কতো গুলো বিষয় কিন্তু ভাষায় ব্যক্ত করা যায়না এর মধ্যে চমৎকার একটা জিনিস হলো যেকোনো ধরনের মানসিক অনুভূতি। এই যেমন -আনন্দ কি , মিষ্টি অনুভূতি কি ? এগুলো ভাষায় প্রকাশ দেয়া দুষ্কর। তবে, অনেক কবি-সাহিত্যিকই চেষ্টা করেন প্রকাশ দেওয়ার। যেমন আনন্দের ক্ষেত্রে হয়তো বলবেন "আনন্দ হলো সাগরের উপর দিয়ে উড়ে চলা পাখি ...কিংবা সাগরের বিশাল চোখ । অথবা, শিশির ভেজা ঘাসের উপর একফোটা শিরির কণা।" বা আরো ভয়ংকর কিছুও হতে পারে।

রাগ আর অভিমান ভিন্ন দুটি মানসিক অনুভুতি। রাগের সাথে হিংসাত্মক মনোভাব জড়িত থাকে। রাগ হলে একজন মানুষ অনেক কিছু করতে পারে। রাগ দুই ধরনের হয়; প্রকাশিত রাগ এবং অপ্রকাশিত রাগ। যারা রাগ সহজেই প্রকাশ করে তারা সাধারণত ভাল মানুষ হয়ে থাকে, আবার কিছু মানুষ আছে যারা রাগ প্রকাশ করে না কিন্তু গোপনে অনেক বড় ক্ষতি করার জন্য তৈরী থাকে। রাগ কাছে বা দুরের দুই ধরনের মানুষের সাথেই করা যায়। তবে কাছের মানুষের সাথে রাগ করলে সে রাগ আসতে আসতে অভিমানে পরিণত হয়, সেখানে থাকে কিছুটা ভালোবাসাও, কিছুটা অভিমানও।

অভিমান; রাগ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি অনুভুতি। কাছের লোকের উপরই কেবল অভিমান করা যায়। অভিমানের ক্ষেত্রে কারো উপর কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকে ,সেই সাথে থাকে কিছু কষ্ট। আর রাগের ক্ষেত্রে এসব কিছু নেই, শুধু রাগই থাকে। রাগের ক্ষেত্রে  কোন কষ্ট থাকে না। কিন্তু অভিমান বিষয়টা ভিন্ন; খুব আপন মানুষের সাথেই শুধু অভিমান করা যায়। এতোটাই আপন যে অভিমানটা ভেঙ্গে দিতে পারে।   অভিমানের সাথে অধিকার নামক একটি ব্যাপার থাকে, অর্থাৎ যার উপর অধিকার আছে তার সাথেই শুধু অভিমান করা যায়। যার কাছ থেকে কিছু পাবার আশা আছে,অথবা যাকে কিছু দেবার আশা আছে অভিমান তো তারই উপর করা যায়।

অভিমান এবং রাগের মাঝে সবচেয়ে বড় একটি পার্থক্য হলো; অভিমান শুধুমাত্র কাছের মানুষের উপরেই করা যায় কিন্তু রাগ যেকোনো ব্যক্তির সাথেই করা যায়।অভিমানে লুকিয়ে থাকে সুপ্ত ভালোবাসা, অনুযোগ, প্রাপ্তির আশা, কিছুটা অভিনয়। কিন্তু রাগে মিশে থাকে প্রচন্ড ক্ষোভ, অজ্ঞতা, প্রত্যাশা, হিংসা বা প্রতিহিংসা। অভিমানে একটা সময় সবকিছু ঠিক হয়ে যাবার আকাঙ্খা থাকে এবং ঠিক হয়ে যাওয়ার পর আগের চেয়ে আপনত্ব বেড়ে যায়। কিন্তু রাগে প্রতিশোধ গ্রহণের ইচ্ছা থাকে। একটা সময় রাগটা চলে গেলেও মনে একটা দাগ রয়েই যায়। অভিমানে মিশে থাকে মনের হাজারও ভালোবাসা, হাজারও অনুভূতি; কিন্তু রাগে সে রকম কিছুই থাকে না।

কষ্টের বিষয়টা এই দু’টো অনুভূতি এর উপরই নির্ভর করে। এর সংজ্ঞাটা একটু ভিন্ন। কষ্ট তখন হয় যখন কিছু প্রত্যাশা করে পাওয়া যায় না, হোক সেটা অতি ক্ষুদ্র, অতি নগণ্য। প্রত্যাশা কিন্তু সবার কাছে করা যায় না। প্রত্যাশা তাদের কাছেই করি যাদের আমরা আপন ভাবি, যাদেরকে আমরা আপনত্বের অধিকার দিয়েছি। আর যখন এই ক্ষুদ্র ইচ্ছা, আশা, প্রত্যাশা অপুর্ন রয়ে যায় তখন তার প্রতি মনে এক ধরনের অভিমানের সৃষ্টি হয়, এক ধরনের কষ্টের অনুভূতি হয়। এই কষ্টের অনুভূতি থেকেই কষ্টের সৃষ্টি হয়। কিন্তু যার উপর আমরা রাগ করি সেখানে তেমন কষ্ট থাকে না বা এমন কষ্ট থাকে যা অসীম। খুব কম - খুব বেশি এই দু’টো জিনিসই একটা সময় বড় কিছু ঘটার জন্য দায়ী থাকে।।

সম্পর্কের সঠিক সংজ্ঞা দেওয়া কখনোই সম্ভব নয়, ব্যাক্তি ভেদে সংজ্ঞা ভিন্ন হয়। সম্পর্ক মানেই শুধু একটি ছেলে মেয়ের মাঝে ভালোবাসা তা কিন্তু হয়। সম্পর্ক বাবা- মা, ভাই - বোন, বন্ধু সবার সাথেই। কিন্তু এই সম্পর্ক গুলো ভিন্ন ভিন্ন ভাবে হয়, কোন সম্পর্কের সাথে কোন সম্পর্কের মিল নেই। বাবা- মা'র সাথে যে সম্পর্ক আর ভাই-বোনের সাথে যে সম্পর্ক সেটা কখনোই এক নয়। কিন্তু আমরা অনেক সময় সম্পর্কের তুলনা করে ফেলি আর যার ফলে অনেক ভুল কিছুর মুখোমুখি হই।

যখন তুমি একটা মানুষের সাথে সম্পর্কে জড়াবে, তখন তার ভালো দিক এবং খারাপ দিক এই সব কিছুই তোমার সাথে জড়িয়ে যাবে। তার সব কিছুই তখন তোমার ভাললাগবে কিন্তু ঐ জিনিস গুলো অন্য কারো মাঝে থাকলেও তা ভাললাগবে না। ঐ মানুষটার ভালো দিক গুলো যেমন তোমাকে ভালো অনুভূতি দিবে, মানুষটার খারাপ দিক গুলোও তোমাকে কষ্ট দিবে...এটাই নিয়ম। কারণ তার সব কিছুই তোমার উপরও বিরাজ করবে, তোমার মনেও ঘটবে, তোমার মনকেও নাড়া দিবে, মনে সুখের আবেশ ছড়াবে, কষ্টের অনুভূতি দিবে।

নিরবচ্ছিন্ন, একটানা, স্থায়ী সুখ কোথাও নেই। সুখের পর কষ্ট, কষ্টের পর সুখ আসবে এটাই নিয়ম, এটাই বাস্তবতা। একটা মানুষের কাছ থেকে তুমি দিনে ২৪ ঘন্টা টানা ভালো ব্যবহার নাও পেতে পারো। ব্যস্ত পৃথিবীতে এমন অনেক কিছু ঘটতে থাকে, ঘটে যার কারণে একটা মানুষের মাথা ঠান্ডা থাকে না, মাথা ঠিক থাকে না। এটা বুঝতে হবে।
আশেপাশের পরিস্থিতির জন্য অনেক সময় মানুষ ভুল আচরণ করে। জীবনে বহুবার বহু কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।।এই পরিস্থিতিটা কাছের মানুষ গুলোকে জানতে হয়, বুঝতে হয় এবং সেই অনুযায়ী React করতে হয়। এইটুকু না বুঝলে কাছের মানুষ আর বাহিরের অপরিচিত মানুষের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। যারা কাছের মানুষ তাদেরকে না বললেও বুঝে ফেলে এর পিছনের কারণটা, পরিস্থিতিটা।

যখন তোমার কাছের মানুষটা তোমার সাথে ভুল কোন আচরণ করছে, অস্বাভাবিক কিছু বলছে তখন বোঝার চেষ্টা করো কেন এমন করছে, এর পিছনের কারণটা কি।  রাগের বিপরীতে রাগ করা কখনোই কোন সমাধান নয়। পরে মাথা ঠান্ডা হলে তাকে বুঝাও, সে বুঝবে। তাকে না বুঝালেও মাথা ঠান্ডা হলে, পরিস্থিতি ঠিক হলে সে এমনিতেও বুঝবে।
শুধুমাত্র কথা কাটাকাটি কিংবা ঝগড়ার কারণে আমি বেশ কিছু সুন্দর সম্পর্ক ভাঙতে দেখেছি। খুব তুচ্ছ কারণে সম্পর্ক ভেঙ্গে গিয়েছে। অনেক ভালো সম্পর্ক, অনেক ভালো বন্ধুত্ব এই ছোট ছোট ভুল বোঝাবোঝির জন্য চিরদিনের জন্য হারিয়ে গিয়েছে।

আমি খুব অবাক হই, বিষ্মিত হই। রাগ, ঝগড়া, কথা কাটাকাটি - এগুলো ছাড়া কোন সম্পর্ক হয় না। আর এগুলোর জন্যই সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে...!!! যেই মা-বাবা এর সাথে আমাদের সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্ক, তাদের সাথেও ছোটবেলা থেকে অনেকবার অনেক রাগারাগি, কথা কাটাকাটি হয়ে গেছে। জীবনে বহুবার চিন্তা করেছি, বাসা থেকে চলে যাবো। পারি নি, কেউই পারবে না।। চলে যাওয়া কি এত সহজ ; এতো বড় একটা সম্পর্কের বাধন ছিঁড়ে...??!!

যে মানুষটা সামান্য রাগের কারণে, কষ্টের কারণে, তর্কের জন্য কাছের মানুষটাকে কে ফেলে রেখে চলে আসে, সে আসলে কি চায় ?? সে নিরবচ্ছিন্ন সুখ চায়। সে চায়, কেউ কোনদিন তাকে রাগ দেখাবে না, তাকে কষ্ট দিবে না। সে একজন খাঁটি শুদ্ধ মানুষ চায়। সে একজন Perfect মানুষ চায়।।
বিশ্বাস করুন, পৃথিবীতে কোন Perfect- মানুষ নেই। আপনি আজকে মানুষটার সামান্য ভুলের জন্য তাকে ছেড়ে অন্য কোথাও  সুখ খুজছেন ?? খুব বড় ভুল করছেন...।।
সোনা (Gold) যেমন 24 caret- এ গয়না হয় না যদি একটু খাঁদ না মিশানো হয়। মানুষও তেমনি; দোষ- ভুল নিয়েই মানুষ। শুদ্ধি মানুষ বলতে কিছু নেই।
তন্নতন্ন করে খুঁজেও তুমি কোথাও কোন Perfect মানুষ পাবে না। এই মূহুর্তে তোমার কাছে যাকে Perfect মনে হচ্ছে সময় গড়ালেই দেখবে, কোথাও না কোথাও তার কোন দোষ অবশ্যই আছে, কিছু ভুল অবশ্যই বের হবে। Satisfaction- জিনিসটা একান্তই তোমার নিজের, তোমার ব্যাক্তিগত। তুমি কিসে, কিভাবে Satisfied- তা একমাত্র তুমিই জানো। আর এই Satisfaction- জিনিসটাই তোমার মনের যোগান দিবে, মনকে মানাবে।

আমি কলাম বা ছন্দ লিখতে পারি না। তারপরও আজকে আমি যা লিখবো এটাকে কলামই বলবো। কারণ, আমি কলাম লিখতেই বসেছি; কলাম না হলেও এটাকে আমি কলাম-ই বলবো।

আজ আমি শুধু আমার কথাই বলবো। আমি আমার জীবনের কথাই বলবো আজ। আমি আমার গল্প লিখার গল্পই লিখবো। আমি লিখি আমার বাক্সবন্দী জীবনের কথা গুলো। আমার এলোমেলো অনুভূতি গুলোকে স্মৃতির অন্তরালে সাজাই অক্ষরে অক্ষরে। চেষ্টা করি ভালো ভাবে লিখার। কতটুকু হয় কে জানে...! এছাড়াও আমি লিখি আমার ভালোবাসায় ঘেরা মানুষদের নিয়ে। যারা আমাকে স্নেহ করেন, যারা আমাকে পথ চলতে সাহায্য করে, যারা আমাকে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখায় তাদের কথা। আমি লিখছি আমার যাবতীয় জীবনের কথা, সময়ের কথা। এমনি ভাবেই চলছি। দেখি কতদূর যেতে পারি।

মূলত আমি লিখি আমার জন্য, মনের ভাব প্রকাশের জন্য। আমি যখন আরও বড়ো হবো অর্থাৎ বুড়ো হবো তখন আমি আমাকে খুব ভালো ভাবে উপলদ্ধি করতে পারবো। দেখতে পারবো নিজের মত করে। এছাড়া আমি যখন থাকবো না তখন আমার লিখা গুলো ঠিকই থাকবে। আমার প্রতিটা মন খারাপের, প্রতিটা মুহূর্তের, প্রতিটা সময়ের সাক্ষী থাকবে এই লিখা গুলো।  তখন হয়তো কেউ হাসবে, কেউ দুঃখ পাবে, কেউ উপহাস করবে। আরো অনেক কিছু করতে পারে যা আমার ধারনা নেই। যা ইচ্ছে করুক, আমার সমস্যা নেই। আমি লিখতেই থাকবো, হোকনা তা পড়ার অযোগ্য বা মনে রাখার মতো না। আমি আমার পৃথিবীটাকে সাজাবো আমার মত করেই, আমার নিজের মতো করে।

সময়ের টানে, সময়ের প্রয়োজনে গিয়েছি অনেক জায়গায়। কত জনপদ, ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন চেতনার মানুষ আর ভিন্ন রঙের মানুষের সাথে দেখা, পরিচয়, কতো কথা। কিন্তু তারপরোও আমার পৃথিবী ঠিক আগের মতই। শুধু পাশে যোগ হয়েছে ছোট্ট একটি নদী। যখনই মন খারাপ হয় চোখ বন্ধ করে হারিয়ে যাই আমার পৃথিবীতে। আমার হারিয়ে যাওয়া মুহূর্ত গুলো, হারিয়ে যাওয়া; বদলে যাওয়া প্রিয় মুখ গুলোকে আঁকার চেষ্টা করি। মাঝে মাঝে ভাবি আমার আপন, কাছের মানুষের সংখ্যা এতো সীমিত কেন, এতো কম কেন, হাতে গোনা কয়েক জনই কেন। তারপরেও আমি চেষ্টা করি আমার বাইরের জগতটাকেও দেখতে। হয়তো জাগতিক নিয়মে আমি ফুরিয়ে যাবো একসময়। এটাও আমি  জানি আমার চোখের আলো ম্লান হয়ে যাবে একদিন, শেষ হয়ে যাবো একদিন। কিন্তু আমার পৃথিবীকে দেখার জন্য প্রয়োজন মনের চোখের আলো, আর তার উজ্জ্বলতা কখনোই ম্লান হবে না, শেষ হবে না। আজো আমি আমার পৃথিবীকে দেখছি। ঘন নীল আকাশ, কাশফুলের ঢেউ সবুজ জমিনের উপর। পাশে বয়ে চলা ছোট্ট একটা নদী। হয়তো একটি সময় আমি আর এগুলো দেখতে পাবো না, পারবো না কিছুই অনুভব করতে।

আমার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লিখা গুলো নিতান্তই আমার জন্য। সেদিন হয়তো আমি থাকবো না কিন্তু এই লিখা গুলো থাকবে।
আমাকে হয়তো ঝড়া পাতার মত পুড়িয়ে ফেলবে, পুতে ফেলবে। কিন্তু আমার এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লিখা গুলো ঠিকই আমার সাক্ষ্য বহন করবে। আমি একজন ছিলাম; হয়তো নগণ্য, অতি ক্ষুদ্র। তবু আমি ছিলাম; তাই আমি আশাবাদী। আল্লাহ্‌ হয়তো আমাকে এতোটা নিরাশ করবেন না।

প্রিয় রঙ বলে আসলে কিছু নেই। বিয়ের কনের কাছে লাল শাড়ি ভাল লাগলেও লাল রক্ত ভাল লাগবে না। লাল শাড়ি স্বপ্নের প্রতীক হলেও লাল রক্ত ভয়ের প্রতীক।

হয়তো কোন দোকানে গিয়ে হলুদ টিশার্ট পছন্দ করলেন কিন্তু গাড়ি কেনার সময় এই রঙটাই অসহ্য লাগবে। প্রিয় রঙের ঝামেলা থেকে বাঁচতে অনেকেই কালো রঙ বেছে নেয়। তবে তার ঘরের দেয়ালে এই রঙ লাগাতে বললে অবশ্যই সে নিষেধ করবে। প্রিয় রঙ বলে আসলেই কিছু নেই। ব্যাপারটি এক ধরনের ক্ষেত্র বিশেষ। ভিন্ন ভিন্ন বস্তু আপনার ভিন্ন ভিন্ন রঙে ভাল লাগছে।

সময় বলেও আসলে কিছু নেই। সূর্য উঠেও না। নামেও না। আমরাই চারদিকে ঘুরি।
সময় চলতেই থাকবে...।
অন্য ভাবে চিন্তা করলে পৃথিবী সৃষ্টির আগেও সময় ছিল। একে ঘড়ি দিয়ে হিসেব করে ফায়দা নেই। ঘড়ি ইতিহাস কিছুই এটাকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারবে না। সময় চলতে থাকবে অমীমাংসিত কোন রহস্যে।
বিষয়টা সহজ মনে করলে সহজ। জটিল মনে করলে জটিল।

প্রিয় মানুষ বলেও আসলে কিছু নেই। ব্যাপারটা ক্ষেত্র বিশেষ। আজ যে মানুষটিকে খুব কাছের বলে মনে হচ্ছে ; মানুষটির সাথে পরিচয় না হলে এমনটা হত না।
যেমনঃ পেট ওয়ালা ট্রাক ড্রাইভার পানের ফিক ফেললো। এই দৃশ্য দেখে কোন সুন্দরী ' ইয়াক ' করে উঠল। ঠিক এই মেয়েটির জন্মই যদি ঐ ড্রাইভারের ঘরে হতো তাহলে ঐ মানুষটিকেই তার মনে হতো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা।
আজ যে মানুষটাকে ভালবাসতেছেন, যাকে নিয়ে জীবনের স্বপ্ন বুনতেছেন সেই মানুষটার প্রতি কিন্তু একদিনে ভালোবাসা জন্মায়নি, তার প্রতি অনুভূতি গুলো কিন্তু একদিনে হয় নি। দিনের পর দিন হয়েছে। তার সাথে যদি আপনার ভালোবাসা না হতো তাহলে কিন্তু তার জন্য আপনার মনে কোন অনুভূতি, ভাললাগা কাজ করতো না। কিন্তু আজ সে আপনার স্বপ্ন। আপনার স্বপ্নের পথের পথিক।
প্রিয় মানুষ ব্যাপারটা আসলে আপেক্ষিক, ক্ষেত্র বিশেষ।

জন্মের পর পৃথিবীর কেউই প্রিয় এবং অপ্রিয় থাকে না। আমরাই কাউকে প্রিয় এবং কাউকে অপ্রিয় বানিয়ে ফেলি। মনে জায়গা সেভাবেই দেই।
আসলে আমারা কি চাই বা করি তা আমরা অনেক সময় নিজেরাই জানিনা।

দেখিস ঠিকই মুছে যাবো,
তোর শত অনুযোগের মাঝে হাঁফ ছেড়ে..।
.
তোর চোখের কোণে ফাঁকি দিয়ে,
নির্ঘুম চোখে কান্না আঁকার ক্লান্ত প্রতিশ্রতি নিয়ে জাগবি।
.
আমি ঠিকই হারিয়ে যাবো,
মুছে যাবো পৃথিবী থেকে।
তুই তখন আকুল হয়ে কাঁদবি..!!
.
আর আমি,
এইতো যাচ্ছি মুছে,
দেখিস ঠিকই মুছে যাবো তোর চোখের কোণে।
.
হঠাৎ ফাঁকি দিয়ে,
তুই ভীষণ একলা রবি।
আমি সত্যিই মরে যাবো নিঃশ্চুপ অন্ধকারে..।।
যখন তুই ঘুমিয়ে রবি।

একজনকে হুট করে ভালোবাসি বলে ফেললাম আর সব জয় করে ফেললাম; বিষয়টি মোটেই এমন নয়। ভালো তো অনেকেই বাসতে পারে কিন্তু সেটা ধরে রাখতে পারে ক'জন।। ভালোবাসা আর তার সাথেই সারা জীবন থাকা এক জিনিস নয়। একজন নেশাগ্রস্থ মাতাল ব্যাক্তিকে জিঙ্গেস করে দেখুন সে-ও ভালোবাসে। সে ভালোবাসে তার নেশার বস্তুকে কিংবা নেশার টাকা জোগান দেওয়া মানুষটাকে। নেশার ঘোর কেটে গেলে তার ভালোবাসার সুতাও কেটে যায়। মনোবিজ্ঞান বলেন- "যখন আমরা ভালোবাসা নামক নেশার মধ্যে আবদ্ধ থাকি তখন মনের ভেতর এক ধরনের উন্মাদনা কাজ করে। নেশায় ডুবন্ত দু'জন মানুষ যেন স্বপ্ন রাজ্যে ভেসে বেড়ায়। আচ্ছন্নতা গ্রাস করে তাদের সব চাওয়া পাওয়ার মাঝে, একই চিন্তা বারবার মনের মধ্যে জেগে ওঠে।  একই মুখ বার বার মনের পর্দায় ভেসে ওঠে, একই উদ্বেগ ও অনুভূতি মনের ভেতর ক্রমাগত ঘুরপাক খেতে থাকে"। এটাই ভালোবাসার ক্রিয়া, এটাই ভালোবাসা।।

মূলত ভালোবাসা হচ্ছে এক ধরনের Positive Emotion যার বাংলা অর্থ আবেগ। পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষ'ই আবেগ প্রবন, কেউ কম আর কেউ বেশি।। তাই প্রেমের শুরুতে মানুষ সব কিছু আবেগ দিয়েই চিন্তা করে; বাস্তবতার ভাবনা খুব কম মানুষই ভাবে। ভালোবাসা শুরুটা হয় আবেগ দিয়ে, আর শেষ এর দিকে আসে বিবেগ। দীর্ঘদিন পরে আবেগটা যখন চলে যায় বিবেক তখন জেগে ওঠে। একটা সময় যে মানুষটার কথা, স্পর্শ-তাকানোর ভঙ্গিমা, চাহনি শরীরের স্নায়ুকে যেভাবে নাড়া দিত, স্পন্দিত করতো একটা সময় কিন্তু সেই প্রবল তৃষ্ণা'টা, ইচ্ছাটা আর জাগাতে পারেনা, জাগে না মনে। সময়ের পরিবর্তনে আবেগ, অনুভূতি ও ভালোবাসার মাত্রা আস্তে আস্তে হ্রাস পায়, কমে যায়।। ভালোবাসার সেই উত্তাল জোয়ারে তখন চলে আসে ভাটির টান। ভেতরে জনম জনমের ভালোবাসার বিশ্বাস থাকলেও এর বাহিরের তীব্রতা যে কমে গেছে টের পায়না কেউই...।।

ভালোবাসা একটা সময় দিনের পর দিন যখন কমতে থাকে তখন বুঝতে হবে সেটা ভালোবাসা না। ভালোবাসা কমে না। আমি যদি ভালবাসাকে সযত্নে মনে লালন করি, মনে জায়গা দেই সেটা দিন দিন বাড়বেই। কমবে না, কখনোই না।। দিনের পর দিন তার গভীরতা, তীব্রতা বাড়তেই থাকবে। এই গভীরতা, তীব্রতা বাড়াটা আপনি একটা সময় নিজেই বুঝতে পারবেন। একটা সময় বুঝতে পারবেন সে আপনার জন্য কি, আপনি তার জীবনের জন্য কি...।। ভালোবাসা মাপা যায় না কিন্তু এর গভীরতা, তীব্রতা বোঝা যায়।

এজন্য সম্পর্কের শুরুতে মনে করা উচিত আপনি একজন মানুষকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করেননি; করেছেন একটি গোলাপের চারা রোপন। এই চারাটিই হলো আপনার ভালোবাসার মানুষটির মন। চারাটি বড় করতে হবে; ফুল ফোটাতে হবে।। আর এ জন্য দরকার সঠিক পরিচর্যা। কারন সঠিক পরিচর্যাই বিকাশিত করতে পারে প্রয়োজনীয় ডালপালা ও ফুল-ফল।। মনের পরিচর্যা, সম্পর্কের দিক ঠিক এমনই। কেয়ারিং-শেয়ারিং, সময় দেয়া, চাওয়া-পাওয়ার, ইচ্ছা, ভাললাগা-খারাপ লাগা গুলো মাথায় রেখে যথেষ্ট মূল্য দেওয়া।। মন এভাবেই বিকশিত হয়, ভালোবাসা এভাবেই গভীরতা পায়। বিশ্বাস থাকতে হবে মনের উপর, বিশ্বাস থাকতে হবে ভালোবাসার উপর, আস্থা রাখতে হবে মানুষটির উপর। তাকে যতোটা পাওয়ার ইচ্ছা থাকতে হবে, তাকে হারানোর ভয়টাও মনে ততোটাই থাকতে হবে। সময় গড়িয়ে যায়, বয়স বাড়তে থাকে তবু ভালোবাসা হারায় না, কিন্তু গভীরতা ঠিকই বাড়তে থাকে।।

“বন্ধুত্ব” নামটার মাঝেই আত্মার একটা সম্পর্ক জড়িত। বন্ধুত্ব নিয়ে লিখতে বসলে লিখে শেষ করা যাবে না, আবার এক লাইনেই শেষ দেওয়া যায়।
পৃথিবীতে সবার উপরে বাবা-মা। যাদের সাথে অন্য কারো তুলনা হয় না, তাঁরা অতুলনীয়। বাবা-মা যখন কোন কারণে ধমক বা বকা দেয় তখন আমাদের মনের দুঃখ-কষ্ট প্রকাশ করার জন্য কার কাছে যাই...?? মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য প্রথমেই আমরা যাই আমাদের খুব কাছের, আপন প্রিয় বন্ধুটির কাছে। আমরা কিন্তু ভাই- বোন এর কাছে যাই না, যাই সেই বন্ধুটির কাছেই যার কাছে মনের সব কথা, মনের সব কষ্ট, সব ইচ্ছা নিঃদ্বিধায় প্রকাশ করতে পারি। যার কাছে মনে কষ্ট গুলো বলে নিজেকে হালকা করা যায়। এই প্রিয় Best Friend- এর কাছে কিছু বলতে আমাদের কোন সঙ্কোজ হয় না, বাঁধা আসে না কিন্তু কেন হয় না তা কি একবার ভেবে দেখেছেন…?? এই মানুষটাকে আমরা এতোটাই বেশি বিশ্বাস করি, আস্থা রাখি যে তাদের কাছে নিজের সব কিছু Share- করতে দুইবার ভাবতে হয় না।

Best Friend-এর কাছে কেউ কখনো কিছু লুকোয় না। সেটা যে বিষয়েই হোক না কেন, যাই হোক না কেন। ভালো – খারাপ যাই হোক না কেন তার কাছে বলার আগ পযন্ত আপনার পেটের ভাত হজম-ই হবে না, না বলে থাকতেই পারবেন না। আপনার মনে যদি এই ধারনা থাকে যে এই কথাটি বললে হয়তো আমাকে খারাপ ভাববে বা বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যাবে বা অন্য কিছু ভাববে। তাহলে আমি নিঃদ্বিধায় বলতে পারি তাকে আপনি Best Friend-ভাবেন না, আপনাদের মাঝে বন্ধুত্বটা এখনো হয়নি। আর সে আপনার সব জেনেও যদি আপনার পাশেই থাকে, আপনাকে সঠিক পথে আনে বা ভালো কিছু করার উৎসাহ দেয় তাহলে সেই আপনার Best Friend।

Best Friend-এমন একটা সম্পর্ক যার সাথে থাকলে, যে পাশে থাকলে সব কিছুই নিজের মনে হয়, মনের মাঝে এক ধরনের সাহস সঞ্চয় হয়, যে কোন অসাধ্য কাজ করার দুঃসাহস মনে সঞ্চয় হয়।।
আমরা একমাত্র বন্ধুর কাছেই আমাদের গোপন সব কথা, সব কিছু বলে থাকি। তার প্রতি এতোটা আস্থা আছে বিধায়ই কিন্তু বলে থাকি। তাকে আমরা বিশ্বাস করি, সেও কিন্তু আপনার এই গোপন কথা তার নিজের মাঝেই রেখে দেয়। কারণ সেও জানে তাকে আপনি কতোটা আপন ভাবেন, কতোটা বিশ্বাস করেন আর কতোটা আস্থা রেখে তাকে আপনার মনের কথা গুলো বলেছেন। আমরা কখন কি করি, না করি সবই সেই বন্ধুটি জানে। কারণ, আপনি যদি সত্যি তাকে Best Friend-  ভেবে থাকেন তাহলে তাকে না জানিয়ে কিছু করতেই যাবেন না, না জানিয়ে কিছু করার কথা ভাবতেই পারবেন না।

তাই বলে এই না যে তাদের সাথে আমাদের কথা কাটাকাটি হয় না, ঝগড়া হয় না। কিন্তু সেই ঝগড়া, কথা-কাটাকাটি খুবই ক্ষণিকের জন্য, খুবই অল্প সময়ের মধ্যেই সীমাবধ্য থাকে। আত্না ভালো না থাকলে জীবন চলবে কিভাবে। তাইতো আত্না ভালো রাখতে সব ঝগড়া এমনিতেই মিলমিশ হয়ে যায়।

যখন আপনার মনে হবে এই কথা, এই কাজের কথা বন্ধুকে বললে বা জানতে পারলে আপনি ছোট হবেন, আপনার সন্মান কমে যাবে তাহলে ধরে নিন তাকে কখনো আপনি আপন কেউ ভাবেন নি, বন্ধু ভাবেন নি।।

বন্ধুত্ব হবে স্বচ্ছ কাচের মতো, যার এক পাশ থেকে অপর পাশ দেখতে পাবেন।
বন্ধু অনেক থাকে, কিন্তু বুকে জড়িয়ে কাঁদার মত বন্ধু এক জনই থাকে। সেই আপনার আপন একজন, সেই আপনার বন্ধু; আত্মার বন্ধু।
বন্ধুত্ব কি তা তখনই বুঝবেন যখন হারিয়ে ফেলবেন। তাকে হারিয়ে ফেলবেন না, তাকে হারালেন মানে জীবন থেকে অনেক বড় কিছু হারালেন।

ভালোবাসা= ভালো + বাসা। না, ভালো একটি বাসার নাম ভালোবাসা নয়। ভালোবাসা নিয়ে খুব কমই ধারনা রয়েছে, তবে একেবারেই যে নেই তা কিন্তু নয়। আমার এই ছোট্ট ধারনা টুকু আমার আশেপাশের মানুষের সাথে খুব কমই মিলে। হ্যাঁ, সবার চিন্তা ভাবনা এক নয়। কিন্তু আমি মনে করি ভালোবাসার ক্ষেত্রে চিন্তা ভাবনার মিল খুব বেশি জরুরী। যদিও এই একই বিষয় নিয়ে আরো একটি ব্লগে লিখেছি।

Actually- ভালোবাসা আর প্রেম এক নয়। অনেকেই এই ভালোবাসা আর প্রেমকে একত্রে মিলিয়ে ফেলে। অনেকে মনে করে ভালোবাসার আরেক নাম প্রেম, কিন্তু না। কখনোই না…।। আর এ জন্যই ভালোবাসা নিয়ে চিন্তা ভাবনা একেক জনের কাছে একেক রকম।

আমার কাছে ভালোবাসা আর প্রেম এর সংজ্ঞা আলাদা। যদিও এই সংজ্ঞা আমার নিজের ব্যাক্তিগত ভাবে দেওয়া। আমি এই বিষয় নিয়ে কারো সাথে মত বিরোধীতা করতে চাই না।

প্রেম কি...?? ধরুন একটা ছেলে/মেয়ে একই সাথে ৪-৫ জন মেয়ের/ছেলের সাথে একই ধরনের কথা বলতেছে। মানে ভাললাগা, ভালোবাসা এই ধরনের। একই এসএমএস, একই কথা সবাইকেই বলতেছে, সবার জন্য একই অনুভূতি। এটা ভালোবাসা না, এটা Time Pass, এটাই প্রেম। ধরুন, আপনি একজন মেয়ে / ছেলেকে ভালোবাসি বললেন। সে আপনাকে “না” করে দিলো। আপনি মনে মনে ভাবলেন আরে ব্যাপার না- একটা গেলে দশটা আসবে। যখন আপনার মনে এই ধরনের ভাবনা, চিন্তা আসবে তখন আপনি ধরেই নিতে পারেন এটা প্রেম। ভালোবাসা দশটা আসে না।


ভালোবাসা হয় একটু ভিন্ন, একটু আলাদা। যেখানে থাকে মনের ছোট ছোট ইচ্ছা, আশা, ভালোলাগা, আবেগ সব কিছু। একজন মানুষকে নিয়েই সারাক্ষণ ভাবা, তাকেই নিয়ে স্বপ্ন বোনা, মনের মাঝে তার ছবি আকা, তার ভাললাগা – খারাপ লাগা সব কিছু নিজের মনে গেঁথে নেওয়া। ভালোবাসা এমন যা কখনো শেষ হয় না। মেয়েটি বা ছেলেটি না করে দিলো আর ভালোবাসা শেষ হয়ে গেলো…!!! ভালোবাসা মোটেই এমন নয়।। সে আপনাকে না করে দিলো আর আপনি আরেক জনকে ভালোবাসি বললেন তাহলে আগের জনকে কি ভালবাসলেন…??? সে না করে দিলো কিন্তু আপনি তাকেই ভালবেসে গেলেন, তার পথ চেয়েই বসে রইলেন, তার অপেক্ষাতেই রইলেন। তাকে হাজার ভাবে, হাজার উপায়ে বুঝাতে চেষ্টা করলেন তাকে আপনি কতোটা ভালোবাসেন এটার নামই ভালোবাসা।।

ভালোবাসাটা একদিনে হুট করে হয় না। অনেক দিন সময় লাগে। একদিন - দুইদিন, একমাস-দুই মাস নয়…!! কয়েক মাস, এমনকি বছরও লাগতে পারে। তখন আপনার অনুভুতিই আপনাকে বলে দিবে আপনি তাকে ভালবাসেন। আপনার চোখে, মুখেই ফুটে উঠবে তার প্রতি ভালোবাসা। তখন আপনার মাথায় আর অন্য কোন চিন্তা, অন্য কোন ভাবনা আসবেই না। অন্য যাই ভাবতে যান না কেন তার কথাই মনে পরবে। উঠতে, বসতে, ঘুমোতে, পড়তে বসেন আর যাই করুন না কেন তার মুখটাই ফুটে উঠবে আপনার চোখের সামনে। তখন আপনি নিজের অজানতেই বলবেন যে তাকে আপনি ভালোবাসেন, শুধু ভালোবাসেন বললে ভুল হবে; অনেক গভীর ভাবে ভালোবাসেন।।

ভালোবাসা এমন একটি জিনিস যা যখন আসে তখন আপনার মনে, অন্তরে, রক্ত মাংসে মিশে যাবে। বিন্দু পরিমাণ একটু ভাললাগা থেকে কখন যে এতো ভালবেসে ফেলেছেন বুঝতেই পারবেন না।
ভালোবাসার সব চেয়ে বড় দিকটি হলো আপনি তার জন্য কত দিন অপেক্ষা করতে পারলেন। আপনার ভালোবাসা যতোটা গভীর হবে আপনার অপেক্ষায় থাকার কষ্টটা ততোটাই কম হবে।

যদি ভেবে থাকেন যে গাছ লাগালেন আজ আর কাল-ই ফল পেয়ে যাবেন তাহলে আপনার চিন্তাভাবনা ভুল। ভালোবাসেন এটা আপনার মনের মাঝে গাঁথতে হবে, শুধু নিজের মাঝে রাখলেই চলবে না; যাকে ভালোবাসেন তার কাছেও প্রকাশ করতে হবে। আর আপনার এই প্রকাশ করাটা যে সরাসরি বলতেই হবে এমন কিন্তু নয়। ভালোবাসা এমনিতেই প্রকাশ পাবে আপনার কথায়, আপনার ব্যাবহারে, আপনার প্রতিটা পলকে। ভালোবাসা প্রকাশ পাবে তার প্রতি আপনার সন্মানবোধ থেকে, তাকে আপনি কতোটা Importance- দেন তার উপর। আপনি তাকে কতোটা ভালোবাসেন তার উপর-ই নির্ভর করবে আপনি তার ভালোবাসা পাবেন কিনা, তার মনে জায়গা নিতে পারবেন না।

“ভালোবাসা, প্রেম নয়। ভালোবাসা শুধুই ভালোবাসা।”

চিন্তার বাহিরে অনেক কিছু ঘটে যা আমরা কল্পনাতেই ভাবিনা। সে ভাবনা গুলো এতোটাই অকল্পনীয় যে আমাদের ভাবনাতেই আসে না।
খুব কাছের মানুষটা একদিন তোমাকে Facebook থেকে ব্লক করে বসবে, তুমি হয়তো সেই চিন্তা  করোনি কখনো, ভাবনাতেই আনোনি কখনো। তুমি হয়তো মনে করবে তার ID deactivate করে রেখেছে, কিন্তু একটা সময় তুমি বুঝে ফেলবে তার ID ঠিকই আছে শুধু তার ID-তে তুমি নামের কেউ আর বসবাস করে না। তুমি বিশ্বাস করতে চাইবে না, তোমার বিশ্বাস হবে না। অনেকটা কষ্ট হবে তোমার, অনেক বেশি কষ্ট হবে। যে কষ্টে বুকের ভেতর কেউ যেন হাতুড়ি দিয়ে ভেঙ্গে চুড়ে একাকার করে দেবে প্রতিরাতে, প্রতিটা মুহূর্তে...।।

কিন্তু সে যদি তার জীবন থেকে তোমায় একেবারে ব্লক করে বসে তখন তোমার কষ্ট হবে না শুধু এটাই বলবো তখন তোমার বাঁচতে ইচ্ছে হবে না। সেই কষ্টের পরিমাণ এতো বেশি হবে যে তুমি বুঝতেই পারবে না কি ঘটে গেলো। যেমন মানুষ ২০-২০,০০০ ডেসিবলের কম বা বেশি হওয়া শব্দ শুনতে পায় না। তেমন-ই তোমার কষ্টটাও সেই মাত্রায় হবে।।

দিনে দিনে একটু একটু করে মারা পরবে তুমি নামের সেই হাসিমাখা, চঞ্চল - উচ্ছল মানুষটা। যে মরাটা কেউই দেখবে না, ঐ মরার কষ্ট কেউ বুঝবে না। এই ক্ষমতা কারো হয় না, কারো নেই, শুধু তুমি বুঝতে পারবে।।

দিনে রাতে প্রতি ঘণ্টায় ১০ বার মানুষটার Timeline-এ ঘুরে- ঘুরে ঐ মানুষকে কিছুক্ষন পর পর নক না করলে, তার প্রতি সেকেন্ডের খবর না জানা হলে তোমার পেটের মাঝে কোন ধরনের খাবার প্রবেশ করতো না কিন্তু ঐ মানুষটা একটা সময় তোমায় ব্লক করে বসে আছে।। কতোটা কষ্ট লাগবে...!!! ভাবতেইতো তোমার বুকটা কেপে উঠে, যদি সত্যি এমনটা হয় তখন কি করবে...!!!??
এটা কোন কষ্টের ব্যাপার না। নতুন একটা আইডি খুলে তাকে তুমি আবার দেখতে পাবে, কিন্তু সেটা এক পক্ষীয় হবে। তবে মনকে সান্তনা দিতে পারবে না।

হ্যাঁ... এটা একটা সময় সয়ে যায়, সয়ে যাবে । একটা সময় অশান্ত মনটা শান্ত হয়ে যায়, অশান্ত মন শান্ত হতে বাধ্য হয়। একটা সময় চেনা মানুষ অচেনা হয়ে যায়। একটা সময় প্রিয় ছবির ফ্রেমের উপর ধুলো ময়লা একাকার হয়ে যায়।। যে ফ্রেমটা তোমার, তোমার নিজের হাতে গড়া স্বপ্ন গুলোর।।

সামান্য একটা Facebook account- দিয়ে মনের অনুভূতির ভালোবাসার প্রকাশ হয় না। ভালোবাসা অনুভব করার জন্য গায়ের খানিকটা গন্ধের প্রয়োজন হয়, চোখে চোখে কথা বলা প্রয়োজন হয়। সেটা হারিয়ে গেলে মহা বিপদ । জীবন থেকে একেবারে ব্লক করে দিলে তুমি মনটাকে কিভাবে সান্তনা দিবে...?? ? ভাবতে পারো...??? মন থেকে ব্লক করার আগেই মনে জায়গা করে নিতে হবে, মনের অধিকার স্থায়ী করে নিতে হবে।। তবেই তুমি তোমার তুমিকে তার মাঝে ফিরে পাবে।। তোমার মনের যত্নে বুনা স্বপ্ন গুলো বাস্তবে রুপ দিতে পারবে।।

যে মানুষটা একবার কষ্ট পেয়ে কষ্টের বন্ধু হয়ে গেছে, তাকে আর নতুন করে কষ্টের সাথে বন্ধুত্ব করা যায় না, তাকে আর কষ্ট দেয়া যায় না। কষ্টের নাম যাই হোক না কেন কষ্টের নাম ভিন্য হয় না। এক সময় সে কষ্টকে ভালোবাসতে বাসতে কষ্টকে সুখী করে তুলে এটাই স্বাভাবিক, এটাই বাস্তব । কেউ কারো দুঃখ কষ্ট আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে জন্মায় না। কেউ কারো কষ্টে পাশে থাকে না, থাকতে চায় না। হয়তো দু-এক ঘন্টার জন্য কিছুটা সহানুভূতি দেখায়, উপদেশ দেয়। সেই কষ্ট গুলো আবার অনেকটা ভারি হয়ে তার কাছে চলে আসে... এটাই হচ্ছে পৃথিবীর কঠিনতম নিয়ম ।।।

অনেক দিন যাবৎ ইচ্ছে করছে কিছু লিখতে আবার কেমন যেন লিখতে ইচ্ছেও করছে না। কেমন যেন একটা দ্বোটনা কাজ করছে। কি লাভ হবে লিখে...?? আর লিখলেই বা কি ক্ষতি হবে...!!?? তবুও না বলা কিছু কথা বুকের মধ্যে গুমরে কাঁদে। নিজেকে প্রকাশ করতে বড় ভয় আমার। পাছে কেউ একা ভেবে দুর্বলতার সুযোগ নিতে চায়। এ পৃথিবীতে দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া মানুষের অভাব নেই। সবার মুখোই মুখোশে ঢাকা। ভিতরটা বোঝা যায় না...।।

অগোছালো এক জীবন। অনেক অজানা হাসি-কান্না, কষ্ট মাখা জীবনের জটিল হিসাব কোনদিন মিলাইনি, মিলাতে ইচ্ছাও নেই । যা পেয়েছি তার চেয়ে হারিয়েছি অনেক বেশি। এই হারানোটা হারানোর মাঝেই সীমাবদ্ধ। অনেক কঠিন, প্রতিকূল,দুঃসময় পার করেছি।পার করেছি বললে ভুল হবে, এখনো করছি।। মাঝে মাঝে এমন কিছুর মুখোমুখি হতে হয় যার জন্য কোন ভাবেই ঐ মুহূর্তে প্রস্তু ছিলাম না, প্রস্তু নই আমি। যা ঘটে তা কখনো আদৌ ঘটতে পারে কিনা এটা ভাবতে ভাবতে অনেকটা সময় কেটে যায়। মাঝে মাঝে নিজেকে বুঝাতে পারিনা; এই পৃথিবীতে সবই ঘটতে পারে, সবই সম্ভব। তারপরেও জীবন থেমে নেই, সময়ের সাথে জীবন চলছেই।

জীবনে অনেক ভালো - মন্দ মানুষের দেখা পেয়েছি । ভালো মানুষদের মুখ গুলো সযত্নে তুলে রেখেছি বুক পাঁজরে। আমি যে কয়েকজন মানুষের সাথে মিশেছি তাঁরা সবাই ভালো, তবে এটা সত্য তাদের আমি বুঝতে পারিনি। তাদের ভিতরের মানুষত্বাকে আমার বোঝার মাঝেই বড় ভুল রয়ে গেছে। সেই না বুঝতে পারা ভুল গুলো মাঝে মাঝেই ভাবায় আমায়।

মাঝে মাঝে মনের মধ্যে কালবৈশাখী অস্থিরতা জাগে। সারাদিন ব্যাস্ততা শেষে যখন ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরি খুব ইচ্ছা জাগে প্রিয় কোনো মানুষের আহ্লাদি আদর পেতে,অথবা অনেক দিনের জমে যাওয়া হাজারো গল্পের জাল বুনতে, একটু আহ্লাদি শাসন পেতে, একটু Caring পেতে। ইদানিং এই ইচ্ছে গুলো মনে খুব করে চেপে বসেছে। মনে হচ্ছে আমি খুব ক্লান্ত, ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত । ক্রমাগত ডুবে যাচ্ছি শীতলতায়, মৌনতার আঁধারে। ক্ষয়ে যাচ্ছি নিঃসঙ্গতায় । চোখ গুলো শীতল, বরফ হয়ে যাচ্ছে। যেখানে কোন অভিমানের দাগ নেই। আজ আমার আমিতে বড্ড দিশেহারা, আমার আমিতে হারিয়ে যাওয়া দিনকে দিন।


MARI themes

Powered by Blogger.