আমি আমার স্বপ্নের মতো হতে পারি নি। অসীম শূন্যতার মাঝে সামনের দিকে চলা একাকী এক নাবিক। আমার আমি কে নিয়েই হেঁটে চলি এক নিরন্তর পথে। হাজারো মানুষের ভিড়ে একজন মানুষ আমি, এখনো জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পাইনি। বেঁচে আছি, বেঁচে থাকতে হয় বলে, উদ্দেশ্যহীন ভাবে। হয়তো স্বপ্ন দেখবো বলেও বেঁচে আছি। স্বপ্নেই খূঁজে ফিরি নিজেকে। ঘুমহীন চোখে স্মৃতির রাজ্যে নিরন্তর ঘুরে বেড়িয়েছি। কিন্তু কখনোই মনে হয়নি কেনো এতো স্বপ্ন দেখছি...??কি হবে এতো স্বপ্ন দেখে...?? সব কিছুই কি অযথা-অকারণে!!! স্বপ্ন দেখতে দেখতে এখন আমি মিথ্যা স্বপ্নের পাহাড়ে দাঁড়িয়ে আছি। এই মিথ্যা স্বপ্নের পাহাড়ে দাঁড়িয়েও আমি অবাক স্বপ্ন দেখছি।
কেনো আমার স্বপ্ন গুলো মিথ্যা হল, কি দোষ ছিলো আমার। হয়তো আমি স্বপ্ন দেখতে দেখতে বাস্তবতা হারিয়ে ফেলেছি,তাই কি...?? আসলেই কি তাই...?? এলোমেলো ভাবনায় গন্তব্যহীন পথে উদ্ভ্রান্ত পথিক আমি এখনো স্বপ্নেই ঘুরপাক খাচ্ছি। মাঝে মাঝে ভাবি, জীবনের সব দুঃখ, কষ্ট গুলোকে, যদি বস্তাবন্দী করে মুক্তিবেগে নিক্ষেপ করতে পারতাম। তাহলে হয়ত মুক্তি পাওয়া যেত। জীবনটা কি আসলেই এমন...!!
বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্টের কথা চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু পারছিনা, আমি আর পারছিনা। আমার দু'চোখ বেয়ে বর্ষার অবিরাম জল ধারার মত বর্ষণ হচ্ছে। এ যেন আমি বর্ষিত হচ্ছি, বর্ষিত হচ্ছে আমার অবাক স্বপ্ন...

বছরের শেষ..!!! অনেকে অনেক কিছু নিয়ে ভাবতে ব্যাস্ত। কেউ নতুন বছর কিভাবে Celebrate – করবে সেটা নিয়ে ব্যাস্ত, কেউ বা কৈ কৈ ঘুরতে যাবে সেটা নিয়ে আবার কেউবা ভাবতে ব্যাকুল বছরের শেষে পাওয়া না পাওয়ার জিনিস গুলো, কি পেলো কি হারলো, কিভাবে বছরটি অতিভবাহিত হলো।
আমিও ভাবতে বসেছি কি পেলাম, কি হারালাম, কিবা দিয়ে গেলাম, কিবা নিয়ে গেলাম...??
পাওয়ার কোন অভাব ছিল না, অনেক কিছুই পেয়েছি। এক সমূদ্র কষ্ট, মিথ্যার ফুলঝুরি, বিশ্বাস ভাঙ্গার কিছু অসাধারাণ গল্প, অসাধারণ নাটক, নিখুঁত কিছু অভিনয়, বিশ্বাস ঘাতকতার এক পাহাড়। এগুলো কি পাওয়া নয়...!!!??? অনেক বেশি কিছু পাওয়া।।

বছরের শুরু থেকে শেষ পযন্ত কিভাবে কাটালাম, কিভাবে অতিবাহিত হলো সেটা বুঝতেই একটু হিমসিম খাচ্ছি। সবচেয়ে স্মরনীয় বছর এটি। এবছরের প্রতিটা দিনের কথা আমার মনে থাকবে, প্রতিটা মুহূর্তের কথা মনে থাকবে। এতো বেশি কিছু হারাবো তা ভাবিনি, এতো বেশি কষ্ট পাবো সেটা সপ্নেও হয়তো কল্পনা করিনি। এতো কিছু হারানোর পরও কিভাবে যেন স্থির আছি, কিভাবে যেন বেঁচে আছি। আমার এই স্থিরতা আমাকে যে কতোটা নিজের মাঝে আবদ্ধ করে ফেলেছে, আমার এই বেঁচে থাকাটা যে কতোটা মৃত্যুর যন্ত্রণা মূলক তা শুধু আমি জানি।

বছরের শেষটা ছিল আরো বেদনাদায়ক, কষ্টের। এরকম ভাবে বছর শেষ করতে হবে টা ভাবি নি। এতো আপন বিস্বস্ত মানুষ গুলো এতো নিপুণ ভাবে বিশ্বাসের মর্যাদা বিশ্বাস ঘাতকতা দিয়ে দিয়েছে সেগুলো অপলক দৃষ্টিতে দেখতে হলো। কিছুই বলার ছিল না, শুধু মনে হচ্ছিল আমি কি জীবিত নাকি মৃত। তবে কি এগুলো শুনার জন্যেই বেঁচে ছিলাম…!!?? এমন বাঁচাতো আমি চাইনি।। অনেক বেশি Unexpected- ছিল, যা ভাবনার বাহিরে…।।

তবু এই মানুষ গুলোকেই আমার মনে থাকবে। অনেক স্মৃতি, অনেক ভাললাগার সময় ছিল সে গুলোকে কোন ভাবেই বাদ দেওয়া, ভুলে যাওয়া সম্ভব না। হয়তো আর কখনো অনেক কিছুই ঘটবে না, অনেক কিছুই করা হবে না, জীবন থেকে অনেক মূল্যবান কিছু জিনিস হারিয়ে ফেলেছি, হারিয়ে ফেলিনি। হারিয়ে গেছে…
নতুন বছর কিভাবে শুরু করবো জানি না। তবে এটা জানি আমাকে বদলাতে হবে, বদলাতেই হবে…।
আমি কখনোই বদলাতে চাই নি, বদলে যাওয়া অনেক কষ্টের। সব সময়ই বলতাম – “আমি কখনো বদলাবো না, আর যদি ভুল করেও একবার বদলাই তাহলে আমার অস্তিত্বও কেউ খুঁজে পাবে না।” আজ কাছের মানুষ গুলোই আমাকে বদলাতে বাধ্য করলো।।

নতুন বছর নিজের জন্য কিছুই চাওয়ার নেই। দোয়া করি আমার কাছের মানুষ, আপন সেই মানুষ গুলো অনেক ভালো থাকুক, তাদের Life- অনেক সুন্দর, আনন্দময়, সুখময় হোক।। শুধু তাঁরা না, তাদের আশেপাশের মানুষ গুলোও যেন তাদের সংস্পর্শে সুখি থাকে, সুখি হয়…

আল্লাহ্-র কাছে একটাই প্রাথনা সবাইকে সুখে রেখো, ভালো রেখো, সবার মনের আশা পূর্ণ করো।।
ভালো কাটুক সবার New Year, শুরু হোক নতুন একটা জীবন, নতুন বছর, নতুন একটা সময়।।
সবার জন্য রইলো অনেক অনেক শুভ কামনা, অনেক শুভেচ্ছা।  
                                            “HAPPY NEW YEAR-2016”



মানুষের কিছু ভালোলাগা থাকে চিরন্তন। কিছু অনুভুতি কখনো মুছে ফেলা যায় না মনের ছোট্ট কোঠর থেকে। কিছু মানুষকে কাছে পেতে মন থাকে সদা ব্যাকুল। কিছু ভালবাসা ছাড়া জীবন অসম্পূর্নই থেকে যায়। কিছু প্রাপ্তিতে আরো কিছু বেশি পাওয়ার হাহাকার থেকে যায়।
আমার ভাললাগার জিনিস গুলো খুব কমই ধরে রাখতে পেরেছি। কিছু হারিয়ে ফেলেছি, কিছু হারিয়ে গেছে, কিছু পাওয়ার আশাটা দুঃস্বপ্ন মাত্র। খুব ভয় লাগে তখন যখন মন কিছু পাওয়ার আশায় ব্যাকুল হয়ে যায়, ব্যাকুল হয়ে চায়। মুখ ফুটে তখন আর প্রকাশ করার সাহস পাই না। এই ভরে যদি চাইলেই হারিয়ে ফেলি, যদি আরো দূরে চলে যায়।
কেন যেন মনে হয় ভাললাগার কোন কিছু আমার পাওয়ার অধিকার নেই, আমি পাওয়ার মতো নই। তাইতো মনে নতুন করে কোন স্বপ্ন জন্মাতে দেই না। নাজানি সেই স্বপ্নটাই দুঃস্বপ্নের রুপ নিবে।
স্বপ্ন গুলো মারতে মারতে আজ আমিই মৃত্যুর পথ যাত্রি...

আমি কেমন যেন বদলে যাচ্ছি। একরম অন্য মনষ্কতা, অগোছালো, এবং অসম্পূর্ণতা ভাব আমার মধ্যে কাজ করতেছে। যখনই একা থাকি তখনই নানা রকম ভাবনা মনের মধ্যে আসে। এত ভেবে ভেবে ঠিক করি এবার কিছু একটা করবো। কিন্ত এর পরে আর কিছু করতে পারিনা। অনেক ভাবি একটু গুছিয়ে নিবো নিজেকে কিন্তু তা আর হয়েও হয়ে উঠে না

যখন আমি কাউকে বলি, আমার একা থাকতেই ভাললাগে, বেশির ভাগ সময়-ই একা থাকি। তখন সবাই একটা কথাই বলে- "একা থাকলে নাকি মানুষ বিগড়ায় যায়, একটা ঘোরের মাঝে আবধ্য হয়ে যায়। নানা রকম খারাপ চিন্তা মাথায় আসে"। আমি তখন কিছুই বলি না, শুধু মুচকি হাসি দিয়ে চলে আসি সেখান থেকে। এখন এমনও হয় রাত ৪-৫ টা পর্যন্ত জেগে কাটাই। কিন্তু আমার মাথায় সত্যি আসেনা কি করে এটা সম্ভব। সারাদিন  ক্লাস, Exam, Assignment  শেষে বাসায় এসে ফ্রেশ হলে যে কোনো মানুষই ঘুমে ঢুলতে থাকে।  কিন্তু আমার এটা হয় না, ঘুম-ই আসে না । রুমের মধ্যে কিচ্ছু করার নেই, কিছুই না। তারপরও ঘুম আসতে আসতে সেই রাত ৪টা -৫টা বেজে যায়। শুয়ে শুয়ে ভাবতে থাকি। মাঝে মাঝে কি ভাবতে থাকি সেটাই বুঝি না। কেমন যেন একটা ঘোরের মাঝে চলে যাই, অন্য একটা জগত। সে জগতে শুধু আমার অস্তিত্ব, আমার বসবাস। অন্যদিকে ল্যাপটপে খুব প্রিয় পুরাতন দিনের গান গুলো বাজতে থাকে একটার পর একটা।
মাঝে মাঝে মনে হয় কেন আমি পৃথিবীতে আসলাম......।।

আবেগী মানুষের হৃদয়েই কষ্টে ভর করে বেশি। এরা মানুষকে খুব সহজে যতটা আপন করে নেয় তেমনি খুব দ্রুতই আপন মানুষদের কাছেই অবহেলিত হয়। প্রবাদ গুলো খুব বেশি সত্য। মাঝে মাঝে প্রবাদ গুলো খুব ভাবায়-
                                  "পৃথিবীতে কাউকে আপন ভাবা খুব সহজ,
                                      কিন্তু আপন করে পাওয়া খুব কঠিন।"
শরীরের চামড়ায় কোন ছিদ্র থাকলে দেখা যায় কিন্তু হৃদয়ের গভীরের কোন ছিদ্র দেখা যায়না।
একজন আবেগী মানুষের মনটা খুব নরম এই জন্য তাদের হৃদয়ে অন্যে গর্ত খুঁড়ে বসে খুব সহজে। চোখের পানি আর চিৎকার করে কাঁন্নার আওয়াজ সবাই দেখতে পায়, শুনতে পায়, বুঝতে পারে তার অতি যন্ত্রনা। কিন্তু কারো হৃদয়ে ক্ষয়ে যাওয়ার প্রিয় মানুষের দেয়া উপহার হৃদয়ে জমাট হওয়া পানি কেউ দেখতে পায়না, আর যন্ত্রণাময় অনুভূতি কিছু বুঝতেও পারে না।
.
এ ব্যাথা এক অন্য ব্যাথা। শরীরের কোথাও যদি কোন কাঁটা জায়গায় হাত লাগে তাহলে আহত ব্যক্তি চিৎকার করে উঠে কিন্তু হৃদয়ে আঘাত পাওয়া মানুষটির বুকে হাত দিলেও সে আঘাত পাবেনা কিন্তু ভিতরে ঠিকই জ্বলতে থাকবে।
কোন কিছুতে অতি আবেগী বা অতি উৎসাহী হওয়াই জীবনের সব চেয়ে বড় কাল। আজ যাকে ভালবাসবেন, আপন ভাববেন, মনে জায়গা দিবেন সেই কালকে যন্ত্রনার কারণ হবে, সেই কাল আঘাত করবে। পাষান মানুষ ঠিকই মনের আনন্দে রাত না জেগে ঘুমাবে আর আপনি মনে জ্বালা নিয়ে প্রত্যেক দিন - রাতে অনিদ্রায় বালিশ ভিজাবেন। বেশি আবেগী হয়ে কাউকে আপন ভাবতে নেই, মনে জায়গা দিতে নেই। এতে পরে বিবেকহীনদের কাছে সহজেই হেরে যেতে হয়।

মানুষ না হয়ে যদি ঐ নীল আকাশ হতাম তাহলে কষ্টের মেঘ টুকু সহজেই সাত রঙ্গে বদলাতে পারতাম,
যদি হতাম নদী তাহলে কুলে কুলে কষ্টের মায়া জাল ছড়িয়ে কষ্ট মুছে নিতাম,
যদি হতাম ঐ বনের অচিন পাখি কষ্ট ছুতো না আমায় কোন নাম অজানা কারণে,
যদি হতাম নীল সাগরের ঢেউ তাহলে ঢেউ-য়ে ঢেউ-য়ে কষ্ট কমিয়ে নিতাম,
যদি হতাম মেঘের কণা তাহলে ঝরে পরতাম বৃষ্টির প্রতি ফোঁটায়,
মানুষ তো তাই কষ্ট লুকাই কান্নার জলে,হাঁসির আড়ালে,
মানুষ তো তাই বাঁচতে হয় নিজের সাথে প্রতিনিয়ত অভিনয় করে,
মানুষ তো তাই পারি না বলতে কারো কাছে কষ্টের কারণ, পারি না বলতে বুকের চিনচিনে ব্যাথার কারণ,
মানুষ বলেই হয়ত কেউ বুঝে না অভিনয়ের কারন, কেউ খুঁজে না কষ্টের কারণ...
এটাই আমার জীবন...

আজকাল দুয়ার খুলে দিনের আলো দেখতে ইচ্ছে হয় না। দিন শেষে বিকেলের নিস্তেজ সূর্যের মিষ্টি আলো গায়ে মেখে বারান্দায় দাঁড়াতে মন চায় না। মন চায় না জোসনা রাতে গুন গুনিয়ে গান গাইতে। এখন মধ্য রাতে বৃষ্টি হলে আমার কাঁদতে ইচ্ছে করে, ভিজতে ইচ্ছা করে না।

সব কিছু থাকা সত্ত্বেও নিজেকে নিঃস্ব মনে হয়। আজকাল আমাকে কে যেন পেয়ে বসেছে, কেমন যেন একটা অবসাদ। মাথাটা কাজ করতে চায় না আজকাল, সব কিছুই কেমন যেন এলোমেলো লাগে।

আমার প্রায়ই নিজেকে দিশেহারা, ছন্নছাড়া মনে হয়। কিছুই ভালো লাগে না, কি করবো তাও বুঝতে পারি না । যখন আমি চরম হতাশায় ভুগি তখন আমি একা নিরিবিলি কোন জায়গায় বা আমার প্রিয় পুকুর পাড়ে বসে থাকি বা আমার প্রিয় গান গুলো শুনি। তখন নিজের মনের হতাশা ভাবটা কিছুটা হলেও দূর করা যায়। মাঝে মাঝে বুঝি না আদৌ কি হতাশা কমে...?? নাকি বাড়ে...??
মানুষের জীবনে এমন কিছু সময় আসে যখন নাকি সে দিশেহারা হয়ে যায়। মনে হয় বেঁচে থাকার কোন মানে নেই। নিজেকে অনেক বোঝা মনে হয় নিজের কাছেই। পৃথিবীর সব কিছুই মনে হয় প্রবঞ্চনা, উপহাস করছে। সবাই যেন উপহাস করছে। নিজের কষ্ট গুলো এমন থাকে যে গুলোকে প্রকাশ করা যায় না। সত্যিই আজ আমি আজ দিশেহারা.....।

কেউ কাউকে প্রচন্ড কষ্ট দিয়ে নিষ্ঠুরের মত চলে যাওয়ার পর আসলেই ভালো থাকে কিনা, আমার জানা নেই। তবে মানুষ সবই পারে।
বছর খানেক ধরে জমানো হাজার হাজার ছবির অ্যালবামটা এক রাতেই পুড়িয়ে ফেলে দিতে পারে।। মানুষ সব পারে ...
নিষ্ঠুর হওয়াটা দোষের না ।।  মানুষ যত না নিষ্ঠুর, তার চেয়েও বেশি আবেগ প্রবণ ... পার্থক্যটা এখানেই।।
তীব্র কষ্ট দিয়ে কাউকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে আসলেই সব শেষ হয়ে যায় না। ছবির অ্যালবামটা, চিঠি গুলো, ডায়েরি পুড়িয়ে ছাই করে ফেললেই সব মুছে যায় না ।
ঠান্ডা মাথায় কারো স্বপ্ন খুন করেছিল সে । স্বপ্ন খুনির কখনো ফাঁসি হয় না । শুধু নিজের ভেতরে যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়। কারাগারের সেই বদ্ধ ঘরে দুঃস্বপ্ন, বুকের চিনচিনে ব্যথা আর পুরনো স্মৃতি গুলো তাকে সারা জীবন তাড়িয়ে বেড়ায় । তীব্র যন্ত্রণার সুরের কম্পনের তালে হৃদপিন্ডটা ধকধক শব্দ করতে থাকে । সেই শব্দটা কেউ শুনতে পায় না। তাই সবাই ভাবে, ভালোই আছে মানুষটা ... খুব ভালো আছে ।।

জীবনে কি পেলাম আর কি হারালাম মাঝে মাঝে খুব জানতে ইচ্ছে করে। জীবনে পাওয়ার চেয়ে হারিয়েছিই বেশি। কিন্তু আসে পাশের মানুষ ভাবে ঠিক তার উল্টোটাই।  খুব গভীর ভাবে ভেবে দেখলে আমার কিছু পাওয়াটা শূন্যের কোঠায়। কিন্তু এতোটা কি হারানোর কথা ছিল...??? 
কি পেলাম...?? কিছুই তো পাই নি। পাওয়ার মতো কি কিছু ছিল না, নাকি আমি পাওয়ার মতো ছিলাম না...??
এই অপূর্ণ, শূন্য জীবন আর ভালো লাগে না। কেমন যেন শূন্য শূন্য লাগে। সে শূন্যতা কিসের আমি জানি না। এই শূন্যতা শুধু আমার মনের চার দেয়ালের মাঝেই সীমাবধ্য। বাহিরের কেও কখনো তা জানতে পারবে না, কখনো বুঝতেও পারবে না। আচ্ছা কেউ কি কখনো সেই শূন্যতা বুঝবে..!! নাকি এভাবেই কেটে যাবে বাকিটা জীবন...??
খুব ইচ্ছা করে আকাশের তাঁরা হয়ে যেতে। দূর আকাশের ছোট্ট একটি তাঁরা। মাঝে মাঝে মিটি মিটি করে জ্বলবো আবার অদৃশ্য হয়ে যাবো।
জীবন থেকে মুক্তি নিতে চাই, চির মুক্তি নিতে চাই। পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিতে চাই......।।

বিদায় জিনিস টা আমি সব সময়-ই ভয় পাই। কেন যেন বিদায় কথাটা মুখে আনতে ঠোট কাপে, শরীর শীতল হয়ে আসে। তবু কিছু বিদায় নিতে হয় বাধ্য হয়ে, অন্য কারো জন্য, তাদের ভালোর জন্য, তাদের ভালো রাখার জন্য।

Happy Ending- বলতে একটা কথা আছে। সবাই Happy Ending- চায় কিন্তু আমি একটু অন্য রকম, একটু ভিন্ন। খুব কাছের মানুষের কাছ থেকে বিদায় নিতে হলে তাদের মনে নিজের সম্পর্কে খুব বাজে, খারাপ কিছু ধারনা সৃষ্টি করে দিতে হয়। এমন কিছু করতে হয় যেন তাদের মনে ঘৃণা জন্মায়। কারণ, কোন সময় মনে পরলেও ঘৃণাটাই মনে পরবে, বাজে ধারনাটাই মনে পরবে।

আমি সফল, সত্যি আমি সফল। আমি পেরেছি, খুব কাছের মানুষদের মনে নিজের জন্য ঘৃণা জন্মাতে পেরেছি, খুব বাজে কিছু ধারনা জন্মাতে। এখন আর কোন ভয় নেই। আমাকে তাদের আর মনে পরবে না, আর যদি মনে পরেও তাহলে ঘৃণাটাই মনে পরবে, খারাপ দিক গুলোই মনে রাখবে এবং সে গুলোই মনে করবে। খুব সহজেই ভুলে যেতে পারবে। মানুষ খুব সহজেই মানুষকে ভুল বুঝতে পারে। এই ভুল বুঝার মাঝে যে আরেকটা ভুল থেকে যেতে পারে সেটা অনেক সময় চোখেই পরে না। তবে আমি খুশি এটা ভেবে যে এই ভুলটা তারা কখনোই ধরতে পারবে না, কখনোই আসল সত্য গুলি জানতে পারবে না।

কখনোই বিদায় দিতে চাইনি। ইচ্ছা ছিল সারা জিবন-ই সাথে থাকার, পাশে থাকার, ভালো ভাবে থাকার। কিন্তু এটা শুধু আমার ধারনা ছিল। আমি কারো জীবনে বাঁধা হয়ে থাকতে চাই না, ভালো থাকার মাঝে দুঃখের সাগর হয়ে থাকতে চাই না। তাই নিজেকে এভাবে খারাপ বানিয়ে নিরবে চলে যাওয়া।

কিছুই ভুলতে পারবো না আমি। সবই মনে থাকবে, তবে সে গুলো শুধু ভালো সময় গুলো। খারাপ সময় গুলো আমি মনে করতে চাই না। অনেক স্মৃতি ঘেরা, অনেক স্মৃতিময় সময় ছিল। সে গুলো ভোলার মত না। স্মৃতি গুলো আমি বইতে পারবো তো…??

আর কখনো নিজের পাশে কাউকে রাখবো না, কারো কাছে যাবো না। একা থাকবো, খুব বেশি একা। খুব আপন মানুষদের কাছ থেকে, কাছের মানুষদের কাছ থেকে চিরদিনের জন্য বিদায় নিয়ে চলে আসা যে কতোটা কষ্টের তা আমি জানি। এই ছোট্ট হৃদয়-এ কিভাবে সহ্য করবো…???

খুব ইচ্ছা ছিল এই কাছের মানুষদের সাথে শেষ একটি বার দেখা করার, খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু কল্পনাতে যখন ভেবে দেখলাম আমার জন্য তাদের মনে কতোটা বিষ, কতোটা ঘৃণা জমা হয়ে আছে তখন তাদের সাথে শেষ দেখা করার ইচ্ছাটা মরে গেল। আল্লাহ্ এর কাছে একটাই প্রথনা- আমার মৃত্যুর সংবাদটাও যেন তাদের কান পর্যন্ত না পৌছায়।
বিদায় কিভাবে নিতে হয় আমি জানি না। যদি Happy Ending- দিতাম তাহলে কখনোই বিদায় হতো না। নিজেকে খারাপ হিসেবে উপস্থাপন করেছি, এতেই বিদায় হয়ে গেছে। খুব অবাগ লাগলো এটা ভেবে মানুষের বিশ্বাস কতো তুচ্ছ, কতো ভঙ্গুর। এতো অল্পতেই ভেঙ্গে যায় কিভাবে…!!! সত্যটা একটু যাচাই করারও প্রয়োজন হয় না…!!!

কাছের মানুষ গুলো ভালো থাকুক সেটাই ভালো। দূরে গিয়ে অনেক ভালো থাকতে পারবে এটাই আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আর কখনো তাদের কাছে যাওয়া হবে না, তাদের সাথে কথা হবে না, হয়তো দেখা হলেও মুখ ফিরিয়ে অভিশাপ দিয়ে চলে যাবে। তবু তারা ভালো থাকুক, ভালো থাকুক তাদের মন।

আজ তাদের আমি মুক্তি দিলাম, চিরদিনের জন্য মুক্তি দিলাম। জীবনে আর কখনো তাদের সমোক্ষীন হবো না…।। বিদায় বেলার এই রাতটির কথা আমার মনে থাকবে, খুব বেশিই মনে থাকবে।


“কেন যেন পোস্টটা লিখতে খুব বেশি হাত কাপতেছিল। খুব ভয়ে ভয়ে ছিলাম লিখাটা শেষ করতে পারবো তো..।। পেরেছি......।। ”

MARI themes

Powered by Blogger.