আমি বলছিনা ভালবাসতেই হবে....
আমি চাই,
তুমি আমার বটবৃক্ষ হয়ে,
তোমার ছায়ায় আমায় ঢেকে রাখো। 
আমার অনাকাংখিত  জেগে উঠা দ্বি-প্রহরে-
নিশি প্রহরী হয়ে আমার চোখের পাতায় ঘুম এঁকে দাও।
মাথায় বিলি কেটে ঘুম পাড়াতে হবে তা নয়,
কপাল ছুয়েই না হয় একটু ঘুম পাড়াও। 


আমি বলছিনা মায়ার বাঁধনে আমায় জড়াতেই হবে,
আমি চাই,
আমার ক্লান্তি শেষে কিংবা কোন এক পড়ন্ত বেলায়, 
আমার সাথে কিছুটা পথ হাঁটো।
দিন শেষে আমার একাকী রাতে, 
কষ্ট হয়ে আমার গায়ে লেগে থাকো।
বিষন্ন আমায় আনমনে পথের ধারে 
শুন্যে চেয়ে থাকতে দেখে,
তোমার সঞ্চিত ভালবাসা থেকে একফুটা 
করুনার দৃষ্টি আমার দিকে ছুড়ে দাও।


আমি বলছিনা পাশে বসতেই হবে, 
আমি চাই,
ঝড় শেষে ফাগুনী হাওয়া হয়ে তোমার 
দিশেহারা উড়ন্ত চুলে অধরটি একবার ছুঁতে দাও।


বলছিনা ভালবাসতেই হবে,
শুধু চাই,
আমার কষ্টে নিস্পেশিত বুকের পাজর ভেদ করে,
দীর্ঘশ্বাস হয়ে বাতাসে ছড়িয়ে পরো।


বলছিনা ভালবাসতেই হবে, 
ভালবেসে বেসে রাতভর জাগিয়ে রাখতেই হবে।
ভুল করে পাশ ফিরে, ঘুমের ঘোরে
আলতো তোমার হাতটি গায়ের উপর রেখো।


আমি বলছিনা ভালবাসতেই হবে। 
আমি চাই,
অনাহারে ভাঁশমান আমার বুকের পাঁজরে
তোমার সচল আঙ্গুল গুলো হেটে বেড়াক।
নয়তো- 
কোন পরন্ত বিকেলে আমার একাকী মুহুর্তে,
বিষাদের ভারে নুইয়ে পরা অবশ শরীরে
শীতের কাঁথাটি গায়ে জড়িয়ে দাও ।
কিংবা-
কোন এক বৃষ্টির রাতে যখন ঘুম ভেঙে যাবে তোমার,
ভেবে নিও আমি জেগে আছি-
পৃথিবীর কোন এক কোনে...! 


বলছিনা ভালবাসতেই হবে....
আমি চাই,
মনের ভুলে, ভুল করে আমায় দেখে একটু
পিছন ফিরে তাকাও...
আমার অগোছালো ভাবনা গুলো গুছিয়ে দাও।
আমার বিষন্ন চোখে কষ্ট হয়ে ঝরে পরো।


বলছিনা ভালবাসতেই হবে...!!
শুধু পাশে থাকো কিছুটা সময়, হাত ধরে..
জ্বরের ঘোরে অচেতন আমার মাথায় পাশে,
কিছুটা সময় স্থির করে দাও।।
কপালে হাত রাখতেই হবে তা নয়,
তবুও একটু পাশে স্থির হয়ে বসো। 


বলছিনা আমার অশ্রুকণা তোমার ঠোটের তপ্ত পরশে শুঁষে নাও।
আমি চাই,
তুমি আমার চোখে দিকে চেয়ে,
বুঝে নাও কতটা ঝড়ে কষ্ট নড়ে চোখের ভিতর।


আমি বলছিনা ভালবাসতেই হবে, 
আমি চাই,
আমার চোখে চেয়ে একবার বুঝে নিও
আমি ক্ষুদার্থ নাকি অবহেলীত।
এই চোখে তোমার জন্য কতোটা ভালোবাসা লুকায়িত। 


আমি বলছিনা ভালবাসতেই হবে...
কেউ একজন হাতটি শক্ত করে ধরুক,
আর বলুক- "আমি শুধু তোমার" 
"ভালোবাসি ভালোবাসি"
এতোটুকতেই আমি সুখী..। 

আমার একটুখানি তুমি দরকার। যে কিনা সস্তা আধুনিকতার বদলে হবে বড্ড সেকেলের। নামী-দামী ব্রান্ডের মেকআপের বদলে যার চোখের নিচে কাজল দিলে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করবে বহুকাল ধরে..। ঐ কাজল কালো চোখে যে মায়াটা থাকবে সেই মায়া ভরা চোখের দিকে তাকিয়ে থাকার জন্য বেচে থাকতে ইচ্ছে হবে অনন্তকাল। ভরদুপুরে ভীষন ব্যাস্ত শহরের রাস্তা পার হবার সময় যে কিনা ভয়ে শার্টের হাতা খামচে ধরে রাখবে। রাত্রি করে বাড়ি ফেরার অভিযোগে যে মানুষটা মুখ গোমড়া করে বলবে তোমার সাথে আর কথা নেই!!

আমার একটুখানি তুমি দরকার। হেয়ার ড্রাইয়ার এর বদলে যে কিনা দুপুরে কার্নিশের রোদ পেরিয়ে ভেজা চুল শুকোবে। হাই-ফাই কোন ফাস্ট ফুডে চেকইন এর বদলে ঝাল-মাখা ফুচকায় মরিচের কামড়ে যে মেয়ে টুকটুকে লাল হবে। চ্যাটিং-ফ্যাটিং এতসব বাদ দিয়ে মন খারাপে যে আমায় কাগজের খাম ভরে দু-দন্ড চিঠি লিখবে, আমার মনের ঠিকানায় তার চিঠি আসবে। চিঠি আমার চাইই চাই...।। তার সাথে না হয় চিঠিতেই ভালোবাসা-বাসি হলো। 

ভরা চৈত্রের দাবদাহে একগ্লাস ঠান্ডা জলের মতো যার মুচকি হাসি আমার বেসামাল হৃদয়কে একদম শান্ত করবে। যার এক ছলাক হাসি দেখার জন্য শত মাইল দূর থেকে আসার পরো এতটুকু ক্লান্তি আসবে না। তার হাসিভরা মুখটা দেখার পর মনে শিতল বাতাসের মতো সব জুড়িয়ে যাবে। যে কিনা উচুঁ উচুঁ হিলের বদলে নুপুর পায়ে আমার পাশে পা দুলিয়ে বসে থাকবে, যে নুপুরটা পড়িয়ে দিবো আমি নিজ হাতে। একটু খানি জ্বর হলে কপালে হাত দিয়ে খানিকটা ছুঁয়ে দিলেই যেন সব জ্বর ভালো হয়ে যাবে। যে আমার সব অসুখের ডাক্তার হবে, যার উপস্থিতি পেলেই সব অসুখ পালাবে...। 

মন খারাপের পৌষের বিকেলে ব্যালকনিতে বসে গালে হাত দিয়ে যে আমার বোকা বোকা গল্প গুলো শুনবে, হাতে এক মগ গরম কফি। ঝুম বৃষ্টিতে কোন সন্ধায় যে কিনা ছাঁতার বদলে আমার হাত ধরে বৃষ্টি  ভিজবে। অভিমানের প্রহর শেষে হঠাৎ যে কিনা বলে বসবে "ভালোবাসি ভালোবাসি"। সেলফি-পাউটের ফ্যাশনের বদলে যে কিনা খোপাঁয় বুনো বেলীফুল গুঁজে সামনে এসে জিজ্ঞাসা করবে বলোতো আমায় কেমন লাগে...?
জুলাইয়ের শেষ কোন পূর্নিমার রাতে যে আমার বুকে মাথা রেখে একদম ছোট বাবুদের মতো হুট করেই চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়বে।

আমার ঠিক এমনই একটা তুমি দরকার। আধুনিকতার আড়ালে বড্ড সেকেলের একটুখানি তুমি। 
"বেশি বেশি চাই না, 
কেবল একটুখানি চাই। 
তোমাকে আমার একটুখানি চাই।" 


যখন চারদিক স্তব্ধ হয়ে যায়, রাতের আঁধার নিকটে আসে, এরকম এক ক্ষণে ছাদের রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে দূর আকাশের তারার দিকে তাকিয়ে খুঁজে ফিরি লেখালেখির প্রতি আমার এতো ভালোবাসার কারণ। লেখার নতুন কিছু আইডিয়া নিয়ে ভাবতে গিয়ে এক সময় ঠাণ্ডা-গরম-ক্ষুধা-পিপাসা অনুভবের ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছি।মন ও মগজের হাজার-কোটি চিন্তা ও ভাবনা গুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে মুগ্ধতা সৃষ্টিকারী লেখাকে ধরতে চেয়েছি। মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকা হাজারো উপাদান থেকে সেরা গুলো বেছে আনতে আনতে চেয়েছি, লেখার জালে আটকাবো বলে। প্রিয়জনদের সঙ্গে যখন আড্ডা দিয়েছি, সেখানেও লেখার উপকরণ খুঁজেছি! তাদের চোখে, মুখে লেখার উপাদান খুঁজেছি। যখন ঘুরতে বেড়িয়েছি, হাটার ছলে বা গাড়িতে জানালার পাশে বসে লেখার উপাদান কুড়িয়েছি। একটিই আশা যদি লেখাতে আরও একটু নতুন কিছু এনে দেওয়া যায়। কোন কাজে কেউ পৌঁছানোর আগেই আমি পৌঁছে গিয়েছি শুধু কল্পনা ও বাস্তবে পাওয়া কয়েকটি লাইন লিখবো বলে। কল্পনা আর বাস্তবকে এক করবো বলে। 

লেখালেখির মাধ্যমে দৃশ্যমান কোন প্রাপ্তি আমার নেই। টাকা, সম্পদ, সার্টিফিকেট, পদক, পুরস্কার, প্রতিবেদন কিছুই জোটেনি কপালে। কিন্তু এই লেখালেখি যা দিয়েছে তা আজ পযন্ত আর কিছু থেকে পাইনি। লেখালেখিটা শুরু নিজের মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য। খুব কি অবাগ লাগচ্ছে...?!! মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করে মানুষের কাছে, আর আমি কিনা লেখালেখি করে প্রকাশ করি !! বাস্তবিক অর্থে একজন Introvert Person-হওয়ার জন্য খুব কম সংখ্যক মানুষকে নিজের মনে Access-দিয়েছি, এতোটাই কম যে গুনে গুনে বলা যাবে। আর এই সকলকেই নিজের জীবনের অংশ ভেবেছি, খুব আপন, কাছের মানুষ ভেবেছি। কিন্তু নিজের মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য এদের কাছে সময় পাইনি। তাদের ব্যস্ততা হোক বা তাদের অন্য কাছের মানুষদের নিয়ে সময় কাটাতে হোক না কেন আমার মনের মতো করে সময় তাদের মাঝে পাইনি। সেই ২০১০- সাল থেকে একটু একটু করে লিখালিখি শুরু। ডায়েরী থেকে লিখালিখি পরবর্তীতে তা ২০১৫- তে এসে ব্লগে রূপান্তর। কিন্তু সেই ২০১০- সালে আমার সব চেয়ে প্রিয় হলুদ ডায়েরী টার মতো তৃপ্তি আর কিছুতে পাই নি। আমার সব চেয়ে কাছে যদি কেউ হয়ে থাকে তবে আমি বলবো আমার সেই হলুদ রঙ এর ডায়েরী। 

এতো দিন পর এসে ব্লগে লেখালেখির আগ্রহটা হথাৎ হারিয়ে ফেলচ্ছি, কেমন যেন কমে যাচ্ছে। এই সময়টায় আমার ভাবনায় আসলো কিছু অনুভূতি একান্তই নিজের ব্যক্তিগত যা নিজের ব্যক্তিগত ডায়েরীতে লিপিবন্ধ করা উচিত। এই সময় এসে নতুন কালো রঙের একটা ডায়েরী কিনা হলো শুধু ব্যক্তিগত কিছু লিপিবন্ধ করার জন্য। এটা যে খুব বেশি দিন যাবত তা নয়। গত ৩-৪ মাস যাবত। এই সময়টায় কেমন যেন লিখার ইচ্ছেটা মরে যেতে থাকে। তবে এটা সত্য বিগত ৩-৪ মাস নিজেকে খুব বেশি ব্যস্ত রাখতে চেয়েছি & আল্লাহর অশেষ রহমতে সফল হয়েছি। নিজেকে ব্যস্ত রাখার পিছনে যদিও ব্যক্তিগত কারন ছিল। কিন্তু ব্যস্ত রাখতে সফল হলেও নিজের মনের শান্তিটা হারিয়েছি। এই শান্তিটা হারানোর পর ভেবে দেখলাম আমি আর লিখতে পারচ্ছি না। কিছু লিখবো তো দূরেই থাক, মাথায় একটি লাইন আসচ্ছিল না। জীবনের সব চেয়ে বাজে সময়টা মনেহয় এটাই ছিল, খুব বেশি নিরুপায় ছিলাম, হতাশ ছিলাম। মাঝে মাঝে  এ অবস্থায় আমার প্রচণ্ড অস্থির লাগতো, দম বন্ধ হয়ে আসতো কিন্তু একটি মানুষকে পাইনি যাকে কথা বলে একটু হালকা হবো। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর বুঝতে পারলাম এভাবে আর হচ্ছে না। আমার একজন ভালো Psychologist-এর সাথে কথা বলা দরকার। Dhaka University-এর একজন Senior Psychologist-এর Appointment-পেতে প্রায় এক মাস সময় লেগে গেলো। এই সময়টায় আমি ভাবতে লাগলাম একটা মানুষ কতোটা অসহায়,খারাপ অবস্থায় পরিণত হলে সে Psychologist-এর কাছে আসে। পুরো ৪৫ দিন তার কাছ থেকে কিছু বিষয় শিখলাম, Therapy-নিলাম। তার কাছ থেকে প্রথম প্রশ্ন ছিল-"আপনি নিজেই একজন মানুষ যে মানুষকে Motivate- করেন জীবনের Positive - Negative- বিষয় গুলো নিয়ে, এমনকি বেশির ভাগ সেগুলো Relation-নিয়ে, সুখ-দুঃখ এগুলো নিয়ে; আর আপনি কিনা আজ Psychologist-এর কাছে!!"তখন আমার অসহায় মুখটা দেখে সে বুঝেতে পেরেছিলেন আমি কি বলতে চাচ্ছি। তার কাছ থেকে কতোটা উপকার হলো জানি না তবে এটা সত্য একটু হলেও বুঝতে পেরেছিলাম বাস্তব আর কল্পনা এক নয়, একটু হলেও স্বস্তি পেয়েছিলাম, একটু হলেও নিজের ভুলটা বুঝতে পেরেছিলাম। এতটুকু বুঝতে পেরেছিলাম জীবন থেমে থাকে না, কারো জন্যই নয়, শুধু থেমে যায় মনটা। লেখালেখি টা কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনতে পারলাম, তবে সেগুলো ডায়েরী তেই লিপিবন্ধ করে রাখলাম নিজের মনের খুব গভীরের পুঞ্জিভূত কথা। তবে এটা সত্য সে হাজার চেষ্টা করেও আমাকে Extrovert-এ Convert- করতে পারলেন না। মনের শান্তি সেই যে হারালাম আর ফিরে আসেনি। তখন বুঝতে আর বাকি নেই আমি আমার এই ছোট্ট ব্লগ, কালো রঙ এর ডায়েরী কতোটা বেশি ভালোবাসি। যা ছাড়া আমি অচল, অনেকটা আমার নিঃশ্বাস এর মতো।

মানুষের কাছে মনের ভাব প্রকাশ করতে চাইলে হয়তো ব্যস্ততার অযুহাত দেখাবে, বিরক্ত হবে বা বিরক্তির শুরে কথা বলবে কিন্তু এই লেখা গুলো, এই ব্লগ, এই ডায়েরী কখনোই অযুহাত দেখাবে না। কাউকে মন থেকে ভালবাসলে সে হয়তো আপনাকে গ্রহন নাও করতে পারে কিন্তু লেখার এই ডায়েরী ঠিকই গ্রহন করবে, মনে রাখবে, ভালোবাসবে। দিন শেষে হয়তো মানুষের কাছে ভালবাসার, ভালোলাগার মানুষ পরিবর্তন হয় কিন্তু ভালোবাসার ডায়েরী কখনোই পরিবর্তন হয় না, পুঞ্জিভূত কথা পুঞ্জিভূতই রয়ে যায়।

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত এবং আলোচিত শব্দ “ভালবাসা”। এই ভালোবাসা কখনও কাঁদায়, কখন হাসায়, কেউ এর জন্য আত্মবিসর্জন দেয়। মানুষ কত ত্যাগ স্বীকার করে ভালোবাসার মানুষকে পাবার জন্য। আবার এই ভালবাসার জন্য মূল্যবান অনেক কিছুই হারায় যার জন্য বিন্দুমাত্র আফসোসও কখনো হয় না । আসলে আমাদের মানব মন খুব ই অস্থির এক জিনিস।

"ভালোবাসা" কোন সস্তা জিনিস নয় যে চাইলাম আর পেয়ে গেলাম। সপ্তাহে ২ বার দেখা করলে বা ১০ বার Love You- বললেই ভালোবাসা হয় না । Facebook Timeline-এ প্রতিদিন পোস্ট করলেই ভালোবাসা প্রকাশ পায় না। "জানু, বেবি" -এসব বস্তা পচা কথা সম্বোধন করলেই বুঝা যায় না সে আসলেই তোমাকে ভালোবাসে কিনা !!

ভালোবাসতে "Care" লাগে, ভালোবাসতে "Share" লাগে, ভালবাসতে মন লাগে !!তোমাকে যে আসলেই ভালোবাসে, সে তার দিনের প্রতিটা মূহুর্তের কথা তোমার সাথে Share- না করে পারবে না। তার ভেতর খচ খচ করতে থাকবে। কথা গুলো বলার জন্য সে উশখুশ করতে থাকবে। তার মাঝে অস্থিরতা কাজ করবে সবকিছু না বলা পর্যন্ত। সবকিছু না Share- করা পর্যন্ত সে একদম শান্তি পাবে না !!

তোমাকে যে আসলেই ভালোবাসে,সে তোমার দিনের প্রতিটা মূহুর্তে তোমার Care- না করে পারবে না। এই Care-টাকে অনেকে সন্দেহ ভেবে ভুল করে। Positive think-করতে হবে। সকালে ঘুম ভাঙতেই বালিশের নিচ থেকে মোবাইলটা হাতড়ে বের করে সে তোমার খোঁজ নিবে। ঘুম থেকে জাগার পর তার প্রথম কাজ হবে তোমার খোঁজ নেওয়া বা তোমাকে "Morning Wish"-করা বা তোমাকে "Text"-করা। ক্লাসের ফাঁকে, কাজের ফাঁকে হঠাৎ তার মনে হবে- "আচ্ছা, ও কি করচ্ছে এখন ??" দুপুরের খাবারটা মুখে তোলার আগে সে জিজ্ঞেস করবে "তুমি খেয়েছো কিনা"। সে ব্যস্ততার অজুহাত দেখাবে না যতই ব্যস্ত থাকুক সে। বরং সে তোমার Care- নিতেই ব্যস্ত থাকবে। হয়তো সে Call-করে খোঁজ নিতে পারবে না ব্যস্ততার মাঝে কিন্তু Text-করে তোমার খোঁজ ঠিকই নিবে তার শত ব্যস্ততার মাঝেও। তোমার প্রতিটা ছোট ছোট বিষয় তুমি ভুলে গেলেও তার ঠিকই মনে থাকবে। কোন রং তোমার প্রিয়, কোন খাবার তোমার প্রিয়, Coffee-নাকি "চা", তোমার কোন কাজ করতে সব চেয়ে ভাললাগে, প্রিয় জায়গা কোনটা, সাগর নাকি পাহাড়, বৃষ্টি নাকি রোদ, প্রিয় - অপ্রিয় জিনিস গুলো কি- এ রকম প্রতিটা জিনিসই তার খুব ভালোভাবেই জানা থাকবে। এমনকি প্রতিটা জিনিসই খুব যত্ন সহকারে মনে রাখবে। যেখানে যত্ন নেই সেখানে ভালোবাসা নেই। যে যাকে ভালোবাসে তার প্রতিটা জিনিসই অনেক গুরত্বপূর্ণ- হোক সেটা খুব নগণ্য। খুব যত্ন সহকারেই সে সব কিছু মনে রাখবে, ভুল করেও সে কিছু ভুলবে না। 

সে শুধু হাসির ইমো আর কান্নার ইমো দিবে না। তোমাকে সত্যি সত্যি হাসাবে এবং সত্যি সত্যি কাঁদাবে। এই কান্নার জন্যই হাসিটা। এবং তারপর আলতো করে তোমার গাল থেকে অশ্রুটুকু মুছে দিবে !!
ভালোবাসা খুব কঠিন না। বরং ভালোবাসার মর্ম বুঝে - এরকম মানুষ পাওয়াটাই বড্ড বেশি কঠিন !!"

ভালোবাসার কোন সংজ্ঞা নেই। আমার মনে হয় না Specific-ভাবে ভালোবাসার সংজ্ঞা আদৌ কেউ দিতে পেরেছে কিনা। আর যদি দিয়েও থাকে হয়তো আমার তা জানা নেই। তবে এটা সত্য কিছু Symptom-এ নিচ্ছয়ই কিছু বুঝা যায়, নিজের মাঝে কিছু জিনিস প্রকাশ পায়। ফুল ফুটলে সৌরভ ছড়াবে এটাই স্বাভাবিক,  ফুল ফুটবে সৌরভ ছড়াবে না তা কি করে হয়...!!

"কোন একজনকে নিয়ে ভাবতে ভালোলাগার নাম ভালোবাসা।" এই একজন মানুষকে নিয়ে তোমার ভাবতে ভাললাগবে তুমি যে পরিস্থিতিতেই থাকো না কেন। দেখা যাবে তোমার ভাবনা জুড়ে সেই মানুষটিই রয়েছে শুধু। তাকে নিয়ে ভাবতে কখনোই ক্লান্ত লাগবে না। তোমার মনে এক ধরনের প্রশান্তি কাজ করবে। তাকে নিয়ে এমন কিছু বিষয় নিয়ে তুমি ভাববে পরে তোমার সে গুলো মনে হলে নিজেরই হাসি পাবে। এই সময় টায় তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত সকল বিষয়ই তোমার ভাবনার বিষয় বস্তু হবে দাঁড়াবে। তুমি খুব ভালো করলেই বুঝতে পারবে সে কতোটা মন জুড়ে আছে। 

"মনের মাঝে একজন মানুষের জন্য শূন্যতা অনুভব করার নাম ভালোবাসা।" তোমার আশে পাশে সকলেই রয়েছে কিন্তু তবু তোমার মনে হাহাকার কাজ করছে, এক ধরনের শূন্যতা কাজ করছে, এক জন মানুষকেই খুঁজতেছো, সবার মাঝে একজনকে খুজতেছো । এই শূন্যতা যখন প্রকট আকার ধারন করবে তখন তুমি বুঝতে পারবে এই শূন্যতা শুধু ঐ মানুষটির জন্যই...।।

সারা দিন তোঁ কত মানুষের সাথেই কথা বলা হয়, কিন্তু এতো কিছুর পরও একজন মানুষের সাথে কথা বলার জন্য মন অস্থির লাগবে। প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে হয়তো তুমি আশেপাশের মানুষের সাথে কথা বলবে কিন্তু অবচেতন মন ঐ মানুষটিকেই শুধু খুঁজবে। একটু লক্ষ্য করলেই দেখবে- ফোনে Call- বা SMS-এর Vibrate- হলে তোমার প্রথম মনে হবে তার কথা। হয়তো ভাববে হয়তো তার Call- বা SMS- এসেছে কিন্তু যখন দেখবে এটা GP-থেকে এসেছে তখন হঠাৎ তুমি হেসে দিবে আর মনে মনে ভাববে "মাথাটা আমার পুরোটাই গেছে...!!!" তুমি বুঝতে পারবে তোমার অস্তিত্বটাই তাকে নিয়ে, তাকে ঘিরে। "তার সাথে কথা বলতে না পেয়ে ছটফট করার নামই ভালোবাসা।"

"কারো সাথে পাশাপাশি চলার তিব্র ইচ্ছার নাম ভালোবাসা।" ধরো তুমি বন্ধুদের সাথে দূরে কোথাও ঘুরতে গিয়েছো, খুব ভালো সময় কাটাচ্ছো। এমন সময় তুমি অনুভব করলে ইসস সে যদি পাশে থাকতো, তা হাত ধরে যদি পাশাপাশি হাঁটা যেতোঁ...!! তার কাঁধে মাথা রেখে যদি কোন এক সূর্যাস্ত দেখা যেত। কোন এক বৃষ্টি ভেজা বিকেলে যদি তার হাত ধরে রেল লাইনের পথ ধরে হাটা যেত, কোন এক পূর্ণিমা রাতে তার হাতে হাত রেখে যদি চাঁদ দেখা যেতো, কোন এক কুয়াশা ঘেরা সকলে খালি পায়ে  তার পাশে হাটা যেত বা কোন এক গোধূলি বিকেলে যদি তার হাত ধরে লেকের পাড়ে হাটা যেতো...!! মনের এই তিব্র ইচ্ছেটা আপনাকে ভীষণ যন্ত্রনা দিবে, পোড়াবে...ভীষণ পোড়াবে।। মনের এই তিব্র ইচ্ছাটাই ভালোবাসা। 

সুখ বলতে আমরা সাধারণত কি বুঝি ...?? নিজের কোন ইচ্ছার পূর্ণতা পেলে বা তুমি যা চাচ্ছ সেটা পূর্ণ হলেই নিজেকে সুখি মনে হয়। Right..?? কিন্তু একটা সময় তুমি ভুলে যাবে এই চরম সত্যতা। কখন জানো ...??? "যখন তুমি কাউকে মন থেকে ভালবাসাবে।" তখন তুমি তাকে খুশি করতে, তার মনের ইচ্ছা পূরণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তার কিসে ভালোলাগলো, সে কিসে Happy, তার পছন্দের জিনিস গুলো কি...!! এই খুঁটি-নাটি বিষয় গুলো দেখা যাবে তার চেয়ে তুমি ভালো জানো। তখন তুমি ভুলেই যাবে তোমার পছন্দের জিনিস কি, তোমার ভালোলাগার জিনিস গুলো কি। তখন তুমি ব্যস্ত হয়ে পড়বে তার প্রত্যেকটা পছন্দের, ভালোলাগার জিনিস গুলো পূর্ণ করে দিতে। যখন তুমি তার পূর্ণতায় তার মুখে সুখের হাসি দেখবে সেই হাসিতেই তুমি তোমার সুখ খুজে পাবে। "কাউকে সুখি দেখে নিজেকে সুখি ভাবার নামই ভালোবাসা।" 

আপনার পাশের বন্ধুটি মন খারাপ বা কোন কারনে কান্না করছে। একটু লক্ষ্য করে দেখো তো তোমার চোখে পানি জমেছে কিনা। হয়তো তার কান্নায়, তার মন খারাপে তোমারোও মন খারাপ হবে কিন্তু তোমার চোখে পানি আসবে না। কিন্তু এমন একজন আছে যার সামান্য মন খারাপে, সামান্য বিষন্নতায় তোমার চোখে কোনে জল চলে আসবে। তার চোখের পানি তো দুরেই থাক, তার সামান্য মন খারাপ তুমি সহ্য করতে পারো না। দেখা যাবে তার চোখের কোনে জল মুছে গিয়েছে কিন্তু তোমার চোখের জল পরেই যাচ্ছে। তার একটু বিপদে, তার একটু অসুস্থ্যতায় তোমার মন যতোটা কাঁদে অন্য কারো জন্য তোমার মনে এমন অনুভুতি হয় না। এটাই ভালোবাসা। "কারো চোখে দু'ফোটা জল দেখে কেদে ফেলার নামই ভালোবাসা।"

ভালোবাসা মানেই আমরা সাধারণত যেটা বুঝি তা হলো তার কাছ থেকেও ভালোবাসা পেতে হবে বা ভালোবাসা পাওয়াটা আশা করা, এটাই স্বাভাবিক। তুমি যখন থেকে তাকে ভালোবাসো তখন থেকে তোমার মনেও ইচ্ছে হবে তার কাছ থেকে একটু ভালোবাসা পেতে, একটু Care-পেতে, একটু Importance-পেতে, তার Priority list -এ তোমার নামটা সবার উপরে দেখতে। কিন্তু যখন তুমি জানো যে এগুলো তার কাছ থেকে কখনই তুমি পাবে না কিন্তু সেই মুহূর্তেও তোমার মনে একটা আশা রয়েই যায়, তার প্রতি মনের টানটা রয়েই যায়। এই আশাটাই ভালোবাসা, এই মনের টানটাই ভালোবাসা। তুমি হয়তো জানো তাকে তুমি কখনোই পাবে না বা সে তোমাকে কখনোই মন থেকে ভালোবাসবে না বা কখনোই তোমার হবে না। তবু তার অপেক্ষায় থাকার নামই ভালোবাসা। "তাকে পাবে না জেনেও তাকেই ভালবাসার নামই ভালোবাসা। "

ভালোবাসা মানে মন জয় করা নয়। ভালোবাসা মানে তাকে মনের গভীরে গেঁথে ফেলা, তার মনেও ভালোবাসার বীজ রোপণ করা। তাকে পাবে না জেনেও তাকেই ভালোবেসে অপেক্ষা করা। ভালোবাসা মানে তাকে ভালবাসার পর আর কাউকে ভালোবাসার ইচ্ছেটা মরে যাওয়া। 

জানিনা কেন হঠাৎ কোন কারন নেই কিছু নেই,
কারো জন্য খুব অন্য রকম লাগে...
কোনই কারন নেই...।।
তারপরও কাউকে খুব দেঁখতে ইচ্ছে হয়,
খুব কাছে পেতে ইচ্ছে হয়...
কারো সাথে খুব পাশাপাশি বসতে ইচ্ছে হয়।
ইচ্ছে হওয়ার কোন কারন নেই,
তারপরেও ইচ্ছে হয়...

ইচ্ছে গুলো পূরন হয় না,
তারপরেও ইচ্ছে গুলো বেশরমের মতো পড়ে থাকে।
তবুও আশায় আশায় থাকে,
কষ্ট হতে থাকে খূব,
কষ্ট হওয়ার কোন কারন নেই,
তবুও অনেক কষ্ট হতে থাকে...।।

কি জানি সে,
যার জন্য অন্য রকমটি লাগে,                   
যদি সে ইচ্ছে গুলো দেখে যায় ভিষন রেগে...!!!
তাই ভয়ে লুকিয়ে রাখি ইচ্ছে গুলো,
সেই ভয়ে আড়াল করে রাখি কষ্ট গুলো...।।

হেটে চলি আমি যেন কিছুই হয়নি,
আর সবার মতো সুখী মানুষ আমিও....!!
তাই আমি চলতেই থাকি যাই কতো দূর কোথাও যাই।

কেবল তার কাছেই শুধু যাই না, যার জন্য লাগে এমন,
জীবনের কতো কাজ বাকী কতো তাড়া,
তারপরও সবকিছু সরিয়ে রেখে শুধু তাকেই ভাবা...
তাকে ভেবে কোন লাভ নেই জেনেও ভাবি,
তাকে কোন দিন পাবো না জেনেও পেতে চাই একবার...?!
                 শুধু একবার...
ঐ এক দিন যেন পাওয়া হয়ে রয়ে যায় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ...


দিনশেষে একটা মানুষ লাগে ।। যে মানুষটা গালে হাত দিয়ে, মন দিয়ে শুধু শুনবে তোমার জমে থাকা সারাদিনের বোকা বোকা গল্প গুলো !! বুকের ভেতর পাহাড়ের মত যে কথা গুলো জমে থাকে, সেই পাহাড়ের ভার কমানোর জন্য একটা মানুষ লাগে ।। গলার ভেতর আটকে থাকা কথা গুলো বড় কষ্ট দেয়, সেই কষ্ট কমিয়ে দেয়ার জন্য একটা মানুষ লাগে ।। কত শত মানুষ চার পাশটাতে ।। শত মানুষ লাগে না, একটা মানুষ লাগে -- কথা বলার মানুষ, কথা শোনার মানুষ, হাতে হাত রাখার মানুষ, পাশে বসার মানুষ !! আশেপাশে হাজার মানুষ থাকলেও কথা বলার মানুষের খুব অভাব এই পৃথিবীতে...

আচ্ছা তুমি কি জানো মনের অজান্তেই কোন না কোন এক সময় তুমি একা অনুভব করো...?? তোমার পাশে সকলেই রয়েছে- তোমার বাবা-মা, ভাই, বন্ধু কিন্তু তবু কোন এক সময় তুমি অনুভব করচ্ছো তুমি একা !! কিছু কথা তুমি মনে মনে বলো যা কেউ শুনে না, জানে না। কিছু ইচ্ছা তোমার মনের কোণে রয়ে যায় যা প্রকাশ হয় না। এই কথা গুলো, ইচ্ছা গুলো তুমি কেউ একজনকে বলতে চাও। কারো কাছে  কথা গুলো বলে একটু হালকা হতে চাও... ।।

আমার মনে হয়, আমার মতো প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে এমন একটা সময় আসে, যখন একদিকে নিজেকে প্রচন্ড একাকী মনে হয় আর অন্যদিকে ঐ একাকীত্ব দূর করতে কাউকে নিজের জীবনের সাথে জড়িয়ে ফেলতেও অনেক বেশি ভয় হয় । এই ভয়টা কখনোই কারো হাত ধরার সাহস দেয় না। ভয়টা মনটাকে কুরেকুরে খায়। নিজেকে নিজের বলতে ইচ্ছে হয়- ঘুনে ধরা এ জীবন...।।

মাঝে মাঝে প্রচন্ড হাসতে ইচ্ছে হয়। লোক দেখানোর জন্য হাসি নয়, মন থেকে হাসতে ইচ্ছে হয়। অপরদিকে হাসির পরে অপ্রত্যাশিত কান্নার কথা ভেবে কেন জানি বার বার থেমে যেতে হয়। থেমে যেতে বাধ্য হতে হয় কারণ চোখের পানি মুছে দেওয়ার জন্য কেউই পাশে থাকে না।

আঙ্গুলের ফাঁকা জায়গা গুলোতে যখন অন্য মানুষটার আঙুল বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করার স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছে হয় ঠিক তখনই অজস্র ঘুমভাঙ্গা রাতে ঐ মানুষটার চলে যাওয়া পরবর্তী শূন্যতার আশঙ্কায় স্বপ্ন গুলোকে খুন করে ফেলতে ইচ্ছে হয়। পূরণ হয় না আর আঙ্গুলের ফাঁকা জায়গা গুলো।

মাঝে মাঝে মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যুদ্ধক্ষেত্র সম্ভবত নিজের মন, নিজের অস্তিত্ব। প্রতি মূহুর্তে ওখানে যে কত আমি, কত তুমি, কত আমরা যে জন্ম হয়, মরে যায়, কত শত গল্প যে সৃষ্টি হয়, ওলটপালট হয়ে যায়, আবার ধ্বংস হয়ে যায়। কত গুলো স্বপ্ন যে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়, কত শত ভয় যে কত সহস্র ইচ্ছেকে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় সে খবর কেউ রাখে না ।। মানুষ খবর রাখে শুধু বাহিরের দিকটার, বাহিরে কি ঘটলো মানুষ সব সময় সেটাই দেখে। মনের খবর কেউ রাখে না। মনের খবর রাখতে হলে মন টাকে জানতে হয়, মনের মাঝে মন থাকতে হয়, মনে প্রবেশ করতে হয়। 

দিন শেষে একটা মানুষকে তুমি ঠিকই চাও যে মানুষটা তোমার জন্য তোমার পাশে থাকবে, তোমায় ভালোবেসে তোমার হাত ধরবে, তোমার মুখের হাসির জন্য পৃথিবীর সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করবে। কিন্তু দিন শেষে শূন্য হাতটাই থেকে যায়, শূন্যতায় রয়ে যায় মন। মন যখন শূন্যতা দিয়ে পূর্ণ তখন সে মন কখনোই পূর্ণতা পায় না। সকলেই পূর্ণ হতে চায়, পূর্ণ করতে নয়...।। সেই তোমাকে ভালোবাসে যে তোমাকে পূর্ণ করতে চায়।। 

"আমার মাঝে মাঝে সারারাত ঘুম হয় না। আমি জেগে থাকি। কেন ঘুম হয় না তার উত্তর দিতে গিয়েও দিতে পারিনি। জেগে থাকতে থাকতে একটা সময় ক্লান্ত হয়ে যাই। ক্লান্তময় সময়টা দূর করতে মাঝরাতে কফি নিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই। ডাক্তারের বারণ সন্ধ্যার পর কফি খেতে, কিন্তু কফি ছাড়া তোঁ আর চলবে না। কেমন যেন একটা অনুভূতি হয় তখন। অন্ধকারে আমি গরম কফি হাতে দাঁড়িয়ে...!! এই সময়টাতে আমার অন্ধকারে গা-এলিয়ে দিতে ইচ্ছে করে, অন্ধকারে ডুবে যেতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু এ শহরে অন্ধকার নেই। চারিদিক আলোময় অন্ধকার। যে অন্ধকার আমার মন ছুতে পারে না। মন ছুতে গভীর অন্ধকার দরকার, অনেক গভীর...। এই শহরে অন্ধকারের মানুষ আছে, অন্ধকারের টাকা আছে, অন্ধকারের থাবা আছে। কিন্তু ডুবে যাবার মতন বিষণ্ণ অন্ধকার নেই। ডুবে যেতে হয় চোখ কালো অন্ধকারে। আমার এক বিষণ্ণ অন্ধকারের স্তব্ধ নির্জনতায় ডুবে যেতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু এখানে নির্জনতা নেই। এখানে সন্ধ্যা নেই, রাত্রী নেই, নিশুতি নেই...এখানে কিচ্ছু নেই...।।

এখানে অন্ধকার মানেই মৃত্যু।" তবে কি আমি মৃত্যুর স্বাদ নিতে চাই...!!

"প্রতিদিন খোঁজ রাখা মানুষটাও একদিন হারিয়ে যাবে যদি তুমি একদিনের জন্য হলেও তার খোঁজ না নাও। প্রতিদিন ভালোমন্দ বুঝে শাসন করা মানুষটাও একদিন আর তোমাকে শাসন করবে না যদি তুমি তাকে মূল্য না দাও, দিনের পর দিন অবহেলা করো। তোমাকে উপকার করা বন্ধুটাও একদিন তোমাকে ভুলে যাবে যদি তার উপকারের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করো। জগতে এ নিয়মের বাহিরে কেউ নেই, বাহিরে কেউ থাকে না।। এতো কিছুর পরো তুমি হয়তো এমন একজনকে পাবে যে তোমার খোঁজ রাখে, যার খোঁজ তুমি কখনোই রাখো না। যে তোমার হাজার ঝাড়ি, হাজার কথা শুনার পর মন খারাপ করে একটু পর আবার ফিরে আসে। যে কিনা তোমার জন্যই সব কিছুকে বিপরীত দিকে ঠেলে দেয়; এগুলো শুধু তোমার জন্যই এটা তোমাকে বুঝতে হবে। 

একটা গাছকে তুমি যত যত্ন নিবে যত পরিচর্যা করবে গাছটি আরো তত দ্রুত বড় হয়ে তোমাকে ছায়া দিতে থাকবে। যদি গাছটির পরিচর্যা না করো গাছটি শুকিয়ে মারা যাবে। তেমনি প্রতিদিন খোঁজ রাখা মানুষটাও যদি তোমার বিন্দুমাত্র নজর না পায়, প্রতিটা কথায় অবহেলা পায় তাহলে সেও একদিন তোমার কাছ থেকে দূরে সরে যাবে; দূরে সরে যেতে বাধ্য হবে। মনে তোমাকে ঠিকই রাখবে কিন্তু তোমার সামনে হয়তো আর সে আসবে না। যদি গাছটির দরকারই তোমার জীবনে আর না থাকে; সে ক্ষেত্রে গাছের যত্ন নেওয়ার কিছু নেই। তেমনই যদি ঐ মানুষটাকে যদি তোমার আর দরকার না লাগে বা তাকে ছাড়াই যদি তুমি ভালো থাকো তাহলে তার খোঁজ রাখার কোন প্রয়োজন তোমার মাঝে কাজ করবে না। 

তুমি ছোটদের একটা আদেশ করলে সে যদি তোমার আদেশটি অমান্য করে তাহলে পরবর্তীতে তুমি তাকে আদেশ করতে যাবে না, কারণ সে তোমাকে মানে না। তেমনি ভাবে কেউ একজন তোমার ভালোমন্দ বুঝে তোমাকে শাসন করে আর তুমি যদি তাকে গুরুত্ব না দাও, মূল্যহীন ভাবো সেও একদিন তোমার উপর থেকে অধিকার করা বন্ধ করে দিবে।। তাচ্ছিল্য, অতি মাত্রায় অবহেলা একটা মানুষ খুব বেশি দিন সহ্য করতে পারে না। ছয় মাস, আট মাস, এক বছর...!! আর যদি তোমাকে খুব বেশি ভালোবেসে থাকে তাহলে এক বছর, দুই বছর বা তার বেশি এই অবহেলা হয়তো সহ্য করবে। একটা সময় তোমার অবহেলা পেতে পেতে বাঁচতে শিখে যাবে, শিখে যাবে কষ্টের মাঝে কিভাবে হাসতে হয়। তুমি হয়তো ভাববে সে তোঁ ভালোই আছে। তাহলে কি সব নাটক ছিল...!! কিন্তু বাস্তবে হলো সে যে এখনো আগের মতোই তোমাকে চায়, তোমার আশে-পাশে ছায়ার মতো থাকতে চায় তা আর তোমার সামনে প্রকাশ করতে চায় না। কারণ কষ্টকে সে এখন খুব বেশি ভয় পায়, ভয় পায় অবহেলা কে, তোমার সেই তাচ্ছিল্য কে। একটু লক্ষ্য করলেই দেখবে তোমার বাড়ির কুকুরকে বা বিড়ালকে নিয়মিত তাড়িয়ে দেখো, কুকুর / বিড়ালও তোমার এলাকা ছেড়ে পালাবে আর সেখানে তো আমরা মানুষ। অবহেলা কেউই সহ্য করতে পারে না। সেই এলাকা ছেড়ে যাওয়া কুকুর বা বিড়ালকে আবার একটু ডেকে দেখো সে আগেই মতোই আছে, আগের মতোই তোমার ভক্ত। মানুষও তেমনই যে সত্তিকার অর্থেই তোমাকে চায় তাকে শত অবহেলা করার পরো একটা সময় ডাকলে ঠিকই রাগ, অভিমান, কষ্ট ভুলে চলে আসে। এটাই ভালোবাসা, এটাই মায়া।

কেউ তোমার সাথে ভালো ব্যবহার করলে বিনিময়ে সেও তোমার ভালো ব্যবহার আশা করে। যে তোমার খোঁজ রাখে সেও চায় তুমি তার একটু হলেও খোঁজ রাখো,  মনে রাখো। বিনা স্বার্থে মানুষ হয় না, বিনা স্বার্থে মন হয় না।। যে তোমার নিয়মিত খোঁজ রাখে, তোমার কেয়ার করে, বিনিময়ে সেও একটু হলেও চায় তুমি তার খোজ নাও। তারো তোঁ ইচ্ছে করে কেউ তার খোঁজ রাখুক, কেয়ার করুক, হুংকার শুরে শাসন করুক। এগুলোকে স্বার্থ বলে না, এগুলো হলো মনের খুরাক। যে তোমার একদিন হলেও উপকার করেছে তাকে কখনো ভুলে যেও না, সে শত্রু হলেও তার কাছে তুমি কিন্ত ঋণী। কাউকে অবহেলা না করে ভালোবাসতে শিখো এতে নিজেকে ছোট করা হয় না বরং নিজের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায়।।"

যে কোন সম্পর্ক জীবনের বৈচিত্র্যময় আনন্দকে, সময়কে চিনতে সাহায্য করে। প্রিয় কারো সঙ্গে  কাটানো সময় স্মৃতিকে পরিপূর্ণ করে, মনকে পূর্ণ করে। এই প্রিয় থেকেই জীবনে কখনো কখনো একাকীত্ব হয়ে উঠে। একাকীত্ব মানুষকে এমন অভিজ্ঞতা দেয়, যা অন্য কোনোভাবে অনুবাধন করা সম্ভব নয়। 

একাকীত্ব জিনিসটা হঠাৎ করেই আসে না। একটা কিছুর প্রতি সীমাহীন মায়া বাড়তে বাড়তে সে জিনিসটার শূন্যতা মনে একাকীত্বর সৃষ্টি করে। মায়াও কিন্তু এক দিনেই জন্ম নেয় না। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস মনে লালন করতে হয়, মনে স্থান দিতে হয়, মনে অনুভব করতে হয়। তবে মনে মায়ার জন্ম নেয়। কোন জিনিসের মায়া খুব সহজেই কাটিয়ে উঠা যায় কিন্তু মানুষের প্রতি মায়া কখনোই কাটিয়ে উঠা যায় না। মায়া একটু একটু করে বাড়তেই থাকে। একটা সময় অপর পাশের মানুষটি যখন মায়ার বাঁধন ছেড়ে বের হতে চায় তখন এ পাশের মানুষটির মায়ায় সুতোয় টান পড়ে। একটি সময় এ পাশের মানুষটি পরিপূর্ণ ভাবেই একা অনুভব করে। ধীরে ধীরে কষ্ট পুষতে পুষতে একদিন এ পাশের মানুষের মনে জায়গা করেই ফেলে এই একাকীত্বতা। একাকীত্ব অবশেষে তাকে ঘিরেই ফেলে,বন্দী করে নেয় তার জালে। সে চাইলেই সে জালটা ছিড়তে পারে না, বের হতে পারেনা সেই জালের থেকে। চাইলেই পারে না মুক্ত হতে, চাইলেই পারে না তার সাথে কাটানো সময় গুলো মন থেকে মুছে ফেলতে, মুছে ফেলতে পারে না তার সাথে প্রতিটা দুষ্ট - মিষ্ট স্মৃতি !! এগুলো মনে কাটা দেয়, প্রতিটা সময় অনুভব করায় তার সেই সময় গুলো, সেই কথা গুলো। একাকীত্বে ভাসায় তার সব কিছু, সব অনুভূতি গুলোকে। 

এই একাকীত্ব আরোও দৃড় হয়ে উঠে যদি সেই মানুষকে একাকীত্ব থেকে বের হওয়ার জন্য কেউ পাশে না থাকে,তার সহযোগী হয়ে না উঠে,তাকে সাহায্য না করে। একমাত্র সে মানুষটাই বোঝে একা থাকা কত কষ্টের, কত নির্মম, কত যন্ত্রণা।।

দিনদিন সে সবার থেকে আলাদা হতে থাকে, একটা সময় চলে যায় সবার থেকে দূরে। এতটাই দূরে যে আর আসে না ফিরে। সে তো জানে এটা কত ব্যাথার,কত আক্ষেপের, কত নির্ঘুম রাতের সাক্ষী তার সেই একাকীত্বতা। তিল তিল করে সে পুড়ে যন্ত্রণায়, পায় না কাউকে সে সহায়তায়।।কেউ বোঝে না তার হারিয়ে যাওয়া অস্তিত্ব, দেখে না তার হাসির আড়ালে কান্নাটা...!!

এমন সময় কারো হাত প্রয়োজন,প্রয়োজন কারো সহায়তা, দরকার ভালোবাসার, যে ভালবাসা দূর করতে পারে তার একাকীত্বতা। যে ভালবাসা তাকে বাঁচতে শেখাবে, শেখাবে তাকে নতুন করে পথ চলার, দেখাবে নতুন আশার আলো আর দূর করবে তার একাকীত্বতা। কিন্তু দুঃখের বিষয় সে ঐ মানুষটাকেই পাশে চায় যার জন্য সে একা হলো, যার জন্য তার আজকের এই একাকীত্ব। কিন্তু তাই কি আর হয়...!!! যে মায়ার সুততে একবার টান পড়েছে, সেই সুতো কি আর মায়ায় ফেরে...!!! 

MARI themes

Powered by Blogger.