগী - মোরগ কিনেছিলাম পোষার জন্য। পাখি গুলো আমার এতোটাই শীকারি হয়ে গিয়েছিল যে প্রতি দিন সন্ধ্যায় আমার হাতে উঠে খাবার খেতো। বিষয়টা আমার অনেক ভালোলাগতো। হঠাৎ একদিন একটি মুরগীর অসুখ হলো। আম্মু ঐ মুরগীটা জবাই করবে কিন্তু আমার সখের মুরগী বলে কথা...!!! জবাই করা চলবে না...।। বলে দিলাম বাঁচলে বাঁচবে, যদি মারা যায় তাহলে মারা যাবে তবু জবাই করা যাবে না। অবশেষে মুরগীটা বেঁচে গিয়েছিল। 
ঐ যে একটা মায়া কাজ করতো মুরগীর প্রতি সেটা আজো রয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত দেশি মুরগীর মাংস আমি খেতে পারি না, কষ্ট লাগে, মায়া লাগে। 

এই ঘটনাটি বলার অর্থ হলো আমি ততোটা পাষণ্ড নই। একটা মানুষের বাহিরের কঠোরতা দেখে তার ভিতরের অবস্থা বিচার কথা ঠিক নয়। কঠোরতা হলো শক্ত খোলেসের মতো, যেখানে নিজেকে লুকানো যায়। কেউ একজন হয়তো আমার সেই শক্ত খোলসটা ভেঙ্গে নরম মনটা খুঁজে নিবেই, হয়তো কখনোই কেউ পারবে না। আমারও অনুভূতি আছে, আবেগ আছে, আছে মন...।। কষ্ট লাগার অনুভূতিটা আমারও আছে, কষ্ট আমারও লাগে। অনুভূতি শূন্য আমি নই...।। 

খুব ছোট বেলা থেকেই একা একা বড় হয়েছি, খেলার সাথী ছিল না, ছিল না আড্ডা দেওয়ার মতো কেউ। Varsity Life-এ এসেও ঘুরা-ঘুড়ি, আড্ডা দেওয়া কি টা আমি এখনো বুঝি না...।। আমার মনে পড়ে না  Varsity Life-এ উঠে Varsity-তে বসে ৩-৪ জন বসে কখনো আড্ডা দেওয়া হয়েছে কিনা...।।
               আমি কতো একা,
      কতোখানি ক্ষত আর ক্ষতি নিয়ে
বেদনার অনুকূলে প্রবাহিত আমার জীবন...।।

মাঝে মাঝে মনে হয় আমি নেই, নেই আমার অস্তিত্বে...।।







মাঝে মাঝে পরাধীন হতে ইচ্ছা করে। কেউ একজন আমার স্বাধীনতাকে নিজের করে নিবে, আর আমাকে করবে পরাধীন। যে পরাধীনতা তেই আমি আমার সুখ খুঁজে নিবো। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে কেউ একজন একটু আমার খোঁজ রাখুক, কেউ একটু শাসনের শুরে কথা বলুক, কেউ একটু ভালবাসায় আগলিয়ে রাখুক...।। কেউ একজন থাকুক যে আমায় নিয়ে ভাবুক, আমার অনুপস্থিতি একটু মন থেকে অনুভব করুক, কেউ একজন থাকুক...।। কেউ একজন অন্তত কাছে ডাকুক। 
কেউ একজন থাকুক যার কাঁধে ক্লান্তির অবসর বিকেলে মাথাটা নিঃদ্বিধায়  রাখা যায়, ঘামে ভেজা মুখটা যার আচলে নিঃদ্বিধায় মুছে নেওয়া যায়। একটু অধিকার থাকুক যে অধিকারের জন্য তার হাতটি ধরে নির্জন পথে খালি পায়ে হাঁটা যায়...।। একটু ভালোবাসার টান থাকুক যার জন্য রাগিয়ে থাকতে পারবে না, অভিমান ভুলে ভালোবাসার টানে কাছে ছুটে আসবে। আমার অনুপস্তিতি, আমার শূন্যতা তার মনে একটু হলেও চিন্তার রেষ আনুক, একটু হলেও ভাবুক...।।  
আমারও যে মন আছে কেউ একটু বুঝুক...।। 

Alarm- দিয়ে রাখতে রাখতে আমি ক্লান্ত। মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে কেউ একজনের ফোনের Call- এ আমার ঘুম ভাঙ্গুক। তার ঘুম জড়ানো কণ্ঠে আমার ঘুম ভাঙ্গুক। কারো মনে আমার জায়গাটা একটু হলেও থাকুক...।। 
কেউ কাছে এসে কানে কানে বলুক "ভালোবাসি"।
আমার মনে তাকে নিয়ে যে কবিতার ঝড় তুলতে ইচ্ছে করে সেটা কেউ পাশে থেকে বুঝুক...।।

আমারও যে ইচ্ছে করে চলার পথে হঠাৎ থেমে গিয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে বলতে---
                      "আমার স্বপ্ন আজ
            এলোমেলো বাতাসে ডানা মেলে
              আমার এ মন খুজে তোমায়।"

মাঝে মাঝে যে আমরো প্রেমিক হতে ইচ্ছে করে...। আমারও যে বলতে ইচ্ছে করে-- আমি আর তুমি মিলেই "আমরা", আমাদের স্বপ্ন, আমাদের অস্থিত্ব, আমাদের ভালোবাসা...।। 

বাদলা দিনে তার দেখা না পেয়ে আমারও যে বলতে ইচ্ছে করে--
       "তুমি যদি না দেখা দাও কর আমায় হেলা,
    কেমন করে কাটে আমার এমন বাদল-বেলা...??"

বৃষ্টি হলে আমারও যে কাউকে বলতে ইচ্ছে করে...
                             "বৃষ্টি ঝরলে
                    মনে পরে তোমার কথা,
              আমার মনে তোমার ছবি আঁকা,
                    কেন বোঝাতে পারি না...।"
কেউ অন্তত বুঝুক...।। কেউ  অন্তত বুঝুক আমিও ভালবাসতে পারি, আমারও ভালোবাসা পেতে ইচ্ছে করে। ভালোবাসার অভাবটা যে আমার বড্ড বেশি...।। কেউ সেটা বুঝুক... 

কিছু সময় আমরা কিছু খুঁজি, তবে সেটা মানুষের মাঝে। মানুষটার সবকিছুই ঠিক আছে। তার ভালোবাসার মধ্যেও কোন ভেজাল নেই, নেই কোন ছলচাতুরী। তোমাকে যেভাবে কেয়ার করা উচিত, তুমি যে রকম চাও ঠিক সেভাবেই তোমার কেয়ার করে আসতেছে। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়- তার প্রতি তোমার বিন্দুমাত্র কোন অনুভূতি কাজ করে না, কোন দিক থেকেই না। তার জন্য তোমার মনে একটু জায়গাও প্রসারিত হয় না, তার অনুপস্থিতে কখনো তার জন্য শূন্যতা অনুভব করো না, তার কোন কিছুই তুমি মন থেকে অনুভব করতে পারো না।

যে হাসলে তোমার দু'চোখ আনন্দে জুড়ে যাওয়ার কথা, সেখানে তোমার বিরক্তি আসে। যে কাঁদলে তোমার চোখে পানি চলে আসার কথা, সেখানে তোমার বুকে বিন্দুমাত্র কম্পন হয় না। বিন্দু পরিমান মনে খারাপ লাগার অনুভুতি হয় না। যে একদিন ফোন না দিলে তোমার অস্থির হয়ে যাওয়ার কথা, তার ফোনের অপেক্ষায় ব্যাকুল হয়ে যাওয়ার কথা, কেন ফোন দিলো না এই দুঃচিন্তায় অস্থির হয়ে যাওয়ার কথা...সেখানে তুমি মনে মনে আরো খুশি হও। সে ফোন না দিলেও তোমার মনে হয় না কিছু, কোন শূন্যতা অনুভব করো না। কথা না বলে থাকার যে একটা আকুলতা তা অনুভব করো না। যে তোমার পাশে থাকলে মন ভালো হয়ে যাওয়ার কথা, তোমার মনের প্রতিটা স্পন্ধন জেগে উঠার কথা সেখানে তোমার দম বন্ধ হয়ে আসে। তার জন্য তোমার মনের কোন অনুভূতি প্রকাশ পায় না।

এই বিষয় গুলো কখন ঘটে ...?? হয় তুমি কাউকে অসম্ভব রকমের ভালোবাসো কিন্তু তুমি তাকে পাবে না আর নয়তো কাউকে অনেক ভালোবেসেছিলে কিন্তু তাকে পাওনি...।। এই দুইটি বিষয়ই তোমাকে অনুভূতি শূন্য করে দিয়েছে, তোমার মনের মধ্যে শূন্যতা এনে দিয়েছে।
কিন্তু ভুলটা তুমি এখন করচ্ছো...যাকে তুমি পাবে না বা যে চলে গিয়েছে তাকে নিয়েই বারবার নিজের মনের মাঝে স্বপ্ন বুনে। এই স্বপ্ন বুনা তোমাকে কষ্টই দিবে শুধু, সুখ এনে দিতে পারবে না। একটা সময় তুমি আর শূন্যতায় ডুবে যাবে আর এর জন্য দায়ী তুমি নিজেই। নিজেকে প্রশ্ন করো মিথ্যে স্বপ্নের পিছনে ছুটবে...?? নাকি যে তোমার জন্য স্বপ্ন বুনচ্ছে, তোমার হওয়ার জন্য স্বপ্ন দেখচ্ছে...তুমি তার কাছে গিয়ে তার স্বপ্ন সত্যি করবে...??

যাকে ভালো লাগে, তাকে বিনাকারণেই ভালো লাগে। ভালোলাগা থেকেই তার প্রতি অনুভূতি, তার প্রতি Expectation-বাড়তে থাকে।  আর যাকে ভালো লাগে না, তার শত ভালো কাজ দেখলেও ভালো লাগে না। যাকে ভালোবাসতে ইচ্ছা হয়, সে ভালো না বাসলেও ইচ্ছা করে। সে শত খারাপ হলেও, খারাপ কাজ করলেও, খারাপ ব্যবহার, অবহেলা - অনাদর, Ignore-করে গেলেও তাকেই ভালবাসতে ইচ্ছা করে। আবার যাকে ভালোবাসতে ইচ্ছা করে না, সে ভালোবাসতে বাসতে মরে গেলেও ইচ্ছা করে না। সে ভালোবাসা যতো স্বচ্ছ, পবিএ-ই হোক না কেন। যাকে ভাললাগে তার প্রতিটা কাজই ভাললাগে, প্রতিটা কাজই ভালোবাসা যায়...।। 

এই বিষয় গুলোর জন্য আসলে কাউকে দোষ দেওয়া যায় না। পুরোটাই মনের উপর নির্ভর করে। তোমাকেই বুঝে নিতে হবে তুমি কাকে চাও, মন কি চায়। তোমাকে যে চায় তাকে চাও...?? নাকি যাকে তুমি কখনোই পাবে না, যে কখনোই তোমার হবে না তাকে...!?
মন এমনই এক মেশিন যার কন্ট্রোল আমাদের কাছে থাকে না। মন তার নিজ ইচ্ছায় চলতে থাকে। আমরা মনকে বাঁধতে চাইলেও পারি না। যদি মনের কন্ট্রোল আমাদের কাছে থাকতো, তাহলে কারো জন্য কারো মনে কষ্টের অনুভুতি হতো না, গভীর রাতে জেগে জেগে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতো না, ঘুমানোর জন্য ঘুমের বড়ি হাতে নেওয়া লাগতো না...।।

পৃথিবীতে এমন কিছু কিছু কাজ আছে যা তার নিয়মের উপর বাঁধা। যেখানে শত রুলস প্রয়োগ করলেও সেই নিয়মের বাহিরে যাওয়া যায় না। তেমনি কিছু কিছু সত্যিকারের ভালোবাসাও তার যথাযথ মর্যাদা পায় না। কিছু ভালোবাসা পথের খোঁজে পথ হারায়, কিছু পথ শুরুতেই শেষ হয়ে যায়, অনেক সময় শুরু হওয়ার আগেই...।। তুমি ভালোবাসাটাকে, ঐ মানুষটাকে যতই মর্যাদা দিতে যাও না কেন কোন লাভ হয় না, হবে না।। হয়তো মানুষটা তোমার হাতের রেখায় নেই আর নয়তো সে তোমায় চায় না।

যে তোমার নয়, সে তোমার কোন দিনেই হবে না। যে তোমার হাতের রেখায় নেই, তাকে কখনো হাতের রেখায় বন্দি করতে পারবে না। অনেক সময় হাতের রেখার চেয়ে ঐ মানুষটার মনের উপর নির্ভর করে, ঐ মানুষটার মনের চাওয়ার উপর নির্ভর করে। ঐ মানুষটা যদি তোমাকে চায় আর তোমার অনুভূতি যদি তার প্রতি কাজ করে, তাকে চায় তবে জেনে রাখো সে তোমারই। 
আবার যে তোমার হবে, সে দশঘাটের জ্বল খেয়ে হলেও তোমারই হবে, তোমার কাছেই আসবে। তোমার হাতের রেখায় যে রয়েছে তাকে খুঁজতে হবে না, সে নিজেই তোমার হাতের রেখায় টুপ করে বন্দি হয়ে যাবে !!

মনে রেখো- "তুমি যাকে চাও তার চেয়ে তোমাকে যে চায় তার কাছেই তুমি সব চেয়ে বেশি সুখী হবে, ভালো থাকবে...।।"

যাকে তুমি ছেড়ে দেবে, তাকে একবারে ছেড়েই দাও। খুব সোজা বাংলায় তাকে বলে দাও- "তুমি চলে যাও, তোমাকে আমার দরকার নেই"।
দিনের পর দিন একটা মানুষ কে একটু একটু করে Ignore করার কোনো মানে হয় না । ভদ্রতা বজায় রাখতে গিয়ে তিলে তিলে কাউকে কষ্ট দেয়াটা খুবই বাজে একটা কাজ ।। যে এটার মুখোমুখি হয় সেই একমাত্র বোঝে কতোটা কষ্ট এটা মেনে নিতে।
তার চেয়ে বরং অভদ্র হয়ে সোজা সাপটা বলে দাও। ঝুলিয়ে রেখো না তাকে...।। হয়তো সে সাময়িক কষ্ট পাবে কিন্তু একটা সময় নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে।

একটা মানুষ টানা ফোন করে যাচ্ছে তোমাকে সকাল বিকাল, তোমার খোঁজ নিচ্ছে। তুমি দেখেও না দেখার ভান করে ফোনটা বিছানায় ফেলে রাখছো ।
রিং বেজে যাচ্ছে ...🎶
মেসেজ আসছে, এসএমএস না দেখে এড়িয়ে গেলে। হয়তো তুমি তার এসএমএস না দেখে অন্য কারো সাথে Busy বা অন্য কাউকে নিয়ে Busy...হয়তো তুমি অন্য কারো চিন্তায়, অন্য কারো কল্পনায় উদাসীন...।।
আর যে মানুষটি তোমাকে Continue Call, SMS- দিয়ে যাচ্ছে সে তোমার চিন্তায় অস্থির হয়ে ছটফট করচ্ছে..।। একটি বারও কি তার জায়গায় নিজেকে দ্বাড় করিয়ে দেখেছো কেমন লাগতে পারে তার, কতোটা কষ্টের অনুভূতি নিজে নিজে সহ্য করে ছটফট করছে...??  

যখন তার মুখোমুখি দেখা হলো--
হাসি মুখে খুব ভালোমানুষি করে বললেঃ
"আমি অসুস্থ ছিলাম, খারাপ লাগতেছিল, ফোন silent ছিল, ঘুমিয়ে পড়েছিলাম আর কিছু অজুহাত।
তাই ফোন ধরা হয় নি, মেসেজ চেক করি নি। Sorry"

ঐ মানুষটা তোমার মুখের হাসি দেখে কষ্ট ভুলে ভরসা পেলো, কষ্ট সব ভুলে গেলো...।। তোমাকে কাছের মানুষই ভেবে বসে থাকলো...।। মনে মনে তোমায় নিয়ে স্বপ্নের পাহাড় গড়ে তুললো।
অথচ তুমি তো তাকে কাছের মানুষ ভাবো না। তুমি দূরে দূরে থেকে কাছের মানুষ হওয়ার অভিনয় করছো মাত্র...।।
কাজটা করা ঠিক না তোমার..একদমই ঠিক না। এটা অন্যায়...।।
যদি পাশেই না থাকো তাহলে দয়া করে "পাশে আছি" বলে কাউকে মিথ্যা ভরসা দিয়ো না...।। সরাসরি বলে দাও সত্যটা...।।

তুমি নিজেও জানো না, তুমি একজন ঠান্ডা মাথার খুনি...।।
মিথ্যে আশা দিয়ে, অপেক্ষায় রেখে রেখে শেষে তুমি একটা মানুষকে মানসিক ভাবে খুন করছো..।। সে মানসিক ভাবে কতোটা ভেঙ্গে পড়ছে দিন দিন তা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না...।।

দিনের পর দিন কারো মনে তোমার জন্য বিন্দু বিন্দু মিথ্যে Expectation- জমতে দিয়ে এক সময় সেই Expectation- এর সমুদ্রে তাকে ডুবিয়ে মারার কোন অধিকার তোমার নেই...।। তাকে মানসিক ভাবে মেরে ফেলে কি লাভ হবে তোমার, কি সুখ পাবে তুমি...?? কিন্তু তার অনেক ক্ষতি হবে। এমনো হতে পারে তার জীবনে আর সুখ নামের জিনিসটাই আর আসবে না, হারিয়ে যাবে স্বপ্ন নামের জিনিসটা, হারিয়ে যাবে সুখ।
নিজেকে প্রশ্ন করোতো একটি বার...।। তোমার সাথে একই ঘটনা যদি ঘটে, তুমি তার জায়গায় আর সে তোমার যায়গায়...তখন তোমার কেমন লাগবে ভেবে দেখতো একটি বার।।

এখন তোমার জন্য কেউ অপেক্ষা  করে আছে,  কেউ তোমার খোঁজ নেয়ার জন্য পাগল হয়ে আছে বলেই তুমি তাকে Ignore করার সুযোগ পাচ্ছো।
কারো দুর্বলতার জন্য তাকে অবহেলা করার এই সাহস টুকুই একদিন তোমার ভয়ের কারণ হবে...।


প্রতিটি মানূষের চুড়ান্ত কিছু আবেগের স্থান থাকে, থাকে প্রচন্ড দুর্বলতা। কিছু সময় এই দুর্বলতা ভয়াবহ আকার ধারন করে। যা প্রতিটি মূহূর্ত মানূষ তার মনের মধ্যে লালন করে, তা যদি সংঘবদ্ধ ভাবে প্রকাশ করা হয় তবে তা হয়ে যেতে পারে উপন্যাস, হতে পারে কবিতা।
কিছু সময় আসে যখন আমরা এমন কিছু আবেগ, অনুভুতি প্রকাশ করি যা নিজে ব্যাতীত অন্য কারো কাছে এর মূল্য নেই। তোমার ভাললাগা, খারাপলাগা, আবেগ, অনুভূতি যার জন্য তার কাছে যদি তোমার এই আবেগ, অনুভূতির কোন মূল্য না থাকে তাহলে সেই সময়টা বড়ই কঠিন হয়ে যায়, খুবই অসহায় লাগে। যার জন্য তোমার সব কিছু, যার উপস্থিতি জুড়ে তোমার অস্তিত্ব, তোমার পথ চলা সেই মানুষটাই যদি তোমাকে না বোঝে, তোমার অনুভূতি না বোঝে তাহলে সেই সময়টার চেয়ে কঠিন সময় আর হতে পারে না। যার কাছে তোমার ভাললাগা, খারাপ লাগার কোন মূল্য নেই তার কাছে নিজের মূল্যটা শূনের কোঠায়। মাঝে মাঝে এমন মনে হবে যে তার জীবনে তোমার থাকা আর না থাকা একই কথা।

কথা গুলো একটু অন্য ভাবে বলি...

তোমার কাছে যে মানুষটা তার ভাললাগা, খারাপ লাগা, আবেগ, অনুভূতি প্রকাশ করচ্ছে তার সেই আবেগ, অনুভূতির মূল্য যদি তুমি না দিতে পারো তাহলে সে তোমার সাথে বা তোমার জীবনে থাকা বা না থাকা একই। তার অনুপস্তিতিতে কোন প্রভাব পড়বে না তোমার জীবনে। তার উপস্থিতি যদি তুমি বুঝতে না পারো, তার অনুপস্থিতিতে তোমার মনে শূন্যতাও সৃষ্টি হবে না। যদি তার অনুপস্থিতে তাকে নিয়ে তোমার মনে কোন দাগ নাই কাটে, যদি তার জন্য কোন শূন্যতার সৃষ্টি নাই হয়, যদি তার অভাব নাই বুঝতে পারো তবে ভেবে নাও সে তোমার জীবনের কেউ না। তাকে তুমি জীবনের কোন অংশেই রাখোনি...।।

যে এই শূন্যতা অনুভব করে একমাত্র সেই বোঝে শূন্যতা কি, অনুভূতি কি...।। জীবনের কোন মূল্য তথনই থাকে যখন এর মূল্য হিসাবে আবেগ গুলোর মূল্য থাকে।

কষ্ট দেখা যায়না, না ছোঁয়া যায় কিন্তু অনুভব করা যায় আবেগ দিয়ে। যে আবেগই আমাদেরকে সুখী করে আবার কষ্ট দেয়। সে আবেগের মূল্য অনেক যা কেনা যায়না, না যায় বেঁচা, আবেগ শুধু অর্জনের, অনুভূতি শুধু উপলব্ধির...।।



MARI themes

Powered by Blogger.