যদি আমাকে না পেলেও তোমার দিব্যি দিন কাটে,
সকালের নাস্তা হয়, তারপর দুপুরের খাবার,
রাতের খাবার শেষে-
ঘুমে আচ্ছন্ন হয় তোমার চোখের শহর,
তবে বুঝে নিও প্রিয়-
আমার জন্য কিছুই থেমে নেই তোমার।

যদি সামান্য জ্বরে ড্রয়ার থেকে খুঁজে বের করো থার্মোমিটার,
কতোটা জ্বর হলো-
মেপে দেখে নিজেই খেয়ে নাও জ্বরের ঔষধ,
তবে জেনে নিও প্রিয়-
আমার যত্নহীনতায় কিছুই যায় আসে না তোমার।

যদি মেঘলা দিনে বিষণ্ণ না লাগে,
বুকের ভিতর হাঁসফাঁস না হয়,
নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃসঙ্গ মানুষটি মনে না হয়,
তবে বুঝে নিও প্রিয়-
এক সাথে অনেক স্মৃতি জমলেও,
আমার জন্য ভালোবাসা জমে নি তোমার।

ভালোবাসলে এলোমেলো হতে হয়-
ভালোবাসাহীনতায় তারচেয়েও বেশি অগোছালো হতে হয়।
আমাকে না পেলেও যদি দিব্যি দিন কেটে যায়,
রুটিং মেনে সমস্ত জীবন কাটে,
গোছালো একটা ঘড় হয়!
তাহলে বুঝে নিও প্রিয়-
আমাকে যতোটা ভালোবেসেছিলে;
তারচেয়েও ভালোবেসেছ নিজেকে।

শুধুমাত্র ঝগড়া, কথা কাটাকাটির সূত্র ধরে আমি বেশকিছু সম্পর্ক ভাঙতে দেখেছি। আমাদের সমস্যাটা হলো, আমরা যখন কারো সাথে নিজেকে জড়াই, তখন শুধু তার ভালো দিকটা ভেবেই জড়াই, কিন্তু তিতা সত্যি হল- সম্পর্কে জড়াতে হলে আমাদেরকে মানুষটার খারাপ দিকটার সাথেও জড়াতে হবে। কেননা, পৃথিবীতে কেউ শতভাগ পারফেক্ট হতে পারে না, আমরা কেউ এখানে পারফেক্ট না। আমি না, তুমি না, সে ও না..।। 

একজন মানুষ তোমাকে প্রতিনিয়ত সুখে রাখতে পারবেনা। কেননা, আমাদের জীবনটা কোনো সরল রেখায় চলেনা, এমনকি সরল রেখাও সরল না। এখানে নানাবিধ জটিলতা আছে। ইচ্ছাকে অনিচ্ছায় রূপ দেওয়া, অনিচ্ছাকে ইচ্ছায় রূপ দেওয়ার মত কঠিন কাজ এখানে খুব যত্ন সহকারে করতে হয়। সবসময় মন মেজাজ নিয়ন্ত্রণে থাকেনা। আমার থাকেনা, তোমার থাকেনা, তার ও থাকেনা। ব্যাপারটা তোমাকে বুঝতে হবে। একজন মানুষ কোন পরিস্থিতিতে আছে, সে কোন পরিস্থিতিতে কি আচরণ করছে সেটা বুঝতে হবে। বুঝতে না পারলে চুপ থাকতে হবে, মানুষটাকে বোঝানোর জন্য সময় দিতে হবে, মানুষটাকে বুঝতেও সময় দিতে হবে। তবে বুঝা অবুঝের মতো আচরণ করলে চলবে না।

মানুষটার ভালো দিক যেমন তোমাকে আনন্দ দেয়, খারাপ দিক তোমাকে কষ্ট দিবে - এটাই স্বাভাবিক। তুমি ভালো দিক, ভালো ব্যবহার মেনে নিবে কিন্তু খারাপ কিছুই মানতে পারবে না তা তো হয় না। যে মানুষটা তোমাকে আজ কাঁদাচ্ছে, যার কথায় আজ চোখে জ্বল চলে আসছে তার জন্য তুমি জীবনে কঠিন কঠিন সময়ে হেসেছো, তার হাসি মুখের দিখে তাকিয়ে নিজেকে সব চেয়ে সুখি একজন মানুষ ভেবেছো- এটা ভুললে চলবে না। তোমাকে বুঝতে হবে, রাগ-ঝগড়া-কথা কাটাকাটি ছাড়া কখনো কোনো সম্পর্ক হয় না। এটা সম্পর্কের একটা অংশ। যেই মা-বাবার সাথে আমাদের সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্ক, তাদের সাথেও সেই ছোটবেলা থেকে অনেকবার অনেক রাগারাগি, কথা কাটাকাটি হয়ে গেছে।জীবনে বহুবার চিন্তা করা হয়েছে, বাসা থেকে চলে যাই, বাবা-মার সাথে আর কথা বলবে না... পেরেছো কি..? কিন্তু, তুমি যাকে ভালোবাসো বা তোমাকে যে ভালোবাসে তার সাথে সামান্য ঝগড়াতেই সম্পর্ক শেষ করে দেওয়ার সিধান্ত নিয়েছো। তবে কি শুধু রক্তের সম্পর্ক-ই টিকে থাকে বাকি সব সম্পর্ক মিথ্যে...? 

বিশ্বাস করো, এই পৃথিবীতে যাকেই তুমি ভালোবাসবে, সে-ই তোমার সাথে ভুল আচরণ করবে। যার সাথে সম্পর্কে জড়াবে, সে-ই তোমাকে কোনো না কোনোভাবে কষ্ট দিবে। তুমি পৃথিবীর কোথাও, কারও কাছে নিরবচ্ছিন্ন সুখ পাবেনা।নিরবচ্ছিন্ন সুখও কিন্তু তোমাকে পূর্ণতা দিবে না। তোমাকে মানতে হবে, "ভুল ছাড়া মানুষ হয় না, কষ্ট ছাড়া ভালোবাসা হয় না"।

আর হ্যাঁ সবসময় নিজের দিক ভাবলেও চলে না। অনেক সময় অন্যদের কথা ভাবতে হয়।তুমি যে মানুষটার সাথে জড়িয়ে আছো সে মানুষটার উপর তোমার যেমন অধিকার আছে তার যেকোন বিষয়ে কথা বলার, ঠিক তেমনি তোমার বিষয়েও কথা বলার অধিকার সে রাখে। যদি তুমি ভেবেই থাকো তোমার সব কিছুর সিধান্ত তুমি একা নিজে আর তোমার বাবা-মা নিবে তাহলে তোমার ভাবা উচিত তোমর সাথে আরেকটা মানুষ জড়িত। তার কথাও তোমাকে ভাবতে হবে, তোমাকে ভাবতে হবে তারও কোন সিন্ধান্ত দেওয়ার থাকতে পারে তোমাকে নিয়ে। তুমি সর্বদাই চাইবে জিততে, সর্বদাই চাইবে তুমি সবার উর্ধ্বে থাকতে। তোমাকে কেউ কিচ্ছুটি বলতে পারবে না, কিন্তু কেনো..? ভেবে দেখো তো তুমি নিজে ১০০% ঠিক..? তুমি কি বাচ্চা..?  আর সর্বদা জিতবে জীবনের এমন এক সময়ে হারবে তখন আর কোনো পথ খোলা পাবে না..।

মানুষটাকে ভালোবাসার আগে ভেবে নেওয়া উচিত এই মানুষটির জন্য তুমি অপেক্ষা করতে পারবে কিনা। ভালোবাসার চেয়ে অপেক্ষা করা অনেক বেশি কঠিন। আমি বলবো ভালো কম বাসো তাতে ক্ষতি নেই, কিন্তু তাকে পাওয়ার জন্য যে অপেক্ষা করা দরকার সেই সাহস, শক্তি, ইচ্ছা, মনের জোড় যেন মনে থাকে সবসময়। তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন তার প্রতি তোমার সন্মান বোধ কতোটা, তার ভালো থাকা, তার গুরুত্ব তোমার জীবনে কতোটা। তাকে ভালো থাকতে দেখতে চাওয়া আর তাকে ভালো রাখা এক জিনিস নয়। তুমি হয়তো চাও সে ভালো থাকুক কিন্তু ভালো থাকার জন্য যা করা দরকার তুমি ঠিক বিপরীতটাই করো। তাহলে এই চাওয়ার কোন বাস্তবিক অর্থ নেই। 

নিজের জেদ, ভালোবাসা, তার প্রতি গুরুত্বহীন কখনই এক সাথে চলতে পারে না। কারোর সাথে রিলেশনে জড়ানোর আগে একবারের জন্য হলেও ভাবা উচিৎ। তার সম্পর্কে জানা উচিত, তার পছন্দ - অপছন্দ সম্পর্কে জানা উচিত। তার মনের সাথে নিজের মন মিলিয়ে নিতে পাড়বে কিনা, তার ইচ্ছা কাছে নিজের ইচ্ছার ত্যাগ স্বীকার করতে পাড়বে কিনা তা খুব ভালো করে মিলিয়ে নেওয়া উচিত। তাকে পাওয়ার জন্য কতোটা কষ্ট, কতোটা ত্যাগ স্বীকার করতে পাড়বে তা খুব ভালো করে নিজের মনের কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত। তার সাথে সারা জীবন সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে চলতে পারবে কিনা, একটা ঘড়ে উভয়ে মিলে একসাথে শান্তিতে এক প্লেট ভাত আহার করতে পারবে কিনা, এক ছাদের নিচে উভয়ে মিলে ভালোবাসার তাজমহল তৈরি করতে পারবে কিনা, হাতে হাত রেখে একসাথে জীবন পাড়ি দিতে পারবে কিনা এগুলো খুব ভালো করে নিজের মনের সাথে বুঝে নেওয়া উচিত। এগুলো নিজের মনের সাথে নিজেকেই বুঝে নিতে হবে, কেউ তোমাকে এগুলো বুঝিয়ে দিয়ে যাবে না।

আজ আমি ভালবাসার নয়, লিখবো বিষণ্ণতার গল্প। আমার জীবনের গল্প, আর এটা উৎসর্গ করবো আমার পরিচিত অপরিচিত বিষণ্ণতায় ভোগা মানুষদের।আমার বলতে দ্বিধা নেই আমি কয়েক বছর ধরেই বেশ হতাশ, নিরাশাবাদী, অনেক বেশি বিষণ্ণতা কাজ করে। জীবন কে বার বার গুছিয়ে নিতে যেয়েও অনেকটা ব্যর্থ। কিন্তু আমি তো আমার বিষণ্ণতা গুলো নিয়েই বেশ আছি।কেন আমি বিষণ্ণ...? মাঝে মাঝে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আরো বেশি বিষণ্ণ হয়ে যাই। 

কোন কোন বিষণ্ণতার গল্প পৃথিবীর কাউকেই বলা যায় না। অদ্ভূত সেই বিষণ্ণতা, বিচিত্র সেই মন খারাপ।মাথার ভেতর "ভাল্লাগেনা" নামের পোকারা মাকড়শার জালের মত এলোমেলো জাল বুনতে থাকে। সেই জালে হাসি আর আনন্দ গুলো এক এক করে আটকে যায়। হারিয়ে যায়, মুছে যায় হাসি আর খুশি। দুঃস্বপ্নের মত সময় আসে মাঝে মাঝে।চোখ বুজে পড়ে থাকতে হয়, ঘুম ভাঙ্গলেই জগতটা খুব অচেনা লাগে।আশপাশটায় চোখ বুলিয়ে হুট করে মনে পড়ে যায়।ভয়াবহ এক মন খারাপের রাজ্যের রাজা হয়ে বসে আছি আমি।তখন আবার চোখ বুজতে ইচ্ছে হয়।

আমি নিজেও জানি না একটু একটু করে বেড়ে উঠা এই বিষণ্ণতার শুরু। বিষণ্ণতা হয়তো বেড়ে ওঠার পরিবেশ, হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোন ঘটনার শক বা পারিবারিক বিষণ্ণতায় ভোগা জীনগত সমস্যা থেকেও হতে পারে। তবে হঠাৎ করে বিষন্নতা জন্ম নেয় না। বিষণ্ণতা কাউকে কখনোই হুট করে পেয়ে বসে না।এটাও অনেকটা দীর্ঘ সময় নিয়ে অর্জন করে নিতে হয়। অর্জন...!! হ্যাঁ অর্জন...কারণ, বিষণ্ণতার স্তরে নিজেকে টেনে নিতে মনের অনেক সময় লাগে। মন হঠাৎ করে বিষণ্ণতার স্তরে ডুবে যেতে পারে না।অনেক ধাপ পেরুতে হয়। শুরুতে কোন কিছুতে ব্যর্থ হলে কষ্ট লাগে। আপনজন কেউ হারিয়ে গেলে দুঃখ লাগে, কাউকে না পাওয়ায় বা কেউ ছেড়ে যাওয়ায় একটা যন্ত্রণার অনুভূতি হয়, সফলতার পিছনে ছুটতে ছুটতে নিজেকে হারিয়ে ফেলা। এগুলোকে কাটিয়ে উঠতে পারে অনেকেই, তারা মনের দিক থেকে সফল। কিন্তু কেউ কেউ হয়তো হেরে যায়, হেরে যায় নিজের মনের সাথে। তখন মনে আস্তে আস্তে ভর করে হতাশা, নিরাশা, নিজের প্রতি একটা বিরক্তি ভাব। সেটাও বেশ ভালো, একটা কষ্ট কষ্ট অনুভূতি থাকে, হেরে যাবার যন্ত্রণা থাকে। আবার হতাশার মাঝেও হঠাৎ আনন্দের কিছু ঘটলে খানিকটা সুখ খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু হতাশা বা নৈরাশ্যের স্তরে মানুষ বেশিদিন থাকে না। যারা এই স্তরে একবার যাত্রা শুরু করে তারা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারলে তো ভালো, তা না হলে পরবর্তী স্তরে আছে বিষণ্ণতা, অবসাদ। হতাশার স্তর যন্ত্রণা এবং কষ্টের বলেই মানুষের ব্রেইন তাকে এর থেকে বাঁচাতে তাকে টেনে নিয়ে যায় বিষণ্ণতায়। এখানে একবার ঢুকে পড়লে জগতের আর কোন কিছুতেই কোন কিছু যায় আসে না। সব কিছু তুচ্ছ মনে হয়।না আছে কোন আনন্দের অনুভূতি, না আছে কষ্টের। সব কিছু মনে হয় রঙহীন ধূসর, একঘেয়ে, বিরক্তিকর। অনেকটা স্বাদ গন্ধহীন কাগজ চিবোনর মতন।জীবনের উদ্দেশ্য গুলো কেমন গুলিয়ে যায়।নিজেকে অনেকটা মনে হয় ঝর্না ধারায় পড়ে থাকা এক খন্ড নিষ্প্রাণ পাথর, যার জলের তৃষ্ণা আছে, কিন্তু জল তাকে ভেজাতে পারে না, শুধু ছুয়েই চলে যায়।গায়ে লাগে না...।

এখন আমি ২৫ বছরের তরুণ, এই স্বল্প সময়ের জীবনে এখনই প্রায়ই ভাবি যদি পালিয়ে যেতে পারতাম জীবন কে ফাঁকি দিয়ে।ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার অভ্যাস না থাকলেও, জীবন কে ফাঁকি দিতে প্রায়ই ইচ্ছে হয়। সবসময় এমন ছিলাম না আমি, হথাৎ মনে হয় একটু বেশিই এমন হয়ে যাচ্ছি। এক সময় আমিও স্বপ্ন দেখতাম, প্রাণ চাঞ্চল্য আর উৎসাহে ভরপুর চার'দিক। নিজের সামনে একটু একটু করে নিজের পরিবর্তনটা দেখেছি। এই একটু পরিবর্তন টা যে জীবনের এতোটা পরিবর্তন এনে দিবে সেটা হয়তো কখনো অবচেতন মন বুঝতে পারে নি। কিন্তু চেষ্টা করেও খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি।এখন মনে হয় আমি হারিয়ে গিয়েছি।আগের সেই আমাকে আর কোথাও খুঁজে পাই না। দুঃখ, কষ্ট বা আনন্দ গুলো মনে হয় আমাকে আর খুব একটা ছুঁয়ে যায় না। মনে হয় এক সময় খুব জোরে ঝংকার তুলে বাজতে থাকা আমার জীবনের সুরের কোথাও ছন্দ পতন হয়েছে, যেন একটু একটু করে একটা তানপুরা পুরনো হতে হতে তাল কেটে যেয়ে বেসুরো হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমি বুঝতে পারি এটা হঠাৎ করে কখনোই হয়নি। খুব আস্তে আস্তে অনেক সময় নিয়ে আমি এই স্তরে এসে পৌঁছেছি। নিজেকে যখন বিষণ্ণ হিসাবে আবিষ্কার করতে শুরু করি তখন থেকেই আমি ভাবতে থাকি কেন আমি এমন হলাম।উত্তর টা প্রশ্নের মাঝে সীমাবদ্ধ...। 
“The woods are lovely, dark and deep,
But I have promises to keep,
And miles to go before I sleep,
And miles to go before I sleep...”

অনেক ভালোবাসার পরও আমরা ভালোবাসার মানুষকে হারাই, ভালোবাসার মানুষকে বুঝতে না পারার জন্য।
ভালোবাসার মানুষের স্থান, মূল্য, Priority- কতোটুকু সেটাই আমরা বুঝে উঠতে পারি না।

সারাজীবন একসঙ্গে পথা চলার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ভালোবাসা হঠাৎ একটা দমকা হাওয়াতে ভেঙে গেলে, সে আঘাত সহ্য করতে না পেরে করা পাগলামী গুলো মোটেই অস্বাভাবিক না আমার কাছে। আমি এগুলো দেখে মোটেও অবাক হই না।কেউ হাত কাঁটছে, কেউ ডায়রীর পাতা ছিড়ছে, কেউ কেঁদে কেঁদে বালিশ ভেজাচ্ছে, কেউ ঘুমের ওষুধ খাচ্ছে, কেউ সিলিং ফ্যানে দড়ি ঝুলিয়ে রাখছে, কেউ নতুন সিগারেট ধরছে, কেউ হাত পা ছড়িয়ে চিৎকার করছে, কেউ দু'চার দিন না খেয়ে আছে, কেউবা কিছুই না করতে পেরে বাকরুদ্ধ হয়ে বসে আছে। এগুলো মোটেও অস্বাভাবিক না।এগুলো মোটেই বোকামী না।এগুলো মোটেই সস্তা আবেগ না।

মানুষ যতটা না ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে কষ্ট পায় তার চেয়ে বেশি কষ্ট পায় মানুষটার সাথে অতীতে ঘটে যাওয়া কিছু ভুল স্মৃতি গুলোকে ভুলে যাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করে। ভুল স্মৃতি গুলোকে যতই ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় স্মৃতিটা ততই ভয়ংকর রূপ ধারণ করে বার বার সামনে চলে আসবে।স্মৃতি কখনো ভুল হয় না, তবু ভুল বললাম কারণ হারিয়ে যাওয়ার পর সব কিছুই ভুল মনে হয়।

কত স্বপ্ন থাকে সম্পর্ক নিয়ে...! সপ্ন গুলো অনেক টা নিজ হাতে কোন কিছু বেড়ে উঠার মতো। বিয়ে করবে, নতুন সংসার হবে, ছোট্ট একটা ঘর হবে।দু'জনে মিলে একসাথে সাজাবে সেই ঘরটা। দেয়ালে দু'জনের ছবি থাকবে।টিভির রুমটায় দু'জন বসার মতো একটা সোফা থাকবে। সপ্তাহের শেষ দিন ওই সোফায় বসে মুভি দেখবে। রান্না শেখার চেষ্টা থাকবে। হাত-পুড়িয়ে রান্না করবে। তেল কম হবে, লবণ বেশী হবে, খাওয়া যাবে না তবুও ভালোবেসে খেয়ে নেবে। অফিসে যাবার সময় টাই বেধে দেবে। অফিসে গিয়ে মিস করবে, বার বার ফোন দেবে। বাসায় ফেরার সময় একটা বকুল ফুলের মালা নিয়ে আসবে।

পড়ন্ত বিকালে দু'জনে মিলে বাইরে যাবে।পছন্দের নীল শাড়ী-পাঞ্জাবী পরবে। বেশী ঝাল-টক দিয়ে ফুসকা খাবে। রাস্তায় হাটতে হাটতে হঠাৎ করে আঙ্গুলটা ধরে বসবে। গাড়ির সীটে বসে কাঁধে মাথা রেখে ঘুমাবে। অসুস্থ হলে রাত জাগবে, আহ্লাদ করে খাইয়ে দেবে।

ছেলে-মেয়ের নামও রাখা হয়ে যায়। ঝড় ঝাপটায় একই ছাতার নিচে থাকবে।বয়স বাড়ার সাথে সাথে সময় মতো ওষুধ খাইয়ে দেবে। প্রেসার মেপে দেবে। বৃদ্ধ বয়সে ঘোলাটে চশমাটা মুছে দেবে। স্পর্শে মানুষটা না থাকলেও বিধাতার কাছে করা প্রতিটা প্রার্থনায় মানুষটা থাকবে। দেয়ালে টাঙানো ছবিটা হাতে নিয়ে বার বার হাত বুলিয়ে স্পর্শ পাওয়ার চেষ্টা করবে। চোখটা ভারী হয়ে আসবে, চশমাটা ভিজে যাবে। ধরা যাবে না, ছোয়া যাবে না; তবু মানুষটা থাকবে প্রতিটা স্পন্দনে..।

এত সাধের স্বপ্ন গুলো ভেঙে যাবার পর কেউ স্বাভাবিক থাকতে পারে না। এই সময়টাতে আপনি তাকে ম্যাচিউরিটি শেখাতে যাবেন না, স্বপ্নভাঙ্গা বিধ্বস্ত মস্তিষ্কে ম্যাচিউরিটি আসে না।আপনি হয়তো তাকে ইমম্যাচিউরড পাগল বলবেন।কিন্তু তার কাছে- এই ইমম্যাচিউরিটি এবং পাগলামী গুলোই ভালোবাসা।

কয়েকশো বছরের অগ্রিম দেখা স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রনা সহজে মেনে নেয়া যায় না, কখনোই না, কেউ-ই মেনে নিতে পারে না।

এক জীবনে অনেক প্রশ্নই এড়িয়ে যাওয়া হয়, অনেক কথাই না বলা রয়ে যায়। অনেক বিদায়ের আগেই জানান দেয়া থাকে না। অনেক আবেগই অপ্রকাশ্য থেকে যায়, অনেক মেসেজই আনসিন থেকে যায়। অনেক বারই কাউকে ডাকতে গিয়ে মুখ দিয়ে কথা বের হয় না, শুধু দূর থেকে অপলক চেয়ে থাকতে হয়। অনেক কিছুই ফেরত দেয়া হয় না আর, আবার সব ফেরত দিলেও কী জানি হয়তো কিছু রয়ে যায়। হয়তো এই কিছুটা "মন"... 

অনেক বারই মোবাইলের স্ক্রিনে কারো নাম দেখে দীর্ঘঃশ্বাস লুকোনো যায় না। মোবাইল এর স্কীনে প্রিয় মানুষ টির নাম কখনো ভেসেও উঠে না, হয়তো সে তার প্রিয় মানুষ নিয়ে ব্যাস্ত। অমুক গানের সুর শুনে অনেক কথাই মনে পড়ে, একা একা হাসি পায়, চোখে পানি চলে আসে। তার কথা মনে করিয়ে দেয়। হাঁটতে, চলতে, ফিরতে ট্রেনে-বাসে রাস্তায় প্রায়ই কিছু চেহারা পরিচিত মনে হয়। খুব মিল থাকে কারো একজন মানুষের সাথে। একটু পরপরই আড়চোখে দেখে নেয়া হয় 'এই সে নয় তো...!'এমন হাজারো অনেক কিছু আমাদের 'একান্ত আপন কিছু' এই সমস্ত কথা, সব আবেগ, সব স্মৃতি মনের মধ্যে তাদের জায়গাটা ঠিকই আলাদা করে থাকে, আমরা যত্নে আগলে থাকে। সেখানে তাদের রাজ্য, আর কারো আনাগোনা নেই সেখানে, অসতীত্ব নেই।

উদাস চেহারা দেখে চারপাশের প্রশ্ন যখন নাড়িয়ে দিবে- তখন খুব স্বাভাবিক মুখ করে আমরা বলবো, "কই, কিছু ভাবছি না তো....!!" বাইরের জগতে খোলসে ঢাকা শামুক হয়ে থাকা শিখে যাই আমরা, কিন্তু মনে মনে হয়তো ঠিকই অঞ্জন দত্তের গানটা বেজে উঠবে- "একদিন বৃষ্টিতে বিকেলে মনে পড়ে যাবে সব কথা......কথা দিয়ে কথাটা না রাখার ফেলে আসা চিনচিনে ব্যথা...।।

কেউই জীবন থেকে পুরোপুরি চলে যায় না। প্রিয় গানটার সুরের মাঝে চুপচাপ লুকিয়ে থাকে সে তাকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না। শুধু তার অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়। শুধু মানুষটাই জীবন থেকে হারিয়ে যায়। মানুষটার স্মৃতি হারিয়ে যায় না, চ্যাট লিস্টে সবার উপরে যে নামটা থাকতো একসময় সে ব্লকলিস্টে বা কোন লিস্টেই নেই বা থাকে না। এখন তার নামটা সার্চ বক্সে টাইপ করলেও আর আসে না। হাজার হাজার একই নামের আইডি আসে কিন্তু সেই আইডিটা আর আসে না। খুব করে খুঁজলে ছবিবিহীন কালো রঙের নামটুকু জানিয়ে দেয় সবকিছু, জানিয়ে দেয় সে আজ অনেক দূরে। অনেক অনেক নতুন মানুষের ভীড়ে চাপা পড়ে যায় পুরনো কেউ নামের মানুষটা...। সেই চাপা পড়া ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ঐ মানুষটাই কোন কোন রাতে ফেরত চলে আসে। পূর্বাভাস ছাড়াই বুকের ভেতরটায় তখন তুমুল ঝড় বইতে থাকে। অতীত নামের দমকা হাওয়া এসে মূহুর্তেই ওলট-পালট করে দেয় সবকিছু... । শুরু হয়ে যায় বুকের বামপাশের চিনচিনে ব্যাথাটা। মাঝরাতের অন্ধকার রুমে বসে নিজের অজান্তেই চোখের জল চলে আসে হঠাৎ করেই চলে আসে। 

পুরনো কোন গল্প ই আসলে মুছে যায় না। গল্প গল্পের জায়গাতেই থাকে, একটা সময় শুধু তোমাকেই গল্পের চরিত্র থেকে মুছে দেয়া হয় খুব যত্ন করে। সময়, ভালোবাসা গুলো কখনোই বদলায় না, বদলে যায় মানুষটা।

আমরা সবাই জানি রাত জাগা অনেক ক্ষতিকর। কিন্তু তবুও আমরা রাত জাগি। কারন কিছু মোমেন্ট আমাদেরকে ঘুমাতে দেয়না, সব সময় অচেনা একটা কষ্ট এসে ভর করে বুকের বাম পাশে। তখন আর ঘুম আসেনা। মানুষ বদলায় না, বদলে যায় তার মনের চাওয়া পাওয়া গুলো। খুব চেনা, খুব আপন মানুষটা কিন্তু ঠিকই রয়ে যায়। মাঝে মাঝে চোখের সামনে দেখে ভীষণ মায়া হয়... মুঠো করা হাত গুলো ছুটে যেতে চায় তার হাত গুলো ধরার জন্য। হাত ধরার অদম্য ইচ্ছে টুকু মনে জন্মানোর সাথে সাথেই মাটিচাপা দিতে হয়। সবই আগের মতোই থাকে শুধু মনের দরজার সামনে চোখের জলের স্বচ্ছ কালিতে লেখা "প্রবেশ নিষেধ" নামক একটা অদৃশ্য সাইনবোর্ড নীরবে চিৎকার করে বলে-
"সবকিছুই আগের মতই আছে, শুধু অধিকারটুকু নেই...।"

"যে মন খারাপের কোন কারণ নেই, সেই মন খারাপ লুকিয়ে রাখাই বোধহয় ভালো। বেশিরভাগ মানুষই মন খারাপ দেখে যে 'কেন?' - প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করে, সেই প্রশ্নের উত্তর আমার নিজেরও জানা নেই !! কোন কোন মন খারাপের সময় কারো সাথে কোন প্রকার বাক্য বিনিময় করতে ইচ্ছা করে না । চুপচাপ থাকতে দেখে অনেক মানুষ অনেক কিছু ভাবতে থাকে। আর আমি ভাবি, আমার কোথাও হারিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। এমন কোথাও হারিয়ে যাওয়া প্রয়োজন যেখানকার ঠিকানা পৃথিবীর কেউ জানে না, কেউ না !!

সারাদিন হাসিমুখে থাকা মানুষটিও কাঁদতে জানে। তারও ইচ্ছে করে কেউ তার চোখের জলটুকু খুব যত্নে মুছে নিক। সবসময় "ভাল আছি" বলা মানুষটিরও কিছু মন খারাপের গল্প থাকে। তারও ইচ্ছে করে কেউ তার সেই গল্প গুলো মন দিয়ে শুনুক, একটু বুঝুক।

রোজ রোজ "ভেঙে পরবে না, কোনো আঘাতই জীবনকে থামিয়ে দিতে পারে না, তুমি নিজেই তোমার ভাল থাকার উপায়" এসব বলে সাহস দেয়া মানুষটিও কখনো কখনো প্রচণ্ড নিঃসঙ্গতায় ভোগে। তারও ইচ্ছে করে কেউ একজন নিঃশব্দে তার কাঁধে হাত রেখে বলুক "আমি আছি তো"। প্রেম, ভালবাসার তীব্র বিরোধী মানুষটিরও মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় কেউ তার হাতটি শক্ত করে ধরে অন্তত একটিবার বলুক "ভালবাসি"। শাসন করুক, আগলে রাখুক।

অনেক হাসির পিছনেই চোখের জল থাকে, অনেক ভাল থাকার পিছনেই ভীষণ রকমের মন খারাপের গল্প থাকে। শুধু অন্যরা বুঝতে পারেনা। হয়তো মানুষ গুলোই বুঝতে দেয় না। "বাইরে থেকে দেখে কারো জীবন সম্পর্কে আন্দাজ করাটা প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার। কিন্তু এই অসম্ভব কাজটাই আমরা প্রতিনিয়ত করতে থাকি। হাসিখুশি মানুষটাকে দেখে ভাবি, তার জীবনে কোন সমস্যাই নেই। কেউ একটু দুঃখের গান শুনলে ভাবি, তার জীবনে অনেক কষ্ট। অথচ ব্যাপারটা এরকম নাও হতে পারে !!

একজনের গল্প বলি। দেশের টপ ভার্সিটিতে পড়া শুনা করে, Top Multinational Company-তে Job- একদম পারফেক্ট লাইফ...।। অথচ কেউ আন্দাজও করতে পারবে না, মানুষটা কি ভয়াবহ ডিপ্রেসনে ভুগচ্ছে । এই মানুষটিকে প্রায়ই সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে যেতে হয় কিন্তু তবু ঠিক হচ্ছে না। কেউ শুনলে বিশ্বাস করতে চায় না, ব্যাঙ্গ করে বলে "ওর আবার কিসের ডিপ্রেসন !!??" ওর মত জীবন পেলে আমি স্বর্গে থাকতাম। কেউ আবার বলে, আরেহ ঢং। সব আছে, তাও ডিপ্রেসড...! এগুলো ভাব,  বিলাসিতা !! দিন শেষে ঐ মানুষটিই শুধু জানে তার মনে কি চলতেছে। 

আমরা অনেক অল্পতেই জাজমেন্ট দিয়ে ফেলি। বাইরে থেকে দেখেই কোন কিছু সম্পর্কে একটা কথা বলে বসি। বলার আগে ভাবি না যে, আমি যেভাবে চিন্তা করছি ব্যাপারটা অন্যভাবেও তো হতে পারে...!! একটা মানুষ তার মাথার ভেতর, মনের ভেতর কেমন অনুভব করছে আপনি আমি তার এক ভাগও বুঝতে পারবো না, হাজার চেষ্টা করলেও না... !!

আমার কাছে যার জীবনটা স্বপ্নের মত লাগে, তার দুঃস্বপ্ন গুলোর এক বিন্দুও হয়তো আমি দেখি নি। কিন্তু আমি ভেবে নিয়েছি তার জীবনটা সপ্নের মতো। আমার জীবনটা যার কাছে রূপকথার গল্পের মত সুন্দর লাগে, সে হয়তো আমার ভিতরের শূন্যতা, বাস্তবতার ছিটেফোঁটাও টের পায় নি বা কখনো অনুভব করে নি !! জীবনটা এমনই, কেউ এক মূহুর্ত সময় নিয়ে চোখে চোখ রেখে কাউকে বুঝতে চায় না কিন্তু তাকে নিয়ে অনেক কিছুই বলা হয়ে যায়। 

এই পৃথিবীতে ঠিকানাবিহীন হারিয়ে যাওয়ার কিংবা লুকিয়ে যাওয়ার কোন জায়গা নেই। দিনশেষে ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় আমাদের একটা ঠিকানাতে ফেরত আসতে হয়। সেই ঠিকানাতে নিজে লুকিয়ে থাকা যায় না। তাই নিজের অনুভূতি গুলো যত্ন করে সূক্ষ্ম অভিনয়ের নীল খামে ভরে, কালো ডায়েরীতে লুকিয়ে রেখে বেঁচে থাকতে হয় !!" তখন হয়তো নিজে বেঁচে থাকা যায় কিন্তু অনুভুতি গুলোকে বাঁচিয়ে রাখা যায় না...

All those times I cried for you,  you never came,
Out of all the sports I played,
 You never showed up at one game.

 All of the awards I received,
 I never heard you clap, 
You were never there For me to sit on your lap.

 All the times I fell and scratched my knee,
 You were the one who wasn't there To comfort me. 

All those times I was bored And wanted someone to call,
 You still weren't there, Not there at all. 

All the times I feel, I wish Hold My Hand,
 It’s badly need… 
But it’s never happened.

I always tried to make you proud,
Hoping you would love me more but you never seemed to care.

 It's as like you're not here in my present, 
But you’re in my present, 
And Just like you weren't there in my past..

I try to move on But no one knows how hard it is. 
I know you love me a lot more then my expectation,
 But really it’s empty in my inside.
It’s Empty….

যে মানুষটা তোমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে, সে মানুষটাই তোমাকে সবচেয়ে বেশি সন্দেহ করে। কারন একটাই, তোমাকে হারানোর ভয়। সে তার সবকিছুর বিনিময়ে হলেও তোমাকে চায়। তোমাকে হারাতে চায় না বলেই তার এতো সন্দেহের আয়োজন। সন্দেহ যে তোমাকে করে বিষয় টা এমন না। তার ভয় তোমার আশেপাশের মানুষদের নিয়ে। 

মানুষ প্রথম যখন প্রেমে পড়ে, তখন উচিত অনেক ভেবে চিন্তে প্রেমে পড়া। কারন ক্ষুদ্র জীবনের পথ চলায় এমন অনেকের সাথে দেখা হবে যে তোমার প্রিয় মানুষটির চেয়ে সুন্দর, তোমার প্রিয় মানুষটির চেয়ে অনেক বেশি ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন, অনেক বড় কোনো ভার্সিটির শিক্ষার্থী নতুবা বড় কোনো কোম্পানির একজন চাকুরিজীবী। তখন যদি তুমি তোমার প্রিয় মানুষটাকে ছেড়ে নতুন কারো হাত ধরে চলে যাও, তখন সে তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকবে কি করে? তোমাকে ছাড়া যে তার পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটা সম্পূর্ণ অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায় তখন!

মানুষ নাকি আবেগের বশে বলে, 'আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না'। এটা হয়তো সত্য। অনেক মানুষ বললেও খুব কম মানুষ এটা করে দেখিয়েছে। কিন্তু একটা মানুষ কখন এমনটা বলে জানো? যখন সে তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসে। তাইতো সবাই বলে, প্রেম নাকি অন্ধ। আসলেই তাই, প্রেম অন্ধ। একটা মানুষ কখন নিজেকে মেরে ফেলতে চায় জানো...? যখন তাকে বুঝার মতো, তার নীরবতা, শুন্যতা বুঝার মতো একটা মানুষও থাকে না। 

তুমি যখন কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে যাও, তখন সবচেয়ে বেশি চিন্তিত থাকে তোমার প্রিয় মানুষটি। যদি নতুন কারো সাথে তোমার সখ্যতা গড়ে ওঠে ! যদি নতুন কারো সাথে তোমার ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে ! যদি এর কারনে তোমাকে সে হারিয়ে ফেলে ! তাইতো সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকে তোমাকে নিয়ে। এটা তোমাকে হারানোর ভয়, আর তুমি ভাবচ্ছো এটা সন্দেহ...!!  

রিলেশান থাকা স্বত্বেও অন্যের উপর গায়ে পড়া ভাব দেখানো ছেলে মেয়ের সংখ্যা নিতান্তই কম নয়। নিজেকে সিঙ্গেল শো করে তারা কেমন যেন একটু বেশি মজা পায়। কেননা সিঙ্গেলদের উপরই অন্যদের আকর্ষন বেশি থাকে। আর তাই বেশিরভাগই চায় নিজেকে সিঙ্গেল শো করতে। এতে করে ৫ জন সুদর্শন/সুদর্শনা তোমার দিকে এগিয়ে আসবে নতুন সম্পর্ক সৃষ্টির জন্য। কথার ছলে বন্ধুত্ব, এক সময় তা প্রেমের প্রস্তাব পর্যন্ত গড়ায়। আর তখন কেউ যদি তোমাকে প্রপোজ করে, আমি মনে করি তা মোটেও তার দোষের না। দোষটা তোমার, কারন প্রথমেই তুমি নিজেকে সিঙ্গেল দাবি করেছো। যদি নিজেকে ডাবল শো করতে, তবে এ সম্পর্ক প্রপোজাল পর্যন্ত কখনোই গড়াতো না। ডাবল শো করতে না পারলেও যদি তুমি একটু দূরত্ব রেখে চলতে তাহলে হয়তো সে এই সুযোগ পেতো না। তুমি এখানে সবার সাথে মিশে আনন্দ করছো। আর ওদিকে তোমার ভালোবাসার মানুষটি কেবলই টিন্তায় ডুবে আছে। অপেক্ষায় থাকে, কখন তুমি তাকে একটি কল দিবে, একটু রিলাক্স করবে তাকে। একটু টেনশন ফ্রি করবে তাকে।

তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসে বলেই তার এ চিন্তার আয়োজন। তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসে বলেই তোমাকে নিয়ে অতশত ভাবে। তোমাকে হারানোর ভয় কাজ করে বলেই তোমাকে এতো বেশি সন্দেহ করে। আর তুমি এটাকে অনেক বড় অপরাধ মনে করো...!!

তুমি যখন একটা সম্পর্কে জড়াও তখন তোমাকে অবশ্যই সম্পর্কের প্রতি যত্নশীল হতে হবে, Dedicated-হতে হবে, Loyal-হতে হবে। নিজের মাঝে কিছুটা হলেও পরিবর্তন আনতে হবে, কিছুটা হলেও আশাপাশের মানুষদের সাথে একটু ভিন্ন ভাবে মিশতে হবে। কিছুটা হলেও তার মন বুঝতে হবে। সম্পর্কে জড়ানোর পরোও যদি নিজের খেয়াল খুশি মতো  চলো তাহলে সম্পর্কটা হয়তো বেঁচে থাকবে কিন্তু ভালো থাকবে না। 

অনেকে বলবে, ভালোবাসায় বিশ্বাস হলো সবচেয়ে বড় ব্যপার। দেখুন, সব গুলো সম্পর্কই বিশ্বাসের উপর ভর করে দাড়িয়ে থাকে। তারপরও কেন প্রতিদিন এতো এতো সম্পর্ক ভেঙে যায়। অনেকের ১ বছর, ৫ বছর কিংবা ৮-১০ বছরের সম্পর্কও এক সময় ভেঙে যায়। তবে কি তাদের মাঝে বিশ্বাস ছিলো না ? ছিল ঠিকি...সবকিছু ঠিক-ঠাক থাকার পরও এক সময় কিছু সম্পর্ক ভেঙে যায়। এর পেছনে ঠিক কোন কারনটাকে দায়ী করবো বুঝতে পারছিনা। তবে আমি মনে করি তাদের নিজেদের মাঝে বুঝাবুঝির ভুল ছিল। সম্পর্কের মাঝে Dedication-এর অভাব ছিল। 

তবে হ্যাঁ, যাকে ভালোবাসো, তাকে মন-প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসো। সব প্রতিকূলতায় তার সাথে থাকার সংকল্প নাও। জীবনে কোনো পরিবেশেই তাকে ফেলো চলে যেওনা। দেখবে, তোমার ভালোবাসা হবে পৃথিবীর জন্য দৃষ্টান্ত। তোমার ভালোবাসা-ই হবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা।

"প্রিয় মানুষটার অভাব কখনো অন্য কাউকে দিয়ে পূরণ করা যায় না। ঠিক এই মুহূর্তে আপনি যার সাথে আছেন তার অনুপস্থিতিতে আপনি আর নতুন কাউকে দিয়ে পূরন করতে পারবেন না সে যতই ভালো মানুষ হোক না কেন। যদি পারেনও তবুও আপনার মনে হবে কোথায় যেন কিসের শূন্যতা ঠিকই রয়ে আছে ।।

এই শূন্যতা একদিনেই কারো জন্য তৈরী হয়না। কারো সাথে চলতে চলতে একটা দীর্ঘ সময়ের পর এই শূন্যতা অনুভব করা যায়। মানুষ কখনো দু'দিনের পরিচয়ে কারো জন্য কষ্ট পায়না, কাঁদে না। মানুষ তখনই কষ্ট পায় কিংবা কাঁদে যখন তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করে কেউ চলে যায় ।।

বন্ধুদের সাথে মুভি দেখতে দেখতে হঠাৎ তার কথা মনে পড়বে। কিংবা রিকশাতে পাশের সিটটাতে তাকে অনুভব হবে অথবা ফেইসবুকেও অনেকের সাথে কথা হলেও ঐ একজনের সাথে কথা না হলে কেমন যেন ফেইসবুকটাও পানসে মনে হবে। এসব যা কিছুই হোক না কেন একজনের অভাব অন্যকেউ পূরণ করতে পারেনা ।।

বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলে একটা পর্যায় আমি কনের সামনে গিয়ে বসি। খুব আগ্রহ নিয়ে চোখের দিকে তাকিয়ে থাকি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় নিশ্চিত করে বলতে পারি- এ মেয়েটি জীবনের কোন না কোন এক সময় আজকের এই দিনটিতে অন্য কাউকে চেয়েছিল।

শাড়ি ঠিক করতে গিয়ে , টিস্যু দিয়ে মুখ মুছতে গিয়ে, ক্যামেরার দিকে তাকাতে গিয়ে কোন এক ফাঁকে কী সেই মানুষটির কথা তার মনে পড়ে ??? আমি তাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখি। কোথায় যেন পড়েছিলাম- প্রেম জন্ম নিলে মেয়েদের ঠোঁটের দু.পাশ শক্ত হয়ে কিছুটা উপরের দিকে উঠে যায়। একটি অচেনা মেয়ের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা কিছুটা বিব্রতকর। শুধু মাত্র কনের দিকে তাকিয়ে থাকা যায়। এই তাকানো বৈধ। আমি বৈধ ভাবে কনের ঠোঁট এবং চোখের দিকে তাকাই। সিগমান্ড ফ্রয়েড প্রায় ৩০ বছরের গবেষণার পর আক্ষেপ করে বলেছিলেন ''নারী কি চায় আমি জানি না"
“Was will das Weib?” ''নারী কী চায়?" যে ছেলেটি বিয়ে করছে আমি তাকেও দেখি। আজ রাতে বাসর হবে। কি কথা হবে সব কী আগে থেকে সাজানো ? আমরা আমাদের নিজস্ব গণ্ডি থেকে বের হতে পারি না।

যে মানুষটা তার স্ত্রীকে নিয়ে বিয়ের পর দার্জিলিং এ যাওয়ার Plan- করে। সে নিশ্চয়ই এক কালে তার কোন প্রেমিকাকে রাত দিন বলেছিল - কটা দিন অপেক্ষা করো। বলেছিল - সমরেশ মজুমদার এককালে যে হোটেলে বসে দার্জিলিং এর আকাশ দেখেছে তারা সে হোটেলটিতে উঠবে। স্ত্রীকে সাথে নিয়ে সমরেশের আকাশ যখন দেখা হয় সেখানে শুধুই কী পাশে বসে থাকা মানুষটি থাকে ? আকাশের অলিতে গলিতে এক কোণে কোথাও কী সেই দিনের মেয়েটি থাকে না ? জানি না আমি, কখনো কাউকে জিজ্ঞাস করিনি।

শৈশবের কোন মেয়েকে না পেয়ে যে ছেলেটা ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে বমি করেছিল, বার বার চেষ্টা করেও বলতে না পারার অপরাধে হাত ছাড়া হয়ে গেল। সিনেমার কোন রোমান্টিক দৃশ্য দেখে যে মেয়েটি কেঁদেছে একা একা। এইসব কান্না একদিন শেষ হয়। ইতিহাস ঘেটে দেখো, কাউকে না পেয়ে দু'দিন দরজা বন্ধ করে শুয়ে থাকা, দু'দিন না খেয়ে থাকা , সাহসের অভাবে ছাদ থেকে লাফিয়ে মরতে না পারা মানুষ গুলো এক সময় স্বাভাবিক হয়ে উঠে। প্রত্যেকে হাসি হাসি মুখে কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ে করে। ডেকারেশন ঠিক মত হয়েছে নাকি সেই তদারকিও করবে। পরিসংখ্যান তাই বলে।

আপনার আশে পাশের ব্যার্থ প্রেমিক অথবা প্রেমিকাদের দিকে তাকান। ক্যালেন্ডারে একটা দাগ দিন। নিশ্চিত থাকুন এরা প্রত্যেকেই একদিন হাসি হাসি মুখে কমিউনিটি সেন্টারে যাবে। প্রত্যেকেই একদিন স্বাভাবিক হবে। শুধু কিছু একটা থেকে যাবে। সেই একটা কিছুর ভেতরে কোন কিছুই নেই। ' কোন কিছু নেই' এর ভেতরে আবার একটা কিছু থাকে।

আগুন নেভানোর পর আগুন নিভে যায় তবু একটা লালাভ ফুল্কি থাকে। সেটা আগুন না। আগুনের ছায়া। পৃথিবীর সবকিছুর অভাবই কোন না কোন কিছু দিয়ে পূরণ করা যায় কিন্তু মানুষের অভাব অন্য কোন মানুষ দিয়ে কখনো পূরণ করা যায় না। যে চলে যায় বা হারিয়ে যায় তার অস্তিত্ব ওখানেই শেষ। তার অস্তিত্ব নিয়ে অন্যকেউ আসেনা। এ জন্যই মানুষের অভাব অপূরণীয় !!"

আমাদের আশার ক্লান্ত দিনগুলো প্রতিনিয়ত আঁধারের সাথে মিশে যাচ্ছে। শেষ রাতে জীবন গুলো পরিবর্তনের জন্য নতুন আলোর অপেক্ষায় থাকি আমরা কিন্তু পৃথিবী ধীরে ধীরে জেগে ওঠে তবু আশা গুলো নতুন ভাবে জেগে উঠে না।সারাদিন একটা নিদিষ্ট মানুষের ম্যাসেজ বা ফোন কলের অপেক্ষায় থাকি আমরা। বিশ্বাস করুন ঐ একটা মানুষের ফোনকলের জন্য বিপরীত পাশের  আরেকজন বারবার মোবাইলের ডিস্পে অন-অফ করতে থাকে, বারবার চেক করতে থাকে ম্যাসেজ এর রিংটোন বেজে উঠা মাত্র। মানুষটা জানে তার ফোনে কোন টেক্সট বা কল আসবে না তবুও অপেক্ষা করতে থাকে।

অপেক্ষা শুদ্ধতম ভালোবাসার রুপ এই থিওরির ওপর নির্ভর করে শতশত মানুষ অপেক্ষা করে তার প্রিয় মানুষটার টেক্সটের, ফোন কলের অথচ প্রিয় মানুষ কখনই তা বোঝে না অথবা বুঝেও অবুঝের মতন থাকে। জীবনে সবচেয়ে মূল্য যাকে দেওয়া হয় সেই মানুষটা অবহেলা করবে এটাই চিরায়িত সত্য।

দিনের শুরুতে ঘুমের মধ্যেও যে মানুষটার জন্য অপেক্ষা করা হয়। মানুষটার কাছে আমি আপনি মূল্যায়িত হবেন এটা ভাবাও একরকম পাপ। সব মানুষই চায় তার প্রিয় মানুষের ফোন কলে তার ঘুম ভাঙ্গুক কিন্তু ভোরটা শুরু হয় অন্য ভাবে। মানুষটা জানে না তার একটা কথায়, মানুষটা জানে না তার একটু হাসিতে বিপরীত মানুষটার হৃদয় স্পন্দন থেমে যায়।

এক তরফা ভালোবাসা বা একরোখা অনুভূতি গুলো বড্ড ঘাড়ত্যড়া। কেন পৃথিবীতে কি ঐ মানুষটার রিপ্লেসমেন্ট নেই...? হবে না কখনই...।। কিন্তু না আমার যত অপেক্ষা ঐ মানুষটার জন্যই, তার রিপ্লেসমেন্ট শুধু সে নিজেই। শতবার অবহেলা করলেও নিজেকে ছোট করে হলেও মানুষটার সামনে অবনত মস্তকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নিলজ্জের মতন। তার অপ্রিয় একজন মানুষ হয়েও নিজের মনের কুঠরে তার স্থান সবার উপরেই থেকে যায়। তাকে ঘিরে ছোট ছোট ইচ্ছে গুলো দিন শেষে অপূর্ণতার খাতায় লিখা হয়। 

নির্ঘুম প্রতিটি রাতে মানুষটার জন্য অপেক্ষা করতে করতে আজ বড্ড ক্লান্ত। তবুও অপেক্ষার শেষ হয় না, মানুষটা হয়তো একটা সময় সব বুঝবে। তাকে ঘিরে স্বপ্ন গুলো, ছোট ছোট ইচ্ছে গুলো। আমার আমিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিশ্বাসের ওপর ভর করে অপেক্ষার পালা শেষ হয় না আর।

মানুষটা খুব সুন্দর গল্প বলে আমি বিমুগ্ধ হয়ে শুনতে থাকি তার গল্পে আমাকে কোথাও রেখেছে কি না। আমি নিজেকে খুজতে থাকি, নিরাশ হয়ে যাই মানুষটার জীবনে যেমনটা আমি নেই তার গল্পেও আমার অস্তিত্ব নেই। তার চোখে নিজেকে বারবার খুঁজতে গিয়ে নিজে হারিয়ে যাই কিন্তু তার চোখে নিজেকে খুজে পাই না। তার অসতীত্বে নিজেকে খুঁজে পাই না। 

মানুষটা আমাকে নিয়ে একটুও হয়তো ভাবে না। আর দশটা মানুষের মতন আমিও তার কাছে শ্রেফ একটা মানুষ, রক্তে মাংসে গড়া একটা মানুষ। অন্য সবার মতন অবহেলা আমার জন্য বরাদ্দ থাকে তবুও আমি অপেক্ষা করি। শুধু ঐ মানুষটির জন্যই অপেক্ষায় থাকি। জানি মানুষটা আমাকে চায় না  তার কোন স্বপ্নে, তবুও আমি তার জন্য অপেক্ষা করি অথচ যে মানুষটা আমাকে সবার অগোচরে প্রচন্ড ভালোবাসে আমার ছোট্ট একটা ম্যাসেজের অপেক্ষা করে আমি তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি না।

প্রচন্ড রকমের স্বার্থপর আমি। যে মানুষটাকে আমার চাই তাই তার অবহেলাকে অবহেলা মনে হয় না কিন্তু যে মানুষটা আমাকে চায় সেও তো অপেক্ষা করে আমার। সমীকরণের সূত্রে একটি কথায় আসে মানুষটা আমাকে অবহেলা করে তার বিপরীতে আমিও মানুষটাকে অবহেলা করি অথচ এই অবহেলা নিয়েই আমার অভিযোগের শেষ নেই, কখনও শেষ হবেও না।


MARI themes

Powered by Blogger.